বাংলাদেশ-ভুটান ট্রানজিট চুক্তি ও প্রোটোকল স্বাক্ষর



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বাংলাদেশ-ভুটান ট্রানজিট চুক্তি ও প্রোটোকল স্বাক্ষর

বাংলাদেশ-ভুটান ট্রানজিট চুক্তি ও প্রোটোকল স্বাক্ষর

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজতর করার লক্ষ্যে “Agreement on the Movement of Traffic-in-Transit and Protocol” স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশের বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি এবং ভুটানের শিল্প, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী কর্মা দর্জি (Karma Dorji) ট্রানজিট চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

বুধবার (২২ মার্চ) ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ভুটানের শিল্প বাণিজ্য কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব দাশ তাশি ওমাং এবং শক্তি ও নবায়নযোগ্য সম্পদ বিষয়ক সচিব দাশ কর্মা শেরিং, ভুটান চেম্বার অব ইন্ডাষ্ট্রিজ এর সভাপতি এবং ভুটানের বিভিন্ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালকবৃন্দসহ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন যুগান্তকারী এই চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য আরও সহজতর হওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে। স্বাক্ষরিত চুক্তি দেশের জন্য কুটনৈতিক, অর্থনৈতিক, সংযোগ এবং কৌশলগত সুবিধা বয়ে আনবে বলেও জানান তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্বে প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ আন্ত:যোগাযোগ বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক ভ্যালু চেইন সমৃদ্ধ করার মাধ্যমে ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে চায়। এর অংশ হিসেবে চারিদিকে স্থলভাগ বেষ্টিত ভুটানকে বাংলাদেশ ট্রানজিট চুক্তির আওতায় বিমান, রেল, স্থল, নৌবন্দর ও সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এ চুক্তির ফলে উভয় দেশের কুটনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক যোগাযোগে ব্যাপক প্রসার ঘটবে উল্লেখ করে তিনি বলেন বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে ভুটানের পণ্য রপ্তানি ও আমদানি করলে বাংলাদেশ বিভিন্ন ফি এবং চার্জ লাভ করবে। এছাড়া অবকাঠামোগত উন্নয়ন ঘটবে। ট্রানজিট এগ্রিমেন্ট বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের সমুন্দ্র বন্দরসমূহ অধিকতর কর্মক্ষম হবে এবং রাজস্ব আয় বাড়বে। অধিকন্ত কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ বন্দরসমূহের সার্বিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনায়ন করবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে পেরে তিনি গর্বিত। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তির প্রাক্কালে ৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে সর্বপ্রথম স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ায় তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং বাংলাদেশ ভুটানের নিবিড় বন্ধুত্বকে আরো এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দ্বিপাক্ষিক এই সহযোগিতা ও অংশীদারিত্ব ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারিত ও শক্তিশালী করতে উভয় রাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

টিপু মুনশি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে গত এক দশকে অর্থ-বাণিজ্য, স্বাস্থ্য-শিক্ষা এবং যোগাযোগ ও অবকাঠামোসহ সকল খাতে অসাধারণ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। যার ফলে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৫তম বৃহত্তম অর্থনীতি দেশে রুপান্তরিত হয়েছে, পরিচিতি ‍পেয়েছে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর ভুটানের মন্ত্রী, সচিব ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাগনের সাথে বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশী কৃষিখাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বিশেষ করে মাশরুমসহ কৃষিপণ্যের বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়ের গুরুত্ব আরোপ করেন।

উল্লেখ্য, তিন দফা দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে উক্ত চুক্তি এবং এর আওতায় প্রোটোকল চুড়ান্ত করা হয়। গত ১৩ মার্চ ২০২৩ তা মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়। ইতো:পূর্বে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-ভুটান অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (PTA) কে সম্পাদিত চুক্তি ও প্রোটোকল অধিকতর কার্যকর করবে। স্বাক্ষরিত চুক্তিটি উভয় দেশ কর্তৃক রেটিফিকেশনের পরে কার্যকর হবে।

