সিলেটে চাচাতো ভাইদের হামলায় যুবক নিহত, আটক ৩



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

সিলেটের ওসমানীনগরে জায়গা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে হামলায় এক যুবক নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন নারীসহ আরও ১৫ জন। আহতদের উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে আটক করেছে।

আটককৃতরা হলেন- অভিযুক্ত একই গ্রামের মখই মিয়ার পুত্র বাদশা মিয়া, কাদির মিয়া ও তার পুত্র শাহিন মিয়া।

নিহত আনোয়ার হোসেন (৪৫) উছমানপুর ইউনিয়নের বেতখাই গ্রামের শফিকুর রহমানের পুত্র। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জায়গা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বেতখাই গ্রামের জিলু মিয়া ও তার চাচাত ভাই গনি মিয়া ও কাদির মিয়ার মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) জুম্মার নামাজের পর জিলু মিয়া তার মেয়ের কবর জিয়ারত করে প্রতিপক্ষের নির্মাণাধীন ঘরের সামনে দিয়ে আসার সময় তাকে কাদির মিয়া নিষেধ দিলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও সংঘর্ষ হয়।

এসময় উভয় পক্ষ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ওয়ালী উল্যা বদরুলের দারস্থ হলে রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) এই বিষয়টি মিমাংসার জন্য দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু শনিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯ টার দিকে গণি মিয়া, বাদশা মিয়া, কাদির মিয়া, সুমেল মিয়া, সালমান মিয়া, শাহিন মিয়া, তুফায়েল মিয়াসহ আরও কয়েকজন অতর্কিতভাবে জিলু মিয়াসহ তাদের পক্ষের লোকজনের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। হামলার সময় আনোয়ার হোসেন গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছিলেন। সেখানে গিয়ে তাকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপালে ঘটনাস্থলে আনোয়ার গুরুতর আহত হন।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় আনোয়ারসহ আহতদের উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আনোয়ার হোসেন মারা যান। হামলায় জিলু মিয়া, তার স্ত্রী হেনা বেগম, ছেলে রাসেল মিয়া, জাকির মিয়ার ছেলে মাহিদ ও নুরুল হোসেন, শফিকুরের পুত্র কবির হোসেন, নাছিমা বেগম, হাছনা বেগম, নিহত আনোয়ারের স্ত্রী রুমি বেগম ও মিজানুর রহমানসহ প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া আহত জিলু মিয়া ও তার পুত্র রাসেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।

এব্যাপারে উসমানপুর ইউপি চেয়ারম্যান ওয়ালী উল্যাহ বদরুল বলেন, বেথখাই গ্রামে চাচাত ভাইদের দ্বন্দ্বের বিষয়টি আগামী রোববার স্থানীয়দের নিয়ে মিমাংসা করার কথা ছিল। কিন্তু এর আগেই প্রতিপক্ষের হামলায় একজন নিহত হন। আমি তাৎক্ষণিক বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করি।

এবিষয়ে ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হক নিহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ জনকে আটক করেছে। বাকি অভিযুক্তদের আটকের অভিযান চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মরদেহ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্থান্তর করা হবে।

   

কর্ণফুলীতে গোসল করতে নেমে দুই ভাই নিখোঁজ, একজনের মরদেহ উদ্ধার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলী নদীতে গোসল করতে আপন দুই চাচাতো ভাই নিখোঁজের ৭ ঘন্টা পর একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছে আরও এক কিশোর।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজের ৭ ঘণ্টা পর আপনকে মৃত উদ্ধার করেছে কাপ্তাই নৌবাহিনীর ডুবুরি দল। অন্যদিকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত অন্যজনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

উদ্ধার নিহত শিশুর নাম আপন বড়ুয়া (৯)। নিখোঁজ রয়েছে সোহম বড়ুয়া (১১)। তারা সম্পর্কে চাচাতো জেঠাতো ভাই। তাদের বাড়ি উপজেলার শিলক ইউনিয়নের পূর্ব বড়ুয়াপাড়া গ্রামে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সোহমের জেঠাতো ভাই আপন বড়ুয়া ঈদ ও নববর্ষের ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে চট্টগ্রাম নগরের বাসা থেকে গ্রামের বাড়িতে বেড়াতে যায়। গ্রামের বাড়িতে থাকা সোহমের সঙ্গে ঘরের পাশে কর্ণফুলী নদীতে গোসল করতে যায় আপন। গোসলের একপর্যায়ে পানির স্রোতে তারা তলিয়ে যায়। টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন নদীতে খোঁজ চালায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের রাঙ্গুনিয়া স্টেশনে খবর দিলে চট্টগ্রাম নগর থেকে ডুবুরি গিয়ে অভিযান চালায়।

প্রতিবেশী ও শিক্ষক অর্পণ বড়ুয়া বলেন, স্থানীয় বাসিন্দা সুজন বড়ুয়ার ছেলে সোহম স্থানীয় একটি স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ও রাজু বড়ুয়ার ছেলে আপন চট্টগ্রাম নগরের একটি স্কুলের ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

রাঙ্গুনিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান সুমন বলেন, খবর পেয়ে চট্টগ্রাম নগরের ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিকে খবর দিলে তারা গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালায়। পাশাপাশি কাপ্তাই নৌ বাহিনীর ডুবুরি দলও নদীতে নামে। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান স্থগিত করলেও নৌবাহিনীর ডুবুরি দল আপনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।

