ঘূর্ণিঝড় রিমাল: আতঙ্কে দিন কাটছে হাতিয়াবাসীর

  ঘূর্ণিঝড় রিমাল


স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশজুড়ে চলছে ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডব। ইতিমধ্যে উপকূলীয় অঞ্চল গুলোতে আঘাত হানতে শুরু করেছে এটি। এর প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলের নদনদীগুলো উত্তাল হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া অফিস থেকে দেশের উপকূলীয় অঞ্চল গুলোতে ১০ নাম্বার সতর্ক সংকেত দেখানো হয়েছে।

হাতিয়া উপকূলীয় অঞ্চল হওয়ায় ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে উদ্বেগ উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে এখানকার বসবাসরত সাধারণ মানুষ। ইতিমধ্যে ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে হাতিয়ার বিভিন্ন জায়গায় পানি ওঠে খুবই নাজেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। প্রবল জোয়ারে হাতিয়ার অনেক এলাকা ৩-৪ ফুট জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে হাতিয়ায় প্রবল বেগে বাতাস বইছে। নদীর তীরবর্তী এলাকার লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। হাতিয়ায় শনিবার (২৫ মে) রাত থেকেই শুরু হয়েছে প্রবল বাতাস। রোববার (২৬ মে) সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। 

হাতিয়ার ৯নং বুড়িরচর ইউনিয়নের পশ্চিম বড়দেইল গ্রামের বাসিন্দা জিয়াউল হক ইমাম বার্তা২৪.কমের প্রতিবেদককে বলেন, রেডক্রিসেন্টের সদস্য এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলামের নেতৃত্বে সাধারণ মানুষকে মাইকিং করে সাবধানে এবং নিরাপদ স্থানে থাকার জন্য বলা হয়েছে। বেড়িবাঁধ সংলগ্ন বসবাসরত মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কিছু মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান করেছে।


হাতিয়ার ১নং হরণী ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের বাসিন্দা উমানা বেগম বার্তা২৪.কমকে বলেন, বাতাসের সঙ্গে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। তবে বেড়িবাঁধে বসবাসরত মানুষের ঘরবাড়িতে পানি উঠে গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেনের দেওয়া আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তি-১৩ -এ বলা হয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’ উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় (২০.৭ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৯.৩ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে। এটি রোববার (২৬ মে) বিকেলে ৩টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৩২৫ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৩১০ কি.মি. দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২০০ কি.মি. দক্ষিণে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৮০ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থান করছিল। বাংলাদেশ উপকূলীয় এলাকায় প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগের প্রভাবে বৃষ্টিসহ দমকা/ঝড়ো হাওয়া অব্যাহত রয়েছে। এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৩-৪ ঘণ্টার মধ্যে মোংলার নিকট দিয়ে সাগর আইল্যান্ড (পশ্চিবঙ্গ) খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম করতে পারে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র অতিক্রমের পর এর নিম্নভাগ অতিক্রম করতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কি.মি., যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ০৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর ও তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

   

তিস্তায় দর্শনার্থীদের গলার কাটা জুয়ার আসর



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, লালমনিরহাট
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলায় তিস্তার পাড়ে পুলিশের সামনেই চলছে জমজমাট জুয়ার আসর। প্রশাসনের নিরব ভূমিকায় স্থানীয়দের মাঝে নানা প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে। জুয়ার আসরে বখাটেদের আনাগোনায় হয়রানির শিকার হচ্ছে সাধারণ পর্যটকরা।

বুধবার (১৯ জুন) দুপুরে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জিয়া, লিটন, শাহিনসহ কয়েকজন যুবকের নেতৃত্বে বসেছে জমজমাট জুয়ার আসর। ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে তিস্তা ব্যারেজ এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে বসেছে ডাবু পিঠে খেলা তাসসহ বিশাল জুয়ার আসর। এতে করে ঘুরতে আসা তরুণ ও যুবকরা জুয়ার দিকে আসক্ত হচ্ছে। জুয়ার এই সিন্ডিকেট হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

