হারানো মোবাইল ফিরে পেয়ে অশ্রু সিক্ত তারা



আল-আমিন রাজু, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
হারানো মোবাইল ফিরে পেয়ে অশ্রু সিক্ত তারা

হারানো মোবাইল ফিরে পেয়ে অশ্রু সিক্ত তারা

  • Font increase
  • Font Decrease

তথ্য প্রযুক্তি ও আধুনিক যোগাযোগের এই সময়ে মোবাইল ফোন মানুষের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। যোগাযোগ ছাড়াও ব্যক্তিগত নানা কাজে এখন মোবাইল ফোন ব্যবহার হচ্ছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ মোবাইল ফোন হারানোর ঘটনাও ঘটছে অহরহ। কখনো চুরি বা ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে খোয়া যাচ্ছে শখের মোবাইলটি। হারানোর তুলনায় ফিরে পাওয়ার সংখ্যা খুবই সামান্য। তবে এক সঙ্গে অর্ধশত মোবাইল ফোন উদ্ধার করে মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে নজির স্থাপন করল মিরপুর থানা।

মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে অনেকেই আনন্দ অশ্রুতে ভেসেছেন। তাদের মধ্যে একজন রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা সাদিয়া আক্তার। গত দুই মাস আগে বাসা থেকে তার ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনটি চুরি হয়ে যায়। এরপর মিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

সাদিয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, দুই মাস পরে হঠাৎ থানা পুলিশের পক্ষ থেকে মোবাইল উদ্ধারের কথা জেনে অবাক হয়েছি। দুই মাস আগে বাসার দরজা খোলা থাকায় অবস্থায় সুযোগে মোবাইল চুরি করে নিয়ে যায়। মোবাইলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছবি ও তথ্য ছিল। মোবাইল হারিয়ে খারাপ লেগেছে। পরে নিজের নিরাপত্তার জন্য একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। দুই মাস পর সোমবার (৪ ডিসেম্বর) পুলিশ আমাকে জানিয়েছে মোবাইলটি তারা উদ্ধার করেছে। ফিরে পাবো আশা করিনি। কিন্তু ফেরত পেয়ে ভালো লাগছে। তবে মোবাইলে কোনো ডাটা নেই।

শুধু মাত্র সাদিয়া নয়। তার মতো অর্ধ শতাধিক মানুষ হারানো মোবাইল ফোন ফিরে পেয়েছেন।

মিরপুর এক নম্বরের বাসিন্দা সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, আমার শ্বশুর নামাজ পড়তে বের হয়েছেন এই সুযোগে এক নারী বাসায় প্রবেশ করে আমার মোবাইল নিয়ে যায়। নিজের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলাম। তিন মাস পর পুলিশ জানাল আমার মোবাইলটি উদ্ধার করা হয়েছে।

মোবাইল ফেরত পাওয়া ভুক্তভোগীরা বলছেন, মোবাইল হারিয়ে থানায় জিডি করার পর দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা যোগাযোগ করেছেন। তারা প্রাথমিক কিছু নিয়ে মোবাইল উদ্ধারে কাজ করেছেন।

মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে উদ্ধার হওয়া ৬০টি মোবাইল ফোন মালিকদের হাতে তুলে দিয়েছেন মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন।


ওসি মহসীন বার্তা২৪.কমকে বলেন, অনেকে মোবাইল হারিয়ে কান্না করেন। তেমনি ফিরে পাওয়াটাও তাদের জন্য আনন্দের। আমরা ৬০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছি। অনেকগুলো মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মোবাইল হারিয়ে অনেকেই আশা করেনি ফোন উদ্ধার হবে। কিন্তু আমাদের ফোন পেয়ে তারা অবাক হয়েছেন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করি মানুষের খোয়া যাওয়া মালামাল উদ্ধার করে ফিরিয়ে দিতে।

তিনি আরও বলেন, মোবাইল হারিয়ে যারা জিডি করছেন তারা সঠিক তথ্য না দিলে হারানো মোবাইল উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেওয়াটা কঠিন। আমরা উদ্ধার হওয়ার পরে মোবাইল ফিরিয়ে দিতে গিয়ে দেখেছি যারা মোবাইল হারিয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তাদের নাম, মোবাইল নম্বর ঠিক নেই। যোগাযোগের জন্য অনেকে বাড়ির মালিকের নাম্বার দিয়েছে কিন্তু বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।

