৪,৫০০ শ্রমিকের নিরলস শ্রমে নির্মিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু রেল সেতু



আরিফুল ইসলাম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেট, বার্তা২৪.কম, টাঙ্গাইল
৪,৫০০ শ্রমিকের ঘামে নির্মিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু রেল সেতু

৪,৫০০ শ্রমিকের ঘামে নির্মিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু রেল সেতু

  • Font increase
  • Font Decrease

যমুনা নদীর ৩০০ মিটার উত্তরে নির্মিত হচ্ছে দেশে বৃহৎ রেল স্থাপনা বা রেলপথ ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু’। ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এ রেল সেতুর দৈঘর্য ৪ দশমিক ৮০ কিলোমিটার। এই রেল সেতুতে দেশি-বিদেশি প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ৫০০ শ্রমিকের নিরলস শ্রম ও ঘামে দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে আন্তঃএশিয়ার অন্যতম রেল যোগাযোগের বৃহৎ রেল সেতু। বর্তমানে সেতুর ৬২ শতাংশ কাজ সম্পন্ন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু প্রকল্প কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, যমুনা নদীর উপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতুতে রেললাইন সংযুক্ত থাকলেও ট্রেন ঝুঁকি নিয়ে ধীরগতিতে সেতু পারাপার হতে হয়। সেতু দিয়ে প্রতিদিন ৩৮ টি ট্রেন চলাচল করে থাকে। তাই রেল যোগাযোগ নিরাপদ, গতিশীল এবং আন্তঃএশিয়ার যোগাযোগের করিডোর তৈরির জন্য বর্তমান সেতুর উত্তরে পৃথক রেলসেতু নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার।

প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, বিশাল এই কর্মযজ্ঞ শেষ হওয়ার কথা ২০২৪ সালের আগস্টে। তবে আরও ৩ থেকে ৪ মাস অতিরিক্ত মেয়াদ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলসেতুটি হবে সমান্তরাল ডুয়েল গেজ ডাবল ট্র্যাকে। দুই পাশে নির্মাণ করা হবে শূন্য দশমিক শূন্য ৫ কিলোমিটার ভায়াডাক্ট। ৭ দশমিক ৬৭ কিলোমিটার রেলওয়ে অ্যাপ্রোচ এমব্যাংকমেন্ট এবং লুপ, সাইডিংসহ মোট ৩০ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার সংযোগ রেললাইন।

প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নে করছে জাপানের ২ টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। জাপানি ও ওবায়শি এবং জেএফই ও টোআ করপোরেশন যৌথভাবে (১ নম্বর গ্রুপ)। টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর অংশে ৫০ থেকে ২৪ নম্বর পিলার পর্যন্ত রেলসেতু নির্মাণ করছে। সিরাজগঞ্জ অংশের ১ নম্বর পিলার থেকে ২৩ নম্বর পিলার পর্যন্ত কাজ করছে জাপানি আইএইচআই, এসএমসিসি নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইতিমধ্যে টাঙ্গাইল অংশে দেড় কিলোমিটার ওপরে দৃশ্যমান হয়েছে সেতু।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একাধিক প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সেতুটি নির্মাণে জাপান, ভিয়েতনাম, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ফিলিপাইন ও বাংলাদেশের কর্মীরা নিয়োজিত আছেন। ১০৩ জন বিদেশি প্রকৌশলীসহ দেশি-বিদেশি মিলিয়ে ৭০০ জনের বেশি প্রকৌশলী কাজ করছেন। নির্মাণ শ্রমিকরা জানান, দেশের এতবড় বৃহৎ মেগা প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে নিজেদের গর্বিত মনে করছি। এছাড়া সকল ধরণের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধাও পাচ্ছি।

দেখা যায়, দেশি-বিদেশি প্রকৌশলী ও নির্মাণ শ্রমিকরা সেফটি ফাস্টের আওতায় ২৪ ঘণ্টা কাজ করছেন। এরমধ্যে কেউ বালু দিয়ে জিও ব্যাগ ভর্তি করছেন, কেউ ক্রেন দিয়ে সেতুর নিমার্ণ সামগ্রী ওঠা-নামা করছেন, কেউ রেললাইনে পাথর ফেলে সমান করছে, কেউ নাট-বল্টু টাইট দিচ্ছেন, কেউ স্পিড বোট দিয়ে নিমার্ণ শ্রমিকদের স্থলভাগ থেকে আনা-নেওয়া করছে। সবমিলিয়ে রেল সেতু নির্মাণে বিশাল এক কর্মযজ্ঞ চলছে।

