তিতাস কেনো আবাসিকের গ্যাস বিল বাড়াতে চায়!



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম ঢাকা
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

লালমাটিয়ার বাসিন্দা ডা. মনিরুল ইসলাম গ্যাসের প্রিপেইড মিটার ব্যবহার করেন। মাসে ৫০০ টাকার গ্যাসেই শেষ করতে পারেন না। মিটার ভাড়াসহ কোন কোন মাসে ৪০০ টাকাতেই চলে যায়।

ডা.মনিরুল ইসলামের আরেকটি বাসা রয়েছে সাভারের অরুনা পল্লীতে। সেখানে কেউ না থাকলেও প্রতিমাসে ১০৮০ টাকা করে বিল দিয়ে যেতে হচ্ছে তাকে। অথচ তার দু’টি সংযোগেই একই বিতরণ প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি অধীনে। মাত্র কয়েক মাইলের ব্যবধানে তার এই দুই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বার্তা২৪.কমকে। আবার তার বাসার উল্টোদিকে ধানমন্ডিতেই মিটারবিহীন গ্রাহকদের বাড়তি বিল দিতে হচ্ছে গ্রাহককে।

তিনি বলেন, আমার লালমাটিয়ার বাসায় ৫ জনের রান্না হয়। কখনই ৫০০ টাকার বেশি রিচার্জ করতে হয়নি। আর যেখানে আমরা থাকি না তারজন্য টানা ৩ বছর ধরে বিল দিয়ে যাচ্ছি। তাও আবার দ্বিগুণের চেয়ে বেশি।

মনিরুল ইসলাম আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, পত্রিকায় নিউজ দেখি গ্রাহকের পকেট কেঁটে প্রফিট বোনাস নেওয়া হচ্ছে। পত্রিকায় দেখেছিলাম কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা গতবছর প্রত্যেকে ১৮ লাখ টাকা করে বোনাস পেয়েছে। আমরা বিল দিয়ে মরি আর তারা টাকার পাহাড় গড়ছে।

প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী রূপনগর আবাসিক এলাকার (রোড ১৯) বাসিন্দা আবেদ আলী বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৪ জন। সাড়ে ৩’শ থেকে সাড়ে ৪’শ টাকার রিচার্জে মাস পার হয়ে যায়। গ্যাসের প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা কমবেশি এমনই। যাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা বেশি তাদের সর্বোচ্চ ৬’শ টাকা খরচ হচ্ছে।

মিটারবিহীন আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বিল আদায় করা হয়। যা বর্তমানে দুই চুলা ৬০ ঘনমিটার ও এক চুলা ৫৫ ঘনমিটারের সমান। গ্রাহক ব্যবহার করুক, না করুক অথবা বেশি ব্যবহার করলেও । গ্যাসের বিতরণ কোম্পানিগুলো দশকের পর দশক ধরে বলে আসছে মিটারবিহীন আবাসিক গ্রাহকরা গ্যাস বেশি পুড়ছে। এ কথা বলে দফায় দফায় দাম বাড়িয়ে নেওয়া হয়। তাদের বক্তব্য ছিল মিটার স্থাপন করলে তাদের রাজস্ব বেড়ে যাবে। কিন্তু লালমাটিয়া (২০১৬ সালে) এলাকায় প্রথম প্রিপেইড মিটার বসানো হলে রেজাল্ট এলো উল্টো। দেখা গেলো প্রি-পেইড মিটার ব্যবহারকারিদের বিল আসছে দেড়’শ থেকে আড়াই’শ টাকা (তখন মিটারবিহীন গ্রাহকদের বিল ছিল দুই চুলা ৪৫০ টাকা )।

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ ২০১৬ সালে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বলেছিলেন, প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের পাইলট প্রকল্পের রেজাল্ট ভালো। দুই চুলায় মাসে ৩৩ ঘন মিটার গ্যাস সাশ্রয় হচ্ছে। তখন দুই চুলায় ৭৭.৪১ ঘনমিটারের বিল নির্ধারিত ছিল। অর্থাৎ ৪৫ ঘনমিটার গ্যাস পুড়ছে গ্রাহকরা।

