দশ বছরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে প্রশিকা



তরিকুল ইসলাম সুমন, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ভঙ্গুরদশা থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র। ২০১৫ সালের ঋণ স্থিতি ছিল ৮০ কোটি টাকা যা এখন প্রায় ১২শ কোটি টাকায় এসে পৌঁছেছে। দেশের বিভিন্ন জায়গায় বন্ধ থাকা অফিসগুলো চালু করা হয়েছে। সুবিধাভোগী তৃণমূলের মানুষদের ভীতি কাটিয়ে তাদের মাঝে আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যেখানে বছরের পর বছর বেতন বন্ধ থাকত, এখন সেখানে নিয়মিত বেতন হচ্ছে, চলছে নতুন জনবল নিয়োগ কার্যক্রম। এমনটাই জানিয়েছেন প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের বর্তমান প্রধান নির্বাহী সিরাজুল ইসলাম।

সম্প্রতি প্রশিকার লিয়াজোঁ অফিসে এক আলাপচারিতায় এসব কথা তিনি বলেন।

সিরাজুল ইসলাম জানান, ২০০৮ সালে প্রশিকার প্রাক্তন চেয়ারম্যান ড. কাজী ফারুক আহম্মদ রাজনৈতিক সংশিষ্টতা এবং স্বেচ্ছাচারিতার কারণে প্রশিকার সর্বস্তরের কর্মীদের অসন্তোষের শিকার হন। এই অস্থিরতার সময়ে প্রশিকা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে, শুরু হয় অস্তিত্ব সংকট। প্রতিষ্ঠানকে রক্ষার জন্য তৎকালীন গভার্নিং বডি প্রশিকার চেয়ারম্যান পদ থেকে কাজী ফারুক আহম্মদকে অপসারণ করে। এই অপসারণ প্রক্রিয়াকে অস্বীকার করে তিনি আদালতে আশ্রয় নেন। এভাবেই শুরু হয়েছিল বিভক্তি এবং আমাদের ওপর নেমে আসে ড. কাজী ফারুক ও তার অনুসারীদের মাধ্যমে নানান ধরনের মিথ্যা মামলা ও হামলা। সেই সময় এমন কোনো কেন্দ্রীয় কর্মী নাই যার বিরুদ্ধে মামলা ও হামলা করা হয়নি। এ ধারা এখনও চলমান। কিন্তু কর্মী ব্যবস্থাপকদের নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে সারা দেশে প্রশিকার বিভিন্ন অফিসগুলো চালু করা হয়েছে। তবে ২০০৮-২০১৪ সাল পর্যন্ত সময় ছিল প্রশিকার জন্য ক্রান্তি কাল। এখন আমরা সারা বাংলাদেশে ২১৬টি অফিস, ৩৩৮টি শাখা অফিসের মাধ্যমে উন্নয়ন কাজ পরিচালনা করছি। কর্মরত কর্মী-ব্যবস্থাপকগণ নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন, কেন্দ্র ও বিভিন্ন এলাকার অফিসগুলোতে নিয়মিত অডিট হচ্ছে, এমনকি অবসরে যাওয়া কর্মীদেরও পর্যায়ক্রমে প্রভিডেন্ট ফান্ডের বকেয়া টাকা দেয়া হচ্ছে। এসময় পর্যন্ত আমরা প্রায় ৮ কোটি টাকা বকেয়া প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা পরিশোধ করেছি। এখনো প্রায় ২ শতাধিক আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এগুলোও পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।


