মশা কেউ একা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না : স্থানীয় সরকার মন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪. কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা ছাড়া পৃথিবীর কেউ এককভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

মো. তাজুল ইসলাম বলেন, জনগণকে উদ্বুদ্ধ করা ছাড়া পৃথিবীর কেউ এককভাবে মশা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আমরা মশা সম্পর্কে জনগণকে প্রতিনিয়ত উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছি। যেকোনো কাজ করতে হলে আমাদেরকে সমন্বয় করতে হবে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে যতগুলো মন্ত্রণালয় রয়েছে আমরা সবাই সমন্বয় করে কাজে করে যাচ্ছি।

মন্ত্রী বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো নির্মাণ করা এবং মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে সমবায় মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। সিটি কর্পোরেশন থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায়ের সবাইকে জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে আসার জন্য আমরা কাজ করছি।

তিনি আরও বলেন, গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় অনেক বেড়েছে। বাংলাদেশ এখন ৩৩তম অর্থনীতির দেশ।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সৈয়দ শুকুর আলী শুভ, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন প্রমুখ।

   

`চট্টগ্রামে তামাক চাষের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের উদ্বুদ্ধ করতে হবে'



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামান বলেছেন, এখানে (চট্টগ্রাম) যেন তামাকের চাষ না হয় সে লক্ষ্যে মাননীয় স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউপি চেয়ারম্যান ও জনপ্রতিনিধিদেরকে সম্পৃক্ত করে এলাকার জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

রোববার (২৩ জুন) বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নে জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য ও কর্তৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সহযোগিতায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, সুস্থ-সবল জাতি গঠনে অবশ্যই তামাক বর্জন করতে হবে। তামাক নিয়ন্ত্রণ নীতিমালা বাস্তবায়নে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), সকল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সচেতনতা সভার আয়োজন করতে হবে। এক সময় কুষ্টিয়া অঞ্চলে তামাক চাষ হতো। সেটি ধীরে ধীরে পাহাড়ের দিকে চলে যাচ্ছে। পাহাড়ে জনসমাগম কম বা পাহাড়ে লোকজন কম যায়, সে জন্য লোকচক্ষুর আড়ালে পাহাড়ে তামাকের চাষ হচ্ছে। খাগড়াছড়ির অনেক জায়গায় তামাকের চাষ হচ্ছে। চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া, হাটহাজারী, রাউজানসহ পাহাড়ি এলাকায় যেন তামাকের চাষ হতে না পারে, এখানকার লোকজন তামাক চাষে যাতে উদ্বুদ্ধ না হয় সে লক্ষ্যে সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এসি ল্যান্ডদেরকে নিয়মিত তদারকি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের সহযোগিতায় তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়ন করতে সরকার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন এখন দৃশ্যমান হওয়ার কারণে পাবলিক প্লেসে ধূমপান করার প্রবণতা অনেকটা কমে এসেছে। প্রকাশ্যে ধূমপান করতে দেখলে অনেকে বাধা দেয়। এ বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা অব্যাহত রাখতে হবে। উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা কমপ্লেক্স ধূমপানমুক্ত রাখতে হবে। ধূমপানে উদ্বুদ্ধকরণে বিজ্ঞাপন বা সাইনবোর্ড দেখলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। নিয়মিত মোবাইল কোর্টের পাশাপাশি ধূমপানের বিরুদ্ধেও মোবাইল কোট পরিচালনা করতে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের নির্দেশ দেন ডিসি।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, তামাকের ব্যবহার কতটুকু কমাতে পেরেছি জানি না, তবে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে তামাকে ব্যবহার ২৫ শতাংশ কমিয়ে আনতে হবে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী পুরুষ ধূমপায়ীর হার ১৮ শতাংশ ও নারী দশমিক ৮ শতাংশ। উন্নত বিশ্বে নারীদের মধ্যে তামাকের ব্যবহারের প্রবণতা বেশি। বাংলাদেশে নারীদের মধ্যে যেন ধূমপায়ীর প্রবণতা বৃদ্ধি না পায় সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। রাউজান উপজেলাকে সম্পূর্ণ তামাকমুক্ত ও ধূমপানমুক্ত করতে উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জনপ্রতিনিধিরা মিলে সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। এ ধরনের অ্যাকশন প্ল্যান নিয়ে অন্যান্য উপজেলা কাজ শুরু করেন তাহলে আমরা নিশ্চিত উল্লেখযোগ্যভাবে ধূমপান কমানো সম্ভব।

