১০ বছরে সম্পদ ও আয় বেড়েছে ফরহাদ হোসেনের 



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, মেহেরপুর
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মেহেরপুর-১ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেনের সম্পদ বেড়েছে। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তার অস্থাবর সম্পদ ছিল ৯৩ লাখ টাকার। এখন তা দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ২৭ লাখ টাকায়। ৫ বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ২ কোটি টাকার ওপরে। একইসাথে বেড়েছে তার বার্ষিক আয়।

এর আগে ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তার অস্থাবর সম্পদ ছিল ২৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকার। গত ১০ বছরে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ দুটিই বৃদ্ধি পেয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামা থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মেহেরপুর-১ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন ফরহাদ হোসেন। ২০১৪ ও ২০১৮ সালে তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে এ আসনটিতে এমপি নির্বাচিত হন। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক স্বাধীনতা পদক জয়ী (মরোনত্তোর) বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত ছহিউদ্দীনের যোগ্য উত্তরসুরী হিসেবে জায়গা করে নেন মন্ত্রিপরিষদে। গেল পাঁচ বছর তিনি জন প্রশাসন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ফরহাদ হোসেনের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, তার বার্ষিক আয় এখন ৭৭ লাখ ১ হাজার ৮৫০ টাকা। আয়ের খাতগুলো হলো- কৃষিখাত, ব্যবসা, সঞ্চয়পত্র ও প্রতিমন্ত্রীর সম্মানী, পারিশ্রমিক ও ভাতা। পাঁচ বছর আগে তার বার্ষিক আয় ছিল ১০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এর আগে ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তার বার্ষিক আয় ছিল ৬ লাখ ১২ হাজার ৩৪০ টাকা। যার উৎস ছিল চাকরি।

২০১৪ সালের নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হওয়ার আগে পেশায় শিক্ষক ফরহাদ হোসেনের চাকরি ছাড়া কৃষিখাত কিংবা ব্যবসায় কোন আয় ছিল না। ২০১৮ সালের নির্বাচনের হলফনামায় কৃষিখাত, শেয়ার-সঞ্চয় ও অন্যান্য আয় বৃদ্ধি পেয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দেওয়া হলফনামায় তার আয় আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তার বড় আয়ের খাত হলো প্রতিমন্ত্রীর পারিশ্রমিক, ভাতা, সম্মানী। এখান থেকে তার বার্ষিক আয় ২৯ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। কৃষি খাত থেকে ২৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা, ব্যবসা থেকে ১৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকা এবং শেয়ার, আমানত, সঞ্চয় থেকে ৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা।

অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে ফরহাদ হোসেনের হাতে নগদ টাকা আছে ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ২৯ লাখ ১ হাজার টাকা। বন্ড, শেয়ার বা সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ আছে ৪০ লাখ টাকা। গাড়ি আছে ১টি যার মূল্য ৭৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। স্বর্ণ আছে ২৫ ভরি এবং ইলেট্রনিক্স সামগ্রী ও আববাসপত্র রয়েছে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকার। ব্যবসায় বিনিয়োগ আছে ৩১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। শটগান ও পিস্তল ১ লাখ ৩০ হাজার টাকার এবং শেয়ার ব্যালেন্স ১২ হাজার টাকা এবং ২৫ ভরি স্বর্ণ যার দাম ৩ লাখ ২০ হাজার টাকার।

এর বিপরীতে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের ব্যক্তিগত ঋণ (বন্ধক বিহীন) আছে ৫৮ লাখ টাকা। 

২০১৮ সালের নভেম্বরে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য জমা দেওয়া হলফনামায় ব্যাংকে জমাসহ নগদ টাকার পরিমাণ ছিল ৬০ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পদ ছিল ৯৩ লাখ টাকার এবং স্থাবর সম্পদ হিসেবে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া জমির পরিমাণ ৫১ শতক। 

এবারের নির্বাচনের হলফনামায় তার কৃষি জমির পরিমাণ ২৭৪.৪৫ শতক (উত্তরাধিকার ও ক্রয় সূত্রে) এবং অকৃষি জমি ৩১.৪৩ শতক ও উত্তরা এপার্টমেন্ট প্রজেক্টে ১৬৫৪ বর্গ ফুটের ফ্লাট বুকিং রয়েছে।

মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী নামে অস্থাবর সম্পদের মধ্যে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী এর পরিমাণ ১ কোটি ২০ লাখ এবং স্বর্ণ ১৩০ ভরি (বিবাহের উপহার ও উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত)। এর মধ্যে নগদ টাকা ৪৭ লাখ, বাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আছে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, স্থায়ী আমানত ২০ লাখ, ১টি মাইক্রোবাস ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ইলেকট্রনিক্স ও আসবাবপত্র ৪ লাখ টাকার এবং ব্যবসায় বিনিয়োগ ৪০ লাখ টাকা।

