মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন সম্মাননা ও নূরজাহান বেগম স্মরণ সভা মঙ্গলবার



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন সম্মাননা ও নূরজাহান বেগম স্মরণ সভা মঙ্গলবার

মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন সম্মাননা ও নূরজাহান বেগম স্মরণ সভা মঙ্গলবার

  • Font increase
  • Font Decrease

আগামী ২৮ মার্চ মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় কিশোরগঞ্জ পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে ৬ষ্ঠ ও ৭ম মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন সম্মাননার যৌথ আয়োজিত হবে। এতে ৬ষ্ঠ মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন সম্মাননা-২০২০ প্রদান করা হবে কিশোরগঞ্জের আইন পেশার কৃতিজন নাসিরউদ্দিন ফারুকী, ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন ও শাহ আজিজুল হককে এবং ৭ম মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন সম্মাননা-২০২১ প্রদান করা হবে ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক, পাঠ ও পাঠাগার আন্দোলনের অগ্রণীজন মু.আ. লতিফ, মুক্তিযোদ্ধা-শিক্ষাবিদ ঊষা দেবী এবং শতবর্ষ অতিক্রমকারী ১২০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান আলীমুদ্দীন লাইব্রেরীকে।

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন শাহ মাহতাব আলী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক লাইজু আক্তার। সম্মাননা বক্তৃতা করবেন মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহফুজ পারভেজ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন চেয়ারম্যান, জেলা পরিষদ, কিশোরগঞ্জ এবং সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত), জেলা আওয়ামী লীগ, কিশোরগঞ্জ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট মো. জিল্লুর রহমান।

শেষে মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, রত্নগর্ভা নূরজাহান বেগম স্মরণ, দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, ভাষা সংগ্রামী ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ডা. এএ মাজহারুল হক এবং সমাজসেবী নূরজাহান বেগম প্রতিষ্ঠিত কিশোরগঞ্জের শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, সমাজসেবা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংস্থা 'মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন' কর্তৃক কিশোরগঞ্জের জীবিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জীবনব্যাপী বিশিষ্ট অবদানের স্বীকৃতি জানাতে ও ঐতিহাসিক মূল্যায়ন করতে ২০১৫ সাল থেকে এ সম্মাননা বক্তৃতা আয়োজন করা হচ্ছে, যা বক্তৃতা ও লিখিত আকারে প্রদান করেন মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. মাহফুজ পারভেজ।

মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন' গতানুগতিক সম্মাননার বদলে ব্যক্তির কর্ম ও কীর্তির বিশ্লেষণমূলক-মূল্যায়নভিত্তিক সম্মাননা বক্তৃতার মাধ্যমে তাঁর প্রকৃত স্বরূপ চিহ্নিত করে এবং এরই ভিত্তিতে জ্ঞাপন করা হয় যথাযথ সম্মান। সম্মাননা স্মারকের পাশাপাশি লিখিত আকারে বক্তৃতা-পুস্তিকায় চিত্রিত হন সম্মাননা প্রাপ্তগণ। মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন এই বুদ্ধিবৃত্তিক-একাডেমিক আবহে ধারাবাহিকভাবে সম্মাননা বক্তৃতার আয়োজন করে আসছে, যা কিশোরগঞ্জে তো বটেই, বাংলাদেশের মধ্যে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী। শুরু থেকে সম্মাননা বক্তৃতা প্রদান করেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র প্রফেসর, বিশিষ্ট লেখক ও বুদ্ধিজীবী ড. মাহফুজ পারভেজ, যিনি কিশোরগঞ্জে পাবলিক লেকচার সিরিজের মাধ্যমে গণবুদ্ধিবৃত্তিক পরিসর তৈরির পথিকৃৎ।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে প্রথম মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন সম্মাননা পান শিক্ষাবিদ প্রাণেশ কুমার চৌধুরী, ২০১৬ সালে দ্বিতীয় মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন সম্মাননা পান দীপ্তিমান শিক্ষকদম্পতি: অধ্যক্ষ মুহ. নূরুল ইসলাম ও বেগম খালেদা ইসলাম, ২০১৭ সালে তৃতীয় মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন সম্মাননা পান ‘প্রজ্ঞার দ্যুতি ও আভিজাত্যের প্রতীক: প্রফেসর রফিকুর রহমান চৌধুরী’ এবং ২০১৮ সালে চতুর্থ মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন সম্মাননা পান ‘ঋদ্ধ মননের প্রাগ্রসর ভূমিপুত্র: শাহ্ মাহতাব আলী’। ২০১৯ সালে পঞ্চম মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন সম্মাননা দেয়া হয় 'স্বাস্থ্যসেবা-শিক্ষায় পথিকৃৎ চিকিৎসক-দম্পতি' প্রফেসর ডা. আ ন ম নৌশাদ খান ও প্রফেসর ডা. সুফিয়া খাতুনকে। ৬ষ্ঠ মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন সম্মাননা-২০২০ প্রদান করা হয় নাসিরউদ্দিন ফারুকী, ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন ও শাহ আজিজুল হককে। এ উপলক্ষে ‘কিশোরগঞ্জে আইন পেশার নান্দনিক বিন্যাস’ শীর্ষক সম্মাননা বক্তৃতা বৈশ্বিক করোনা মহামারির কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রদান করা সম্ভব হয়নি।

