রুনা আজ হাজারো তরুণীর অনুপ্রেরণা



তাসনীম হাসান, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম ব্যুরো
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

৯ বছর আগের এক বিকেল। যানজট ঠেলে বাসায় পৌঁছাতে বড্ড দেরি হচ্ছিল চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে কর্মরত খতিজা বেগম রুনার। একদিকে অফিস শেষে দীর্ঘ ভ্রমণের যন্ত্রণা, অন্যদিকে মায়ের কাছে রেখে আসা পাঁচ মাসের শিশুও কষ্ট পাচ্ছিল খুব। শেষমেশ বাসায় ফিরলেও লেগে যায় অনেকটা সময়। রুনার সেই সমস্যা যেন এক লহমায় মিটিয়ে দিলেন বাবা। দুগ্ধজাত নাতিকে নিয়ে মেয়ের দুশ্চিন্তা দেখে রুনাকে তাঁর বাবা বললেন, ‘মা স্কুটি চালানো শুরু কর, তাহলে দ্রুত আসা-যাওয়া করতে পারবি।’ যেই কথা সেই কাজ। শুরু হলো-স্কুটি নিয়ে রুনার পথচলা।

২০১৫ সালে নিজের প্রয়োজনে স্কুটি চালানো শুরু করা সেই রুনা এখন অন্য নারীদের অনুপ্রেরণা। গত ৭ বছরে চট্টগ্রাম শহরের অন্তত ২ হাজার ৮০০ জন নারী স্কুটি চালানো শিখেছেন তাঁর কাছ থেকে। রুনার কাছ থেকে স্কুটি চালানো শিখে তাঁদের বেশির ভাগই এখন নিয়মিত অফিসে যাওয়া-আসা করছেন স্কুটি চালিয়ে। কেউ কেউ আবার রাইড শেয়ারিং ও খাবার সরবরাহের কাজ করে আয়ও করছেন। আবার কেউবা শেখাচ্ছেন অন্য নারীদেরও। রুনা তাই হয়ে উঠেছেন বন্দরনগরীর তরুণীদের ‘আইডল’।

শুরুর সেই দিনগুলো: অন্যদের শেখানোর শুরুটা কীভাবে, এমন প্রশ্নে রুনা ফিরে গেলেন অতীতে। সড়কে শাঁ শাঁ করে স্কুটি চালিয়ে রুনাকে অফিসে আসা-যাওয়া করতে দেখে অনেক নারীই উৎসাহিত হন। কেউ কেউ রুনাকে রাস্তায় থামিয়ে বাহবা দিতেন। আবার কেউবা বলতেন, তাঁদেরও শেখাতে। তবে কর্মব্যস্ততার কারণে শেখানোর কাজটা তখনো শুরু করা হয়ে ওঠেনি রুনার। তবে ২০১৭ সালের শুরুতে রুনা নামেরই আরেক তরুণীর বেশ আগ্রহ দেখালে আর ‘না’ বলতে পারেননি। ওই তরুণীকে ছুটির দিন শুক্রবার সিআরবির শিরীষতলায় স্কুটি চালানো শেখানো শুরু করেন রুনা। সেটি দেখে আশপাশের অনেক নারীও জড়ো হন। তাঁদেরও একই কথা, ‘আমিও শিখব’। এভাবে এই মুখ ওই মুখ হয়ে রুনার নাম ছড়িয়ে পড়ল পুরো বন্দরনগরীতে।

নারীদের আগ্রহ আর কৌতুহল বাড়তে থাকলে ২০১৯ সালে রুনা ‘পঙ্খিরাজ’ নামের একটি পেজ খোলেন ফেসবুকে। এখন এই পেজেই জানিয়ে দেওয়া হয় সবকিছু। যেহেতু চাকরি করেন, সে জন্য রুনা ছুটির দুই দিন, শুক্র-শনিবার বেছে নেন নারীদের স্কুটি চালানো শেখাতে। এখন ওই দুই দিন সকাল ৭টা থেকে ৯টা এবং ৯টা থেকে ১১টা দুই ব্যাচে নারীদের শেখাচ্ছেন স্কুটি। তাঁর কাছ থেকে এখন পর্যন্ত স্কুটি চালানো শিখেছেন প্রায় ২ হাজার ৮০০ নারী। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১০০ জন এখন নিজেরাই স্কুটি কিনে চালাচ্ছেন।