   

নরসিংদীতে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী বাউল মেলা শুরু



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নরসিংদী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নরসিংদী শহরের মেঘনা নদীর তীরে ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী বাউল ঠাকুরের আখড়া ধামে শুরু হয়েছে বাউল মেলা। বাউল সম্প্রদায়ের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি বছরের মাঘী পূর্ণিমা তিথীতে অনুষ্ঠিত হয় ৭ দিন ব্যাপী এই বাউল মেলা।

এরই মধ্যে মেলায় অংশ নিতে সমবেত হয়েছেন বাউল ভক্তরা। অপরদিকে মেলা উপলক্ষে মেঘনার পাড়ে খাবারসহ বিভিন্ন পণ্যের স্টল নিয়ে বসেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ছিল দেবতা ব্রহ্মার মহাযজ্ঞানুষ্ঠান। মুন্সীগঞ্জ, চাঁদপুর, ময়মনসিংহ, কুমিল্লা, গাজীপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ ভারত থেকেও বাউল ভক্ত ও পূর্ণাথীরা এতে অংশ নেন এ মেলায়। পূণ্য লাভের আশায় গঙ্গা স্নান করে আখড়ার জগন্নাথ ঠাকুর ও বাউল ঠাকুরের সমাধি মন্দিরে ঘি বাতি প্রজ্বলন করে মহাযজ্ঞে অংশ নেন।

উল আখড়ার আট চালা বৈঠক ঘরে চলে বাউলদের বৈঠক। বাউল সাধকরা এ আসরে বাউল গান পরিবেশন করেন। বাউল ভক্তদের দাবি, আত্মশুদ্ধি আর আত্মমুক্তির জন্য এ মেলায় আসেন এবং পরিবেশন করেন মানব প্রেমের গান। পরিবেশন করেন ‘এ কি আনন্দ গৌর চন্দ্র, চরণে বন্দী মনরে, দয়াল নিতাই তুমি হইলানা কেন আমার-বইয়ে ভাঙ্গা নাইয়ের বেপারী গানগুলো। গানের ফাঁকে ফাঁকে বাউল দর্শন ব্যাখ্যা করে শোনানো হয় উপস্থিত ভক্ত ও পূর্ণার্থীদের।

মেলা সম্পর্কে জানতে চাইলে বাউল আখড়ার বংশধর স্নিগ্ধা বাউল জানান, আমাদের লোভ, হিংসা, ভোগ সকল ত্যাগ করে এখানে বসতে হয়। এখান থেকে মানুষ হয়ে যাতে ফিরে যেতে পারি, মানুষ হয়ে সারা জীবন যাতে কর্ম করে যেতে পারি এবং আবার যেন মানুষ হয়েই পৃথিবীতে জন্ম নিতে পারি এটাই আমাদের সাধনা।

তিনি আরও বলেন, আমরা মনে করি একটি ধর্ম। সেটি হল মানুষ। এক সময় এক ধর্মের বাণী নিয়ে গৃহস্তের বাড়ি থেকে মুষ্ঠি তোলা হতো এবং এই মেলার দিনে গৃহস্তদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হতো এবং তাদের জন্য আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। আমরা চাই আবার একটি সুন্দর পৃথিবী তৈরি হবে, যেখানে থাকবেনা কোনো ভেদাভেদ, বৈষম্য বা উচু নিচু বংশ পরিচয়। সেই লক্ষ্য নিয়ে পূর্ব বঙ্গে কাজ করেছেন এই বাউল সাধক।

মেলা কবে থেকে চালু হয়েছে তার সঠিক হিসেব কেউ না বলতে পারলেও কেউ কেউ বলে থাকেন ব্রিটিশ শাসনামল থেকে এই মেলার আয়োজন করে আসছেন নদী রাম বাউল নামে এক ব্যক্তি। পরবর্তীতে তার নাতী মনীন্দ্র চন্দ্র বাউলি এখন তার বংশধর এই মেলার আয়োজন করে থাকেন।

