‘গণমানুষের সম্পৃক্ততা ছাড়া বাজেটের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বৈশ্বিক টালমাটাল অবস্থায় বর্তমানে দেশের সার্বিক অর্থনীতি চাপে আছে বলে মন্তব্য করে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত বলেছেন, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং গণমানুষের সম্পৃক্ততা ছাড়া ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্য অর্জন করা যাবে না। বরাদ্দ যতই বাড়ুক না কেন, দরিদ্র-প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ নারীর অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং শোভন রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করা ছাড়া এর বাস্তবায়ন অসম্ভব।

মঙ্গলবার (১১ জুন) রাজধানীর সিরড্যাপে ‘বাজেট প্রক্রিয়া ও উন্নয়নে প্রান্তিক মানুষের অংশগ্রহণ এবং বাজেটে তাদের ন্যায্য বরাদ্দ’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।

ড. আবুল বারকাত বলেন, আমাদের হিসেবে-নিকেশ চলতি অর্থবছরের (২০২৩-২৪) ওপর নির্ভর করে করা। এটি আমাদের সচেতন সিদ্ধান্ত। কেননা সদ্য ঘোষিত বাজেট প্রস্তাব যেহেতু চূড়ান্ত হয়নি, চূড়ান্তকরণে আলোচনা চলছে। তাই ঘোষিত বাজেট প্রস্তাব আমরা নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছি, কিন্তু হিসাবে কাজে লাগাইনি। একই সাথে, আমরা চলতি অর্থবছরের বাজেটের প্রকল্প অনুযায়ী ঘোষিত বরাদ্দ ধরে হিসাব করেছি, সংশোধিত বরাদ্দ খুঁজতে যাইনি-কারণ, ঘোষিত বরাদ্দ সরকারের চিন্তা ভাবনার এক ধরণের প্রতিফলনও বটে, যা রাজনৈতিক-অর্থনীতির বিশ্লেষণে সরকারের মন গড়া'র জন্য দরকারি।

গবেষণার হিসেবে-পদ্ধতি নিয়ে কারো ভিন্নমত থাকতেই পারে জানিয়ে তিনি বলেন, একটি বিষয় নিয়ে সংশয়ের কোনো অবকাশ নেই যে চার বর্গ নিয়ে বিশ্লেষণ করা হলো (পারিবারিক কৃষি, গ্রামীণ নারী, আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কার উদ্দিষ্ট মানুষ-তাদের জন্য রাষ্ট্রীয় বাজেট বরাদ্দ অতি মাত্রায় অপ্রতুল এবং তার আশু বৃদ্ধি অতি জরুরি বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বরাদ্দতেই শেষ নয়, হতে হবে সুষ্ঠু বাস্তবায়ন। এজন্য, বাজেটের লাইন আইটেম নির্ধারণ, বরাদ্দ প্রদান, বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণে সক্রিয় জন-সম্পৃক্ততা নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সংস্কার এবং তা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে 'বাজেট প্রক্রিয়া ও উন্নয়নে প্রান্তিক মানুষের অংশগ্রহণ এবং বাজেটে তাদের ন্যায্য বরাদ্দ' বিষয়ে গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত।

গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরে ড. আবুল বারকাত জানান, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে জাতীয় বাজেট কার্যকর একটি হাতিয়ার। তবে, দারিদ্র্য বিমোচনে (জনগোষ্ঠী-এলাকা-নৃপরিচয়-লৈঙ্গিক পরিচয়-শ্রেণী কাঠামোর ভিত্তিতে) বাজেটের পূর্ণ সম্ভাবনা ব্যবহার করা হচ্ছে কিনা-সে বিষয়ে রয়েছে যথেষ্ট মাত্রার সংশয়।

বর্তমান নয়া উদারবাদী রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কাঠামোতে এটাই স্বাভাবিক যে জাতীয় বাজেটে দরিদ্র, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য 'পর্যাপ্ত' ও 'ন্যায়সঙ্গত' বরাদ্দ থাকে না।

পারিবারিক কৃষি-সংশ্লিষ্ট মানুষ: কারা? কেমন আছেন? তুলে ধরে বলা হয়, জাতিসংঘ ২০১৯ থেকে ২০২৮-এই সময়কালকে পারিবারিক কৃষি দশক হিসেবে ঘোষণা করেছে। অথচ, পারিবারিক কৃষি প্রপঞ্চটিই আমাদের দেশে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত নয়। বাংলাদেশে ঐতিহাসিকভাবেই পারিবারিক কৃষি খানাতে কৃষি খাতের সমস্যাগুলো অনেক বেশি প্রকট-এ যেন আধপেটা খেয়ে, কোনোভাবে টিকে থাকার লক্ষ্যে পরিচালিত এক কৃষিব্যবস্থা।