পাইলট প্রকল্পের আগে গ্যাসের প্রিপেইড মিটার স্থাপনের তৎপরতা ছিল লক্ষ্যণীয়। কিন্তু এখন যতটা পারা যায় বিলম্বিত করার কৌশলী অবস্থান নিয়েছে বিতরণ কোম্পানিগুলো। ৩৮ লাখ আবাসিক গ্রাহকের মধ্যে ৮ বছরে মাত্র ৪ লাখের মতো মিটার স্থাপন হয়েছে। কোম্পানিগুলোর ধীরে চলো নীতির কারণে গ্রাহক যাতে নিজে কিনে বসাতে পারে সে জন্য চাপ দেয় বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

বিইআরসি-২০১৮ সালে গ্যাসের দাম বৃদ্ধির আদেশে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের দ্রুত করার আদেশ দেন। গ্রাহক যাতে নিজেরা মার্কেট থেকে মিটার কিনে স্থাপন করতে পারে সেই সুবিধা উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়। সে অনুযায়ী দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর ২০২১ সালে একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। সেই নীতিমালায় বলা হয়েছে গ্রাহক নিজের পছন্দমতো দোকান থেকে মিটার ক্রয় করে বিতরণ কোম্পানিতে জমা দেবেন। বিতরণ কোম্পানিগুলো পরীক্ষা করে গ্রাহকের আঙ্গিনায় স্থাপন করবে। তবে নানা জটিলতা দেখিয়ে আটকে রাখা হয়েছে। বাজারের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি দামে মিটার স্থাপন করছে কোম্পানিগুলো। তাও আবার ঢিমেতালে। কোম্পানিগুলো একে লুটপাটের নতুন খাত হিসেবে ভাবতে শুরু করেছে।

বিইআরসি গত বছরের মার্চে সর্বশেষ গ্যাসের দাম বৃদ্ধির উপর গণশুনানি গ্রহণ করে। তখন বিতরণ কোম্পানিগুলোর প্রিপেইড গ্রাহকের ব্যবহারের পরিসংখ্যানের উপর ভিত্তি করে এক চুলা ৭৩.৪১ ঘনমিটার ও দুই চুলা ৭৭.৪১ ঘনমিটার থেকে কমিয়ে যথাক্রমে ৫৫ ও ৬০ ঘনমিটার করা হয়।

তিতাস গ্যাস বিদ্যমান এক চুলা ৫৫ ঘনমিটার (৯৯০ টাকা) বাড়িয়ে ৭৬.৬৫ ঘনমিটার (১৩৭৯.৭০ টাকা), দুই চুলা ৬০ ঘনমিটার (১০৮০ টাকা) থেকে বাড়িয়ে ৮৮.৪৪ ঘনমিটার (১৫৯১.৯২) করার আবেদন করেছে বিইআরসির কাছে। আবেদনটি চলতি বছরে মে মাসে জমা দিলেও ব্যাপক বিতর্কের পর বিষয়টি অনেকটা ধামাচাপা পড়ে যায়। তবে সম্প্রতি বেশ গোপনে এ বিষয়ে আবার তৎপরতার শুরুর কথা জানা গেছে।

তিতাসের গ্যাস বিল বাড়ানোর প্রস্তাব শিগগিরিই কমিশনের সভায় তোলা হবে বলে জানিয়েছেন বিইআরসি চেয়ারম্যান নুরুল আমিন।

তিতাস দাবি করেছেন, নির্ধারিত পরিমাণের (৫৫ ও ৬০ ঘনমিটার) চেয়ে মিটারবিহীন গ্রাহকগন বেশি গ্যাস ব্যবহার করে। ফলে সিস্টেম লস বৃদ্ধি পেয়েছে। এক চুলা ৭৬.৬৫ ঘনমিটার ও দুই চুলা ৮৮.৪৪ ঘনমিটার করার আবেদন করা হয়েছে। বিইআরসি আগে যে আদেশ দিয়েছে তা বাস্তব সম্মত ছিল না।

