ছেলে এভারেস্টের চূড়ায়, মায়ের চোখে ঘুম নেই!



তাসনীম হাসান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম ব্যুরো
বাবর আলীর ছবি হাতে মা-বাবা

বাবর আলীর ছবি হাতে মা-বাবা

  • Font increase
  • Font Decrease

ছেলেমেয়েরা সবাই প্রতিষ্ঠিত। লুৎফুন্নাহার বেগমের সামনে তাই অফুরন্ত অবসর। ষাটোর্ধ্ব এই নারীর অবকাশের বেশিরভাগই কাটে ঘুমিয়ে। দিনে অন্তত ১০-১২ ঘণ্টা ঘুমানো লুৎফুন্নাহারের নেশা। মায়ের সেই ‘কুম্ভকর্ণের ঘুম’ কিনা চোখ থেকে নাই হয়ে গেছে ছেলে বাবর আলী হিমালয়ের পথে পা বাড়াতেই। ছেলের এভারেস্ট জয়ের দিনেও তাই জায়নামাজে বসে এই মায়ের আকুল করা প্রার্থনা-‘আল্লাহ আপনি আমার ছেলেকে তার লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছেন, এবার সুস্থভাবে আবার আমার বুকে ফিরিয়ে দিন।’

দীর্ঘ বিরতির পর ষষ্ঠ বাংলাদেশি হিসেবে বাবর আলীর এভারেস্ট চূড়ায় পা ফেলার দিন রোববার (১৯ মে) বিকেলে মা লুৎফুন্নাহার বেগমকে বাড়িতে পাওয়া গেল ঠিক এভাবেই। চট্টগ্রাম শহরের কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে কয়েক কিলোমিটার উত্তরে গেলেই নজু মিয়া হাট। সেই হাটে গিয়ে বাবর আলীদের বাড়ি কোথায়-বললেই হলো। লোকেরাই দলবেঁধে পথ দেখাতে দেখাতে নিয়ে যাবে বুড়িশ্চর গ্রামে, এভারেস্টজয়ীর বাড়িতে। দুই তলা বাড়িতে ঢুকতেই যেন এভারেস্টের ছোঁয়া পাওয়া গেল! বাড়ির দেয়ালে দেয়ালে ঝুলছে বাবর আলীর পাহাড়ের বুকে দাঁড়িয়ে তোলা ছবি, কোথাওবা তার অর্জনের পদক! বাবরের একটা বাধাই করা ছবি বুকে নিয়ে মা-বাবা ছেলেকে নিয়ে খুলে দিলেন স্মৃতির জানালা।

ছেলে এভারেস্টের চূড়ায়, খুশিতে নিশ্চয় আপনিও আকাশ ছুঁয়েছেন-এমন প্রশ্নে ছেলেকে ঘিরে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মা লুৎফুন্নাহার একটু হাসলেন। বললেন, ‘আল্লাহ আমার ছেলেকে তার লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছেন। সেজন্য আনন্দ লাগছে অবশ্যই।’ এরপর ‘কিন্তু আমি তো মা’ বলে একটু থামলেন লুৎফুন্নাহার। নাতিদীর্ঘ বিরতি নিয়ে ভয়-শঙ্কা মেশানো কণ্ঠে বলতে শুরু করেন, ‘সবসময় টেনশনে ছিলাম। এখনও আছি। আমি এমনিতেই খুবই ঘুমপাগল। দিনে ১০-১২ ঘন্টা ঘুমাতাম। কিন্তু যখন থেকে বাবর এভারেস্টের দিকে যাত্রা করল, ঘুম আমার চোখ থেকে চলে গেছে। গত দেড় মাসে মনে হয় দিনে আমি দুই ঘণ্টাও ঘুমাতে পারিনি। ঘুমাতে গেলেও ছেলের টেনশনে ঘুম ভেঙে যায়। নামাজ পড়ে বারবার আল্লাহকে বলছি-আপনি আমার ছেলেকে সুস্থভাবে আবার আমার কাছে ফিরিয়ে দেন। যতক্ষণ পর্যন্ত সে পাহাড় থেকে নেমে আসবে না, ততক্ষণ আমার টেনশন যাবে না।’

পাশে বসে স্ত্রীকে নির্ভার রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বাবর আলীর বাবা লেয়াকত আলী। বলেন, ‘ছেলের খুব শখ ছিল একদিন এভারেস্ট জয় করবে। সে তার স্বপ্ন ছুঁয়েছে। তবে খুব সহজে আসেনি তার এই অর্জন। ধীরে ধীরে সে স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে গেছে। ছেলের এমন গৌরবের দিনে বাবা হিসেবে অবশ্যই খুব ভালো লাগছে। এটা আমার জন্য খুবই আনন্দের, খুশির।’

