বরিশালে ঈদ কেনাকাটার চাপ সামলাতে হিমশিম বিক্রেতাদের



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম বরিশাল
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন ঈদ-উল ফিতরকে সামনে রেখে বরিশাল নগরীর ঈদ বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। এতে করে বিক্রেতারাও বেশ খুশি। একইসঙ্গে নগরীর পোশাক তৈরির টেইলার্সগুলো পোশাক তৈরির অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সবমিলিয়ে ক্রেতাদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন বিক্রেতারা।

বিগত ১৫ রমজানের পর থেকেই ক্রেতা আকর্ষণে নানা সাজসজ্জা আর বিভিন্ন ধরনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন জেলা, উপজেলা ও নগরীর খুচরা ও পাইকারি পোশাক বিক্রেতারা। ছোট-বড় মার্কেট, স্বনামধন্য বিদেশি শোরুম ও শপিংমলগুলোর ভেতরে পোশাকের সমাহার আর বাইরে রং-বেরংয়ের বাতিতে ঝলমল করছে সব এলাকা। উৎফুল্ল ক্রেতাদের জমজমাট কেনাকাটায় জমে উঠেছে মার্কেটগুলোও। ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আনা নিত্য নতুন কালেকশন নিয়ে পসরা সাজিয়েছে ফ্যাশন হাউস ও মার্কেটগুলো।

গৃহকর্তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কেনাকাটায়। চলছে মধ্যরাত পর্যন্ত। এছাড়াও জুতার শোরুমগুলোতে চলছে বিকিকিনি। পোশাক তৈরি করা টেইলার্সগুলোতে প্রচুর ভিড় লক্ষ করা গেছে। ইতোমধ্যে, বড় বড় টেইলার্সগুলো কাপড় তৈরির অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।

ঈদের পোশাক কিনতে নগরীর চকবাজারে আসা বিএম কলেজের ছাত্রী জেসিকা আহম্মেদ জুঁই, গৃহিনী মমতাজ বেগম, ফেরদৌস জাহান আঁখি বলেন, এ বছর রোজা শুরুর দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে বেশ কয়েকবার নগরীর একাধিক মার্কেট ঘুরে ঈদের শপিং করেছি। কিন্তু চলতি বছর ঈদের সব জিনিসপত্র ও পোশাকের দাম গতবারের চেয়ে তিন থেকে চারগুণ বেশি।

নগরীর চকবাজার এলাকার ‘স্বদেশী বস্ত্রালয়’-এর স্বত্বাধিকারী মৃণাল কান্তি সাহা বলেন, ক্রেতারা নিত্য-নতুন ডিজাইনের পোশাক ও শাড়ি কিনছেন।

নগরীর চকবাজার, ভেনাস মার্কেট, সদর রোড, হেমায়েত উদ্দিন রোড, সোবাহান কমপ্লেক্স, ফকির কমপ্লেক্স, শপিংমলগুলোতে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে। এছাড়াও সিটি মার্কেট ও মহসিন মার্কেটে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতাদের ভিড় লক্ষণীয়।

এ বছর ঈদকে ঘিরে নগরীর মার্কেটগুলোতে বিদেশি পোশাকের সঙ্গে সঙ্গে দেশি পোশাকের সমারোহ রয়েছে বেশ। ঈদ মার্কেটে পুরুষের কাছে পাঞ্জাবির ব্যাপক চাহিদা দেখা গেছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার জিহাদুল কবির বলেন, ঈদ বাজারে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা দিতে ও যানজটমুক্ত রাখতে মেট্রোপলিটন পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছেন।

এর পাশাপাশি নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে ইতোমধ্যে পুরো নগরী জুড়ে ২শ ৬০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা নগরীকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখা, উন্নত পুলিশি সেবার লক্ষ্যে ক্রাইম কন্ট্রোল, ট্রাফিক ও থানা কন্ট্রোল এবং সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিংয়ের জন্য ইন্টিগ্রেটেড কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টারের মাধ্যমে বিভাগীয় শহর বরিশালের পুরো নগরী এখন পুলিশি নজরদারির মধ্যে রয়েছে। সে কারণে মধ্যরাতেও নিরাপত্তায় নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও শপিংমলগুলোকে নির্বিঘ্নে ঈদের বিকিনিকি চলছে।

