‘সিআরবির এক টুকরো মাটিও কাটতে দেওয়া হবে না’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম ব্যুরো
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের টাইগারপাস-সিআরবির শতবর্ষী গাছ ও সড়ক ধ্বংস করে র‌্যাম্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের ঘোষণা অবিলম্বে না আসলে জোরদার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছে আন্দোলনকারী।

সোমবার (১ এপ্রিল) বিকেলে নাগরিক সমাজ-চট্টগ্রামের আয়োজনে নগরীর টাইগারপাস মোড়ে শতবর্ষী গাছের নিচে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের গবেষক ডা মাহফুজুর রহমান বলেন, যদি র‌্যাম্প করতে হয় অনেক জায়গা আছে, গাছ কেটে কেন করতে হবে। এখানে কোনো গাছ কাটা চলবে না। প্রকৃতি অক্ষুন্ন রেখে যে কোনো কিছু করতে পারে, তারা সেটা করুক। মূল লক্ষ্য এসব শতবর্ষী গাছ ও দ্বিতল রাস্তাটি নষ্ট করে সিআরবির পরিবেশ ও প্রতিবেশ ধ্বংস করা। তারপর সিআরবিতে থাবা বসানো। শতবর্ষী গাছ কেটে নতুন চারা লাগানোর কোনো প্রয়োজন নেই।

অধ্যাপক মো ইদ্রিস আলী বলেন, যারা ৬ কিলোমিটার রাস্তা করতে ১৮টি গাছ কাটে তারা মানুষ নামের শকুন। জলাবদ্ধতা নিরসনে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) দক্ষতা কতটা তা আমরা দেখেছি। যারা সিআরবি ধ্বংস করতে পারেনি তারা এখন সিআরবির প্রতিবেশ ধ্বংস করতে চায়। তারা বলছে মাত্র ৪৬টি গাছ কাটা হবে। এটা কেমন মুর্খতা। অপউন্নয়নের নামে বাণিজ্য থেকে সরে আসুন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাগ্রত আছেন। তরুণদের নিয়ে আমরা আন্দোলন করে সিডিএকে সরে আসতে বাধ্য করব।


খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরী কমিটির সভাপতি ডা একিউএম সিরাজুল ইসলাম বলেন, এই সড়ক শুধু চট্টগ্রামের নয়। দেশের ও বিশ্ব প্রকৃতির সম্পদ। যা সৃষ্টি করতে পারবেন না তা কেন ধ্বংস করছেন। এই নান্দিকতা দেশের সম্পদ। সিডিএর লোকজন যা বলছেন তা হঠকারিতা। সিআরবির মাটি কামড়ে আমরা পড়েছিলাম। এখানে এক টুকরো মাটিও কাটতে দেওয়া হবে না। নয়ত আমরা প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে এই সম্পদ রক্ষা করব।

সভাপতির বক্তব্যে নাট্যজন ও সাংবাদিক প্রদীপ দেওয়ানজি বলেন, এত বিকল্প থাকতে কেন গাছ কেটে আর দ্বিতল রাস্তা ধংস করে কেন র‌্যাম্প করতে হবে সেটা বোধগম্য নয়। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দ্রুত বিকল্প স্থানে র‌্যাম্প করার ঘোষণা না দিলে লাগাতার আন্দোলন করে আমরা টাইগারপাস সিআরবির এই সড়ক ও গাছ রক্ষা করব।

পিপলস ভয়েসের সভাপতি শরীফ চৌহান বলেন, আমরা বারবার চট্টগ্রামের পরিবেশ ও ইতিহাস ঐতিহ্য রক্ষায় রাস্তায় নামি। সিআরবি রক্ষার আন্দোলনে আমরা সফল হয়েছি। গাছ কাটতে আবার পরিকল্পনা করছে। আমরা কেউ উন্নয়ন বিরোধী নই। এই র‌্যাম্প এখানে কেন? এই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করার সময়ও শুরুর স্থান নিয়ে সমস্যা হয়। এটা দেওয়ানহাট থেকে শুরু করা যেত। তা না করে পাহাড় কেটে লালখানবাজার থেকেই শুরু করা হয়। নতুন করে গাছ রোপন করবেন বলছেন সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী। আপনি কি একটি দ্বিতল সড়ক করতে পারবেন। এই শতবর্ষী গাছ ফিরিয়ে দিতে পারবেন? সিআরবিতে একই ষড়যন্ত্র হয়েছিল। আন্দোলন করে তা প্রতিহত করেছি। এখনই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন। না হলে আন্দোলন সংগ্রাম করে সিদ্ধান্ত বদলাতে বাধ্য করব।

