রাসিক নির্বাচন: ৪৪ শতাংশ কাউন্সিলর প্রার্থীই মামলার আসামি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে কাউন্সিলর মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন ১২৪ জন। যাচাই-বাছাই শেষে প্রার্থিতা পেয়েছেন ১১৭ জন। তবে তাদের মধ্যে ৩৮ জনের নামেই রয়েছে বিভিন্ন ধরণের মামলা। এদের মধ্যে কেউ হত্যা মামলার আসামি, কেউ অস্ত্র মামলার। আবার মাদক চোরাচালান, বোমাবাজি বা মারামারি মামলার আসামি। এদের বিরুদ্ধে কমপক্ষে একটি এবং সর্বোচ্চ ২০টি করে মামলা বর্তমানে চলমান।

নির্বাচন কমিশনের হলফনামা থেকে জানা গেছে, আাগামী নির্বাচনে রাসিকের ৩০টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে ১১৭ জনের। এরমধ্যে ৩৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থী বর্তমানে বিভিন্ন মামলার আসামি। এছাড়া আরও ১৮ জন আগে মামলার আসামি ছিলেন। তারা মামলা থেকে অব্যাহতি কিংবা খালাস পেয়েছেন। অন্য প্রার্থীদের বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। এতে ৪৪ শতাংশ কাউন্সিলর প্রার্থীর নামে মামলার উল্লেখ্য পাওয়া যায়।

এদিকে ১০টি সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বৈধ প্রার্থী রয়েছেন ৪৬ জন। তাদের নামে কোন মামলা নেই। আগে দুজনের নামে মামলা হলেও তারা খালাস পেয়েছেন। নারী প্রার্থীরা এখন মামলামুক্ত।

হলফনামার অনুযায়ী, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ২০টি মামলা চলমান রয়েছে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. কামরুজ্জামানের। এরমধ্যে বিচারাধীন রয়েছে ১২টি মামলা। তদন্ত চলছে ছয়টির। কামরুজ্জামান ইতোমধ্যে তিনটি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন। তার বিরুদ্ধে থাকা বর্তমান মামলাগুলোর বেশিরভাগই বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনের।

নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আফজাল হোসেনের মামলা আছে ১৪টি। আগের তিনটি মামলায় তিনি খালাস পেয়েছেন। তার মামলাগুলোও বিস্ফোরকদ্রব্য ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের।

নগরীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম রুবেলের নামে মামলা আছে তিনটি। এর মধ্যে একটি অস্ত্র মামলাও আছে তার। তিনি একটি হত্যা মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন ২০১৮ সালে।

নগরীর ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আশরাফ হোসেন বাবু তিনটি মামলার আসামি। এরমধ্যে দুটি বিচারাধীন। একটি মামলার কার্যক্রম স্থগিত। একই ওয়ার্ডের প্রার্থী নুরুজ্জামান টিটোর নামে আছে হত্যাসহ দুটি মামলা।

২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর এবং শ্রমিক নেতা মাহাতাব হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুটি মামলা চলছে শ্রম আদালতে।

নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী জামায়াত নেতা আবদুস সামাদের মামলার সংখ্যা ছয়টি। এরমধ্যে দুটি বিচারাধীন, চারটির তদন্ত চলছে। ইতোমধ্যে তিনি চারটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।

নগরীর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা চলমান। ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর মতিউর রহমানের নামেও একটি মামলা আছে। ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর আশরাফুল হাসান বাচ্চু দুটি বিচারাধীন মামলার আসামি। ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের রবিউল ইসলাম চারটি বিচারাধীন মামলার আসামি। ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আলিফ আল মাহামুদ লুকেন তিনটি বিচারাধীন মামলার আসামি। আগে তিনি ছয়টি মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন। ১৫টি মামলা থেকে আগে খালাস পেলেও এখনও একটি মামলা চলমান ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী রেজাউন নবী আল মামুনের। ১০ নম্বরের প্রার্থী রাজ্জাক আহমেদ রাজনের মামলার সংখ্যা দুটি।