মুখ্য আলোচকের বক্তব্যে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী বলেছেন, ধূমপান বা তামাকজাত পণ্য স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর। তামাকের কারণে মানুষ একদিকে ব্রংকাইটিস, হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যান্সারসহ মারাত্মক জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে, অন্যদিকে কমে যাচ্ছে আয়ুষ্কাল। এর পরও মানুষ সচেতন হয় না। ধূমপায়ীর কারণে অধূমপায়ীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জাতিকে সুস্থ-সবল রাখতে হলে অবশ্যই তামাক বর্জন করতে হবে। তামাক ও তামাক জাতীয় দ্রব্য থেকে বিরত থাকতে শুধু শিক্ষার্থী নয়, সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সচেতন করতে হবে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০৫ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। এ লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনকে সাথে নিয়ে ধূমপানের বিরুদ্ধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, জাতির পিতার সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী ২০৪১ সালে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিক্ষার্থী ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মসহ সবাইকে তামাকের ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে। ধূমপায়ীদের পরিবারে অভাব-অনটন থাকে। আমরা ধূমপান বর্জন করব ও অন্যকে বর্জন করতে উৎসাহিত করবো।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল বাসার মোহাম্মদ ফখরুজ্জামানের সভাপতিত্বে ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) একেএম গোলাম মোর্শেদ খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ওয়াজেদ চৌধুরী অভি, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমডিসি ডা. মোহাম্মদ নুরুল হায়দার, এমওসিএস ডা. মোহাম্মদ নওশাদ খান, সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সকল সহকারী কমিশনার (ভূমি), জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

;

সাপাহারে আমের হাটের রাস্তায় জমা পানি, ঘটছে দুর্ঘটনা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নওগাঁ
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নওগাঁর সাপাহার জেলার বৃহত্তর আমের হাট। সকালে থেকে সন্ধ্যা অব্ধি আম কেনাবেচায় মুখরিত হয়ে উঠে রাস্তার দুপাশ। দূর-দূরান্ত থেকে প্রান্তিক আম চাষিরা সকাল থেকে বিভিন্ন পরিবহনযোগে বিভিন্ন জাতের আম আনছেন হাটে। প্রায় ১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিশাল হাট এখন জমজমাট কিন্তু একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তার দুপাশে জমছে পানি, এতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন গাড়ি চালকরা।

রোববার (২৩ জুন) সরেজমিনে বিকেলের দিকে সাপাহার আম বাজারে গিয়ে দেখা যায় আম চাষিরা বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক, ট্রলি,ভ্যানযোগে আমের হাটে আম এনে পাইকারদের জন্য অপেক্ষা করছে রাস্তার দুপাশে। পানি ও কাদা জমে থাকার কারনে প্রধান সড়ক থেকে নিচে গাড়ি নামালেই দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে আমভর্তি যানবাহন। ভোগান্তির কারণে অতি শীঘ্রই রাস্তার দুপাশ সংস্কারের আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় ও আম ব্যবসায়ীরা।

গাড়ি চালক আব্দুর রহমান বলেন, আমি প্রতিদিন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সাপাহার বাজারে কৃষকদের আম নিয়ে আসি যতক্ষন না আমগুলো বিক্রি হচ্ছে ততক্ষন রাস্তার পাশে গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করতে হয়। আজকে গাড়িটা রাস্তার ধারে একটু নামাতেই ছিটকে দূরে পড়ে যাই, ভাগ্যে ভালো তাই তেমন ক্ষতি হয়নি। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তার দুপাশে কাদা-পানি জমে থাকে এতে আমাদের খুব সাবধানে চলাফেরা করতে হয়। অতি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ও রাস্তার দুপাশ মেরামত করলে আমাদের সবার জন্য সুবিধা হবে।

পোরশা উপজেলার মোখলেছুর রহমান জানান, একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তার দুপাশে পানি জমে থাকে মাঝেমধ্যে দেখি গাড়িগুলো পড়ে যায় বিষয় টা দেখতেও খারাপ লাগে। হাটের যারা দায়িত্বে আছেন তাদের জরুরীভাবে রাস্তা মেরামত করে দেওয়া উচিত।

