পার্বত্য শান্তি চুক্তি বিশ্বে অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত: রাষ্ট্রপতি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন

  • Font increase
  • Font Decrease

রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন বলেছেন, পার্বত্য শান্তি চুক্তি শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিশ্বে একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।  

শনিবার (২ ডিসেম্বর) পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ২৬ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন বলেন, পার্বত্য জেলাগুলোর আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও এ অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকার কর্তৃক গঠিত পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে এক ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এর ফলে পার্বত্য জেলাসমূহে দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটে; সূচিত হয় শান্তির পথচলা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ উদ্যোগ শান্তিপূর্ণভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে বিশ্বে একটি অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, বান্দরবান এবং খাগড়াছড়ি নৈসর্গিক সৌন্দর্যের অপার আধার। যুগযুগ ধরে পাহাড়ে বসবাসরত বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর বর্ণিল জীবনাচার, ভাষা, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি এ অঞ্চলকে বিশেষভাবে বৈশিষ্ট্যমন্ডিত করেছে।

রাষ্ট্রপতি পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের ২৬ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে পার্বত্য এলাকার সকল অধিবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় অঞ্চল। শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় এ অঞ্চলের উন্নয়নে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হয়েছে। ফলশ্রুতিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক, অবকাঠামো ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হচ্ছে। পার্বত্য জেলাসমূহের উন্নয়ন কর্মকান্ডকে টেকসই ও বেগবান করতে আমি দলমত নির্বিশেষে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির ধারাবাহিকতায় পার্বত্য অঞ্চল উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে এগিয়ে যাবে।

   

যে খুনের গল্প সিনেমাকেও হার মানায়!



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম ব্যুরো
যে খুনের গল্প সিনেমাকেও হার মানায়!

যে খুনের গল্প সিনেমাকেও হার মানায়!

  • Font increase
  • Font Decrease

চট্টগ্রামে শুধু একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা থেকে যেভাবে ফাঁদে ফেলে ফটোগ্রাফার শাওন বড়ুয়াকে খুন করা হয়েছে তাতে বিস্মিত হয়েছেন পুলিশ সদস্যরাও। ওই কলেজছাত্রকে খুনের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতারের পর হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। সেই খুনের গল্প যেন সিনেমাকেও হার মানিয়েছে।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) পঙ্কজ দত্ত চান্দগাঁও থানায় এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে ঘটনার পুরোটা তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে পঙ্কজ দত্ত জানান, নগরের চাদগাঁও থানার বাহির সিগন্যাল এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা আশহাদুল ইসলাম ইমন ও মো. তৌহিদুল আলম এক সময় অন্যজনের সহকারী হিসেবে বিভিন্ন বিয়ে অনুষ্ঠানে ছবি তোলার কাজ করতেন। তাদের কাছে কোনো ডিএসএলআর ক্যামেরা ছিল না। সেজন্য একটি ক্যামেরার শখ জাগে তাদের। বিষয়টি তারা এলাকার বড় ভাই মো. বাহারকে জানান। বাহারসহ মিলে এরপর ক্যামেরা ছিনতাইয়ের ফন্দি আঁটেন। সেই পরিকল্পনায় তারা যুক্ত করেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক মো. আলমগীর ও মো. ইমতিয়াজ আলম মুরাদ নামে আরও দু’জনকে।

