ধূমপান ও তামাকের ভয়াল নেশা থেকে দূরে থাকুন: প্রধানমন্ত্রী



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

  • Font increase
  • Font Decrease

ধূমপান ও তামাকের ভয়াল নেশা থেকে সবাইকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেছেন, জনসাধারণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং অংশীজনদের প্রায়োগিক ভূমিকার মাধ্যমে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

বুধবার (৩১ মে) ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস-২০২৩' উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস-২০২৩’ পালিত হতে যাচ্ছে জেনে আনন্দিত। তিনি বলেন, দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘তামাক নয়, খাদ্য ফলান’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২২ সালের তথ্য অনুযায়ী প্রতি ৩০০টি সিগারেট তৈরির জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ গাছ কাটা পড়েছে। তামাক চাষ ও তামাক পাতা প্রক্রিয়াজাত করার জন্য প্রতিবছর গড়ে দুই লাখ হেক্টর বনজ সম্পদ ধ্বংস হচ্ছে। তামাক চাষে ব্যবহৃত কীটনাশক ও তামাকের ক্ষতিকর রাসায়নিক মাটি ও আশপাশের জলাশয়ের পানি দূষণ করছে। ফলে, মাটি, বায়ু ও পানিনির্ভর জীববৈচিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং কৃষি ব্যবস্থা ও খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে। অন্যদিকে তামাক প্রক্রিয়া, সিগারেট ও বিড়ির ধোঁয়ায় বায়ুর বিষমাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে, যা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, তামাক ব্যবহার অসংক্রামক রোগের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক মহামারি সৃষ্টি করছে। তামাক সেবনের ফলে সৃষ্ট বিভিন্ন রোগ যেমন- হৃদরোগ, ক্যানসার, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীতে প্রতি বছর প্রায় ৮৭ লাখ এবং বাংলাদেশে ১ লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যাচ্ছে। তামাক সেবন কেবল ধূমপান, জর্দা ও গুলের ব্যবহারকারীদের ক্ষতি করে তা নয়, পরোক্ষ ধূমপানও অধূমপায়ীদের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। এজন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তামাকের ব্যবহার হ্রাস করার লক্ষ্যে ‘ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল’ (এফসিটিসি) প্রণয়ন করেছে।

এফসিটিসি’র আলোকে বাংলাদেশে ২০০৫ সালে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন’ প্রণীত হয় ও ২০১৩ সালে তা সংশোধন করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, জাতিসংঘ তামাককে উন্নয়নের হুমকি বিবেচনায় নিয়ে এফসিটিসির কার্যকর বাস্তবায়ন ও অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণকে অন্তর্ভুক্ত করে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা’ (এসডিজি) প্রণয়ন করেছে। এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সরকার তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়টিকে ৭ম ও ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় যুক্ত করেছে। সর্বোপরি, দক্ষিণ এশীয় স্পিকার্স সামিট ২০১৬-এ আমরা আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছি। সে লক্ষ্যে আমাদের সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যার যেখানে যতটুকু পতিত জমি আছে, তা চাষের আওতায় এনে খাদ্য উৎপাদন বাড়াতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বর্ধিত নগরায়ন, শিল্পায়ন ও বসতি গড়ে তোলার কারণে কৃষিজমি উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাচ্ছে, যা খাদ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তন, বিশেষত পানির অভাবে খাদ্যশস্য উৎপাদন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সর্বশেষ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে জ্বালানি তেল, সার ও কীটনাশকের মূল্য ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে খাদ্যপণ্যের ব্যাপক হারে মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। এ অবস্থায় তামাকের মতো বহুমাত্রিক ক্ষতিকর ফসলের চাষ কমিয়ে এনে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো জরুরি।

হলে ফেরার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান, প্রভোস্টকে দালাল বললেন শিক্ষার্থীরা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
প্রভোস্ট অধ্যাপক জাবেদ ইসলাম পাটোয়ারী

প্রভোস্ট অধ্যাপক জাবেদ ইসলাম পাটোয়ারী

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক জাবেদ ইসলাম পাটোয়ারী শিক্ষার্থীদের হলে ফেরার অনুরোধ করেছেন। তবে তার সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে শিক্ষার্থীরা দালাল দালাল বলে স্লোগান দিতে থাকেন।

সোমবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় কয়েক দফা সংঘর্ষ শেষে হলে ফিরতে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করেন হল প্রভোস্ট।

এর আগে, শহীদুল্লাহ হলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের। এসময় দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে।

এক পর্যায়ে পুলিশ এসে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেয় । পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টোরিয়াল বডি ও হল প্রভোস্ট এসে শিক্ষার্থীদের হলে ফিরে যেতে বলে। শিক্ষার্থীরা হল প্রভোস্টের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে দালাল দালাল বলে স্লোগান দিতে দেখা যায়।

