পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের চাঁদা দাবি: রাঙামাটিতে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বন্ধ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাঙামাটি
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পাহাড়ে আঞ্চলিক দলীয় সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া চাঁদাবাজিতে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম। 

শুক্রবার (২৪ মে) বিকেলে খোদ রাঙামাটি পৌর শহরের আসামবস্তি এলাকায় সড়কের চলমান উন্নয়ন কাজে সশস্ত্র হামলা চালিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা। এসময় কাজে নিযুক্ত থাকা শ্রমিকদের মারধর করে তাদের কাছে থাকা অন্তত ৬টি মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে গেছে বলে শ্রমিকরা জানিয়েছে।

ঘটনার সময় উন্নয়ন কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা এলজিইডি’র কার্যসহকারী রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও কে বা কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে সেটি নিয়ে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। 

মাত্র কিছুদিন আগেও এই একই আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়কে জেএসএস এর নামধারী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে নির্মাণ শ্রমিকদের কাছ থেকে ৯টি মুঠোফোন নিয়ে গেছে বলে নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র নিশ্চিত করেছে। এই ঘটনার পর আসামবস্তি ব্রিজ সংস্কারের কাজ বন্ধ রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।

রাঙামাটির সাথে কাপ্তাইয়ের সংযোগ সড়ক যোগাযোগে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ আসামবস্তি কাপ্তাই সড়কটি তৈরি করে এবং পর্যায়ক্রমে এই সড়কটিকে নানামুখী উন্নয়নের মাধ্যমে নয়নাভিরাম করে গড়ে তুলছে। ইতোমধ্যেই এই সড়কটি অন্যতম প্রধান পর্যটন এলাকায় পরিণত হয়েছে। সড়কের উভয় পাশেই গড়ে উঠেছে বিভিন্ন পর্যটন স্পট। সাম্প্রতিক সময়ে এই সড়কে চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে বাধা দিয়ে ঠিকাদারদের কাছে শতকোটি টাকা চাঁদা দাবি করছে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা। চাঁদার দাবিতে গত দুই বছরে একাধিকবার গাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ চালকদের মারধর ও ঠিকাদারের লোকজনসহ বনবিভাগের লোকজনকেও আটকে রেখেছিলো জেএসএস নামধারী অস্ত্রধারীরা।

সর্বশেষ শুক্রবার বিকেলে আসামবস্তি ব্রিজের পরে আধা কিলোমিটার পরেই কাপ্তাইমুখী সড়কের কাজ চলাকালীন সময়ে অস্ত্রধারী পাঁচ যুবক অতর্কিত হামলা চালিয়ে শ্রমিকদের এলোপাতাড়ি মারধর করে। 

শ্রমিক মো. আকতার হোসেন জানিয়েছেন, আমরা প্রতিদিনের ন্যায় সকলে মিলে কাজ করছিলাম। বিকেল চারটার সময় আকস্মিকভাবে ৫/৬ জন চাকমা যুবক দুইটি রিভলভার হাতে নিয়ে এসেই আমাদেরকে এলোপাথাড়ি মারধর করতে থাকে। এসময় আমারসহ আমার সহকর্মী রুবেল, শামীম, আকাশ, রিপনসহ মিস্ত্রির আরও দুই সহযোগীর কাছ থেকে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাইলে রাঙামাটির এলজিইডি’র দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের কেউই কথা বলতে রাজি হননি। নিরাপত্তার অভাববোধ করছেন জানিয়ে একজন উদ্বর্তন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আসামবস্তি সড়কে বর্তমানে ১০ কোটি টাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন বন্ধ করে দিয়েছে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলজিইডি’র ওই কর্মকর্তা বলেন, এতোদিন দুর্গম এলাকাগুলোতে ব্যাপক চাঁদাবাজি করলেও সাম্প্রতিক সময়ে একেবারে রাঙামাটি শহরেই প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি শুরু করেছে।