আমাদের হিসেবে, বর্তমানে মোট কৃষিখানার ৯২% পারিবারিক কৃষি খানা-যার সংখ্যা ১ কোটি ৭৯ লাখ ২০ হাজার ৫৯১ জন। রক্ষণশীল হিসেবে যদি ৯২% এর বদলে ৮০% ও ধরে নেই, তাহলে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ১ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার ১১২-পারিবারিক কৃষি খানার মোট সদস্য সংখ্যা ৬ কোটি ২৭ লাখ ৯ হাজার ৯৯৪।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে পারিবারিক কৃষির জন্য বাজেটে বরাদ্দের হিসেব তুলে ধরে বলেন, জাতীয় বাজেটে পারিবারিক কৃষির জন্য মোট বরাদ্দ কত তার কোনো 'দাফতরিক' হিসেবে নেই। আর থাকবার কথাও নয়- কারণ 'পারিবারিক কৃষি' প্রপঞ্চটিই আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত নয়। আমাদের বিশ্লেষণে, পারিবারিক কৃষির বাজেট বরাদ্দের উল্লেখযোগ্য অংশ রয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের বাজেটে। এছাড়াও, আরও ১৫টি মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদফতরের অধীনে কিছু প্রকল্প বা কর্মসূচি রয়েছে যেগুলো নানান মাত্রায় পারিবারিক কৃষির ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তেমনি 'সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ' খাতের ভূমিকা রয়েছে পারিবারিক কৃষি খানার ও কৃষকের জীবন-মান উন্নয়নে।

আমাদের হিসেবে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে পারিবারিক কৃষির জন্য মোট বরাদ্দ ৪০ হাজার ৫৬৭ কোটি টাকা-যা মোট বাজেটের ৫.৩%।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে পারিবারিক কৃষি-সংশ্লিষ্ট কৃষিখানার সদস্যপ্রতি বরাদ্দ ছিল গড়ে ৬ হাজার ৪৬৯ টাকা, যা জাতীয় মাথাপিছু গড় বরাদ্দের (যার পরিমাণ ৪৬ হাজার ১২৪ টাকা) তুলনায় ৮৬% কম।

পারিবারিক কৃষিসংশ্লিষ্ট মানুষের জন্য বাজেটে ন্যায্য বরাদ্দ কেমন হওয়া উচিত তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত অর্থবছরের বাজেট বৃদ্ধির ধারা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পারিবারিক কৃষি-সংশ্লিষ্ট মানুষদের জন্য মোট বরাদ্দ হবে ৪৫ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ মাথাপিছু বরাদ্দ হতে পারে ৭ হাজার ২৬৫ টাকা। চলমান বাজেট বরাদ্দে পারিবারিক কৃষিসংশ্লিষ্ট মানুষ তার ন্যায্য বরাদ্দ পাননি। 'আদর্শ অবস্থা' বাস্তবায়ন কঠিনসাধ্য। তাই, পারিবারিক কৃষিসংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান মাথাপিছু বরাদ্দের প্রকৃত পক্ষে দ্বিগুণ বৃদ্ধি আমরা হিসেব করেছি। যদি মাথাপিছু ২ গুণ বৃদ্ধি ধরে বরাদ্দ হিসেব করি, তাহলে মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়াবে ৯১ হাজার ১১৪ কোটি টাকা, যা মোট অনুমিত জাতীয় বরাদ্দের ১০.৬%।

গ্রামীণ নারী কারা কেমন আছেন তুলে ধরে তিনি জানান, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী (৫০.৪৯%)। মোট জনসংখ্যার মধ্যে গ্রামীণ নারী ৩৫.১%। গৃহস্থালী বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি গ্রামীণ নারীদের অন্তত ৭০% প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষি কাজের সঙ্গে যুক্ত। যদিও তাদের কাজের আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃতি দেয়া হয় না। কৃষিতে নারীরা যে শ্রম দেন তার ৪৫.৬% ক্ষেত্রে কোনো পারিশ্রমিক পান না। আর বাকি ৫৪.৪% ক্ষেত্রে পারিশ্রমিক পান বাজারমূল্যের চেয়ে কম। একই বৈষম্য অকৃষি খাতেও।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে গ্রামীণ নারীর জন্য বাজেট বরাদ্দের হিসেবপত্তর তুলে ধরে জানান, আমাদের হিসেবে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ঘোষিত বাজেটে গ্রামীণ নারীর জন্য মোট বরাদ্দ ৩১ হাজার ৩১৩ কোটি টাকা-যা মোট বাজেটের ৪.১%। অর্থাৎ, গ্রামীণ নারীর জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ গড়ে ১০ হাজার ৮১৪ টাকা, যা জাতীয় মাথাপিছু বরাদ্দের চেয়ে প্রায় ৭৬% কম।

গ্রামীণ নারীর মধ্যে ভূমিহীন, কৃষি-মৎসজীবীতার সাথে যুক্ত নারী, বিধবা, এবং প্রতিবন্ধী নারীর সংখ্যা প্রায় ২ কোটি ৯০ লাখ। তাদের বাজেট-বরাদ্দ বঞ্চনা আরও বেদনাদায়ক। অনুমিত যে এই ধরণের গ্রামীণ নারীরা বাজেট থেকে মাথাপিছু পান সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৫৭০ টাকা।

