কবি নজরুল কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতির আত্মহত্যা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ময়মনসিংহ
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর সরকারি কবি নজরুল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ওয়াসিম রানার (৩০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (২ জুন) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তার বন্ধু ইমরান হোসেন বাবু বলেন, ওয়াসিম রানা সব সময় হতাশাগ্রস্ত থাকত। তবে কী কারণে হতাশাগ্রস্ত থাকত তা কখনো জানতে পারিনি। অনেকবার তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম। এক বছর আগে তার বাবা মারা যায়। তার আর এক ভাই ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। গত নভেম্বরে সে ছাত্রলীগের সভাপতি হয়েছে। তিন বছর কষ্ট করার পরে সে এই পদ পেয়েছিল। অথচ সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করল। ও আমার অনেক কাছের বন্ধু ছিল। বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।

কান্না জড়িত কণ্ঠে ইমরান আরও বলেন, ওয়াসিম রানা কবি নজরুল কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র ছিল। রাজধানীর নিমতলীর চানখাঁরপুর এলাকায় থাকত। তার বাড়ি বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলায়।

ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া বলেন, সরকারি কবি নজরুল কলেজের ছাত্রলীগের সভাপতি ওয়াসিম রানাকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আমরা জানতে পেরেছি তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে কী কারণে আত্মহত্যা করেছেন প্রাথমিকভাবে সেটি জানা যায়নি। মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি বংশাল থানাকে জানানো হয়েছে।

আপিল বিভাগের রায়কে স্বাগত জানাল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন



Menonk
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারী সারজিস আলম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারী সারজিস আলম

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা ইস্যুতে আপিল বিভাগের দেয়া রায়কে স্বাগত জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। রবিবার (২১ জুলাই) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দেয়া রায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় এ কথা জানান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারী সারজিস আলম।

তিনি বলেন, আপিল বিভাগের রায়কে শিক্ষার্থীরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তবে নির্বাহী বিভাগের সিদ্ধান্তকেই চূড়ান্ত হিসেবে দেখছেন তারা।

এর আগে রোববার সকাল ১০টার পর কোটা নিয়ে আপিল বিভাগের শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে আদালত দুপুর দেড়টার দিকে রায় ঘোষণা করেন।

কোটা পুনর্বহাল ইস্যুতে হাইকোর্টের দেয়া রায় বাতিল করেন আপিল বিভাগ। রায়ে আপিল বিভাগ জানান, সরকারি চাকরিতে ৯৩ শতাংশ নিয়োগ হবে মেধার ভিত্তিতে। এছাড়া ৫ শতাংশ হবে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় এবং এক শতাংশ থাকবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং এক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গ কোটা।

;

দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ, বিটিভিতে আগুন, নিহতের সংখ্যা বাড়ছে!



বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় টেলিভিশন স্টেশন বিটিভি ভবনে আগুন জ্বালিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় টেলিভিশন স্টেশন বিটিভি ভবনে আগুন জ্বালিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সবশেষ পরিস্থিতির খবর জানা এবং জানানো এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে। ঢাকাসহ সাড়া দেশে ইন্টারনেট সংযোগ হয় সীমিত নয়তো বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও বাংলাদেশে ইন্টারনেটভিত্তিক কল করা সম্ভব হচ্ছে না। এমনটা জানা যাচ্ছে বাংলাদেশ সীমার বাইরের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে।

সবশেষ খবরগুলো বলছে এ পর্যন্ত ১৮ জন নিহত হয়েছে কোটা বিষয়ক আন্দোলনের জেরে। এদের মধ্যে ৬ জন নিহত হয়েছে বৃহস্পতিবার। তবে এই মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের তথ্য আসছে। তাতে কেউ কেউ মৃত্যুর সংখ্যা ৩৫ হয়েছে বলে জানাচ্ছেন। যদিও এই তথ্য কোনো পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় টেলিভিশন স্টেশন বিটিভি ভবনে আগুন জ্বালিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা এমন খবর দিচ্ছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও।

বৃহস্পতিবার সন্ধার পর থেকেই ঢাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধের খবর আসতে থাকে। তবে যতক্ষণ ইন্টারনেট চালু ছিলো কিংবা ফেসবুকে আপডেট পাওয়া যাচ্ছিলো তাতে বলা হয়েছে, বিটিভি ভবনে আগুন জ্বালিয়ে দেয় আন্দোলনকারীরা। যারা ছবি সামাজিক মাধ্যমে দেখা গেছে। এছাড়াও মেট্রো রেলের একটি ট্রেন পুড়িয়ে দেওয়ার তথ্য ও ছবিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসতে থাকে।

