ঘাস বিক্রির টাকায় সংসার চালান ৬০০ দরিদ্র পরিবার



আরিফুল ইসলাম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, টাঙ্গাইল
ঘাস বিক্রির টাকায় সংসার চালায় ৬০০ দরিদ্র পরিবার

ঘাস বিক্রির টাকায় সংসার চালায় ৬০০ দরিদ্র পরিবার

  • Font increase
  • Font Decrease

যমুনা নদীর পানি কমে যাওয়ায় জেগে ওঠেছে অসংখ্য চর। বিস্তীর্ণ এই বালুময় চরাঞ্চলে দু’চোখ যে দিকে যায় শুধু সবুজ ঘাসের সমারোহ। চারদিক শুধু সবুজ আর সবুজ। চরাঞ্চলের ঘাস বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ ও সংসার চালান টাঙ্গাইলের প্রায় ৬ শতাধিক দরিদ্র পরিবার। জেলার ভূঞাপুর, কালিহাতী ও গোপালপুর উপজেলায় বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘাস বেচা-কেনার এমন চিত্র দেখা যায়।

যমুনা চরাঞ্চল এলাকাগুলোতে বরাবরই গো-খাদ্যের সংকট থাকে। যমুনা প্রমত্ত্ব হলে এ সংকট আরও তীব্রতর হয়। অসময়ে পানি বেড়ে নিচু এলাকার জমি ও বাড়ির আঙিনা তলিয়ে যাওয়ায় ওইসব এলাকায় গো-খাদ্যের ব্যাপক চাহিদা দেখা দেয়। গো-খাদ্য সংকটের কারণেই মূলত ঘাস বেচা-কেনা পেশা হিসেবে বেছে নেয় অনেকে।

গোপালপুরের নলিন, ভূঞাপুর উপজেলার কুঠিবয়ড়া, গোবিন্দাসী ফেরি ঘাট, মাটিকাটা, ন্যাংড়া বাজার, সিরাজকান্দী, পাথাইলকান্দি এবং কালিহাতী উপজেলার বেলটিয়া এলাকায় বর্তমানে সকাল-বিকাল বিভিন্ন জাতের ঘাসের হাট বসে। বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারা ওইসব এলাকায় আসেন ঘাস কিনতে।

গরু-ছাগলের খাদ্য হিসেবে পরিচিত ঘাসের মধ্যে নেপিয়ার, দুর্বাঘাস, গর্বাঘাস, কাঠাঁলপাতাসহ আরও অনেক রকমের ঘাস বিক্রি হয়। যমুনার তীর ঘেঁষা ওই বাজারগুলো এক সময় টাটকা মাছের বাজার হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে তা ‘ঘাসের বাজার’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

এসব বাজারে প্রতি আঁটি ঘাস বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। এক আঁটি কাঁঠাল পাতা ২০-৩০ টাকা, দুর্বাঘাস প্রতি আঁটি ৭০-৮০ টাকা, গর্বাঘাস ৮০-১২০ টাকা, নেপিয়ার ঘাস প্রকার ভেদে ৩০-৮০ টাকা আঁটি দরে বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতারা দাম কষাকষি করে চাহিদা মতো ঘাস কিনছেন।

যমুনার তীরঘেষা নলীন বাজারে ঘাস বিক্রি করতে আসা বাসুদেবকোল গ্রামের ছানোয়ার হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে ঘাস বিক্রি করেই আমাদের সংসার চলে। শরৎকাল মৌসুমে চরাঞ্চলে সাধারণত কাজ থাকে না। তাই এ মৌসুমে ঘাস বিক্রি করে দিনে ৪০০-৫০০ টাকা রোজগার হয়। তা দিয়ে কোন রকম সংসার চলে।

গোবিন্দাসী বাজারের ঘাস বিক্রেতা মোতালেব বলেন, আমরা গরিব মানুষ। বর্ষা এলে কাজ না থাকায় ঘাস আর মাছ বিক্রির টাকায় আমাদের সংসার চলে। চলে ছেলে-মেয়েদের পড়ালেখাও। সকালে বাজারে এসে ঘাস বিক্রি করতে পারলে প্রতিদিন নৌকা খরচ বাদে গড়ে ৪০০-৫০০ টাকা উপার্জন করি।


নিকরাইলের ন্যাংড়া বাজারে ঘাস ক্রেতা নাজমুল, শাহজাহান, আরিফ আকন্দসহ অনেকেই বলেন, তাদের ৪-৭টি করে গবাদী পশু রয়েছে। সাধারণত বর্ষা মৌসুমে গো-খাদ্যের সংকট বেশি থাকে। তাই বর্ষা সময়ে চরাঞ্চলের ঘাসই তাদের মূল ভরসা। তারা এ বাজার থেকে নিয়মিত ঘাস কেনেন।