মেলায় বেসেছে বাহারি পণ্যের স্টল

প্রতি বছরের মতো এ বছরও মেলা উপলক্ষে আখড়াধামে ভারতসহ দেশ-বিদেশের বেশকিছু বাউল সাধক এসেছেন। মরমী এ সাধকদের কাছে সাধনাই মূল ধর্ম। আত্মশুদ্ধি আর আত্মমুক্তির জন্য এ মেলায় আসেন তারা। এখানে বাউলরা মানব প্রেমের গানে সুর তোলে মনের আনন্দে গান করেন। সাথে বাউলের গুণকীর্তন নিয়ে ধর্মীয় গান পরিবেশন করেন দেশি বিদেশি বাউল সাধক ও ভক্তরা।

এদিকে বাউল মেলা ঘিরে বাঙ্গালির চিরচেনা মুখরোচক খাবার ও বাহারি পণ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এসব খাবারের মধ্যে রয়েছে- মোয়া, তিলের মোয়া, তিলের সন্দেশ, জিলাপী, সন্দেশ, মিঠাই, দই, আমিত্তি, মুড়ালি, গুড়ের তৈরি মুড়ি ও চিড়ার খাস্তা, কদমা, নারকেলের নাড়ু, তিলের নাড়ু, খাজা, গজা, নিমকি, মনাক্কা, গাজরের হালুয়া, পিঠাসহ রকমারি খাবার। এছাড়া খেলনা, ঘরের তৈজসপত্র, আসবাবপত্র, বিভিন্ন ধরনের তৈরি পোশাক, মাটি, লোহা ও বাঁশের তৈরি জিনিসপত্রসহ নানা ধরনের পণ্যের স্টল বসছে।

;

খুলনায় ফার্নিচারের শো রুমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, খুলনা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

খুলনা মহানগরীর লোয়ার যশোর রোডের ডাকবাংলা এলাকায় নিউ নুসা ফার্নিচারের শো রুমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার কিছু আগে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

খুলনা ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টা কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর মধ্যে আগুনের ভয়াবহ লেলিহানে ওখানকার দুটি দোকান আগুনে পুড়ে গেছে।

তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। এছাড়া কি কারণে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে সেটিও জানা যায়নি।

খুলনা থানার দায়িত্বরত এএসআই মো. আরিফ হোসেন জানান, রাত বারোটার কিছু আগে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে।

;

পুলিশ পরিচয়ে টাকা আত্মসাৎ, ভুয়া পুলিশ গ্রেফতার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নোয়াখালীর সদর উপজেলায় পুলিশ পরিচয়ে চাকরির প্রলোভনে টাকা আত্মসাতের দায়ে মো. সোহাগ (৪৫) নামে এক ভুয়া পুলিশকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেফতার মোহাম্মদ সোহাগ (৪৫) সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের সালেহপুর গ্রামের ডিলারের নতুন বাড়ির মৃত ইদ্রিস পাটোয়ারীর ছেলে।

শনিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে জেলা শহর মাইজদীর হাসপাতাল রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামি সোহাগ নিজেকে পুলিশ সদস্য পরিচয় দিয়ে স্থানীয় মো.ফরহাদ হোসেন, মো.আবুল হাশেম, ফজর বানু লাভলী, মো. তারেক ও সাইফুল ইসলামের থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়ার নাম করে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। ভুক্তভোগীরা এ বিষয়ে পুলিশের কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করে। পরবর্তীতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

নোয়াখালীল পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় সুধারাম মডেল থানায় মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন। ওই মামলায় রোববার আসামিকে নোয়াখালী চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।

;