গ্রামীণ নারীর জন্য বাজেটে ন্যায্য বরাদ্দ কেমন হওয়া উচিত সে বিষয় তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত অর্থবছরের বাজেট বৃদ্ধির ধারা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে গ্রামীণ নারীর জন্য মোট বরাদ্দ হবে ৩৫ হাজার ১৬৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মাথাপিছু বরাদ্দ হতে পারে ১২ হাজার ১৪৪ টাকা। যদি আমরা মাথাপিছু ২ গুণ বৃদ্ধি ধরে বরাদ্দ হিসাব করি, তাহলে মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়াবে ৭০ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা, যা মোট অনুমিত জাতীয় বরাদ্দের ৮.২২%।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে গ্রামীন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য বাজেট বরাদ্দের হিসাব তুলে ধরে জানানো হয়, জাতীয় বাজেটে আদিবাসীদের জন্য কাঙ্খিত প্রতিফলন নেই, যার ফলে তাদের উন্নয়নের ধারা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এটি একটি বড় বৈষম্য যা বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

আমাদের হিসাবে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আদিবাসী মানুষের জন্য মোট বরাদ্দ ছিল ৬ হাজার ২৩ কোটি টাকা, অর্থাৎ, আদিবাসী মানুষের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ ছিল গড়ে ১২ হাজার ৪৭ টাকা। অর্থাৎ, আদিবাসী মানুষের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ জাতীয় মাথাপিছু বরাদ্দের চেয়ে প্রায় ৭৪% কম।

আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ২০২২ সালের জনশুমারি ও গৃহগণনার প্রতিবেদনে দেখানো হয়েছে, দেশে আদিবাসীর সংখ্যা (যদিও, সরকারি কাগজে এই পরিচয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী) ১৬ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৮ জন, তন্মধ্যে সমতলের আদিবাসী ৬ লাখ ৫৯ হাজার ৪৬৫ জন আর পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী ৯ লাখ ৯১ হাজার ১৩ জন। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের মতে এদেশে আদিবাসীর সংখ্যা ৩০ লাখ। ২০১৬ সালের আরেক হিসেবে এই সংখ্যা ৫০ লাখ (আবুল বারকাত, ২০১৬)।

বাংলাদেশে আদিবাসীদের সংখ্যা নিয়ে যেমন বিতর্ক আছে, তেমনই বিতর্ক আছে বিভিন্ন ধরনের আদিবাসী গোষ্ঠীর সংখ্যা কতো তা নিয়েও।

আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য বাজেটে ন্যায্য বরাদ্দ কেমন হওয়া উচিত এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিগত অর্থবছরের বাজেট বৃদ্ধির ধারা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য মোট বরাদ্দ হবে ৬ হাজার ৭৬৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ, মাথাপিছু বরাদ্দ হতে পারে ১৩ হাজার ৫২৮ টাকা (এই হিসেব আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা ৫০ লাখ ধরে করা; যদি তর্কের খাতিরে এই সংখ্যা ৩০ লাখও ধরা হয় তাহলেও মাথাপিছু এই অঙ্ক দাঁড়ায় ২০ হাজার ৭৮ টাকা, যেখানে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মাথাপিছু জাতীয় বাজেট বরাদ্দ ছিল ৪৬ হাজার ১২৫ টাকা)।

চলমান বাজেট বরাদ্দে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষ তার ন্যায্য বরাদ্দ পাননি। আদর্শ অবস্থা বাস্তবায়ন কঠিনসাধ্য। তাই, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য বিদ্যমান মাথাপিছু বরাদ্দের প্রকৃত পক্ষে দ্বিগুণ বৃদ্ধি আমরা হিসেব করেছি। যদি আমরা মাথাপিছু ২ গুণ বৃদ্ধি ধরে বরাদ্দ হিসেব করি তাহলে মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়াবে ১২ হাজার ৪৭ কোটি টাকা, যা মোট অনুমিত জাতীয় বরাদ্দের ১.৪০%।

কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারের কথা তুলে ধরে বলা হয়, ২০০৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছিল সরকার গঠন করতে পারলে 'ভূমি সংস্কার কমিশন' গঠন করা হবে, আর ২০১৪ সালে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ওয়াদা করা হয়েছিলো বিজ্ঞানভিত্তিক ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতি গ্রহণ করা হবে। কিন্তু এই দুই প্রতিশ্রুতি পূরণে বাজেটীয় উদ্যোগ কখনোই নেয়া হয়নি। বাজেটে কোনো চিহ্ন নেই খাস জমি জলার বন্টন ব্যবস্থাপনা।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারের জন্য বাজেট বরাদ্দের হিসেব তুলে ধরে বলা হয়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেটের পরিমাণ দেখেই প্রতীয়মান হয় যে এটি সরকারের সবচেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের একটি, অথচ উন্নয়নের জন্য ভূমি অপরিহার্য এবং ভূমি ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসন স্বচ্ছ ও সহজ হওয়া বাঞ্ছনীয়। 'কৃষি সংস্কার', 'ভূমি সংস্কার', 'জলা সংস্কার- এগুলোর কোনোটির নামে কোনো উপখাত/লাইন আইটেম প্রচলিত বাজেটে থাকেনা।
আমাদের হিসাবে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারের জন্য জন্য মোট বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা (যা মোট বাজেটের ১.৩৬%)-যেখানে কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কার- উদ্বিষ্ট জনসংখ্যা দেশের মোট জনসংখ্যার ৮২.৮%। অর্থাৎ, কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারের জন্য মাথাপিছু বরাদ্দ ছিল গড়ে মাত্র ৭৬১ টাকা।

কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারের জন্য বাজেটে ন্যায্য বরাদ্দ কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়ে বলা হয়, বিগত অর্থবছরের বাজেট বৃদ্ধির ধারা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারউদ্দিষ্ট মানুষের জন্য মোট বরাদ্দ হবে ১১ হাজার ৬৭১ কোটি টাকা; অর্থাৎ, মাথাপিছু বরাদ্দ হতে পারে ৮ শত ৫৪ টাকা। চলমান বাজেট বরাদ্দে কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারউদ্দিষ্ট মানুষ তার ন্যায্য বরাদ্দ পাননি। "আদর্শ অবস্থা" বাস্তবায়ন কঠিনসাধ্য। তাই, কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারউদ্দিষ্ট মানুষের জন্য বিদ্যমান মাথাপিছু বরাদ্দের কমপক্ষে ১০ গুণ বৃদ্ধি আমরা হিসেব করেছি।

যদি আমরা মাথাপিছু ১০ গুণ বৃদ্ধি ধরে বরাদ্দ হিসেব করি, তাহলে মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা, যা মোট অনুমদিত জাতীয় বরাদ্দের ১৩.৬৫%।

বাজেটে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যুব-জনগোষ্ঠী এবং নগরে বাস করা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর প্রতি বাজেটে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলেও সেমিনারে জানানো হয়।

   

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস আজ: মিরপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজন



ডেস্ক রিপোর্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শুক্রবার দশম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস-২০২৪। দিবসটি উদযাপনে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশনের আয়োজনে এদিন সকালে রাজধানীর মিরপুর শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে থাকছে জমকালো অনুষ্ঠান।

ভারতীয় হাই কমিশন জানিয়েছে, বিগত বছরের মতো এবারও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দশম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপনে গত ১ জুন (২০২৪) ভারতীয় হাই কমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ধানমন্ডিতে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রাক-প্রস্তুতির শুভ সূচনা করা হয়। বাংলাদেশে যোগ ব্যায়াম বিষয়ক ১৩টি প্রতিনিধিত্বশীল সংগঠনের সহযোগিতায় ঢাকা এবং পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে ১২টি প্রাক-ইভেন্টে এ দিবস উদযাপনের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। 

যোগ ব্যায়ামে আগ্রহী ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে সরকারের মন্ত্রী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ বিশিষ্টজনরা পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত ইভেন্টগুলোতে যোগ দিয়ে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা সৃষ্টির অভিন্ন এই কর্মসূচির প্রতি তাদের সমর্থন ও সংহতি ব্যক্ত করেন-জানায় ভারতীয় হাই কমিশন। সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, বিগত বছরের মতো এ বছরও ভারতীয় হাই কমিশন বাংলাদেশের যোগ ব্যায়াম বিষয়ক সংগঠনসমূহের ঐকান্তিক সহযোগিতা এবং সক্রিয় অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উদযাপন করতে যাচ্ছে। এ বছর এই দিবস উদযাপনের অংশ হয়েছে ১৩টি সংগঠন, যা আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। এছাড়া,এ বছর বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও সক্রিয়ভাবে এই আয়োজনে অংশ নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, প্রাচীন ভারতে উদ্ভূত এক বিশেষ ধরণের শারীরিক ও মানসিক ব্যায়াম এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলন প্রথা যা যোগব্যায়াম নামে পরিচিতি পায়। মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাবিধানে যুগে যুগে এর প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়েছে। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস-যোগ ব্যায়াম চর্চার মর্যাদাপূর্ণ বৈশ্বিক স্বীকৃতির একটি বিশেষ দিন। ২০১৪ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত হওয়ার পরে প্রতি বছর ২১ জুনকে সারাবিশ্বে মহাসমারোহে উদযাপন করা হয়। বর্তমান ভারতসহ বিশ্বজুড়ে আজ এর জনপ্রিয়তা ব্যাপকতা লাভ করেছে। ২০১৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে প্রদত্ত ভাষণে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে ঘোষণার প্রস্তাব দেন। সেই বছরই ১১ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২১ জুনকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস বলে ঘোষণা করেন।

এ বছর আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রতিপাদ্য ‘নারীশক্তির বিকাশের জন্য যোগাভ্যাস’। নারীদের অনেকেই বর্তমানে নানারকম ক্রনিক রোগের শিকার। ত্রিশোর্ধ্ব নারীদের হাড়ের ক্ষয়, হরমোনের ভারসাম্য ঠিক না থাকার কারণে নানা শারীরিক সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, ইনসোমনিয়া, সুগার ও আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় সমাধানসূত্র রয়েছে যোগব্যায়ামে। সেই বিষয়েই সচেতনতা প্রচার করতে এই বিশেষ থিমটির নির্বাচন করা হয়েছে।

;

