পর পর স্পিডবোটে মিয়ানমারের গুলিবর্ষণ, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সেন্টমার্টিন



আবদু রশিদ মানিক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কক্সবাজার
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দিন যতই গড়াচ্ছে ততই আতঙ্ক বাড়ছে দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের মানুষের। আজ টেকনাফ থেকে জরুরি ভিত্তিতে সেন্টমার্টিন যাওয়ার পথে একটি রোগী বহনকারী স্পিড বোটকে লক্ষ্য করে মিয়ানমারের গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে কোনো হতাহত হয়নি।

মঙ্গলবার (১১ জুন) সকাল ১০টার দিকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্টমার্টিন যাত্রাকালে নাফ নদীর মোহনায় নাইক্ষ্যংদিয়া পৌঁছলে এ ঘটনাটি ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে বোট মালিক সমিতির সেক্রেটারি ছৈয়দ আলম জানান, টেকনাফ থেকে চিকিৎসা শেষে সেন্টমার্টিন ফেরার পথে একটি স্পিডবোট লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে। এর আগে মিয়ানমারের অভ্যন্তর থেকে গুলি ছুড়লেও আজ ছোট ডিঙি নৌকায় করে নদীতে নেমে গুলিবর্ষণ করে, এসময় স্পিড বোটে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে তারা সেন্টমার্টিনে নিরাপদে পৌঁছে। এরপর থেকে ভয়ে বোট চলাচল বন্ধ রেখেছে চালকরা।

এর আগে গত ৫ জুন সেন্টমার্টিন দ্বীপের স্থগিত নির্বাচন সম্পন্ন করে ফেরার পথে নাফনদীর মোহনায় নির্বাচনীয় কর্মকর্তাদের ট্রলার লক্ষ্য করে মিয়ানমার থেকে গুলি ছুঁড়ে। এসময় একটানা ২৫ থেকে ৩০ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। প্রাণে রক্ষা পান নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

পর পর দুইদিন আবারও একই ধরনের ঘটনা ঘটে। একের পর এক ট্রলার লক্ষ্য করে মিয়ানমার থেকে গুলি ছোঁড়া হচ্ছে। এরফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে ট্রলার মালিক ও এই রুটের যাত্রী। যার কারণে গত ৭ জুন থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয় ট্রলার ও স্পিডবোট চলাচল।

কোস্টগার্ড সূত্র জানায় "এরকম কয়েকটা গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, তবে সেন্টমার্টিন রুটে ভাটার সময় ডুবো চর ভেসে ওঠায় ট্রলার এবং নৌকা মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁসে চলাচল করায় মিয়ানমার এর দিক থেকে গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে সেই গুলি আরাকান আর্মি নাকি মিয়ানমারের বিজিপি ছুড়েছে সে বিষয়ে নিশ্চিত নয় তারা।"

যোগাযোগ বন্ধ থাকায় খাদ্য সংকটে পড়ার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। যেহেতু সাগরই একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম, তাই এখন সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে সেন্টমার্টিন দ্বীপের সাথে।

কারণ হিসেবে তারা বলছেন, সেন্টমার্টিন থেকে টেকনাফ যাতায়াতের জন্য তাদের একমাত্র মাধ্যম ট্রলার ও স্পিডবোট। কিন্তু গত ৪ দিন ধরে সব ধরনের সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। এর ফলে দ্বীপের সাথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে টেকনাফের। শুধু মানুষ যাতায়াত নয়, যেতে পারছে না কোনো খাদ্যও। ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসায় উদ্বেগ আরো বাড়ছে। এমন অবস্থা চলতে থাকলে শীঘ্রই খাদ্য সংকটে পড়বে দ্বীপের মানুষ। সংকট মোকাবেলায় নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের সহযোগিতা চান তারা।

এই দ্বীপে ১০ হাজার মানুষের বসবাস। খাদ্য গুদাম না থাকায় টেকনাফ থেকেই প্রতিনিয়ত সব ধরনের জিনিসপত্র নিয়ে যেতে হয়। তাই খাদ্য সংকটের আশঙ্কার বিষয়টি মাথায় রেখেই বিকল্প পথ খুঁজছে জেলা প্রশাসন। তবে এখনো কোন সমাধান বের হয়নি বলে জানান কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট ইয়ামিন হোসেন।

