'গণমাধ্যমের বাকস্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ করবে না যুক্তরাষ্ট্র'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। ছবি: সংগৃহীত

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম। ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস জানিয়েছিলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বাধা হলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীদেরও ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম প্রত্যাশা করে বলেছেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ বা এর কার্যক্রম সংকীর্ণ করে দেয় এমন কোন পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র নেবে না।

বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন প্রত্যাশার কথা ব্যক্ত করেন তিনি।

শাহরিয়ার আলম বলেন, ভিসা নীতি নিয়ে মানুষ যেন ভুল না বোঝে সেজন্য বিষয়টি আরও পরিষ্কার করার প্রয়োজন। ভিসা নিষেধাজ্ঞায় গণমাধ্যমকে অন্তর্ভুক্ত করলে সেটা মনে হয় না খুব একটা ভালো সিদ্ধান্ত হবে। এ বিষয়ে নিশ্চয়ই আপনাদেরও (গণমাধ্যমকর্মীদের) একটা বক্তব্য রয়েছে। সে দেশের (যুক্তরাষ্ট্র) রাষ্ট্রদূত কেন এটা বললেন, এটা নিশ্চয়ই সেই দেশ (যুক্তরাষ্ট্র) খতিয়ে দেখবে।

ভিসা নীতি নিয়ে রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভিসা নীতি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত বিষয়। আমরা এটাকে গ্রহণ করেছি তবে এটা যেন আরবিটরিটেশন না হয়। যাদের উপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে তখন আমরা সেটা জানতে পারবো। সেখানে যদি ব্যতিক্রম কোনো কিছু দেখি তখন আমরা মার্কিন দূতাবাস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে জানাব।

তবে ভিসা নীতি নিয়ে সাধারণ মানুষের চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতি যারা করেন তাদের জন্য এটা কোনো বিষয় নয়। যারা বিদেশে গিয়ে আবাস খোঁজেন এবং সুর্নিষ্টভাবে ওই দেশে যদি কারও কোনো পরিকল্পনা থাকে তারা এ বিষয় নিয়ে চিন্তিত।

করোনার সময় বাংলাদেশের মানুষের যুক্তরাষ্ট্রে সফর কমে গেলেও চলতি বছরের আগস্টের শেষ দিন পর্যন্ত যেকোন বছরের তুলনায় সবচেয়ে সংখ্যক বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। 

উল্লেখ্য, গত ২২ সেপ্টেম্বর এক বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার জানান, তার দেশ ভিসা নীতির প্রয়োগ শুরু করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীরা এর আওতায় রয়েছে।

‘রাজাকার’ স্লোগান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, বলছেন বিশিষ্টজনরা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাকিস্তানি ও তাদের দোসর রাজাকাররা যে বর্বরতা চালিয়েছিল সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ পরিচয়ে স্লোগানে বিস্ময় প্রকাশ করে একে অনাকাঙ্খিত ও অগ্রহণযোগ্য বলেছেন শিক্ষাবিদ ও বিশিষ্টজনরা। এই স্লোগানকে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার অংশ বলেও অভিহিত করেন তারা।

‘কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের অবমাননা করা হয়েছে’ এমন দাবিতে রোববার মাঝরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তুমি কে আমি কে- রাজাকার রাজাকার’, ‘রাজাকার আসছে রাজপথ কাঁপছ’, ‘ঢাবিতে হামলা কেন প্রশাসন জবাব চাই’- ইত্যাদি স্লোগানে মুখর হয়।

দিনভর এ নিয়ে বিস্তর আলোচনা-সমালোচনা ও উত্তেজনার মধ্যে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের স্লোগান নিয়ে বার্তা২৪.কম এর সঙ্গে কথা বলেছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক সভাপতি গোলাম কুদ্দুস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইমেরিটাস অধ্যাপক এ কে আজাদ চৌধুরী।

‘এটা রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল’

কোটা সংস্কার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের স্লোগানে নিজেদের ‘রাজাকার’ হিসেবে উচ্চারণ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘এটা খুবই দুঃজনক, নিন্দনীয়। আমরা সবাই এই ঘটনার জন্য লজ্জিত ও অপমানিত।’

