ডিএমপির ইন্টিলিজেন্স পুলিশিং বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে ও পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে ইন্টিলিজেন্স ভিত্তিক পুলিশিং বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রশিক্ষণ কর্মশালাটির উদ্বোধন করেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এ্যাডমিন) এ কে এম হাফিজ আক্তার। 

গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপ (জিআরএসপি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপি কর্মশালাটি চলে মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) এবং বুধবার (২৪ এপ্রিল)। ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি (বিআইজিআরএস) প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে দুই দিনব্যাপি অনুষ্ঠিত কর্মশালায় মোট ৬২ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এ্যাডমিন) এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, 'ডিএমপিকে আধুনিক ও সর্বশেষ কলাকৌশল সম্পর্কে আপডেট রাখা এবং প্রশিক্ষণ দেয়া গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পুলিশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। আমি নিশ্চিত যে, এই কর্মশালা, আমাদের অফিসারদের সক্ষমতা আরও উন্নত করবে এবং ঢাকার নাগরিকদের জন্য নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার জন্য সাহায্য করবে।

জিআরএসপি’র সিনিয়র রোড পুলিশিং উপদেষ্টা রাসেল নাইমান প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি পরিচালনা করেন। যুক্তরাজ্য পুলিশের বিভিন্ন পদে ৩০ বছরের বেশি সময় কাজ করেছেন তিনি। কর্মশালায় বৈশ্বিকভাবে অনুশীলন করা ‘সেফ সিস্টেম এপ্রোচ’ অনুসারে সড়ক নিরাপত্তার ঝুঁকিসমূহ মোকাবিলায় পুলিশ সদস্যদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হয়।
এই প্রশিক্ষণের ফলে পুলিশ কর্মকর্তারা আন্তর্জাতিক ও জাতীয় রোড পুলিশিং কৌশলগুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছেন এবং সড়ক নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট আইনসমূহ আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করার মাধ্যমে সড়ক-সংঘর্ষজনিত মৃত্যু ও হতাহত কমাতে সক্ষম হবেন।

কর্মশালা প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে রাসেল নাইমান বলেন, 'এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পুলিশ অফিসারদের সক্ষমতা বাড়বে। তারা তথ্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং সড়কে মৃত্যু হ্রাসে যথাযথ ভূমিকা নিতে পারবে।

   

হাওর অঞ্চলে আবাসিক স্কুল নির্মাণের পরামর্শ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
সংসদীয় কমিটির বৈঠক

সংসদীয় কমিটির বৈঠক

  • Font increase
  • Font Decrease

সারাদেশে সমানভাবে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য হাওর অঞ্চলে আবাসিক স্কুল নির্মাণ এবং প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতিসমূহ যথা সময়ে বাস্তবায়ন করার জন্য সুপারিশ করেছে সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি।

মঙ্গলবার (২১ মে) দুপুরে সংসদ ভবনে সরকারি প্রতিশ্রুতি সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই সুপারিশ করা হয়। মুহিবুর রহমান মানিকের সভাপতিত্ব বৈঠকে মো. মুজিবুল হক, কামাল আহমেদ মজুমদার, মুহম্মদ শফিকুর রহমান ও ওমর ফারুক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে যে সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন এখনও নির্মাণের আওতায় আসেনি, জরুরি ভিত্তিতে সেগুলো নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশ করা হয়।

সেই সাথে সারাদেশে সমানভাবে শিক্ষার আলো পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য অর্জনে হাওর অঞ্চলে আবাসিক স্কুল নির্মাণ এবং প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর দেওয়া প্রতিশ্রুতিসমূহ যথা সময়ে বাস্তবায়ন করার জন্য কমিটি কর্তৃক সুপারিশ করা হয়।

রাজধানীসহ সারাদেশে জনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন; বিশেষ করে পার্বত্য এলাকায় আদিবাসীদের শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে স্কুল নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মন্ত্রণালয়কে সুপারিশ করা হয়।

বৈঠকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্ট যারা শহিদ হয়েছেন এবং সম্প্রতি ইরানের রাষ্ট্রপতি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীসহ দুর্ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা ও গভীর শোক প্রকাশ করা হয়।

বৈঠকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, কারিগরি শিক্ষা ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, অধিদফতরের প্রধানগণসহ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

;

সবার সহযোগিতায় এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করতে চাই: তাপস