নগরীর ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর বেলাল আহমেদের বিচারাধীন মামলা আছে দুটি। ৩০ নম্বরের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম পিন্টুর বিরুদ্ধে বিচারাধীন মামলা একটি। ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসানও একটি মামলার আসামি। ২ নম্বরের নোমানুল ইসলামের ও মামলা আছে দুটি। ২৬ নম্বরের মহিউদ্দিন বাবুর বিচারাধীন মামলা চারটি। তিনটিতে খালাস পেলেও এখনও দুটি মামলা চলছে ২৯ নম্বরের প্রার্থী মাসুদ রানার। আদালতে ৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী রুহুল আমিনের বিচার চলছে ৮টি মামলায়। ৩ নম্বরের প্রার্থী বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমানের বিচারাধীন মামলা তিনটি। ৫ নম্বরের হামিদুল ইসলাম সুজনের বিচারাধীন মামলা দুটি। আর ২ নম্বর ওয়ার্ড প্রার্থী মুখলেসুর রহমানের মামলা সাতটি।

এছাড়া নগরীর ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন বিচারাধীন ৯টি মামলার আসামি। একই ওয়ার্ডের আনারুল ইসলাম ও একলাস হোসেন লাকি একটি করে মামলার আসামি। ২৭ নম্বরের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর আনোয়ারুল আমিন আযব তিনটি বিচারাধীন মামলার আসামি। ১১ নম্বরের প্রার্থী আবু বাক্কার কিনুর নামেও জমিজমা সংক্রান্ত একটি মামলা আছে। ১৪ নম্বরের মো. টুটুলের মামলার সংখ্যা তিনটি। ২৫ নম্বরের প্রার্থী ও বর্তমান কাউন্সিলর তরিকুল আলম পল্টুর বিচারাধীন মামলা তিনটি। এছাড়া নগরীর ১৪ নম্বরের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন ও মুরাদ আলী একটি করে মামলার আসামি। ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের প্রার্থী আখতার আহম্মেদ বাচ্চু, ২৯ নম্বরের আবু জাফর বাবু, ৬ নম্বরের মো. বদিউজ্জামান, ২৬ নম্বরের মখলেসুর রহমান খলিল, ২৭ নম্বরের মো. মনিরুজ্জামান, ৮ নম্বরের জানে আলম খান জনি, ২৪ নম্বরের জাহাঙ্গীর আলম ও ১০ নম্বরের আমিনুল ইসলামের ও মামলা আছে একটি করে।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) রাজশাহী জেলা সভাপতি আহমেদ সফিউদ্দিন বলেন, যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করা জনগণের দায়িত্ব। তারা সব প্রার্থীর ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়ে ভোট দেবেন, এটাই হওয়া উচিত। তাহলে একজন যোগ্য জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। কোন দাগী আসামি, সন্ত্রাসী কিংবা মাস্তান যেন জনপ্রতিনিধি না হতে পারেন, সে বিষয়ে ভোটারদেরই খেয়াল রাখতে হবে। ভোটের সময় দুষ্টু লোকের মিষ্টি কথায় ভুলে গেলে চলবে না।

হানিফ ফ্লাইওভারে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবক নিহত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম,ঢাকা
হানিফ ফ্লাইওভারে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবক নিহত

হানিফ ফ্লাইওভারে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবক নিহত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় দিনভর দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। রাতে হানিফ ফ্লাইওভারের টোল প্লাজা, পুলিশ বক্স সহ কিছু স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে সিয়াম (১৮) নামে এক তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন।

বুধবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে মৃত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে নিয়ে আসেন কয়েকজন। পরে তার মরদেহ হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে গিয়ে অটোরিকশায় করে নিয়ে চলে যান তারা।

সিয়ামের খালাতো ভাই রাসেল গণমাধ্যমকে জানান, সিয়াম গুলিস্তানের একটি ব্যাটারির দোকানের কর্মচারী। রাতে বাসায় ফেরার পথে হানিফ ফ্লাইওভারে সংঘর্ষ চলাকালে সে গুলিবিদ্ধ হয়। তবে কারা গুলি চালিয়েছে, সে ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি। 

রাসেল জানান, সিয়ামের গ্রামের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশনে। বর্তমানে সে মাতুয়াইলে থাকতো।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বলেন, যাত্রাবাড়ী হানিফ ফ্লাইওভারে গুলিতে এক যুবককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে নিয়ে আসেন স্বজনরা। পরে তারা বুঝতে পারেন যে, সিয়াম মারা গেছে। এ জন্য তারা আর হাসপাতালের ভেতরে না ঢুকে মরদেহ নিয়ে চলে যান।

;

কমপ্লিট শাটডাউনেও চলবে মেট্রোরেল: ডিএমটিসিএল



Shanjida Modhu
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের হত্যা এবং ঢাবি প্রশাসনের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্বিচার হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এ কর্মসূচির মধ্যেও যথারীতি মেট্রোরেল চলবে বলে জানিয়েছে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