পাশাপাশি ক্রেতাদের চাপ সামলাতে ইতোমধ্যে নগরীর চকবাজার ও গীর্জা মহল্লা এলাকার সড়কে সবধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

বাহারি পোশাক

বরিশালে ঈদ কেনাকাটায় চাহিদার শীর্ষে বাহারি পোশাক, ছবি- বার্তা২৪.কম

দক্ষিণাঞ্চলের বিভাগীয় শহর বরিশাল শহরে পেশাজীবী মানুষের বসবাস বেশি। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে শৌখিন ক্রেতারা ঈদের কেনাকাটা করার জন্য ছুটে আসছেন বরিশাল শহরে। সে কারণে ঈদের কেনাকাটা করার জন্য উৎসাহী মানুষের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে নগরীর শপিংমলগুলোতে।

এবার ঈদ মার্কেটে মেয়েদের বাহারি পোশাক, শাড়ি, থ্রি-পিস ও পুরুষের শার্ট-প্যান্ট, পাঞ্জাবি, শিশুদের পোশাক কিনতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করছেন সবাই। দেশি পণ্যের পাশাপাশি বিদেশি পণ্যও কিনতেও ঝুঁকেছেন ক্রেতারা।

দোকানিরা জানিয়েছেন, এবারের ঈদে নারীদের সবচেয়ে বেশি পছন্দ সুতির শাড়ি। পাশাপাশি রয়েছে, তাঁত-জামদানি, মুসলিম জামদানি ও দোপাট্টা; যা বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৫শ টাকা থেকে শুরু করে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত।

মিরপুরী কাতান, সিল্ক ও জুট কাতানেরও চাহিদা রয়েছে; যা বিক্রি হচ্ছে, ১০ থেকে ২৫ হাজার টাকার মধ্যে। মেয়েদের থ্রি-পিসে এবার কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। ‘পি-কে’, ‘কাল্পনিক’, ‘লাভ স্টোরি’ নামের নতুন ডিজাইনের থ্রি-পিসের যথেষ্ট চাহিদা বরিশালের ঈদ বাজারে। এসব থ্রি-পিস বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ২শ টাকা থেকে শুরু করে ২২ হাজার টাকা পর্যন্ত।

ছেলেদের জন্য সুতি-পাঞ্জাবি ও শেরওয়ানি বেশি বিক্রি হচ্ছে। এর দাম ৩ হাজার ২শ টাকা থেকে ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত। ঈদের কেনাকাটার জন্য প্রচুর ভিড় লক্ষ করা গেছে, ‘রিচম্যান-লুবনান’, ‘স্মার্টটেক্স’, ‘স্বপ্ন’, ‘স্টার প্লাস’, ‘ব্যাঙ’, ‘চন্দ্রবিন্দু’, ‘বিশ্ব রঙ’, ‘আড়ং’সহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোশাকের দোকানগুলোতে।

বরিশাল নগরীর চকবাজার বিপণী বিতানগুলোতে দেশিয় শাড়ি কিনতে আসা গৃহিনী সীমা আহম্মেদ বলেন, বাঙালির যেকোনো উৎসবে নারীর প্রথম পছন্দ শাড়ি ও থ্রি-পিস। আর ঈদ উপলক্ষে তো শাড়ি বা থ্রি-পিস চাই-ই চাই! ঈদে নারীদের জন্য শাড়ি আর পুরুষের জন্য পাঞ্জাবির আবেদন কোনোদিনও শেষ হবে না। এবারের ঈদেও এ দুটি পোশাকই প্রাধান্য পেয়েছে।

বরিশাল নগরীর বিভিন্ন শপিংমলের শাড়ি বিক্রেতারা জানিয়েছেন, পাইকারি ও খুচরা শাড়ি বিক্রেতারা এবছর ভারত থেকে গুজরাটি সিল্ক, বাহা সিল্ক, মনিপুরী কাতান, মনিপুরী সুতি, পিউর সিল্ক, জর্জেট ও নেটের ওপর কাজ করা শাড়ি আমদানি করেছেন। তবে এবার বেশিরভাগ ক্রেতার পছন্দের তালিকায় রয়েছে ঢাকাই জামদানি, টাঙ্গাইল জামদানি, তাঁতের শাড়ি, সফট সিল্ক আর জুট জামদানি। এগুলোর দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে। এবছর ঈদে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকার দামি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে বেশি।

