চার বছরের উন্নয়নের গল্প শোনালেন মেয়র তাপস



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দায়িত্বভার গ্রহণের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে বিগত দিনে ১২'শ কোটি টাকার অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

রোববার (১৯ মে) নগর ভবনে 'উন্নত ঢাকার উন্নয়ন অগ্রযাত্রার ৪ বছর' প্রতিপাদ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বিগত ৪ বছরের সামগ্রীক কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন।

শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, করোনা মহামারী সংকটকালে আমি দায়িত্বভার গ্রহণ করি। সিটি করপোরেশনের উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রায় সকল ক্ষেত্রে আমরা পরিবর্তন আনতে সক্ষম হই। বাসযোগ্য ঢাকা বিনির্মাণে বিগত চার বছরে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন খাতে বিদ্যমান অনিয়ম-দুর্নীতি দূর করে সুশাসন নিশ্চিত, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন সাধন, আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলসহ মাণ্ডা, শ্যামপুর, জিরানি ও কালুনগর খাল পুনরুদ্ধার ও নান্দনিক পরিবেশ সৃষ্টিতে উদ্যোগ গ্রহণ, বছরব্যাপী সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন, ঢাকার সচলতা আনয়নে বহুমাত্রিক উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, দশকের পর দশক ধরে চলা দখল সাম্রাজ্যের অবসান ঘটানো, প্রতিটি ওয়ার্ডে খেলার মাঠ-উদ্যান-কাঁচাবাজার, গণশৌচাগার প্রতিষ্ঠা, জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন এবং সর্বোপরি ঢাকার ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে ঢাকাকে বিশ্বের বুকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে নানাবিধ কর্মকাণ্ড পরিচালন ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং তা অব্যাহতভাবে চলমান রয়েছে।

সিটি করপোরেশনের আয় বৃদ্ধিসহ নিজস্ব অর্থায়নে অবকাঠামো নির্মাণ:

বিগত ৪ বছরে কোনো খাতে কোনো ধরনের কর বৃদ্ধি করা হয়নি জানিয়ে মেয়র বলেন, নির্বাচনের পর আমি ঢাকাবাসীর ওপর কোনো রকমের করের বোঝা না চাপিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিগত ৪ বছরে আমরা কোনো খাতে কর বৃদ্ধি করিনি। বরং এ সময়ে ২৫টি নতুন খাত সৃষ্টি করা হয়েছে এবং ১৪টি নতুন খাত হতে আমরা রাজস্ব আদায় শুরু করেছি। ফলে করোনা মহামারীর মতো বৈশ্বিক সংকটের মাঝেও রাজস্ব আদায়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ইতিহাস সৃষ্টি করে চলেছে, যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

তিনি বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে করপোরেশনের রাজস্ব আদায় ছিল মাত্র ৫১৩ দশমিক ৯৬ কোটি টাকা, যা ২০২০-২১, ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরে বেড়ে যথাক্রমে ৭০৩ দশমিক ৩১ কোটি, ৮৭৯ দশমিক ৬৫ কোটি ও ১০৩১ দশমিক ৯৭ কোটি টাকা হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থ বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত যে রাজস্ব আদায় হয়েছে তা আগের অর্থবছরের তুলনায় ৫৪ কোটি টাকা বেশি।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সফলতা:

বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সফলতা তুলে ধরে মেয়র তাপস বলেন, এক সময় ঢাকা শহরের অলিগলি হতে শুরু করে মূল সড়ক পর্যন্ত সর্বত্রই যত্রতত্র উপছে পড়া বর্জ্যে সয়লাব ছিল। কিন্তু বিগত ৪ বছরে আমরা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে আমূল পরিবর্তন সাধন করেছি। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আধুনিকায়নে অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র অন্যতম একটি অনুষঙ্গ। কিন্তু বিগত ৫০ বছরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় মাত্র ২৪টি অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু আমি দায়িত্ব নেবার পর বিগত ৪ বছরে নতুন ৪১টি অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র নির্মাণ করেছি। বাকী ওয়ার্ডগুলোতেও অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কন্দ্রে নির্মাণে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা হয়েছে জানিয়ে মেয়র তাপস বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আধুনিকায়নে বিগত ৪ বছরে নতুন ২৫টি ডাম্প ট্রাক ক্রয়, প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহকারী নিবন্ধন (PCSP), পুরাতন ৫টি অঞ্চলে চিকিৎসা-বর্জ্য সংগ্রহকারী নিবন্ধন করেছি। নতুন ৫টি অঞ্চলে চিকিৎসা বর্জ্য সংগ্রহকারী নিবন্ধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সর্বোপরি সূচি অনুযায়ী নিয়মিতভাবে বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ঝাড় দেওয়া ও রাতের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্র হতে মাতুয়াইল কেন্দ্রীয় ভাগাড়ে বর্জ্য স্থানান্তর নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ১৫টি ডাম্প ট্রাক ও ১০টি পে- লোডার ক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে, সামষ্টিকভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে আধুনিকায়ন নিশ্চিত হয়েছে। এতে করে শহরের সৌন্দর্য যেমন বেড়েছে তেমনি নগরবাসীকে এখন আর যত্রতত্র উপচে পড়া বর্জ্যের উৎকট গন্ধ পথ চলতে হয় না।

নগর বাসীর জন্য বিগত ৪ বছরে ১০্টি উন্মুক্ত উদ্যান ও ১১টি খেলার মাঠা সংষ্কারের করা হয়েছে উল্লেখ করে মেয়র বলেন, খেলাধুলার জন্য পর্যাপ্ত মাঠ ও গণপরিসর সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে ১টি করে খেলার মাঠ বা উদ্যান প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিগত ৪ বছরে ১১টি খেলার মাঠ সংস্কার ও প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ৫টি ওয়ার্ডে নতুন খেলার মাঠ প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বিগত ৪ বছরে ১০টি উদ্যান প্রতিষ্ঠা করে তা জনগণের জন্য অবমুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এবং ৪টি মুক্তাঙ্গন উদ্যান প্রতিষ্ঠার কাজ চলমান রয়েছে। 

ওয়ার্ডভিত্তিক উন্নয়ন কার্যক্রম:

প্রতিটি ওয়ার্ডে সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র, গণশৌচাগার ও কাঁচাবাজার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে জানিয়ে মেয়র বলেন, বিগত ৪ বছরে ৩টি সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্রের সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে ও ৬টি সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ১৫টি ওয়ার্ডে নতুন সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে এবং ৩৩টি ওয়ার্ডে নতুন সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মজীবী মানুষ বিশেষ করে নারীদের সুবিধার্থে প্রতিটি ওয়ার্ডে ন্যূনতম একটি করে গণশৌচাগার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। তারই ধারাবাহিকতায় বিগত ৪ বছরে ৩৬টি গণশৌচাগার নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে।

মেয়র বলেন, বর্তমানে ৫টি নতুন কাঁচাবাজার নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে এবং ৪টি ওয়ার্ডে নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ২টি কাঁচাবাজারের উর্ধ্বমূখী সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজ সমাপ্ত হয়েছে এবং ২টি কাঁচাবাজারের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও সংস্কার কাজের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

মশা নিয়ন্ত্রণে যা করেছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন :

সারা বছর মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় জানিয়ে মেয়র বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ঢেলে সাজাতে আমরা সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেই। সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে ২০২০ সালের ৬ জুন আমরা বছরব্যাপী সমন্বিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করি। বর্তমানে সূচি অনুযায়ী সারাবছরই আমরা এই কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছি।

মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বেগবান করতে আমরা নতুন মশককর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে জানিয়ে মেয়র বলেন, পূর্বে ৪২৪ জন মশককর্মী এই কার্যক্রম পরিচালনা করতো। বর্তমানে ১ হাজার ৫০ জন মশককর্মী ও মশক সুপারভাইজার নিয়মিতভাবে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। একইসাথে আমরা প্রয়োজনীয় যান-যন্ত্রপাতিও বৃদ্ধি করেছি।

তিনি বলেন, আমার দায়িত্বভার গ্রহণের পূর্বে ৫৫১টি ফগার মেশিন, ৪৩১টি হস্তচালিত মেশিন ও ১৭টি হুইলব্যারো মেশিন দিয়ে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো। বিগত ৪ বছরে আমরা নতুন আরো ৫৩৫টি ফগার মেশিন, ৬০০টি হস্তচালিত মেশিন ও ২৯টি হুইলব্যারো মেশিন ক্রয় করেছি।

তিনি বলেন, পাশাপাশি কোন ওয়ার্ডে সপ্তাহে ১০ জনের বেশি ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত হলে সে ওয়ার্ডকে লাল চিহ্নিত এলাকা (রেড জোন) ঘোষণা করে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। করপোরেশনের ১০টি অঞ্চলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে।

মেয়র বলেন, গত বছরের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত আমরা ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ৯ হাজার ৭৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী পেয়েছি। তখন সারাদেশে রোগী ছিল ২ লাখ ৭১ হাজার ১৭৫ জন। যা সারাদেশের মোট রোগীর মাত্র ৩ দশমিক ৬০ শতাংশ। ফলে সফলতার সাথে আমরা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়েছি।

মেয়র আরও বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে যে কর্মপরিকল্পনা রয়েছে সেটি ২০০০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কেউই এরকম পরিকল্পনার উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। কিন্তু আমরা সেটি করেছি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের কর্মপরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করার জন্য এক হাজারেরও অধিক জনবল থাকা প্রয়োজন সেটি আমার রয়েছে। এই কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে প্রতিটি ওয়ার্ডে সকালে সাতজন এবং বিকেলে ছয়জন মশক-কর্মী গিয়ে যেখানে মশা বেশি থাকতো সেখানে ওষুধ ছিটাতো। প্রত্যেকটা ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর বাসায় আমার মশক-কর্মীরা গিয়েছে।

আগে কীটনাশকের মান নিয়ে কথা আসলেও এখন কিন্তু কীটনাশক নিয়ে আর কোনো কথা শোনা যায় না। আমরা কীটনাশকের মান ধরে রেখেছি। আমাদের সুশাসন নিশ্চিত হয়েছে বলেও জানান ডিএসসিসি মেয়র।

বরিশালে উচ্চ শব্দে হর্ণ বাজিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কিশোররা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরিশাল
বরিশালে উচ্চ শব্দে হর্ণ বাজিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কিশোররা

বরিশালে উচ্চ শব্দে হর্ণ বাজিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কিশোররা

  • Font increase
  • Font Decrease

বরিশালে অপ্রাপ্তবয়ষ্ক মোটরবাইক চালকদের মাঝে বেড়েছে উচ্চ শব্দের হলার (সাইলেন্সার/হর্ণ) ব্যবহারের প্রবণতা। বরিশাল নগরীর প্রতিটি স্থান থেকে উচ্চ গতিতে হলার থেকে নির্গত কান ফাটানো শব্দ করে দিনে-রাতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তারা। এর সাথে রয়েছে হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহারের প্রবণতা। এসব মোটরসাইকেল চালকদের প্রায় সবাই বরিশালের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া কিশোর শিক্ষার্থী।

পূর্বে বরিশালে এমন মোডিফাইড বাইকের সংখ্যা হাতেগোনা থাকলেও এখন সেই সংখ্যা বেড়েছে কয়েক গুন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ২ থেকে প্রায় ৬ লাখ টাকা দামের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বাইকগুলোকে মোডিফাই করে পরিণত করা হচ্ছে এমন অস্বস্তিকর যানবাহনে। ফলল বেপরোয়া চলাচলে সৃষ্ট উচ্চ শব্দে এক রকম অতিষ্ঠ নগরীর পথচারীসহ অন্যান্য যান চালকরা।

