রাঙামাটিতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাচ্ছে ৪৩৯ পরিবার



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাঙামাটি
রাঙামাটিতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাচ্ছে ৪৩৯ পরিবার

রাঙামাটিতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাচ্ছে ৪৩৯ পরিবার

  • Font increase
  • Font Decrease

রাঙামাটিতে ৪র্থ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পাচ্ছে ৪৩৯ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার।

সোমবার (২০ মার্চ) সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মিজানুর রহমান।

এতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম ফেরদৌস ইসলাম, মো.সাইফুল ইসলাম, রাঙামাটি পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ তাছাদ্দিক হোসেন কবিরসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্যায়ের আনুষ্ঠানিকতার ন্যায় আগামী ২২ মার্চ বুধবার রাঙামাটি জেলায় ৩য় পর্যায়ের লংগদু উপজেলার অবশিষ্ট ৪০টি ঘর এবং ৪র্থ পর্যায়ে রাঙামাটি সদর উপজেলায় ৮৪টি, বাঘাইছড়ি উপজেলায় ৮০টি, লংগদু উপজেলায় (৩য় পর্যায়ের ৪০টি ঘরসহ) ৮৩ টি, নানিয়ারচর উপজেলায় ২৭টি, বরকল উপজেলায় ৪০টি, রাজস্থলী উপজেলায় ১৪টি, জুরাছড়ি উপজেলায় ৭০টি এবং কাউখালী উপজেলায় ৪১ টিসহ মোট ৪৩৯ টি ঘর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারের নিকট হস্তান্তর করবেন। এই প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট উপজেলার উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন অথবা সুবিধাজনক স্থানে জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, উপকারভোগী, সুধীজন ও সাংবাদিকবৃন্দের উপস্থিতিতে উপকারভোগী পরিবারবর্গের মাঝে ঘর হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।

   

তেঁতুলিয়ায় উদ্ধার হওয়া মর্টারশেলটি ধ্বংস করলো সেনাবাহিনী



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, পঞ্চগড়
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় উদ্ধার হওয়া একটি মর্টারশেল ধ্বংস করেছে সেনাবাহিনীর বোম্ব ডিস্পোজাল ইউনিটের সদস্যরা।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারী) বিকেলের দিকে উপজেলার বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের হুলাসুজোত এলাকার একটি ভুট্টা ক্ষেতের পাশে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রংপুর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের ৬ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়নের মেজর আব্দুল্লাহ আল সায়েমের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যর একটি বিশেষজ্ঞ দল মর্টালশেলটি সফলভাবে ধ্বংস করে। এসময় মর্টালশেলটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এসময় তেঁতুলিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি প্রতিনিধি দল উপস্থিত ছিলেন।

তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজয় কুমার রায় মর্টালশেলটি ধ্বাংসের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের সিপাইপাড়া বাজারের মের্সাস রুপা ট্রেডার্স নামে একটি ভাঙ্গারির দোকানে লোহা ভেবে মর্টালশেলটি বিক্রি করেন এক ভাঙ্গারির হকার। পরে বোম সদৃশ একটি বস্তু দেখতে পেয়ে থানা পুলিশে খবর দেয়া হয়। পুলিশ সেটিকে মর্টারশেল বলে চিহ্নিত করে। পরে ওই দোকানের ভেতরেই গর্ত করে বালির বস্তা দিয়ে চাপা দিয়ে বেষ্টনী দিয়ে নিরাপদে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

আরো জানা গেছে, মর্টারশেলটি ৫১ মিলিমিটার প্যাকেট বোম। তবে মরিচা ধরার কারণে এর তৈরির কোন সঠিক তারিখ পাওয়া যায়নি।

;

ইউরোপ পাঠানোর নামে প্রতারণা, জড়িত বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

বিমানবন্দরের বিশেষ প্রবেশের অনুমতি ব্যবহার করে কখনো ট্যুরিস্ট আবার কখনো ভুয়া ভিসায় ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশসহ সেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে লোক পাঠানোর নামে অভিনব প্রতারণা করে আসছে একটি চক্র। ১৬ থেকে ১৮ লাখ টাকায় বিদেশে পাঠানোর ফাঁদ পাতা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা। চক্রটি গত দেড় বছরে আড়াই শতাধিক মানুষকে ইউরোপ পাঠানোর নামে প্রতারণা করেছে। চক্রের দুই মূলহোতাসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

চক্রের মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে অনেকেই গ্রেফতার হয়েছেন। শূন্য হাতে দেশে ফিরলেও ভাগ্য বদলের আশায় বিদেশে যাওয়া অনেকেই বিভিন্ন দেশে জেল খেটেছে, কেউ এখনো রয়েছেন জেলেই।