বাবর আলীর পরিবারের এলাকায় বেশ নাম যশ আছে। তার বাবা লেয়াকত আলী কুয়েত প্রবাসী ছিলেন। ২০১৭ সালে দেশে ফিরে বর্তমানে অবসর জীবনযাপন করছেন। স্বামী দূরের প্রবাসে থাকলেও ছেলে-মেয়েদের বকে যেতে দেননি মা লুৎফুন্নাহার বেগম। গৃহিণী এই মা তার চার সন্তানকেই করেছেন মানুষের মতো মানুষ! তিন ভাই, এক বোনের মধ্যে বাবর দ্বিতীয়। তার বড় ভাই ব্যারিস্টার, থাকেন অস্ট্রেলিয়ায়। বাড়ির দ্বিতীয়জন বাবর আলী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করে চিকিৎসাসেবায় নেমেছিলেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে এমফিল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিজিটি সম্পন্ন করেছেন। একমাত্র বোনও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কক্সবাজার জেলা আদালতে কর্মরত আছেন। সবার ছোট ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতকোত্তর শেষে বিকাশের মার্চেন্ট ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ঘরের এখানে ওখানে বাবর আলীর গৌরবের পদক

বাবর আলী ছোটবেলা থেকে একদিকে যেমন দুর্দান্ত মেধাবী, তেমনি আবার দূরন্তপনায়ও এগিয়ে। ছেলের এভারেস্ট জয়ের দিন বাবা লেয়াকত আলীর স্মৃতিতে ফের ফিরল ছেলের সেই ছোটবেলা, ‘ছোটবেলা থেকেই ও খুব দূরন্ত ছিল। আবার লেখাপড়ায়ও ভালো ছিল। খেলাধুলার সব ইভেন্টে বলতে গেলে তার অংশগ্রহণ থাকতো। আমার সন্তানদের মধ্যে সে একটু বেশিই অসামান্য।’

ছেলেকে নিয়ে গর্ব খেলা করে মা লুৎফুন্নাহার বেগমের চোখেমুখেও। বললেন, ‘আমার ছেলে লেখাপড়ায় ভালো ছিল, চিকিৎসক হিসেবেও বেশ সুনাম করেছিল। খারাপ কোনো নেশায় জড়ায়নি কখনো। তার নেশা শুধু একটাই, পাহাড়-পর্বতে ঘোরাঘুরি।’

রোববার বাংলাদেশ সময় পৌনে নয়টায় এভারেস্টের চূড়ায় বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়ান বাবর আলী। অবশ্য হিমালয়ের সর্বোচ্চ শৃঙ্গে উঠতে বাবর দেশ থেকে নেপালের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন ১ এপ্রিল। প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ করে তিনদিন পর ৪ এপ্রিল কাঠমান্ডু হতে উড়ে যান পৃথিবীর অন্যতম বিপজ্জনক বিমানবন্দর লুকলাতে। সেই লুকলা থেকেই মূলত শুরু হয় এভারেস্ট জয়ের পথ। শত কিংবদন্তি পর্বতারোহীদের চলা পথে ১০ এপ্রিল বাবর পৌঁছে যান এভারেস্ট বেসক্যাম্পে। একাধিকবার উচ্চতায় উঠানামা করে উচ্চতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া পর্ব চালিয়ে যান বাবর। কিন্তু কয়েকদিন অপেক্ষার পরও নেপালের দায়িত্বরত দল পথ তৈরি করতে পারেনি। তাই বাবর বিকল্প পথ বেছে নেন, ১৬ এপ্রিল সামিট করেন ২০ হাজার ৭৫ ফুট উচ্চতার লবুচে ইস্ট পর্বত। এরপর আবারও বেসক্যাম্পে ফিরে পর্বতের নিচ অংশের পথ খুলে গেলে ২৬ এপ্রিল বেসক্যাম্প থেকে যাত্রা শুরু করে ক্যাম্প-২ পর্যন্ত ঘুরে এসে শেষ করেন উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পর্ব। এরপর শুরু হয় দীর্ঘ অপেক্ষা। ১৪ মে মাঝরাতে বেসক্যাম্প থেকে শুরু হয় বাবরের স্বপ্নের পথে যাত্রা। প্রথম দিনেই সরাসরি উঠে যান ক্যাম্প-২ এ, যার উচ্চতা ২১ হাজার ৩০০ ফুট। পরিকল্পনা অনুসারে সেখানে দুইরাত কাটিয়ে বাবর ধারাবাহিকভাবে উঠে আসেন ২৪ হাজার ৫০০ ফুট উচ্চতার ক্যাম্প-৩ এবং ক্যাম্প-৪ এ। ২৬ হাজার ফুট উচ্চতার এই ক্যাম্প-৪ এর ওপরের অংশকে বলা হয় ডেথ জোন। অবশেষে ১৮ মে মাঝরাতে আবারও শুরু হয় বাবরের যাত্রা। ভোরের প্রথম কিরণে ২৯ হাজার ৩১ ফুট উচ্চতার মাউন্ট এভারেস্টের চূড়ায় চুমু খায় বাবরের পা!