প্রশিকার কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা আমাদের কাজ সারাদেশে সম্প্রসারিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এই সকল গঠনমূলক কাজের পদক্ষেপ একটি বিশেষ মহল দ্বারা বার বার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু আমাদের সকল কাজে একটি বিশেষ মহল বাধা দেয়ার চেষ্টা করছে। এত কিছুর পরেও আমরা নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার করে সামনের দিকে এগিয়ে চলেছি। আমাদের ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের পরিচালনায় সুবিধাভোগীদের গচ্ছিত আমানতের একটি বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার সকল প্রকার প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদন প্রাপ্তির পরেও বৈদেশিক অনুদান পাওয়া যাচ্ছে না প্রশিকার নামে কিছু মামলা থাকার কারণে। বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালনায় আমরা কিছুটা আর্থিক সমস্যার মধ্যে রয়েছি। একাধিক হয়রানিমূলক মামলা থাকার কারণে সরকারি অথবা বৈদেশিক অনুদানে পরিচালনা করা যায় এমন প্রকল্প পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা হচ্ছে। তবে আমরা আমাদের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আর একটি বড় সমস্যা হচ্ছে প্রশিকার নামে থাকা জমি বিক্রির অপচেষ্টা। একাজ করছেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান কাজী ফারুক নিয়ন্ত্রিত একটি মহল। প্রশিকার স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এই অপকর্ম রোধ করতেও আমাদের প্রচুর অর্থ ও সময় ব্যয় করতে হচ্ছে।

ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জের কামতা উন্নয়ন এলাকা পরিদর্শনকালে উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম শাহীন জানান, তার এই অফিসে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৩৮৫৪ জন। এসব সুবিধাভোগী একদিকে নিজেরা নিজেদের মতো করে এই অফিসে সাপ্তাহিক সঞ্চয় জমা করেন। কেউ আবার ফিক্সড ডিপোজিট, কেউ বিশেষ আমানত জমা রাখেন। ব্যবসা সম্প্রসারণ বা অন্যান্য জরুরী প্রয়োজনের জন্য সমিতিভূক্ত সদস্যরা ঋণের জন্য আবেদন করলে যাচাই বাছাইয়ের পর ঋণ সুবিধা মঞ্জুর করা হয়। এই টাকা দিয়ে তারা যে ধরণের অর্থনৈতিক কর্মকা- করতে চান, সে বিষয়ে তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হয়। বিশেষ পরিস্থিতির কারণে যদি কেউ ঋণের টাকা ফেরত দিতে অপারগ হন, সেক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে পরামর্শ করে মানবিক পদক্ষেপ নেয়া হয়। প্রয়োজন হলে পুনরায় ঋণের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে।

তিনি আরো বলেন, কামতা উন্নয়ন এলাকার ঋণ স্থিতি প্রায় ১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে সুবিধাভোগীর আমানত প্রায় ১৩ কোটি টাকা। বাকি টাকা প্রশিকার নিজস্ব। ঋণ রিকভারি প্রায় শতভাগের কাছাকাছি।

সরেজমিন কামতা মধ্যপাড়া মহিলা সমিতির উঠান বৈঠকে গিয়ে দেখা গেছে, উঠানে পাটি পেতে বসে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন সমিতিভুক্ত সদস্যরা। তারা নিজেদের মধ্যে সুখ দু:খের আলাপ করছেন। কাছে যেতেই তাদের কথা থেমে যায়।

সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে সমিতির সভানেত্রী রওশন আরা (৫০) জানান, প্রশিকা এখন আস্থার প্রতীক। তাদের সমিতির সদস্য সংখ্যা ৫৪ জন। ৯০ ভাগ সদস্য নারী। প্রশিকার আভ্যন্তরীণ দ্বন্ধের বিষয়টি তারা জানেন। প্রশিকার মধ্যে দ্বন্দ্ব থাকলেও তাদের মধ্যে কোনো দ্বিধা নেই। তাদের এই অফিসটি কখনো বন্ধ হয়নি। তিনি ২৫ বছর ধরে এই সমিতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। নিজে ১৯ বার ঋণ নিয়েছেন। বর্তমানে সমিতিতে তার জামানত রয়েছে ৫০ হাজার টাকা। ঋণ চলছে ৩ লাখ টাকার। প্রতিমাসে তাকে ১৫ হাজর ৯শ টাকা কিস্তি ফেরত দিতে হয়। ঋণের টাকায় তিনি এখন স্বাবলম্বী। কিনেছেন দুধের গরু, জমি জিরাত। তৃণমূল পর্যায়ের একজন সফল উদ্যোগক্তার স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন বেগম রোকেয়া স্বারক পদক।