গত ১০ বছরে ফরহাদ হোসেনের স্ত্রীর সম্পদও বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। ২০১৪ সালের হলফনামায় স্ত্রী অস্থাবর সম্পদ ছিল ১৪ লাখ ৭০ হাজার এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনের হলফনামায় এ পরিমাণ ৫৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

   

ঠাকুরগাঁওয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতি নিয়ে নির্মিত ‘আত্মকথন’



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, ঠাকুরগাঁও
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ঠাকুরগাঁও জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধকালীন ঘটনা ও স্মৃতি নিয়ে নির্মিত ‘আত্মকথন’ শীর্ষক ভিডিও চিত্রের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে এই ভিডিও চিত্র সংকলনের উদ্বোধন করেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার হাবিবুর রহমান।

জেলা প্রশাসক মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লিজা আক্তার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোলোমান আলীসহ জেলা উপজেলার বিভিন্ন মুক্তিযোদ্ধাগণ ।

জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও ইতিহাস নতুন প্রজন্মের মাঝে ধরে রাখতেই এই কার্যক্রম শুরু করা হয়। জেলার ৭৮৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার ৬১৫টি খণ্ড নির্মিত হয়েছে। খণ্ড চিত্রের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ, প্রশিক্ষণ গ্রহণ, রণকৌশল ও গেরিলা যুদ্ধসহ যুদ্ধকালীন বিভিন্ন ঘটনা, অভিযান, স্মৃতি স্বতস্ফুর্তভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়।

 

;

পুলিশ সদস্যদের মাদক সেবনের প্রমাণ পেলে চাকরি যাবে: আইজিপি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পুলিশ সদস্যদের মাদক সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের প্যারেড গ্র্যাউন্ডে ‘আইজিপি’স এক্সেমপ্ল্যারি গুড সার্ভিসেস ব্যাজ (আইজি’জ ব্যাজ) ও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী ইউনিটদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমাদের কোন সদস্য যদি মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে সাধারণ মানুষের চেয়েও বেশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মাদকের সংশ্লিষ্টতা থাকলে শুধু মামলা দেওয়া হয়। আর পুলিশ সদস্যদের মাদক খাওয়ার প্রমাণ পেলে চাকরিও যাবে মামলাও হবে।

তিনি বলেন, নিয়োগের সময় আমরা প্রতিটি সদস্যকে ডোপ টেস্টের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে থাকি। যারা মাদকাসক্ত তাদেরকে সতর্ক করে দিচ্ছি, মাদকাসক্ত হলে কেউ চাকরি পাবেন না।

পুলিশ প্রধান বলেন, মাদক ও দুর্নীতি সমাজের নীরব ঘাতক। মাদক বিরোধী অভিযানে বাংলাদেশ পুলিশ জয়ী হবে। জঙ্গি-সন্ত্রাস যেভাবে নিয়ন্ত্রণে এনেছি, সেভাবে মাদক নিয়ন্ত্রণেও সফল হতে হবে। সকলকে এ বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। জঙ্গি-মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি রয়েছে। যে কোন ঘটনা ঘটলে দ্রুততম সময়ে আমরা অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসছি।

স্মার্ট বাংলাদেশের উপযুক্ত পুলিশ গড়ে তুলতে কাজ করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পুলিশকে জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আমরা কাজ করছি। থানাকে প্রতিটি মানুষের আস্থা ও ভরসার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠাত করতে চাই। যাতে সবাই নির্ভয়ে থানায় আসতে পারেন সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত মনিটরিং করা হচ্ছে। বেশিরভাগ থানাতেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, যা রেঞ্জ ডিআইজি অফিস থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। পুলিশের প্রত্যেকটি সদস্য সেবা দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। যে কোন পরিস্থিতিতে নিজের জীবন দিয়ে পুলিশ সদস্যরা সেটি প্রমাণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশের নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা সর্বক্ষেত্রে প্রশংশিত হচ্ছে। আমরা নিয়োগ প্রক্রিয়ার অধিকাংশ কাজ স্মার্ট পদ্ধতিতে সম্পন্ন করছি। ঘরে বসে আবেদন করতে পারছে, কোথায় পরীক্ষা সেটা জানতে পারছে, ফলাফলও ঘরে বসে পেয়ে যাচ্ছে। কোন দালাল বা ফরিয়া এরমধ্যে নেই। ইতোমধ্যে দেশবাসী এর সুফল ভোগ করছে।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের 'সোনার বাংলা' তথা প্রধানমন্ত্রীর 'স্মার্ট বাংলাদেশে' মাদক, জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদের কোনো স্থান নেই।

