ভারত এখন আ.লীগের প্রতি প্রসন্ন না: হাসনা মওদুদ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ভারত এখন আ.লীগের প্রতি প্রসন্ন না: হাসনা মওদুদ

ভারত এখন আ.লীগের প্রতি প্রসন্ন না: হাসনা মওদুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারত এখন আওয়ামী লীগের প্রতি প্রসন্ন না বলে মন্তব্য করেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও উপ-রাষ্ট্রপতি এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সদস্য মরহুম ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের সহধর্মিণী সাবেক এমপি হাসনা জসীম উদ্দীন মওদুদ।  তিনি বলেন, আজকে দেশতো আমরা ভারতের হাতে দিয়েই দিয়েছি।  না চাইতে অনেক কিছু ভারত পেয়েও তারা এখন আওয়ামী লীগের প্রতি প্রসন্ন না। তারা জানে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে শ্রদ্ধা করেনা। একচেটিয়া ভাবে রাতের বেলা ভোটের অধিকার হরণ করে। মওদুদ সাহেবকে রাস্তায় বের হতে দেয়নি, বাজারে যেতে দেয়নি। এই কথা গুলো ভুলে গেলে চলবেনা।  এই কথা গুলো আওয়ামী লীগের আসল ইতিহাস।

মঙ্গলবার (৩০ মে) দুপুর ১টার দিকে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পূর্ব মোহাম্মদনগর গ্রামে মওদুদ আহমদের নিজ বাড়িতে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট উপজেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠন। 

আমেরিকার প্রসঙ্গ টেনে দলীয় নেতাকর্মিদের হাসনা মওদুদ বলেন, আমেরিকা থেকে আপনারা শুনেছেন, যদি কেউ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠানে বাধা দেয় তাহলে তার বংশধরকে কোন দিন আমেরিকায় ঢুকতে দিবেনা। এবং এটা বিরাট থাপ্পড়। কারণ এদের সবার ছেলে মেয়ে বিদেশে বাস করে।  গণতন্ত্রে কেউ যদি বাধা দেয় আপনারা শুধু ছবি তুলবেন,ভিডিও করবেন।  এ ছবি গুলো সব পশ্চিমা অ্যাম্বাসেডদের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।  আমার (বাসা) ভাড়াটিয়া হলো আমেরিকান অ্যাম্বাসেডর। সুতারাং সে এ জায়গার খবর রাখবে। রাখবেনা,নিশ্চয় রাখবে। আমি আমার কাগজ পত্র সব সময় তার কাছে পাঠায়। আমার এলাকায় যদি কোন কিছু হয়। সব চেয়ে আগে খবর যাবে আমেরিকান অ্যাম্বাসেডরের কাছে।  আপনারা সবাই নির্বঘ্নে নির্দিদ্বায় ভোট করবেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য। বাংলাদেশের গণতন্ত্র উদ্ধার প্রথম শুরু হবে নোয়াখালী ৫ আসন থেকে।   

সাবেক এমপি হাসনা মওদুদ বলেন,জিয়াউর রহমান তার জীবন দান না করলে এ দেশকে আমরা স্বাধীন ভাবে পেতাম না।  আজকে আমাদের কর্তব্য বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা। তার উপযুক্ত সন্তান তারেককে দেশে ফিরে এসে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়া। এ সময় তারেককে কেন এত ভয়,এমন প্রশ্ন রাখেন হাসনা মওদুদ। 

জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ব্যক্তি গত স্মৃতিচারণ করে হাসনা মওদুদ বলেন, তিনি অত্যন্ত লাজুক হ্যান্ডসাম ছিলেন। মওদুদ আহমেদ জিয়াউর রহমানের একনিষ্ঠ-ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বন্ধু ছিলেন এবং অনেক ভালোবাসতেন শ্রদ্ধা করতেন। অনেক রাতে জিয়াউর রহমান আমাদের ছোট্র বাসায় ফোন করতেন। আমাদের ছোট বাচ্চা ছিল। আমি একদিন ফোন ধরে বললাম আপনি এতো রাতে ফোন করেছেন। আমারও সাহস কমনা। ঊনি একটু লজ্জা পেয়ে আর ফোন করেন নাই।

হাসনা মওদুদ আরও বলেন, আজকে যে যাই বলুক অনেকে শুনেছে শহীদ জিয়া ঘোষণা দিয়েছেন স্বাধীনতার।  তার এক ডাকে পুলিশ,আর্মি সবাই  একত্রিত হয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশ স্বাধীন করেছিল। ১৯৭১ সালের জুন মাস পর্যন্ত শহীদ জিয়া ছিলেন সেক্টর কমান্ডার-১। তারপর তিনি ছিলেন জিয়া ফোর্সের হেড। বাংলাদেশী ন্যাশনাল ইজমের প্রবক্তা ছিলেন জিয়াউর রহমান। সংবিধানে তিনি বিসমিল্লাহ সংযোজন করেছেন।  আর্মি-পুলিশে শৃঙ্খলা আনলেন। এরপর মুক্ত করলে খবরের কাগজ। চারটি খবরের কাগজ ছাড়া সব পত্রিকা শেখ মুজিবুর রহমানের সময় বন্ধ ছিল।  বাংলাদেশের সাংবাদিকেরা আজ প্রকাশ্যে সাংবাদিকতা করতে পারছে জিয়াউর রহমানর মুভমেন্টের কারণে।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের সংকটময় মুর্হূতে মওদুদ তার সাথে ছিলেন। রাতের বেলা তিনি ফোন করে করে সব খবর নিতেন। এমন একজন রাষ্ট্রপতি আমরা রাখতে পারলাম না। তাকে হারাতে হলো। আজকে জিয়াউর রহমান বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ কোথায় উঠে যেত। শ্রমিকদের নিয়ে,কৃষি নিয়ে কথা বলতেন। ইন্ডাস্ট্রি গুলোকে মুক্ত করেছেন। তিনি সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা।   