সুবিধাভোগী শেফালী (৪০) জানান, ১২ বছর ধরে তিনি এই সমিতির সঙ্গে যুক্ত। ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ধানি জমি কিনেছেন। সমিতিতে তার সাধারণ সঞ্চয় হিসেবে জমা রয়েছে ৪০ হাজার টাকা। প্রশিকা কামতা অফিসে বিশেষ আমানত হিসেবে জমা রয়েছে ৭ লাখ টাকা। স্বামী ঢাকায় চাকরি করেন। এক সন্তান নিয়ে ভালো আছেন তিনি।

রওশন বেগম (৬০) বলেন, তিনি ৩৫ বছর ধরে প্রশিকার সাথে সংশ্লিষ্ট আছেন। যখন যা পারেন তাই সঞ্চয় হিসেবে সমিতিতে জমা রাখেন। কিছুদিন আগে তিনি প্রশিকা থেকে ১ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ছেলে আশরাফুলকে মিক্সার মেশিন কিনে দিয়েছেন। সেই মেশিন দিয়ে আখের রস করে বিক্রি করে নিয়মিত টাকা আয় করেন। প্রশিকা থেকে গৃহিত ঋণের কিস্তির টাকা ফেরত দিতে তার সমস্যা হয় না। তিনি বেশ ভালো আছেন।

   

শঙ্কা কাটিয়ে স্বস্তি ফিরেছে উত্তরবঙ্গের ঈদযাত্রায়



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কল্যাণপুর থেকে: শঙ্কা কাটিয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে পরিবহন শ্রমিকদের মধ্যে। রোববার (১৬ জুন) সকালের দিকে শিডিউলে ফিরেছে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহনগুলো। কাউন্টারে এলেই মিলছে গন্তব্যের টিকিট, ৯টার পর থেকে অনেক পরিবহন বাড়তি গাড়ি ছাড়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

ঈদ যাত্রায় শনিবার (১৫ জুন) রাতে সূচিতে ছেদ পড়ে, কোনো কোনো পরিবহন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্বে গাড়ি ছেড়েছে। তবে রোববার (১৬ জুন) সকালের দিকে সূচিতে ফিরেছে গাড়িগুলো। নির্ধারিত সময়েই গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে গাড়ি। এসআর ট্রাভেলসের সকাল ৮ টার এসি বাস, হানিফ পরিবহনের শান্তাহারগামী কোচ, আগমনী এক্সপ্রেসের রংপুরগামী কোচ, শামলী পরিবহনের গাইবান্ধাগামী কোচ নির্ধারিত সময়ে ছাড়তে দেখা গেছে।

শ্যামলী পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার মোঃ এরশাদ বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আমাদের শঙ্কা কেটে গেছে, সকাল ৯টার দিক থেকে বাড়তি গাড়ি ছাড়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যাত্রী পেলে গাড়িগুলোর টিকিট ছাড়া শুরু করতে করব। রাস্তায় গাড়ি আটকা পড়লে যাত্রীরা মানতে চান না। যে কারণে আমাদের মধ্যে টেনশন কাজ করছিল।


এসআর ট্রাভেলসের ড্রাইভার মাসুদ রানা বার্তা২৪.কমকে বলেন, এবারের পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালোই বলতে হয়। আমার রংপুরের পথে সর্বোচ্চ ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগেছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৪ ঘণ্টার মতো বেশি লেগেছে। কোনো কোনো বার ২০ থেকে ২৫ ঘণ্টায় রংপুর যাওয়ার রেকর্ড রয়েছে আমার। আজকে রাস্তার অবস্থা উন্নতি হয়েছে, আরামেই যেতে পারবো বলে আশা করছি।

