সুপেয় পানি নিশ্চিত ও লবণ পানি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে: এমপি রশীদুজ্জামান



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

উপকূলীয় জনগণকে প্রকৃতির সাথে নিরন্তর যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এই যুদ্ধ কঠিন হয়ে উঠেছে। তাই উপকূলের জীবন-জীবিকা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সুদৃষ্টি জরুরি বলে সংসদে দাবি জানিয়েছেন খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনের সংসদ সদস্য মো. রশীদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

সংসদে এমপি রশীদুজ্জামান বলেন, কৃষি আমাদের প্রধান উপজীব্য ও চালিকা শক্তি হলেও উপকূলের কৃষি মুখ থুবড়ে পড়েছে। এর প্রধান কারণ লবন পানিতে বাণিজ্যিক চিংড়ি চাষ। অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষের কারণে এলাকার ভূমিহীন কৃষক, নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী কৃষি পেশা হারিয়ে অন্য পেশা খুঁজে নিতে বাধ্য হয়েছে। এই ঢাকা শহরেও দৈনিক দিনমজুর খেটে জীবিকা নির্বাহ করছে পাইকগাছা-কয়রার কয়েক হাজার মানুষ। অথচ তারা যে এলাকার মানুষ সেখানেই এক-সময় ধানের ফসল ফলতো। সেই ধান কাটার জন্য বাহিরে থেকে শ্রমিক নিতে হতো। এখন চিংড়ি চাষের কারণে পরিস্থিতি বদলে গেছে।

এমপি রশীদুজ্জামান বলেন, বর্তমানে চিংড়ি চাষ আগের মতো অর্থকারী নেই। অনেকেই নিরুৎসাহী হয়ে চিংড়ি চাষ বন্ধ করে কৃষির দিকে ঝুকেছে। এবারের তরমুজ ফসল পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলাতে বাম্পার ফলন হয়েছে। আড়াই মাসের ফসলে যে তরমুজ পেয়েছে, সেগুলো অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। এবার প্রায় ২৫০ কোটি টাকা তরমুজ ক্ষেত থেকে বিক্রয় হয়েছে। তরমুজ ক্ষেতে কাজ করে নারী শ্রমিকেরা এই মৌসুমে প্রত্যেকে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করেছে। তরমুজের পাশাপাশি একই জমিতে বছরের অন্য সময়ে আরো ফসল ফলানোর সুযোগ আছে। ওই জমিতে মিষ্টি পানিতে সকল প্রকার মাছ চাষ সম্ভব হচ্ছে। যা লবণ পানিতে চিংড়ি চাষের থেকে অনেক বেশি লাভজনক ও পরিবেশবান্ধব। চিংড়ি চাষের লভ্যাংশ মালিক, অর্থাৎ এককেন্দ্রীক থাকে। আর কৃষি কাজ থেকে প্রাপ্ত অর্থ শুধু কৃষকই নয়, অনেকে ভোগ করতে পারে। যা বেকারত্ব দুরীকরণে সহায়ক।
]
তিনি আরো বলেন, ওই অঞ্চলের নদী-নালা, খাল আশংকজনকভাবে ভরাট হয়ে গেছে। তাই কৃষির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে লবণ পানির প্রবেশ বন্ধ করে এলাকার ভরাটকৃত খালগুলো পুনঃখনন করে মিষ্টি পনির আধার তৈরী করতে হবে। কৃষকরা যেন শুষ্ক মৌসুমে সেচের কাজে ব্যবহার করতে পারে।

সুপেয় পানির সংকটের কথা তুলে ধরে সংসদ সদস্য রশীদুজ্জামান বলেন, সুপেয় পানির অভাবে পাইকাগাছা-কয়রাসহ সমগ্র উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ হাহাকার করছে। এখানে ধনী, দরিদ্রের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। বর্তমানে সকল পানির আধার লবণ পানিতে ভর্তি, যা পানের অযোগ্য। একমাত্র ভরসা বৃষ্টির পানি। বছরে চার মাস বৃষ্টি হতে পারে, বাকি আট মাসের পানি সঞ্চয় করে না রাখতে পারলে পানির হাহাকার বেড়ে যাবে। পানি সঞ্চয় করে রাখার জন্য সকল পরিবারে পানির ট্যাংকি সরাবরাহ করা অতীব জরুরি। তাই আমার দাবি হয় সুপেয় পানির ব্যবস্থা করে দেন, না হয় সাগরের লবণাক্ত পানি পান করে বেঁচে থাকার উপায় বের করে দিন।