রুনার ক্লাসে একদিন: সম্প্রতি এক শুক্রবার সিআরবির শিরীষতলায় গিয়ে দেখা গেছে, নারীদের নিজের স্কুটিতে বসিয়ে হাতে-কলমে শেখাচ্ছেন রুনা। বলতে গেলে গাড়ি চালানোর এ টু জেট শিখিয়ে দিচ্ছিলেন রুনা। সেদিন তাঁর ক্লাসে ছিলেন অন্তত ৩০ নারী। সেই নারীদের মধ্যে আছেন চিকিৎসক থেকে আইনজীবী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে গৃহিণী। রুনার আন্তরিকতায় তরুণীরাও দ্রুত রপ্ত করছিলেন গাড়ি চালানো।

রুনার কাছ থেকে স্কুটি চালানো শেখাদের একজন অঞ্জনা চৌধুরী। যাত্রীবাহী গাড়িতে নানা হয়রানি ও ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে বেশ কয়েকবছর আগে স্কুটি চালানো শেখেন এই শিক্ষিকা। রাঙ্গুনিয়ার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত এই নারী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘স্কুলে যেতে অনেক সমস্যায় পড়তে হতো। সেই সমস্যা থেকে মুক্তি দিয়েছেন রুনা। তাঁর কাছ থেকে স্কুটি চালানো শেখার পর এখন আমি নিজেই স্কুটি চালিয়ে যাওয়া-আসা করছি।’

রুনার কাছে কৃতজ্ঞতার যেন শেষ নেই অঞ্জনার। স্কুটি চালানো শিখতে শিখতে বন্ধু হয়ে উঠা এই তরুণী একরাশ প্রশংসায় ঝরালেন রুনাকে। বললেন, ‘রুনা নিজে তো এগিয়ে গেছেই। সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে গেছেন সমাজের আরো কিছু নারীকে। যারা আজকে স্কুটি শিখে নিজের যাত্রাপথ সহজ করেছে, সঙ্গে তার পুরুষ সঙ্গীর দায় দায়িত্বও ভাগ করে নিয়েছে। চলতি পথে যখন দেখি কোনো স্কুলগামী ছোট্ট সন্তান তার মাকে জড়িয়ে আছে আর মা নামক সেই যাদুকর সাঁইসাঁই করে তার পঙ্খীরাজ নিয়ে ছুটে চলেছে ভীষণ মন ছুঁয়ে যায় এই দৃশ্য। নারীকে তার চ্যালেঞ্জিং জীবনে আরো একধাপ এগিয়ে দেওয়ার এই কাজের পেছনে রুনার অনিশেষ অবদান।’

দুই বছর আগে রুনার কাছে স্কুটি চালানো শিখে জান্নাতুল ফেরদৌস পুষ্পা এখন নিজেই অন্যদের স্কুটি চালানো শেখাচ্ছেন। পাশাপাশি নেমে পড়েছেন রাইড শেয়ারিং ও খাবার সরবরাহের কাজেও।

জান্নাতুল ফেরদৌস পুষ্পা বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘একটা সময় স্কুটি চালানো ছিল স্বপ্নের মতো। তবে সেই স্বপ্নটা সহজ করে দিয়েছেন রুনা আপু। আমি তাঁর কাছ থেকে শেখার পর এখন নিজেই প্রতিদিন দুই বেলা অন্য নারীদের স্কুটি চালানো শেখাচ্ছি। পাশাপাশি রাইড শেয়ারিং ও খাবার সরবরাহের কাজও করে যাচ্ছি নিয়মিত। স্কুটি আমাকে যেমন সাহসী করেছে, তেমনি দিয়েছে স্বচ্ছলতা। এর পেছনে রুনা আপার অবদান অনেক।’