তিনি জানান, শুরুতে পরিকল্পনা অনুযায়ী তারা ফটোগ্রাফিতে যুক্ত এমন বেশ কয়েকটি ফেসবুক পেজে যোগাযোগের সিদ্ধান্ত নেন। এর মধ্যে উচ্ছ্বাস বড়ুয়া নামের একটি ফেসবুক পেজে যোগাযোগ করে তারা সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে একটি বিয়েতে ছবি তোলার বিষয়ে কথা বলেন। তবে ওই পেজ থেকে জানানো হয় তারা এখন ফটোগ্রাফি করেন না, সেখান থেকে জনি বড়ুয়া নামের এক ফটোগ্রাফারের মুঠোফোন নম্বর দেওয়া হয়। তবে জনি বড়ুয়ার অন্য কাজ থাকায় তিনি শাওন বড়ুয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজটি করবেন কিনা জানান। শাওন রাজি হলে ইমন-তৌহিদুলের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন জনি। এরই মধ্যে বিশ্বাস স্থাপন করতে মোবাইল আর্থিক লেনদেন সেবা-বিকাশে অগ্রিম ৫০০ টাকাও পাঠান ইমন-তৌহিদুল।


পুলিশ কর্মকর্তা পঙ্কজ দত্ত বলেন, ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী ইমন ও তৌহিদুল সোমবার রাত ৮টা ২৫মিনিটের দিকে ফোন করে শাওনকে জানান তাকে ‘রিসিভ’ করতে মুরাদ নামের এক ছোট ভাই বাহির সিগন্যালের ব্যাপারী পাড়ার ভাঙা পুলের মাথায় অপেক্ষা করছেন। পরে শাওন মোটরসাইকেল চালিয়ে ওই এলাকায় আসেন। এরপর মুরাদকে নিজের মোটরসাইকেলের পেছনে বসান শাওন। এসময় মুরাদ শাওনকে জানান বিয়ের অনুষ্ঠানটা অনন্যা আবাসিক এলাকা হয়ে যেতে হবে। সে অনুযায়ী শাওন গাড়ি চালাচ্ছিলেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সিএনজি অটোরিকশাচালক আলমগীর গাড়িতে করে ইমন, তৌহিদুলকে নিয়ে তাদের পেছনে পেছনে যেতে থাকেন। তবে এক পর্যায়ে ফাঁদে পড়েছেন বিষয়টি আঁচ করতে পেরে শাওন দ্রুত গাড়ি চালিয়ে অনন্যা আবাসিকের দিকে চলে যান।

তিনি বলেন, ‘এক পর্যায়ে পকেট থেকে ছুরি বের করে মুরাদ বলে উঠেন, ‘কোনো বিয়ের অনুষ্ঠান নেই, ভালোমতো ক্যামেরাসহ ব্যাগটা দিয়ে দাও।’ এ নিয়ে দু’জনের মধ্যে ধস্তাধস্তিও হয়। পরে গাড়ি থামিয়ে মুরাদকে নামিয়ে দিয়ে চলে যেতে চান। এর মধ্যে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মুরাদ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে শাওন তাকে ধাক্কা দিয়ে চলে যেতে চান। সুযোগ বুঝে মুরাদ শুরুতে শাওনের উঁরুতে ছুরিকাঘাত করেন। আহত অবস্থায় শাওন কুড়িয়ে কুড়িয়ে চলে যেতে চাইলে মুরাদ মাটি থেকে উঠে শাওনের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আরও ছয়টি ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এরপর বাহারকে ফোন দিয়ে শাওনকে মেরে ফেলার বিষয়টি জানালে তিনি মোটরসাইকেল চালিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। পরে শাওনের ক্যামেরাসহ ব্যাগটি নিয়ে মুরাদসহ দু’জনেই পালিয়ে যান। পরদিন মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ শাওনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। এরপরই ঘটনার কারণ বের করতে মাঠে নেমে পড়ে পুলিশের একটি দল।’

