শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফটকে পরিবহন স্ট্যান্ড, জনজীবনে দুর্ভোগ



আহসান জোবায়ের, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর ভিক্টোরিয়া পার্ক ঘিরে ঢাকার সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা। এর চারপাশে রয়েছে নিম্ন আদালত, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, রাজধানীর ৭টি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সরকারী-বেসরকারী অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফটক ও ক্লাসরুমের নিকটবর্তী স্থানে গড়ে উঠেছে ঢাকা সিটির দশটি গণপরিবহন স্ট্যান্ড।

সার্বক্ষণিক শব্দ দূষণের মধ্যে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে বাসগুলো পার্কিং করা থাকে যত্রতত্র। ফলে ভোগান্তির শিকার হতে হয় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের। অতিরিক্ত শব্দদূষণ বিরূপ প্রভাব ফেলছে জনজীবনে। গণপরিবহণের ধোঁয়া বায়ুদূষণ করছে। জনবহুল এলাকা হওয়ায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নারী শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত যৌন হয়রানির সম্মুখীন হচ্ছেন।

বিশেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি ফটকের মধ্যে তিনটি ফটক ঘিরে রয়েছে দশটি পরিবহনের স্ট্যান্ড। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল, কবি নজরুল সরকারী কলেজ, গভঃমেন্ট মুসলিম হাই স্কুল, বাংলাবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মহানগর মহিলা কলেজ, হীড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সামনে একই অবস্থা।

দশটি কোম্পানির নামে এ বাসগুলো রেজিষ্ট্রেশন করা সদরঘাট থেকে ঢাকার বিভিন্ন রোডে। তার মধ্যে রয়েছে- সাভার পরিবহন, আজমেরী গ্লোরী, ভিক্টর ক্লাসিক, বিহঙ্গ পরিবহন, তানজিল পরিবহন, আকাশ পরিবহন, বাহাদুর শাহ্ পরিবহন, সাত নম্বর বাস সার্ভিস, পোস্তগোলাগামী জিপ সার্ভিস ও ঘোড়ার গাড়ি। সদরঘাট থেকে ঢাকার বিভিন্ন রোডে চলাচল করা এসব গাড়ি একেকটি কোম্পানির একাধিক মালিকানায় রেজিষ্ট্রেশন করা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভিক্টোরিয়া পার্কের চারপাশে গণপরিবহনের স্ট্যান্ড ভোগান্তির সৃষ্টি করছে। এতে করে দীর্ঘ যানযট লেগেই থাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে। পাশাপাশি অহেতুক হর্ণ বাজিয়ে এসব এলাকার শব্দদূষণের মাত্রা চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে এসব গাড়িতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পথচারীদের আহত হওয়া ও নারী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির মতো ঘটনাও ঘটেছে।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ক্যাম্পাসের প্রায় প্রতিটা গেটেই গাড়ির অবাদ চলাচল ও এসব পরিবহনের স্ট্যান্ড রয়েছে। এসব গাড়িগুলো যেখানে সেখানে পার্কিং, অহেতুক হর্ণ বাজানো ক্যাম্পাসের সামনে থেকে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো তাদের চলাচল থেকে শুরু করে পড়াশোনার পরিবেশকে বিঘ্ন সৃষ্টি করে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করে বলেন, আমরা যখন রাস্তা পারাপার করি তখন আমাদের খুবই ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার করতে হয়।