ডিবি পুলিশ বলছে, আদালতের নির্দেশে এক দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে গ্রেফতারদের। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ৩ যাত্রী স্বীকার করেছে ১৬ থেকে ১৮ লাখ টাকা দালালদেরকে দিয়ে এই অবৈধ পথে ফ্রান্স, ইতালি এবং গ্রিসে যাচ্ছিলেন তারা।

দুই হোতার বক্তব্যে উঠে এসেছে বাংলাদেশ বিমানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কারো কারো এই চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে ২ নম্বর ঢাকা টার্মিনাল-২ দিয়ে অবৈধভাবে জাল ভিসা দিয়ে তিনজনকে বিদেশে পাঠানোর চেষ্টা করছিলো চক্রের সদস্যরা। বিষয়টি টের পেয়ে বিমানবন্দর আর্ম পুলিশের (এপিবিএন)'র সদস্যরা তাদেরকে কৌশলে নজরদারিতে রেখে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) খবর দেয়। তথ্য পেয়ে এপিপিএনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে যৌথ অভিযানে চালিয়ে চক্রের দুই হোতা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ও মোহাম্মদ কবির হোসেন ও চক্রের মাধ্যমে বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া ৩ যাত্রীকে গ্রেফতার করা হয়। যাত্রীরা হলেন- জানে আলম, সাব্বির মিয়া, সম্রাট সওদাগর।

অভিযানে চক্রের দুই সদস্যের কাছ থেকে তিনটি পাসপোর্ট, ৩টি জাল ভিসা, ৪টি এনআইডি, বিমানবন্দরে প্রবেশের স্পেশাল পাসের কার্ড, ৪টি এটিএম কার্ড, ৫টি মোবাইল, ৩টি ই-টিকেট, ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসা সংশ্লিষ্ট জাল ডকুমেন্ট, ১টি ড্রাইভিং লাইসেন্স, নগদ ১৬ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।


বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিবিতে নিজ কার্যালয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, মানবপাচারকারী চক্রের খপ্পরে পড়ে লাখ লাখ টাকা খোয়াচ্ছে সাধারণ মানুষ। আমরা অনেকবারই বলেছি। বিভিন্ন পন্থায় তারা মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে সেনজেন ভিসাভুক্ত ইউরোপিয়ান দেশগুলোতে যাবার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। এজন্য সক্রিয় রয়েছে দালাল চক্র। এক সময় দেখা যেতো নৌ পথে লিবিয়া বা ইউরোপিয়ান দেশ ইতালিতে যাবার পথে অনেকে মারা যেতেন। অনেকে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হতেন। এরপর জেল খাটতেন। কেউ কেউ কাজও পেয়ে যেতেন। এখন এ পন্থায় ইউরোপ যাবার পথ কঠিন হচ্ছে।

অতিরিক্ত কমিশনার হারুন বলেন, এখন দালাল চক্রের সদস্যরা নতুন কৌশল ব্যবহার কিরছে। তারা বাংলাদেশ বিমানের সিকিউরিটি ম্যান, কুয়েত এয়ারওয়েজের বুকিং সহকারী, কিছু জনশক্তি রপ্তানি প্রতিষ্ঠান ও ট্রাভেল এজেন্সিসহ দক্ষ কম্পিউটার অপারেটর মিলে শক্তিশালী একটি চক্র গড়ে উঠেছে। এই চক্রটি ট্যুরিস্ট ভিসার কথা বলে সেনজেন ভিসাভুক্ত দেশে কোনো রকম পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এরপর পৌঁছে গেলে আর ফেরত আসতে হবে না এই বলে কারো কারো কাছ থেকে ১৬ থেকে ১৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

গোয়েন্দা প্রধান বলেন, চক্রটির কাজ হচ্ছে, বিমানবন্দরে কোনো রকমে ঢুকিয়ে দেওয়া। ট্রাভেল এজেন্সি টিকিট করে দেয়। ইউরোপিয়ান কোনো দেশের যাবার জন্য সে টিকিট পেয়ে বিমানবন্দরে ঢোকে। বোর্ডিং আনতে গেলে বাংলাদেশ বিমানের সিকিউরিটি ম্যান ও কুয়েত এয়ারওয়েজের বুকিং সহকারী তখন দেখে। তারা তো বায়াস্ট। তারা বলে সব ঠিক আছে। ইমিগ্রেশনেও চেক করা হয় না। বিদেশগামী ভুক্তভোগীরা কিছু না বুঝে ভুয়া বোর্ডিং কার্ড নিয়ে বিমানে উঠে চলে যায়।