আওয়ামী লীগ নেতা রশীদুজ্জামান বলেন, প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় রেমালের আঘাতে আমার নির্বাচনী এলাকা কয়রা ও পাইকগাছা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগের মধ্যে শত শত মানুষ নিয়ে কাজ করেও বাঁধ রক্ষা সম্ভব হয়নি। চোখের সামনে ভেসে গেছে, রাস্তা-ঘাট, ঘর-বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ক্ষেতের ফসল, মাছের ঘের সবকিছুই। ক্ষতির একটি তাৎক্ষণিক তালিকা দাখিল করেছি। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী কয়রা উপজেলাতে গিয়েছিলেন। তিনি দু’উপজেলার ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা গ্রহণ করেছেন। নেত্রীর সাথে আলোচনা করে সমাধান করবেন বলে প্রতিশ্রুতিও দেন। জনগণ দ্রুত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন চায়।

সরকার দলীয় ওই সংসদ সদস্য বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের দুর্যোগ নিত্য দিনের সঙ্গী। এর থেকে রক্ষা পাওয়ার অন্যতম অবলম্বন টেকসই বেড়িবাঁধ। সেই বেড়িবাঁধ নির্মাণে প্রধানমন্ত্রী বরাদ্দ দিয়েছেন, কিন্তু কাজের অগ্রগতি নেই। ষাটের দশকে যে ওয়াপদার বাঁধ তৈরি হয়েছিলো, সেই বাঁধ আর সংস্কার হয়নি। মাটি ক্ষয় হয়ে দিনে দিনে বাঁধ নিচু হয়েছে, আর নদীর বুকে পলি জমে জমে পানির উচ্চতা বেড়েছে। ফলে এবারের জলোচ্ছ্বাসে পানি ছাপিয়ে পাইকগাছা ও কয়রার বহু জায়গায় বাঁধ ভেঙ্গে প্লাবিত হয়েছে। আপাততঃ দৃষ্টিতে টেকসই বেড়িবাঁধের বিকল্প নেই। বাঁধের তলদেশ দিয়ে পানি সরাবরাহের পাইপ থাকলে বেড়িবাঁধ টেকসই সম্ভব হবে না। কোনো পাইপ ছাড়াই বাঁধ নির্মাণ করতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধার জাল সনদে চাকরি

হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্সের ডিজিএমের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন

ছবি: বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশন

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স কর্পোরেশনের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) এম এম জামিল আহম্মদের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধার জাল সনদ দেখিয়ে কোটায় চাকরি নেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আশিকুর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামি এম এম জামিল আহম্মদ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন। তা সত্ত্বেও প্রতারণার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ থেকে মুক্তিযোদ্ধা সনদ সংগ্রহ করেন। পরে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং কর্পোরেশনে ২০০০ সালের এপ্রিল থেকে চাকরি নিয়ে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কর্মরত ছিলেন।

ওই সময়ে বেতন ভাতা বাবদ মোট এক কোটি ৩১ লাখ ৭৬ হাজার ৭৩৪ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। যা দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) এর ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। জামিল আহম্মদ বর্তমানে বরিশালে কর্মরত রয়েছেন।

;

‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম

রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রেলমন্ত্রী এ কথা বলেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সহিংসতায় এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল। এতে রেলের ২২ কোটি ৩ লাখ ৮ হাজার টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানান রেলমন্ত্রী।

রেলমন্ত্রী বলেন, ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার ফলে বিক্রি করা টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হবে। যার পরিমাণ ১৬ কোটি ৩৫ লাখের বেশি।

গত মঙ্গলবার (২৩ জুলাই) ভিয়েতনাম ও জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম।

রেল খাতে বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনের ফলে সহিংসতা রেল যোগাযোগে বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রভাব পড়তে পারে।

এর আগে, রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) সরদার সাহাদাত আলী বলেন, রেল সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে নিরাপত্তার বিষয় মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কবে থেকে ট্রেন চলবে।