মিরপুর থানার ওসি বলেন, মোবাইল উদ্ধারে মিরপুর মডেল থানায় বিশেষ একটি টিম গঠন করা হয়েছে। সেই টিমই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এসব মোবাইল উদ্ধার করে। মোবাইল হারিয়ে যাওয়া এবং চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধারে জিডি করা হয়। সেই জিডি ও মামলার সূত্রে এসব মোবাইল উদ্ধার করা হয়। মোবাইল উদ্ধারে গঠিত বিশেষ টিমের সদস্যরা হলেন- এএসআই মোঃ ওবায়দুল হাসান, এএসআই শেখ মোঃ মনোয়ার হোসেন, এএসআই মোঃ কামরুল ইসলাম।

উদ্ধার হওয়া বেশ কিছু মোবাইল ফোন ফেরত দেওয়া সম্ভব হয় নি। কারণ মোবাইলের প্রকৃত মালিক খুঁজে না পাওয়ায় হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি।

মিরপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মাসে অন্তত ৫০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেন থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। গত এক বছরে ওসি মহসীনের নেতৃত্বে ৬০০ হারানো মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। যা পরবর্তীতে ফিরিয়ে দিয়েছে পুলিশ।

   

নোনা মাঠে সোনার ফসল, অপার সম্ভবনা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, খুলনা
নোনা মাঠে সোনার ফসল

নোনা মাঠে সোনার ফসল

  • Font increase
  • Font Decrease

যব বা বার্লি, এই নামের সঙ্গে আমরা কম বেশি পরিচিত। এটি গমের মতো এক প্রকার শস্য। মহানবী (সা.) এর প্রিয় খাবারগুলোর মধ্যে একটি। এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার। রাসুল (সা.) বার্লি দিয়ে রুটি বানিয়ে খেতেন। এটি জ্বর এবং পেটের পীড়ার জন্য অনেক বেশি উপকারী।

বার্লি রাশিয়া, কানাডা, স্পেন, জার্মানি, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে উৎপাদন হয়ে থাকে। সম্প্রতি এই বার্লি খুলনা জেলার সর্বদক্ষিণের উপজেলা কয়রার নোনা ভূমিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে।

সুন্দরবন সংলগ্ন এ উপজেলাটি নদী ভাঙন যেন নিত্যদিনের সাথী। ফলে লবণ পানির জন্য উপজেলার মধ্যে মিঠা পানির কোন গাছ গাছালি তেমন চোখে পড়ে না। এ উপজেলায় মানুষ জমিতে বছরে একবার আমন চাষাবাদ করে থাকে। তাও আবার লবণ সহিষ্ণু জাতের। বছরের বাকি সময়ে পড়ে থাকে জমি।

খুলনা থেকে পাইকগাছা হয়ে কয়রায় ঢুকতেই বাগালী ইউনিয়ন। বাগালী ইউনিয়নের নদীর পাশ দিয়ে ব্লকের সড়ক। এই সড়ক ধরে যাওয়া যায় কয়রা উপজেলায়। এছাড়া খুলনা থেকে লঞ্চ যোগে ৭ ঘণ্টার পথ গিয়ে গিলাবাড়ি ঘাট। এই ঘাটের দক্ষিণ পূর্ব দিকে চলে গেছে ব্লকের সড়ক। ওই সড়ক ধরে কয়রা অভিমুখী দুই কিলেমিটার গিয়ে সড়কের বাঁ পাশে চোখ আটকে যাবে সবুজে। গোটা বিল পড়ে আছে মরুময় হয়ে। তার মধ্যে এক খণ্ড জমিতে ফাগুনের হাওয়ায় দোল খাচ্ছে ঘন সবুজ প্রকৃতি। এখানে এলেই সকল যানবাহনের গতি যেন কমে যায়। সকলের চোখ আটকে ওই সবুজ প্রকৃতিতে।

উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের এই গ্রামের নাম উলা। আর ওই জমির মালিক আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি জানান, বছরে এক আমনের বাইরে কোন চিন্তা করতে পারিনি কখনো। আমাদের নোনা পানির দেশে এক আমন হয় এটাই বেশি। তবে এবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট আমাদের ধারণা পাল্টে দিয়েছে। আমাদের মরুভূমির বুকে সবুজে ভরে দিয়েছে। আমার ৯৯ শতক জমিতে যে পরিমাণ যব হয়েছে, তা দেখতে এখন লোক আসে। পথিকেরা হা করে তাকিয়ে থাকেন মাঠের দিকে। আশা করছি যে পরিমাণ যব হয়েছে, তা বিক্রি হবে লাখ টাকায়।