এদিকে, সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদাররা জানিয়েছেন, কাজ শুরুর আগেই উপজাতীয় সন্ত্রাসীদের চারটি গ্রুপকে ৫ পার্সেন্ট হারে চাঁদা দিয়েছি। এরই মধ্যে একাধিকবার হামলা চালিয়ে চাঁদা নিয়েছে। বর্তমানে জেএসএস নামে ১০ পার্সেন্ট করে চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। বিগত কয়েক বছর আগের শিডিউল রেটে কাজ নিয়ে চারটি পাহাড়ি সংগঠনকে চাঁদা, অফিস খরচের পর আবার বর্তমান রেটে সরঞ্জাম কিনে কাজ বাস্তবায়ন করাটা চরম কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় কাজ বন্ধ রাখার কোনো বিকল্প নেই বলেও জানিয়েছেন ঠিকাদাররা।

এদিকে, সন্ত্রাসী হামলার ব্যাপারে কেউ কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি বলে জানিয়েছেন, রাঙামাটি কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আলী। তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে খোঁজ-খবর নিচ্ছি আমি। কেউ যদি লিখিত অভিযোগ দেয় তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে পুলিশ।

   

২৪ ঘণ্টা না গেলে মন্তব্য করা বিব্রতকর হতে পারে : ডা. জাহিদ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম ঢাকা
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

২৪ ঘণ্টা না গেলে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া শারীরিক অবস্থার সম্পর্কে কোনো ধরনের মন্তব্য করা বিব্রতকর হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।

রবিবার (২৩ জুন) রাতে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের গেটে সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য জানান তিনি।

জাহিদ হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা হচ্ছে, আজকে প্রথমে সাময়িক পেসমেকার বসানো হয়েছে, পরে পার্মানেন্ট পেসমেকার লাগানো লাগবে। আজকে এই মুহূর্তে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। আগামী ২৪ ঘণ্টা না গেলে উনার শারীরিক অবস্থার সম্পর্কে কোনো ধরনের উক্তি ও কমেন্ট করা বিব্রতকর হয়ে যেতে পারে। কাজেই দেশবাসীর কাছে উনার পরিবার, দলের এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দোয়া কামনা করছি।

তিনি বলেন, ‘গত শুক্রবার গভীর তাকে অত্যন্ত অসুস্থ অবস্থায় তার মেডিকেল বোর্ডের চিকিৎসকদের পরামর্শক্রমে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে (এখন পর্যন্ত) তিনি ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসকদের সর্বসম্মতি সিদ্ধান্তক্রমে, উনার হৃদযন্ত্রের কার্যক্রমে এমন একটি অবস্থানে পৌঁছে গিয়েছিল, উনার তিনটি ব্লক ছিল- আপনারা জানেন। আমি বারবার বলতেছিলাম যে কোনো সময় যে কোনো অঘটন ঘটে যেতে পারে। সেই অঘটনটি গত শুক্রবার রাতে ঘটতে যাচ্ছিল। সেই অবস্থায় উনার মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা দ্রুত হসপিটালে নিয়ে আসেন। সেই অনুযায়ী তার যে চিকিৎসা সেটা শুরু করেন।’

;

কালো টাকা সাদা করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ বিরোধীদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম ঢাকা
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাজেটে ১৫ শতাংশ ট্রাক্স প্রদানের মাধ্যমে কালো টাকা বা অপ্রদর্শিত অর্থ সাদা করার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দল জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা। তারা বলেছেন, এতে সাধারণ সৎ ট্যাক্স দাতারা ক্ষুন্ন হবেন এবং ট্যাক্স দিতে চাইবেন না। যা দেশে বিরুপ প্রভাব ফেলবে।

রবিবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদের ২০২৪-২৫ বাজেট অধিবেশনের সাধারণ আলোচনায় তারা এই কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করে স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরী।

অধিবেশনে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন কোনো আশার বাণী নেই। বরং কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়ে নিয়মিত ট্যাক্স দাতাদের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। আর যারা কর দেননি তাদের উৎসাহিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বৈধ পথে সকলেই ৩০-৩৫ শতাংশ ট্যক্স দেন। আর যারা দীর্ঘদিন ট্যাক্স দেননি, সেই কালো টাকা ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিয়ে অর্থ সাদা করে ফেলবেন। তাহলে কেন সাধারণ মানুষ নিয়মিত ট্যাক্স দেবে? এটা অনৈতিক, এর ফলে বহু মানুষ ট্যাক্স না দিয়ে এই সুযোগ নিবে।