নিজের প্রয়োজনে স্কুটি চালানো রুনা একদিন অন্য নারীদেরও অনুপ্রেরণার কেন্দ্রতে থাকবেন, ভাবতেই এখনো এই তরুণীর একরাশ আনন্দ কাজ করে। সেটিই বলছিলেন বার্তা২৪.কমকে। বলেন, ‘একদিন নিজের প্রয়োজনেই স্কুটি নিয়ে সড়কে নেমেছিলাম। অফিস শেষে আমার সন্তানকে দ্রুত কাছে পাওয়াই ছিল এর প্রধান কার। সেটি তো হলোই, এখন আমার কাছ থেকে হাজারো নারী স্কুটি চালানো শেখে নিজেরাই চালাচ্ছেন। আমার কাছ থেকে স্কুটি চালানো শেখার পর অন্তত ৭০০ জন নারী স্কুটি কিনে নিজে চালাচ্ছেন। এর মধ্যে গত বছরেই দেড়শ নারী স্কুটি কিনেছেন। এখন আমার মতো এই নারীদেরও দীর্ঘক্ষণ গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না। বাসে ধাক্কাধাক্কি খেতে হয় না, হয়রানির মুখে পড়তে হয় না। এখানেই তো আমার সার্থকতা। এর চেয়ে আনন্দের আর কিছু কি হতে পারে?’

শুধু কি স্কুটি চালানো শেখানো? না। এখন পঙ্খিরাজ হয়ে উঠেছে একটা পরিবার। ঈদের দিনগুলোতে কিংবা পূজার উৎসবে-স্কুটি নিয়ে তরুণীরা ছুঁটে যান শহরের এখানে ওখানে। স্কুটি চালাতে চালাতে মেয়েদের দল গাইতে থাকে-‘এই পথ যদি না শেষ হয়…, তবে কেমন হতো তুমি বলোতো…’! আর সেই গাড়ি মিছিলের সামনে থেকে নারীদের পথ দেখান তাঁদেরই বড় আদরের ‘রুনা ম্যাম।’

   

মধ্যরাতে আঘাত হানতে পারে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’ 



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর ও ভারত আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি ঘনীভূত হয়ে আজ ভোরে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে।

শনিবার (২৫ মে) নিম্নচাপটি উত্তরদিকে অগ্রসর হয়ে ঘনীভূত হয়ে সন্ধ্যা নাগাদ ঘূর্ণিঝড় ‘রেমাল’-এ পরিণত হতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টি পরবর্তীতে উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে আগামীকাল রোববার (২৬ মে) মধ্যরাত নাগাদ বাংলাদেশের কুয়াকাটা হতে পশ্চিম-বঙ্গের দীঘার মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

শনিবার (২৫ মে) দুপুরে বিষয়টি জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সজল কুমার রায়।

তিনি জানান, গভীর নিম্নচাপটি বর্তমানে বাংলাদেশের মংলা সমুদ্রবন্দর হতে ৫৪০ কি.মি., পায়রা সমুদ্রবন্দর হতে ৪৯০ কি.মি. দক্ষিণে এবং চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর হতে ৫৬৫ কি. মি. দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। বাংলাদেশ দিয়ে অতিক্রমের সময় ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ২২০ থেকে ১২০ কিলোমিটার থাকতে পারে।

এছাড়া বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাসমূহের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ মে এবং তৎপরবর্তী সময়ে সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় 'রেমাল' দেশের উপকূল হয়ে ভূমি সমতল অতিক্রমের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত ঘটাতে পারে। ফলে, আগামী ৭ দিনে (২৫ মে হতে ৩১ মে) দেশের উজানে এবং অভ্যন্তরে সম্ভাব্য ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের প্রধান নদ-নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে।