৭ম মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন সম্মাননা-২০২১ প্রদান করা হয়েছে ইতিহাসবিদ, সাংবাদিক, পাঠ ও পাঠাগার আন্দোলনের অগ্রণীজন মু.আ. লতিফ, মুক্তিযোদ্ধা-শিক্ষাবিদ ঊষা দেবী এবং শতবর্ষ অতিক্রমকারী ১২০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান আলীমুদ্দীন লাইব্রেরীকে, যারা কিশোরগঞ্জের সামাজিক ইতিহাস ও সাংস্কৃতিক বিন্যাসে স্বকীয় কৃতিত্বের প্রভায় উজ্জ্বল। জীবনব্যাপী কিশোরগঞ্জের মাটি ও মানুষের জন্য শৈল্পিক দ্যোতনায় নান্দনিক বর্ণালী সৃজন করেছেন এই তিন গুণান্বিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান।

ভাষাসংগ্রামী, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ডা. এ এ মাজহারুল হক এবং রত্নগর্ভা নূরজাহান বেগম প্রতিষ্ঠিত কিশোরগঞ্জের শিল্প, সাহিত্য, শিক্ষা, সমাজসেবা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংস্থা 'মাজহারুন-নূর ফাউন্ডেশন' কিশোরগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের অবদানের স্বীকৃতি জানাতে ২০১৫ সাল থেকে সম্মাননা বক্তৃতা আয়োজন করছে।

   

গাছের ডালে ঝুলিয়ে কিশোরকে নির্যাতন: মূল হোতা গ্রেফতার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
মূল হোতা গ্রেফতার

মূল হোতা গ্রেফতার

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলায় দিদার হোসেন (১৪) নামের এক কিশোরের এক পা গাছে ঝুলিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় মারধরের ঘটনার মূল হোতা মো. জামিরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১ মার্চ) রাতে উপজেলার আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

জামির গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরে গাছের ডালে এক পা বেঁধে ঝুলিয়ে রেখে দিদার হোসেনকে মারধর করে এবং তার পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন।

অভিযুক্ত জামির উপজেলার চরচালতলা এলাকার বোমা কুদ্দুস মিয়ার ছেলে। আশুগঞ্জ থানায় তার নামে মোট ৮টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ১৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার সকালে একই এলাকার চরচারতলা গ্রামের ল্যাংটার ব্রয়লারের সামনে তোফাজ্জলের কাছে নৌকার কাজের পাওনা টাকা চাইতে গেলে দিদারের সঙ্গে তোফাজ্জলের বাকবিতণ্ডা হয়। পরে দুপুরে দিদার বাড়ি থেকে রাস্তায় বের হলে একই এলাকার কুদ্দুছ ওরফে বোমা কুদ্দুস মিয়ার ছেলে জামির (৪০), ইসলাম মিয়ার ছেলে তোফাজ্জল (২৮), ইউনুছ মিয়ার ছেলে মাসুদ (৩৮), শাহজাহান মিয়ার ছেলে শাকিল (৩০), হামদু মিয়ার ছেলে আকাশ (৩০) ও হারুন মিয়ার ছেলে নাসির (৪০) দিদারকে ধরে নিয়ে যায়। পরে দিদারকে মিডল্যান্ড পাওয়ার প্লান্টের পাশে নিউ এশিয়া প্রজেক্টের খালি জায়গায় নিয়ে যায়। এরপর সেখানে একটি কড়ই গাছের ডালে দিদারের ডান পায়ে দড়ি বেঁধে ঝুলিয়ে জামিরসহ অন্যরা মোটা রশি দিয়ে এলোপাথাড়ি মারতে থাকে।