শুধুমাত্র নিজেকে অন্যের থেকে আলাদা আর শুধুমাত্র শখের বশে দামি মোটরবাইকটির ক্ষতি করে এমন উচ্চ শব্দের বাইকে রুপান্তর করার কথা স্বীকার করেছে একাধিক কিশোর। এজন্য তারা মোটা অংকের টাকাও খরচ করছে। অন্যদিকে স্বাভাবিকভাবে শব্দ দূষণের ভয়ঙ্কর মাত্রায় থাকা বরিশালে এই বাইকগুলো এখন চরম বিরক্তির যানবাহন, যা বাড়াচ্ছে শিশু থেকে বৃদ্ধ বয়সের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি। 


ট্রাফিক আইন অনুযায়ী এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই এদের নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রয়োগের দাবি সচেতন মহলের।

বরিশালের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় প্রতিদিন দেখা যাচ্ছে এমন বাইকগুলো। শুক্রবার (১২ জুলাই) বরিশাল নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকা থেকে ইয়ামাহা এমটি ব্র্যান্ডের একটি মোটরবাইকে হলার লাগিয়ে যেতে দেখা যায় এক কিশোরকে। সে নিজেকে বরিশাল নগরীর একটি কলেজের এইচএসসি প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী বলে জানায়।

সিয়াম নামের ওই কিশোর বলেন, এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফল করায় তাকে পরিবার থেকে বাইকটি দেওয়া হয়েছে। নিজের বাইকটিকে স্বতন্ত্র বানাতে মূলত হলারটি লাগিয়েছে ৮ হাজার টাকা খরচ করে। ঢাকায় তার বন্ধুদের দেখে এটি মডিফাই করেছে। এমন হলারের মূল্য ৫০ হাজার টাকার ওপরেও রয়েছে। বর্তমানে এটি স্টাইল ও ট্রেন্ড বলে জানায় সিয়াম। 

নগরীর প্রায় সব মোটরমেকানিক এই মোডিফাই করতে পারে। সে হলার লাগিয়েছে তবে অনেকেই উচ্চ শব্দের মোডিফিকেশনের জন্য নিজেদের বাইকের সাইলেন্সার পাইপটি কেটেও ফেলে। 

সিয়াম জানায়, সে যখন বাইক নিয়ে যায় অনেক সময় পথচারীরা গালাগাল করে। তবে তাতে কিছু যায় আসে না। শুধু ট্রাফিক পুলিশের চোখ এড়িয়ে চলতে হয়।

ভাটারখাল এলাকার মোটর সাইকেল মেকানিক জসিম জানান, আগে খুঁজেও এমন মোটরসাইকেল দেখা যেত না। এখন হলার লাগানোসহ নানা উপায়ে বাইকের শব্দ বাড়ানোর স্টাইল শুরু হয়েছে। গত ২ বছরে বরিশালে এমন বাইকের সংখ্যা লক্ষণীয় পর্যায়ে বেড়েছে। কেউ টাকা খরচ করে এটি করে, কেউ আবার বিনা পয়সায় কেটে ফেলে নিজের দামি বাইকের সাইলেন্সরটি। এতে বাইক চালালে স্বাভাবিক শব্দই বের হয় বিকট আকারে। টাকার হোক বা বিনে পয়সা, দুই ক্ষেত্রেই এমন মডিফিকেশনে বাইকের ক্ষতি হয় বলে জানান তিনি। এতে তেল খরচ বাড়ে, দীর্ঘদিন এমন অবস্থায় চলা বাইকের ইঞ্জিনে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। এখন যার বাইক সে যদি ক্ষতির পরেও এমন মডিফাই করে তবে সে ক্ষেত্রে বলার কিছুই নেই।