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস

মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারি-বেসরকারি সকল দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা এবং নগরবাসীর সহযোগিতা নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ঢাকাবাসীকে ডেঙ্গু রোগ হতে সুরক্ষিত রাখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস।

মঙ্গলবার (২১ মে) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয় নগর ভবনের মেয়র হানিফ মিলনায়তনে এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া রোগ প্রতিরোধে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ডিএসসিসি মেয়র বলেন, আমরা কারো ওপর দায়ভার চাপাতে চাই না। কোন প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে দায়ী করতে চাই না। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাই। ঢাকাবাসীকে ডেঙ্গু রোগ হতে সুরক্ষিত রাখতে আমরা সবার সহযোগিতা নিয়ে এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করতে চাই।

স্বাস্থ্য অধিদফতরকে ডেঙ্গু রোগীর সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সরবরাহ করার অনুরোধ জানিয়ে মেয়র বলেন, ডেঙ্গু রোগীর সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সরবরাহ করা হলে আমরা মাঠ পর্যায়ে আরও ফলপ্রসূ ও কার্যকর সেবা নিশ্চিত করতে পারব। যেমন, গত বছর আমাদেরকে অনেক রোগীর তথ্য দেওয়া হয়েছে কিন্তু আমরা যাচাই-বাছাই করে গত বছরের অক্টোবর পর্যন্ত ৯ হাজার ৭৬৪ জন ডেঙ্গু রোগী পেয়েছি। এছাড়াও যারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন আমাদেরকে শুধু তাদের তথ্য দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু যারা হাসপাতালের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় চলে যাচ্ছেন তাদের তথ্য দেওয়া হচ্ছে না। তাদের তথ্যও অত্যন্ত জরুরি। কারণ যিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি একটা প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন। আবার যিনি ডেঙ্গু রোগী কিন্তু বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় চলে যাচ্ছেন, তার তথ্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মেয়র এ সময় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাজউক প্রতিনিধির কাছে নির্মাণাধীন ভবনের তালিকা চেয়ে বলেন, আপনাদের কাছে নির্মাণাধীন ভবনের তালিকা থাকে।রিহ্যাবের বাইরেও অনেক ভবন নির্মাণ করা হয়। সেজন্য আপনারা যদি সেসব নির্মাণাধীন ভবনের তালিকাটা আমাদের কাছে সরবরাহ করেন, তাহলে আমরা যৌথভাবে অভিযানগুলো পরিচালনা করতে পারব।

জবাবে রাজউক পরিচালক বলেন, রাজউক আগামী ১০ দিনের মধ্যে নির্মাণাধীন ভবনের তালিকা সরবরাহ করা হবে।

অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদফতরের প্রতিনিধিকে ডিএসসিসি মেয়র বলেন, আমরা গতবারের ন্যায় এবারও আমাদের আওতাধীন এলাকার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ একবার পরিষ্কার করে দিবো। কিন্তু পরবর্তীতে যদি আপনারা সপ্তাহে একদিন শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার ব্যবস্থা করেন তাহলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও সহজ হবে। এতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন সচেতনতা সৃষ্টি হবে তেমনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণও নিরাপদ থাকবে।

অনুষ্ঠানে রিহ্যাব প্রতিনিধি জানান, এখন থেকে করপোরেশনের অভিযানকালে রিহ্যাব থেকে প্রতিনিধি দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, ঢাকা বিভাগের ডিআইজি প্রিজন মো. আলতাব হোসাইন, করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ফজলে শামসুল কবির, বর্ডার গার্ড হাসপাতাল ঢাকার পরিচালক লে. কর্ণেল শফিউল আশরাফ রুবেল, রাজউক পরিচালক শামসুল হক, ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের পরিচালক মো. হাফিজ আহমেদ, বাংলাদেশ বেতারের উপ-পরিচালক মাহফুজুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ঢাকা ওয়াসা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে, মাউশিসহ সংশ্লিষ্ট অংশীদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

;

রংপুরে অসময়ে তিস্তায় ভাঙন: নির্ঘুম রাত কাটে গ্রামবাসীর



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুর
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

অসময়ে রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে নদী তীরবর্তী গদাই, পাঞ্জরভাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দাদের।

ইতোমধ্যে, নদীভাঙনে কাউনিয়ার বালাপাড়া ইউনিয়নের গদাই পাঞ্জরভাঙ্গা, গ্রামের বেশকিছু বসতভিটা ও ১শ হেক্টর ফসলি জমি আর গাছপালা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