তারা আরো জানিয়েছেন, ভ্যাঁপসা গরমকে মাথায় রেখেই এবার আরামদায়ক শাড়ি খুঁজছেন ক্রেতারা।

ফুটপাতে উপস্থিতি বেশি
ঈদ-উল ফিতরকে ঘিরে নগরীর নামিদামি শপিংমলের চেয়ে ফুটপাতে ক্রেতাদের উপস্থিতি বেশি লক্ষ করা গেছে। ক্রেতাদের দাবি, তুলনামূলকভাবে বরিশালে পোশাকের দাম গতবারের চেয়ে ৩/৪ গুণ বেশি। তাই, তারা পরিবারের সদস্যদের চাহিদা মেটাতে অনেকটা কমদামে ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে কিনতে বাধ্য হয়েছেন।

ফুটপাতে বিক্রি বেশি, ছবি- বার্তা২৪.কম

নগর ভবনের সামনে ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান থেকে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা আব্দুর রহমান বলেন, এবার পোশাকের এত দাম যে, বলার মতো না! আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের জন্য খুবই কষ্টসাধ্যের!

হাসান সিদ্দিক নামে সরকারি এক কর্মকর্তা বলেন, ব্র্যান্ডের পোশাকগুলো ভালো কিন্তু সেগুলোর দাম কয়েকগুণ বেশি রাখা হচ্ছে। বিপনী বিতানগুলোতে যে পোশাকের দাম ৪ হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে, সেই একইরকম পোশাক আমরা ফুটপাত থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যেই কিনতে পারছি। তাই, বাধ্য হয়েই ফুটপাতের দোকান থেকে কিনেছি।

নাবিলা আক্তার জিতু নামে এক গৃহিনী বলেন, নগরীর ব্র্যান্ডের প্রায় সব শোরুমেই ঘুরলাম। প্রতিটি শোরুম ও মার্কেটগুলোতে পোশাকের অতিরিক্ত দাম। তাই, অনেকটা কমদামে ফুটপাত থেকে ঈদের কেনাকেটা করেছি।

তবে ক্রেতাদের এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ‘টপ-টেন’ বরিশাল শাখার ব্যবস্থাপক ইমরান শেখ বলেন, আমরা সব সময় পোশাকের গুণগত মান ধরে রাখার চেষ্টা করছি। মানের সঙ্গে আমাদের প্রতিটি পণ্যের দামটাও সামঞ্জস্য করে নির্ধারণ করা হয়েছে।

অপরদিকে, বরিশালে কসমেটিকস ও কাপড়ের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েকগুণ অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা। সেক্ষেত্রে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের তেমন কোনো অভিযান নেই বললেই চলে।

তবে ভোক্তার জেলা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রতিটি পণ্যে যেখানে যৌক্তিক একটা লাভ করা যায়, সেখানে বরিশালে ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ লাভ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, ব্যবসায়ীদের মধ্যে। এছাড়া অনেকে অনৈতিকভাবে আলাদা করে ভ্যাট সংযুক্ত করেছেন। এগুলোর বিরুদ্ধে অভিযানে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

কেনাকাটা বিকাশ পেমেন্টে
বড় বড় শপিংমল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানগুলোতে স্বাচ্ছন্দে ঈদের কেনাকাটার পর এখন নিরাপদে মূল্য পরিশোধ করা হচ্ছে ‘বিকাশ’ পেমেন্টের মাধ্যমে। পছন্দের ফ্যাশন হাউস, নামিদামি শোরুম, শপিংমল, মার্কেট, জামা-জুতার আউটলেট ও ফুটপাতের দোকানগুলো থেকে ঈদের কেনাকাটার পর ‘বিকাশ’ পেমেন্টের মাধ্যমে সহজ, নিরাপদ, ঝামেলাহীন ও দ্রুত ডিজিটাল লেনদেন এখন ক্রেতা-বিক্রেতাদের লাইফস্টাইলের একটি অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কেনাকাটায় ডিজিটাল পেমেন্টে আগ্রহী বেশি ক্রেতা-বিক্রেতাদের, ছবি- বার্তা২৪.কম