তিনি বলেন, এই কালো টাকার দুই রকমের, এটা অর্জন করা অবৈধভাবে, সেটার জন্য সেটা প্রদর্শনও করা হয়নি। আর এক ধরনের বাটপারি করে ইনকাম করছে, তারাও ট্যাক্স দেননি। এদের মধ্যে বেশী কালো টাকা, অবৈধভাবে আয় করা টাকাকে বৈধ করার তীব্র বিরোধীতা করে তিনি তাদের শাস্তির দাবি জানান। এসময় তিনি মূল্যস্ফিতির জন্য সাধারণ মানুষের সমস্যার কথাও বলেন।

তিনি বলেন, রেমিটেন্স আমাদের অর্থনীতির একটা বড় চালিকা শক্তি। প্রায় ১ কোটি মানুষ বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা রেমিটেন্স পাঠায়। তার মধ্যে মালয়েশিয়া নিয়ে অনেক লেখালেখি হচ্ছে, তারা প্রতি মাসে ৪ হাজার কোটি টাকা, বছরে ৫১ হাজার কোটি পাঠান। অনেকে মনে করে এতো টাকা কেন আসবে, এটা নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। এ নিয়ে সিণ্ডিকেটও রয়েছে। ফলে রেমিটেন্স পাঠাতে তাদের সমস্যাও হচ্ছে, সেখানে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। তাই রেমিটেন্স যোদ্ধাদের অর্থ পাঠানো সুবিধা দেবার এবং ব্যাংকিং খাতে দুর্নীতি অর্থ পাচার ব্যাংক ডাকাতি ইত্যাদি বন্ধের দাবি জানান তিনি।

জাতীয় পার্টির আরেক সংসদ সদস্য এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাজেটে উচ্চবিত্তদের সুবিধা রাখা হয়েছে। আর মধ্যবিত্তরা চাপের মধ্যে পড়বেন। বাজেটের বিভিন্ন নীতি গরীবদের পক্ষে যায়নি।

তিনি বলেন, সিগারেটের দাম তেমন না বাড়ানোয় সরকারের আয় কমে যাবে। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব, কিন্তু সবখানেই দুর্নীতি, যদিও বছরে হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে। মেগা প্রকল্প ঋণ নেওয়া হচ্ছে, তার বিশাল অংশ বাইরের ঠিকাদার ইঞ্জিনিয়াররা নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশে তরুন সমাজকে এ বিষয়ে দক্ষ করতে হবে।

কালো টাকা সাদা করার যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, তার সমালোচনা করে তিনি বলেন এর ফলে সাধারণ করদাতারা কর দিতে চাইবে না। তাই ওই প্রম্তাব থেকে সরে আসতে হবে।

দেশের অর্থ বিদেশে পাঁচার করেছে, তাদের চিহ্নিত করে অর্থ ফেরৎ ও তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ।

তিনি সার্বভৌম এই পার্লামেন্টে কীভাবে কালো টাকা সাদা করা সুযোগ দেয় তার সমালোচনা করেন। তিনি অর্থ পাচার, দুর্ণীতি, ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়ে না দেওয়াসহ অর্থ আত্মস্বাদকারীদের চিহ্নিত ও শাস্তির দাবি করেন।

আরেক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সোহরাব উদ্দীন বলেন, সম্প্রতি সঙ্কটগ্রস্থ ব্যাংকের তালিকা তৈরি করা হয়েছে, এই সঙ্কটগ্রস্থ ব্যাংকগুলোকে সলভেন্ট ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু কার্যকারী ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বিধায় এই সঙ্কটগ্রস্থ ব্যাংকগুলোর ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, গ্রাহকরা তাদের সব টাকা তুলে নিয়ে গেছে। এর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের এই হটকারী সিদ্ধান্তের নিন্দা জানা তিনি।

সোহরাব উদ্দীন বলেন, বাজেটে অপ্রদর্শিত অর্থ প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়ার জন্য অর্থমন্ত্রী যে ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিয়ে সাদা করার কথা বলেছেন। তাতে উদ্দেশ্য সাধিত হবে না। ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিয়ে কেউ এ অপ্রদর্শিত টাকা প্রদর্শন করবে না, অতীতে ১০ শতাংশ ছিল তাতেও কিন্তু তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, যদি এটা ৫ শতাংশ ট্যাক্স করা যায় তাহলে দেশে যে বিপুল পরিমান অপ্রদর্শিত অর্থ আছে তা প্রদর্শন করবে, অর্থমন্ত্রীর যে উদ্দেশ্য তা সাধিত হবে। তাই বিপুল পরিমান টাকা সাদা করতে আমি ৫ শতাংশ ট্যাক্স ধার্য্য করার জন্য অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো।