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় উপকূলীয় অঞ্চল অতিক্রমকালীন সময়ে চন্দ্রের অবস্থানগত কারণে স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় পানি সমতল কিছুটা বেশি থাকবে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদফতরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রেমাল খুলনা থেকে পটুয়াখালীর খেপু পাড়ার মাঝামাঝি স্থানে আঘাত হানতে পারে। অপেক্ষাকৃত বেশি এলাকা ধরে ঘূর্ণিঝড়টির বিস্তৃতি থাকতে পারে। সমুদ্র উপকূলের সুন্দরবনে ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ইতোমধ্যে নিম্ন চাপের প্রভাবে পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকা কলাপাড়ায় মেঘলা আকাশ। এক ধরনের গুমোট পরিবেশ বিরাজ করছে। কুয়াকাটাসংলগ্ন বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠছে। সাগরের তীরে বড় বড় ঢেউ আছড়ে পড়ছে। পানির তীব্রতা বাড়ছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ পর্যটকদের সতর্ক করছে। এই মুহূর্তে সাগরে নামা ও গোসল করা থেকে বিরত থাকতে মাইকিং করছে। ওইে এলাকায় ফোঁটা বৃষ্টি পড়ছে। তবে বাতাসের তেমন কোনো চাপ নেই। উপকূলীয় এলাকার অনেক স্থানে যে কোনো সময় অস্থায়ী দমকা হাওয়া, ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এদিকে সমুদ্রে মাছধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা চলমান থাকায় অধিকাংশ মাছধরা ট্রলার নিরাপদে রয়েছে বলে জানিয়েছে মৎস্য সংশ্লিষ্টরা।

;

ফরচুনের শ্রমিকদের উপর গুলিবর্ষণে জড়িতদের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ 



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, বরিশাল
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ফরচুন কারখানায় পাওনা বেতনের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকের উপর গুলিবর্ষণে জড়িতদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবিতে শনিবার (২৫ মে) সকাল ১১টায় মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখা।

এসময় আহতদের চিকিৎসা ব্যয় ও যথাযথ ক্ষতিপূরণসহ শ্রমিকদের সকল বকেয়া বেতন-বোনাস ও ওভারটাইমের সমুদয় পাওনা পরিশোধ করার দাবি জানানো হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দুলাল মল্লিক। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সমন্বয়কারী ডা. মনীষা চক্রবর্তী, ভোলার গ্যাস রক্ষায় নাগরিক আন্দোলনের ভোলা জেলা শাখার আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান, বাসদ গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সংগঠক অধ্যক্ষ মোশায়েদ হোসেন ঢালী, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি সিপিবি বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি মিজানুর রহমান সেলিম, সিপিবি ঝালকাঠি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত দাস হরি, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক শাহ আজিজ খোকন, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্ট বরিশাল জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক শহিদুল হাওলাদার, সোনারগাঁও টেক্সটাইল শ্রমিক-কর্মচারী সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন, বাসদ বরিশাল জেলা শাখার সদস্য বেল্লাল গাজী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট বরিশাল মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক সুজন শিকদার প্রমুখ। 

বক্তারা বলেন, বরিশালে ফরচুন সুজ কম্পানির মালিক শ্রম আইন লঙ্ঘন করে শ্রমিকদের হকের টাকা না দিয়ে দুই মাসের বেতন বকেয়া রাখে। অথচ ক্রিকেট দলের ফ্রাঙ্কাইজ স্বত্ত্ব কিনতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেছে। ওভারটাইমের মজুরি না দিয়ে ১০-১২ ঘণ্টা খাটিয়ে মাসের পর মাস শ্রম আইন লঙ্ঘন করে শ্রমিকদের শোষণ করেছে। দুই মাস শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ না করে এক মাসের অর্ধেক মজুরি দিয়েছে।

হামলা করানোর সাথে জড়িত ফরচুনের মালিকপক্ষের ব্যক্তিদের গ্রেফতার করার দাবি জানিয়ে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পের বিকাশের কেন্দ্র শ্রমিকরা, ব্যাংক লুটেরা কারখানা মালিকরা নয়। অথচ সরকারের বিভিন্ন বাহিনী শ্রমিকদের রক্ষার পরিবর্তে শিল্প মালিকদের ভাড়াটে বাহিনীর মত নিন্দনিয় ভূমিকা পালন করছে। তারা শ্রমিকের বকেয়া বেতন ভাতা আদায় করে দেওয়ার জন্য কোনো ভূমিকা পালন না করলেও মালিকদের অন্যায় আচরণকে প্রতিষ্ঠায় শ্রমিকের উপর নির্যাতকের ভূমিকা পালন করে। নেতৃবৃন্দ, শ্রমিকের উপর গুলিবর্ষণকারীদের চিহ্নিত করে শাস্তি দেওয়ার পাশাপাশি শ্রম আইন বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান। 