বিমানের টিকিট নিয়ে ট্রাভেল এজেন্সির প্রতারণা, কানাডায় বিপাকে ব্যবসায়ী



আল-আমিন রাজু, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজধানীর তেজগাঁও থানার তেজকুনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা রাফায়েল ব্যাপারীর ছেলে আলবার্ট প্রদীপ ব্যাপারী। পেশায় রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী আলবার্ট ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর সপরিবারে কানাডা ভ্রমণে যান। আসা-যাওয়ার জন্য একই বছরের জুলাই মাসে ‘ট্রিপ টক’ নামের একটি ট্রাভেল এজেন্সি থেকে বাংলাদেশ বিমানের টিকিট কেনেন। এই টিকিট দিয়ে কানাডায় যেতে পারলেও ফেরার পথে বিমানবন্দরে এসে পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েন প্রদীপ।

চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি কানাডার টরেন্টো বিমানবন্দরে এসে বোডিং পাস নেওয়ার সময় জানতে পারেন তার টিকিটটি আর তার নামে নেই। বরং টিকিট ফেরত দিয়ে ট্রাভেল এজেন্সি টাকা তুলে নিয়ে গেছে। এমতাবস্থায় বিদেশের মাটিতে বিপদে পড়ে যান এই ব্যবসায়ী। পরবর্তীতে দেশে থাকা স্বজনদের সহযোগিতায় দেশে ফিরে আসেন।

দেশে ফিরে দ্বারে-দ্বারে ঘুরেও নিজের টাকা কিংবা টিকিট কোনোটাই পাননি তিনি। অবশেষে থানায় ট্রাভেল এজেন্সি ‘ট্রিপ টক’-এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন প্রদীপ। যদিও ট্রাভেল এজেন্সিটির মালিক পক্ষ নিজেদের দায় এড়াতে গ্রাহকের ওপর দোষ চাপাতে মরিয়া।

জানা গেছে, দেশে ফেরার ১ মাস পর মামলা করলেও সমস্যা সমাধানে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছেন তিনি। ট্রাভেল এজেন্সির মালিক পক্ষকে সমাধানের কথা বারবার বললেও এর মালিক মাহের হাসান কোনো সমাধান দেননি। বরং তিনি নানাভাবে গোঁজামিল দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে শুক্রবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে তেজগাঁও থানা আলবার্ট প্রদীপের অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে। মামলায় আসামি করা হয়েছে এজেন্সির মালিক মাহের হাসান, তার পার্টনার (ব্যবসার অংশীদার) মো. হাসিবুর রহমান ওরফে জীবন ও কর্মচারী শফিকুল শেখকে।

তেজগাঁও থানা দায়ের হওয়া মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী আলবার্ট প্রদীপ তার সন্তান, স্ত্রীকে নিয়ে কানাডা যাওয়ার জন্য টিকিট কাটার চেষ্টা করছিলেন। এই সময়ে তার এক স্বজনের পরামর্শে ট্রিপ টক ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কানাডায় যাওয়ার জন্য প্রতিটি টিকিটের দাম ধরা হয় এক লাখ ৮০ হাজার টাকা। সে হিসেবে তিনজনের আসা ও যাওয়ার জন্য ছয়টি টিকিটের দাম ধরা হয় পাঁচ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এই টাকা ট্রাভেল এজেন্সির কর্মচারীদের কাছে কয়েক ধাপে পরিশোধ করেন প্রদীপ। টাকা পরিশোধ করার পরে টিকিট বুঝে পেয়ে গত বছরের ১০ অক্টোবর পরিবার নিয়ে কানাডায় চলে যান প্রদীপ। সেখানে প্রায় তিন মাস অবস্থান করার পর চলতি বছরের জানুয়ারির ২০ তারিখ কানাডার টরেন্টো বিমানবন্দরে এসে আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন। কিন্তু টিকিট চেকিংয়ে গিয়ে জানা যায় তার নামে কাটা টিকিট বাতিল করা হয়েছে। বরং এই টিকিট জমা দিয়ে ট্রাভেল এজেন্সি টাকা তুলে নিয়েছে। এই সময়ে বিদেশে বসে এজেন্সির মালিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কেউই তার ফোন ধরেননি। এমনকি দেশে আসার পরে টিকিটের টাকা ফেরত চাইলেও এজেন্সিটি টাকা না দিয়ে বরং নানা ধরনের হুমকি ধমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এই ব্যবসায়ী।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আলবার্ট প্রদীপ বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমার এক স্বজনের মাধ্যমে এই ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ হয়। পরবর্তীতে তারা আমার কাছ থেকে টিকিটের টাকা নিয়েছে। টিকিট দিলেও পরবর্তীতে আমি বিদেশে যাওয়ার পর তারা টিকিটের টাকা তুলে নিয়েছে। আমার কাছে তাদের টাকা দেওয়া এবং টিকিটের সকল তথ্য প্রমাণ রয়েছে। এখন তারা ভিন্ন কথা বলছে।