জানা যায়, পুলিশ প্রশাসনের সামনেই জুয়ার আসর চললেও নিরব ভূমিকা পালন করছে তারা। তিস্তা ব্যারেজ এলাকার দুই পাশেই জুয়ার আসর চললেও পুলিশের কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। এতে করে ঘুরতে আসা দূর দূরান্তের পর্যটকরা চরম হয়রানি শিকার হচ্ছেন। জন সম্মুখে জুয়ার আসর তলায় সুশীল সমাজের মাঝে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক বলেন, বন্ধুদের নিয়ে তিস্তা বাড়িতে ঘুরতে এসেছি। এখানে জুয়া খেলা দেখে আমিও আগ্রহ হই। বাড়ি থেকে যে টাকা পয়সা নিয়ে এসেছিলাম সব জুয়ায় হারিয়েছি।

তিস্তা ব্যারেজে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা রকিবুল হাসান বলেন, জলঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে তিস্তা ব্যারেজে ঘুরতে এসেছি। এখানে প্রকাশ্যেই প্রশাসনের সামনেই চলছে জুয়া। এভাবে তিস্তা ব্যারেজ এলাকায় জুয়া চলতে থাকলে পর্যটকরা আসার আগ্রহ হারাবে।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানা অন্তর্গত দোয়ানী ক্যাম্প ইনচার্জ মুক্তা সরকারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সাইফুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে জানান, জুয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি এখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি।

  ঘূর্ণিঝড় রিমাল

;

১৫ লাখ টাকার ছাগল বিতর্ক

ইফাতের দাবি সাদিক এগ্রোর অনুরোধে ছবি তুলেছেন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
১৫ লাখ টাকার ছাগল বিতর্ক: ইফাতের দাবি সাদিক এগ্রোর অনুরোধে ছবি তুলেছেন

১৫ লাখ টাকার ছাগল বিতর্ক: ইফাতের দাবি সাদিক এগ্রোর অনুরোধে ছবি তুলেছেন

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সাদিক এগ্রো। কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ ওঠেছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। সাদিক এগ্রোর বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অন্যতম আলোচিত ১৫ লাখ টাকায় একটি ছাগল বিক্রি।

ছাগলটির ক্রেতা হিসেবে রাজস্ব কর্মকর্তা মুশফিকুর রহমান ছেলে ইফাতের নাম জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিতর্ক চলছে। তবে ইফাতের দাবি তিনি ছাগলটি কেনেননি, বরং সাদিক এগ্রোর মালিক আব্দুল্লাহ আল ইমরানের অনুরোধে ছবি তুলেছেন।

বুধবার বিকেলে বিশ্বস্ত এক সূত্রের মাধ্যমে কথা হয় ইফাতের সঙ্গে। পারিবারিক নিষেধের কারণে সরাসরি গণমাধ্যমে কথা বলেননি ইফাত। তবে একটি সূত্রের কাছে ঈদের আগে সাদিক এগ্রোতে যাওয়ার বিষয় মুখ খুলেছেন এই তরুণ।

তার দাবি, পূর্ব পরিচিত ইমরানের সাদিক এগ্রোতে কোরবানির পশু দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। তখন ইমরান তাকে ক্রেতা সাজিয়ে ছবি তুলতে অনুরোধ করেন। সেই সময়ে তিনি একটি ভিডিওতেও কথা বলেন।


এছাড়াও ইফাতের দাবি, ছাগলটি কেনার জন্য বুকিং বাবদ তিনি কোনো টাকা দেননি।

ইফাত বলেন, 'আমি ছোটবেলা থেকে পশুপাখি অনেক বেশি ভালোবাসি। সাদিক এগ্রোতে গরু দেখতে গিয়ে ছিলাম। সাদিক এগ্রোর মালিক ইমরান ভাইয়ের সঙ্গে আমার আগে থেকে পরিচয় আছে। যেহেতু আমি অনেক দিন ধরে পাখি পালন করি। আমাদের পাখি নিয়ে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অতিথি হিসেবে তিনি আসেন। এইভাবে তার সঙ্গে আগে থেকে পরিচয় হয়। আমাকে ইমরান ভাই খাসিটি (ছাগল) নিয়ে ছবি তুলতে বলে। যেহেতু আমি ছাগলটি কিনছি না। আমার মাধ্যমে যদি তার উপকার হয় তাহলে তো আমার সমস্যা নেই। তার কথামতো ছাগলটির সঙ্গে ছবি তুলি। এবং বলি যে, খাসিটি আমি কিনছি। আসলে ছাগলটি আমার কেনা হয়নি। ছাগলটি বাসায় আনিনি। এখনো কিন্তু সেটি সাদিক এগ্রোতেই আছে।'

