রাজশাহীর সড়ক যেন কাঠগোলাপের মধুর মেলোডি!



মোঃ আব্দুল হাকিম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহীর সড়ক বিভাজকগুলো যেন কাব্যিক সৌন্দর্যের মূর্ত প্রতীক। সড়কের দু'ধারে ফুটে থাকা কাঠগোলাপের সাদা পাপড়িগুলো মনে করিয়ে দেয় স্বর্গের নৈসর্গিক ছোঁয়া। পাপড়ির মাঝে গাঢ় হলুদ রঙের স্পর্শে যেন সৃষ্টির অপার মহিমা ফুটে ওঠে। কাঠফাটা রোদেও যখন গাছের পাতা ক্লান্ত, তখনও কাঠগোলাপের তরতাজা সৌন্দর্য ম্লান হয় না। এ ফুলের মাধুর্য মুগ্ধ করে পথচারীদের হৃদয়, যেন প্রতিটি পাপড়ি এক একটি সুর, প্রতিটি গন্ধ এক একটি মধুর মেলডি।

রাজশাহী শহরের সড়ক বিভাজকগুলো যেন হয়ে উঠেছে কাঠগোলাপের সৌন্দর্যের এক মেলোডি। কাঠফাটা রোদে যখন গাছের পাতা ঝলসে যাওয়ার উপক্রম, তখনো পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে থাকে তরতাজা কাঠগোলাপ। স্বচ্ছ এ ফুল শহরের শোভা বাড়িয়ে তোলে অসাধারণভাবে। শুধু কাঠগোলাপই নয়, চেরি, টগর, মিনজিরি, শিউলিসহ নানা ফুল ফুটে আছে শহরের সড়ক বিভাজকে, যা পথচারীদের মুগ্ধ করে প্রতিনিয়ত।

শহরের প্রতিটি সড়ক যেন প্রকৃতির এক এক টুকরো চিত্রকর্ম। কাঠগোলাপের মিষ্টি সুবাস আর অপূর্ব রূপ সবার মন ছুঁয়ে যায়। এই সড়কগুলোতে হাঁটলে মনে হয়, যেন কাঠগোলাপের মধুর মেলোডি বাজছে চারিদিকে। তাই রাজশাহী শহরের সড়কগুলো শুধু চলাচলের পথ নয়, বরং প্রকৃতির এক অনবদ্য সুরভিত ক্যানভাস।


রাজশাহী সিটি করপোরেশন সুত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে নগরীর শহীদ এ এইচ এম কামারুজ্জামান চত্বর থেকে সি অ্যান্ড বি মোড় পর্যন্ত সড়ক বিভাজকে প্রায় ২০০ কাঠগোলাপের গাছ লাগানো হয়। সড়ক বিভাজকের গাছগুলো ইতিমধ্যে শোভাবর্ধনকারী গাছ হিসেবে নগরবাসীর নজর কাড়ছে। তিন চার বছর থেকেই এই গাছে ফুল আসতে শুরু করেছে। এবার ফুল এসেছে সবচেয়ে বেশি।

রাজশাহী নগরের গ্রেটার রোড দিয়ে হেঁটে বা গাড়িতে যাওয়ার সময় কেউ এই সৌন্দর্যের হাতছানিকে উপেক্ষা করতে পারবেন না।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে- পিচঢালা পাকা রাস্তার দুইধার, আইল্যান্ড ও সড়ক বিভাজনগুলোতে ঋতুভেদে নানা ফুল আর ফলগাছ শোভা পাচ্ছে। শুধু রাস্তায় নয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঈদগাহসহ প্রতিটি ওয়ার্ডের ওলি-গলিতেও সুরোভী ছড়াচ্ছে চোখ ধাঁধাঁনো ফুল। সবুজে ঘেরা পদ্মাপাড়ে রাজশাহী নগরীতে এসব ফুলের সুগন্ধে মোহিত হচ্ছে নগরবাসীসহ পর্যটকরা।