বিইআরসির সাবেক সদস্য (তৎকালীন সদস্য- গ্যাস) মকবুল ই-এলাহী চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আমারতো মনে হয় ৫০ ঘনমিটারের নিচে করা উচিত ছিল। প্রথমবার জন্য যথাক্রমে ৫৫ ও ৬০ ঘনমিটার করা হয়েছিল। তখন শর্ত দেওয়া হয়, প্রিপেইড মিটার বসানো এবং পরবর্তীতে কমিয়ে আনার।

কিসের ভিত্তিতে ৫৫ ও ৬০ ঘনমিটার করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, তাদের যে সাড়ে ৩ লাখ প্রিপেইড মিটার ছিল সেখানে দেখা গেছে গড়ে ৪৫ এর নিচে ব্যবহৃত হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাড়ে ৩ লাখ মিটারকে বিবেচনা করবেন, নাকি তাদের (তিতাস গ্যাস) ১০০ মিটারকে। কোন বিশেষ এলাকায় যদি বেশি গ্যাস ব্যবহার হয়, তাহলে সেখানে দ্রুত মিটার বসিয়ে দিলেই হয়, তার জন্য ৩৪ লাখ গ্রাহকের বিল বাড়ানো যৌক্তিক হবে না।

মিটারবিহীন আবাসিক গ্রাহকের গ্যাস বিল বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু করেছে বিইআরসি। দু’একজন কর্মকর্তা তিতাস ও পেট্রোবাংলার সঙ্গে যোগসাজসে মাঠে নেমেছেন বলে জানা গেছে। তারা চান দ্রুততার সঙ্গেই তিতাসের আবেদন বাস্তবায়ন করতে।

কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, তিতাসের ওই আবেদনে সাড়া দিতে গেলে বিইআরসিকে অবশ্যই গণশুনানি করতে হবে। গণশুনানি ছাড়া বিল বাড়ানোর কোন সুযোগ নেই। গণশুনানি শুরু হলে সেখানে এ বিষয়ে তথ্য উপাত্ত দিয়ে কথা বলা হবে। বিল বাড়ানোর কোন যৌক্তিকতা দেখি না।

 

   

ইসলামী ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামী ব্যাংক ট্রেইনিং অ্যান্ড রিসার্চ একাডেমি (আইবিটিআরএ)’র উদ্যোগে “ইসলামী ব্যাংকিং লিকুইডিটি ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ফিনটেক” শীর্ষক এক্সিকিউটিভ ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে এ প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়। 

ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও মুহাম্মদ মুনিরুল মওলার সভাপতিত্বে ইসলামী ব্যাংকিং লিকুইডিটি ম্যানেজমেন্টের ওপর আলোচনা করেন মালয়েশিয়ার আইএনসিইআইএফ ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ড.ওবাইয়েতুল্লা ইসমাত বাছা ও ইসলামিক ফিনটেকের উপর আলোচনা করেন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ড. আলী জ্যাং।

স্বাগত বক্তব্য দেন অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর মুহাম্মদ কায়সার আলী। অনুষ্ঠানে ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর জে কিউ এম হাবিবুল্লাহ এফসিএস ও মো: আলতাফ হোসাইন, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ সাব্বির ও কাজী মো: রোজাউল করিমসহ প্রধান কার্যালয়ের উর্ধতন নির্বাহীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সকল জোন ও শাখা প্রধানগণ জুম প্লাটফর্মের মাধ্যমে সংযুক্ত ছিলেন।

প্রফেসর ড.ওবাইয়েতুল্লা ইসমাত বাছা বলেন ইসলামিক ব্যাংকিং সারা বিশ্বে দ্রুত প্রসার হচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ইসলামিক মানি মার্কেটের প্রসার ও। কনভেনশনাল ব্যাংকিং যেভাবে আর্থিক বাজারে যত ব্যাপকভাবে প্রবেশ করতে পারে ইসলামিক ব্যাংকিং সেভাবে প্রবেশ করতে পারে না। তবুও ইসলামি ব্যাংকিংয়ের প্রসারতা ব্যাপক।

ড. আলী জ্যাং বলেন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে আর্থিক অন্তর্ভুত্তিতে ফিনটেক উল্ল্যেখযোগ্য অবদান রাখছে। ব্যাংকের কার্যকলাপকে আরো সহজ ও নির্ভরশীল করতে এআই, ব্লক চেইন ও বিগ ডেটার মত আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ করা উচিৎ। তিনি ইসলামী ব্যাংকের প্রযুক্তি ভিক্তিক সেবা সমূহের প্রশংসা করেন।

মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা সভাপত্বির বক্তব্যে বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইসলামী ব্যাংক দক্ষতার সঙ্গে লিকুইডিটি ম্যানেজমেন্ট করে যাচ্ছে। তাছাড়া ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের সুবিধা বিবেচনায় ফিনটেক প্রযুক্তিতে জোর দিয়ে যাচ্ছে। ইসলামী ব্যাংকের ফিনটেক অ্যাপ-সেলফিন বর্তমানে দেশে বহুল ব্যবহৃত ও জনপ্রিয় অ্যাপ। তিনি আরো বলেন ইসলামী মানি মার্কেটের ব্যাপকতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে ইসলামী ব্যাংকের প্রযুক্তি ভিক্তিক সেবা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

;

ওয়ালটনের পৃষ্ঠপোষকতায় বুয়েটে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ল্যাব উদ্বোধন, বাইক উপহার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মাল্টিন্যাশনাল বাংলাদেশি ব্র্যান্ড ওয়ালটনের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ ল্যাব উদ্বোধন করা হয়েছে। সেই সঙ্গে গবেষণার জন্য ওয়ালটনের তৈরি তাকিওন ১.০০ মডেলের ইলেকট্রিক বাইক উপহারও দেওয়া হয়।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ওয়ালটন থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গবেষণা ও উদ্ভাবনে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যয়ে ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশনের অংশ হিসেবে বুয়েটে গড়ে তোলা হয়েছে ওই ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ ল্যাব। ল্যাবটির পৃষ্ঠপোষকতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় রয়েছে, ওয়ালটন গ্রুপের অন্যতম অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং (ইসিই) ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ ল্যাবের উদ্বোধন করেন বুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার এবং ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এস এম রেজাউল আলম।

বুয়েটকে ই-বাইক উপহার ওয়ালটনের

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের এডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এএমডি) লিয়াকত আলী, ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি’র এএমডি মেজর জেনারেল (অব.) ইবনে ফজল শায়েখুজ্জামান, বুয়েটের রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (রাইজ)-এর পরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আনিসুজ্জামান তালুকদার, ফ্যাকাল্টি অব পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের ডিন প্রফেসর ড. আবু রায়হান মো. আলী, ফ্যাকাল্টি অব সায়েন্সের ডিন প্রফেসর ড. জীবন পোদ্দার, ফ্যাকাল্টি অব মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন প্রফেসর ড. মো. এহসান, ফ্যাকাল্টি অব ইইই’র ডিন প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম, ফ্যাকাল্টি অব আর্কিটেকচার অ্যান্ড প্ল্যানিংয়ের ডিন প্রফেসর ড. ইশরাত ইসলাম এবং ফ্যাকাল্টি অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিন প্রফেসর ড. মো. শফিউল বারি, ওয়ালটন কম্পিউটারের চিফ বিজনেস অফিসার (সিবিও) মো. তৌহিদুর রহমান রাদ এবং ওয়ালটন ডিজিটেকের ডেপুটি হেড অব মার্কেটিং তানজিমুল হক তন্ময় প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ওয়ালটন ডিজি-টেকের বিভিন্ন প্রোডাক্ট লাইন নিয়ে বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন করেন সিবিও মো. তৌহিদুর রহমান রাদ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীরা উদ্ভাবনী মেধায় সমৃদ্ধ। কিন্তু গবেষণার পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় তারা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে। এখন ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশনের মাধ্যমে তারা ওয়ালটনে গবেষণা ও উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করতে পারছেন। সেজন্য ওয়ালটনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমাদের সবার অবদানে দেশীয় শিল্পখাত সমৃদ্ধ হবে। বাংলাদেশের পণ্য বিশ্বজয় করবে। ওয়ালটন বাংলাদেশের টেক জায়ান্ট। ওয়ালটন এখন অনেক বড় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বুয়েট সবসময়ই ওয়ালটনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। আমাদের প্রকৌশলীরা ওয়ালটনের মতো দেশীয় প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পেরে গর্ববোধ করছে। এই রিসার্চ ল্যাব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ওয়ালটন এবং বুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।

