সম্পত্তির জন্য আপন তিন ভাই-বোনকে হত্যা, দুইজনকে মৃত্যুদণ্ড



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামির বালুছড়া এলাকায় ২০ বছর আগে সম্পত্তির জন্য আপন তিন ভাই-বোনকে গুলি করে হত্যা মামলায় দুই জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই রায়ে তাদের দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত দুজন হলেন- আবুল কাশেম প্রকাশ ওরফে জামাই কাশেম (৭০) ও মো. ইউসুফ প্রকাশ ওরফে বাইট্যা কাশেম (৭০)।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে চট্টগ্রামের প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. কামাল হোসেন সিকদার এ রায় দেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেঞ্চ সহকারী আল আমিন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, সম্পত্তির জেরে বায়েজিদ বোস্তামি থানার দক্ষিণ পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলামের সাথে দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির দীর্ঘদিন যাবত দ্বন্দ্ব চলছিলো। ২০০৪ সালের ৩০ জুন আসামিরা মোটরসাইকেলে করে বালুছড়ার বাসায় গিয়ে সাইফুল ইসলাম, তার ভাই আলমগীর এবং বোন মিনুকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় ওই বছরের ১৯ জুলাই সাইফুল ইসলামের স্ত্রী আয়েশা আক্তার শিল্পী বাদী হয়ে বায়েজিদ বোস্তামি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বায়েজিদ থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক মো. আমিনুল ইসলাম আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে ২০০৫ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. ফয়েজ বলেন, এই মামলায় মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। আসামি কাশেম ও ইউসুফের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের দণ্ডবিধির ৩০২, ১১৪ ও ৩৪ ধারায় মৃত্যুদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ের সময় আসামি কাশেম ও ইউসুফ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানামূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

   

ফরচুনের শ্রমিকদের উপর গুলিবর্ষণে জড়িতদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ 



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, বরিশাল
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ফরচুন কারখানায় পাওনা বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকের উপর গুলিবর্ষণে জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে শনিবার (২৫ মে) সকাল ১১টায় মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখা।

এসময় আহতদের চিকিৎসা ব্যয় ও যথাযথ ক্ষতিপূরণসহ শ্রমিকদের সকল বকেয়া বেতন-বোনাস ও ওভারটাইমের সমুদয় পাওনা পরিশোধ করার দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দুলাল মল্লিক। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়কারী ডা. মনীষা চক্রবর্তী, ভোলার গ্যাস রক্ষায় নাগরিক আন্দোলনের ভোলা জেলা শাখার আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান, বাসদ গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সংগঠক অধ্যক্ষ মোশায়েদ হোসেন ঢালী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি মিজানুর রহমান সেলিম, সিপিবি ঝালকাঠি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত দাস হরি, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহ আজিজ খোকন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক শহিদুল হাওলাদার, সোনারগাঁও টেক্সটাইল শ্রমিক-কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন, বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সদস্য বেল্লাল গাজী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সুজন শিকদার প্রমুখ। 

বক্তারা বলেন, বরিশালে ফরচুন সুজ কম্পানির মালিক শ্রম আইন লঙ্ঘন করে শ্রমিকদের হকের টাকা না দিয়ে দুই মাসের বেতন বকেয়া রাখে। অথচ ক্রিকেট দলের ফ্রাঙ্কাইজ স্বত্ত্ব কিনতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেছে। ওভারটাইমের মজুরি না দিয়ে ১০-১২ ঘণ্টা খাটিয়ে মাসের পর মাস শ্রম আইন লঙ্ঘন করে শ্রমিকদের শোষণ করেছে। দুই মাস শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ না করে এক মাসের অর্ধেক মজুরি দিয়েছে।

হামলা করানোর সাথে জড়িত ফরচুনের মালিকপক্ষের ব্যক্তিদের গ্রেফতার করার দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশের কেন্দ্র শ্রমিকরা, ব্যাংক লুটেরা কারখানা মালিকরা নয়। অথচ সরকারের বিভিন্ন বাহিনী শ্রমিকদের রক্ষার পরিবর্তে শিল্প মালিকদের ভাড়াটে বাহিনীর মত নিন্দনিয় ভূমিকা পালন করছে। তারা শ্রমিকের বকেয়া বেতন ভাতা আদায় করে দেওয়ার জন্য কোনো ভূমিকা পালন না করলেও মালিকদের অন্যায় আচরণকে প্রতিষ্ঠায় শ্রমিকের উপর নির্যাতকের ভূমিকা পালন করে। নেতৃবৃন্দ, শ্রমিকের উপর গুলিবর্ষণকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি শ্রম আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। 

