কিশোর গ্যাংয়ের আশ্রয়দাতাদের তালিকা প্রস্তুত সম্পন্ন, অভিযান শুরু হবে



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বাড়াতে সমাজের প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই দায়ী এবং এসব গ্যাংকে তারাই আশ্রয় দেন বলে বহু অভিযোগ রয়েছে। কবে এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বেশ কয়েকটি স্থানে কিশোর গ্যাংয়ে ছিনতাই, চাঁদাবাজি এমনকি খুনের ঘটনার পর তৎপর হয়েছে প্রশাসন। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে আশ্রয়দাতাদের সন্ধান।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে জানিয়েছেন, কিশোর গ্যাংয়ের আশ্রয়দাতাদের তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। শিগগিরই এসব গ্যাং নির্মূলে অভিযান শুরু হবে।

বুধবার (২৯ মে) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সংসদীয় বৈঠকের কার্যবিবরণী থেকে এ তথ্য জানা গেছে। কমিটির আগের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। আজকের বৈঠকে ওই কার্যবিবরণী অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠকে র‍্যাবের মহাপরিচালক বলেন, ‘দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে, কিশোর গ্যাং সমাজের জন্য অ্যালার্মিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিশোর গ্যাং নির্মূলের জন্য অভিযান পরিচালনা করে অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে ছাড়া পেয়ে পুনরায় অপরাধকর্মে জড়িয়ে পড়ছে।’

র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, ‘কোথায় কোন কিশোর গ্যাং আছে, তাদের কারা আশ্রয় দিচ্ছে, তার তালিকা তৈরি করা হয়েছে। অতি শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।’

এদিকে আজকের বৈঠকে আলোচিত সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার ‘হত্যা’ ও পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের দুর্নীতির অভিযোগ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

কমিটির সভাপতি বেনজীর আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সামছুল হক দুদু, ময়েজ উদ্দিন শরীফ, চয়ন ইসলাম, মো. সাদ্দাম হোসেন (পাভেল) এবং হাছিনা বারী চৌধুরী।

   

ফিরতি পথ ধরেননি এখনো অনেকেই



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের দুইদিন পেরিয়ে গেলেও গ্রামে স্বজনদের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে ফিরতি পথ ধরেননি রাজধানীবাসীর অনেকেই। গাবতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকায় ফিরছেন এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। তবে অনেকেই এখনো ঢাকা ছাড়ছেন।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছুটি শেষে ফিরতি যাত্রীদের চাপ বাড়বে আরো একদিন পর। আবার অনেকেই শনিবার ঢাকা এসে রোববার থেকে অফিস শুরু করবেন।

বুধবার (১৯ জুন) গাবতলী বাস টার্মিনাল ও এর আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ চোখে পড়ার মতোন নয়। তবে কিছু সময় পর পর বিভিন্ন পরিবহনের বাস টার্মিনালে আসছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা এসব বাসে যাত্রীর সংখ্যা অনেকটাই কম।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার ভোরে যেসব বাস গাবতলী, টেকনিক্যাল এলাকায় এসে পৌঁছেছে, সেসব বাস যাত্রীপূর্ণ ছিল। যেহেতু, বুধবার থেকে সরকারি-বেসরকারি অনেক অফিস খোলা, সে কারণে ভোরে রাজধানীতে পৌঁছে নিজেদের কাজে যোগ দিয়েছেন অনেকে।

হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার মাস্টার মো. আজাদ বলেন, আসার যাত্রী আছে। বুধবার সকালে যে সব বাস এসেছে, সেগুলোর সিট খালি ছিল না। ঢাকা থেকে এখন আমরা যে সব বাস ছাড়ছি, তার বেশির ভাগই সিট খালি অবস্থাতেই ছাড়ছি।

বুধবারও অনেকেই ঢাকা ছেড়েছেন, ছবি- গাবতলী এলাকার, বার্তা২৪.কম

শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার মো. শুভ বলেন, ঢাকামুখী যাত্রী চাপ বাড়বে আরো দুইদিন পর।