এরপর দিদারের মাকে মাসুদের মোবাইল দিয়ে কল করে তার ছেলেকে ২ লাখ টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে নিতে বলা হয়। এসময় দিদারের মা আশপাশের প্রতিবেশী নিয়ে দৌড়ে ছেলেকে উদ্ধার করতে যায়। সেখানে গিয়ে সে তার ছেলেকে গাছ থেকে নামিয়ে আনার জন্য সবার পায়ে ধরে অনুরোধ করে। টাকা না দিলে দিদারকে নামানো হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় তারা। পরে দিদারের মা টাকা দিতে রাজি হলে দিদারকে গাছ থেকে নামিয়ে আনা হয়। দিদারের মা বাসায় এসে আশপাশের লোকের কাছ থেকে ধার দেনা করে ৩০ হাজার টাকা জামির ও তোফাজ্জলের কাছে দেয়। জামির, তোফাজ্জল,মাসুদ, শাকিল, আকাশ ও নাসিরসহ সবাই এই বিষয়ে কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেয়। এই ঘটনায় দিদারের বাবা বাদি হয় ২০ ফেব্রুয়ারি সকালে আশুগঞ্জ থানায় জামিরসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন।

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাহিদ আহমেদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, দিদারের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা পেয়ে আমরা আসামিদের ধরতে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাই। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আশুগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালাই। সেখান থেকে মূল হোতা জামিরকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি আরও জানান, শনিবার সকালে জামিরকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। জামিরের বিরুদ্ধে আশুগঞ্জ থানায় মোট ৮টি মামলা রয়েছে। মামলাগুলো আদালতে বিচারাধীন। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

;

নড়াইলে কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নড়াইল
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নড়াইলের নড়াগাতী থানার খাশিয়াল ইউনিয়নের তালবাড়িয়া গ্রামের কিশোর নিলয় মোল্লাকে (১৫) কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১ মার্চ) রাত ১১টার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এসময় নিলয়ের আরো ২ বন্ধু টোনা গ্রামের তামিম ও অপু আহত হয়েছেন।

নিহত নিলয় টোনা গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য সুলতান আহমেদ পিকু মোল্লার ছেলে।

নিলয়ের পরিবার ও বন্ধুসূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ দিন আগে টোনা গ্রামের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্রীকে উত্যক্ত করে পাশের পাটনা গ্রামের কামরুল খানের ছেলে শাকিলসহ তার বন্ধুরা। নিলয় মোল্লাসহ তার বন্ধুরা এ উত্যক্তকরণের প্রতিবাদ জানায়। এর জের ধরে শুক্রবার রাতে সুযোগ বুঝে নিলয়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

নিলয়ের সঙ্গে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী মেজবাহ ও অপু খন্দকারসহ কয়েকজন জানান, ওয়াজ মাহফিলের পাশে ডেকে নিয়ে পাটনার শাকিল খান, তালবাড়িয়া গ্রামের সবুজ খান, মুসা শেখ ও অশ্রু দাসসহ কয়েকজন প্রথমে নিলয়কে মারধর করে। ঠেকাতে গেলে আমাদেরকেও মারধর করেন। একপর্যায়ে নিলয়ের কোমরের ওপরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় তারা।

নড়াগাতি থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিলয় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

নিহত নিলয়ের বাবা পিকু মোল্লাসহ এলাকাবাসী এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তি দাবি করেন।