বক্তারা আহত শ্রমিকদের জন্য যত্থাযত্থ ক্ষতিপূরণ দাবি করেন এবং শ্রমিকদের ওভারটাইমসহ সমুদয় বকেয়া অবিলম্বে পরিশোধ করার দাবি জানান।

;

ঘূর্ণিঝড় 'রেমাল' মোকাবিলায় বরিশাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরিশাল
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় 'রেমাল' মোকাবিলায় বরিশাল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে শনিবার (২৫ মে) বেলা ১২টায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্যরাসহ জুমে সংযুক্ত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বৃন্দ। সভায় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ রেমাল মোকাবিলায় জেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার আলোচ্য বিষয়:

১. সকল ধরনের সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি সেখানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

২. পর্যাপ্ত শুকনো খাবারের পাশাপাশি পানি বিশুদ্ধ করন ঔষধ, মোমবাতি, ম্যাচ, খাবার স্যালাইন, প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ঔষধ এর ব্যবস্থা রাখা।

৩. বরিশাল জেলায় ৫৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে যেখানে মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত বহুতল ভবন, অফিস সমূহ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৪. জেলার সকল স্থানে মাইকিং ও আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য প্রচার করতে হবে।

৫. প্রাণীসম্পদ রক্ষায় গুরুত্বারোপ  করতে হবে এবং পর্যাপ্ত গোখাদ্য'র ব্যবস্থা রাখতে হবে। 

৬. সিপিপি, রেড ক্রিসেন্ট সহ সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো দুর্যোগ মোকাবিলায় সকল ধরণের প্রস্তুতি রাখতে হবে।

৭. জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হবে।

৮. বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে যাতে স্বল্প সময়ের নোটিশে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে। 

;

দেশ ছাড়া কারও প্রতি প্রেম ভালোবাসা থাকতে পারে না: হানিফ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
দেশ ছাড়া কারো প্রতি প্রেম ভালবাসা থাকতে পারে না: হানিফ

দেশ ছাড়া কারো প্রতি প্রেম ভালবাসা থাকতে পারে না: হানিফ

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশ ছাড়া আমাদের অন্য কারও প্রতি প্রেম ভালোবাসা থাকতে পারে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

শনিবার (২৫ মে) সকালে রমনার আই ই বি রমনা মিলনায়তনে বঙ্গীয় সাহিত্য-সংস্কৃতি সংসদ কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৬৩তম ও কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত "শ্রদ্ধার্ঘ সভা" অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

হানিফ বলেন, কিছু মানুষের কাজে পাকিস্তানে যে আমরা ছিলাম সে বহিঃপ্রকাশ এখনো দেখা যায়। এই স্বাধীন দেশে বাস করে এখনো তাদের মাঝে পাকিস্তান প্রেম দেখা যায়। কিছু মানুষ পাকিস্তানকে এখনো তাদের প্রেমের জায়গায় রেখেছে।

আবার কিছু মানুষের মাঝে আমাদের পাশের দেশের প্রতি এখনো প্রেমের আবেগটা রক্ষিত আছে। আমাদের দেশটাকে ভালোবাসছে কে? এত ত্যাগের বিনিময়ে আমাদের দেশ, আমাদের দেশের প্রতি টানটা কোথায়?

এসময় অনুরোধ জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে এই দেশটাকে আমরা ভালবাসি। আমাদের প্রেম, আমাদের ভালবাসা, আমাদের আবেগ সব কিছুই যেন হউক আমাদের দেশকে কেন্দ্র করে।

অনুষ্ঠানে কেপিআর (খুদে প্রতিভার রাজ্য) চিত্রশিল্পীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন হানিফ।

এ সময় বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো ভিসি অধ্যাপক মো. শাহিনুর রহমান।

;

নতুন গ্রুপের আড়ালে সদস্য সংগ্রহ করে আসছিল ইসমাইল



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের কার্যক্রম প্রায় স্তিমিত হয়ে পড়েছে। এজন্য ‘শাহাদাত’ নামে নতুন একটি গ্রুপ তৈরি করে নতুন সদস্য সংগ্রহসহ দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।

আনসার আল ইসলামের রিক্রুটিং শাখার প্রধান মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন (২৫), দুই আঞ্চলিক প্রশিক্ষক জিহাদ হোসেন ওরফে হুজাইফা (২৪) ও আমিনুল ইসলামকে (২৫) গ্রেফতারের পর এ তথ্য জানিয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।

শুক্রবার (২৪ মে) র‍্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখা ও র‍্যাব-৩ এর যৌথ অভিযানে রাজধানীর গুলিস্তান ও নারায়নগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