অভিযানে অংশ নেওয়া চান্দগাঁও থানার দু’জন উপপরিদর্শক (এসআই) বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘হত্যার পর ক্যামেরা নিয়ে পালিয়ে গেলেও শাওনের মুঠোফোনটি নিয়ে যায়নি হত্যাকারীরা। সেই মুঠোফোনই খুনি ও পরিকল্পনাকারীদের খোঁজ পাওয়ার কাজটি সহজ করে দেয়। প্রথমে আমরা জনি বড়ুয়াকে হেফাজতে নিই। তার মাধ্যমে যে নম্বর থেকে বিকাশ করা হয় সেটি বের করি। পরে বিকাশের দোকানে গিয়ে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বের করে বিকাশে টাকা পাঠানো ইমন ও তৌহিদুলকে শনাক্ত করি। এরপর অভিযান চালিয়ে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেফতার করি।’ তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় জনিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ডকে ‘বিরলতম’ বলেও মনে করছেন এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা। তারা বলেন, ‘বহু সিনেমা এবং ওয়েব সিরিজ তৈরি হয়েছে হত্যার সত্য ঘটনা অবলম্বনে। আবার অনেক খুনের ঘটনা রয়েছে, যেগুলোর অনুপ্রেরণা হিসাবে কাজ করেছে সিনেমা বা ওয়েব সিরিজ। তবে শাওন বড়ুয়াকে হত্যার ঘটনায় হত্যাকারীরা কোনো সিনেমা বা ওয়েব থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছেন কিনা এখনো নিশ্চিত হইনি। তবে এটা ঠিক যেভাবে হত্যা করা হয়েছে সেটি সিনেমাতেই বেশি দেখা যায়।’

;

১৫ বছরে ৯৪৮ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণ: প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বর্তমান সরকারের শাষণামলে ১৫ বছরে দেশে ৯৪৮ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণ হয়েছে বলে সংসদে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দ্বাদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে লক্ষীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন খান এর করা প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছরে সরকার রেলপথ বিভাগ থেকে মোট ৯৯টি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরের এডিপিতে বাংলাদেশ রেলওয়েতে ২৫টি বিনিয়োগ প্রকল্প এবং ৩টি কারিগরি সহায়তা প্রকল্প অর্থাৎ মোট ২৮টি উন্নয়ন প্রকল্প চলমান আছে।

এছাড়া, রূপকল্প ২০৪১ অর্জনসহ ৩০ বছর মেয়াদী রেলওয়ে মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী বাংলাদেশ রেলওয়ে ডাবল লাইন ট্র্যাক নির্মাণ, গেজ একীভূতকরণ, আধুনিক সিগন্যালিং সিস্টেমের প্রবর্তন, সমুদ্র বন্দরের সাথে রেল যোগাযোগের উন্নয়ন, আপগ্রেডেড লোকোমোটিভ প্রবর্তন এবং বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন প্রবর্তনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। রেলপথের উন্নয়নে গত ১৫ বছরে দেশে ৯৪৭.৯৯ কিলোমিটার নতুন রেললাইন নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

;

মৃত্যুর ১০ মাস পর কবর থেকে ওঠানো হলো নারী শিল্পপতির লাশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বগুড়া
মৃত্যুর ১০ মাস পর কবর থেকে ওঠানো হলো নারী শিল্পপতির লাশ

মৃত্যুর ১০ মাস পর কবর থেকে ওঠানো হলো নারী শিল্পপতির লাশ

  • Font increase
  • Font Decrease

সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বে মেয়ের দায়ের করা মামলায় মৃত্যুর ১০ মাস পর এক নারী শিল্পপতির লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। দেলওয়ারা বেওয়া (৭০) নামের ওই নারী শিল্পপতি গত ৩ মে মারা যান। তিনি বগুড়া শহরের কাটনারপাড়ার মৃত শেখ সরিফ উদ্দিনের স্ত্রী।

বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে শহরের নামাজগড় গোরস্থান থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়।

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বগুড়ার এসআই জাকারিয়া।

তিনি জানান, বগুড়া শহরে বহুতল মার্কেট, সিএনজি স্টেশন, বিড়ি ফ্যাক্টরিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন দেলওয়ারা বেওয়া। স্বামীর মৃত্যুর পর দেলওয়ারা বেওয়া এসব প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন। তার কোন ছেলে সন্তান না থাকায় ৫ মেয়ে এবং জামাই প্রতিষ্ঠানগুলো দেখাশোনা করতেন।