বিকট শব্দে বিরক্ত আফরোজা আক্তার নামের এক নারী পথচারী বলেন, দিনে-রাতে যে কোনো সময় এমন বিকট শব্দের বাইকগুলো চলাচল করে। বরিশাল নগরীর হাসপাতাল রোডে একটি ভবনের ৪ তলায় বসবাস করেন তিনি। রয়েছে ২ বছরের এক সন্তান। প্রায়ই সড়ক দিয়ে বিকট শব্দে যায় এই বাইকগুলো। ৪ তলা বাসায় থেকেও হলারের শব্দে আতকে উঠতে হয়। প্রতিদিন একাধিকবার ভয় পায় তার সন্তান।

ষাটোর্ধ্ব রিকশাচালক আব্দুস সোবাহান বলেন, সারাদিন চারপাশ দিয়ে বেপরোয়াভাবে এমন অনেক মোটরসাইকেল যায়। অনেক সময় এত জোরে শব্দ হয় যে প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করে। এদের বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, হাসপাতাল সরকার ঘোষিত নীরব এলাকা হলেও সড়কে উচ্চ শব্দে গাড়ি চলাচল করে সব সময়ই। গাড়ির হর্ণ অতিষ্ঠ করে তোলে। এরমধ্যে আবার এই মোটবাইকগুলো করে বাড়তি সমস্যা। কেউই নির্দেশনা মেনে চলে না। যে কারণে আমাদের দায়িত্ব পালনেও সমস্যা হয়।

তিনি বলেন, দূষিত শব্দের মধ্যে বেশিক্ষণ থাকলে মানুষের শ্রবণ ও দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া অপ্রস্তুত অবস্থায় খুব কাছাকাছি এমন শব্দে কানের তালা ফাটতে পারে। এছাড়া দুর্বল হৃদয়ের মানুষের জন্য এটি বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

পরিবেশ অধিদফতরের বিভাগীয় কার্যালয়ের সিনিয়র ক্যামিস্ট গোলাম কিবরিয়া বলেন, এমনিতেই বরিশাল নগরীর সবগুলো স্থানে অতিরিক্ত মাত্রায় শব্দ। গাড়িগুলোতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহৃত হচ্ছে। মাত্রাতিরিক্ত শব্দ খুবই খারাপ আমাদের মস্তিষ্কের জন্য। শব্দ দূষণ মানবদেহে ধীরে ধীরে শ্রবণ, মস্তিষ্ক, দৃষ্টিশক্তিসহ আরও অনেক ক্ষতি করছে। দূষণ রোধে প্রতিমাসে পরিবেশ অধিদফতর মোবাইল কোর্ট চালায়। কিন্তু তাতেও নিয়ন্ত্রণ হয় না।

বরিশাল মেট্রোপলিটন ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এসএম তানভীর আরাফাত জানান, সড়কে সব ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ট্রাফিক বিভাগ সর্বদা সচেতন রয়েছে। এই ধরনের বাইকের হলার, উচ্চ শব্দের হর্ণ লাগানো বেশ গুরুতর একটি অপরাধ। ধরা পড়লেই এদের জরিমানা করা হয়। এমন বাইকারদের নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও কঠোর হবে ট্রাফিক বিভাগ। এ সংক্রান্ত নির্ধারিত আইনের ধারা-৮৮ মোতাবেক নির্ধারিত শব্দমাত্রার অতিরিক্ত উচ্চমাত্রার কোনরূপ শব্দ সৃষ্টি বা হর্ণ বাজানো বা কোনো যন্ত্র, যন্ত্রাংশ বা হর্ণ মোটরযানের স্থাপন সংক্রান্ত ৪৫ এর বিধান লঙ্ঘন করলে অনধিক ৫ হাজার টাকা জরিমানাসহ অনধিক ১ বছর দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।

;

কৃষকের দুই বিঘার মরিচ গাছ কাটলো দুর্বৃত্তরা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
দুর্বৃত্তদের কাটা মরিচ গাছ হাতে নিয়ে দেখাচ্ছেন কৃষক উজ্জ্বল খান