‘এ ধরণের ঘটনা ঘটবে বা ঘটতে পারে তা চিন্তার বাইরে। এ ধরণের স্লোগান বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিরোধী। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজাকার, আলদবর, আল শামস-যাদের নামের সঙ্গেই যুক্ত আছে হত্যাকারী, লুণ্ঠনকারী, ধর্ষণকারী, অগ্নিসংযোগকারী-এই শব্দগুলো। একাত্তরে রাজাকাররাই পাকিস্তানের বর্বর হানাদার বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই ধরণের মানবতাবিরোধী অপরাধগুলো করেছে। তাদের নাম দিয়ে নিজেদের পরিচয় দিয়ে স্লোগান দেওয়া এটা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের দেশে অকল্পনীয়। গর্হিত অপরাধ। এটা রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধের শামিল’-বলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই উপাচার্য।

আন্দোলনকারীরা এই স্লোগানের মাধ্যমে সরকার নয়, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় না এর সঙ্গে সরকার বা উচ্চ আদালতের কোন মতপার্থক্য আছে। আন্দোলনকারীরা চাচ্ছে কোটা সংস্কার। সরকার ২০১৮ সালে কোটা বাদই দিয়েছিল। তারপর এটা আদালতে পুনর্বিবেচনার জন্য আপিল করা হয়েছিল। মাননীয় প্রধান বিচারপতি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চ আদালত উন্মূক্ত আছে। তারা যেকোন সময় তাদের মতামত ব্যক্ত করতে পারে। এখানে আমি কোন বিরোধ দেখি না।’

‘বিরোধ যদি কিছু থাকে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়া সরকার ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে হতে পারে। যদি সমাধান নাও হয় সেখানে আন্দোলনকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া, সরকারের সমালোচনা করা তা তাদের আন্দোলনের অংশ-সেটাও তারা করতে পারে। কিন্তু তারা যে কাজটি করেছে তা সরকারের বিরুদ্ধে নয়, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে।’

ড. আরেফিন সিদ্দিক আরও বলেন, ‘যে রাষ্ট্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত। সেই রাষ্ট্রের ভিতরে থেকে এ ধরণের স্লোগান দেওয়া...এটা আমাদের স্তম্ভিত করেছে। হতবাক করেছে। বাকরুদ্ধ করেছে। আমি নিজে এই ঘটনার যে নিন্দা জানাব সেই ভাষা খোঁজে পাচ্ছি না।’

এর পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে মনে করেন সাবেক এই উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘আমি যেটা বুঝতে পারি তরুণরা তাদের চাকুরির সংস্থানের জন্য নানাভাবে চিন্তিত। সেজন্য তারা এই আন্দোলনে গেছে। কিন্তু তাদেরকে কাজে লাগিয়ে, অপব্যবহার করে পেছনে কোন ষড়যন্ত্রকারীর চক্রান্তকারী এই কাজটি করিয়েছে। আমি এখনো বিশ্বাস করি আন্দোলনকারী সকল শিক্ষার্থী এই শ্লোগান দেয়নি। এই স্লোগান দিয়েছে অল্প কিছু ছেলেমেয়ে যারা পেছনে থেকে ফাঁয়দা লুঠতে চায় তাদের ইন্ধনে এ কাজগুলো হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলেই আমি দেখি।’

‘ঘোরপ্যাচ করে এতদূর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া দরকার ছিল না’

কোটা আন্দোলন ধীরে ধীরে ভিন্ন চরিত্র লাভ করতে দেওয়া দরকার ছিল না বলে মনে করেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এ কে আজাদ চৌধুরী।

বিশিষ্ট এই শিক্ষাবিদ বলেন, ‘উপরের দিকটা দেখলেই হবে না। অনেক গভীর থেকে দেখতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটু ইমোশনাললি কথা বলেছেলেন, তিনি তো মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ করেন। তার পরিবারের সবাই মুক্তিযোদ্ধা। তার ছোট ২ ভাই মুক্তিযোদ্ধা। জাতির পিতার কন্যা তিনি। যখন মুক্তিযোদ্ধাদের প্রসঙ্গে কথা উঠবে তখন তাঁর মাঝে ইমোশনাল আউটব্রাস্ট হতেই পারে। সেই আউটব্রাস্টকে এমনভাবে টেনে নিয়ে গেছে..। তখন তারাও (শিক্ষার্থীরা) আউটব্রাস্ট করেছে ‘তুমি কে আমি কে রাজাকার’.. এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’

‘আমি সেই সঙ্গে এও বলব কোটা সংস্কার করা যৌক্তিক দাবি। এটাকে ঘোরপ্যাচ করে এতদূর পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া দরকার ছিল না। এখনও আমি মনে করি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসে আলোচনা করা হয়, তারা সরে না আসলেও স্থিমিত হবে। কিন্তু সেটা না হয়ে আজকে যে মারপিট হলো সেটা খারাপ হলো’-যোগ করেন এই শিক্ষাবিদ।