তিনি আরও বলেন, এই বিষয়টা নিয়ে বাসা থেকে আমাকে অনেক কথা শুনতে হয়েছে, আমার পরিবারকে ছোট হতে হয়েছে। আসলে আমার একটা ভুলের কারণেই এটা হয়েছে।

২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পোষা পাখি বাজিগরের জাত উন্নয়নে কাজ করছেন এই তরুণ। পাখিপ্রেমের বিষয়ে তিনি বলেন, 'আমি দীর্ঘদিন ধরে খাঁচায় পোষা পাখি বাজিগরের জাত উন্নয়ন, মিউটেশন উন্নয়ন নিয়ে কাজ করি। এই কাজ করে আমি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করি। সাতবার জাতীয় পুরস্কার পেয়েছি। এছাড়া বিভিন্ন সংগঠন থেকেও নানা পুরস্কার ও সনদ পেয়েছি। ছোটবেলা থেকেই পাখি অনেক ভালোবাসি। কিন্তু ছাগল নিয়ে ছবি তুলতে বলায় আমি বাধ্য হয়ে কাজটি করেছি। কিন্তু তার কারণে আমাকে যে এই দিন দেখতে হবে তা কোনো দিন বুঝিনি।'


এদিকে ইফাতকে ছবি তুলতে অনুরোধের বিষয় জানতে সাদিক এগ্রোর মালিক আব্দুল্লাহ আল ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এর আগে ছাগল বিক্রির বিষয়ে বুধবার বিকেলে সাদিক এগ্রোর মালিক মো. ইমরান হোসেন বলেন, 'উনি (ক্রেতা) আসলেন, এক লাখ টাকা অ্যাডভান্স করলেন। এক লাখ টাকা একটা হ্যান্ডসাম অ্যামাউন্ট। ১২ তারিখ নিয়ে যাওয়ার কথা, কিন্তু তিনি আসেননি।'

সাদিক এগ্রো ওই ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, '১১ তারিখ থেকে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তাকে ফোনে পাইনি।'

এ দিকে ইফাতের বাবা মতিউর রহমান গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইফাত নামের আমার কোনো ছেলে নেই। ছাগলের সঙ্গে ভাইরাল হওয়া ছেলেটির সঙ্গে আমার কোনো পরিচয় নেই। যারা আমার নাম জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  ঘূর্ণিঝড় রিমাল

;

বাঁশখালীতে বজ্রপাতে কলেজছাত্রের মৃত্যু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বজ্রপাতে সজীব উদ্দিন (২১) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে৷

মঙ্গলবার (১৮ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার সময় উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের মাইজপাড়া ৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম মো. সজীব উদ্দিন ওই এলাকার মো.ফজল কাদেরের ছেলে। তিনি নগরীর আশেকানে আউলিয়া ডিগ্রি কলেজের এইচএসসির শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম শহরের কলেজে পড়ালেখা করার সুবাদে সেখানেই থাকতেন সজীব। ঈদের ছুটির লম্বা বন্ধে বাড়িতে আসেন তিনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ভারি বৃষ্টি ও বজ্রপাত শুরু হলে স্থানীয় মাইজপাড়াস্থ দোকানে আটকা পড়েন। বৃষ্টি থামলে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। কিন্তু বাড়িতে প্রবেশের একটু আগেই বিকট শব্দে বজ্রপাতের শিকার হয়ে রাস্তায় পড়ে যান তিনি।

এসময় তার পরনের পোশাক পুড়ে যায়। পরে তাকে পরিবারের লোকজন ও অন্যরা উদ্ধার করে গুনাগরি মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, বুধবার (১৯ জুন) দুপুরে নামাজে জানাজা শেষে তার মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

  ঘূর্ণিঝড় রিমাল

;

নির্দিষ্ট সময়ে বর্জ্য অপসারণ ডিএনসিসির, খুশি বাসিন্দারা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
নির্দিষ্ট সময়ে বর্জ্য অপসারণ ডিএনসিসির, খুশি বাসিন্দারা