প্রবীণ সাংবাদিক আসাদুল ইসলাম বাবুল বলেন, যমুনা চরাঞ্চলের মানুষের জীবনধারণ আসলে খুব কষ্টের। নদী তীরবর্তী এলাকার গো-খাদ্যের যোগান দিতে মূলত ঘাসের বাজারগুলো গড়ে ওঠেছে। এসব বাজারকে কেন্দ্র করে চরাঞ্চলের অনেক পরিবার জীবিকা নির্বাহ করছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. স্বপন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, বর্ষা মৌসুমে গো-খাদ্যের সংকট দেখা দেয়। সেসময় চরাঞ্চলের অনেক পরিবার চর থেকে বিভিন্ন জাতের কাঁচা ঘাস সংগ্রহ করে স্থানীয় হাট-বাজারে বিক্রি করে। এতে করে তাদের সংসার চলে ও তাদের গবাদি পশুর চাহিাদাও পূরণ হয়। এছাড়াও উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে প্রায় ২০০ খামারি ঘাস চাষ করে নিজেদের চাহিদা পূরণ করেও বিক্রি করে আসছেন।

সমাবেশ ঘিরে নাশকতার চেষ্টা করলে কোনো ছাড় নয়: ডিবিপ্রধান



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

আগামী ১০ ডিসেম্বর রাজধানী ঢাকায় বিভাগীয় গণসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। দলটির এই সমাবেশ ঘিরে কোনো নাশকতার চেষ্টা হলে ছাড় দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবিপ্রধান) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

রোববার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার।

মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় গণসমাবেশ রয়েছে বিএনপির। সেখানে অনেক পুলিশ সদস্য থাকবেন, কাজ করবেন। সেখানে কোনো তৃতীয় পক্ষ কিংবা অসাধুচক্র যেন কোনো সমস্যা করতে না পরে সেই জন্য কাজ করছি আমরা। কেউ রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করছে কিনা, সেই ব্যাপারেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

ডিবিপ্রধান বলেন, সমাবেশের আগে সমাবেশস্থলে এসে দলটির নেতাকর্মীদের জড়ো হওয়ার সুযোগ নেই। এমন কিছু হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইনি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তিনি আরও বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল যদি কর্মসূচি পালন করে, তা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ। বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে সেভাবেই কাজ করছি আমরা। এরপরও কেউ যদি নাশকতা বা কোনো বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করে তাহলে তাকে ছাড় দেব না আমরা।

;

বালিয়াকান্দিতে অনুমোদনহীন কীটনাশক জব্দ, দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বালিয়াকান্দিতে অনুমোদনহীন কীটনাশক জব্দ, দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ

বালিয়াকান্দিতে অনুমোদনহীন কীটনাশক জব্দ, দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ

  • Font increase
  • Font Decrease

রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দিতে অনুমোদনহীন দোকানে অভিযান চালিয়ে ৩০ হাজার টাকার কীটনাশক জব্দ ও দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন উপজেলা কৃষি অফিস।

রো্ববার (৪ ডিসেম্বর) একজন কৃষকের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিকালে অভিযান চালান উপজেলা কৃষি অফিসার রফিকুল ইসলাম।

অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের খোদ্দমেগচামীর সার ব্যবসায়ী কামরুল হাসানের দোকানে অভিযান চালালে তার দোকান বন্ধ পাওয়া যায। পরবর্তীতে ভীমনগর বাজারে অভিযান চালান  কামরুল শেখের দোকানে। কামরুল শেখের কীটনাশকের দোকান অনুমোদন না থাকায়  মালামাল জব্দ করেন উপজেলা কৃষি অফিসার।

সেখানে ভেজাল কীটনাশক পাওয়ায় ও দোকানের রেজিস্ট্রেশন না থাকায়  দোকানটি পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখারও নির্দেশ প্রদান করেন তিনি। এ সময়  উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা শেখ আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

;

রংপুরে দুই পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে বাড়ি দখলের চেষ্টা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রংপুুুর
রংপুরে দুই পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে বাড়ি দখলের চেষ্টা

রংপুরে দুই পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে বাড়ি দখলের চেষ্টা

  • Font increase
  • Font Decrease

 

রংপুর নগরীর ধাপ জেল রোড এলাকায় একটি বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায মামলা দায়ের হলে ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে স্ব শরীরে আদালতে হাজির হবার জন্য সমন জারির আদেশ দিয়েছেন রংপুরের চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এফ এম আহসানুল হক। মামলা দায়েরের পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন বাদী নাজনীন নাহার ও তার পরিবার।

মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রায় ৩২ বছর থেকে রংপুর নগরীর ধাপ জেএল রোড এলাকায় বাদী নাজনীন নাহার বেগম ৭দশমিক ৭৯ শতাংশ জমিতে তৃতীয় তলা ভবন নির্মাণ করেন। ভবনের নিচতলায় ঔষধের দোকান, ইলেক্ট্রনিক্স দোকান ও দ্বিতীয় তলায় ডায়াগনষ্টিক সেন্টার ভাড়া দিয়ে তৃতীয় তলায় বাদিনী নিজে স্বপরিবারে বসবাস করে আসছেন। গত ৪ নভেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটান পুলিশে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান খান,কর্মকর্তা আহসানুজ্জামানসহ অন্যান্য আসামিরা বাড়িতে প্রবেশ করে ওই বাড়ি কেনার জন্য বায়না দলিল করেছেন বলে দাবি করেন। বাদী নাজনীন নাহার ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জানায় তারা কোন জমি বিক্রি করার উদ্দেশ্যে বায়না করেনি। এ কথা বলার সাথে সাথে আসামি আহসান খানের হুকুমে অন্যান্য আসামিরা বাদিনীর পরিবারের উপর চড়াও হয় এবং সকলকে মারধর করে। এ সময় আসামিরা সোনার গহনা ছিনিয়ে নেয় এবং লক্ষাধিক টাকার মালামাল ভাংচুর করে ক্ষতিসাধন করে। তারা বাদিনী ও তার স্বজনদের হুমকি দেয় এই জমি তারা কেনার জন্য বায়না দলিল রেজিস্ট্রারি করেছে। এ জায়গা ছেড়ে দিয়ে অনত্র চলে না গেলে বাড়ির সকলকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হবে বলে হুমকি দিয়ে চলে যায়।

এ ঘটনায় বাদী ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে পুলিশ এসে ঘটনা প্রত্যক্ষ করে। পরে পুরো বিষয়টি লিখিত আকারে ধাপ পুলিশ ফাঁড়ি ও মেট্রোপলিটান কোতয়ালী থানায় অভিযোগ করা হয়। কিন্তু পুলিশ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। পরে বাদিনীর জবানবন্দি গ্রহণ করে ১০ আসামির বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করে তাদের আদালতে হাজির হবার জন্য সমন জারির আদেশ দেন।

এবিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা আহসান খান বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। আমরা কয়েকজন মিলে জমিটির ক্রয় করার উদ্দেশ্যে প্রকৃত মালিকের সাথে বায়না দলিল সম্পূর্ণ করেছি। জমি দখলের সাথে আমাদের কোন সম্পর্ক নাই।

;

রংপুরে নকল বীজ আলু উদ্ধার, ৬০ হাজার টাকা জরিমানা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
রংপুরে নকল বীজ আলু উদ্ধার, ৬০ হাজার টাকা জরিমানা

রংপুরে নকল বীজ আলু উদ্ধার, ৬০ হাজার টাকা জরিমানা

  • Font increase
  • Font Decrease

রংপুরে নকল বীজ আলু হিমাগারে সংরক্ষণের অভিযোগে এপোলো ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

রোববার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে রংপুর নগরীর কিষাণ হিমাগারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন রংপুর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আরিফ। এ সময় জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তাসহ মেট্রোপলিটন পুলিশ সদস্যরা সহযোগীতা করেন।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলমান আলু মৌসুমকে টার্গেট করে নকল আলু বীজ নিয়ে প্রতারণায় নেমেছে একটি প্রতারক চক্র। চক্রটি সুপ্রীম সীডের বীজ আলুসহ কয়েকটি কোম্পানীর নাম ব্যবহার করে খাবার আলুতে নকল ট্যাগ লাগিয়ে প্যাকেটে ভরে হিমাগারে রেখে এ ব্যবসায় করে আসছিল। নগরীর কিষাণ হিমাগারের বারান্দায় খাবার আলু বস্তায় ভরে সুপ্রিম সিড বীজ আলুর ট্যাগ লাগিয়ে সংরক্ষণ করার সময় হাতে নাতে আটক করা হয়।

এ সময় নকল বীজ আলু সংরক্ষণ ও ব্যবসার সাথে জড়িত এপোলো ট্রেডার্সকে ভোক্তা অধিকার আইনে ৬০ হাজার টাকা জরিমানাসহ নকল বীজ আলু উদ্ধার করা হয়।

এদিকে একই দিনে লালবাগ বাজারে রংপুর চাষি ঘরকে মেয়াদোত্তীর্ণ বীজ বিক্রয়ের অপরাধে ভোক্তা অধিকার আইনে দেড় হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আরিফ বলেন, আলুর মৌসুমকে টার্গেট করে একটি চক্র এই নকল বীজ আলুর ব্যবসা করার চেষ্টা করছে। প্রতারকদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

;