আন্দোলন বিস্ফোরণ উন্মূখ হওয়ার পেছনে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা দেখেন কিনা এমন প্রশ্নে এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, ‘সমস্যা শুরুতেই প্রশমনের উদ্যোগ নিতে হয়। এটা শুরুতেই নিরসন করে দেওয়া যেত। তারা তো বেশি কিছু চায়নি। তারা তো বলেছিল একটা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এটা বলা হোক। সিদ্ধান্তটা আসতে হবে নির্বাহী বিভাগ থেকে, বিচারবিভাগ থেকে নয়।’

এই শিক্ষাবিদ মনে করেন, বিষয়টিকে কিছুটা গুরুত্বহীন মনে করা হতে পারে। গুরুত্বহীন মনে করা খারাপ। অনেক সময় ছোট ঘটনাও বড় আকার ধারণ করে। এখনো সময় আছে মনে হয়।’

‘এর পেছনে ইতিহাস বিমুখতা’

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুস শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকার’ স্লোগানের বিষয়ে বলেন, ‘রাজাকারকে নিজেদের আত্মপরিচয় দিয়ে যে স্লোগান দেওয়া হচ্ছে তা অনাকাঙ্খিত। আমরা বিস্মিত! ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাঙালি জাতির ২৩ বছরের লড়াই সংগ্রামের সুতিকাগার ছিল, পাকিস্তান আর্মির ক্ষোভের কারণ ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়। যার প্রকাশ আমরা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ আমরা দেখেছি।’

‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের ছাত্র-শিক্ষকদের হত্যা করেছিল পাকিস্তানিরা। একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর রাজাকার-আলকদররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ধরে নিয়ে নৃশংস্যভাবে হত্যা করেছিল, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজাকারকে নিজের আত্মপরিচয় দিয়ে স্লোগান উঠবে, এটা আমরা কখনো ভাবিনি। আমরা মনেকরি, এটা আমাদের চেতনাহীনতাকে প্রমাণ করে।’

যারা এই স্লোগান দিয়েছেন তারা তাদের ভুল বুঝতে পারবেন আশা করে গোলাম কুদ্দুস বলেন, ‘যেকোন আন্দোলনে নানা মত থাকতে পারে। যে কোন দল, ব্যক্তি বা সংগঠনই আন্দোলন করতে পারেন। কিন্তু কখনোই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি যারা একাত্তরের গণহত্যার সঙ্গে যুক্ত তাদেরকে নিজেদের সঙ্গে এককাতারে দাঁড় করিয়ে স্লোগান দেওয়াটা কখনো স্বাভাবিক হতে পারে না। এর পেছনে রয়েছে আমাদের জাতি হিসাবে আত্মবিস্মৃতি এবং ইতিহাস সম্পর্কে বিমুখতা।’

‘আমরা আমাদের প্রজন্মকে একাত্তরের প্রকৃত ইতিহাস সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারিনি। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা, আমাদের সংস্কৃতি-রাষ্ট্র ব্যবস্থা এক্ষেত্রে ব্যর্থতার দায় থেকে বেরুতে পারার সুযোগ নেই’-যোগ করেন এই সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।

;

খাসিয়াদের গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ হস্তান্তর



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
ছবি: সীমান্তে খাসিয়াদের গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশি

ছবি: সীমান্তে খাসিয়াদের গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশি

  • Font increase
  • Font Decrease

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে খাসিয়াদের গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুলাই) রাত পৌনে ৮টার দিকে মরদেহ হস্তান্তর করে বিএসএফ। এর আগে দিনভর পতাকা বৈঠক করে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

জানা যায়, রোববার(১৪জুলাই) বিকেলে ভারতীয় খাসিয়ার গুলিতে নিহত হয় কালাইরাগ করবলাটুক গ্রামের মৃত ফজর আলীর ছেলে আলী হুসেন ও মৃত সুন্দর আলীর ছেলে কাউছার আহমদ। তাদের মরদেহ প্রায় ২৮ ঘন্টা সেখানে পড়ে ছিল। দু-দেশের সীমান্ত জটিলতা দূর করে সন্ধ্যায় তাদের মরদেহ দুটি হস্তান্তর করে ভারত।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিজিবি কালাইরাগ ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার মিজানুর রহমানসহ আরও কয়েকজন বিজিবি সদস্য।