চিরচেনা সবুজ নগরীতে এসব ফুল এখন নজর কাড়ছে ছোট-বড় সকলের। আর এগুলো পরিচর্যায় কাজ করছে সিটি করপোরেশনের ৬০ জনের বেশি কর্মকর্তা-কর্মকারি। দুটি পানির ট্রাঙ্কার ও একটি বেবি জেট নিয়ে নিয়মিত তারা ছুটছেন এসব গাছের যত্নে।


রাসিক জানিয়েছে, প্রতিবছরই প্রায় অর্ধলক্ষ গাছ লাগানো হয় রাজশাহী মহানগরে। সিটি করপোরেশনের হিসাবে, নগরীর প্রায় ৩৬ কিলোমিটার সড়কের আইল্যান্ডজুড়ে শোভা পাচ্ছে রং-বেরংয়ের ফুল। রাস্তায় বের হলে চোখে পড়বে হরেক রকমের ফুল। কখনো লাল কৃঞ্চচুড়া, কখনও হলুদ সূর্যমুখী কিংবা বেগুনি জারুল বা কাঠগোলাপের অপরূপ সৌন্দর্য মন কাড়ছে পথচারীদের।

ফাতেমা তুজ জোহরা নামে এক পথচারী বলেন, রাজশাহী শহরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে আমাদের এই ফুলগাছগুলো। অন্যান্য শহরে ফুলের বাগান দেখার জন্য নানান জায়গায় যেতে হয় পার্ক ও বিনোদন কেন্দ্র ইত্যাদিতে। কিন্তু রাজশাহী শহর পুরোটা পার্কের মতই। রাজশাহী মহানগরীর রাস্তার ধারসহ আইল্যান্ড, সড়ক বিভাজন ও ফুটপাতে নানা রংয়ের ফুল। এইসব ফুলের মধ্যে যখন কাঠগোলাপ ফোটে তা দেখতে অসাধারণ মনোমুগ্ধকর লাগে।

রাসিকের পরিবেশ উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহমুদ-উল-ইসলাম বলেন, রাসিকের জিরো সয়েল্ট প্রকল্পের আওতায় শহরে কয়েকবছর আগে ফুলের গাছ লাগানো শুরু হয়। আমাদের এই প্রজেক্টের উদ্দেশ্য শহরের কোনো জায়গাতেও শুকনো মাটি থাকবে না। প্রতিটি ফাঁকা জায়গায় সবুজায়নের জন্য গাছ লাগাতে হবে। এতে সৌন্দর্যের পাশাপাশি পরিবেশের ভারস্যাম্য বজায় থাকবে।

তিনি আরও বলেন, মেয়রের দিক-নির্দেশনায় গত সাড়ে ৫ বছরে দুই লাখের বেশি স্থায়ী ও ১০ লক্ষাধিক হেজ জাতীয় বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। রাসিকের নিজস্ব নার্সারি থেকে চারা এনে বিভিন্ন রাস্তায় গাছ লাগানো হচ্ছে। এ গাছগুলো পরিবেশের জন্য ভালো। গবেষণায় যে গাছগুলো ক্ষতিকর দেখা গেছে, সেগুলো লাগানো হচ্ছে না। ফলে এই গাছগুলো থেকে পরিবেশের উপকার হচ্ছে, সৌন্দর্য বাড়ছে।

উদ্ভিদ বিজ্ঞানিরা বলছেন- কাঠগোলাপ গাছটির কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখা নরম এবং শাখা-প্রশাখা কম হয় বলে সোজা ওপরের দিকে উঠে যায়। ৮ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। গাছটির বাকল মোটা ও পুরু। শীতে গাছের অধিকাংশ পাতা ঝরে যায় এবং বসন্তে নতুন পাতা গজায়। পাতা আকারে বেশ বড় ও পুরু। শিরা-উপশিরা স্পষ্ট। কাণ্ডের ডগায় একগুচ্ছ ফুল অন্যরকম সৌন্দর্য নিয়ে চুপটি করে বসে থাকে। ফুলের আকার মাঝারি। পাঁচটি পাপড়ি থাকে। ফুলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল কোনো কোনো ফুল দুধের মতো সাদা, কোনোটি সাদা পাপড়ির ওপর হলুদ দাগ, আবার কোনোটি লালচে গোলাপি রঙের। আবার সাদা রঙের কিছু ফুল দীর্ঘ মঞ্জুরিদণ্ডের আগায় ঝুলে থাকে। প্রায় সারা বছর ফুল ফুটলেও গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শরতে বেশি ফুল ফোটে।