দীর্ঘসময় ধরে মিয়ানমারে দেশটির সরকারি বাহিনীর সাথে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সংঘাত চলছে। গত কিছুদিন ধরে টেকনাফ কক্সবাজার সীমান্ত এলাকাগুলো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর। নাফনদীর সেন্টমার্টিন রুটে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মিই গুলি ছুঁড়ছে বলে দাবি বাংলাদেশ সীমান্তের স্থানীয়দের।

   

প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরে যাচ্ছেন আজ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম,ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ শুক্রবার নয়াদিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নতুন সরকার গঠনের পর দেশটিতে এটিই কোনো বিদেশি প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক সফর হবে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সফরের সময় উভয় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তারপর প্রতিনিধি পর্যায়ে আলোচনা হবে। সফরকালে উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে। এছাড়া একটি সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত এক দশকে শক্তিশালী আঞ্চলিক অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে বেশ কিছু আন্তঃসীমান্ত উদ্যোগ চালু করা হয়েছে।

এটি ১৫ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ভারতের রাজধানীতে শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সফর। তিনি গত ৯ জুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবে বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে। ফ্লাইটটি বিকেল ৪টায় (দিল্লি সময়) নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। সন্ধ্যায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বাসভবনে সাক্ষাৎ করবেন।

;

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস আজ: মিরপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজন



ডেস্ক রিপোর্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শুক্রবার দশম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস-২০২৪। দিবসটি উদযাপনে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশনের আয়োজনে এদিন সকালে রাজধানীর মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে থাকছে জমকালো অনুষ্ঠান।

ভারতীয় হাই কমিশন জানিয়েছে, বিগত বছরের মতো এবারও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দশম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপনে গত ১ জুন (২০২৪) ভারতীয় হাই কমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ধানমন্ডিতে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাক-প্রস্তুতির শুভ সূচনা করা হয়। বাংলাদেশে যোগ ব্যায়াম বিষয়ক ১৩টি প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনের সহযোগিতায় ঢাকা এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে ১২টি প্রাক-ইভেন্টে এ দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। 

যোগ ব্যায়ামে আগ্রহী ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সরকারের মন্ত্রী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিশিষ্টজনরা পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত ইভেন্টগুলোতে যোগ দিয়ে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টির অভিন্ন এই কর্মসূচির প্রতি তাদের সমর্থন ও সংহতি ব্যক্ত করেন-জানায় ভারতীয় হাই কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, বিগত বছরের মতো এ বছরও ভারতীয় হাই কমিশন বাংলাদেশের যোগ ব্যায়াম বিষয়ক সংগঠনসমূহের ঐকান্তিক সহযোগিতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন করতে যাচ্ছে। এ বছর এই দিবস উদযাপনের অংশ হয়েছে ১৩টি সংগঠন, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়া,এ বছর বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও সক্রিয়ভাবে এই আয়োজনে অংশ নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, প্রাচীন ভারতে উদ্ভূত এক বিশেষ ধরণের শারীরিক ও মানসিক ব্যায়াম এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলন প্রথা যা যোগব্যায়াম নামে পরিচিতি পায়। মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাবিধানে যুগে যুগে এর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস-যোগ ব্যায়াম চর্চার মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক স্বীকৃতির একটি বিশেষ দিন। ২০১৪ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত হওয়ার পরে প্রতি বছর ২১ জুনকে সারাবিশ্বে মহাসমারোহে উদযাপন করা হয়। বর্তমান ভারতসহ বিশ্বজুড়ে আজ এর জনপ্রিয়তা ব্যাপকতা লাভ করেছে। ২০১৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে প্রদত্ত ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব দেন। সেই বছরই ১১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস বলে ঘোষণা করেন।