বরিশাল নগরীর সবচেয়ে বড় মার্কেট চকবাজারে পরিবার নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা ডা. শাহনাজ রুবি বলেন, সারাবছর সব কেনাকাটাতেই আমি কম-বেশি ‘বিকাশ’ পেমেন্টের চেষ্টা করি। তাছাড়া ছোট-বড় সব দোকানেই ‘বিকাশ’ পেমেন্টের সুবিধা আছে।

তিনি আরো বলেন, ‘বিকাশ’-এর ডিজিটাল পেমেন্টের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে, আমাকে শপিংমলে ক্যাশ বহন করতে হচ্ছে না। ফলে, টাকা চুরি যাওয়া অথবা ছেঁড়া-ফাটা-ভাংতি টাকার ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে না।

ক্রেতাদের পাশাপাশি বিক্রেতারাও ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলছেন।

চকবাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল খালেক বলেন, পবিত্র ঈদ-উল ফিতরকে সামনে রেখে প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাস্টমারের ভিড় কম-বেশি লেগেই রয়েছে। ‘বিকাশ’ পেমেন্ট সেবার কারণে টাকার হিসাব রাখা অনেক সহজ হয়ে গেছে। তার সঙ্গে ভাংতি বা নকল টাকার ঝামেলা নেই। পাশাপাশি দিন শেষে অনেক ক্যাশ টাকা রাখার ঝুঁকি নিয়েও ভাবতে হয় না।

   

৪ ঘণ্টার মধ্যে উপকূল ছাড়বে প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘রিমাল’ সামান্য উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে মোংলার দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ- খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম অব্যাহত রেখেছে। ঘূর্ণিঝড়টি পরবর্তী ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে উপকূল অতিক্রম সম্পন্ন করতে পারে।

রোববার (২৬ মে) রাত ১২টায় আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আব্দুল কালাম মল্লিকের দেওয়া আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তি-১৫ -এ এসব তথ্য জানানো হয়।

তিনি বলেন, প্রবল ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০কিলোমিটার. যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার নদী বন্দরসমূহকে ৪ নম্বর নৌ-মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮-১২ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ু তাড়িত জলোচ্ছাসে প্লাবিত হতে পারে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে দমকা/ঝড়ো হাওয়া সহ ভারী (৪৪-৮৮ মিমি / ২৪ ঘণ্টা) থেকে অতি ভারী (২৮৯ মিমি / ২৪ ঘণ্টা) বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বর্ষণের প্রভাবে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে।

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

;

স্থলভাগে ঘূর্ণিঝড় রিমাল, চলছে তাণ্ডব



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমালের চোখ স্থলভাগে ঢুকে পড়েছে। রোববার (২৬ মে) রাত সাড়ে ১০টা থেকে বাগেরহাটের মোংলার খেপুপাড়া উপকূলে তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, রিমালের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলে দমকা হাওয়াসহ ব্যাপক ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সাতক্ষীরা, কুয়াকাটাসহ উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে ঘর-বাড়ি, গাছ-পালা ভেঙে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

জানা যায়, স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে পানি ৪-৫ ফুট উপরে উঠে যাচ্ছে। জলোচ্ছ্বাসের কারণে বাঁধ ভেঙে হু হু করে পানি ঢুকছে নিম্নাঞ্চলে। সুন্দরবনসহ বেশ কয়েকটি এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকা এসব এলাকার লাখ লাখ মানুষ নিকটবর্তী আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে ছুটে গেছেন।

৪০০ কিলোমিটার আকৃতির ঘূর্ণিঝড় রিমালের কেন্দ্র সন্ধ্যা ৬টার পরপরই উপকূল অঞ্চল ছুঁয়েছে। ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটার গতিতে রিমাল স্থলভাগে উঠছে। আগামী দেড় থেকে দুই ঘণ্টার মধ্যে পুরোপুরি উপকূলে প্রবেশ করবে।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড়ে আতঙ্কে সাইক্লোন সেন্টারে নদীর তীরবর্তী ও বিভিন্ন গ্রামের সাধারণ মানুষ আশ্রয়ণ কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নিচ্ছেন।