অভিযানের প্রধান সমন্বয়ক ফরহান জামান বাবর আলীর পুরো অভিযানের চিত্র তুলে ধরেন বার্তা২৪.কমের কাছে। বলেন, ‘অভিযান কিন্তু এখনো শেষ নয়! বাবরের আসল লক্ষ্য শুধু এভারেস্ট নয়, সঙ্গে লাগোয়া পৃথিবীর চতুর্থ শীর্ষ পর্বত লোৎসেও। এই লোৎসেতে ইতোপূর্বে কোনো বাংলাদেশি সামিট করেননি আর কোন বাংলাদেশি একই অভিযানে দুটি আট হাজারি শৃঙ্গ চড়েননি। তাই লক্ষ্য পূরণ হলে বাবর আলী করবেন এই বিপজ্জনক খেলায় বাংলাদেশের ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।’

কাগজে-কলমে বাবর আলীর এই অভিযান আজ থেকে দেড় মাস আগে শুরু হলেও তার কঠিন অধ্যাবসায় শুরু হয়েছিল এক দশক আগে, ২০১৪ সালে পর্বতারোহণ ক্লাব ভার্টিক্যাল ড্রিমার্স প্রতিষ্ঠার মধ্যে দিয়ে। এরপর থেকেই ক্লাব সতীর্থদের নিয়ে নেপাল এবং ভারতের বহু পর্বতে অভিযান করেছেন তিনি। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে তিনি সামিট করেছেন নেপালের আমা দাবলাম পর্বত। পর্বতারোহণ তার নেশা হলেও সাইক্লিং, ম্যারাথন, স্কুবা ডাইভিংয়ের মতো এডভেঞ্চার একটিভিটিতেও নিয়মিত জড়িত ছিলেন। এডভেঞ্চারের তাড়নায় হেঁটে ঘুরেছেন দেশের ৬৪ জেলা, সাইকেলে পাড়ি দিয়েছেন ভারতের কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারীর পথ। বান্দরবান থেকে হিমালয়, সুন্দরবন থেকে দক্ষিণ ভারত, যে জনপদেই তিনি গেছেন, সাক্ষী হয়েছেন অভূতপূর্ব কিছু মুহূর্তের। প্রকৃতির প্রতি তার এই ভালোবাসা এবং বিস্ময় প্রতিনিয়তই মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। সেই সূত্র ধরেই অবশেষে পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়া থেকে পৃথিবী দেখার স্বপ্নও সার্থক করেছেন এই তরুণ পর্বতারোহী।

ছেলের স্বপ্নপূরণের দিনে মা-বাবার দুশ্চিন্তাও যেন অনেকটাই কমেছে। এবার ঠিকঠাক ঘরে ফিরলে ছেলের মনকে মা-বাবা আটকে রাখতে চান চিকিৎসাসেবাতেই। দুই প্রবীণ একজোট হয়েই বললেন, ‘ওর বহুদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। তাকে আজ সারা বাংলাদেশ চিনেছে। বাবা-মা হিসেবে আমাদের জন্য এটি অবশ্যই গর্বের। তবে আমরা চাই, এবার সে চিকিৎসক হিসেবে এগিয়ে যাক। তার ইচ্ছে তো পূরণ হলো, এবার আমাদের ইচ্ছেটা পূরণ করুক।’

মা-বাবার ছেলের এমন ‘নিশ্চিন্ত’ জীবন চাওয়া যে একটাই কারণে, সেটি কি আর বলতে হয়! এভারেস্ট ছোঁয়ার গৌরব অর্জনের প্রতিটি পদক্ষেপে যে কাঁটা বেছানো। সেই কাঁটার নাম কখনো তুষারঝড়, কখনোবা তুষারক্ষত! প্রতিবছরই অজয়কে জয় করার এই রোমাঞ্চে তাই কেউ কেউ তার লক্ষ্যে পৌঁছায়, কেউবা মিশে যান বরফের দুনিয়ায়।

মা-বাবার কথা শুনে বাবরের মন কি এবার বাধা পড়বে নির্ভাবনার চিকিৎসক-জীবনে, নাকি আবারও মায়ের টেনশন বাড়িয়ে আকুলিবিকুলি করবে যেতে-দূর পাহাড়ের চূড়ায়!