নেপালি প্রকৌশলী অমৃত তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন- তিনি কাতার, ওমান, নেপালসহ বিভিন্ন দেশে কাজ করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের এই বৃহৎ রেল সেতু নির্মাণ কাজ করে ইতিহাসের অংশ হতে চলেছেন। এছাড়া এ দেশের মানুষের সাথে সে কাজ করতে খুশি ও আনন্দিত। ইতিমধ্যে টাঙ্গাইল অংশে ৫০ থেকে ৩৪ নম্বর পিলার পর্যন্ত স্পেন বসানো শেষ। ৩৪ থেকে ২৪ নম্বর পিলারের দিকে স্প্যান বসানোর কার্যক্রমও চলছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ সেতু নির্মিত হলে উত্তরাঞ্চলের ট্রেন চলাচল ও পণ্য পরিবহন সহজ হবে। এর ওপর দিয়ে চলবে ৮৮টি ট্রেন। সাধারণ ছাড়াও দ্রুত গতির (হাইস্পিড) ট্রেন চলাচলে সক্ষম করে সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে সেতুতে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানো যাবে। তবে শুরুতে (উদ্বোধনের পর ১ বছর) ঘণ্টায় ১০০-১২০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচল করবে।

এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু প্রকল্প পরিচালক ফাত্তাহ আল মো. মাসুদুর রহমান বলেন, সেতুর টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের পূর্ব অংশের সংযোগ রেললাইন নির্মাণের কাজও শেষের দিকে। পশ্চিম অংশে আগে সংযোগ রেললাইনের কাজ দ্রুত গতিতে হচ্ছে। শত বছর পরও এই রেল সেতুর তেমন ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। এ পর্যন্ত ৬২ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাকি কাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা করে যাচ্ছি।

হানিফ ফ্লাইওভারে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবক নিহত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম,ঢাকা
হানিফ ফ্লাইওভারে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবক নিহত

হানিফ ফ্লাইওভারে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবক নিহত

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় দিনভর দফায় দফায় পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। রাতে হানিফ ফ্লাইওভারের টোল প্লাজা, পুলিশ বক্স সহ কিছু স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। এ সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে সিয়াম (১৮) নামে এক তরুণ প্রাণ হারিয়েছেন।

বুধবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে মৃত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে নিয়ে আসেন কয়েকজন। পরে তার মরদেহ হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে গিয়ে অটোরিকশায় করে নিয়ে চলে যান তারা।

সিয়ামের খালাতো ভাই রাসেল গণমাধ্যমকে জানান, সিয়াম গুলিস্তানের একটি ব্যাটারির দোকানের কর্মচারী। রাতে বাসায় ফেরার পথে হানিফ ফ্লাইওভারে সংঘর্ষ চলাকালে সে গুলিবিদ্ধ হয়। তবে কারা গুলি চালিয়েছে, সে ব্যাপারে কিছু জানা যায়নি। 

রাসেল জানান, সিয়ামের গ্রামের বাড়ি ভোলার চরফ্যাশনে। বর্তমানে সে মাতুয়াইলে থাকতো।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বলেন, যাত্রাবাড়ী হানিফ ফ্লাইওভারে গুলিতে এক যুবককে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে নিয়ে আসেন স্বজনরা। পরে তারা বুঝতে পারেন যে, সিয়াম মারা গেছে। এ জন্য তারা আর হাসপাতালের ভেতরে না ঢুকে মরদেহ নিয়ে চলে যান।

;

কমপ্লিট শাটডাউনেও চলবে মেট্রোরেল: ডিএমটিসিএল



Shanjida Modhu
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের হত্যা এবং ঢাবি প্রশাসনের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্বিচার হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এ কর্মসূচির মধ্যেও যথারীতি মেট্রোরেল চলবে বলে জানিয়েছে মেট্রোরেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

বুধবার (১৭ জুলাই) রাতে ডিএমটিসিএলের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, মেট্রোরেল নিয়মিত সময়সূচি অনুযায়ী চলবে। মেট্রোরেল ও যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছি যেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরাপত্তা দেয়।