বিএফইউজের যুগ্ম মহাসচিব মহসীন কাজী বলেন, সিডিএ এ পর্যন্ত পরিবেশ বান্ধব একটি প্রকল্পও করতে পারেনি। ফৌজদারহাট থেকে বায়েজিদ পর্যন্ত ১৫টি পাহাড় কেটে সিডিএর স্থপতি প্রকৌশলীরা অজ্ঞতার পরিচয় দিয়েছে। সিআরবি আমরা আন্দোলন করে রক্ষা করেছি। একজন পিডি কীভাবে সব বড় প্রকল্পের পিডি হন। প্রয়োজনে আরো দীর্ঘ আন্দোলন হবে।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি চৌধুরী ফরিদ বলেন, রাস্তা করেন, র‌্যাম্প করেন কিন্তু একটা গাছও কাটতে পারবেন না। গাছ কাটতে হলে নাগরিকদের গলা কাটুন আগে। পাহাড় না কেটে, গাছ না কেটে আপনারা কিছু করতে পারেন না? শতবছর বয়সী গাছগুলো খুন করতে দেওয়া হবে না। যে কোনো কিছুর বিনিময়ে চট্টগ্রামবাসী এ গাছ রক্ষা করবে। আমাদের আন্দোলন চলবে।

লেখিকা মোহছেনা ঝর্না বলেন, প্রকৃতি বাঁচলে আমরা বাঁচব। একটা গাছ রোপণ করলে ২০-২৫ বছরে বড় হয়। আর শতবর্ষী গাছ কাটতে চাইছে। এটা কেমন কথা! আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য এ গাছ বাঁচাতে হবে।

সাংবাদিক ঋত্তিক নয়ন বলেন, সিডিএ এবার ঘাতকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। অথচ সিআরবি রক্ষার আন্দোলনে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেছিলেন সিআরবি হেরিটেজ। এখন সিডিএর স্থপতিরা মনে করছেন তারাই একমাত্র প্ল্যানার। আমরা যদি ৪৮৫ দিন আন্দোলন করে সিআরবি রক্ষা করেছি। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব। যদি সিডিএ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করে আমরা রাজপথে থাকব। আন্দোলনের মাধ্যমেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করব।

নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি আশরাফুল ইসলাম বলেন, বারবার চট্টগ্রামের প্রকৃতির উপর আঘাত কেন? এখন গাছ নষ্ট করে কেন। বিকল্প অনেক সুযোগ ছিল। কিন্তু তারা সেটা করছে না। আবারো বলছি এর বিকল্প ভাবুন।

প্রতিবাদী ছড়া পাঠ করেন উৎপল বড়ুয়া। সাংবাদিক প্রীতম দাশের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন অধ্যাপক সুপ্রতীম বড়ুয়া, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক সাইদুল ইসলাম, সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম মুন্না প্রমুখ।

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের র‌্যাম্প নির্মাণের জন্য শতবর্ষীসহ ৪৬টি গাছ কাটার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এরই মধ্য নগরীর টাইগারপাস ও সিআরবি এলাকার এসব গাছ কাটার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংস্থাটি। তবে কোনোভাবেই গাছগুলো কাটতে দিতে রাজি নন পরিবেশকর্মীরা।

   

শ্যামনগরে ডাম্পারে পিষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষার্থী নিহত



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সাতক্ষীরা
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ইটভাটার ডাম্পারের চাকায় পিষ্ট হয়ে পলাশ আউলিয়া (১৮) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২৫ মে) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের নওয়াবেকী-আড়পাঙ্গাশিয়া সড়কের বড়কুপট এলাকার মেসার্স জামান ব্রিকসের সামনে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত পলাশ উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের জেলেখালি এলাকার ভোলানাথ আউলিয়ার ছেলে ও নওয়াবেকী ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্র।

