কমিউনিটি ক্লিনিকে পাওয়া যাবে উচ্চ রক্তচাপ-ডায়াবেটিসের ওষুধ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গ্রামীণ এলাকার সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কমিউনিটি ক্লিনিকের ওষুধ তালিকা উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ওষুধ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শনিবার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৪ মে কমিউনিটি ক্লিনিকের ওষুধ তালিকা হালনাগাদ কমিটি এক বৈঠকে কমিউনিটি ক্লিনিকের ওষুধের তালিকায় উচ্চ রক্তচাপের জন্য অ্যামালোডিপাইন ৫মিলি ও ডায়াবেটিসের জন্য ‘মেটফরমিন ৫০০ মিলি.’ অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

এতে বলা হয়েছে, এটি বাংলাদেশের তৃণমূল পর্যায়ে উচ্চ রক্তচাপের ব্যাপকতা মোকাবিলায় একটি বড় পদক্ষেপ।

এটি বলছে, বাংলাদেশে উচ্চরক্তচাপ ও উচ্চরক্তচাপজনিত বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের প্রকোপ ও মৃত্যু ক্রমশ বাড়ছে। বাংলাদেশে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। কমিউনিটি ক্লিনিক স্তরে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ উপলব্ধ করার সিদ্ধান্ত উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য এই বিষয়ে একটি সাশ্রয়ী পদ্ধতি হতে পারে।

উল্লেখ্য, গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) এবং এর অংশীদার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ এবং প্রজ্ঞা (নলেজ ফর প্রগ্রেস) বাংলাদেশে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে যাতে উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধক ওষুধের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা যায়। কমিউনিটি ক্লিনিকের বিদ্যমান ওষুধের তালিকা; উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যায়ে বহু মাস (২ থেকে ৩ মাস) হাইপারটেনসিভ ওষুধের প্রেসক্রিপশন এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অনুমান করেছে যে বিশ্বব্যাপী ১ দশমিক ২৮ বিলিয়ন মানুষ (৩০-৭০ বছর বয়সী) উচ্চ রক্তচাপে ভুগছে, যার দুই তৃতীয়াংশ নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে বাস করে।

উচ্চ রক্তচাপ কার্ডিওভাসকুলার রোগ, স্ট্রোক এবং কিডনি রোগের পাশাপাশি মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়।

৪০০ কোটি টাকা প্রসঙ্গে যা বললেন সেই পিয়ন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
জাহাঙ্গীর আলম/ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীর আলম/ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চীন সফর নিয়ে রোববার (১৪ জুলাই) গণভবনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার পিয়নও ৪০০ কোটি টাকার মালিক ছিল। হেলিকপ্টার ছাড়া সে চলতো না। তাকে ধরা হয়েছে।’ পরে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।

সংবাদ প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম, তার স্ত্রী এবং তাদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসেব জব্দ করার নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তবে, এক সাক্ষাৎকারে জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, তিনি মনে করেন না যে, প্রধানমন্ত্রী তাকে ইঙ্গিত করে কথাগুলো বলেছেন। তিনি বলেন, ‘আমার পুরো বংশের মিলেও তো এত টাকা হবে না। আর আমার কী আছে, তাতো ট্যাক্স ফাইলেও উল্লেখ করেছি। আমি দুর্নীতি করিনি।’

২০১৩ সালের ৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস জানায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জাহাঙ্গীর আলম সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে অনৈতিক কর্মকাণ্ড করে আসছেন। প্রধানমন্ত্রী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সঙ্গে জাহাঙ্গীর আলমের কোনো সম্পর্ক নেই।’

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার খিলপাড়া ইউনিয়নের নাহারখিল গ্রামের মৃত রহমত উল্লাহর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের ব্যাপারে প্রয়োজনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তা নিতেও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সকলকে অনুরোধ করা হয়েছে বলে বাসসের ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাহাঙ্গীর আলম এখন চাটখিল উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং গত সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। তবে দল থেকে তাকে নমিনেশন দেওয়া হয়নি।

জাহাঙ্গীর নিজেই জানিয়েছেন, তিনি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার অনেক আগে থেকেই দলীয় সভানেত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি।

এর মধ্যেই এলাকার রাজনীতিতে তার জড়িয়ে পড়া এবং হেলিকপ্টারে আসা-যাওয়ার খবরের পাশাপাশি হঠাৎ করে বিপুল অর্থবিত্ত অর্জনের খবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নজরে আসে। এরপর গত বছরের শেষ দিকে তাকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।

দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, ৪০০ কোটি টাকার বিষয়টি তাকে নিয়ে বলা হয়নি বলেই মনে করেন তিনি। জাহাঙ্গীর বলেন, ‘আমি দুর্নীতি করিনি। আমাকে অব্যাহতি দেওয়ার পর পরিচয়পত্রসহ আমার কাছে যা ছিল তা আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দিয়ে এসেছি। আর চারশ কোটি টাকা আমার চৌদ্দ গোষ্ঠীর টাকা ও সম্পদ মিলালেও তো হবে না।’

;

কোটা আন্দোলনে সংঘর্ষে আহত ১২ জন ঢামেকে ভর্তি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
হামলায় আহত শিক্ষার্থী

হামলায় আহত শিক্ষার্থী

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষের ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছেন ১২ জন। এ ঘটনায় আহত হয়ে এখন পর্যন্ত মোট চিকিৎসা নিয়েছেন ২৯৭ জন।

সোমবার (১৫ জুলাই) রাত সাড়ে আটটায় মেডিকেল কলেজ সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টার দিকে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ১টার দিকে তারা অবস্থান নেওয়া শুরু করেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভে যোগ দেন।

বিকেল ৩টার দিকে বিজয় একাত্তর হলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে তা পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ছত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে ১৫ বারেরও বেশি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।

;

কোটা আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরিশাল
ছবি: কোটা আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ

ছবি: কোটা আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা আন্দোলনের নামে স্বাধীন দেশকে অচল করতে জনসাধারণকে জিম্মি এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসাবে চিহিৃত করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড বরিশাল মহানগর কমিটির নেতাকর্মীরা।

সোমবার (১৫ জুলাই) বিকেলে বরিশাল নগরীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড বরিশাল মহানগর কমিটির নেতাকর্মীরা।

পরে তারা নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে গিয়ে সমাবেশ করে। সমাবেশে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে রাঙানো জাতীয় পতাকা পদদলিত, মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটুক্তি, বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাজপথে লাঞ্ছিতের প্রতিবাদ জানানো হয়।

মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের আহ্বায়ক শেখ সাঈদ আহমেদ মান্না সভাপতিত্বে বক্তৃতা দেন, বরিশাল সদর উপজেলার সাবেক কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব, মহিউদ্দিন মানিক (বীর বিক্রম), শাজাহান হাওলাদার, আনসার উদ্দিন হাওলাদার, গিয়াস উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড সিনিয়র সদস্য খান মাহিদ, মো. ফয়সাল, ঝালকাঠি আহ্বায়ক মো. শামীম, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ প্রমুখ।

;

চিকিৎসা ব‍্যয় মেটাতে দরিদ্র হচ্ছে ৬১ লাখ মানুষ



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন/ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন/ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চিকিৎসা ব‍্যয় মেটাতে দেশের ৬১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। যা মোট দারিদ্র্যের ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ৬১ শতাংশ মানুষ অর্থ সংকটে পড়েছে এবং ২৭ শতাংশ ঋণ নিয়েছেন।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) "বিপর্যয়কর স্বাস্থ্য অভিঘাতের ফলে বাংলাদেশে দারিদ্র্য" শীর্ষক গবেষণায় এসব তথ‍্য উঠে এসেছে।

সোমবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিআইডিএস কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ পারিবারিক আয় ব্যয় জরিপের ২০২২ (হেইজ) ভিত্তিতে এই গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির রিসার্চ ফেলো ড. আব্দুর রাজ্জাক।

বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্য সেবা মেটাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খরচ করতে হয় বাংলাদেশে। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সেবার ৭৩ শতাংশ ব্যয় মানুষের পকেট থেকে মেটাতে হয়। শুধুমাত্র আফগানিস্তানে এ খরচ বাংলাদেশের থেকে বেশি ৭৭ শতাংশ। অন্যদেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানে ৫৭ শতাংশ, নেপালে ৫১ শতাংশ, ভারতে ৪৯ শতাংশ, ভুটানে ১৮ শতাংশ এবং মালদ্বীপে খরচ হয় ১৪ শতাংশ।