তারা বলেন, বিশেষ করে বাহাদুরশাহ পরিবহন, ঘোড়ার গাড়িগুলোর কোন নিয়ন্ত্রণ নেই। রাস্তা পার হতে গিয়ে আমরা প্রায়শই দুর্ঘটনার শিকার হই। আমাদের প্রধান ফটকের সামনে কোনো স্পিড বেকার নেই। আশা করি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আমাদের নিরাপদ সড়কের কথা ভেবে শুধু আশ্বাস নয়, একটি যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী বার্তা২৪-কে বলেন, ভিক্টোরিয়া পার্ক দিয়ে পার হওয়ার সময় প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বুলিংয়ের শিকার হই। এখানকার বেশিরভাগ মানুষ পরিবহণ শ্রমিক ও ভাসমান মানুষ। রাস্তায় ভীড়ের কারণে বেশিরভাগ সময় এদের আইডেন্টিফাই করা যায় না। ভীড়ের মধ্যে মেয়েদের গায়ে হাত দেয়া এখানকার নিত্যদিনের ঘটনা। অনেক কিছু চিন্তাভাবনা করে এসবের বিচার দিতে সাহস হয় না। বাড়িতে জানাজানি হলে এখানে পড়তেও দিবে না। অনেক স্বপ্ন নিয়ে আমরা পড়তে আসি। প্রশাসনও যেন নারীদের নিরাপত্তা ইস্যুতে নির্বিকার।

কবি নজরুল সরকারি কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন বলেন, কলেজের মেইন গেটের সামনে সবসময় জ্যাম লেগেই থাকে। রিক্সা, সিএনজি, প্রাইভেটকারের পাশাপাশি গণপরিবহনের বাসগুলো এখানেই পার্কের পাশ ধরে স্ট্যান্ড করে থাকে। কলেজে ঢুকতে বের হতে, চলাচল করা খুবই কষ্ট। আমাদের বিপরীত পাশেই গভঃ মুসলিম হাইস্কুল। একটু সামনে ২০গজ আগালেই সেন্ট ফ্রান্সিস, সেন্ট গ্রেগরি স্কুল ও সোহরাওয়ার্দী কলেজ। এই মোড় দিয়ে এত এত শিক্ষার্থীর যাতায়াত করা খুবই কষ্ট।

কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষার্থী মাহাদী হাসান বলেন, ‘স্কুলের সামনে সবসময় ঘোড়ার গাড়ী থাকে। ঘোড়ার মলমূত্রে সবসময় দুর্গন্ধ ছড়ায়। এখানে দাঁড়ানো যায়না বেশিক্ষণ। পাশাপাশি বাহাদুরশাহ পরিবহনের গাড়িগুলো খুব দ্রুত আসে। আমরা অনেক ভয়ের মধ্যে রাস্তা পারাপার করি।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল বার্তা২৪-কে বলেন, ভিক্টোরিয়া পার্কের চারপাশে বাস স্ট্যান্ড বহুবছর ধরে। এগুলো সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা মেট্টোপলিটন নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। আমাদের ভর্তি পরীক্ষার সময়েও এই বাসগুলো সরাতে পারিনা। এসব বিষয়ে ডিএমপি ও সিটি কর্পোরেশনের সাথে কথা বলতে হবে।

সার্বিক বিষয়ে কোতয়ালী থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) পিয্যুশ রায় বার্তা২৪-কে বলেন, যে কয়টি গণপরিবহন ঢাকার ভিতর থেকে এখানে আসে, সবাই পার্কের পাশ দিয়ে ঘুরে চলে যায়। এছাড়া বাস ঘুরানোর কোনো জায়গা নেই। এখানে বাস দাঁড়িয়ে থাকা নিষেধ। যদি কেউ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গেটে দাঁড়িয়ে থাকে, ওখানে আমাদের ট্রাফিক আছে তারা সমাধান করবে।

   

নোনা মাঠে সোনার ফসল, অপার সম্ভবনা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, খুলনা
নোনা মাঠে সোনার ফসল

নোনা মাঠে সোনার ফসল

  • Font increase
  • Font Decrease

যব বা বার্লি, এই নামের সঙ্গে আমরা কম বেশি পরিচিত। এটি গমের মতো এক প্রকার শস্য। মহানবী (সা.) এর প্রিয় খাবারগুলোর মধ্যে একটি। এটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার। রাসুল (সা.) বার্লি দিয়ে রুটি বানিয়ে খেতেন। এটি জ্বর এবং পেটের পীড়ার জন্য অনেক বেশি উপকারী।