বক্তারা আহত শ্রমিকদের জন্য যত্থাযত্থ ক্ষতিপূরণ দাবি করেন এবং শ্রমিকদের ওভারটাইমসহ সমুদয় বকেয়া অবিলম্বে পরিশোধ করার দাবি জানান।

;

ঘূর্ণিঝড় 'রেমাল' মোকাবিলায় বরিশাল দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরিশাল
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় 'রেমাল' মোকাবিলায় বরিশাল জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সম্মেলন কক্ষে শনিবার (২৫ মে) বেলা ১২টায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বরিশাল জেলা প্রশাসক শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে কমিটির সদস্যরাসহ জুমে সংযুক্ত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বৃন্দ। সভায় বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ রেমাল মোকাবিলায় জেলা দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার আলোচ্য বিষয়:

১. সকল ধরনের সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি সেখানে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখার জন্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

২. পর্যাপ্ত শুকনো খাবারের পাশাপাশি পানি বিশুদ্ধ করন ঔষধ, মোমবাতি, ম্যাচ, খাবার স্যালাইন, প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয় ঔষধ এর ব্যবস্থা রাখা।

৩. বরিশাল জেলায় ৫৪১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে যেখানে মানুষ আশ্রয় নিতে পারবে। পাশাপাশি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত বহুতল ভবন, অফিস সমূহ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৪. জেলার সকল স্থানে মাইকিং ও আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য প্রচার করতে হবে।

৫. প্রাণীসম্পদ রক্ষায় গুরুত্বারোপ  করতে হবে এবং পর্যাপ্ত গোখাদ্য'র ব্যবস্থা রাখতে হবে। 

৬. সিপিপি, রেড ক্রিসেন্ট সহ সকল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো দুর্যোগ মোকাবিলায় সকল ধরণের প্রস্তুতি রাখতে হবে।

৭. জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে দুর্যোগ মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম খোলা হবে।

৮. বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে যাতে স্বল্প সময়ের নোটিশে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে। 

;

দেশ ছাড়া কারও প্রতি প্রেম ভালোবাসা থাকতে পারে না: হানিফ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
দেশ ছাড়া কারো প্রতি প্রেম ভালবাসা থাকতে পারে না: হানিফ

দেশ ছাড়া কারো প্রতি প্রেম ভালবাসা থাকতে পারে না: হানিফ

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশ ছাড়া আমাদের অন্য কারও প্রতি প্রেম ভালোবাসা থাকতে পারে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ।

শনিবার (২৫ মে) সকালে রমনার আই ই বি রমনা মিলনায়তনে বঙ্গীয় সাহিত্য-সংস্কৃতি সংসদ কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৬৩তম ও কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত "শ্রদ্ধার্ঘ সভা" অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

হানিফ বলেন, কিছু মানুষের কাজে পাকিস্তানে যে আমরা ছিলাম সে বহিঃপ্রকাশ এখনো দেখা যায়। এই স্বাধীন দেশে বাস করে এখনো তাদের মাঝে পাকিস্তান প্রেম দেখা যায়। কিছু মানুষ পাকিস্তানকে এখনো তাদের প্রেমের জায়গায় রেখেছে।

আবার কিছু মানুষের মাঝে আমাদের পাশের দেশের প্রতি এখনো প্রেমের আবেগটা রক্ষিত আছে। আমাদের দেশটাকে ভালোবাসছে কে? এত ত্যাগের বিনিময়ে আমাদের দেশ, আমাদের দেশের প্রতি টানটা কোথায়?

এসময় অনুরোধ জানিয়ে আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, আপনাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে এই দেশটাকে আমরা ভালবাসি। আমাদের প্রেম, আমাদের ভালবাসা, আমাদের আবেগ সব কিছুই যেন হউক আমাদের দেশকে কেন্দ্র করে।

অনুষ্ঠানে কেপিআর (খুদে প্রতিভার রাজ্য) চিত্রশিল্পীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন হানিফ।

এ সময় বক্তব্য রাখেন কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো ভিসি অধ্যাপক মো. শাহিনুর রহমান।

;