প্রদীপের কাটা টিকিটের একটি কপি বার্তা২৪.কমের হাতে এসেছে। এতে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং-৭৮৭-৯ এয়ারক্রাফটের টিকিট কেনেন। ফ্লাইট নম্বর: বিজি ৩০৫। এর প্রায় তিন মাস পর একই বিমানে ফেরার টিকিট কেটেছেন তিনি। যার ফ্লাইট নম্বর ৩০৬। ই-টিকিট নম্বর যথাক্রমে: ৯৯৭৯৩৪২৩৯১০২২, ৯৯৭৯৩৪২৩৯১০২৩ ও ৯৯৭৯৩৪২৩৯১০২৪।

এদিকে, এ বিষয়ে ভুক্তভোগীকেই দায়ী করছেন এজেন্সির মালিক মাহের হাসান। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, তিনি আমাদের কাছ থেকে টিকিট কেনেননি। আমার প্রতিষ্ঠানের এক সময়ের পার্টনার জীবনের কাছ থেকে টিকিট কেটেছিলেন, কিন্তু জীবন সেই টিকিটের টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়েছে। এমনকি সে আমার প্রতিষ্ঠানের ৩৮ লাখ টাকা নিয়ে দুবাই গিয়ে আত্মগোপন করেছে। জীবনের বিরুদ্ধে আমরাও একাধিক মামলা ও জিডি করেছি। তার সঙ্গে আমাদের ২০২৩ সালের পহেলা আগস্ট থেকে কাগজেকলমে কোনো সম্পর্ক নেই। যদিও জুলাই থেকেই সে আমাদের সঙ্গে নেই। এই বিষয়টা নিয়ে একাধিকবার তেজগাঁও থানায় পুলিশ আমাদের ডেকেছিল। তখন আমরাই ভুক্তভোগীকে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছি। সে যার সঙ্গে লেনদেন করেছে তার কাছ থেকে টাকা নেবে, এতে আমাদের কোনো দায় নেই।

তিনি আরও বলেন, আমার তাকে (ভুক্তভোগী) জীবনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছি। কিন্তু সে আমাদের বারবার ডিস্টার্ব করছে। জীবনের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে অনেক ভুক্তভোগীই কিছু টাকা ফেরত পেয়েছে।

এদিকে ভুক্তভোগী প্রদীপ বলছেন, আমি যখন টিকিট কিনেছি তখন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে লেনদেন করেছি। না হলে কেউ একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীর কাছে লাখ লাখ টাকা দেয়। তাদের প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আমাকে দেখিয়ে লাভ কী? তারা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায় এড়াতে পারে না। টাকা দাবি করায় তারা ‘আর কখনো বিদেশে যেতে পারব না’ বলে হুমকি দিচ্ছে।

মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসীন বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী আমাদের কাছে অভিযোগ দেওয়ার পর আমরা প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা যাচাই করেছি। সত্যতা পাওয়ার পর আমরা মামলা নিয়েছি। তদন্ত করা হচ্ছে।

;