দেশের শিল্পখাতে বুয়েটের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বুয়েটের ভিসি ড. সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেন, স্থানীয় শিল্পখাতের উন্নয়নে বুয়েট সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। আমরা দেশীয় পণ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে সরকারকে সবময় পরামর্শ দিয়ে আসছি। দেশীয় শিল্পকে নীতিগত সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের আরো আন্তরিক হতে হবে।

ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান এস এম রেজাউল আলম বলেন, আমাদের প্রকৌশলীরা মেধাবী। তাদের মেধা কাজে লাগাতে হবে। আমাদের যে সামর্থ্য আছে, সেটার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে আমাদের শিল্পখাত অনেক এগিয়ে যাবে। দেশ এগিয়ে যাবে। আমরা সমৃদ্ধশালী হবো।

তিনি বলেন, দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো গবেষণা ও উদ্ভাবনের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু তাদের কাজের স্বীকৃতি ও ব্র্যান্ডিং হচ্ছে না। বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও মেশিনারিজের সমন্বয় ঘটছে ওয়ালটনে। ফলে, মেধাবীরা ওয়ালটনে সুযোগ পাবেন প্রযুক্তি নিয়ে আরো নিবিড়ভাবে কাজ করার।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য ওয়ালটনকে অন্যতম সেরা গ্লোবাল ব্র্যান্ডে পরিণত করার মাধ্যমে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা। দেশের মেধাবী প্রকৌশলীরা যখন দেশেই গবেষণা ও উদ্ভাবনের পর্যাপ্ত সুযোগ পাবেন, তখন সেই লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে। সেজন্য ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবরেশনের মাধ্যমে এই ল্যাব তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ইনোভেশন ও প্রযুক্তিগত শিল্পের উন্নয়নে ওয়ালটন এবং বুয়েট একসঙ্গে কাজ করছে। বুয়েটের সঙ্গে আমাদের এই সুগভীর সম্পর্ক চলমান থাকবে। আমাদের প্রত্যাশা, এই রিসার্চ ল্যাব প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে স্বনামধন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এবং ওয়ালটন উভয় পক্ষই উপকৃত হবে।

রিসার্চ ল্যাব উদ্বোধনের পাশাপাশি বুয়েটকে নিজস্ব কারখানায় তৈরি পরিবেশবান্ধব ই-বাইক- ‘তাকিওন ১.০০’ উপহার দিয়েছে ওয়ালটন। বুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলরের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ই-বাইকের চাবি হস্তান্তর করেন ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান এস এম রেজাউল আলম।

জানা গেছে, গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে নতুন মডেলের এই ইলেকট্রিক বাইক বাজারে ছাড়ে ওয়ালটন। পরিবেশবান্ধব এই ই-বাইক সাশ্রয়ী মূল্যে বাজারে আসে ৩টি ভার্সনে। মাত্র ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা চার্জে এই বাইকে ৭০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দে্ওয়া যায়। প্রতি কিলোমিটারে সর্বোচ্চ খরচ পড়ছে মাত্র ১৫ পয়সা।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি গবেষণার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে ওয়ালটন। ওয়ালটন কারখানায় বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিনিয়ত গবেষণা ও উদ্ভাবন (রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন) কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এ কার্যক্রম গতিশীল করছে শিল্পখাত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগ।

এরই প্রেক্ষিতে সম্প্রতি প্রযুক্তিপণ্যের গবেষণা ও উদ্ভাবনে পারস্পরিক জ্ঞান বিনিময়ের উদ্দেশ্যে বুয়েটসহ দেশের শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে ওয়ালটন। এসব চুক্তি ও রিসার্চ ল্যাব চালুর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ওয়ালটন কারখানায় গবেষণা ও কাজের সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে- গ্রাজুয়েট ও আন্ডারগ্রাজুয়েট শিক্ষার্থীদের থিসিস, কারখানায় ইন্টার্নশিপ ও ট্রেইনিং, পরামর্শক দলের কারখানা পরিদর্শন, কর্মী উন্নয়ন ইত্যাদি।