;

বাবা-মায়ের দায়িত্ব নিতে চেয়েছিলেন নয়ন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভোলা সদর উপজেলার উত্তর দিঘলদী ইউনিয়ের চরকুমারিয়া গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান মো. নয়ন। বয়স মাত্র ১৮ বছর। টাকার অভাবে অষ্টম শ্রেণির পরে আর লেখাপড়া করতে পারেননি নয়ন। আগে কখনো ঢাকায়ও আসেননি। ৫ ভাই-বোনের মধ্যে নয়ন ছিল সবার ছোট হলেও বাবা মায়ের দেখাশোনার দায়িত্ব ছিল তার। সে দায়িত্ব মিটিয়ে দিয়েই বেইলি রোডের কাচ্চি ভাইয়ের রেস্তোরাঁর ভয়াল আগুনের শিকার হলেন নয়ন। ঢাকায় আসার মাত্র ৫ দিন পরেই নিভে গেল তাজা প্রাণ।

বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) বেইলি রোডে গ্রীণ কজি কটেজ ভবনে অগ্নিকাণ্ডে যে ৪৬ জন নিহত হয়েছেন, তাদের একজন নয়ন হোসেন। গতকাল ভোররাতেই নয়নের মৃত্যুর খবর পরিবারের কাছে পৌঁছে দেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন।

চেয়ারম্যান বলেন, ‘ঢাকা থেকে ফোন আসার পরে আমি থমকে গেছি। আমার জীবনে এতবড় পরীক্ষায় কখনো পড়তে হয়নি। ছেলের মৃত্যুর খবর ফোন করে বাবাকে জানাতে হয়েছে। শান্ত স্বভাবের নয়ন খুব ভালো ছেলে ছিলেন। এর বেশি বলতে পারছি না। আমিও এখন বলার মতো অবস্থায় নেই।’ 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, অভাব অনটনের সংসারে নয়নের বড় ভাইয়েরা সবাই আলাদা সংসার পেতেছেন। এতে বিপাকে পড়তে হয় বৃদ্ধ বাবা-মাকে। বড় ছেলেরা ঠিকমতো ভরণপোষণ না দেওয়ায় সংসারের হাল ধরতে কাজের সন্ধানে ২৫শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় আসেন নয়ন। ঢাকায় এসে গ্রীন কেজি কটেজ ভবনে কাচ্চি ভাই বিরানী রেস্তোরাঁয় বয় হিসেবে ১২ হাজার টাকা বেতনে চাকরি নেন নয়ন। তবে ভাগ্য তাকে পরিবারের হাল ধরতে দেয়নি। বাবা-মায়ের দায়িত্ব নেয়ার আগেই ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে মারা যান নয়ন। 

নিহত নয়নের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের অস্থায়ী মর্গে রাখা হয়েছে। তবে শরীরে অগ্নিদগ্ধের তেমন কোনো চিহ্ন নেই। মর্গের ভলান্টিয়ার জানান, অতিরিক্ত ধোঁয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়েই মারা গেছেন নয়ন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের অস্থায়ী মর্গে মরদেহ নিতে আসেন নিহত নয়নের চাচাতো ভাই হাবিবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমার চাচা সিরাজ আলী অসুস্থ। টাকার অভাবে ঠিকমতো চিকিৎসা করাতে পারেন না। তাই নয়ন সংসারের হাল ধরতে ঢাকায় এসেছিল। ঢাকায় এসে ওর বন্ধুর মাধ্যমে বেইলি রোডের গ্রীন কজি কটেজ ভবনের ৫ তলায় একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে চাকরি নেন। গতকাল সন্ধ্যায়ও ফোনে কথা হয়েছে। আগুন লাগার খবর শুনে রাত ১১টা ২০ মিনিটে নয়নকে ফোন করে ফোন বন্ধ পাই। রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করি। কিন্তু ওরে আর পাইনি। পরে মেডিকেলে এসেও সন্ধান পাইনি। সকালে ভোলা থেকে পরিবারের লোকজন ফোন করে জানালো নয়ন মারা গেছে। পরে মর্গে এসে লাশ খুঁজে পাইছি।’