জানা গেছে, তিস্তা নদীর ভাঙনের মুখে পড়ে শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে অনেকেই রাস্তার ধারে অথবা অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছেন। নদীতে তেমন পানি নেই অথচ অসময়ে শুরু হয়েছে ভাঙন।

অসহায় এলাকাবাসীর দাবি, ত্রাণ নয়, নদীভাঙন থেকে তাদের বাপ-দাদার রেখে যাওয়া শেষ সম্বল বাড়ি-ভিটা রক্ষা করার। তবে তাদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেও কোনো ফল পাচ্ছেন না।

জানা যায়, কাউনিয়া উপজেলার গদাই, পাঞ্চরভাঙ্গা, চর ঢুষমারা, আরাজী হরিশ্বর, চর হয়বৎখাঁ, চরগনাই, তালুকশাহাবজ, নিজপাড়াসহ নদী তীরবর্তী গ্রামের হাজার হাজার পরিবার ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। গত দুই সপ্তাহে তিস্তার করাল গ্রাসে পাঞ্চরভাঙ্গা গ্রামের কয়েকটি বসতভিটা ও কয়েকশ বিঘা ফসলি জমি, বাঁশঝাড়, গাছপালা ও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

বর্তমানে ভাঙন আতঙ্কে আছেন আজিজুল, হাফেজ, শুরুজ আলি, তারা মিয়া, বাবুল, শহিদুল, রাজ্জাক, ফুল মিয়া, আলেফ, শাহিন, মোস্তাক, আমজাদ, ওসমান, রফিকুলসহ আরো অনেকেই।

ভাঙনের খবর পেয়ে বুধবার (১৫ মে) পরিদর্শনে আসেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী রংপুর, মো. আহসান হাবীব, ও উপবিভাগীয় প্রকৌশলী, রংপুর মো. আখিনুজ্জামান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বালাপাড়া ইউপি সদস্য মো. শাহ আলম, মো. আনোয়ার হোসেনসহ গ্রামের শত শত মানুষ।

পরিদর্শন শেষে প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীব বলেন, ১শ ৯০ মিটার পাড় টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ চলমান। সেখানকার যায়গা ভালো আছে। বাকি জায়গায় জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে জিও ব্যাগ বরাদ্দ এনে ভাঙনের গতিপথ কমানোর চেষ্টা করবো।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহিদুল হক জানান, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ভাঙন রোধে যা যা করণীয়, সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

;

নেত্রকোনা জনস্বাস্থ্য নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগ



অভিজিত রায় কৌশিক, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দুর্নীতির মহোৎসব চলছে নেত্রকোনার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ে। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও জালিয়াতি, ব্যাংকের মাধ্যমে ঘুষ নেওয়া, ঠিকাদারদের মাধ্যমে বাড়ি নির্মাণ করিয়ে নেওয়ার অভিযোগের পর সম্প্রতি উঠেছে টেন্ডার জালিয়াতির অভিযোগও। অভিযোগের কেন্দ্রে নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমানের নাম। আর প্রধান প্রকৌশলী তুষার মোহন সাধু খাঁ দেখেও করছেন, না দেখার ভান। সূত্র জানাচ্ছে এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ গেছে।

টেন্ডার জালিয়াতির বিষয়ে মন্ত্রণালয় বরাবর লিখিত একটি অভিযোগ জমা পড়েছে এমনটা নিশ্চিত করে সূত্র জানায়, অভিযোগপত্রে, কাজ না করে অর্থ আত্মসাৎ, টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে ঘুষ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। ঠিকাদারদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জামালপুরে বাড়ি নির্মাণ করছেন এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগও রয়েছে মশিউরের বিরুদ্ধে।

তবে সব অভিযোগ ছাপিয়ে বড় অভিযোগ হিসেবে সামনে এসেছে টেন্ডার জালিয়াতি প্রসঙ্গ। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে জমাকৃত লিখিত অভিযোগে বলা হয়, নেত্রকোণা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ডিপ টিউবওয়েল বসানোর প্রকল্পে এই জালিয়াতি করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান। প্রকল্পের নাম- Installation of 10 Nos 100 mm x 38 mm Deep Tubewell with Submersible Pump at Different Upazilas of Netmkona Distries under revenue budget)।

বলা হয়েছে, একই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে অন্যত্র ১০ লাখ টাকা ব্যয় হয়, সেখানে এই নির্বাহী প্রকৌশলী খরচ দেখাচ্ছেন ১৫ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।