হারুন বলেন, এভাবে ফাস্ট ডেস্টিনেশন বাংলাদেশ থেকে তারা উড়াল দিলেও অনেক সময় তারা মধ্যবর্তী স্থানে ট্রানজিট পয়েন্টে আটক হয়, কখনো সর্বশেষ ফ্রান্স, জার্মান অথবা ইউরোপের ডেস্টিনেশনেও গিয়ে আটক হন। কারণ এসব জায়গায় চেক করতে গিয়ে দেখে ভুয়া। তখন কাউকে দেশে পাঠায়। কাউকে কাউকে জেলে পাঠায়। যারা জেলে যায় তারা পরবর্তীতে কেউ কেউ কাজও পেয়ে যায়। চক্রের সদস্যরা এই সুযোগটি নেয়। বলে মামলা করে জেল থেকে ছুটে বের হতে পারবেন।

 

;

ভাষা যদি না থাকে সংস্কৃতি বিলুপ্ত হবে: দীপংকর তালুকদার



স্টাফ কসেরপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, চট্টগ্রাম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ভাষা যদি না থাকে, তবে সংস্কৃতি বিলুপ্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বন-পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম অমর একুশে বই মেলা মঞ্চে নৃ-গোষ্ঠী উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দীপংকর তালুকদার বলেন, জাতীয় উন্নয়নের স্বার্থেই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতির বিকাশে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দরকার বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বৈচিত্র্যপূর্ণ সংস্কৃতি এ দেশের অমূল্য সম্পদ। সাংস্কৃতিক নানা উপাদান এসব জাতিগোষ্ঠীর সক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ। যুগ যুগ ধরে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও জাতিসত্ত্বা এবং অ-উপজাতীয় জনগণ বসবাস করছে। উপ-জাতীয়রা যেমন একদিকে সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের অধিকারী, অন্যদিকে তারা মূল জনগোষ্ঠীর অপরিহার্য অংশ।

তিনি বলেন, জাতীয় উন্নয়নের জন্যই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতির বিকাশে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দরকার। জাতীয় উন্নয়নের জন্যই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতির বিকাশে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দরকার। ভাষা যদি না থাকে, তবে সংস্কৃতি বিলুপ্ত হবে। তাই প্রয়োজন বাংলাদেশের অনেক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতির সঠিক লালন। সংখ্যাগুরু মানুষের উচিত সংখ্যায় কম মানুষের সংস্কৃতির বিকাশে এগিয়ে আসা।

দীপংকর আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ১৯৯৬ সাল থেকে একটি নীতিমালার আলোকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে “বিশেষ এলাকার জন্য উন্নয়ন সহায়তা (পার্বত্য চট্টগ্রাম ব্যতীত) শীর্ষক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা শুরু করা হয় এবং কর্মসূচিটি চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিবাসীদের আশা-আকাক্সক্ষা ও প্রত্যাশা পূরণে সর্বদা সচেষ্ট।

আলোচক কবি ও নাট্যজন শিশির দত্ত বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের রয়েছে হাজার বছরের ঐতিহ্যে লালিত নিজস্ব আচার, উৎসব ও সংস্কৃতি দারিদ্র্য ও সংখ্যাগরিষ্ঠের আগ্রাসী সংস্কৃতির চাপে আজ তা প্রায় বিপন্ন। তবুও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা ধরে রেখেছেন নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উৎসবগুলোকে। যুগে যুগে যা সমৃদ্ধ করেছে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাহিত্যকে ।

মাধ্যমিককয় ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক নৃগোষ্ঠী গবেষক ড. আজাদ বুলবুলের সভাপতিত্বে আলোচক হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কবি ও নাট্যজন শিশির দত্ত, মাটিরাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ প্রশান্ত ত্রিপুরা, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আনন্দ চাকমা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ও মেয়রের একান্ত সচিব মুহাম্মদ আবুল হাশেম। পরে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের উপজাতীয় গান ও নৃত্য শিল্পীরা অংশগ্রহণ করেন।

;

বিদ্যুতের দাম দ্রুতই সমন্বয় করা হবে: প্রতিমন্ত্রী



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ

  • Font increase
  • Font Decrease

বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হচ্ছে না, সমন্বয় করা হচ্ছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় কম দামে বিক্রি করায় লোকসান হচ্ছে, সে কারণে কিছুটা সমন্বয় করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) এর নবনির্বাচিত নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা যদি প্রফিট করতাম তাহলে দাম বাড়ছে বলতে পারতেন। আমরাতো খরচ উঠাতে চাচ্ছি। খুবই সামান্য পরিমাণে দাম বাড়তে পারে। লাইফ লাইন গ্রাহকের (৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী) মাসের বিল ২০ টাকার মতো বাড়তে পারে। এখন তারা যদি একটু সাশ্রয়ী হন, তাহলে বিল আগের অবস্থায় থাকবে। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে গ্রাহকদের মিতব্যয়ী হতে উদ্বুদ্ধ করা।