;

সিলেটে ছেলেধরা সন্দেহে প্রতিবন্ধীকে গণধোলাই, আদালতে মামলা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
ছবি: সিলেটে প্রতিবন্ধীকে গণধোলাই

ছবি: সিলেটে প্রতিবন্ধীকে গণধোলাই

  • Font increase
  • Font Decrease

সিলেটের গোলাপগঞ্জে আব্দুল মজিদ নামের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী এক যুবককে গণধোলাইয়ের ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুলাই) সিলেটের গোলাপগঞ্জ আমলী আদালতে হাজির হয়ে এই মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী আব্দুল মজিদের মা চানতেরা বিবি।

মামলায় আসামিরা হলেন- উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের ভাই ও ভাদেশ্বর পশ্চিমভাগ গ্রামের মৃত ফারুক আহমদের ছেলে দারা খান (৩৫) এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি ও জেলার সদস্য ভাদেশ্বর পশ্চিমভাগের বাসিন্দা সহির উদ্দিন (৪৫)। এছাড়া মামলায় অন্তত ৩০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা যায়, গত ৮ জুলাই রোববার গোলাপগঞ্জ উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নে পশ্চিমভাগ এলাকায় ছেলেধরা সন্দেহে জকিগঞ্জ উপজেলার বিরশ্রী ইউনিয়নের দক্ষিণ বিপক গ্রামের ইছুব আলীর বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছেলে আব্দুল মজিদকে গণধোলাই দেওয়া হয়। পরে গোলাপগঞ্জ থানা পুলিশ তাকে থানা হেফাজতে নিয়ে পরিবারকে খবর দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা গোলাপগঞ্জ থানায় আসলে পুলিশ তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। যা সামাজিক মাধ্যম সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যপক ভাবে প্রচার হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী সাইদুর রহমান বলেন, আলোচিত মামলাটি আদালত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

;

বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক বন্ধ করে ববি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরিশাল
বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক বন্ধ করে ববি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক বন্ধ করে ববি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

  • Font increase
  • Font Decrease

বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে অবরোধ করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ববি গেট সংলগ্ন মহাসড়ক অবরোধ করে লাঠি হাতে বিক্ষোভ করেন তারা।

এর আগে, ববির গ্রাউন্ড ফ্লোরে শিক্ষার্থীরা সংগঠিত হতে থাকেন। এরপর মহাসড়কে অবস্থান নেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ কারণে মহাসড়কে দু’পাশে শতশত যানবাহন আটকা পড়ে।

এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘চাইলাম অধিকার, হইলাম রাজাকার। প্রধানমন্ত্রী আমাদের রাজাকারের বাচ্চা বলতে পারেন না। এটা তার মুখে মানায় না। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করছি।’

এ ব্যাপারে বৈষম্যমূলক কোটা বিরোধী আন্দোলন সমন্বয় কমিটির সদস্য সুজয় শুভ জানান, আমাদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে শত বাঁধা উপেক্ষা করে হলেও মাঠে থাকবো। যতদিন পর্যন্ত সরকার আমাদের দাবি মেনে না নেবে, ততদিন পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহমান মুকুল বলেন, শিক্ষার্থীরা কোটা বাতিলের দাবিতে মহাসড়কে অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেছে। তাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।

;

সংঘর্ষ থামাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যা বলবে তাই করবো: বিপ্লব কুমার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ডিএমপির যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার

ডিএমপির যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার

  • Font increase
  • Font Decrease

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ থামাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যা বলবে তাই করবেন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম-পুলিশ কমিশনার (অপারেশনস) বিপ্লব কুমার সরকার।

সোমবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সংঘর্ষ থামানোর বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সংঘর্ষ থামাতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাবি প্রশাসনের অনুমতি পেলে আমরা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করবো।

এদিন দুপুর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। শেষ খবর অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল এলাকায় কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।

ছাত্রলীগের নেতা–কর্মীরা হলের বাইরের সড়কে অবস্থান করে ইট–পাটকেল ছুঁড়ছেন। অন্যদিকে হলের ভেতরে অবস্থান করে আন্দোলনকারীরা ইটপাটকেল ছুঁড়ছেন। ওই এলাকায় অন্তত দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।

জানা গেছে, ছাত্রলীগের হামলায় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এছাড়া ছাত্রলীগের সাতজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম জানান, ছাত্রলীগের হামলায় আহত নারী শিক্ষার্থীসহ শতাধিক ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিচ্ছে। আহতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলেও জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের অসুস্থ ভাই বোনদের চিকিৎসা শেষে আজ আবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাব। মিছিল করব। আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

;