এব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম দস্তগীর আহমেদ বলেন, রাত পৌনে ৮টার দিকে ওই যুবকের মরদেহ হস্তান্তর করে বিএসএফ। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় সময় নিহত দুই যুবক ভারতের সীমান্ত থেকে লাকড়ি কুঁড়িয়ে আনতে গিয়ে মারা যায়।

;

গাজীপুরে নৌকা ডুবে মা ছেলে নিখোঁজ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, গাজীপুর
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

গাজীপুরে বিলে বেড়াতে গিয়ে নৌকা ডুবে মা ছেলে নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটিনায় আরও তিন জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে এলাকাবাসী। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন।

সোমবার (১৫ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার সূত্রাপুর ইউনিয়নের বগাবাড়ি বিলে এ ঘটনা ঘটে৷

নিখোঁজ মা ছেলে, উপজেলা ভাওমান টালাবহ এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে সাদিয়া(২১) ও তার পুত্র মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ (৩)।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসে সোমবার বিকেলে পরিবারের সাথে উপজেলার সূত্রাপুর ইউনিয়নের বগাবাড়ি বিলে নৌকা নিয়ে ঘুরতে যান সাদিয়া ও তার ছেলে আব্দুল্লাহ। এক পর্যায়ে বিলে নির্মিত একটি কালভার্টের কাছে গেলে নৌকাটি বানের তোড়ে ডুবে যায়। এসময় তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তিনজনকে উদ্ধার করলেও সাদিয়া ও তার ছেলে আব্দুল্লাহকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ চালাচ্ছেন।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এখনো তাদের উদ্ধার করা যায়নি।

কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তার ইফতেখার হোসেন রায়হান চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

;

আইআইইউসি ক্যাম্পাস পরিদর্শনে আরব আমিরাতের দুই কূটনীতিক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
আইআইইউসি ক্যাম্পাস পরিদর্শনে আরব আমিরাতের দুই কূটনীতিক

আইআইইউসি ক্যাম্পাস পরিদর্শনে আরব আমিরাতের দুই কূটনীতিক

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত কার্যালয়ের দুই কূটনীতিক সদস্য আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেছেন।

রোববার (১৪ জুলাই) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড কুমিরা এলাকায় অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেন। এই সময় সঙ্গে ছিলেন সাবেক সাংসদ ও আইআইইউসি বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী।

কূটনীতিক দুই সদস্য হলেন- বাংলাদেশে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূতের সহযোগী সাঈফ মোহাম্মদ আব্দুলরাহমান বিন রাবিইয়া আলতানেইজি ও রাশেদ মোহাম্মেদ নাসের আলমাঈল আলজাবি।

তারা আইআইইউসিতে শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান ট্রাস্টের অর্থায়নে নির্মিত সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্যাকাল্টির শেখ জায়েদ সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কমপ্লেক্সের ক্লাসরুম ও ল্যাবসমূহ পরিদর্শন করেন ও সংস্থাটির অর্থায়নে নির্মিতব্য শেখ জায়েদ সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় একাডেমিক ভবন পরিদর্শন করেন।

ক্যাম্পাস পরিদর্শনকালে কূটনীতিকগণ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ফ্যাকাল্টি ও বিভাগসমূহ ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। পরে কূটনীতিকগণ আইআইইউসি ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ করেন।

প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী আরব আমিরাতের প্রতিনিধিদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, এই ধরনের সফর শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করে এবং শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, আইআইইউসির উপাচার্য প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম আরিফ, বিওটি ভাইস চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, বিওটি সদস্য ও মিডিয়া, প্রেস, পাবলিকেশন্স এন্ড এডভারটাইজম্যান্ট কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খালেদ মাহমুদ, বিওটি সদস্য ও ফাইন্যান্স কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. ইঞ্জিনিয়ার রশিদ আহমেদ চৌধুরী, বিওটি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সালেহ জহুর, উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মছরুরুল মাওলা, ভারপ্রাপ্ত ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ মাহি উদ্দিন, রেজিস্ট্রার আ.ফ.ম আখতারুজ্জামান কায়সার এবং ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স এন্ড স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার ডিভিশনের এর ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমানসহ বিভিন্ন ফ্যাকাল্টির ডিন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর আনোয়ারুল আজিম আরিফ বলেন, আমাদের লক্ষ্য হল আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদান করা এবং এই ধরনের সফর আমাদেরকে সেই লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের কূটনীতিকরা আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) এর শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

;