তিনি বলেন, দেশে উন্নয়ন দ্রুত গতিতে চলছে, কিন্তু তাতে সমস্যা হচ্ছে দুর্নীতি। দুর্নীতি বেড়ে গেছে এর লাগাম টানা যদি না যায় তাহলে উন্নয়নের গতি হ্রাস পাবে। আজকে এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে দুর্নীতি নেই। ব্যাংকেও প্রচণ্ড অর্থ নয়ছয় হচ্ছে, দুর্নীতি বেড়ে গেছে, ব্যাংকের যে পদস্থ কর্মকর্তা ও চেয়ারম্যান তারাই আজ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত। এদের কোনো বিচার হয়নি।

;

‘সেনানিবাস না থাকলে কক্সবাজার দখল করে নিত আরাকান আর্মি’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম ঢাকা
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কক্সবাজারে সেনানিবাস না থাকলে এতো দিনে ওই এলাকা মিয়ানমারের আরাকান আর্মি দখল করে নিত বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার।

রবিবার (২৩ জুন) রাতে জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এ মন্তব্য করেন কক্সবাজার-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য। তিনি সংসদের হুইপও।

মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী জেলা কক্সবাজার-৩ আসনের (কক্সবাজার সদর, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলা) এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘মিয়ানমারের আরাকান আর্মি সশস্ত্র লড়াই করছে। আমার নির্বাচনী এলাকা থেকে মাত্র দুই কিলোমিটারের মধ্যে তাদের অবস্থান। প্রধানমন্ত্রী সেনানিবাস না দিলে আজ কক্সবাজার অনিরাপদ হয়ে যেত। এতো দিনে তারা দখল করে ফেলত। প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন সেনানিবাসের জন্য। আমাদের রক্ষিত করেছেন।’

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি দেশটির জান্তা সরকার উৎখাতে লড়াই করছে। তারা রাখাইন রাজ্যের বেশির ভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়ে আজ সংসদে সাইমুম সরওয়ার আরও বলেন, বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, নেপাল, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা নিয়ে একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিষদ গঠন করতে হবে। তাহলে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাড়বে, ভারতের নিরাপত্তা বাড়বে।

;

মিন্টুকে বহিষ্কারের দাবি আজীমকন্যা ডরিনের



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের এমপি আনোয়ারুল আজীমের মেয়ে ডরিন বলেছেন, ‘পত্র-পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছি বাবা হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইদুল করিম মিন্টু। একজন খুনির জায়গা আওয়ামী লীগে হতে পারে না। তাকে এখনই দল থেকে বহিষ্কার করা হোক। সেইসঙ্গে বাবার খুনের সঙ্গে জড়িত কালীগঞ্জে মিন্টুর অনুসারীদেরও আইনের আওতায় আনা হোক।’

রবিবার (২৩ জুন) বিকালে কালীগঞ্জ বাস টার্মিনালে আয়োজিত আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও এমপি আজীম হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে এ সময় মঞ্চে কান্নায় ভেঙে পড়েন ডরিন।

তিনি বলেন, ‘বাবা পরিবারকে বেশি সময় দিতেন না। তিনি সারাদিন এলাকার মানুষের কল্যাণে ছুটে বেড়াতেন। মৃত মানুষের জানাজায় যেতেন। বাবা হত্যার পর আজকের এই প্রতিবাদ সভায় আপনাদের উপস্থিতি দেখেই বুঝতে পারছি তিনি কতটা জনপ্রিয় ছিলেন। আপনাদের ভালবাসায় বাবা এই আসনে তিনবার এমপি হয়েছেন। আজ রাজনীতির প্রতিহিংসার শিকারে তাকে খুন হতে হয়েছে। বাবার খুনিদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’

কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন-উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান ওহিদুজ্জামান ওদু, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শিবলী নোমানী, কালীগঞ্জ পৌর মেয়র আশরাফুল ইসলাম আশরাফ, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুজ্জামান রাসেল, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন সোহেল প্রমুখ।

;