গবেষণা বিভাগ খুলনার এমএলটি সাইটের বৈজ্ঞানিক সহকারী মো. জাহিদ হাসান জানান, বারি বার্লি-৭, লবণসহনশীল জাত এবং এটি ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বপন করা যায়। এই জাতে রোগ বালাই কম হয় ও ২টি সেচ হলেই যথেষ্ট। আমরা কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছি এবং বীজ সার দিয়েছি।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সরেজমিন গবেষণা বিভাগ খুলনার মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. হারুনর রশিদ জানান, বার্লি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সব খাদ্যশস্যের মধ্যে অন্যতম। উচ্চতর ডায়েটারি ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার এটি। এটি উচ্চ ফাইবারযুক্ত, গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ। অবশ্য বার্লিতে সামান্য চর্বি থাকলেও কোলেস্টেরল মুক্ত। আমাদের কৃষি গবেষণা থেকে মোট ১০টি বার্লির জাত আবিষ্কার করা হয়েছে। বার্লি বা যবের আটায় অনেক উপকারিতা আছে। বার্লির আটা খেলে তার আর পেটের রোগ এবং ডায়বেটিস আক্রান্ত হয় না।

তিনি বলেন, দক্ষিণ অঞ্চলে হাজার হাজার পতিত জমিতে বার্লি চাষের অপার সম্ভবনা রয়েছে। এবার এ অঞ্চলে যে পরিমাণ যব হয়েছে, আমরা তা বীজ হিসেবে কৃষকদের কাছ থেকে বাজার মূল্যে ক্রয় করবো।

;

একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিলেন আমেনা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরগুনা
একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম

একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম

  • Font increase
  • Font Decrease

বরগুনার তালতলীতে এক গৃহবধূ একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।

তালতলী ইসলামিয়া হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিন সন্তানের জন্ম দেন আমেনা বেগম রজি।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসলামিয়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. কানিজ ফাতিমা।

বর্তমানে তিন বাচ্চাসহ গৃহবধূ আমেনা বেগম সুস্থ রয়েছেন। আমেনা বেগম রজি তালতলী উপজেলার তুলাতলী গ্রামের কুয়েত প্রবাসী লালচানের স্ত্রী।

জানা যায়, বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রসব ব্যথা শুরু হলে গৃহবধূ আমেনা বেগম হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি হন। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক নুসরাত জাহানের নিয়মিত চেকআপে থাকায় নরমাল ডেলিভারির জন্য অপেক্ষা করেন। পরে বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪টায় গৃহবধূ অসুস্থ হয়ে পড়লে অপারেশন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক ডা. নুসরাত জাহান অপারেশন শুরু করেন। অপরেশন সফলভাবে সম্পূর্ণ হয়। সেই সাথে সুস্থ শরীরে এক এক করে তিনটি ফুটফুটে নবজাতক প্রসব করেন গৃহবধূ আমেনা বেগম রজি।

ইসলামিয়া হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক ডা. নুসরাত জাহান বলেন, নবজাতকের মধ্যে দুটি ছেলে ও একটি কন্যা সন্তান। তাদের নাম এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

নবজাতকদের চাচা মো. এরশাদ বলেন, আল্লাহ তার ভাইয়ের ঘরে একসঙ্গে তিনটি সন্তান দিয়েছেন। এর আগে আমার ভাইয়ের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

;

পরীক্ষা কেন্দ্রে ছেলে, বাবা অলিখিত কেন্দ্র সচিব!