আগমনী এক্সপ্রেসের ম্যানেজার আনিসুল হক বার্তা২৪.কমকে বলেন, সকাল ৮টার কোচ নির্ধারিত সময়ে ছেড়ে, আমাদের শেষ কোচটি ছেড়ে যাবে আজ দুপুরে। ওই এসি বাসটির কিছু টিকিট এখনও অবিক্রিত রয়েছে। যাত্রী এলে কিনতে পারবেন।

একই অবস্থা হানিফ এন্টারপ্রাইজেও সুপারভাইজার পারভেজ মিয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমাদের কাউন্টারে এলে টিকিট পাওয়া যাবে। শান্তাহার রুটের পারভেজ মিয়া বলেন, গতরাত ১০টায় শান্তাহার থেকে ছেড়ে এসেছি, রাত ৩ টায় ঢাকায় পৌঁছার কথা ছিল, আমরা ৫টার দিকে পৌঁছেছি।


রোববার সকাল পৌঁনে ৮টায় সুপারভাইজারের সঙ্গে কথা হয়, তখন তিনি আবার যাত্রী তুলছিলেন শান্তাহার যাওয়ার জন্য। শান্তাহার যাত্রী নামিয়ে ঢাকায় ফিরে ঈদ করবেন তিনি।

শামলী এন আর পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার জামাল হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, গতরাতে যমুনা সেতু ও আমিনবাজার এলাকায় যানজট হয়েছে। কোনো কোনো কোচের যমুনা সেতু পার হতে ৪ ঘণ্টার মতো লেগে গেছে।

;

দুপুরের মধ্যে ৫ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের ৫ জেলার ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। সেইসঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

রোববার (১৬ জুন) দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেয়া এক পূর্বাভাসে এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রংপুর, দিনাজপুর, বগুড়া, ময়মনসিংহ এবং সিলেট জেলার ওপর ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।

তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে আবহাওয়া অফিসের অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

এ অবস্থায় দেশের সব বিভাগে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এর মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। ঝড়বৃষ্টির এ প্রবণতা সপ্তাহজুড়েই অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

;

বোট ক্লাব থেকে পদত্যাগ করলেন বেনজীর আহমেদ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সাভারের বোট ক্লাবের সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। গত ১৩ জুন ক্লাবের উপদেষ্টা রুবেল আজীজের কাছে চিঠি পাঠিয়ে তিনি এ পদ ছাড়েন।

বোট ক্লাবের নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যবসায়ী নাসির ইউ মাহমুদ বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

নাসির বলেন, বোট ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বে থাকা বেনজীর আহমেদ ক্লাবের উপদেষ্টা রুবেল আজীজের কাছে চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন, জরুরি কাজে পরিবারের সঙ্গে তিনি দেশের বাইরে আছেন। যে কারণে তিনি ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না।

নাসির জানান, বেনজীর আহমেদের পদত্যাগের পর রুবেল আজীজকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের ও তার পরিবারের সম্পদ অনুসন্ধান করছিল। তার মধ্যেই গত ৪ মে তিনি সপরিবার দেশ ছাড়েন। তিনি ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি এবং ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত র‍্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন বেনজীর। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবেও দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন।

;

ফেনীতে বজ্রপাতে অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু, ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফেনী
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ফেনীতে দশ মিনিটের কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ সময় বজ্রপাতে রোকসানা আক্তার নামের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও আহত হয়েছেন আরও তিনজন। ঝড়ের কবলে পড়ে মারা গেছে চারটি গবাদিপশু। বিভিন্ন স্থানে গাছপালা উপড়ে পড়ে বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে বেশ কয়েকটি এলাকা। নিহত রোকসানা ছাগলনাইয়া উপজেলার শুভপুর ইউনিয়নের উত্তর মন্দিয়া গ্রামের বাসিন্দা।