কাঠগোলাপ বর্গের মধ্যে প্রায় ৭ থেকে ৮ প্রজাতির গাছই গুল্ম জাতীয়। আবার কখনও ছোট আকারের গাছ হয়ে থাকে। এ ধরনের প্রজাতি আমেরিকা, মেক্সিকো, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, দক্ষিণ আমেরিকা ও ব্রাজিলের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যায়। সাধারণত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে এদের বেশি দেখা যায়। আবহাওয়ার সঙ্গে মিল থাকায় আমাদের দেশেও কাঠগোলাপের দেখা মেলে। অঞ্চলভেদে এ ফুল কাঠচাঁপা, গরুড়চাঁপা, গুলাচ, গুলাচিচাঁপা, গোলাইচ, গোলকচাপা, চালতাগোলাপ নামে পরিচিত।

রাজশাহী কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক নূরুন্নেছা বলেন, কাঠগোলাপ তার মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য এবং সুগন্ধের জন্য পরিচিত। বিশেষত সৌন্দর্য বর্ধনের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় গাছ। এই গাছটি সাধারণত বাড়ির আঙিনায়, পার্কে এবং বাগানে রোপণ করা হয়। কাঠগোলাপের বিভিন্ন রঙের ফুলগুলো পরিবেশকে মনোরম করে তোলে এবং দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্য যোগ করে। এর সৌন্দর্য ছাড়াও, কাঠগোলাপের আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে।

ঔষধি গুণাবলীর জন্য কাঠগোলাপ বিশেষভাবে মূল্যবান। এর ফুল এবং কাণ্ড প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে ব্যবহার হয়ে আসছে। বিশেষত, কাঠগোলাপের ফুল এবং কাণ্ড জ্বর, সর্দি ও কাশি নিরাময়ে কাজ করে। কাঠগোলাপের ফুল থেকে তৈরি নির্যাস অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি এবং অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া, এই গাছের উপাদানগুলি প্রাকৃতিকভাবে নানা ধরনের প্রদাহ ও সংক্রমণ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

এটি শুধুমাত্র পরিবেশের শোভা বৃদ্ধি করে না, পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কারণে কাঠগোলাপ গাছটি ঘরের আঙিনা, পার্ক এবং বাগান সাজানোর পাশাপাশি প্রাকৃতিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি আদর্শ উদ্ভিদ।

   

নারী-পুরুষ বৈষম্য সূচকে বাংলাদেশের বড় পতন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বৈশ্বিক লিঙ্গ সমতা সূচকে বাংলাদেশে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। নারী-পুরুষ বৈষম্য আরও প্রকট হওয়ার ফলে এ পতন ঘটেছে। অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ, শিক্ষার সুযোগ, স্বাস্থ্য সেবাপ্রাপ্তি ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষে যে বৈষম্য, তার ভিত্তিতেই বৈশ্বিক লিঙ্গ সমতা সূচক তৈরি করে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রকাশিত বার্ষিক সূচকে দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় ৪০ ধাপ নেমে গিয়ে ১৪৬টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ এবার ৯৯তম। তবে দক্ষিণ এশিয়ার সাত দেশের মধ্যে বাংলাদেশ এখনও সবার ওপরে। এবার দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর অবস্থা- নেপাল ১১৭, শ্রীলঙ্কা ১২২, ভুটান ১২৪, ভারত ১২৯, মালদ্বীপ ১৩২ ও পাকিস্তান ১৪৫ নম্বরে।

২০২৩ সালের সূচকে ১২ ধাপ এগিয়ে ৫৯তম অবস্থানে উঠে এসেছিল বাংলাদেশ, তার আগের বছর ছিল ৭১ নম্বরে।