কৃষকের দুই বিঘার মরিচ গাছ কাটলো দুর্বৃত্তরা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
দুর্বৃত্তদের কাটা মরিচ গাছ হাতে নিয়ে দেখাচ্ছেন কৃষক উজ্জ্বল খান

দুর্বৃত্তদের কাটা মরিচ গাছ হাতে নিয়ে দেখাচ্ছেন কৃষক উজ্জ্বল খান

  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়ার মিরপুরে রাতের আঁধারে দুই বিঘা জমির মরিচ গাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) গভীর রাতে মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের ধলসা-আটিগ্রাম মাঠে ধলসা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে উজ্জ্বল খানের দুই বিঘা জমির মরিচ খেত কেটে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

মরিচ চাষি উজ্জ্বল খানের পিতা মোহাম্মদ আলী জানান, আমরা কৃষক, কৃষিকাজ করে আমরা জীবিকা নির্বাহ করি। আমার ছেলে উজ্জ্বল খান ধলসা-আটিগ্রাম মাঠে আমাদের ২ বিঘা জমিতে মরিচের চাষ করে। প্রতিদিনের ন্যায় বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে আমার ছেলে উক্ত মরিচের জমিতে গিয়ে মরিচ দেখভাল করে বাড়িতে চলে আসে। পরবর্তীতে শুক্রবার (১২ জুলাই) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৫টার সময় আমার ছেলে তার উক্ত মরিচের জমি দেখভাল করার জন্য সেখানে গেলে দেখতে পায়, ২ বিঘা জমির প্রায় সকল মরিচের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এতে আমার ছেলের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই লাখ ত্রিশ হাজার টাকা। পরবর্তীতে আমার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমার ছেলের পক্ষে আমি নিজে থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেছি।

এ বিষয়ে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা হাবিবুল্লাহ বলেন, মরিচ গাছ কাটার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

;

রাজধানীসহ যেসব অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
আজ মুষলধারে বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে/ছবি: বার্তা২৪.কম

আজ মুষলধারে বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীতে আজ সকাল থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। ঝুম বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা। অফিস-আদালত বন্ধ থাকলেও বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এমন অবস্থায় দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। 

শুক্রবার (১২ জুলাই) রাতে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেয়া এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, আগামীকাল (১৩ জুলাই) সকাল ৯টার মধ্যে দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও হতে পারে অতি ভারি বর্ষণও। এর মধ্যে ঢাকাসহ ১৩ জেলার ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট জেলার ওপর ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেইসঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের প্রবণতা সোমবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

তবে বর্ধিত ৫ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

;

নওগাঁয় নদীতে ভাসছিল অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নওগাঁ
ছবি: নওগাঁর পোরশা উপজেলার পুনর্ভবা নদী টেকঠা

ছবি: নওগাঁর পোরশা উপজেলার পুনর্ভবা নদী টেকঠা

  • Font increase
  • Font Decrease

নওগাঁর পোরশা উপজেলার পুনর্ভবা নদী টেকঠা ঘাট এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পোরশা থানা পুলিশ।

শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকালের দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ভাসমান লাশটি দেখতে পেয়ে থানায় খবর দিলে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিয়ার রহমান বলেন, স্থানীয়রা খবর দিলে বিকেল ৪টার দিকে আমরা সেখানে দ্রুত চলে যাই এবং লাশটি উদ্ধার করি তবে অজ্ঞাত ওই লাশটি পঁচা অবস্থায় ছিলে এজন্য সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। লাশটি মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশটির পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে এরপরে মৃত্যুর কারণ বলা যাবে।

;

বিদায়ী অর্থবছরে বেনাপোল দিয়ে ২২ লাখ পাসপোর্টধারীর ভারতে যাতায়াত



আজিজুল হক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বেনাপোল (যশোর)
ছবি: বেনাপোল ও ভারত ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম সারতে অপেক্ষারতরা