নিহত পলাশের সহপাঠী রিয়াদ হোসেন ও সুদীপ মণ্ডল জানান, পলাশ আটুলিয়া ইউনিয়নের বয়ারশিং গ্রামে তার দাদু শচীন মণ্ডলের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতো। শনিবার সকালে সেখান থেকে সহপাঠী সাদিকের মোটরসাইকেলে করে কলেজে আসার পথে মেসার্স জামান ব্রিকসের সামনে পৌঁছালে একটি ডাম্পার ট্রাক্টর তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। এতে পলাশ ছিটকে ডাম্পারের তলায় পড়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে পলাশের মৃত্যু হয়। তবে সঙ্গে থাকা সহপাঠী সাদিক প্রাণে বেঁচে যায়।

শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শাকির হোসেন বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই পলাশের মৃত্যু হয়।

এদিকে, এই ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক ডাম্পারটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় ও জামানের ইটভাটা (মেসার্স জামান ব্রিকস) ভাঙচুর শুরু করে। বর্তমানে ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

;

রোববার রাতে আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ 



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর ও ভারত আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে আজ ভোরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।

শনিবার (২৫ মে) নিম্নচাপটি উত্তরদিকে অগ্রসর হয়ে ঘনীভূত হয়ে সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’-এ পরিণত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি পরবর্তীতে উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে আগামীকাল রোববার (২৬ মে) মধ্যরাত নাগাদ বাংলাদেশের কুয়াকাটা হতে পশ্চিম-বঙ্গের দীঘার মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

শনিবার (২৫ মে) দুপুরে বিষয়টি জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সজল কুমার রায়।

তিনি জানান, গভীর নিম্নচাপটি বর্তমানে বাংলাদেশের মংলা সমুদ্রবন্দর হতে ৫৪০ কি.মি., পায়রা সমুদ্রবন্দর হতে ৪৯০ কি.মি. দক্ষিণে এবং চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর হতে ৫৬৫ কি. মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ দিয়ে অতিক্রমের সময় ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ২২০ থেকে ১২০ কিলোমিটার থাকতে পারে।

এছাড়া বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ মে এবং তৎপরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় 'রেমাল' দেশের উপকূল হয়ে ভূমি সমতল অতিক্রমের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে। ফলে, আগামী ৭ দিনে (২৫ মে হতে ৩১ মে) দেশের উজানে এবং অভ্যন্তরে সম্ভাব্য ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের প্রধান নদ-নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে।

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় অঞ্চল অতিক্রমকালীন সময়ে চন্দ্রের অবস্থানগত কারণে স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় পানি সমতল কিছুটা বেশি থাকবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদফতরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রেমাল খুলনা থেকে পটুয়াখালীর খেপু পাড়ার মাঝামাঝি স্থানে আঘাত হানতে পারে। অপেক্ষাকৃত বেশি এলাকা ধরে ঘূর্ণিঝড়টির বিস্তৃতি থাকতে পারে। সমুদ্র উপকূলের সুন্দরবনে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে নিম্ন চাপের প্রভাবে পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকা কলাপাড়ায় মেঘলা আকাশ। এক ধরনের গুমোট পরিবেশ বিরাজ করছে। কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠছে। সাগরের তীরে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে। পানির তীব্রতা বাড়ছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ পর্যটকদের সতর্ক করছে। এই মুহূর্তে সাগরে নামা ও গোসল করা থেকে বিরত থাকতে মাইকিং করছে। ওইে এলাকায় ফোঁটা বৃষ্টি পড়ছে। তবে বাতাসের তেমন কোনো চাপ নেই। উপকূলীয় এলাকার অনেক স্থানে যে কোনো সময় অস্থায়ী দমকা হাওয়া, ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এদিকে সমুদ্রে মাছধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকায় অধিকাংশ মাছধরা ট্রলার নিরাপদে রয়েছে বলে জানিয়েছে মৎস্য সংশ্লিষ্টরা।

;

ফরচুনের শ্রমিকদের ওপর গুলিবর্ষণে জড়িতদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ 



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, বরিশাল
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ফরচুন কারখানায় পাওনা বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকের উপর গুলিবর্ষণে জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে শনিবার (২৫ মে) সকাল ১১টায় মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখা।