তিনি বলেন, ট্রেন চলাচলের বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ট্রেন চালানো কোনো বিষয় না, বিষয় হচ্ছে নিরাপত্তা। সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে মন্ত্রী, সচিব এবং সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে কবে থেকে ট্রেন চলবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন জানান, স্বল্প দূরত্বে কিছু ট্রেন আজ বৃহস্পতিবার থেকে চলাচলের কথা থাকলেও সেই সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এসেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আন্তঃনগরসহ সব ধরনের ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে।

;

বিএনপির নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের ঘটনায় ফখরুলের নিন্দা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে বিএনপিসহ বিরোধীদলগুলোর নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) এক বিবৃতিতে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি।

বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল বলেন, আন্দোলনকে ঘিরে দেশব্যাপী বিএনপিসহ বিরোধীদল ও মতের মানুষদের নির্বিচারে গ্রেফতার করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, নির্বাহী কমিটির সদস্য তারিকুল ইসলাম তেনজিং এবং বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর ছেলে সানিয়াতকে গ্রেফতার করেছে এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আন্দোলনে ভূমিকা রাখার মিথ্যা অভিযোগে ঢালাওভাবে বিএনপি ও বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ওপর সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্য দোষারোপ করছে। যদি তাই হয়, তাহলে তাদের ঘটনাস্থল থেকে গ্রেফতার করা হয়নি কেন? এটাই জনগণের প্রশ্ন। এতে প্রমাণিত হয়, বিএনপি কিংবা বিরোধীদলের কেউই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত নয়।

তিনি বলেন, জনগণ পুরো ঘটনা ও হত্যাকাণ্ড নিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি করে। এ ছাড়া ব্যর্থতার সব দায় নিয়ে অবিলম্বে সরকারের পদত্যাগ করা উচিত বলে জনগণ মনে করে।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনে পুলিশ ও আনসার সদস্য যারা নিহত হয়েছেন তাদের জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি, তাদের বিদেহী আত্মার শান্তি ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

একই সঙ্গে বিনা অপরাধে গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার ও অবিলম্বে তাদের মুক্তির জোর আহ্বান জানাচ্ছি।

;

ইন্টারনেটবিহীন ৬ দিন যেমন ছিল ফেনী



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফেনী
ছবি: বার্তা২৪, ইন্টারনেটবিহীন যেমন ছিল ফেনী শহরের অবস্থা

ছবি: বার্তা২৪, ইন্টারনেটবিহীন যেমন ছিল ফেনী শহরের অবস্থা

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বন্ধ ছিল ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা। এখনো বন্ধ রয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা কার্যক্রম। বিগত ৬ দিনে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’, কারফিউ ও নির্বাহী আদেশে সাধারণ ছুটিসহ নানা ঘটনায় সরব ছিল ফেনীর জনপদ।

এদিকে, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ থাকায় সারাদেশের মতো ফেনীতেও প্রভাব পড়ে দৈনন্দিন কর্ম ব্যস্ততায়। বন্ধ হয়ে যায় দূরপাল্লার বাস। কারফিউকালীন ফাঁকা হয়ে যায় ফেনী শহর।
প্রয়োজন ছাড়া বের হননি সাধারণ মানুষ। স্থবির হয়ে পড়ে জনজীবন। এর মধ্যে থেমে থেমে চলছিল আন্দোলন। পুলিশের সঙ্গে হয় সংঘর্ষ। আন্দোলন, সংঘর্ষ, নাশকতার মামলায় গ্রেফতার অভিযানসহ ঘটে নানা ঘটনা।

কেমন ছিল গত ১৯ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত ফেনীর চিত্র। তা থাকছে এ প্রতিবেদনে-

শুক্রবার (১৯ জুলাই)- দুপুর ২টার দিকে শহরের বড় মসজিদ এলাকায় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা পুলিশের মুখোমুখি অবস্থান নেন। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে তারা সড়ক থেকে সরে যান। এদিন বিকেলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল নিয়ে বড় মসজিদ এলাকায় গেলে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন।

শনিবার (২০ জুলাই)- এদিন বিকেলের দিকে শহরের তাকিয়া রোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। এ সময় পুলিশকে উদ্দেশ করে আন্দোলনকারীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।