গভীর রাতে ঢাকা ফিরছে মানুষ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নওগাঁ
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদুল আযহার ছুটিতে পরিবারের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করে আবারও নওগাঁ থেকে রাজধানীতে ফিরছে মানুষ। আগামী শনিবার থেকে নিজ কর্মস্থলে যোগ দিতে নিজ গ্রাম ছাড়ছেন অনেকেই। বাস,ট্রেন যোগে ঢাকায় পাড়ি জমাচ্ছেন নওগাঁর মানুষ। 

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) রাত ১১:৪৫ মিনিটের দিকে ঢাকা বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, জীবিকার তাগিদে ঢাকায় ফেরা মানুষের সংখ্যা অনেক। ট্রেনে টিকিট না পেয়ে আবার কেউ পরিবারের সবাই একসাথে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসের টিকিট কেটেছেন।

নওগাঁ থেকে যারা ঢাকায় প্রবেশ করছেন এদের বেশিরভাগই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। অনেকেই প্রতিষ্ঠান থেকে বাড়তি ছুটি নিয়ে পরিবারকে সাথে নিয়ে ঢাকায় ফিরে আসছেন এতে করে ঢাকামুখী বাস ও ট্রেনে ফিরতি যাত্রীদের চাপ বাড়ছে।

গার্মেন্টস শ্রমিক নুপুর বলেন, আমার বাড়ি বগুড়ায় তবে নওগাঁতে বেড়াতে এসেছিলাম। এখান থেকেই বাসে উঠবো ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে তাই অপেক্ষা করছি। আমার মোট ১০ দিন ছুটি ছিল পরিবারের সবাইকে নিয়ে খুব ভালো সময় কেটেছে আমার। সময়গুলো খুব দ্রুত ফুরিয়ে গেলো এবং যাওয়ায় সময় খুব কষ্ট পাচ্ছি তবুও যেতে হবে নাহলে চাকরি হারাতে হবে।

বদলগাছি উপজেলার বিলাসবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল খালেক বলেন, আমার ছুটি সাত দিন। খুব ভালো সময় কেটেছিল তবে যাবার সময় চোখে পানি চলে এসেছে। তবুও তো যেতেই হবে আবার সামনে ঈদে আসবো বাড়ি। অফিস ছুটি দেয়ার পরে গত শুক্রবারে বাড়িতে এসেছিলাম। আজকে আবার রওয়ানা দিচ্ছি।

স্থানীয় বাসিন্দা আকমল আলী বলেন, নিজ গ্রাম ছেড়ে যেতে খুবই কষ্ট হয়। কিন্তু না গেলেও তো হবে না কারণ আমাদের পরিবার আছে। প্রতি ঈদে ঢাকা থেকে বাড়িতে চলে আসি মায়ার কারণে। ঈদের সময় টা ট্রেন ও বাসে প্রচুর ভিড় থাকে। এখন বাসের জন্য অপেক্ষা করছি, বাস এলেই উঠে যাবো। শনিবার থেকে অফিস খুলবে তাই আজকেই যেতে হবে।

টিকিট বিক্রেতা শাহিন বলেন, ঈদে ঢাকা ফেরার মানুষের প্রচুর ভিড় থাকে যার কারণে হিমশিম খেতে হয়। ঢাকা যাওয়ার বাসভাড়া নন এসি টিকিট ৭০০ টাকা এবং এসি টিকিট ১২০০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

;

প্রতিপক্ষ এলেও উপজেলা চেয়ারম্যানের সভা বয়কট ১০ ইউপি চেয়ারম্যানের



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম ব্যুরো
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর অনুসারী তৌহিদুল হক চৌধুরীকে ২২ হাজার ২৩ ভোটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খানের অনুসারী কাজী মোজাম্মেল হক। নবনির্বাচিত এই উপজেলা চেয়ারম্যানের প্রথম সভায় সেই ‘প্রতিপক্ষ’ তৌহিদুল হক চৌধুরী হাজির হলেও বয়কট করেছেন ১০ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। তাদের বয়কটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি। বৃহস্পতিবার (২০ জুন) উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।

গত ২০ মে এই উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে কাজী মোজাম্মেল হক পান ৫৮ হাজার ৮৩০ ভোট। অন্যদিকে তৌহিদুল হক চৌধুরী পান ৩৬ হাজার ৮০৭ ভোট। গত ১২ জুন শপথ নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার প্রথমে মতবিনিময় সভায় ও পরে প্রথম সাধারণ সভায় যোগ দেন উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মোজাম্মেল হক। এরপর থেকেই দলে দলে মিছিল নিয়ে উপজেলা প্রাঙ্গণে আসতে শুরু করেন দলীয় নেতাকর্মী ও উপজেলা চেয়ারম্যানের অনুসারীরা।

উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইশতিয়াক ইমনের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল হক চৌধুরী, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মৃণাল কান্তি ধর, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান এম এ মান্নান মান্না, নারী ভাইস চেয়ারম্যান চুমকী চৌধুরী।

উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন দাপ্তরিক কর্মকর্তাদের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা এবং সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদের প্রথম সাধারণ সভা আহ্বান করা হয়। সভায় উপজেলার ১১ ইউনিয়নের মধ্যে শুধু বরুমচড়া ইউনিয়ন পরিষদের শামসুল ইসলাম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু বৈরাগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নোয়াব আলী, বারশত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ কাইয়ুম শাহ্, রায়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিন শরীফ,বটতলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মাহবুব আলী,বারখাইন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসনাইন জলিল চৌধুরী শাকিল,আনোয়ারা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অসিম কুমার দেব, চাতরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী সোহেল, পরৈকোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল হক চৌধুরী বাবুল,হাইলধর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কলিম উদ্দিন ও জুঁইদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইদ্রিচ বয়কট করেন। বয়কট করা ১০ চেয়ারম্যানই সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

প্রথম সভার আলোচ্যসূচিতে বিগত সভার কার্যবিবরণী পর্যালোচনা ও অনুমোদন, উপজেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান নির্বাচন, উপজেলা পরিষদ কমিটি গঠন, উপজেলা পরিষদ পঞ্চবার্ষিকী উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে আলোচনা, বিভাগীয় কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা ও ইউনিয়ন পরিষদ বিষয়াবলী সম্পর্কে আলোচনার কথা ছিল। কিন্তু ১০ চেয়ারম্যানের বয়কটের কারণে ‘কোরাম’ পূর্ণ না হওয়ায় সেসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি।

চেয়ারম্যানদের অনুপস্থিতি সভার স্বাভাবিক কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইশতিয়াক ইমন বলেছেন, কোনো বিষয়ে ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে কোরামের যারা সদস্য আছেন ইউপি চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত মহিলা সদস্য, পরিষদের তিন চেয়ারম্যানকে প্রয়োজন হয়। সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান, একজন ইউপি চেয়ারম্যান এবং দপ্তর প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। তাই সভায় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

কেন বয়কট করেছেন এমন প্রশ্নে একাধিক চেয়ারম্যান বলেছেন একই কথা। তারা বলেন, ‘উপজেলা নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বেশ কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর হামলা করা হয়েছে। এতে করে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যারা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ মান্নান চৌধুরীর ওপর হামলা করেছে, তারা আজ দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে নতুন উপজেলা চেয়ারম্যানের পেছনে দাঁড়িয়ে ছিল। আনোয়ারায় যে শান্ত পরিবেশ ছিল, তা এখন অনুপস্থিত। তাই শান্ত পরিবেশ ফিরে না আসা পর্যন্ত আমরা সভায় উপস্থিত হতে পারছি না।’

তবে চেয়ারম্যানরা নিরাপত্তাহীনতার কারণে বয়কট করেছেন এমন বিষয় মানতে নারাজ নতুন উপজেলা চেয়ারম্যান কাজী মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তার শঙ্কা আসলে একটা বাহানা। যে সভায় স্বয়ং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন সেখানে কিসের শঙ্কা। ইউপি চেয়ারম্যানদের সভার চিঠি ছাড়াও একাধিকবার ফোন করে জানানো হয়েছে। তারপরও তারা উপস্থিত হননি। তারা হয়তো মনে করছেন, তারা না আসলে উপজেলা পরিষদ অকার্যকর হবে। তারা হয়তো নির্বাচনের এই বিজয়কে মেনে নিতে পারছেন না। তাই তারা একেক ইস্যু দেখিয়ে সংকট সৃষ্টি করতে চাচ্ছেন। তবে মনে হয় না কোনো সংকট সৃষ্টি হবে।

;

চট্টগ্রামে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস, অবৈধ সেবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন'র সিদ্ধান্ত



স্টাফ কসেরপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের পাহাড় ধসের শঙ্কা থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরাতে পাহাড়ে পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের যেসব অবৈধ সংযোগ রয়েছে সবগুলো বিচ্ছিন্ন করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) বিকেল তিনটার দিকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির ২৮তম সভার সিদ্ধান্তের কথা জানাতে গিয়ে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

সভার সিদ্ধান্তের কথা জানাতে গিয়ে বিভাগী কমিশনার তোফায়েল ইসলাম বলেন, যেসব দপ্তর-সংস্থার মালিকানাধীন পাহাড়গুলোতে অবৈধভাবে মানুষ বসবাস করছে তাদেরকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা দপ্তরগুলোর প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। এবং অবৈধভাবে বসবাসকারীদের মধ্যে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস সরবরাহর যে লাইনগুলো রয়েছে সেগুলো বিচ্ছিন্ন করে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই কমিটি বরাবর এটির প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। তাছাড়া পাহাড়ের পাদ দেশে দেয়াল ধসের ঘটনা ঘটে। তাই সেখান থেকে যাতে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে নেওয়া হয়।

এসময় ‌সারা বছর না উচ্ছেদ করে শুধু বর্ষা আসলেই কেন এই উচ্ছেদ কার্যক্রম করা হয়- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তোফায়েল ইসলাম বলেন, আমরা তো বলেছি কার্যক্রম সারা বছর ধরে চলমান আছে। কিন্তু ঝুঁকিপূর্ণের প্রশ্নটা আসে বৃষ্টি হলে।