এছাড়া মেসার্স সানি ট্রেডার্স (মি. শফিক) নামে তিনি ভুয়া সার্টিফিকেট দাখিল করেছেন। অভিযোগ মশিউর রহমান ও শফিক যৌথভাবে ভুয়া সনদ তৈরি করেন। যা কলমের খোঁচায় সঠিক বলে প্রত্যয়ন করেন নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর নিজেই। ই-জিপি সিস্টেমে তা আপলোড করেন এবং মেসার্স সানি ট্রেডার্স (মি. শফিক) এর নামে মূল্যায়ন প্রতিবেদন পাঠান।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, বিষয়টি তত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে অবহিত করা হলেও মশিউর রহমান মূল্যায়ন প্রতিবেদনটি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি প্রধান প্রকৌশলীর কাছে পাঠিয়ে দেন। একে অপরাধ ও প্রতারণামূলক উল্লেখ করে বলা হয়, এমন দুর্নীতি গোটা সিস্টেমকে কলুষিত করছে।

অভিযোগপত্রের সঙ্গে জাল সার্টিফিকেটের কপি সংযুক্ত করা হয়। সনদপত্রে দেখানো হয়েছে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে সারাদেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পে ৫৩টি টিএসপির কাজ করেছে মেসার্স সানি ট্রেডার্স (মি. শফিক)। অথচ সারাদেশে নিরাপদ পানি সরবারাহ প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০১৯-২০ অর্থবছরে। তার মানে প্রকল্প শুরু হবার আগেই এই কাজ করা হয়েছে। যা মিথ্যা। ঠিকাদার ও নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান মিলে কাগজপত্র জাল করেছেন, যা পিপিআর-২০০৮ এর বিধি ১২৭ অনুযায়ী মারাত্মক ধরনের পেশাগত অসদাচরণ এবং উপবিধি ৮ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এছাড়াও এই অভিযোগপত্রে বিভিন্ন ধরনের তথ্য প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে, অভিযোগ উঠেছে প্রধান প্রকৌশলী তুষার মোহন সাধু খাঁ বিষয়টি সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত রয়েছেন। তার নিয়ন্ত্রণাধীন প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়ে জেনেও কোন ধরনের ব্যবস্থা না নেওয়ায় অভিযোগ উঠছে তিনি নিজেও জড়িত থাকতে পারেন এই দুর্নীতির সঙ্গে।

এসব অভিযোগে বিষয়ে জানতে জনস্বাস্থ্যের তুষার মোহন সাধু খাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন এই প্রতিবেদক। ভিন্ন ভিন্ন নম্বর থেকে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি কোনো ফোনকলই রিসিভ করেননি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগের বিষয় জানিয়ে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কোন ধরনের উত্তর দেননি।

এ বিষয়ে অবগত আছেন কিনা জানতে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মুহম্মদ ইব্রাহীমকে মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলে তিনিও রিসিভ করেননি।

এর আগে, বার্তা ২৪.কমে নেত্রকোনা জেলার জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান এর দূর্নীতি নিয়ে ‘জনস্বাস্থ্যের ‘রাঘববোয়াল’ মশিউর, টেন্ডার দিতে ব্যাংকের মাধ্যমে ঘুষ নিয়েও প্রতারণার অভিযোগ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

প্রতিবেদনে নেত্রকোনার মদন ও খালিয়াকুরী উপজেলার ৩০টি ওয়াশব্লক মেরামত কাজের টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বুয়েট শাখার সোনালী ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ঘুষ বাবদ ৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগের তথ্য উঠে আসে। এছাড়া টাকা নিয়েও কাজ না দিলে সেই টাকা ফেরত চাইলে ঘুষদাতার ওপর চড়াও হন তিনি।

সেবারও চিফ ইঞ্জিনিয়ার বরাবর অভিযোগ গেলে মশিউর দম্ভ করে বলেন, যা খুশি কর, ওইসব চিফ ইঞ্জিনিয়ার আমার কিছুই করতে পারবে না।

এছাড়াও কলমাকান্দাতে হাওর প্রকল্পের ৫০টি নলকূপ বসানোর কাজ না করেই বিল উত্তোলনসহ ঠিকাদারদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জামালপুরে বাড়ি নির্মাণ করা ও বিভিন্ন কারণে স্টাফ এবং ঠিকাদারদের সাথে দুর্ব্যবহার, অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল ও প্রাণে মারার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউরের বিরুদ্ধে।