তিনি বলেন, এখনো যাত্রী আসছে। তবে দুইদিন পর চাপ আরো বাড়বে। এখনো মানুষ যাচ্ছে।

উত্তরবঙ্গমুখী এন আর ট্রাভেলসের কাউন্টার মাস্টার শিমুল সাহা জানান, বুধবার সকাল থেকে অনেক বাসই ঢাকায় পৌঁছেছে। এসব বাসে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক যাত্রী ছিল।

তিনি বলেন, উত্তরের যাত্রী আছে। অনেক যাত্রী এখনো যাচ্ছেন। তবে পুরো বাস ‘ফিল-আপ’ হচ্ছে না। আসার যাত্রীও আছে। যাওয়ার সময় চাপ পড়ে কিন্তু আসার সময় মানুষ আসেন ধাপে ধাপে। সে কারণে আসার চাপটা ওইভাবে দেখা যায় না।

;

৭ দিনের বাচ্চাকে ৯ তলা থেকে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার মায়ের!



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কিশোরগঞ্জ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৭ দিনের নবজাতক শিশুকে ৯ তলা বিল্ডিং থেকে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন মা তৃষা বেগম বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

প্রথমে ঘুমের মধ্যে নিজের সন্তানকে কেউ চুরি করে নিয়ে গেছে এমন একটি ঘটনা সাজায় তৃষা। পরে পুলিশের জেরার মুখে নিজেই জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন তৃষা৷ এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। শিশুর বাবা বাদী হয়ে ভৈরব থানায় একটি মামলা করেছেন। 

বুধবার (১৯ জুন) তৃষা বেগমকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ভৈরব থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার (১৮ জুন) সকালে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধারের পর কিশোরগঞ্জে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়। পরে সারাদিন জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে পুলিশ এবং তার স্বামীর কাছে প্রাথমিকভাবে নবজাতককে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন ওই নারী।

নিহত শিশু তাসনিদ উসমান বাবা ডা. উসমান গণি। তিনি সেন্ট্রাল হাসপাতাল নামের একটি স্থানীয় হাসপাতালের মালিক ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যপক।

স্থানীয়রা জানান, ডা. উসমান গণির দ্বিতীয় স্ত্রী তৃষা। তাদের পরিবারের বোরাক নামের দেড় বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। সাত দিন আগে ডা. উসমান গণির মাধ্যমে সিজারিয়ান অপরেশনের মাধ্যমে নবজাতকের জন্ম হয়। তবে বেশ কিছুদিন যাবৎ তাদের পরিবারে কলহ লেগে রয়েছে। প্রায় সময় তাদের বাসা থেকে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পাওয়া যেত বলে জানান প্রতিবেশীরা। 

ভৈরব থানার ওসি মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় নবজাতকের মরদেহটি উদ্ধার করে। মরদেহ উদ্ধারের সময় ৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করলেও ৪ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে তার স্বামী ডা. ওসমান গনি মামলার বাদী হয়েছেন। একমাত্র আসামি তৃষাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তৃষা স্বীকার করেছে নবজাতককে বারান্দার গ্রিল দিয়ে ফেলে দিয়ে নিখোঁজের নাটক করেছে। ৯ তলা থেকে একটি শিশুকে মাটিতে ফেলে দিলে শিশুটি বাঁচার কথা নয়। শিশুর নাকে মুখে শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

ওসি আরও বলেন, বিষয়টি আমরা আরও অধিকতর তদন্ত করব। কী কারণে একজন মা তার সন্তানকে হত্যা করল, বিষয়টি মানসিক না অন্য কোনো ঘটনা আছে তা খতিয়ে দেখবে পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

;

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে মুক্তিযুদ্ধের তথ্যচিত্র তুলে ধরা হবে: আতিক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেছেন, 'এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে খালি জায়গায় আমরা শিশুদের জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থাসহ সুন্দর গণপরিসর করে দিচ্ছি। সেখানে তথ্য ও সংবাদ চিত্রের উন্মুক্ত প্রদর্শনীর মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস তুলে ধরা হবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের ইতিহাস আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানাতে হবে। ছবি ও তথ্য সেই সঠিক ইতিহাসের কথা বলবে।'