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সাধারণত প্রতিদিন মেট্রোরেলে প্রায় তিন লাখ যাত্রী চলাচল করেন। কিন্তু গত কয়েক দিনে প্রতিদিন সাড়ে তিন লাখ থেকে তিন লাখ ৬০ হাজার যাত্রী মেট্রোতে চলাচল করেছেন। এর মধ্যে মতিঝিল, সচিবালয়, কারওয়ান বাজার ও উত্তরা উত্তর স্টেশনে সবচেয়ে বেশি যাত্রী ছিল।

;

সিলেটে ১৭ লাখ টাকার চোরাই চিনি জব্দ, গ্রেফতার ২



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম,সিলেট
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

সিলেটে ১৭ লক্ষাধিক টাকার আরেকটি ভারতীয় চিনির চালান জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরাণ থানার শাহপরাণ মাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে এই চালান জব্দের পাশাপাশি চিনি পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ট্রাকটিও জব্দ করেছে। এ ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে ২ চোরাকারবারীকে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নওগাঁ জেলার মান্দা থানার কালিকাঁপর ইউনিয়নের চকরামাক্রান্ত গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মো. মানিক ও চকভোলাই গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে মো. মোস্তফা।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের গণমাধ্যম শাখা জানিয়েছে, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শাহপরাণ মাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দাসপাড়া সিএনজি পাম্পের বিপরীতে পাকা রাস্তায় চেকপোস্ট স্থাপন করে।

এসময় একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে তারা ২৯০ বস্তা ভারতীয় চিনি জব্দ করে। জব্দকৃত চিনির পরিমাণ ১৪ হাজার ২৯০ কেজি। যার বাজার মূল্য ১২০ টাকা কেজি দরে ১৭ লাখ ৫ হাজার ২০০ টাকা।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছে, এই চিনি জৈন্তাপুর থানার হরিপুর বাজার থেকে হরিপুর গ্রামের জনৈক জাহাঙ্গীর ঢাকায় পাঠাচ্ছিলেন।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের শেষে তাদের আদলতে সোপোর্দ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

;

কমপ্লিট শাটডাউনেও বাস চালানোর নির্দেশনা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম,ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের হত্যা এবং ঢাবি প্রশাসনের নির্দেশে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের নির্বিচার হামলার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তবে তাদের এ কর্মসূচিতেও বাস চালানোর নির্দেশনা রয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও মালিক সমিতি।

বুধবার (১৭ জুলাই) রাতে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ও মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, আমরা গাড়ি বন্ধ করিনি। গাড়ি চলার নির্দেশ আছে। যদি রাস্তার অবস্থা ভালো থাকে, তবে গাড়ি চলবে। কোথাও কোনো সমস্যা হলে তখন দেখা যাবে। তখন বন্ধ থাকতে পারে।
এদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রাজধানীতে গত কয়েকদিন ধরে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে গেছে। ফলে নগরবাসীসহ অফিসগামী চাকরিজীবীরা ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়ছেন।

এর আগে, বুধবার রাত পৌনে ৮টায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ তার ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল হাসপাতাল ও জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছু বন্ধ থাকবে এবং রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া কোনো যানবাহন চলবে না বলে জানানো হয়।
বৃতিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব, সোয়াটের ন্যাক্কারজনক হামলা, খুনের প্রতিবাদ, খুনিদের বিচার, সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা এবং কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে ১৮ জুলাই সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা করছি।

প্রসঙ্গত, চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলন মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) বেশ সহিংস রূপ নেয়। এদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষে ৬ জন মারা যান। আহত হন কয়েকশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী।

এ অবস্থায় মঙ্গলবারই সারা দেশের স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। গতকাল বুধবার বন্ধ ঘোষণা করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হল ও ক্যাম্পাস ত্যাগ না করার ঘোষণা দিয়েছেন। হলগুলোর ভেতরে অবস্থান করছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বেশিরভাগ হল থেকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বের করে দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত রোববার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা প্রসঙ্গে কথা বলার সময় মন্তব্য করেন ‘মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এত ক্ষোভ কেন? মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতিরা কিছুই পাবে না, রাজাকারের নাতিপুতিরা সব পাবে?’

প্রধানমন্ত্রীর এ মন্তব্যে ক্ষিপ্ত হন কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীরা। তারা ধরে নিয়েছেন ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ তাদেরকেই বলা হয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে এবং কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে রোববার মধ্যরাত থেকেই আন্দোলনে নামেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। সেই আন্দোলন এখনো চলছে। বুধবারও ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজধানী ঢাকাসহ ৬ জেলায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

;