বুধবার (১২ মে) ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) ২০২৪ সালের ‘গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ’ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে ১৪৬টি দেশের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়। ২০০৬ সাল থেকে ডব্লিউইএফ এ সূচক প্রকাশ করে আসছে।

লিঙ্গ বৈষম্য সূচকে টানা ১৫ বছর শীর্ষে রয়েছে আইসল্যান্ড। শীর্ষ দশের অন্য নয়টি দেশ হলো- ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, নিউ জিল্যান্ড, সুইডেন, নিকারাগুয়া, জার্মানি, নামিবিয়া, আয়ারল্যান্ড ও স্পেন। সূচকে সবার নিচে ১৪৬তম অবস্থানে রয়েছে সুদান। আর ১৪৫ নম্বরে পাকিস্তান।

এবারের সূচকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পতন হয়েছে অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ ও সুযোগ সৃষ্টির দিক থেকে। শিক্ষাক্ষেত্রেও বৈষম্য বেড়েছে। স্বাস্থ্য সেবায় বৈষম্য আরও বেড়েছে। কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ গত পাঁচ বছর ধরে টানা কমেছে। শ্রমঘন কাজেও নারীর অংশগ্রহণ কমেছে। ছয় বছর আগের তুলনায় নারী-পুরুষের আয় বৈষম্য বেড়ে হয়েছে পাঁচ গুণ। কর্মক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ পদে নারীর অনুপাত কমেছে।

;

রাঙামাটিতে শিশু ধর্ষণ মামলায় আসামির ফাঁসির আদেশ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাঙামাটি
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাঙামাটিতে এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে হত্যাকারী অংবাচিং মার্মাকে (৪৬) মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) রাঙামাটির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ.ই.এম. ইসমাইল হোসেন এর আদালত আসামি ও ভিকটিমের পিতা-মাতাসহ আইনজীবী, পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে এই রায়ের আদেশ প্রদান করেন।

প্রথমবারের মতো রাঙামাটিতে এই ধরনের মামলায় ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক। এদিকে এই প্রথমবারের মতো নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক শিশু নির্যাতন ও হত্যাকারি আসামীর ফাঁসির রায়ে একই সাথে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম অভি ও আসামী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নিজ এজলাশে রায় ঘোষণার পূর্বে ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিজে লিখিত বিবরণে উল্লেখ করেন, রাঙামাটির চন্দ্রঘোনা থানাধীন ২নং রাইখালী ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের পূূর্ব কোদালা এলাকার বাসিন্দা সাথুই অং মার্মার ৯ বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী শিশু কন্যা মিতালী মার্মাকে স্থানীয় শিক্ষক অংবাচিং মার্মা প্রকাশ আবাসু প্রকাশ বামং এর কাছে প্রাইভেট পড়াতে দেন। ঘটনার দিন ২০১৯ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি ভিকটিম প্রাইভেট পড়াতে পাঠালে অন্য শিক্ষার্থীদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে ভিকটিম শিক্ষার্থী মিতালী মার্মাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টাকালে সে চিৎকার করতে থাকে। তখন ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে গলায় সুতলি ও কাপড় পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

পরে মরদেহ বস্তায় ভরে ঘরের মাচায় তুলে রাখে হত্যাকারী শিক্ষক অংবাচিং মার্মা। এদিকে ভিকটিমের পরিবার তাকে খুঁজতে আসলে তাকে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট পড়িয়ে ছুটি দিয়ে দিয়েছে বলে শিক্ষক অংবাচিং মার্মা জানালেও তার কথায় সকলের সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে আসামিকে নজরদারিতে রাখে এলাকাবাসী। ৩রা ফেব্রুয়ারিতে ভোর ৪টার সময় বস্তায় ভরে ভিকটিমের মরদেহ নিয়ে যাওয়ার সময় আসামিকে হাতেনাতে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করে স্থানীয়রা।