চুক্তির অংশ হিসেবেই বুয়েটে গড়ে তোলা হয়েছে, এই ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ ল্যাব। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, এই রিসার্চ ল্যাব চালু হওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা এবং প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনখাত আরো সমৃদ্ধ হবে। পাশাপাশি ‘ব্রেইন ড্রেইন’-এর মতো অভিশাপের মাধ্যমে দেশের মেধা পাচার বন্ধ হবে। দেশের শিল্পোন্নয়নে দেশের মেধা কাজে লাগবে। আগামীদিনে দেশকে নেতৃত্ব দিতে তরুণ প্রজন্ম তৈরি হবে।

;

ডেপুটি গভর্নর হলেন খুরশীদ আলম ও হাবিবুর রহমান



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন ডেপুটি গভর্নর হলেন মো. খুরশীদ আলম ও ড. হাবিবুর রহমান। তাদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়।

খুরশীদ আলম বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক-১ হিসেবে কর্মরত আছেন। ড. হাবিবুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ। এখন দু’জনকেই নিয়মিত চাকরি থেকে স্বেচ্ছা অবসর নিয়ে ডেপুটি গভর্নরের চুক্তিভিত্তিক পদে যোগদান করতে হবে।

গত ২ ফেব্রুয়ারি একেএম সাজেদুর রহমান খান এবং ২৩ ফেব্রুয়ারি আবু ফরাহ মো. নাছেরের ডেপুটি গভর্নর হিসেবে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর এ দু’টি পদ খালি হয়। আবু ফরাহ মো. নাছের পলিসি অ্যাডভাইজার হিসেবে আগামী এক বছরের জন্য নিয়োগ পাচ্ছেন।

;

মুডি’স মূল্যায়নে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের অবস্থান সুদৃঢ়



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আন্তর্জাতিক রেটিং এজেন্সি মুডি’স ইনভেস্টর সার্ভিস সাম্প্রতিক মূল্যায়নে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের আউটলুক স্থিতিশীল হিসেবে প্রকাশ করেছে।

এই রেটিংয়ের মাধ্যমে পরবর্তী ১২ থেকে ১৮ মাসে ব্যাংকের সম্পদের গুণগত মান, ভারসাম্যপূর্ণ স্থিতিশীল তারল্যের প্রতি মুডির আস্থা প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলাদেশে চ্যালেঞ্জিং তারল্য পরিস্থিতি সত্ত্বেও, ২০২৩ এর জুন এবং সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক স্থায়ী আমানত বৃদ্ধিতে স্থিতিশীলতা প্রদর্শন করেছে, যা আমানতকারীদের আস্থা বৃদ্ধির ইঙ্গিত বহন করে।

সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের রেটিং উন্নতিতে যেসব বিষয়গুলো ভূমিকা রেখেছে তার মধ্যে অন্যতম হলো বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য বৃদ্ধি, যা প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স প্রেরণের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। উপরন্তু, রিটেইল সেবাকে বহুমুখী করে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য ব্যাংকটি বৈচিত্রপূর্ণ আমানত প্রকল্প চালু করে আমানতের ভিত্তিকে করেছে মজবুত। এর ফলে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলনের ঝুঁকি হ্রাস পেয়েছে। এতে ব্যাংকের আর্থিক অবস্থানকে আরও দৃঢ় করেছে।

তাছাড়া, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক আগের বছরের তুলনায় আর্থিক সক্ষমতা সূচকে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর নাগাদ, ব্যাংকের নন-পারফর্মিং বিনিয়োগের পরিমাণ ৪.৭ শতাংশ থেকে ৪.৬ শতাংশে হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে কমন ইক্যুইটি টায়ার-১ রেশিও ৭.০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৭.১ শতাংশে পৌঁছেছে। এর পাশাপাশি ২০২৩ এর ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকের সম্পদের বিপরীতে ০.৪ শতাংশ আয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল।

মুডি'স মূল্যায়নে যে কোনো ঝুঁকি মোকাবিলায় সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের শক্ত অবস্থান প্রকাশ করে।

;