বিটিভির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজেও এই আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার পোস্ট ছিলো। তাতে বলা হচ্ছিলো বেশ কিছু মানুষ ওই ভবনের ভেতরে আটকা পড়েছে। প্রাথমিকভাবে তথ্য ছিলো সেখানে ফায়ার ব্রিগেডের অগ্নিনির্বাপক দলকে যেতে দেওয়া হচ্ছিলো না। পরে অবশ্য আপডেট আসে যে, দমকলবাহিনী সেখানে পৌঁছেছে। তবে আগেই বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ হয়ে যায়।

মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে নানা তথ্য আসছে। এএফপির খবরে বলা হয়েছে সব মিলিয়ে ৩২ জন নিহত হয়েছে। যাদের অধিকাংশই প্রাণ হারিয়েছেন বৃহস্পতিবার।

নিহতদের মধ্যে অন্তত ২ জন সাংবাদিক রয়েছেন। এদের একজন ঢাকা টাইমসের। যিনি রাজধানীতে প্রাণ হারিয়েছেন। অপরজন গাজীপুরে হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। গাজীপুরের ঘটনাটি নিশ্চিত করা যায়নি।

বিটিভিতে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার আগে আন্দোলনকারীরা একটি পুলিশ স্টেশনেও আগুন জ্বালিয়ে দেয় এমন তথ্যও দিচ্ছে একটি সংবাদমাধ্যম। তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতকে উদ্ধৃত করে বিবিসি জানায়, বিটিভির ভেতরে কয়েকজন আটকা পড়েন। এবং তারা নিরাপদে ছিলেন না।

;

ছাত্রছাত্রীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে দুর্বৃত্তরা: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গভীর পরিতাপের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, সরকার কর্তৃক কোটা সংস্কারের বিষয়ে দাবি মেনে নেওয়া সত্ত্বেও সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে দুর্বৃত্তরা সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা ও সাধারণ জনগণের উপর হামলা, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে আরও বলা হয়, 'দুর্বৃত্তরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ টেলিভিশন ভবন, সেতু ভবন, দুর্যোগ ভবন, বিভিন্ন পুলিশ স্থাপনা ও মেয়র হানিফ টোল প্লাজাসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ, ভাংচুর ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। এতে নিরীহ জনগণ, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যগণ ও সাংবাদিকগণ হতাহত হচ্ছে। এ পর্যন্ত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী চরম ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায়, যদি দুর্বৃত্তরা তাদের ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ অব্যাহত রাখে তাহলে দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আইনের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে বাধ্য হবে। সকলকে এহেন কার্যকলাপ হতে বিরত থাকতে অনুরোধ করা যাচ্ছে।'

রাজধানীসহ সারাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতায় অনেক আহত ও নিহতের ঘটনা ঘটে।

এ পরিস্থিতিতে দুপুরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানান, কোটা সংস্কারের ব্যাপারে সরকার নীতিগতভাবে একমত। সরকার কোটা সংস্কারের পক্ষে।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনকারীদের প্রস্তাব গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষার্থীদের সাথে আজই বসতে রাজি আমরা।’

এরপরপরই প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কোটা আতিলের পরিপত্র অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের জন্য আগামী রোববার শুনানির দিন ধার্য করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের বিশেষ চেম্বার আদালত এ দিন ধার্য করে।

সহিংসতা ঠেকাতে ঢাকাসহ সারা দেশে ২২৯ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানীতে বুধবার রাতেই মোতায়েন করা হয়েছে ১৬ প্লাটুন আনসার সদস্য।

;

কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, আহত-১০



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কুষ্টিয়া
কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ

  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়া শহরে পুলিশের সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ ১০ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় ৫ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেল থেকে কুষ্টিয়া শহরের সাদ্দামবাজার, সার্কিট হাউজের সামনে ও ডিসি কোর্ট চত্বরের সামনে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুরো কুষ্টিয়া শহরজুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিকেলে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয় আন্দোলনকারীরা।

সেখান থেকে লাঠিসোঁটা নিয়ে পুলিশের বাধা অতিক্রম করে মজমপুরের দিকে আসছিলো তারা। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাদের বাধা দিলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

আন্দোলনকারীরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে পুলিশের ওপর। এতে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে টিয়ারশেল, রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে ১০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়। তাদের মধ্যে দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মহাসড়কে আমাদের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশ বিনা উসকানিতে লাঠিচার্জ করে এবং ব্যাপক গুলি ও টিয়াশেল নিক্ষেপ করে। এতে আমাদের দুজন গুলিবিদ্ধসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।

কুষ্টিয়া জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো: সোহেল রানা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আন্দোলনকারীরা মহাসড়ক দখল করে মানুষের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছিল।

পুলিশ তাদের সড়ক ছেড়ে দিতে বললে তারা পুলিশের ওপর হমলা চালায়। জবাবে পুলিশও জানমালের নিরাপত্তার জন্যে গুলি ও টিয়াশেল নিক্ষেপ করে।

;