এসময় আহতদের চিকিৎসা ব্যয় ও যথাযথ ক্ষতিপূরণসহ শ্রমিকদের সকল বকেয়া বেতন-বোনাস ও ওভারটাইমের সমুদয় পাওনা পরিশোধ করার দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দুলাল মল্লিক। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়কারী ডা. মনীষা চক্রবর্তী, ভোলার গ্যাস রক্ষায় নাগরিক আন্দোলনের ভোলা জেলা শাখার আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান, বাসদ গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সংগঠক অধ্যক্ষ মোশায়েদ হোসেন ঢালী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি মিজানুর রহমান সেলিম, সিপিবি ঝালকাঠি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত দাস হরি, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহ আজিজ খোকন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক শহিদুল হাওলাদার, সোনারগাঁও টেক্সটাইল শ্রমিক-কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন, বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সদস্য বেল্লাল গাজী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সুজন শিকদার প্রমুখ। 

বক্তারা বলেন, বরিশালে ফরচুন সুজ কম্পানির মালিক শ্রম আইন লঙ্ঘন করে শ্রমিকদের হকের টাকা না দিয়ে দুই মাসের বেতন বকেয়া রাখে। অথচ ক্রিকেট দলের ফ্রাঙ্কাইজ স্বত্ত্ব কিনতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেছে। ওভারটাইমের মজুরি না দিয়ে ১০-১২ ঘণ্টা খাটিয়ে মাসের পর মাস শ্রম আইন লঙ্ঘন করে শ্রমিকদের শোষণ করেছে। দুই মাস শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ না করে এক মাসের অর্ধেক মজুরি দিয়েছে।

হামলা করানোর সাথে জড়িত ফরচুনের মালিকপক্ষের ব্যক্তিদের গ্রেফতার করার দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশের কেন্দ্র শ্রমিকরা, ব্যাংক লুটেরা কারখানা মালিকরা নয়। অথচ সরকারের বিভিন্ন বাহিনী শ্রমিকদের রক্ষার পরিবর্তে শিল্প মালিকদের ভাড়াটে বাহিনীর মত নিন্দনিয় ভূমিকা পালন করছে। তারা শ্রমিকের বকেয়া বেতন ভাতা আদায় করে দেওয়ার জন্য কোনো ভূমিকা পালন না করলেও মালিকদের অন্যায় আচরণকে প্রতিষ্ঠায় শ্রমিকের উপর নির্যাতকের ভূমিকা পালন করে। নেতৃবৃন্দ, শ্রমিকের উপর গুলিবর্ষণকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি শ্রম আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। 

বক্তারা আহত শ্রমিকদের জন্য যত্থাযত্থ ক্ষতিপূরণ দাবি করেন এবং শ্রমিকদের ওভারটাইমসহ সমুদয় বকেয়া অবিলম্বে পরিশোধ করার দাবি জানান।

;

ঘূর্ণিঝড় 'রেমাল' মোকাবিলায় বরিশাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরিশাল
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় 'রেমাল' মোকাবিলায় বরিশাল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে শনিবার (২৫ মে) বেলা ১২টায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্যরাসহ জুমে সংযুক্ত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বৃন্দ। সভায় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ রেমাল মোকাবিলায় জেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার আলোচ্য বিষয়:

১. সকল ধরনের সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি সেখানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

২. পর্যাপ্ত শুকনো খাবারের পাশাপাশি পানি বিশুদ্ধ করন ঔষধ, মোমবাতি, ম্যাচ, খাবার স্যালাইন, প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ঔষধ এর ব্যবস্থা রাখা।

৩. বরিশাল জেলায় ৫৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে যেখানে মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত বহুতল ভবন, অফিস সমূহ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৪. জেলার সকল স্থানে মাইকিং ও আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য প্রচার করতে হবে।

৫. প্রাণীসম্পদ রক্ষায় গুরুত্বারোপ  করতে হবে এবং পর্যাপ্ত গোখাদ্য'র ব্যবস্থা রাখতে হবে। 

৬. সিপিপি, রেড ক্রিসেন্ট সহ সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো দুর্যোগ মোকাবিলায় সকল ধরণের প্রস্তুতি রাখতে হবে।

৭. জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হবে।

৮. বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে যাতে স্বল্প সময়ের নোটিশে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে। 

;