এ বছর আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘নারীশক্তির বিকাশের জন্য যোগাভ্যাস’। নারীদের অনেকেই বর্তমানে নানারকম ক্রনিক রোগের শিকার। ত্রিশোর্ধ্ব নারীদের হাড়ের ক্ষয়, হরমোনের ভারসাম্য ঠিক না থাকার কারণে নানা শারীরিক সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, ইনসোমনিয়া, সুগার ও আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় সমাধানসূত্র রয়েছে যোগব্যায়ামে। সেই বিষয়েই সচেতনতা প্রচার করতে এই বিশেষ থিমটির নির্বাচন করা হয়েছে।

;

গভীর রাতে ঢাকা ফিরছে মানুষ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নওগাঁ
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদুল আযহার ছুটিতে পরিবারের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে আবারও নওগাঁ থেকে রাজধানীতে ফিরছে মানুষ। আগামী শনিবার থেকে নিজ কর্মস্থলে যোগ দিতে নিজ গ্রাম ছাড়ছেন অনেকেই। বাস,ট্রেন যোগে ঢাকায় পাড়ি জমাচ্ছেন নওগাঁর মানুষ। 

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) রাত ১১:৪৫ মিনিটের দিকে ঢাকা বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, জীবিকার তাগিদে ঢাকায় ফেরা মানুষের সংখ্যা অনেক। ট্রেনে টিকিট না পেয়ে আবার কেউ পরিবারের সবাই একসাথে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসের টিকিট কেটেছেন।

নওগাঁ থেকে যারা ঢাকায় প্রবেশ করছেন এদের বেশিরভাগই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। অনেকেই প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়তি ছুটি নিয়ে পরিবারকে সাথে নিয়ে ঢাকায় ফিরে আসছেন এতে করে ঢাকামুখী বাস ও ট্রেনে ফিরতি যাত্রীদের চাপ বাড়ছে।

গার্মেন্টস শ্রমিক নুপুর বলেন, আমার বাড়ি বগুড়ায় তবে নওগাঁতে বেড়াতে এসেছিলাম। এখান থেকেই বাসে উঠবো ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে তাই অপেক্ষা করছি। আমার মোট ১০ দিন ছুটি ছিল পরিবারের সবাইকে নিয়ে খুব ভালো সময় কেটেছে আমার। সময়গুলো খুব দ্রুত ফুরিয়ে গেলো এবং যাওয়ায় সময় খুব কষ্ট পাচ্ছি তবুও যেতে হবে নাহলে চাকরি হারাতে হবে।

বদলগাছি উপজেলার বিলাসবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, আমার ছুটি সাত দিন। খুব ভালো সময় কেটেছিল তবে যাবার সময় চোখে পানি চলে এসেছে। তবুও তো যেতেই হবে আবার সামনে ঈদে আসবো বাড়ি। অফিস ছুটি দেয়ার পরে গত শুক্রবারে বাড়িতে এসেছিলাম। আজকে আবার রওয়ানা দিচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা আকমল আলী বলেন, নিজ গ্রাম ছেড়ে যেতে খুবই কষ্ট হয়। কিন্তু না গেলেও তো হবে না কারণ আমাদের পরিবার আছে। প্রতি ঈদে ঢাকা থেকে বাড়িতে চলে আসি মায়ার কারণে। ঈদের সময় টা ট্রেন ও বাসে প্রচুর ভিড় থাকে। এখন বাসের জন্য অপেক্ষা করছি, বাস এলেই উঠে যাবো। শনিবার থেকে অফিস খুলবে তাই আজকেই যেতে হবে।

টিকিট বিক্রেতা শাহিন বলেন, ঈদে ঢাকা ফেরার মানুষের প্রচুর ভিড় থাকে যার কারণে হিমশিম খেতে হয়। ঢাকা যাওয়ার বাসভাড়া নন এসি টিকিট ৭০০ টাকা এবং এসি টিকিট ১২০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

;

প্রতিপক্ষ এলেও উপজেলা চেয়ারম্যানের সভা বয়কট ১০ ইউপি চেয়ারম্যানের



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম ব্যুরো
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর অনুসারী তৌহিদুল হক চৌধুরীকে ২২ হাজার ২৩ ভোটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খানের অনুসারী কাজী মোজাম্মেল হক। নবনির্বাচিত এই উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রথম সভায় সেই ‘প্রতিপক্ষ’ তৌহিদুল হক চৌধুরী হাজির হলেও বয়কট করেছেন ১০ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। তাদের বয়কটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি। বৃহস্পতিবার (২০ জুন) উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।