খুলনা আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেন, প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় রিমাল খুলনাসহ উপকূল অতিক্রম করছে।

খুলনা জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলার জন্য খুলনার ৬০৪টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। দুপুরে প্রবল জোয়ারে কয়েক এলাকায় বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় অনেকেই সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছেন। ইতোমধ্যে প্রায় এক লাখ মানুষ আশ্রয় কেন্দ্রে এসেছেন।

অবহাওয়া অধিদফতর, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত ও চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৯ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে।

আবহাওয়া অফিসের আশঙ্কা, প্রবল এ ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রবর্তী অংশ ও বায়ুচাপ পার্থক্যের আধিক্যের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বরগুনা, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৮ থেকে ১২ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

;

ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে ভেঙেছে বাঁধ

  ঘূর্ণিঝড় রিমাল



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম ঢাকা
ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল রবিবার (২৬ মে) রাতে উপকূলে আঘাত হেনেছে। রাত আটটার দিকে ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র মোংলার দক্ষিণ-পশ্চিম দিক দিয়ে পশ্চিমবঙ্গ উপকূল ও বাংলাদেশের খেপুপাড়া উপকূল অতিক্রম শুরু করে।

এই ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী, বরগুনাসহ উপকূলের বিভিন্ন জেলায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়। বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৯০ থেকে ১২০ কিলোমিটার। এর প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি হয়।

ঝড়ে প্রাথমিকভাবে দুইজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ঝড়ের প্রভাবে হওয়া অস্বাভাবিক জোয়ারের তোড়ে বরগুনার আমতলীতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক রাত ১২টার দিকে বলেন, ঘূর্ণিঝড়টি এখনও উপকূল অতিক্রম করছে। অতিক্রমের এই সময়ে উপকূলজুড়ে ঝোড়ো হাওয়া ও অনেক বৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের বিস্তৃতির কারণে সোমবার উপকূলসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হতে পারে। কোনো কোনো জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

এর আগে রাত সোয়া আটটার দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঘূর্ণিঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপপরিচালক মো. শামীম আহসান বলেন, ঘূর্ণিঝড়টির বিস্তৃতি প্রায় ৪০০ কিলোমিটার। এর অগ্রভাগ সন্ধ্যা ছয়টার দিকে খুলনা উপকূলের কাছে সুন্দরবনের দিকে প্রবেশ করে। এর প্রভাবে উপকূলে ব্যাপক বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া শুরু হয়।

ঘূর্ণিঝড়ের আগে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বাড়ি থেকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে পড়ে গিয়ে শওকাত মোড়ল (৬৫) নামের এক ব্যক্তি মারা যান। উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের নাপিতখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের নাপিতখালী গ্রামের প্রয়াত নরীম মোড়লের ছেলে।

অন্যদিকে রিমালের প্রভাবে উচ্চ জোয়ারের পানিতে ভেসে গিয়ে শরীফুল ইসলাম (২৪) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার দুপুরে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধূলাসর ইউনিয়নের কাউয়ারচর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

বরগুনার প্রধান তিন নদীতে জোয়ারের পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। অস্বাভাবিক জোয়ারের তোড়ে বরগুনার আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড পশরবুনিয়া গ্রামের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ প্রায় ৬০০ মিটার ভেঙে পায়রা নদীতে বিলীন হয়েছে।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে পানির চাপে আমতলীর পরশুরবুনিয়া এলাকার বাঁধ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বাঁধের ভাঙা অংশ মেরামতের কাজ শুরু করেছি। এ ছাড়া যেসব বাঁধ আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো দ্রুত মেরামত করা হবে। জেলার এক হাজার মিটার বাঁধ ঝুঁকিতে রয়েছে।’

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের জালালপুর গ্রামসংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ওপর থেকে পানি গড়িয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করেছে। এতে সেখানকার চারটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