সে সময় অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মশিউর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, এসব অভিযোগ ভুয়া। যে অভিযোগ করেছে ওই নামের কাউকে আমি চিনিও না, জানিওনা।

ব্যাংকের মাধ্যমে আপনার অ্যাকাউন্টে যে টাকা দেওয়া হয়েছে তার রশিদ অভিযোগপত্রে সংযুক্ত রয়েছে, আপনি যদি তাকে না চেনেন, তাহলে আপনার অ্যাকাউন্টে অপরিচিত কেউ কেন এত টাকা দিলো, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই টাকাটা আমার স্টাফ জমা দিয়েছে। সেখানে একটা স্বাক্ষর আছে, সেটা আমার হিসাব সহকারীর। যদি সেই ঠিকাদার জমা দিতো, তাহলে তো তার স্বাক্ষর থাকতো। আমার হিসাব সহকারীর স্বাক্ষরতো আর থাকতো না।

আপনার হিসাব সহকারী বা আপনার অফিসের স্টাফ যদি টাকা জমা দেয়, তাহলে সেই টাকা জমার রশিদ কীভাবে অন্য কারো হাতে গেলো এমন প্রশ্নের জবাবে মশিউর বলেন, এটাতো আমি জানি না। এটা আমারও প্রশ্ন। কারণ ওই স্লিপটা আমার কাছেও আছে।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর অভিযোগকারী ঠিকাদার হাজী আব্দুল ওহাবের লিখিত পত্রটির কপি বার্তা২৪.কমের হাতে এসেছে। ‘নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান নগদ টাকা নিয়ে কাজ না দেওয়া প্রসঙ্গে (প্রমাণ সংযুক্ত)’ এমন শিরোনামে এই অভিযোগপত্রে তিনি লেখেন, আপনার নিকট নিবেদন এই যে, আমি নেত্রকোনা জেলার একজন তৃতীয় সারির ঠিকাদার। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরসহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে ছোট ও মাঝারি মানের কাজে অংশগ্রহণ করি। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর, নেত্রকোনার নির্বাহী প্রকৌশলী মশিউর রহমান এর কাছে কাজের কথা বললে তিনি মদন ও খালিয়াকুরী উপজেলার ৩০টি ওয়াশব্লক মেরামত কাজের প্রাক্কলন দেখিয়ে বলেন, এই কাজটি আপনাকে দিবো আপনি প্রস্তুতি নেন, ই-জিপি (E-GP) সিস্টেমে কিভাবে কাজ দিবেন এইটা বললে তিনি বলেন, ম্যানুয়াল টেন্ডার করে কোটেশন করবো। আপনি কাজটি করতে চাইলে আমাকে ৩ লাখ টাকা দিতে হবে। তিনি আমাকে সোনালী ব্যাংক, বুয়েট শাখার একটি হিসাব নম্বর ৪৪০৪০৩৪১৬৬১২৪ দেন। ওই ঠিকানায় টাকা জমা দিয়ে মূল স্লিপ তাকে দিতে বলেন। কথা অনুযায়ী গত ৩ এপ্রিল সোনালী ব্যাংক নেত্রকোনা শাখায় গিয়ে টাকা জমা দেই এবং মূল স্লিপ উনাকে জমা দিয়ে ওয়ার্কঅর্ডার দিতে বলি।

অভিযোগে হাজী আব্দুল ওহাব আরও লেখেন, উনি (মশিউর) ৮ এপ্রিল দেখা করতে বলেন। ওই তারিখে উনার কাছে গেলে বলেন, এখন একটু সমস্যা আছে মাস দুয়েক দেরি করেন। আমার অনেক কষ্টের টাকা আমি ফেরত চাইলে আমার দিকে তেড়ে আসেন এবং বলেন যা খুশি কর ওইসব চিফ ইঞ্জিনিয়ার আমার কিছুই করতে পারবে না।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের ময়মনসিংহ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল আউয়াল বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমি এ অভিযোগের বিষয়ে কিছুই জানি না। আমার কাছে কোন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে বিষয়টি দেখব।

তিনি আরও বলেন, তবে আমার মনে হয় না বিষয়টা এমন। অনেক তো দুষ্টবুদ্ধির লোক আছে! ব্যাংকের স্লিপের বিষয়টি শুনেছেন জানিয়ে বলেন, তবে তার মানে এই না যে, এই টাকাটা সে ওখান থেকে নিয়েছে। যারা ঘুষ নেয়, আমার মনে হয় তারা ব্যাংকের মাধ্যমে নেয় না, অভিমত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর।

;