শনিবার (১৫ জুন) জেলার ছাগলনাইয়া ও ফুলগাজী উপজেলায় এসব ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের মধ্যে মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে রোকসানা আক্তারের মৃত্যু হয়। একইসময় বজ্রপাতে ফুলগাজী উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী উত্তর জামমুড়া এলাকায় মা-মেয়েসহ তিনজন আহত হয়েছেন। তারা হলেন- ওই এলাকার মো. আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী সামছুন্নাহার (৪২), মেয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থী ফারহানা আক্তার (২১) এবং ভগ্নিপতি মোহাম্মদ মোস্তফা (৫২)।

আহতদের স্বজন মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বজ্রপাতে আহত হয়ে আমার মেয়ে ও স্ত্রী ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। আহত ভগ্নিপতি জামমুড়া গ্রামের বাড়িতে রয়েছে।

এ ছাড়া বজ্রপাত-ঝড়ে ফুলগাজী ও ছাগলনাইয়ায় চারটি গবাদিপশুর মৃত্যু হয়েছে। তারমধ্যে দুপুরে গাছের নিচে চাপা পড়ে ফুলগাজীর বাশুড়া গ্রামে একটি গরু, কোরবানির হাটে নেওয়ার পথে ফুলগাজী বাজারে একটি, বজ্রপাতে মুন্সীরহাট ইউনিয়নের নোয়াপুর গ্রামে একটি গরু ও ছাগলনাইয়ায় একটি মহিষ মারা গেছে।

ফুলগাজীর মুন্সিরহাট এলাকার কৃষক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, অনেক কষ্ট করে কোরবানির ঈদে বিক্রির জন্য গরুটি লালনপালন করেছিলাম। ফুলগাজী বাজারে বিক্রির জন্য বের হলে পথিমধ্যে বৃষ্টি আসলে রাস্তার পাশে গরুটি রেখে আমি পাশে দাঁড়িয়েছিলাম। এমন সময় হঠাৎ বাতাসে গাছ ভেঙে গরুর উপর পড়ে।

এদিকে ঝড়ো হাওয়ায় গাছপালা উপড়ে পড়ে জেলার ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া সড়কে যানচলাচল বন্ধ ছিল। এ সময় ফুলগাজী মহিলা কলেজ সংলগ্ন সড়কে গাছ উপড়ে পড়ে ৫-৭টি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝোড়ো হাওয়ায় বিদ্যুৎ লাইন ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ছাগলনাইয়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা মিরাজুল ইসলাম বলেন, ঝড়ে ছাগলনাইয়ার কালাপুল থেকে রেজুমিয়া পর্যন্ত অন্তত অর্ধশত গাছ উপড়ে ও ভেঙে পড়ে। এতে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে যানচলাচল স্বাভাবিক করে।

ফুলগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খোরশেদ আলম বলেন, দুপুরে ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বৃষ্টির পরিমাণ কম হলেও ঝড়ে বাতাসের বেগ বেশি ছিল। কোথাও কোথাও ভারি বজ্রপাতও হয়েছে।

সায়েম চৌধুরী নামে একজন বলেন, বৃষ্টি হচ্ছিল সাথে বজ্রপাত হয়েছে। ঝড়ো বাতাস ছিলনা। হঠাৎ করে ঝড়ো বাতাস শুরু হয় যা সর্বোচ্চ ১০ মিনিট স্থায়ী ছিল। এরমধ্যে এলাকার বেশ কয়েকটি স্থানে গাছ উপড়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছি।

ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন মজুমদার বলেন, উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বেশকিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারমধ্যে বসন্তপুর, বাশুড়া এলাকায় ১৫টির মতো ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া লাইনে গাছ পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে ফায়ার সার্ভিস ও বন বিভাগের লোকজন কাজ করেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবো।

ফেনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান বলেন, ঝড়ে ছাগলনাইয়া, পরশুরাম ও ফুলগাজীতে বিদ্যুৎ লাইনে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকা এখনো বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সংযোগ স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে।

;