মোংলায় মেট্রোরেলের দ্বাদশ চালান



উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, মোংলা (বাগেরহাট)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

মেট্রোরেলের দ্বাদশ চালানে ৮টি কোচ ও ৪টি ইঞ্জিন নিয়ে মোংলা বন্দর জেটিতে ভিড়েছে বিদেশি জাহাজ এমভি ভেনাস ট্রাম্প।

শনিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে ভিড়ে জাহাজটি। জাহাজটিতে মেট্রোরেলের মেশিনারিসহ একটি পাওয়ার প্লান্টের মেশিনারি পণ্যও রয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এম মুসা জানান, ৮টি রেলওয়ে কোচ ও ৪টি ইঞ্জিন নিয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর জাপানের কোবে বন্দর থেকে ছেড়ে আসে পানামা পতাকাবাহী জাহাজ এমভি ভেনাস ট্রাম্প। পথিমধ্যে কোরিয়ার মারসান বন্দর থেকে একটি পাওয়ার প্লান্টের মেশিনারি পণ্য নিয়ে আসে জাহাজটি। মেট্রোরেলের কোচ ও ইঞ্জিনের পাশাপাশি ৪৪০ মেট্টিক টন ওজনের মেশিনারি ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি লিমিটেডের ৩৬৭ মেট্টিক টন ওজনের ৭৫ প্যাকেজ মেশিনারি পণ্য নিয়ে ভেনাস ট্রাম্প বিকেল ৫টায় বন্দরের ৮ নম্বর জেটিতে ভিড়ে।

ভেনাস ট্রাম্পের স্থানীয় শিপিং এজেন্ট এনশিয়েন্ট স্টিম শিপ কোম্পানির ব্যবস্থাপক মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এ জাহাজটিতে আসা কোচ ও ইঞ্জিন রোববার সকাল ৭টা থেকে খালাস শুরু হবে। খালাসের সঙ্গে সঙ্গেই তা বার্জে (নৌযান) করে নৌপথে ঢাকার উত্তরার দিয়াবাড়ি মেট্রোরেলের ডিপোতে নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, জাহাজটিতে ঢাকার পাওয়ার গ্রিড কোম্পানী লিমিটেডের বৈদ্যুতিক মেশিনারি পণ্য এসেছে তা সন্ধ্যা ৬টা থেকে খালাস শুরু হয়েছে। এগুলো নদীপথে ঢাকায় নেওয়া হবে।

ওয়াহিদুজ্জামান জানান, গত ২২ আগস্ট ৮টি রেলওয়ে কোচ ও ৪টি ইঞ্জিনসহ ৩৪ প্যাকেজ মেশিনারি পণ্য নিয়ে এমভি হোসি ক্রাউন এ বন্দরে এসেছিলো। এ পর্যন্ত মেট্রোরেলের ৭৮টি কোচ ও ৩৮টি ইঞ্জিন এসেছে। বাকি ২৮টি কোচ ও ইঞ্জিন ধারাবাহিকভাবে এ বন্দর দিয়েই আমদানি, খালাস ও পরিবহন হবে বলে জানান তিনি।

কোটা আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, বরিশাল
ছবি: কোটা আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ

ছবি: কোটা আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বরিশালে বিক্ষোভ

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা আন্দোলনের নামে স্বাধীন দেশকে অচল করতে জনসাধারণকে জিম্মি এবং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসাবে চিহিৃত করার ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড বরিশাল মহানগর কমিটির নেতাকর্মীরা।

সোমবার (১৫ জুলাই) বিকেলে বরিশাল নগরীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড বরিশাল মহানগর কমিটির নেতাকর্মীরা।

পরে তারা নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে গিয়ে সমাবেশ করে। সমাবেশে ৩০ লক্ষ শহীদের রক্তে রাঙানো জাতীয় পতাকা পদদলিত, মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটুক্তি, বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাজপথে লাঞ্ছিতের প্রতিবাদ জানানো হয়।

মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের আহ্বায়ক শেখ সাঈদ আহমেদ মান্না সভাপতিত্বে বক্তৃতা দেন, বরিশাল সদর উপজেলার সাবেক কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব, মহিউদ্দিন মানিক (বীর বিক্রম), শাজাহান হাওলাদার, আনসার উদ্দিন হাওলাদার, গিয়াস উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড সিনিয়র সদস্য খান মাহিদ, মো. ফয়সাল, ঝালকাঠি আহ্বায়ক মো. শামীম, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ প্রমুখ।

;

চিকিৎসা ব‍্যয় মেটাতে দরিদ্র হচ্ছে ৬১ লাখ মানুষ



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন/ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন/ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চিকিৎসা ব‍্যয় মেটাতে দেশের ৬১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। যা মোট দারিদ্র্যের ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ৬১ শতাংশ মানুষ অর্থ সংকটে পড়েছে এবং ২৭ শতাংশ ঋণ নিয়েছেন।

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) "বিপর্যয়কর স্বাস্থ্য অভিঘাতের ফলে বাংলাদেশে দারিদ্র্য" শীর্ষক গবেষণায় এসব তথ‍্য উঠে এসেছে।

সোমবার (১৫ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিআইডিএস কনফারেন্স রুমে বাংলাদেশ পারিবারিক আয় ব্যয় জরিপের ২০২২ (হেইজ) ভিত্তিতে এই গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির রিসার্চ ফেলো ড. আব্দুর রাজ্জাক।

বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্য সেবা মেটাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ খরচ করতে হয় বাংলাদেশে। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য সেবার ৭৩ শতাংশ ব্যয় মানুষের পকেট থেকে মেটাতে হয়। শুধুমাত্র আফগানিস্তানে এ খরচ বাংলাদেশের থেকে বেশি ৭৭ শতাংশ। অন্যদেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তানে ৫৭ শতাংশ, নেপালে ৫১ শতাংশ, ভারতে ৪৯ শতাংশ, ভুটানে ১৮ শতাংশ এবং মালদ্বীপে খরচ হয় ১৪ শতাংশ।

অন্যদেশগুলোর তুলনায় খরচ বেশি হলেও জিডিপিতে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ সবচেয়ে কম। জিডিপিতে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ মাত্র ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ। যেখানে আফগানিস্তানে বরাদ্দ ২১ শতাংশ। মালদ্বিপে বরাদ্দ ১০ শতাংশ। একারণে চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশের মানুষকে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হয়। ক‍্যান্সার চিকিৎসায় ৬ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা পযর্ন্ত ব‍্যয় করতে হয়‍ বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, একটি পরিবারের একজন সদস্য হাসপাতালে ভর্তি হলে গড়ে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়। আর এ খরচের প্রায় প্রায় ২৫ শতাংশ ওষুধের পেছনে ব্যয় হয়। হাসপাতালে ভর্তি না হওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে ৫৪ শতাংশ ওষুধের পেছনে ব্যয় হয়। আর এসব ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়তে হয়। স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বহন করতে সঞ্চয় ভেঙ্গে, ঋণ করে এবং সম্পদ বিক্রি করছে অধিকাংশ মানুষ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঋণ করে স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় বহন করতে হয় ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ মানুষের। ৩২ দশমিক ৫৮ শতাংশ খরচ করে সঞ্চয় ভেঙ্গে। বন্ধু-বান্ধবের কাছ সহায়তা নেয় ১৮ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আর ১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সম্পদ বিক্রি করে দিতে হয়।

প্রতিবেদনে মানুষের স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমাতে ইন্স্যুরেন্স ব্যবস্থা প্রণয়নের পরামর্শ দেন বিআইডিএসের গবেষক ড. আব্দুর রাজ্জাক সরকার। গত কয়েক বছর ধরে দেশে ওষুধের দাম বাড়ছে বলেও তিনি জানান।