এর আগে সকালে আইনশৃঙ্খলার বিশেষ সভার আয়োজন করেন জেলা প্রশাসক। সভা শেষে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি সদস্যদের নিয়ে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে মহড়া দেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মুছাম্মৎ শাহীনা আক্তার।

রোববার (২১ জুলাই)- এদিন কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে কালো ব্যাজ ধারণ করে শোক জানায় ফেনী জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বিকেল ৫টার দিকে শহরের তাকিয়া রোডে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন এবং সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম মিলনের নেতৃত্বে একটি মিছিল করা হয়। এ সময় সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। এদিন রাতে শহর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ ইলিয়াসকে আটক করে পুলিশ।

সোমবার (২২ জুলাই)- সরকার ঘোষিত কারফিউতে ফাঁকা ছিল গোটা শহর। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কেও বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। ফেনী থেকে ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোনো বাস। তবে জেলার বিভিন্ন উপজেলাগামী সড়কগুলোতে কিছু ছোট যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, কারফিউ এবং সাধারণ ছুটি থাকায় ঘর থেকে প্রয়োজন ছাড়া বের হননি সাধারণ মানুষ। সন্ধ্যার আগে কিছু মুদি দোকান ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান খুললেও সন্ধ্যার পর ফার্মেসি ও প্রয়োজনীয় দোকান ব্যতীত সবকিছু বন্ধ হয়ে যায়।

যেমন ছিল বিগত ৬ দিন ফেনী শহর, ছবি- বার্তা২৪.কম


এদিন শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরব উপস্থিতি থাকলেও আন্দোলনকারীদের মাঠে দেখা যায়নি। সন্ধ্যার দিকে শহরের ট্রাংক রোড এলাকা থেকে সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মতিগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আমিন উদ্দিন দোলনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ জুলাই)- কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে সারা দেশের মতো ফেনীতেও বন্ধ ছিল ইন্টারনেট সেবা। এতে ভোগান্তিতে পড়েন বিভিন্ন পর্যায়ের সেবাপ্রার্থীরা।

সরেজমিন দেখা যায়, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় শহরের এটিএম বুথ, মোবাইল ব্যাংকিংসহ সংশ্লিষ্ট সেবা গ্রহীতারা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। এছাড়া স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করতে না পারায় শহরের শহীদ শহিদুল্লাহ কায়সার সড়কের পল্লী বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয়ে মানুষজনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

বুধবার (২৪ জুলাই)- এদিন জেলা প্রশাসকের সিদ্ধান্তে জেলায় সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা চালু হওয়ায় জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে। কয়েকদিনের স্থবিরতার পর দোকানপাট খোলেন ব্যবসায়ীরা। অন্যান্য দিনের তুলনায় বেলা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সড়কে মানুষজনের উপস্থিতিও বাড়তে থাকে।

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ফিরে আসায় স্বস্তি ফেরে মানুষের মাঝে, ছবি- সংগৃহীত


এদিন দুপুরে শহরের বড় বাজার ও পৌর হকার্স মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, গত কয়েকদিনের তুলনায় বাজারে পণ্য সামগ্রীর জোগান বাড়ে। বেলা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা উপস্থিতিও বাড়ে এদিন। এছাড়া নিত্যপণ্যের বাজারদরও অন্য দিনের তুলনায় কম রাখা হয়। তবে কারফিউ শিথিলের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর থেকে সড়কে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি কমতে দেখা গেছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সরব উপস্থিতি দেখা যায়। বিগত ৩ দিনে নাশকতার দুই মামলায় ৭০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই)- এদিন সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা অব্দি কারফিউ শিথিলের ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্বাভাবিকভাবে চলছে দিনের কার্যক্রম। সকালে অফিসগামী মানুষদের ভিড় লক্ষ করা যায় শহরে। শহরে বিভিন্ন পয়েন্টে মোতায়েন রয়েছে বিপুলসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য।

বাসাবাড়িতে ইন্টারনেট সেবা কার্যক্রম চালু হওয়াতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে জনজীবনে। তবে স্কুলগামী ও কলেজগামী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সবকিছু বন্ধ থাকাতে হতাশার মধ্যে আছেন তারা।

পাশাপাশি এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষার্থীরা ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

;