দেলওয়ারা বেওয়ার সম্পত্তি ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে সম্প্রতি মেয়ে ও জামাইদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয় এবং একাধিক মামলা হয়। এক পর্যায় দেলওয়ারা বেওয়া তার আরেক মেয়ে নাদিরা সুলতানার বাসায় বসবাস করা কালে গত বছরের ৩ মে দিবাগত রাত আড়াইটায় মারা যান। পরদিন শহরের নামাজগড় গোরস্থানে দেলওয়ারা বেওয়ার লাশ দাফন করা হয়।

এঘটনায় দেলওয়ারা বেওয়ার আরেক মেয়ে আকিলা সরিফা সুলতানা খানম বাদী হয়ে গত বছরের ৮ জুলাই বগুড়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০ জনের নামে মামলা করেন। মামলায় তিনি উল্লেখ করেন সস্পত্তি আত্মসাৎ করতে দেলওয়ারা বেওয়াকে নাদিরা সুলতানা তার বাসায় আটকে রাখে অপর মেয়ে ও জামাইদের সহযোগিতায়। সেখানে গত ৩ মে দিবাগত রাতে দেলওয়ারা বেওয়াকে শ্বাসরোধ অথবা বিষক্রিয়ার মাধ্যমে হত্যার পর পরদিন গোপনে তড়িঘড়ি করে লাশ দাফন করা হয়।

মামলায় দেলওয়ারা বেওয়ার চার মেয়ে, জামাই ও বাদীর ছেলেকে আসামি করা হয়। আদালত মামলাটি তদন্ত করার জন্য পিবিআই বগুড়াকে নির্দেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই জাকারিয়া আরও জানান, তদন্তকালে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে আদালতে আবেদন করা হয়। আদালতের নির্দেশে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল মাহমুদের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে দাফন করা হয়।

তিনি বলেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা আদালতে দাখিল করা হবে।

;

এনডিএফ বিডি’র জাতীয় বিতর্ক উৎসব শুরু ১ মার্চ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের বিতর্ক চার্চা ও আন্দোলনের সংগঠন ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশের (এনডিএফ বিডি) আয়োজনে দুই দিনব্যাপী ১৬তম জাতীয় বিতর্ক উৎসব শুরু হবে শুক্রবার (১ মার্চ)।  চলবে ২ মার্চ পর্যন্ত।

‘এসো উদয়ের পথে, যুক্তিকথার সমীরণে’ স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে এই উৎসব শুরু হবে।

উৎসবে দেশের সরকারি-বেসরকারি বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দুই হাজার বিতার্কিক অংশ নেবেন।

উৎসবে বিতর্ক বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। থাকবে আঞ্চলিক, সংসদীয়, ওয়ার্ল্ড ফরমেট, প্ল্যানচেট, রম্য, বায়োয়ারী ও মডেল বিতর্ক পরিবেশনা ও প্রতিযোগিতা। অনুষ্ঠানে আরও থাকবে বিতর্কের বিভিন্ন দিকে নিয়ে মাল্টিমিডিয়া প্রেজেন্টেশন।

উৎসবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট, পুরস্কার ও উপহার সামগ্রী দেওয়া হবে। এ উৎসবে নেতৃত্ব দেবেন ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশনের চেয়ারম্যান এ কে এম শোয়েব।

উৎসবের প্রথম দিন ১ মার্চ সকাল ৮টার মধ্যে উপস্থিত হয়ে আইডি কার্ড, উপহার সামগ্রী এবং খাদ্য কুপন সংগ্রহ, সাড়ে ৮ টায় নাস্তা, ৯ টায় মহাসমাবেশ, সকাল ১০ টায় গ্র্যান্ড উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও ড্যাফোডিল পরিবারের চেয়ারম্যান মোঃ সবুর খানকে লাইফ টাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদান, সকাল সাড়ে ১১টায় শিশু বিতর্ক, সাড়ে বারোটায় ইংরেজি পাবলিক স্পিকিং ও মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা।