বিনায়েক সেন বলেন, দেশে স্বাস্থ্য বীমা চালু করা প্রয়োজন। যেখানে মালিকপক্ষ তার কর্মীদের স্বাস্থ‍্য সেবার জন‍্য অর্থ দেবে। তাহলে চিকিৎসা ব‍্যয় অনেক কমে যাবে। জার্মানিতে ইউনিভার্সাল হেল্থ কেয়ার নিতে ১২৭ বছর লেগেছিল। ভারত ও চায়নার ৪০ শতাংশ মানুষ স্বাস্থ‍্য বীমার আওতায় এসেছে। এসব দেশে বীমার আওতায় আনতে ১২ বছর সময় লেগেছে।

স্বাস্থ‍্যমন্ত্রী বলেন, গ্রামাঞ্চলে এবং প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করাটাকে আমি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আমরা যদি ব্লাড প্রেসার, ডায়াবেটিসের যথাযথ চিকিৎসা এবং ওষুধ দিতে পারি তাহলে ঢাকা শহরে এত বড় বড় বিশেষায়িত হাসপাতালের দরকার হবে না।

এন্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, প্রেসক্রিপশন ছাড়া সামান্য সর্দি জ্বর হলেই এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করা হচ্ছে। এন্টি মাইক্রোবিয়াল রেসিস্টেন্ট ভয়ানক একটা জিনিস। এ প্রসঙ্গে আমি বলব, ডিজি ড্রাগকে আরও শক্ত হতে হবে। ফার্মেসিতে গিয়ে কঠোরভাবে মনিটরিং করতে হবে। প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এন্টিবায়োটিক বিক্রি বন্ধে আমরা ডিজিটাল প্রেসক্রিপশন সিস্টেম চালু করার চেষ্টা করছি। ইলেকট্রনিক প্রেসক্রিপশন সিস্টেম যদি চালু করা যায় তাহলে যথাযথ মনিটরিং করা সম্ভবপর হবে। ওষুধের যথেচ্ছ এবং মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আমি মন্ত্রী হবার মেয়াদ মাত্র ছয় মাস। এই ছয় মাসে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন নিয়ে আমি অন্তত সাতটি সভা করেছি। আমি যেভাবেই হোক এটা মহান জাতীয় সংসদ নিয়ে যাব। কারণ, রোগী এবং চিকিৎসক উভয়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করাটা আমার দ্বায়িত্ব।

স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা মোকাবিলায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সামন্ত লাল সেন আরও বলেন, স্বাস্থ্যখাতের সমস্যা নিরসনে আমাদের একযোগে কাজ করতে হবে। এ ব্যাপার জনমত তৈরি করতে হবে। সাংবাদিক ভাইদের সহযোগিতায় এবং সৃষ্ট জনমতের কারণে পাঁচ বেড থেকে পাঁচশ’ বেডের বার্ন হাসপাতাল তৈরি করা সম্ভব হয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে পৃথিবীর সর্ববৃহৎ বার্ন হসপিটাল। একটা রোগীও বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছে না। রোগীরা আইসিইউতেও পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাচ্ছে, স্থান সংকুলান হচ্ছে যেটা আগে সম্ভব ছিল না।

;

হলের ফেরার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান, দালাল বলে স্লোগান



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ফেরার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

ফেরার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা

  • Font increase
  • Font Decrease

শহীদুল্লাহ্ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক জাবেদ ইসলাম পাটোয়ারীর হলে ফেরার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এ সময় হল প্রভোস্টকে উদ্দেশ্য করে দালাল দালাল ও ভুয়া বলে স্লোগান দেয় আন্দোলনরতরা।

সোমবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রলীগের সাথে কয়েক দফা সংঘর্ষ শেষে হলে ফিরতে শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করেন হল প্রভোস্ট।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১২টার দিকে ঢাবির রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ১টার দিকে তারা অবস্থান নেওয়া শুরু করেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভে যোগ দেন।

বিকেল ৩টার দিকে বিজয় একাত্তর হলে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে তা পুরো ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ছত্রলীগের নেতাকর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। এতে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে ১৫ বারেরও বেশি ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।

সন্ধার পর ছাত্ররা হল থেকে বের হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

;

গাইবান্ধায় হঠাৎ নগদ ও বিকাশে ঢুকছে কিসের টাকা!