কক্সবাজারে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতার জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরাটেক, কুতুবদিয়াপাড়া, সমিতিপাড়া, ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর নুনিয়াছটাসহ অন্তত ২১টি গ্রাম। এসব গ্রামের হাজারো মানুষকে গৃহপালিত প্রাণী, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম, কাপড়চোপড় নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে শহরের দিকে ছুটতে দেখা যায়।

উপকূলের মানুষের আশ্রয়ের জন্য শহরের কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাবলিক হল ও কিছু হোটেল খুলে দেওয়া হয়। কক্সবাজার পৌরসভার নাজিরারটেক উপকূলে শুঁটকি উৎপাদনের মহাল রয়েছে প্রায় ৭০০টি। জোয়ারের পানিতে ৩০০টির বেশি মহাল পানিতে ডুবে গেছে।

বরিশাল নগরের নিম্নাঞ্চলসহ অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বরিশাল নগরের রূপতলীর জিয়ানগর, খ্রিষ্টানপাড়া, পলাশপুর, বেলতলা, মোহাম্মদপুর, রসুলপুর, দক্ষিণ রূপাতলী, ভাটিখানা, কাউনিয়া, প্যারারা রোড, সদর রোড, কেডিসি, ত্রিশ গোডাউন, দপদপিয়া ও কালিজিরা এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার বাসিন্দাদের ঘরে পানি উঠে যাওয়ায় তারা ঘরবন্দী রয়েছে। এসব এলাকার গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সড়ক চলে গেছে পানির নিচে।

বাগেরহাটে ঝোড়ো হাওয়ায় সঞ্চালন লাইনে গাছপালা উপড়ে পড়ায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি রবিবার সন্ধ্যা থেকে পুরোপুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রেখেছে।

নোয়াখালীর উপকূলীয় উপজেলা হাতিয়ার নিঝুম দ্বীপসহ কয়েকটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিনাজ উদ্দিন বলেন, ‘বেড়িবাঁধ না থাকায় নিঝুম দ্বীপের সব কটি গ্রাম সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে গেছে। নিঝুম দ্বীপের প্রধান সড়কের ওপরে ২ ফুট উচ্চতায় পানি প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে অনেকের মাছের খামার ও পুকুরের মাছ। অনেক জায়গায় মানুষের বসবাস করা ঘরেও পানি ঢুকে গেছে।’

;

ঘূর্ণিঝড় রিমাল’র প্রভাবে সিলেটে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি

  ঘূর্ণিঝড় রিমাল



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঘূর্ণিঝড় রিমাল’র প্রভাবে সিলেটে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। রোববার (২৭ মে) বিকেল থেকে সিলেটে নগরী এবং এর আশেপাশের উপজেলা সমূহে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়।

জানা যায়, গত ২ সপ্তাহ থেকে শুরু হয়েছে তাপপ্রবাহ। শুক্রবার ও শনিবার দিবাগত রাতে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও কমেনি তাপমাত্রা। এছাড়াও মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে সিলেটে চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪ বার রেকর্ড করা হয়েছে। গত ১৬ মে ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। পরে ২৩ মে বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় ৩৭ দশমিক ৫ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়।

শুক্রবার (২৪ মে) বিকাল ৩টায় ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি ও চলতি বছরের পূর্বের সকল রেকর্ড ভেঙে শনিবার (২৬ মে) বিকাল ৩টায় ৩৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। তবে রোববার বিকেলে ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিন বিকেল থেকে সিলেটে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও হালকা বাতাস থাকার ফলে জনমনে অনেকটা স্বস্তি দেখা যায়। এই রিপোর্ট রাত সাড়ে ১২টায় লেখার সময়েও গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হতে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক বিপ্লব দাস বলেন, ‌বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড় রিমামে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। সিলেট কিছু উপজেলায় ও নগরীতে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, রাত নয়টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সিলেটে ১৫ দশমিক ৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব সিলেটে খুব একটা পড়বে না।

এদিকে সন্ধ্যায় আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মো.মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিমি) থেকে অতিভারী (৮৯ মিমির বেশি) বর্ষণ হতে পারে। চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস হতে পারে বলেও ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

;