নির্দিষ্ট সময়ে বর্জ্য অপসারণ ডিএনসিসির, খুশি বাসিন্দারা

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদুল আজহার কোরবানির পর নির্দিষ্ট সময়ে বর্জ্য অপসারণ হয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন সব ওয়ার্ডের। নির্দিষ্ট সময়ে বর্জ্য অপসারণ হওয়ায় স্বস্তিতে রয়েছেন নগরবাসী। এর আগে ৬ ঘণ্টার মধ্য কোরবানির বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দেন সিটি মেয়র মোঃ আতিকুল ইসলাম।

সরেজমিনে ঈদের তৃতীয়দিন বুধবার (১৯ জুন) সারাদিন সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও সড়ক ঘুরে বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে এই তথ্য পাওয়া যায়। ঈদের দ্বিতীয় ও তৃতীয়দিন যেসব এলাকায় কোরবানি করা হয়েছে, সেগুলো পরিষ্কার করা হয়েছে।

নগরীর বাড্ডা এলাকার বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কোরবানির আগেই সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রতিটি ওয়ার্ডে ব্লিচিং পাউডার, বর্জ্য সংরক্ষণের ব্যাগ ও গাড়ির ব্যবস্থা করেছেন। ঈদের দিন দুপুর থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা বর্জ্য অপসারণে কাজ শুরু করেন। এবং বিকেলে অপসারণ করে পুরো এলাকায় ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দেওয়া হয়।

রামপুরা এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন বার্তা২৪ কমকে বলেন, সিটি কর্পোরেশনের লোকজন কোরবানির পর থেকেই বর্জ্য অপসারণে কাজ করেছে। রাতের মধ্যেই এই এলাকার অলিগলি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করেছেন। এবার চামড়া পচা ও রক্তের গন্ধ খুব একটা নাকে লাগেনি।

বাড্ডা রামপুরার মত মালিবাগ মগবাজার তেজগাঁও এলাকার চিত্রই একই রকম। তেজগাঁও এলাকার বাসিন্দা মেহেদী হাসান বার্তা২৪ কমকে বলেন, গত ঈদের দীর্ঘ সময় বাসার সামনে কোরবানির বর্জ্য পড়ে থাকলেও এবার ঈদের দিন বিকেলে সব পরিষ্কার করে ফেলছে সিটি কর্পোরেশন। তাৎক্ষণিকভাবে ময়লা পরিষ্কার করায় এবার এলাকায় পরিবেশ অনেক ভালো আছে।

নির্দিষ্ট সময়ে বর্জ্য অপসারণ হওয়ায় খুশি উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মীর খায়রুল আলম বার্তা২৪ কমকে বলেন, মেয়র মহোদয়ের ঘোষণা অনুযায়ী বাসা বাড়ির কোরবানির বর্জ্য নির্দিষ্ট ব্যাগে বাড়ির পাশে রেখে দেওয়ার জন্য প্রায় ১০ লাখ পলিব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে। নগরবাসী এইসব পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট জায়গায় বর্জ্য রাখায় তা অপসারণ সহজ হয়েছে। বর্জ্য পরিষ্কার করার পর যাতে দুর্গন্ধ না ছড়ায় সেই জন্য ২৬৮০ বস্তা ব্লিচিং পাউডার (২৫ কেজি বস্তা), স্যাভলন-৯০০ ক্যান (প্রতি ক্যান ৫ লিটার), টুকরি-৭০০০টি, ফিনাইল-১২৫০ লিটার দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সবার সহযোগিতায় পূর্ব ঘোষিত ৬ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটির কোরবানির বর্জ্য শতভাগ অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। সচেতন নাগরিকদের আন্তরিক সহযোগিতায় এটি করতে পেরেছি। আমরা নগরবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আগামী দিনেও ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে জনগণ ও সিটি করপোরেশনকে একসাথে কাজ করবো।

এদিকে উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্দিষ্ট সময়ে বর্জ্য অপসারণ করলেও সময় বেধে দিয়েও করতে পারেনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। দক্ষিণ সিটি বিভিন্ন ওয়ার্ডে নির্দিষ্ট সময়ে বর্জ্য অপসারণ না হওয়ায় বর্জ্যের পচে দুর্গন্ধ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বাসিন্দারা।

  ঘূর্ণিঝড় রিমাল

;