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনাদের প্রযুক্তিনির্ভর, গণমুখী, সেবামুখী, জনবান্ধব তথা নারী ও শিশুবান্ধব বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে।

;

খাল-নালা পরিস্কার থাকলে জলাবদ্ধতা কমবে: চসিক মেয়র



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

খাল-নালায় জমে থাকা মাটি-পলিথিন পরিস্কার করতে পারলে বর্ষায় জলাবদ্ধতা কমবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র মুক্তিযোদ্ধা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে স্থানীয় সরকার দিবস উপলক্ষে অর্ধশতাধিক পরিচ্ছন্নকর্মী সঙ্গে নিয়ে প্রবর্তকের রূপালি গিটার চত্বরের পাশের নালা পরিচ্ছন্ন করেন মেয়র রেজাউল।

এ সময় নালায় বাথরুমের ভাঙা কমোড, পুরোনো লেপ তোষক এবং মেডিক্যাল বর্জ্যসহ বিভিন্ন অপচনশীল বর্জ্য দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মেয়র।

মেয়র বলেন, নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে আমরা বছরব্যাপী বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়েছি। কিন্তু কিছু মানুষের অসচেতন আচরণ নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার পেছনে বড় বাধা। এজন্য আমরা সচেতনতা বাড়াতে জোর দিচ্ছি।

'মানুষ সচেতন না হলে আমরা কখনোই এ শহর পরিস্কার রাখতে পারবো না। জনগণ যদি সচেতন হয় ভৌগোলিক কারণে বর্ষায় পানি উঠলেও দ্রুত নেমে যাবে। এরপরও কেউ অযথা নালায় ময়লা ফেললে যার প্রতিষ্ঠান-বাসার সামনে ময়লা পাবো তাকে আইনের আওতায় আনবো, জরিমানা করবো।'

জলাবদ্ধতা কমাতে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় আছে জানিয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অধীনে নগরীর ৩৬টি খালে জলাবদ্ধতা নিরসনে উন্নয়ন কাজ চলছে। এতগুলো খালের মাটি উত্তোলন, রিটেইনিং ওয়াল, গাইড ওয়াল, স্লাব বসানো সময়সাপেক্ষ কাজ। তাই সিডিএ’কে জানিয়েছি যাতে বর্ষার আগে অন্তত চলমান প্রকল্পের অধীন নালা-খালগুলোর জমে থাকা মাটি যাতে সরিয়ে নেওয়া হয়। খাল-নালা পরিস্কার থাকলে জলাবদ্ধতা কমবে। নগরীর অভ্যন্তরীণ নালার দায়িত্ব আমাদের। আমরা এগুলো পরিস্কার করছি, মাটি উত্তোলন করছি। এটা চলমান থাকবে।

এ সময় চসিক কাউন্সিলর মো. নূর মোস্তফা টিনু, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা কমান্ডার লতিফুল হক কাজমী, নির্বাহী প্রকৌশলী মীর্জা ফজলুল কাদের, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মোরশেদুল আলম চৌধুরী, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. শরফুল ইসলাম মাহিসহ পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মীরা পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমে অংশ নেন।

;

পুনাক'র বার্ষিক সমাবেশ ও আনন্দমেলা অনুষ্ঠিত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) এর বার্ষিক সমাবেশ ও আনন্দমেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন অডিটোরিয়ামে জমকালো আয়োজনে এ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। 

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহামান্য রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনী ফার্স্ট লেডি ড. রেবেকা সুলতানা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডা. তৈয়বা মুসারারাত জাঁহা চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফার্স্ট লেডি বলেন, পুলিশ পরিবারের নারী সদস্যদের একটি কল্যাণধর্মী প্রতিষ্ঠান 'পুনাক'। সংসার সামলে নারীদের কল্যাণে ও উন্নয়নে তারা ‘পুনাক’কে দিয়েছেন একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ। পুনাক দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময়ের পুরনো একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। এই দীর্ঘ সময়ে পুলিশ পরিবারের নারীদের কল্যাণে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে পুনাক। শুধু নারীদের নয়, শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভার সুষ্ঠু বিকাশেও সংগঠনটি ভূমিকা রাখছে। প্রথাগত বৃত্তের বাহিরে গিয়ে বৃহত্তর সমাজ ও সাধারণ মানুষের কল্যাণেও কাজ করে চলেছে পুনাক- যা অত্যন্ত প্ৰশংসনীয়৷

বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক) এবং স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান দৃষ্টি উন্নয়ন সংস্থা (ডাস) এর যৌথ উদ্যোগে চক্ষু বিষয়ক ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করে আসছে। ‘পুনাক’ ও সাওল হার্ট সেন্টার বাংলাদেশ এর যৌথ উদ্যোগে বিনা তেলে রান্না প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা আয়োজন এবং সাওলের ইয়োগা-মেডিটেশন ও ব্যায়াম প্রশিক্ষণ প্রদানও ব্যতিক্রমধর্মী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

এছাড়া দুস্থদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে দেশের বিভিন্ন জেলায় স্বাস্থ্য ক্যাম্প আয়োজন, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে আলোচনা, পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিয়মিতভাবে র‍্যালি আয়োজন করছে পুনাক। পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘প্লাস্টিক, পলিথিন বর্জন করি পরিবেশবান্ধব জীবন গড়ি' শিরোনামে শোভাযাত্রার আয়োজন পুনাকের একটি সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। নারী অধিকার রক্ষায় আইন, কিশোরী মেয়েদের নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মশালা, প্রতিবন্ধী নারীদের সম্পদ বন্টনসহ বিভিন্ন আইনি জটিলতায় নারীর করণীয় বিষয়ে আলোচনা ও কর্মশালার আয়োজনের মাধ্যমে পুনাক দুস্থ ও অসহায় নারীদের আইনি সহযোগিতা প্রদানের ক্ষেত্রে
উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।

বন্যাদুর্গত ও দুস্থদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, দুস্থ ছেলেমেয়েদেরকে শিক্ষা উপকরণ প্রদানসহ ‘পুনাক’-এর সমাজহিতৈষী কর্মকাণ্ড আমাদের সামগ্রিক উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখছে। দুস্থ ও সমাজের অবহেলিত জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করার জন্য আমি পুনাকের প্রাক্তন সভানেত্রীগণসহ সংগঠনটির সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি আশা করি, পুনাকের বর্তমান সভানেত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে মানবহিতৈষী এ সকল কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. তৈয়বা মুসারারাত জাঁহা চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে পুলিশ পরিবারের সদস্যগণের সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে পুনাক নানা সামাজিক সচেতনমূলক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে আসছে। নারীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, মানবিক কার্যক্রম ও শিশুর বিকাশে নানা কল্যাণকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে ঐতিহ্যবাহী পুনাক আজ স্বমহিমায় উদ্ভাসিত। আর্থ-সামাজিক কর্মকান্ডে পুনাকের সৃজনশীল, ব্যতিক্রমী ও স্বতঃস্ফুর্ত পদচারণা সুধী মহলে ব্যাপকভাবে প্রশাংসিত হয়েছে। দেশের কল্যাণে নিত্য নিবেদিত প্রাণ, উদ্যমী পুনাক সদস্যদের কার্যক্রমে অর্জিত সাফল্যের জন্য আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত, উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও বহুমুখী কর্মকুমালতার মাধ্যমে আমরা এগিয়ে যেতে চাই বহুদূর।

তিনি আরও বলেন, অন্যান্য কর্মসূচীর পাশাপাশি সম্প্রতিককালে পুনাকের উদ্যোগে পিছিয়ে পড়া সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ ও ফ্রি চিকিৎসা সেবা প্রদান করেছি। এছাড়া আমরা অবহেলিত, সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হিজড়া জনগোষ্ঠী, বৃদ্ধ, দুঃস্থ এবং প্রতিবন্ধীদের মাঝে শীতবস্ত্রসহ আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছি।

শিশুদের মেধা বিকাশে আমরা পুলিশ লাইন্স স্কুলগুলোতে শিক্ষাবৃত্তির সংখ্যা অনেক বাড়িয়ে নিয়েছি। আমরা চাই এই স্কুলগুলো থেকে আরও মেধাবী শিশুদের বিকাশ হউক এবং এসব মেধা দেশের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সংযুক্ত হয়ে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার পদক্ষেপ হউক। বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য বিষয়ক কার্যক্রমের সাথে সমন্বয় করে আমরা জরায়ুমুখ ক্যান্সারের টিকা দেওয়ার কর্মসূচী সারাদেশব্যাপী পুনাক সদস্যসহ পরিবারের জন্য বাস্তবায়ন করছি।

সবশেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর সমাপ্তি হয়।

;