বার্লি রাশিয়া, কানাডা, স্পেন, জার্মানি, ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে উৎপাদন হয়ে থাকে। সম্প্রতি এই বার্লি খুলনা জেলার সর্বদক্ষিণের উপজেলা কয়রার নোনা ভূমিতে উৎপাদন শুরু হয়েছে।

সুন্দরবন সংলগ্ন এ উপজেলাটি নদী ভাঙন যেন নিত্যদিনের সাথী। ফলে লবণ পানির জন্য উপজেলার মধ্যে মিঠা পানির কোন গাছ গাছালি তেমন চোখে পড়ে না। এ উপজেলায় মানুষ জমিতে বছরে একবার আমন চাষাবাদ করে থাকে। তাও আবার লবণ সহিষ্ণু জাতের। বছরের বাকি সময়ে পড়ে থাকে জমি।

খুলনা থেকে পাইকগাছা হয়ে কয়রায় ঢুকতেই বাগালী ইউনিয়ন। বাগালী ইউনিয়নের নদীর পাশ দিয়ে ব্লকের সড়ক। এই সড়ক ধরে যাওয়া যায় কয়রা উপজেলায়। এছাড়া খুলনা থেকে লঞ্চ যোগে ৭ ঘণ্টার পথ গিয়ে গিলাবাড়ি ঘাট। এই ঘাটের দক্ষিণ পূর্ব দিকে চলে গেছে ব্লকের সড়ক। ওই সড়ক ধরে কয়রা অভিমুখী দুই কিলেমিটার গিয়ে সড়কের বাঁ পাশে চোখ আটকে যাবে সবুজে। গোটা বিল পড়ে আছে মরুময় হয়ে। তার মধ্যে এক খণ্ড জমিতে ফাগুনের হাওয়ায় দোল খাচ্ছে ঘন সবুজ প্রকৃতি। এখানে এলেই সকল যানবাহনের গতি যেন কমে যায়। সকলের চোখ আটকে ওই সবুজ প্রকৃতিতে।

উপজেলার বাগালী ইউনিয়নের এই গ্রামের নাম উলা। আর ওই জমির মালিক আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি জানান, বছরে এক আমনের বাইরে কোন চিন্তা করতে পারিনি কখনো। আমাদের নোনা পানির দেশে এক আমন হয় এটাই বেশি। তবে এবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট আমাদের ধারণা পাল্টে দিয়েছে। আমাদের মরুভূমির বুকে সবুজে ভরে দিয়েছে। আমার ৯৯ শতক জমিতে যে পরিমাণ যব হয়েছে, তা দেখতে এখন লোক আসে। পথিকেরা হা করে তাকিয়ে থাকেন মাঠের দিকে। আশা করছি যে পরিমাণ যব হয়েছে, তা বিক্রি হবে লাখ টাকায়।

গবেষণা বিভাগ খুলনার এমএলটি সাইটের বৈজ্ঞানিক সহকারী মো. জাহিদ হাসান জানান, বারি বার্লি-৭, লবণসহনশীল জাত এবং এটি ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত বপন করা যায়। এই জাতে রোগ বালাই কম হয় ও ২টি সেচ হলেই যথেষ্ট। আমরা কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করেছি এবং বীজ সার দিয়েছি।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট সরেজমিন গবেষণা বিভাগ খুলনার মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. হারুনর রশিদ জানান, বার্লি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ সব খাদ্যশস্যের মধ্যে অন্যতম। উচ্চতর ডায়েটারি ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার এটি। এটি উচ্চ ফাইবারযুক্ত, গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ। অবশ্য বার্লিতে সামান্য চর্বি থাকলেও কোলেস্টেরল মুক্ত। আমাদের কৃষি গবেষণা থেকে মোট ১০টি বার্লির জাত আবিষ্কার করা হয়েছে। বার্লি বা যবের আটায় অনেক উপকারিতা আছে। বার্লির আটা খেলে তার আর পেটের রোগ এবং ডায়বেটিস আক্রান্ত হয় না।