এই ঘটনায় ভিকটিমের পিতা বাদি হয়ে চন্দ্রঘোনা থানায় অংবাচিং মার্মাকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(২) ও তৎসহ পেনাল কোড ১৮৬০ এর ২০১ ধারায় ২০১৯ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নাম্বার-০১। এই মামলায় একই বছরের আগস্টের ৫ তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৯(৪)(খ) ও তৎসহ পেনাল কোড ১৮৬০ এর ৩০২ ও ২১০ ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি উক্ত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

এদিকে মামলার রায় সমাজের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবং ভিকটিমের পরিবার ন্যায় বিচার পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম অভি।

অপরদিকে, এই মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে সমাজের প্রতি একটি ম্যাসেজ যাবে এবং এসকল ক্ষেত্রে সকলের মাঝে সচেনতা বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, আমি একজন আইনজীবী হিসেবে আসামির পক্ষে দাঁড়াবো এটাই স্বাভাবিক। আসামি দরিদ্র হওয়ায় জাতীয় আইন সহায়তা কেন্দ্রের মাধ্যমে আমি তার পক্ষে দাঁড়িয়েছি। আসামির স্বজনরা যদি চায় এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার চেষ্টা করবো।

রাঙামাটিতে সেশনজট ট্রাইব্যুনাল স্থাপনের পর এবারই প্রথমবারের মতো শিশু নির্যাতনকারী ও হত্যাকারী আসামিকে মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আদেশ দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ.ই.এম. ইসমাইল হোসেন। ইতোপূর্বে এই ট্রাইব্যুনাল চাঞ্চল্যকর বেশ কয়েকটি ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতন মামলার সর্বোচ্চ সাজার রায় ঘোষণা করেছেন।

;

কোরবানিতে ২২ লাখ পশু উদ্বৃত্ত আছে: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন কোরবানির ঈদে প্রয়োজনের তুলনায় ২২ লাখ পশু সরবরাহ বেশি আছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মো. আব্দুর রহমান। তিনি বলেন, কোরবানির জন্য পশুর চাহিদা এক কোটি সাত লাখ; গরু, ছাগল, ভেড়া, মহিষ সব মিলিয়ে। সেখানে আমাদের প্রস্তুত আছে প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ।


বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন।

দেশে কোরবানির পশু উৎপাদন বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, যারা কৌশল করে কিংবা ছলচাতুরির মাধ্যমে কোরবানির পশুর চড়া দাম হাঁকাচ্ছেন, তাদের মাথায় হাত পড়তে বাধ্য।

মন্ত্রী বলেন, বাজারে যে কোনো পণ্যের দাম নির্ধারিত হয় চাহিদা এবং সরবরাহের ওপরে। আমার দায়িত্ব হলো প্রয়োজনের তুলনায় সেই সরবরাহ আছে কি না তা নিশ্চিত করা। আমি তো পরিসংখ্যান দিলাম। আরও ২২ লাখ পশু উদ্বৃত্ত আছে।

তিনি আরও বলেন, আজকে হয় তো কেউ নানাভাবে হ্যাল্ডেলিং করে গরুর দাম বাড়াতে পারে। চড়া দাম হাঁকাতে পারে। কিন্তু দিন শেষে ওদের মাথায় হাত পড়বে। কারণ আমার তো গরুর যোগান আছে। যারা কৌশলে বা নানা ছলচাতুরির মাধ্যমে দাম হাঁকাচ্ছে ওদের মাথায় হাত পড়তে বাধ্য।

মন্ত্রী আরও বলেন, দাম নির্ধারণ করার দায়িত্ব আমার না। দাম নির্ধারণ করবে বাজার। আমরা সাধারণত অর্থনীতির সংজ্ঞায় বুঝি, সরবরাহ ও চাহিদার যদি সমন্বয় থাকে সে ক্ষেত্রে বাজারই বাজারমূল্য নির্ধারণ করে। আমি কিভাবে বাজার মূল্য নির্ধারণ করবো।