;

বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে বেড়িয়ে টমটম উল্টে চালকের মৃত্যু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কক্সবাজার
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বন্ধুদের সাথে নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ি ঘুরতে গিয়ে ফেরার পথে উঁচু নিচু ঢালু রাস্তায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এক টমটম চালকের মৃত্যু হয়েছে। ওই চালকের নাম মোহাম্মদ ইসমাঈল।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) বিকেল সন্ধ্যা ৭টার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ইসমাঈল কক্সবাজার সদর উপজেলার বাসিন্দা কামাল হোসেনের ছেলে।

ইসমাইলের বন্ধু বাপ্পী জানান, তারা ১০ জন বন্ধু মিলে সিএনজি ও টমটম যোগে সোনাইছড়িতে ঘুরতে গিয়েছিলো। ফেরার পথে টমটম উল্টে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন তারা।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই বলছেন তারা মদ্যপান করেছিলো। এ বিষয়ে ইসমাঈলের বন্ধু বাপ্পীর কাছে জানতে চাইলে সে মদপানের কথা স্বীকার করে।

বাপ্পী জানান, ফেরার পথে তাদের টমটমটি দুর্ঘটনায় পতিত হয়। এতে ইসমাঈল গুরুতর আহত হলে তাকে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন তারা। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের লাশ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর নিহতের পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে।

;

ভারতে পাচার ৪ নারী দেশে ফিরলেন দেড় বছর পর



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বেনাপোল (যশোর)
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভালো কাজের প্রলোভনে বিভিন্ন সময় ভারতে পাচারের শিকার ৪ বাংলাদেশি নারীকে স্বদেশ প্রত্যাবাসন আইনে বেনাপোলে ফেরত দিয়েছে ভারতীয় পুলিশ।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫ টায় ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ পাচার হওয়া নারীদের বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে তুলে দেয়। ইমিগ্রেশন পুলিশের কার্যক্রম শেষে ফেরত আসা বাংলাদেশি নারীদের কর্মসংস্থান ও আইনী সহয়তা দিতে জাস্টিস এন্ড কেয়ার নামে এনজিও সংস্থা গ্রহণ করেছে।

ফেরত আসা নারী হলেন, মুন্সিগঞ্জের মিম আক্তার (২০), পাবনার কহিনুর (২৬), নেএকোনার নুরনাহার (২২) ও সাভারের জান্নাতুল ফেরদৌস ইতি (২১)।

জাস্টিস এন্ড কেয়ারের সিনিয়র প্রোগ্রামার অফিসার এবিএম মুহিত হোসেন জানান, ভালো কাজের প্রলোভনে সীমান্ত পথে চার বছর আগে দালালের মাধ্যমে সে ভারতে গিয়েছিল।

এসময় অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতীয় পুলিশ তাদের আটক করে জেলে পাঠায়। পরে আইনী সহয়তা দিতে আদালত থেকে ছাড়িয়ে ভারতীয় গোভারমেন্ট সেন্টার হোম নামে একটি মানবাধিকার সংস্থা তাদের হেফাজতে নেয়। চার বছর পর দুই দেশের সরকারের সহযোগীতায় তারা দেশে ফেরার সুযোগ পায়।

ফেরত আসা বাংলাদেশি নারী যদি পাচারকারীকে সনাক্ত করে আইনী সহয়তা চাইলে দেওয়া হবে বলে জানান নারীদের গ্রহণকারী এনজিও সংস্থা।

;

হত্যা মামলার আসামী হওয়ায় আ. লীগের পদ থেকে অব্যাহতি



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, জামালপুর
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

 

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান রহমতুল্লাহ রিমুকে অব্যাহতি দিয়েছে উপজেলা আওয়ামী লীগ।

উপজেলার এক সার ও কিটনাশক ব্যবসায়ী নওশের আলী হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামী হওয়ায় এবং সমবায় সমিতির নামে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রায়হান রহমতুল্লাহ রিমুকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলা আওয়ামী লীগের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সম্প্রতি মাদারগঞ্জ উপজেলার এক সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী নওশের আলীকে হত্যার অভিযোগে মাদারগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অভিযুক্ত রায়হান রহমতুল্লাহ রিমুর ফাসির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করে নিহতের পরিবার।

সংবাদটি বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যপকভাবে প্রচার হয়, তাছাড়া ওই হত্যা মামলায় এজাহারভুক্ত প্রধান আসামী হিসেবে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

পাশাপাশি রায়হান রহমতুল্লাহ রিমু মাদারগঞ্জ কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সভাপতি ও রুপসী বাংলা সমবায় সমিতির পরিচালক হিসেবে দায়িত্বে নিয়োজিত থাকাকালীন মাদারগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন সমবায় সমিতি আইন লঙ্ঘন করে গ্রাহকদের নিকট থেকে আমানত সংগ্রহ করে এবং তিন থেকে চার হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে রিমুকে জড়িয়ে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হয়। এতে আওয়ামী লীগের দলীয় ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুন্ন হয়।

মাদারগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের মাসিক সভায় এসব বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ায় মাদারগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান রহমতুল্লাহ রিমুকে অব্যাহতি প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং কেন তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবেনা তা পত্র প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবু জীবন কৃষ্ণ সাহা বার্তা২৪ ডটকমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

;