;

অতিরিক্ত টাকা দিয়েও মিলছে না চিকিৎসা সেবা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট,বার্তা২৪.কম, নীলফামারী
ছবি: বার্তা ২৪

ছবি: বার্তা ২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে গেলে ধাপে ধাপে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগে ৩ টাকা মূল্যের টিকিট ৫ টাকা ও জরুরি বিভাগে ৭ টাকা মূল্যের টিকিট ১০ থেকে ২০ টাকা করে নেওয়া হয়। এছাড়াও রোগীদের বিনামূল্যে ড্রেসিং সেবা পাওয়ার কথা থাকলেও দিতে হয় ৫০ থেকে ২০০ টাকার বেশি। এভাবেই প্রবেশের পর থেকে শুরু হয় হয়রানি।

হাসপাতালের প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার কারণে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী এবং হাসপাতালের নার্স ও ওয়ার্ডবয়দের দ্বারা হয়রানির শিকার হন চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী ও স্বজনরা ।

শনিবার (২ মার্চ) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার প্রায় কয়েক শত মানুষের প্রতিদিন চিকিৎসা নিতে আসে এ হাসপাতালে। যেসব রোগী দুর্ঘটনাসহ অন্যান্য কারণে ড্রেসিং করেছেন তাদের সবাইকে ৫০-২০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাড়িয়ে থেকেও অতিরিক্ত টাকা দিয়ে নিতে হচ্ছে টিকিট। হাসপাতালে ওয়ার্ডে দুর্গন্ধে দম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মত অবস্থা। হাসপাতালের ভিতরে গ্যারেজ করে রাখা হয়েছে মোটরসাইকেল। যেখানে সেখানে পড়ে আছে ময়লা আর্বজনা। অপরদিকে জরুরি রোগী বহনের জন্য ব্যবহৃত দুটি এ্যাম্বুলেন্স থাকলেও একটি বিকল অবস্থায় পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। অপরদিকে রোগী আর সঠিক চিকিৎসা সেবা না মেলায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ পড়ে আছে কুষ্ঠ বিভাগ।

গদা গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রহিম উদ্দিন জানায়, 'আমার হঠাৎ জ্বর এসেছে তাই আমি চিকিৎসা নিতে এসেছি । এখানে টিকিটের জন্য অপেক্ষা করে ৫ টাকা দিয়ে টিকিট নিলাম। অনেক্ক্ষণ ধরে দাড়িয়ে আছি। ডাক্তারকে এখনো দেখাতে পারিনি।' 

চিকিৎসা নিতে আসা আরেক রোগীর স্বজন সালমা বেগম জানায়, 'আমার ছেলের পেটের ব্যথা এখানে টেস্ট করাতে এসেছি। অনেক্ক্ষণ আগে  টাকা জমা দিয়েছি তবুও এখনো টেস্ট করতে পারিনি। আমার ছেলেকে ভর্তি করার সময় ২০ টাকা দিয়ে ভর্তি করেছি। এখানে কোন ঔষধপত্র দেওয়া হয়না। আমাদের লিখে দেয় সব কিনে আনতে হয়। এখানে নার্সরা অনেক খারাপ ব্যবহার করে। তাদের ডাকতে গেলে তারা রাগ হয়। সরকারি হাসপাতালের চেয়ে প্রাইভেট হাসপাতালেই ভালো।' 

টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা আলমগীর জানায়, 'এখানে টিকিট নিলে ৫ টাকা লাগবে। এখানে ৩ টাকায় টিকিট দেওয়া হয়না। লেখা ৩ টাকা থাকলেও ৫ টাকা দিতে হবে। না হলে টিকিট পাবে না।'

ড্রেসিংরুমে দায়িত্ব পালন করা বাবু জানায়, 'এখানে যারা চিকিৎসা নিতে আসে তারা খুশি হয়ে চা খাওয়ার জন্য কিছু টাকা দেয়। আমি জোড় করে কিছুই নেইনা।' 

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার তানজিমুল মিল্লাতকে খুদে বার্তা পাঠিয়েও এ বিষয় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আল মামুনের মুঠোফোনে একাধিক বার কল করলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। 

;