তিনি বলেন, দক্ষিণ অঞ্চলে হাজার হাজার পতিত জমিতে বার্লি চাষের অপার সম্ভবনা রয়েছে। এবার এ অঞ্চলে যে পরিমাণ যব হয়েছে, আমরা তা বীজ হিসেবে কৃষকদের কাছ থেকে বাজার মূল্যে ক্রয় করবো।

;

একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিলেন আমেনা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরগুনা
একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম

একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম

  • Font increase
  • Font Decrease

বরগুনার তালতলীতে এক গৃহবধূ একসঙ্গে তিন সন্তানের জন্ম দিয়েছেন।

তালতলী ইসলামিয়া হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিন সন্তানের জন্ম দেন আমেনা বেগম রজি।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসলামিয়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. কানিজ ফাতিমা।

বর্তমানে তিন বাচ্চাসহ গৃহবধূ আমেনা বেগম সুস্থ রয়েছেন। আমেনা বেগম রজি তালতলী উপজেলার তুলাতলী গ্রামের কুয়েত প্রবাসী লালচানের স্ত্রী।

জানা যায়, বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রসব ব্যথা শুরু হলে গৃহবধূ আমেনা বেগম হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে ভর্তি হন। ওই হাসপাতালের চিকিৎসক নুসরাত জাহানের নিয়মিত চেকআপে থাকায় নরমাল ডেলিভারির জন্য অপেক্ষা করেন। পরে বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪টায় গৃহবধূ অসুস্থ হয়ে পড়লে অপারেশন করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়। হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক ডা. নুসরাত জাহান অপারেশন শুরু করেন। অপরেশন সফলভাবে সম্পূর্ণ হয়। সেই সাথে সুস্থ শরীরে এক এক করে তিনটি ফুটফুটে নবজাতক প্রসব করেন গৃহবধূ আমেনা বেগম রজি।

ইসলামিয়া হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক ডা. নুসরাত জাহান বলেন, নবজাতকের মধ্যে দুটি ছেলে ও একটি কন্যা সন্তান। তাদের নাম এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

নবজাতকদের চাচা মো. এরশাদ বলেন, আল্লাহ তার ভাইয়ের ঘরে একসঙ্গে তিনটি সন্তান দিয়েছেন। এর আগে আমার ভাইয়ের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।

;

পরীক্ষা কেন্দ্রে ছেলে, বাবা অলিখিত কেন্দ্র সচিব!



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, জামালপুর
অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম

অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম

  • Font increase
  • Font Decrease

চলমান এসএসসি পরীক্ষার একটি কেন্দ্রের ভেনুতে ছেলে হচ্ছে পরীক্ষার্থী আর বাবা কেন্দ্রের অলিখিত সচিবের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন। ওই কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীসহ অভিভাবকরা বলছেন নিজের ছেলেকে অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়ার জন্যই এ ছক তৈরি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ৪নং চর হাইস্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে।

জানা গেছে, ওই কেন্দ্রের অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিমের এক ছেলে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। যার কারণে এবার তাকে কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক সুলতানা বেগমকে।

কিন্তু অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম কেন্দ্র সচিব না হয়েও পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে তিনি বহাল তবিয়তে কেন্দ্রে অলিখিত কেন্দ্র সচিব হিসেবে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেন্দ্রে একজন প্রশাসনিক নির্ধারিত কেন্দ্র সচিব থাকলেও ডেমো হিসেবে অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে কেন্দ্রে বহিরাগতদের নিয়ে সারাক্ষণ অবস্থানসহ হলে ছোটাছুটি করেন।

এ বিষয়ে ৪নং চর হাইস্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হাকিম বলেন, তিনি কেন্দ্রের সচিব না হলেও তিনি প্রশাসনিক দায়িত্বে রয়েছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ছেলে কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী হলে বাবার পরীক্ষার হলে অবস্থান করার কোন নিয়ম নেই। তার প্রশাসনিক কোন কাজ থাকলে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে সে বাহিরে গিয়ে করবে। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখে পরবর্তী পরীক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।