বুধবার (১৭ জুলাই) রাতে ডিএমটিসিএলের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, মেট্রোরেল নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী চলবে। মেট্রোরেল ও যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা দেয়।

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণত প্রতিদিন মেট্রোরেলে প্রায় তিন লাখ যাত্রী চলাচল করেন। কিন্তু গত কয়েক দিনে প্রতিদিন সাড়ে তিন লাখ থেকে তিন লাখ ৬০ হাজার যাত্রী মেট্রোতে চলাচল করেছেন। এর মধ্যে মতিঝিল, সচিবালয়, কারওয়ান বাজার ও উত্তরা উত্তর স্টেশনে সবচেয়ে বেশি যাত্রী ছিল।

;

সিলেটে ১৭ লাখ টাকার চোরাই চিনি জব্দ, গ্রেফতার ২



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম,সিলেট
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

সিলেটে ১৭ লক্ষাধিক টাকার আরেকটি ভারতীয় চিনির চালান জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানার শাহপরাণ মাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে এই চালান জব্দের পাশাপাশি চিনি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ট্রাকটিও জব্দ করেছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ২ চোরাকারবারীকে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নওগাঁ জেলার মান্দা থানার কালিকাঁপর ইউনিয়নের চকরামাক্রান্ত গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মো. মানিক ও চকভোলাই গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. মোস্তফা।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহপরাণ মাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দাসপাড়া সিএনজি পাম্পের বিপরীতে পাকা রাস্তায় চেকপোস্ট স্থাপন করে।

এসময় একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে তারা ২৯০ বস্তা ভারতীয় চিনি জব্দ করে। জব্দকৃত চিনির পরিমাণ ১৪ হাজার ২৯০ কেজি। যার বাজার মূল্য ১২০ টাকা কেজি দরে ১৭ লাখ ৫ হাজার ২০০ টাকা।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, এই চিনি জৈন্তাপুর থানার হরিপুর বাজার থেকে হরিপুর গ্রামের জনৈক জাহাঙ্গীর ঢাকায় পাঠাচ্ছিলেন।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের শেষে তাদের আদলতে সোপোর্দ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

;

কমপ্লিট শাটডাউনেও বাস চালানোর নির্দেশনা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম,ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের হত্যা এবং ঢাবি প্রশাসনের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্বিচার হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তবে তাদের এ কর্মসূচিতেও বাস চালানোর নির্দেশনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও মালিক সমিতি।

বুধবার (১৭ জুলাই) রাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আমরা গাড়ি বন্ধ করিনি। গাড়ি চলার নির্দেশ আছে। যদি রাস্তার অবস্থা ভালো থাকে, তবে গাড়ি চলবে। কোথাও কোনো সমস্যা হলে তখন দেখা যাবে। তখন বন্ধ থাকতে পারে।
এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীতে গত কয়েকদিন ধরে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে নগরবাসীসহ অফিসগামী চাকরিজীবীরা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়ছেন।

এর আগে, বুধবার রাত পৌনে ৮টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল হাসপাতাল ও জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছু বন্ধ থাকবে এবং রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কোনো যানবাহন চলবে না বলে জানানো হয়।
বৃতিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, সোয়াটের ন্যাক্কারজনক হামলা, খুনের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এবং কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে ১৮ জুলাই সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করছি।

প্রসঙ্গত, চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বেশ সহিংস রূপ নেয়। এদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে ৬ জন মারা যান। আহত হন কয়েকশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

এ অবস্থায় মঙ্গলবারই সারা দেশের স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার বন্ধ ঘোষণা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হল ও ক্যাম্পাস ত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন। হলগুলোর ভেতরে অবস্থান করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বেশিরভাগ হল থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বের করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা প্রসঙ্গে কথা বলার সময় মন্তব্য করেন ‘মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতিরা কিছুই পাবে না, রাজাকারের নাতিপুতিরা সব পাবে?’

প্রধানমন্ত্রীর এ মন্তব্যে ক্ষিপ্ত হন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। তারা ধরে নিয়েছেন ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ তাদেরকেই বলা হয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে এবং কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে রোববার মধ্যরাত থেকেই আন্দোলনে নামেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সেই আন্দোলন এখনো চলছে। বুধবারও ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানী ঢাকাসহ ৬ জেলায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

;