অন্যদেশগুলোর তুলনায় খরচ বেশি হলেও জিডিপিতে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ সবচেয়ে কম। জিডিপিতে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ মাত্র ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ। যেখানে আফগানিস্তানে বরাদ্দ ২১ শতাংশ। মালদ্বিপে বরাদ্দ ১০ শতাংশ। একারণে চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশের মানুষকে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়। ক‍্যান্সার চিকিৎসায় ৬ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা পযর্ন্ত ব‍্যয় করতে হয়‍ বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একটি পরিবারের একজন সদস্য হাসপাতালে ভর্তি হলে গড়ে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়। আর এ খরচের প্রায় প্রায় ২৫ শতাংশ ওষুধের পেছনে ব্যয় হয়। হাসপাতালে ভর্তি না হওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে ৫৪ শতাংশ ওষুধের পেছনে ব্যয় হয়। আর এসব ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়তে হয়। স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বহন করতে সঞ্চয় ভেঙ্গে, ঋণ করে এবং সম্পদ বিক্রি করছে অধিকাংশ মানুষ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঋণ করে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বহন করতে হয় ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ মানুষের। ৩২ দশমিক ৫৮ শতাংশ খরচ করে সঞ্চয় ভেঙ্গে। বন্ধু-বান্ধবের কাছ সহায়তা নেয় ১৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর ১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সম্পদ বিক্রি করে দিতে হয়।

প্রতিবেদনে মানুষের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমাতে ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থা প্রণয়নের পরামর্শ দেন বিআইডিএসের গবেষক ড. আব্দুর রাজ্জাক সরকার। গত কয়েক বছর ধরে দেশে ওষুধের দাম বাড়ছে বলেও তিনি জানান।

বিনায়েক সেন বলেন, দেশে স্বাস্থ্য বীমা চালু করা প্রয়োজন। যেখানে মালিকপক্ষ তার কর্মীদের স্বাস্থ‍্য সেবার জন‍্য অর্থ দেবে। তাহলে চিকিৎসা ব‍্যয় অনেক কমে যাবে। জার্মানিতে ইউনিভার্সাল হেল্থ কেয়ার নিতে ১২৭ বছর লেগেছিল। ভারত ও চায়নার ৪০ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ‍্য বীমার আওতায় এসেছে। এসব দেশে বীমার আওতায় আনতে ১২ বছর সময় লেগেছে।

স্বাস্থ‍্যমন্ত্রী বলেন, গ্রামাঞ্চলে এবং প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করাটাকে আমি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আমরা যদি ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিসের যথাযথ চিকিৎসা এবং ওষুধ দিতে পারি তাহলে ঢাকা শহরে এত বড় বড় বিশেষায়িত হাসপাতালের দরকার হবে না।

এন্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রেসক্রিপশন ছাড়া সামান্য সর্দি জ্বর হলেই এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হচ্ছে। এন্টি মাইক্রোবিয়াল রেসিস্টেন্ট ভয়ানক একটা জিনিস। এ প্রসঙ্গে আমি বলব, ডিজি ড্রাগকে আরও শক্ত হতে হবে। ফার্মেসিতে গিয়ে কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে। প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এন্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে আমরা ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন সিস্টেম চালু করার চেষ্টা করছি। ইলেকট্রনিক প্রেসক্রিপশন সিস্টেম যদি চালু করা যায় তাহলে যথাযথ মনিটরিং করা সম্ভবপর হবে। ওষুধের যথেচ্ছ এবং মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আমি মন্ত্রী হবার মেয়াদ মাত্র ছয় মাস। এই ছয় মাসে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন নিয়ে আমি অন্তত সাতটি সভা করেছি। আমি যেভাবেই হোক এটা মহান জাতীয় সংসদ নিয়ে যাব। কারণ, রোগী এবং চিকিৎসক উভয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করাটা আমার দ্বায়িত্ব।

স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা মোকাবিলায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সামন্ত লাল সেন আরও বলেন, স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা নিরসনে আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে। এ ব্যাপার জনমত তৈরি করতে হবে। সাংবাদিক ভাইদের সহযোগিতায় এবং সৃষ্ট জনমতের কারণে পাঁচ বেড থেকে পাঁচশ’ বেডের বার্ন হাসপাতাল তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বার্ন হসপিটাল। একটা রোগীও বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে না। রোগীরা আইসিইউতেও পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছে, স্থান সংকুলান হচ্ছে যেটা আগে সম্ভব ছিল না।

;