দুর্বৃত্তদের কাটা মরিচ গাছ হাতে নিয়ে দেখাচ্ছেন কৃষক উজ্জ্বল খান

  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়ার মিরপুরে রাতের আঁধারে দুই বিঘা জমির মরিচ গাছ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) গভীর রাতে মিরপুর উপজেলার ছাতিয়ান ইউনিয়নের ধলসা-আটিগ্রাম মাঠে ধলসা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে উজ্জ্বল খানের দুই বিঘা জমির মরিচ খেত কেটে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

মরিচ চাষি উজ্জ্বল খানের পিতা মোহাম্মদ আলী জানান, আমরা কৃষক, কৃষিকাজ করে আমরা জীবিকা নির্বাহ করি। আমার ছেলে উজ্জ্বল খান ধলসা-আটিগ্রাম মাঠে আমাদের ২ বিঘা জমিতে মরিচের চাষ করে। প্রতিদিনের ন্যায় বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে আমার ছেলে উক্ত মরিচের জমিতে গিয়ে মরিচ দেখভাল করে বাড়িতে চলে আসে। পরবর্তীতে শুক্রবার (১২ জুলাই) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৫টার সময় আমার ছেলে তার উক্ত মরিচের জমি দেখভাল করার জন্য সেখানে গেলে দেখতে পায়, ২ বিঘা জমির প্রায় সকল মরিচের গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এতে আমার ছেলের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই লাখ ত্রিশ হাজার টাকা। পরবর্তীতে আমার ছেলে অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমার ছেলের পক্ষে আমি নিজে থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেছি।

এ বিষয়ে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা হাবিবুল্লাহ বলেন, মরিচ গাছ কাটার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

;

রাজধানীসহ যেসব অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টির আশঙ্কা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
আজ মুষলধারে বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে/ছবি: বার্তা২৪.কম

আজ মুষলধারে বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে গেছে/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীতে আজ সকাল থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি হয়েছে। ঝুম বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা। অফিস-আদালত বন্ধ থাকলেও বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এমন অবস্থায় দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। 

শুক্রবার (১২ জুলাই) রাতে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেয়া এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, আগামীকাল (১৩ জুলাই) সকাল ৯টার মধ্যে দেশের বেশ কিছু অঞ্চলে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও হতে পারে অতি ভারি বর্ষণও। এর মধ্যে ঢাকাসহ ১৩ জেলার ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

এতে আরও বলা হয়, রংপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট জেলার ওপর ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেইসঙ্গে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিসের অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এ সময় রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।

দেশের বিভিন্ন স্থানে ঝড়বৃষ্টি ও ভারী বর্ষণের প্রবণতা সোমবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। 

তবে বর্ধিত ৫ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

;

নওগাঁয় নদীতে ভাসছিল অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নওগাঁ
ছবি: নওগাঁর পোরশা উপজেলার পুনর্ভবা নদী টেকঠা

ছবি: নওগাঁর পোরশা উপজেলার পুনর্ভবা নদী টেকঠা

  • Font increase
  • Font Decrease

নওগাঁর পোরশা উপজেলার পুনর্ভবা নদী টেকঠা ঘাট এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে পোরশা থানা পুলিশ।

শুক্রবার (১২ জুলাই) বিকালের দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা ভাসমান লাশটি দেখতে পেয়ে থানায় খবর দিলে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পোরশা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিয়ার রহমান বলেন, স্থানীয়রা খবর দিলে বিকেল ৪টার দিকে আমরা সেখানে দ্রুত চলে যাই এবং লাশটি উদ্ধার করি তবে অজ্ঞাত ওই লাশটি পঁচা অবস্থায় ছিলে এজন্য সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। লাশটি মর্গে পাঠানো হয়েছে। লাশটির পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে এরপরে মৃত্যুর কারণ বলা যাবে।

;