;

করপোরেট ফুটসাল কাপের শিরোপা এশিয়ান গ্রুপের ঘরেই



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
করপোরেট ফুটসাল কাপের শিরোপা এশিয়ান গ্রুপের ঘরেই

করপোরেট ফুটসাল কাপের শিরোপা এশিয়ান গ্রুপের ঘরেই

  • Font increase
  • Font Decrease

গায়ে রঙ-বেরঙের টি শার্ট, মুখে ভুভুজেলা বাঁশির সুর। শত শত ফুটবল সমর্থক গলা ফাটাচ্ছেন এক নাগাড়ে। সঙ্গে ছন্দ মিলিয়ে হাততালি আর ড্রাম বাজানো তো আছেই। আর যাদের ঘিরে এত এত আবেগের বিস্ফোরণ টার্ফের সবুজ গালিচায় তারা লড়ছেন বুক চিতিয়ে। এক ঘণ্টার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে জয় তুলে নেয় এশিয়ান গ্রুপ ফুটবল দলের।

এশিয়ান গ্রুপ স্পোর্টস কমপ্লেক্সের ফুটসাল টার্ফের বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতের চিত্র এটি। এশিয়ান গ্রুপের পৃৃষ্ঠপোষকতায় হওয়া 'করপোরেট ফুটসাল কাপ' টুর্নামেন্টের ফাইনাল ছিল এদিন। ফাইনালে ম্যাফ সুজ ফুটবল দলকে ৬-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে জয় পায় এশিয়ান গ্রুপ ফুটবল দল।

২৪ দলের অংশগ্রহণে গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয় এই করপোরেট টুর্নামেন্ট। আট গ্রুপে ২৪টি দল অংশ নেয়।বৃহস্পতিবার ফাইনাল ম্যাচের মধ্যে দিয়ে পর্দা নামল এই টুর্নামেন্টের।

ফাইনাল ম্যাচ শেষে আয়োজন করা হয় পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র রেজাউর করিম চৌধুরী। মেয়র তার বক্তব্যে বলেন, সুন্দর এই আয়োজনের জন্য এশিয়ান গ্রুপকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই খেলার মধ্যে দিয়ে এশিয়ান গ্রুপ প্রমাণ করেছে মাদক-মোবাইলের নেশা থেকে খেলার নেশায় ফিরিয়ে আনা যায়। এই প্রতিযোগিতা বারবার হোক, তরুণ সমাজও উদ্বুদ্ধ হোক। খেলায় যে উদ্দীপনা দেখছি যেন গণজোয়ার ফিরে আসছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য আনিসুল ইসলাম মাহমুদও। তিনি বলেন, এতদিন টেলিভিশনে ফুটবল দেখেছি। আজকে প্রথম সামনে থেকে দেখলাম। সত্যি আমি আনন্দিত। ছেলে মেয়েরা মোবাইল-মাদক নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা যদি ভালো সুযোগ পায় তাহলে তারা ভালোভাবে গড়ে উঠবে। যে দেশ খেলাধুলায় উন্নত, সেই দেশ এগিয়েও। সেজন্য আমাদের খেলাধুলায় মনোনিবেশ করতে হবে। এশিয়ান গ্রুপকে অন্তরের অন্তস্থল থেকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্যে এশিয়ান গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ সালাম বলেন, এশিয়ান গ্রুপ তরুণদের ভালো উদ্যোগের সঙ্গে, খেলাধুলার সঙ্গে সবসময় আছে। সামনের দিনগুলোতেও থাকবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এশিয়ান গ্রুপের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাকিফ সালাম, ওয়াসিফ সালাম, তরুণ উদ্যোক্তা বোরহানুল হাসান চৌধুরী, তরুণ আওয়ামী লীগ নেতা আরশেদুল আলম বাচ্চু, কাউন্সিলর মোরশেদুল আলম প্রমুখ।

;