এর আগে বিকেল তিনটা থেকে শুরু হওয়া এই সভায়টি প্রায় একঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে। সভায় পাহাড় ব্যবস্থা কমিটির সদস্যরাসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে ৫ হাজার ৩০০টি অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ রয়েছে। এসব সংযোগ দিয়ে পাহাড়ে ঝুকিপূর্ণভাবে বসবাস করছে।

সভায় পাহাড়ে অবৈধ কোনো পানির সংযোগ নেই বলে দাবি করেন চট্টগ্রাম ওয়াসার নির্বাহী প্রকৌশলী সজীব বড়ুয়া। তিনি বলেন, আমরা পাহাড়ে কোনো পানির সংযোগ দেয়নি। যদি কোনো কারণে কোন সংযোগ দেওয়া হয়ে থাকে তাহলে আমরা সেটি বিচ্ছিন্ন করবো। পাহাড় ব্যবস্থা কমিটির পাঠানো চিঠির প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম ওয়াসা একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাহাড়ের কোথাও ডিপ টিউবওয়েল আছে কিনা সেটি আগামী ১০ দিনের মধ্যে কমিটি আমাদেরকে প্রতিবেদন জমা দিবে। তারপর আমরা আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে অভিযান করব।

সভায় পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের পরিচালক হিল্লোল বিশ্বাস পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে তাদের অভিযান চলমান আছি দাবি করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের অবৈধ পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে অভিযান সবসময় চলমান আছে। শহরে খুলশী আর বায়েজিদ এই দুই এলাকায় পাহাড় কাটার ঘটনাটা বেশি। পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে আমাদের ২০২৩ সালে মামলা হয়েছে ১৭টি। চলতি বছরেও এখন পর্যন্ত সাতটি মামলা হয়েছে এবং ২২ লাখ টাকা পরিমাণ জরিমানা করা হয়েছে।

শুধু মামলা হচ্ছে শাস্তির হচ্ছে না কেন- বিভাগীয় কমিশনারের এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইলে হিল্লোল বিশ্বাস বলেন, শাস্তি আছে স্যার, এ কাজের মধ্যে জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে সরকারি কর্মকর্তাদেরও সহযোগিতা আছে।

সভায় পাহাড়কে রক্ষার জন্য গোড়ায় হাত দিয়ে বিভাগীয় কমিশনারকে পরামর্শ দেন চট্টগ্রাম নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলের সভাপতি সভাপতি সাংবাদিক চৌধুরী ফরিদ। তিনি বলেন, আমরা পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে জানতে চাই, অনেকগুলা মামলা হয়েছে তবে এর মধ্যে কয়েক জনের শাস্তি হয়েছে। এ পর্যন্ত আমার রিপোর্টে ৭৪টি পাহাড় আপনার এলাকায় কাটা হয়েছে। পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরে মামলা হয় এই পর্যন্ত কয়জন আসামির বিরুদ্ধে শাস্তি হয়েছে। আমি আপনার মাধ্যমে উনার কাছ থেকে জানতে চাই। আর যে সমস্ত মামলা হয় সেগুলোর মধ্যে মালিককে মামলার আসামি করা হয় না, করা হয় শ্রমিক বা অন্যান্যদেরকে।

এসময় তিনি পাহাড় যারা কাটে তাদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন সাজা হয় এমন আইন করার দাবি জানান। পাহাড় রক্ষা কমিটির এই সদস্য বলেন, যে পাহাড় কাটে তার বিরুদ্ধে দুই থেকে তিনটা মামলা হলে বিগত মামলাগুলোর কোন রেফারেন্স দেওয়া হয় না চার্জশিটের মধ্যে। আদালত একটা মামলা দিয়ে তাকে জামিন দিয়ে দিচ্ছে অথবা তার শাস্তি হচ্ছে না। এখানে সবাই আছে, আমি আপনার মাধ্যমে যারা পাহাড় কাটে তাদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়। এটি আপনি মাননীয় মন্ত্রীর মাধ্যমে জানান আমার দাবিটা। এটি আজকে প্রস্তাব করে আমাদের মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট জায়গায় পাঠানো হোক।

পাহাড় কাটার কারণে আজকে পাহাড় ধস হচ্ছে। পাহাড় কাটলে বা বৃষ্টি হলে আমাদের জেলা প্রশাসক মহোদয় সহ অন্যান্যদের ঘুম হারাম হয়ে যায়। এসব কেন হচ্ছে, আমাদের সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। আমার মনে হয় আমাদের গোড়ায় গলদ। গোড়ায় আমাদের ঠিক করতে হবে। পাহাড়ের দুর্যোগের সময় রাতেও আমরা গিয়ে দেখেছি বিদ্যুৎ রয়েছে, ওয়াসার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে সেখানে পানির লাইন নেই. কিন্তু আমরা সুন্দর পানির লাইন দেখেছি। আরেকটা বিষয় হচ্ছে যে পাহাড়গুলোতে দেখি সুন্দর রাস্তাও করে দেওয়া হয়েছে।