ডিমের দাম বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে আব্দুর রহমান বলেন, আমরা যখন তাদের (খামারি) সঙ্গে বসি, তারা একটা অজুহাত দেয় খাদ্য শস্যের দাম বেশি। আমদানি করতে হয়। আমি আমার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটা বৈঠক করবো। তাদের এই অজুহাত কোনো অবস্থায় গ্রহণযোগ্য না। প্রয়োজনে আমরা তাদের সঙ্গে আবার বসে তাদের একটা ডিমের জন্য কতো খরচ হয় এবং লাভ কতো করতে হয়, তারপর দাম নির্ধারণ করবো। এই ব্যাপারে নিশ্চয় আমাদের নজরদারি থাকবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার, অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুল কাইয়ূম, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মো. আলমগীর প্রমুখ।

;

ডিএমপির ঈদের শুভেচ্ছা কার্ডে সবুজের বার্তা



আল-আমিন রাজু, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

শুরু হয়ে গেছে ঈদুল আজহা অর্থাৎ কোরবানি ঈদের ক্ষণগণনা। ইতোমধ্যে কোরবানি দিতে সক্ষমরা গরুসহ নানা পশু কেনার হিসাব নিকেশ শুরু করে দিয়েছেন। কেনাকাটার পাশাপাশি রয়েছে নানা আয়োজনও।

তবে কোরবানির ঈদকে সামনে আলাদাভাবে নজর কেড়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ঈদ কার্ড আয়োজন।

যান্ত্রিক এই সময়ে ঈদ কার্ড দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর মাধ্যমে একদিকে যেমন জৌলুশ হারানো একটি বিষয় লালন করা হচ্ছে, অন্যদিকে নগরায়ণের কারণে হারিয়ে যাওয়া সবুজ গাছ ও সবজি বাগানের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, আসন্ন কোরবানি ঈদ উপলক্ষে আট হাজারের বেশি ঈদের শুভেচ্ছা কার্ড ছাপিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। প্রতিটি কার্ডের সঙ্গে ছয় প্রকারের সবজির বীজ দেওয়া হচ্ছে। সেই হিসেবে প্রায় ৫০ হাজার প্যাকেট সবজির বীজ পাচ্ছেন গণমাধ্যম পুলিশসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষেরা।

ঈদের শুভেচ্ছার কার্ডের সঙ্গে সবজি বীজ উপহার দেওয়ার বিষয় জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, বীজ হলো অপার সম্ভাবনার একটি নাম। এটাকে বলা হয়, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও শুভ কামনার প্রতীক। একটি বীজের বহুমুখী সম্ভাবনা রয়েছে। একটি বীজ থেকে যেমন গাছ হয়, গাছ থেকে ফসল হয়। আবার গাছ ছায়া দেয়। গাছ অক্সিজেন দেয়। গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। সব কিছু মাথায় রেখে ঈদ সুন্দর ও সর্বাঙ্গীণ কামনা করে এই উপহার দিচ্ছে ডিএমপি।

ডিএমপির এই কমিশনার আরও বলেন, ঈদের ছুটিতে অনেকেই গ্রামের বাড়িতে ছুটে যাবেন। এই বীজ দিয়ে তারা নতুন একটা গাছের সূচনা করবেন। ছোট ছোট কিছু উদ্যোগ আমাদের চারপাশ সবুজে ভরিয়ে দেবে বলে আমার বিশ্বাস।

ঈদের শুভেচ্ছা কার্ড বিতরণের দায়িত্ব পালন করে ডিএমপি মিডিয়া বিভাগ। ডিএমপি মিডিয়া সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমের অপরাধ বিভাগের সাংবাদিক, রাজনৈতিক দল, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, বিচার বিভাগ, মন্ত্রী, সিটি করপোরেশন, সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন পেশার গুণী ব্যক্তিরা এই শুভেচ্ছা কার্ড পাবেন। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন থানার ওসি, জেলার গুণী ব্যক্তিত্ব, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকেও এই শুভেচ্ছা কার্ড পাঠানো হয়েছে।

বুধবার থেকে ডিএমপি মিডিয়া বিভাগের কর্মকর্তারা কার্ড বিতরণ শুরু করেছেন।

;