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, গাইবান্ধা
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

গাইবান্ধায় হঠাৎ একাধিক নগদ ও বিকাশ একাউন্টে ঢুকছে টাকা। কোথায় থেকে, কে বা কারা এসব টাকা পাঠাচ্ছে জানা নেই মোবাইল ব্যবহারকারীদের। মোবাইলে হঠাৎ এভাবে টাকা আসার ঘটনায় কেউ কেউ উল্লাসিত হলেও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বেশিরভাগ সচেতন ব্যবহারকারীরা। টাকা পাঠানো ওই সকল নম্বরে কল করেও কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না।

গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের আকন্দ পাড়ায় সরেজমিনে জানা যায়, মোবাইলে ব্যাংকিং নগদ ও বিকাশ একাউন্টধারী ব্যবহারকারীর অন্তত ১২ জনের মোবাইলে এসেছে এক হাজার ৫০০ টাকা করে। এসব টাকা গত ৬ তারিখ থেকে বিভিন্ন সময়ে তাদের নদগ ও বিকাশে আসতে থাকে। যে টাকা খরচও করেছেন কেউ কেউ। তবে, টাকা পেয়ে কেউ কেউ উল্লাসিত হয়ে খরচ করলেও অনেকেই হঠাৎ এমনভাবে টাকা আসার ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

এ সময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার এক যুবক জানান, "গত ৬ জুলাই আমার বিকাশ একাউন্টে ১৫০০ টাকা আসে। আমি ভেবেছিলাম কেউ পাঠাইছে হয়তো, পরে জানাবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ যোগাযোগ করেনি। আমি টাকা তুলে খরচও করেছি"। এ সময় ওই যুবক আরো বলেন, টাকা পাঠানো নম্বরে ফোন দিয়েছিলাম। কল ঢুকেনি।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে ওই এলাকার অপর একজন জানান, "আমার নগদ একাউন্টে হঠাৎ করে দেড় হাজার টাকা আসে। আমার সাথে টাকা লেনদেন করে এমন ব্যক্তিদের সাথে আমি যোগাযোগ করেছি, তাদের কেউ পাঠায়নি বলে নিশ্চিত হয়েছি।

পরে হঠাৎ এক সপ্তাহ পড়ে জানতে পারি শুধু আমার না, এই এলাকার অন্তত ১০ থেকে ১৫ জনের মোবাইলে এই টাকা এসেছে। কিন্তু কার টাকা, কিসের টাকা আর কেনইবা এভাবে আমাদের মোবাইলে আসলো বিষয়টি নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন মোবাইল ফোনে বলেন, যদি বিকাশে এসব টাকা আসে তাহলে এটা নিশ্চিত যে, ওই টাকা সমাজসেবার নয়। কারণ, গাইবান্ধায় সকল ভাতার টাকা নগদে দেওয়া হয়, বিকাশে নয়।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম বলেন, ওই ভাবে এ বছর আমাদের অফিস থেকে কোনো টাকা কৃষকদের দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা আবু সাঈদ বলেন " আমরা মার্তৃকালীন একটা ভাতা দিয়ে থাকি। সেটি প্রতিমাসে ৮০০ টাকা করে। কিন্তু এভাবে সবার একাউন্টে যাবে এমনটা নয়।

এ বিষয়ে গাইবান্ধার সহকারী পুলিশ সুপার (বি সার্কেল) আব্দুল্লাহ আল মামুন মুঠোফোনে বার্তা২৪.কমকে বলেন, " আসলে এসব বিষয়ে তদন্ত না করে কিছু বলা মুশকিল। তবে তিনি জানান, এরকম ব্যাপারে প্রতারক চক্র হতে সবাইকে সাবধান থাকতে হবে। কারণ তারা এভাবে টাকা পাঠিয়ে পরে কোনো এক নম্বরে ফোন করে প্রতারণার ফাঁদ পাততে পারে। এ সময় প্রলোভনে পরে যাতে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এজন্য সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

;