শনিবার (২৫ মে) রাজধানীর কারওয়ানবাজার র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার আরাফাত ইসলাম।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, তারা ‘আনসার আল ইসলামের’ সদস্য। আফগানিস্থানে তালেবানের উত্থানে উদ্বুদ্ধ হয়ে আল কায়েদা মতাদর্শের জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার আল ইসলামে’ যোগাদান করে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়মিত অভিযানে আনসার আল ইসলামের কার্যক্রম প্রায় স্তিমিত হয়ে পড়েছে। তাদের সদস্য সংগ্রহসহ সকল কার্যক্রম পরিচালনা ব্যহত হচ্ছে। এরপর আনসার আল ইসলাম মতাদর্শী ‘শাহাদাত’ নামে নতুন গ্রুপ তৈরি করে নতুন সদস্য সংগ্রহসহ দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে। এই গ্রুপের সদস্য সংখ্যা শতাধিক। ইসমাইল আনসার আল ইসলামের রিক্রুটিং শাখার প্রধান এবং ‘শাহাদাত’ গ্রুপেরও প্রধান হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।


ইসমাইলের বরাতে কমান্ডার আরাফাত জানান, এই গ্রুপটি সালাহউদ্দিন নামক এক ব্যক্তির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যিনি বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন। এই গ্রুপের অন্যান্য সদস্যরা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছেন। তারা বিভিন্ন সময় অনলাইনে বিভিন্ন উগ্রবাদী নেতাদের বক্তব্য দেখে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে সংগঠনের সদস্যদের মাধ্যমে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তারা আনসার আল ইসলামের নাম ব্যবহার না করে ‘শাহাদাত’ গ্রুপের নামে সদস্য সংগ্রহ ও দাওয়াতি কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, তারা বিভিন্ন সময়ে মসজিদ, বাসা বা বিভিন্ন স্থানে সদস্যদের নিয়ে গোপন সভা পরিচালনা করতো এবং সংগঠনের সদস্যদের শারীরিক কসরত প্রশিক্ষণ দিতো। তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত বিশেষত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, যশোর, সাতক্ষীরাসহ ঢাকার আশেপাশের বিভিন্ন এলাকাকে প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য নির্ধারণ করেছে বলে জানা যায়।

তাদের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে নতুন গোপনীয় এ্যাপসের মাধ্যমে যোগাযোগ রক্ষা করতো এবং সংগঠনের সকল প্রকার নির্দেশনা এই এ্যাপসের মাধ্যমে প্রদান করতো।

তিনি আরও বলেন, এ সংগঠনের অধিকাংশই মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষক। সাধারণ লেখাপড়ায় শিক্ষিত উগ্র মনোভাবাপন্ন লোকজনকে আকৃষ্ট করার জন্য দেশ বিরোধিতাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতো। এ সংগঠনে মাদ্রাসা শিক্ষক সদস্যগণ অত্যন্ত সু-কৌশলে মাদ্রাসা পড়ুয়া কোমলমতি ছাত্রদের এ বিষয়ে অনুপ্রানিত করতো।

র‍্যাবের মুখপাত্র বলেন, গ্রেফতার ইসমাইল নারায়ণগঞ্জের একটি মাদ্রাসায় দাওরায়ে হাদিসে অধ্যয়নরত। ১ বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত জঙ্গি নেতা সালাউদ্দিনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই সূত্রে সে তার মাধ্যমে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে আনসার আল ইসলামে যোগদান করে দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে। এক পর্যায়ে তাকে সংগঠনের রিক্রুটিং শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়।

গ্রেফতার জিহাদ একটি মাদ্রাসার শিক্ষক। সেও প্রায় ১ বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি গ্রুপে বিদেশে অবস্থানরত একজন জঙ্গি নেতার সঙ্গে পরিচয় সূত্রে আনসার আল ইসলামে যোগদান করে। এরপর থেকে তার মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন এলাকায় দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করতে থাকে। পরবর্তীতে সে সংগঠনে আঞ্চলিক প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পায়।

গ্রেফতার আমিনুল পেশায় একজন গার্মেন্টস শ্রমিক। প্রায় ৬ মাস আগে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত এক জঙ্গি নেতার সঙ্গে পরিচয়সূত্রে সেও সংগঠনে যোগ দেয়। পরে সে তার নিজ এলাকায় দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনা করতো। এক পর্যায়ে সে সংগঠনে আঞ্চলিক প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পায়।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সালাউদ্দিন বর্তমানে বিদেশে আছে। সংগঠনটির ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় কর্মী সংগ্রহের প্রক্রিয়া চালাচ্ছিল। আমরা অধিকর তদন্তে প্রত্যেকের অবস্থান শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।

;