ছবি: বেনাপোল ও ভারত ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম সারতে অপেক্ষারতরা

  • Font increase
  • Font Decrease

বেনাপোল বন্দর ব্যবহার করে বিদায়ী অর্থবছরে (২০২৩-২৪) ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে যাতায়াত করেছেন ২২ লাখ ৫ হাজার ৪৭৮ জন পাসপোর্টধারী। এর মধ্যে ভারতে গেছেন ১১ লাখ ২৫ হাজার ৪ জন এবং ভারত থেকে এসেছেন ১০ লাখ ৮০ হাজার ৪৭৪ জন। এর আগে ২০২২-২৩ অর্থবছরে যাত্রীর যাতায়াতের সংখ্যা ছিল ২১ লাখ ২৯ হাজার।

এ সময় ভ্রমণ কর বাবদ বাংলাদেশ সরকারের আয় হয়েছে প্রায় ১২০ কোটি টাকা। আর ভারত সরকারের আয় ১০০ কেটির উপরে।

২০২২-২৩ অর্থবছরের চেয়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যাত্রী যাতায়াতের পরিমাণ বেড়েছে ৭৬,৪৭৮ জন।

তবে যাত্রী যাতায়াতে সরকারের আয় বাড়লেও কাঙ্ক্ষিত সেবা বাড়েনি অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছেন, সেবা বাড়াতে বন্দরে যাত্রী ছাউনির জন্য জায়গা অধিগ্রহণের কাজ চলছে, আর ভারতে অংশে ইমিগ্রেশনকেও সেবা বাড়াতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

জানা যায়, বেনাপোল বন্দর থেকে ভারতের অন্যতম বাণিজ্যিক শহর ও পর্যটন কেন্দ্র কলকাতার দূরত্ব মাত্র ৮৫ কিলোমিটার। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ার বেশিরভাগ পাসপোর্টধারী চিকিৎসা, ব্যবসা, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ আর দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করতে বেনাপোল সীমান্ত ব্যবহার করে থাকেন। পদ্মা সেতু ব্যবহারে এ যাত্রা আরও সহজ হয়েছে।

তবে দুই পারের ইমিগ্রেশন, কাস্টমস ও বন্দর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে ভুক্তভোগী যাত্রীদের, রয়েছে দালাল চক্রের কবলে পড়ে পাসপোর্টধারীদের ছিনতাই ও প্রতারণার ঘটনা। এসব বিষয় বিভিন্ন সময় পাসপোর্টধারীরা প্রতিবাদ জানালেও প্রতিকার মেলেনি। বেনাপোল ও ভারত ইমিগ্রেশনের কার্যক্রম সারতে একজন যাত্রীতে রোদ, বৃষ্টি ও মশার কামড় উপেক্ষা করে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অথচ যাত্রী সেবার নামে বন্দর ৫৫ টাকা, সোনালী ব্যাংক ১০০০ টাকা আদায় করে। এছাড়া ভিসা প্রদানের জন্য ভারতীয় দূতাবাস ৮৪০ টাকা প্রতিজনে জমা নেয়।

বেনাপোল আমদানি, রফতানি সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, বেশি হয়রানির শিকার হতে হয় ভারত অংশে। বিভিন্ন বৈঠকে যাত্রী সেবা বাড়াতে অনুরোধ জানালেও কাঙ্ক্ষিত সেবা মেলেনি।

পাসপোর্টধারী রতন সরকার জানান, ভ্রমণ কর বাড়লেও সেবা বাড়েনি। রোদ, বৃষ্টি মাথায় নিয়ে ৬ ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়াতে হয়।

অপর এক পাসপোর্টধারী পলাশ জানান, পদ্মা সেতুর সুবিধায় ঢাকা থেকে ৫ ঘণ্টায় বেনাপোল আসা যায়। তবে বন্দর ভোর সাড়ে ৬টার পর খোলায় দুর্ভোগ রয়ে গেছে।

বেনাপোল পরিচালক রেজাউল করিম জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছরের চেয়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যাত্রী যাতায়াতের পরিমাণ বেড়েছে। যাত্রীদের দালালদের থেকে সাবধান থাকতে বলা হয়েছে। যাত্রী সুবিধা বাড়াতে বন্দরে প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের জায়গা অধিগ্রহণের কাজ চলমান চয়েছে। ভারত অংশেও তাদের সেবা বাড়াতে বলা হয়েছে।

;