তিনি বলেন, ১ কোটি ৪০ লাখ গ্রাহক রয়েছে যাদের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৪ টাকার মতো নেওয়া হয়। সেখানে হয়তো ৩০ থেকে ৩৫ পয়সার মতো বাড়তে পারে। তবে যারা বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, বাসায় দুই থেকে ৩টি এসি ব্যবহার করে, তাদের বিল ৭০ পয়সার মতো বাড়তে পারে। তাদের মাসের বিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেড়ে গেলে কোন সমস্যা হবে না। সরকার ভর্তুকি থেকে বের হয়ে আসতে চাইছে। এখন রাজস্ব থেকে ভর্তুকি দিচ্ছে এটি খুবই ব্যয়বহুল।  

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখনও কয়লা থেকে পাওয়া বিদ্যুতের দাম সবচেয়ে কম। পারমানু বিদ্যুতের দাম সাড়ে ৫ টাকার মতো পড়বে। ফার্নেস অয়েলে ১৪ থেকে ২০ টাকার মতো পড়ছে। যে কারণে কয়লার উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। যেভাবে হোক কয়লা সরবরাহ চেইন ঠিক রাখতে হবে। তাদের বিল পেমেন্ট দিতে হবে, যাতে কয়লা আমদানি ও সরবরাহে কোন সংকট না হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়েছে ডলারের দর বেড়ে যাওয়ায়। তেল-গ্যাস ও কয়লার আন্তর্জাতিক বাজারদর ক্ষেত্র বিশেষে একই থাকলেও আগের চেয়ে ডলার প্রতি ৪০ টাকার বেশি খরচ হচ্ছে। এখানেই বিশাল গ্যাপ তৈরি হয়েছে। আমরা ধরে নিচ্ছি আগামী ৩ বছর ডলারের দাম ১১০ টাকা থাকবে, সেভাবে প্রাক্কলন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনে দৈনিক ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হলে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ অর্ধেকে নেমে আসতো। যে কারণে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনে ৭০ পয়সার মতো বাড়িয়ে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা নির্বাহী আদেশে দাম সমন্বয় করতে যাচ্ছি। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে দিলে ৩ মাস সময় লাগতো। এতে ৩ মাসে ২০ হাজার কোটি টাকা লোকসান হতো। গ্রাহকরা এনার্জি সেভিংয়ে যাক তাহলে তাদের বিল বাড়বে না।

জ্বালানি তেলের দামও মার্চ থেকেই আন্তর্জাতিক বাজার দরের উপর ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমলে এখানেও কমে যাবে। আবার বেড়ে গেলে এখানেও বাড়বে। বর্তমানে যে অবস্থা তাতে ডিজেলে লিটার প্রতি ১ টাকার মতো লোকসান হচ্ছে। এখানে যদি ট্যারিফ ভিত্তিক ডিউটি হয় তাহলে দাম বাড়াতে হয় না। আর যদি কমার্শিয়াল এনভয়েজ ভিত্তিক ডিউটি হয় তাহলে কিছুটা বাড়তে পারে।

ভারতের তুলনায় এখনও বাংলাদেশে ডিজেলের দাম কম। কলকাতায় প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৩৩ টাকায় বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যেই বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের আদেশ আসতে পারে।

সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি গ্রাহক পর্যা‌য়ে নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। তার ৩ সপ্তাহ আগে ১২ জানুয়ারি গড়ে ৫ শতাংশ বাড়িয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়।  ২০০৫ সালে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গঠনের পর থেকেই বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করে আসছিল সংস্থাটি। ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর বিদ্যুতের পাইকারি দাম ইউনিট প্রতি ১৯.৯২ শতাংশ বাড়িয়ে ৬.২০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়। তারপরেই গ্রাহক পর্যা‌য়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আবেদন করে বিতরণ কোম্পানিগুলো। বিতরণ কোম্পানিগুলোর আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রক্রিয়া শুরু করেছিল বিইআরসি। গত ৮ জানুয়ারি শুনানি করে প্রায় গুছিয়ে এনেছিল নতুন দর ঘোষণার প্রস্তুতি। কিন্তু মাঝপথে বিইআরসিকে থামিয়ে নির্বাহী আদেশে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আবারো নির্বাহী আদেশেই বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাহী আদেশে গ্যাসের দাম বাড়িয়ে দেয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। আর গণশুনানির মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন গ্যাসের দাম বাড়িয়েছিল ২০২২ সালের জুনে। আবার সার ও বিদ্যুতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। 

;