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ফোরকান ই আলমের সভাপতিত্বে ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান রিপনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ গোলাম মোমিত ফয়সাল, কবিরহাট উপজলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুর রহমান,কবিরহাট পৌরসভা বিএনপির সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান মঞ্জু, কবিরহাট উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নাজমুল হুদা ফরহাদ,বসুরহাট পৌরসভা বিএনপি নেতা জামাল উদ্দিন টিপু, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ প্রমূখ।

 

দুই দিনে ২৫টি সহিংসতার আগুন: ফায়ার সার্ভিস



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম, আগুনের ছবি

ছবি: বার্তা২৪.কম, আগুনের ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে গত দুইদিনে (বুধ ও বৃহস্পতিবার, ১৭, ১৮ জুলাই) রাজধানীসহ সারাদেশে ২৫টি সহিংসতার আগুনের খবর পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

এসবের মধ্যে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ১৫টি আগুনের ঘটনা ঘটে। এদিকে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সারাদেশে মোট ১৫টি আগুনের সংবাদ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১১টি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঢাকা সিটি এলাকায়।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম এ তথ্য জানিয়েছেন।

তালহা বিন জসিম বলেন, বুধবার ও বৃহস্পতিবার (১৭ থেকে ১৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ২৫টি সহিংসতার আগুনের সংবাদ পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ ১টি, গাইবান্ধা জেলায় ২টি, রংপুর সিটিতে ২টি, কুষ্টিয়ায় ১টি, সিরাজগঞ্জে ১টি, বরিশালে ১টি, নাটোরে ১টি, মাদারীপুরে ১টি ও ঢাকা সিটিতে ১৫টি আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স।

এই অগ্নিকাণ্ডে ৬টি বাস, ২টি মাইক্রোবাস, ২০টি মোটরসাইকেল, ২টি রাজনৈতিক দলের অফিস ও ১টি টোল প্লাজা, ১টি থানা, ১টি পুলিশ বক্স, ১টি পুলিশের গাড়ি ও ২টি সরকারি অফিস ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এই অগ্নিকাণ্ড নির্বাপণে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৪২টি ইউনিট ও ২শ ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অংশ নেন।

আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৩ জন সদস্য আহত হয়েছেন।

;

গুলিবিদ্ধ হয়ে সাংবাদিক হাসান মেহেদি নিহত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: নিহত সাংবাদিক হাসান মেহেদী

ছবি: নিহত সাংবাদিক হাসান মেহেদী

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীতে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে হাসান মেহেদী নামে এক সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। নিহত সাংবাদিক হাসান মেহেদী ঢাকা টাইমস-এ কর্মরত ছিলেন। এর আগে তিনি বেসরকারি টেলিভিশন নিউজ২৪-এর রিপোর্টার ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় যাত্রাবাড়ী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মারা যান।

নিহত মেহেদীর ৭ মাসের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তিনি পরিবারসহ যাত্রাবাড়ী এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

সোয়া আটটার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা টাইমসের প্রধান প্রতিবেদক সিরাজুম সালেকিন।

;

ঢামেকে চিকিৎসা নিয়েছেন ১১৭ জন, নিহত ৬



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

  • Font increase
  • Font Decrease

রাত ৮টা পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ১১৭ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছে, যাদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ ছিলেন। এরমধ্যে ৬ জন মারা গেছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত ৮০ জনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়েছে।

নিহত ৬ জনের মধ্যে একজন সাংবাদিকসহ ৪ জনের পরিচয় জানা গেছে। দুই জনের পরিচয় এখন নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, আহত ১১৭ জনের মধ্যে ৩০ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, সোয়াটের হামলা ও সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিতের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারাদেশে কমপ্লিট শাটডাউন (সবকিছু বন্ধ) কর্মসূচির ডাক দেয়। এতে করে রাজধানীজুড়ে ব্যাপক সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

এরমধ্যে উত্তরা, রামপুরা, মহাখালী, যাত্রাবাড়ি ও মিরপুর এলাকার অবস্থা বেশি জটিল। উত্তরা ও রামপুরায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েকজন হতাহতের খবর পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশ টেলিভিশন, সেতু ভবন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবন, রামপুরা ও মিরপুর-১০ নম্বর পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের লোকজনকে পৌঁছতে বাঁধা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

;

সৈয়দপুরে পুলিশ বক্সে আগুন, অর্ধশতাধিক আহত



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম, নীলফামারী
পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা।

পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা।

  • Font increase
  • Font Decrease

নীলফামারীর সৈয়দপুরে কোটা সংস্কারের দাবিতেে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সাথে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় আন্দোলনকারীরা পাঁচমাথা মোড়ের একটি পুলিশ বক্সে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে শহরের পাচঁমাথা মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

কোটা সংস্কারের দাবিতে কমপ্লিট শাটডাউন' কর্মসূচী পালনের লক্ষ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন জায়গায় জড়ো হতে থাকেন। পরে দুপুরের দিকে তারা বিক্ষোভ নিয়ে শহরের পাচঁমাথা মোড় এলাকায় অবস্থান করেন। এ সময়ে পুলিশ তাদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে দুপক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। সে সময়ে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, টিয়ারশেল ও রাবারবুলেট ছুঁড়েন।

এক পর্যায়ে আন্দোলনকারীরা একটি ট্রাফিক বক্সে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এতে দুই পুলিশ সদস্যসহ অর্ধশতাধীক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শহরে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কল্লোল কুমার দত্ত বলেন, সৈয়দপুরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় আমাদের তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

;