বুধবার (১৯ জুন) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে 'ইতিহাসের গতিধারায় বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা' শীর্ষক সংবাদচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ও ঐতিহাসিক ছয়-দফা দিবস উপলক্ষে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এই সংবাদচিত্র প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শুরুতে ডিএনসিসি মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম পুরো প্রদর্শনীটি ঘুরে দেখেন।

আতিকুল ইসলাম বলেন, 'যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস থাকবে। লাল সবুজের পতাকা অর্জনের জন্য বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের যে ত্যাগ ও সংগ্রাম সেটিই বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস। বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস একদিনের নয়। দীর্ঘ সময় তিনি দেশের জন্য সংগ্রাম করেছেন, জেল খেটেছেন। বঙ্গবন্ধু ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ছয় দফা, ৭ই মার্চের ভাষণ, স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে ধাপে ধাপে দেশকে স্বাধীন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর মতো মহান নেতা ছিলেন বলেই আজকে বাংলাদেশ স্বাধীন। এই সত্য ইতিহাস ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জানাতে হবে।'

এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, 'তেজগাঁও এলাকায় বিপুল সংখ্যক ট্রাক রাস্তা দখল করে রাখে। আমি আসলে চলে যায়, আমি চলে গেলে আবার আসে। অনেকটা টম এন্ড জেরির মতো। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে ইতিমধ্যে জমি পেয়েছি। তেজগাঁওয়ে বিটিসিএল এবং গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের প্রায় ১৫ বিঘা জমি ডিএনসিসিকে দেয়া হয়েছে। আমরা দ্রুতই সেখানে একটি আধুনিক ট্রাক স্ট্যান্ড নির্মাণ করবো। তেজগাঁওয়ে রাস্তা দখল করে যত্রতত্র ট্রাক রাখা স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে।'

ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহমদ এমপি'র সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক পনিরুজ্জামান তরুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মাসুদ চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক হালিমা আক্তার লাবন্য, সাকুর হোসেন সাকু, হাবিবুর রহমান হাবিব এবং দপ্তর সম্পাদক আরমান হোসেন অপু প্রমুখ।

;

আশ্র‍য় কেন্দ্রে খাদ্য সংকট, অনাহারে দিনপার বন্যাদুর্গতদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম,সিলেট
আশ্র‍য় কেন্দ্রে খাদ্য সংকট, অনাহারে দিনপার বন্যাদুর্গতদের

আশ্র‍য় কেন্দ্রে খাদ্য সংকট, অনাহারে দিনপার বন্যাদুর্গতদের

  • Font increase
  • Font Decrease

সিলেট বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে এখনো খাদ্য সংকট রয়েছে। অনেক আশ্রয়কেন্দ্রে পৌঁছেনি শুকনো ও রান্না করা খাবার। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় মানুষের বাড়িঘর, রাস্তাঘাট থেকে পানি নামছে না। তাই বাধ্য হয়ে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়ছেন না।

বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষের ঘরে নেই প্রয়োজনীয় খাবার। দিন আনে দিন খান এই রকম মানুষের হাতে টাকা-পয়সাও তেমন নেই। পানিবন্দি থাকায় রোজগারের পথ অনেকটা বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রিত মানুষরা।

সরেজমিনে সিলেট নগরীর বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র ঘুরে এসব অভিযোগ পাওয়া যায়।

সিলেট নগরীর কিশোর মোহন(বালক) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় শতাধিক পরিবার। দিন আগে তাদেরকে শুকনো খাবার হিসেবে দেয়া হয়েছিল চিড়ামুড়ি।তাও আবার ২৫০ গ্রাম করে। তাদের একেকটি পরিবারের রয়েছেন ৫-৮জন সদস্য। ফলে এই খাবার তাদের জন্য পর্যাপ্ত নন বলে জানান মানুষজন।

জানা যায়, এই আশ্রয় কেন্দ্রে সিলেট সিটি করপোরেশন ১৫ ওয়ার্ডের বন্যার্ত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। কেন্দ্রটিতে প্রায় ৫০০-৬০০জন মানুষ অবস্থান করছেন।


তবে, সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বলছে,বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে আসার পর থেকে শুকনো খাবার দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে সিদ্ধান্ত হয়েছে প্রত্যেকটি কেন্দ্রে রান্না করা খাবার দেয়ার জন্য। বুধবার সকাল থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে খাবার পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

১৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল গফুর বলেন, তিনদিন ধরে এখানে আশ্রয় নিয়েছি। আশ্রয় নেয়ার পর থেকে আমাদের ২৫০ গ্রাম করে চিড়ামুড়ি দেয়া হয়েছে।আর কোনো খাবার পাইনি। আমরা আছি কি না মরছি কেউই খোঁজ নেয় না।

যতরপুর এলাকার সুফিয়া বেগম বলেন, ঈদের আগের দিন রাতে বাসায় খাটের মধ্যে বসেছিলাম। রাত ১২টার পর হটাৎ করে ঘরের মধ্যে পানি প্রবেশ করে। কোনো রকম ঘরের যা যা পরছি নিয়ে পাশের একটি উঁচু ভবণে আশ্রয় নিয়েছিলাম।

তিনি বলেন, ঈদের দিন পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক কষ্টে আশ্রয় কেন্দ্রে এসে উঠি।কিন্তু এখানে এসেও শান্তি নেই।খাবার না খেয়ে শুধু চিড়ামুড়ি খেয়ে কোনো রকম দিন পারছি।

একই এলাকার রিকশা চালক মাহবুবুল আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘুমের ঘরে পানি প্রবেশ করে। খাটের ওপর ঘুমে ছিলাম। পাশে একজনের নতুন বিল্ডিংয়ে সবাইকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এখন আশ্রয় কেন্দ্রে আছি।কিন্তু এখানে খাবার নেই।পকেট ফাঁকা টাকা-পয়সা কিছুই নেই। কি করবো কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।

তিনি বলেন, ঈদের আগে একবার পানি উঠেছিল ঘরে দৌঁড়ে এসে আশ্রয় নিয়েছিলাম এখানে। দ্বিতীয় ধাপে এবারও ঘরে কোমর সমান পানি। যা ছিল সব শেষ। পানি কমলে বাসায় ফিরবো।কিন্তু দুশ্চিন্তায় কিছুই ভালো লাগছে না। রিকশা চালিয়ে সংসার চালাই।এখন সেটাও করতে পারছি না। বাসায় ফিরলেই বাসার মালিক বাসাভাড়া জন্য চাপ দেবে।কষ্টের মধ্যে যে আছি সেটা শুনার পরও একটা টাকা কম নেবে না। গরীব মানুষ খুব খারাপ অবস্থায় আছি।

এদিকে বন্যায় সিলেট সিটি করপোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২১টি ওয়ার্ডে বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি রয়েছেন প্রায় ৫০ হাজারের বেশি মানুষ।এছাড়া সিলেট জেলার ১৩টি উপজেলায় বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, ১৩টি উপজেলায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৭জন মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। ৬২৭ টি আশ্রয় কেন্দ্রের মধ্যে আশ্রয় নিয়েছেন ১৭ হাজার২৮৫জন। ১৩টি উপজেলায় ১হাজার ৩২৩টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। সিলেট নগরীর শাহজালাল উপশহর, বরইকান্দি, যতরপুর, মেন্দিবাগ, শিবগঞ্জ, রায়নগর, সোবহানীঘাট, কালিঘাট, কামালগড়, মাছিমপুর, তালতলা, জামতলা, কাজিরবাজার, মাদিনা মার্কেট, আখালিয়া ও মেজরটিলাসহ অধিকাংশ এলাকা বন্যা কবলিত।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে বুধবার(১৯জুন) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৭ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর গত ২৪ ঘন্টা ১০০মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয় বলে জানিয়েছেন সিলেট আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ শাহ মো.সজিব হোসেন।

আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্টরা জানান,দুপুর ১২টা পর্যন্ত কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ৮৯ সেন্টিমিটার, সিলেট পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার, জকিগঞ্জ কুশিয়ারা নদীর অমলসিদ পয়েন্টে ৫০সেন্টিমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জ কুশিয়ারা নদীর পানি ৯৭সেন্টিমিটার, শেরপুর ১৮সেন্টিমিটার, গোয়াইনঘাটের সারি গোয়াইন নদীর পানি ৭সেন্টিমিটার বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

;