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, জামালপুর
অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম

অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম

  • Font increase
  • Font Decrease

চলমান এসএসসি পরীক্ষার একটি কেন্দ্রের ভেনুতে ছেলে হচ্ছে পরীক্ষার্থী আর বাবা কেন্দ্রের অলিখিত সচিবের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন। ওই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা বলছেন নিজের ছেলেকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার জন্যই এ ছক তৈরি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ৪নং চর হাইস্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে।

জানা গেছে, ওই কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিমের এক ছেলে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। যার কারণে এবার তাকে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক সুলতানা বেগমকে।

কিন্তু অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম কেন্দ্র সচিব না হয়েও পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে তিনি বহাল তবিয়তে কেন্দ্রে অলিখিত কেন্দ্র সচিব হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেন্দ্রে একজন প্রশাসনিক নির্ধারিত কেন্দ্র সচিব থাকলেও ডেমো হিসেবে অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কেন্দ্রে বহিরাগতদের নিয়ে সারাক্ষণ অবস্থানসহ হলে ছোটাছুটি করেন।

এ বিষয়ে ৪নং চর হাইস্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম বলেন, তিনি কেন্দ্রের সচিব না হলেও তিনি প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ছেলে কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী হলে বাবার পরীক্ষার হলে অবস্থান করার কোন নিয়ম নেই। তার প্রশাসনিক কোন কাজ থাকলে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে সে বাহিরে গিয়ে করবে। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে পরবর্তী পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

;

করপোরেট ফুটসাল কাপের শিরোপা এশিয়ান গ্রুপের ঘরেই



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
করপোরেট ফুটসাল কাপের শিরোপা এশিয়ান গ্রুপের ঘরেই

করপোরেট ফুটসাল কাপের শিরোপা এশিয়ান গ্রুপের ঘরেই

  • Font increase
  • Font Decrease

গায়ে রঙ-বেরঙের টি শার্ট, মুখে ভুভুজেলা বাঁশির সুর। শত শত ফুটবল সমর্থক গলা ফাটাচ্ছেন এক নাগাড়ে। সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে হাততালি আর ড্রাম বাজানো তো আছেই। আর যাদের ঘিরে এত এত আবেগের বিস্ফোরণ টার্ফের সবুজ গালিচায় তারা লড়ছেন বুক চিতিয়ে। এক ঘণ্টার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে জয় তুলে নেয় এশিয়ান গ্রুপ ফুটবল দলের।

এশিয়ান গ্রুপ স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ফুটসাল টার্ফের বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতের চিত্র এটি। এশিয়ান গ্রুপের পৃৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া 'করপোরেট ফুটসাল কাপ' টুর্নামেন্টের ফাইনাল ছিল এদিন। ফাইনালে ম্যাফ সুজ ফুটবল দলকে ৬-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে জয় পায় এশিয়ান গ্রুপ ফুটবল দল।

২৪ দলের অংশগ্রহণে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় এই করপোরেট টুর্নামেন্ট। আট গ্রুপে ২৪টি দল অংশ নেয়।বৃহস্পতিবার ফাইনাল ম্যাচের মধ্যে দিয়ে পর্দা নামল এই টুর্নামেন্টের।

ফাইনাল ম্যাচ শেষে আয়োজন করা হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউর করিম চৌধুরী। মেয়র তার বক্তব্যে বলেন, সুন্দর এই আয়োজনের জন্য এশিয়ান গ্রুপকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই খেলার মধ্যে দিয়ে এশিয়ান গ্রুপ প্রমাণ করেছে মাদক-মোবাইলের নেশা থেকে খেলার নেশায় ফিরিয়ে আনা যায়। এই প্রতিযোগিতা বারবার হোক, তরুণ সমাজও উদ্বুদ্ধ হোক। খেলায় যে উদ্দীপনা দেখছি যেন গণজোয়ার ফিরে আসছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদও। তিনি বলেন, এতদিন টেলিভিশনে ফুটবল দেখেছি। আজকে প্রথম সামনে থেকে দেখলাম। সত্যি আমি আনন্দিত। ছেলে মেয়েরা মোবাইল-মাদক নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা যদি ভালো সুযোগ পায় তাহলে তারা ভালোভাবে গড়ে উঠবে। যে দেশ খেলাধুলায় উন্নত, সেই দেশ এগিয়েও। সেজন্য আমাদের খেলাধুলায় মনোনিবেশ করতে হবে। এশিয়ান গ্রুপকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্যে এশিয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ সালাম বলেন, এশিয়ান গ্রুপ তরুণদের ভালো উদ্যোগের সঙ্গে, খেলাধুলার সঙ্গে সবসময় আছে। সামনের দিনগুলোতেও থাকবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান গ্রুপের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিফ সালাম, ওয়াসিফ সালাম, তরুণ উদ্যোক্তা বোরহানুল হাসান চৌধুরী, তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা আরশেদুল আলম বাচ্চু, কাউন্সিলর মোরশেদুল আলম প্রমুখ।

;