দ্বিতীয় ও সমাপনী দিনে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান- এনডিএফ বিডি যুব সংগঠক, ৯:৪৫ মিনিটে বাংলা বারোয়ারী, সকাল সাড়ে ১০ টায় ব্রিটিশ পার্লামেন্টারি (ইংরেজি) বিতর্ক চূড়ান্ত রাউন্ড, সকাল ১১.১৫ মিনিটে ‘বিতার্কিকরা কিভাবে লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে’ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। এতে উপস্থাপন করবেন ব্র্যাকের হেড অব কমিউনিকেশন, ও গ্রামীণফোনের সাবেক যোগাযোগ প্রধান খায়রুল বাসার সোহেল।

দুপুর ১২.১৫ মিনিট রিজিওনাল ডিবেট ("এই বাংলায় আমার প্রেমত্র") ও দুপুর ১ টায় বিতর্ক বিচার কর্মশালা ইংরেজি পাবলিক ও এথিক স্পিকিং অনুষ্ঠিত হবে।

দুপুরের খাবার এবং নামাজের বিরতির পর চূড়ান্ত কুইজ প্রতিযোগিতা, সাড়ে ৩ টায় ইউএন মডেল বিতর্ক শেষে তারকাদের সাথে সাক্ষাৎ, সাড়ে ৪টায় প্লান চাট ডিবেট, বিকাল ৪ টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে পুরস্কার ও সার্টিফিকেট প্রদান শেষে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ১০টায় এ উৎসবের উদ্বোধনী ঘোষণা করবেন চ্যানেল ও ইমপ্রেস টেলিফিল্ম'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ন্যাশনাল ডিবেট ফেডারেশন বাংলাদেশ (এনডিএফ বিডি)'র প্রধান উপদেষ্টা ফরিদুর রেজা সাগর।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের মো. সোহরাব হোসেন।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শিক্ষা পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো: রেজাউল ইসলাম পিএসসি, পিএইচডি, এটিএন বাংলার নির্বাহী পরিচালক (নিউজ) ও গণতন্ত্রের জন্য বিতর্ক'র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও ড্যাফোডিল পরিবারের চেয়ারম্যান ডাঃ. মো. সবুর খানকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হবে।

বিকেলে প্রখ্যাত বিতার্কিক নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক শাইন সাদিক ইশতির সঞ্চালনায় "একটি পেশাদার দক্ষতা হিসাবে বিতর্ক" শিরোনামে বিতর্ক বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে।

পরে ইংরেজি বিতর্ক, প্ল্যানচেট বিতর্ক ("আমি ইতিহাসের রচয়িতা") পরিবেশন করা হবে। সন্ধ্যা ৭টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও রাত ৯টায় থাকবে বিশেষ আকর্ষণ ক্যাম্প ফায়ার, অতঃপর রাতের খাবার।

সমাপনী ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মশিউর রহমান।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শিখর দে, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আল ফারুক সিদ্দিকী ও সোলসের (সংগ্রহ ও উত্পাদন) পরিচালক কার্ডিক লিনোয়র।

পুরো আয়োজনের সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক সভাপতি, ইউনিভার্সিটি ব্লু অ্যাওয়ার্ড প্রাপ্ত এবং জাতীয় টেলিভিশন বিতর্কে চ্যাম্পিয়ন এনডিএফ বিডি এর চেয়ারম্যান জনাব এ কে এম শোয়েব।

এছাড়াও এনডিএফ বিডি মহাসচিব আশিকুর রহমান আকাশ, ১৬ তম জাতীয় বিতর্ক কার্নিভাল ২০২৪ এর আহবায়ক তাহসিন রিয়াজ ও যুগ্ম আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান দক্ষিণ এশিয়ার সব রোগবৃহৎ এই বিতর্ক আয়োজনে মূল্যবান বক্তব্য রাখবেন।

;