এসময় বিভাগীয় কমিশনার কারা করছে জানতে চাইলে চৌধুরী ফরিদ বলেন, এটাই তো, আপনি গোড়ায় আসেন। আমরা যাতায়াতের জন্য সুন্দর সুন্দর রাস্তা ব্যবস্থা করে দেব, পানির ব্যবস্থা করে দেব, বিদ্যুৎ লাইন দেব! এদেরকে চিহ্নিত করা দরকার এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন, অবৈধ পাহাড়ে কেন বৈধ রাস্তা হবে আমরা এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনকে অনুরোধ জানাবো।

বিভাগী কমিশনার তোফায়েল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় চট্টগ্রাম ওয়াসা, বিদ্যুৎ বিভাগ, কর্ণফুলী গ্যাস ডিসট্রিভিউশন লিমিটেড, রেলওয়ে, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, সওজ, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রতিধিও পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখী হন জেলা প্রশাসক (ডিসি) আবুল বাশার মো. ফখরুজ্জামান।

তিনি বলেন, গত এক বছরে চট্টগ্রাম নগরের মোট ২৬টি পাহাড় রয়েছে, আমরা সেই পাহাড়গুলোতে সাইনবোর্ড স্থাপন করেছি, যেন কোনভাবে কেউ পাহাড় না কাটে। এবং সেখানে আমাদের সহকারি কমিশনারদের (ভূমি) মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে। যাতে করে স্থানীয়রা আমাদের জানাতে পারে। কিন্তু এরপরও বিভিন্ন সময় দেখা যায় পাহাড় কাটা হচ্ছে। আমরা ধারণা করছি আগামী তিনদিন যদি ভারি বর্ষণ হয় তাহলে ভূমিধসের একটি আশঙ্কা রয়েছে। সে আশঙ্কা থেকেই আজকের এই সভাটি করা হয়েছে। বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে যে এই পাহাড়গুলোতে যারা অবৈধভাবে বসবাস করছেন তারা যেন ছেড়ে চলে যান। এই পাহাড়গুলোর মধ্যে কিছু ব্যক্তি মালিকানাধীন আর কিছু বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার রয়েছে। আমরা সেই সকল দপ্তর-সংস্থাকে অনুরোধ করেছি তাদের পাহাড়ের যে সকল অবৈধ বসবাসকারীরা রয়েছে তাদেরকে উচ্ছেদ করা হয়। প্রয়োজনে আমাদেরকে তালিকা দিয়ে উচ্ছেদ করার কথা বলা হলে আমরা নির্বাহীদের দিয়ে সেটি উচ্ছেদ করব।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন গত এক বছরে খাস খতিয়ানভুক্ত ১০ একর জায়গা উদ্ধার করেছে। সেই ১০ একর জমি উদ্ধারের পাশাপাশি বেশ কিছু ঘরও উচ্ছেদ করা হয়েছে। গত এক বছরে ৫টি উচ্ছেদ অভিযান আমরা করেছি। ১১টির বেশি পরবিারকে উচ্ছেদ করেছি। কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছু দপ্তর সংস্থার পাহাড় রয়েছে যেগুলোতে আমরা অভিযান চালাতে পারি না। এসব পাহাড়ে রাস্তা করা হচ্ছে, পাহাড় কেটে বাড়ি বানানো হচ্ছে, ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। এখানে অনেকেই সম্পৃক্ত রয়েছে এবং তাদের মধ্যে দু-একজন বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। পরিবেশ অধিদপ্তর মামলা করেছে। এর বাইরে দু-একজন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে যখন আমরা অভিযোগ পেয়েছি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা তাদেরকে শোকজ করেছি। তাদেরকে
বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা উপরে বলেছি, তাদেরকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পরে তারা মহামান্য হাইকোর্ট থেকে একটি আদেশ এনে পুনরায় দায়িত্ব পালন করতেছেন।

ডিসি বলেন, আজকে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার জন্য বলা হয়েছে। আমরা আশা করি, যারা পাহাড়ে অবৈধভাবে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন তারা সেখান থেকে যাতে নিরাপদ আশ্রয়ে আসেন। আমরা আমাদের অভিযান চালাচ্ছি এবং আমরা অন্যান্য দপ্তর-সংস্থাকে বলব তারা যেন তাদের পাহাড়গুলোকে সংরক্ষণ করেন।

উচ্ছেদে বাধা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন বাধা বলতে এখানে অনেকগুলো মানুষ বসবাস করে, প্রায় ২০ হাজার। এখান থেকে বিপুল জনগোষ্ঠীকে সরিয়ে আনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এখানে আইন-শৃঙ্খলা অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যে পাহাড়গুলোর মালিকানা বিভিন্ন দপ্তর সংস্থা বা মন্ত্রণালয়ের কাছে দিয়েছে তারা যদি উচ্ছেদ করার পর এগুলোকে সংরক্ষণ করে রাখেন বা সীমানা প্রাচীর দিয়ে রাখেন, তাহলে নতুন করে সেখানে আর কেউ স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না। এসব না করার কারণে দেখা যায়, আমরা নামিয়ে নিয়ে আসছি আবার কিন্তু তারা উঠে যাচ্ছে। এটি দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না, আমরাও চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত না পাহাড়ে যারা মালিক তারা সচেতন হবে না ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবো না।

;