গত ২০ মে এই উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে কাজী মোজাম্মেল হক পান ৫৮ হাজার ৮৩০ ভোট। অন্যদিকে তৌহিদুল হক চৌধুরী পান ৩৬ হাজার ৮০৭ ভোট। গত ১২ জুন শপথ নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার প্রথমে মতবিনিময় সভায় ও পরে প্রথম সাধারণ সভায় যোগ দেন উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মোজাম্মেল হক। এরপর থেকেই দলে দলে মিছিল নিয়ে উপজেলা প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করেন দলীয় নেতাকর্মী ও উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুসারীরা।

উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইশতিয়াক ইমনের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মৃণাল কান্তি ধর, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান এম এ মান্নান মান্না, নারী ভাইস চেয়ারম্যান চুমকী চৌধুরী।

উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন দাপ্তরিক কর্মকর্তাদের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা এবং সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদের প্রথম সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়। সভায় উপজেলার ১১ ইউনিয়নের মধ্যে শুধু বরুমচড়া ইউনিয়ন পরিষদের শামসুল ইসলাম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু বৈরাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নোয়াব আলী, বারশত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ুম শাহ্, রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিন শরীফ,বটতলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহবুব আলী,বারখাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসনাইন জলিল চৌধুরী শাকিল,আনোয়ারা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অসিম কুমার দেব, চাতরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী সোহেল, পরৈকোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল হক চৌধুরী বাবুল,হাইলধর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কলিম উদ্দিন ও জুঁইদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইদ্রিচ বয়কট করেন। বয়কট করা ১০ চেয়ারম্যানই সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

প্রথম সভার আলোচ্যসূচিতে বিগত সভার কার্যবিবরণী পর্যালোচনা ও অনুমোদন, উপজেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ কমিটি গঠন, উপজেলা পরিষদ পঞ্চবার্ষিকী উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা, বিভাগীয় কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা ও ইউনিয়ন পরিষদ বিষয়াবলী সম্পর্কে আলোচনার কথা ছিল। কিন্তু ১০ চেয়ারম্যানের বয়কটের কারণে ‘কোরাম’ পূর্ণ না হওয়ায় সেসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি।

চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতি সভার স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইশতিয়াক ইমন বলেছেন, কোনো বিষয়ে ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে কোরামের যারা সদস্য আছেন ইউপি চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য, পরিষদের তিন চেয়ারম্যানকে প্রয়োজন হয়। সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান, একজন ইউপি চেয়ারম্যান এবং দপ্তর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। তাই সভায় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

কেন বয়কট করেছেন এমন প্রশ্নে একাধিক চেয়ারম্যান বলেছেন একই কথা। তারা বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বেশ কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলা করা হয়েছে। এতে করে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মান্নান চৌধুরীর ওপর হামলা করেছে, তারা আজ দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে নতুন উপজেলা চেয়ারম্যানের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিল। আনোয়ারায় যে শান্ত পরিবেশ ছিল, তা এখন অনুপস্থিত। তাই শান্ত পরিবেশ ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা সভায় উপস্থিত হতে পারছি না।’

তবে চেয়ারম্যানরা নিরাপত্তাহীনতার কারণে বয়কট করেছেন এমন বিষয় মানতে নারাজ নতুন উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার শঙ্কা আসলে একটা বাহানা। যে সভায় স্বয়ং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন সেখানে কিসের শঙ্কা। ইউপি চেয়ারম্যানদের সভার চিঠি ছাড়াও একাধিকবার ফোন করে জানানো হয়েছে। তারপরও তারা উপস্থিত হননি। তারা হয়তো মনে করছেন, তারা না আসলে উপজেলা পরিষদ অকার্যকর হবে। তারা হয়তো নির্বাচনের এই বিজয়কে মেনে নিতে পারছেন না। তাই তারা একেক ইস্যু দেখিয়ে সংকট সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন। তবে মনে হয় না কোনো সংকট সৃষ্টি হবে।

;