শরিয়তপুর থেকে আসা আম ব্যবসায়ী জুয়েল বলেন, আমি আমের পাইকারী ব্যবসায়ী এখান থেকে আম কিনে বিভিন্ন অঞ্চলে আম পাঠাই। আমি বিগত কিছুদিন ধরে খেয়াল করলাম সামান্য পানি জমলেই কাদা হয়ে যাচ্ছে রাস্তা ধার এতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে গাড়িগুলো। যেহেতু এই হাটে লক্ষ লক্ষ টাকার আম কেনাবেচা হয় সেক্ষেত্রে রাস্তার ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকা দরকার। এখানে আড়তদার সমিতি আছে, আম থেকে অনেক টাকা তারা কমিশন পায় সে টাকা থেকেও তো রাস্তার দু পাশে মেরামত করে দেয়া যায়। যারা গাড়ি নিয়ে আম বিক্রি করতে আসছেন তাদের জন্যেও সুবিধা হবে রাস্তা ভালো থাকলে। রাতের বেলা আরো বেশি দের্ঘটনা ঘটার সম্ভবনা থাকে।

এ বিষয়ে সাপাহার উপজেলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুদ হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, বিষয়টি অবগত হলাম আমি হাটের ইজারাদারকে বলে দিচ্ছি তারা মেরামত করে দিবে।

;

সৈয়দপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কিশোরের মৃত্যু



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নীলফামারী
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নীলফামারীর সৈয়দপুরে পাম্পের সুইচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মিঠু মিয়া (১৭) নামে কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৩ জুন) সকালে বাঙালিপুর ঘরঘড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোর ওই এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে।

নিহতের স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে গোসল করতে গিয়ে পানির পাম্পে সুইচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ছিটকে পড়ে যায়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত কর বলেন, এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

;

ভোটার নিবন্ধনে চট্টগ্রামের স্থানীয়দের ‘রোহিঙ্গা’ ক্যাটাগরিতে ফেলা যাবে না



জাহিদ রাকিব, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা নাগরিকদের কারণে নতুন ভোটার হতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল চট্টগ্রামের স্থানীয় বাসিন্দাদের। ভোগান্তি লাঘবে নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন- ইসি।

এখন থেকে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষদের ভোটার নিবন্ধনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বৈধ কাগজ থাকলে তাদের ‘রোহিঙ্গা ক্যাটাগরি’তে না ফেলে নিবন্ধন সহজ করার তাগিদ দিয়েছে সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানটি।

চট্টগ্রামের কক্সবাজার জেলায় ২০১৮ সালে রোহিঙ্গারা আসার পর থেকে সাধারণ মানুষ যথাযথ কাগজপত্র দিয়েও বিশেষ কমিটির ছাড়পত্র ছাড়া ভোটার তালিকায় নাম ওঠাতে পারতেন না। ফলে, অনেক নাগরিক তাদের জরুরি কাজে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়ে ভোগান্তিতে পড়তে শুরু করেন।

সম্প্রতি, ইসির মাসিক সমন্বয় সভায় চট্টগ্রাম অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দা যারা নতুন ভোটার হতে চান, তাদের ভোগান্তির কথা বিবেচনায় নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নতুন সচিব শফিউল আজিম।

এর আগে রোহিঙ্গা ভোটার ঠেকাতে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৩২টি উপজেলাকে বিশেষ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে নির্বাচন কমিশন। এসব উপজেলায় নিবন্ধন কার্যক্রম যাচাই-বাচাই করার জন্য একটি ১৫ সদস্যর কমিটি গঠন করা হয়। ফলে, চট্টগ্রামের অনেক বাসিন্দা চাইলেই ভোটার তালিকায় তাদের নাম সংযুক্ত করতে ভোগান্তিতে পড়তেন। ভোগান্তি কমাতে প্রয়োজনে এসংক্রান্ত নীতিমালা পরিবর্তনের আভাস দিয়েছে ইসি।

সমন্বয় সভা সূত্রে জানা যায়, ইসি সচিব শফিউল আজিম কর্মকর্তাদের এই বিষয়ে একাধিক নির্দেশনা দিয়েছেন।

এই সময় তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র প্রদানের ক্ষেত্রে ইসির বিশেষ এলাকার যে সব নাগরিকের একাডেমিক সনদ বা বৈধ কাগজপত্র আছে, তাদের সন্দেহভাজন রোহিঙ্গাদের মতো একই ক্যাটাগরিতে না ফেলে তাদের ভোটার নিবন্ধন সহজ করার নির্দেশনা দেন।

শফিউল আজিম বলেন, এই অঞ্চলের বিশেষ এলাকায় ভোটার নিবন্ধন কার্যক্রমে যে কমিটি রয়েছে, তা পুনর্গঠন ও তাদের কার্যপরিধি হালনাগাদ করা প্রয়োজন। এজন্য আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে হালনাগাদের সুপারিশসহ দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠাতে হবে।

সেই সঙ্গে এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) সংশোধনে হয়রানির বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা সংক্রান্ত অনিয়মসহ বিভিন্ন অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদন দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

;