ঘি খেলে মোটা হবেন নাকি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী!



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আমাদের মধ্যে খুব প্রচলিত একটি ভুল ধারণা হলো যে, ঘি খেলে মানুষ মোটা হয়। তাই, ওজন কমানো কিংবা ডায়েটের প্রসঙ্গ এলেই খাদ্যতালিকা থেকে প্রথমেই বাদ পড়ে ঘি। বেশিরভাগ মানুষই বিশ্বাস করেন যে, ঘি খেলেই মানুষ মোটা হয়। কিন্তু আসলে কি তাই!

মূলত ঘি ওজন বৃদ্ধির সাথে জড়িত নয়। এটা সত্য যে, ঘি-য়ে উচ্চমাত্রার ক্যালোরি ও স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। কিন্তু এটি অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার জন্য উপকারী এবং পরিপাকনালীর স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে এবং ওজন কমতে সাহায্য করে। এতে রয়েছে, বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান যা, আমাদের অন্ত্র, ত্বক এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ায়। ঘাস খাওয়া গরু থেকে উৎপন্ন ঘি-য়ে কঞ্জুগেটেড লিনোলেনিক অ্যাসিড (সিএলএ) থাকে যা, ওজন বাড়তে নয় বরং কমাতে সাহায্য করে। তাই, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হলে বিভিন্ন খাবার এবং পানীয়তে প্রচুর পরিমাণ ঘি মেশানো যেতেই পারে।

পশ্চিমারা কীভাবে এবং কেন আমাদের ঘি-য়র প্রেমে পড়েছিল এবং আমাদেরই-বা কেন ভুল বোঝানো হয়েছিল

মানুষের মাঝে ঘি নিয়ে প্রচলিত কিছু মিথ রয়েছে, যা মূলত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সৃষ্ট। বৈদেশিক বাজার ধরার উদ্দেশ্যে প্রতিনিয়তই ঘি সম্পর্কে ভুল বোঝানো হয়েছে ভোক্তাদের। বলা হয়ে থাকে, ঘি স্যাচুরেটেড ফ্যাট। ঘি ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়ায়। ঘি হার্টের জন্য খারাপ। দুধ থেকে ঘি তৈরি হয়। ঘি এই, ঘি সেই কতকিছু! 

কিন্তু এসব তথ্যের বেশিরভাগই ভোক্তাদের ভুল বোঝানোর জন্য ছড়ানো হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘায়ু বিষয়ে এক সম্মেলনে ঘি-য়ের কার্যকারিতা তুলে ধরা হয়। ভারত এবং অন্যান্য যেসব দেশ সারাবিশ্বে ঘি সরবরাহ করে, সেসব দেশকে ধন্যবাদ দেওয়া হয়। মূলত, এমন কোনো শারীরিক কার্যকারিতা নেই যা, ঘি করে না!

মূলত ঘি-য়ে বহুমুখী কার্যকারিতা বিবেচনাতেই দীর্ঘায়ু ধরে রাখতে ঘি-য়ের প্রেমে পড়েছে পশ্চিমারা। ঘি-য়ের উল্লেখযোগ্য কিছু উপকারিতা হলো:

১. ঘি-য়ের একটি অনন্য কার্বন গঠন রয়েছে, যা এটিকে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের বিপরীত করে তোলে। এতে রয়েছে, কনজুগেটেড লিনোলিক অ্যাসিড (সিএলএ)। এটি পেটের চারপাশের একগুঁয়ে চর্বি কমায়।

২. ঘি-তে লাইপোলিটিক থাকে, যা রক্তে লিপিড বাড়ায় এবং কোলেস্টেরল কমায়। ঘি-য়ের উপাদান ফ্যাটি অ্যাসিড এবং ভিটামিন যেমন ইএনডি হার্টের জন্য সেরা এবং রক্তচাপ নিম্নমুখী হয়।

৩. ঘি দুধ থেকে তরল অংশ এবং দুধের কঠিন পদার্থ অপসারণ করে তৈরি করা হয়। তাই ঘি খেলে থাইরয়েড ফাংশনের অবস্থান ঠিক থাকে এবং গর্ভবতী নারীদের পুষ্টি ঘাটতি পূরণসহ বহুমুখী উপকার হয়।

৪. ঘি অ্যালার্জির নিরাময় করে এবং গ্লিসেমিক ইনডেক্স কমায়।

৫. ঘি দিয়ে খাবার রান্না করাও স্বাস্থ্যসম্মত। ঘি দিয়ে আপনি রান্না করতে পারেন। তেলের পরিবর্তে ঘি ব্যবহার করুন। ঘি-য়ের স্মোকিং পয়েন্ট অন্য তেলের চেয়ে বেশি। তাই, এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ফ্রি র‍্যাডিকেল উৎপন্ন করে না। তেল বা চর্বির স্মোকিং পয়েন্ট হচ্ছে, তাপমাত্রার সুনির্দিষ্ট অবস্থা, যেখানে তেল থেকে ক্রমাগত নীলাভ ধোঁয়া উৎপন্ন হয়, যা স্পষ্টত দৃশ্যমান হয়। 

৬. গ্লুকোজ স্পাইক হ্রাস করে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস ব্যবহার করে রক্তনালীর এন্ডোথেলিয়াল স্তর রক্ষা করে। এথেরোস্ক্লেরোসিস প্রতিরোধ করে।

৭.  ঘি হলো অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও একটি অ্যান্টি-ভাইরাল, যা প্রায়ই অসুস্থতা থেকে শরীরকে পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।

৮. এটি একটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ত্বককে অ্যান্টি-রিঙ্কেল এবং অ্যান্টি-এজিং করে সৌন্দর্য বাড়ায়। সুস্বাস্থ্যের জন্য লুব্রিকেন্ট (অক্সিজেনেট) হিসেবেও কাজ করে ঘি।

৯. মেরুদণ্ড খাঁড়া ও মজবুত রাখে। পেহেলওয়ানদের প্রতিদিন এক লিটারেরও বেশি ঘি খেতে বলা হয়।

১০.  এছাড়াও মস্তিষ্কে নতুন পুষ্টি সরবরাহ করে ঘি। স্মৃতিশক্তি ধরে রাখার জন্য ঘি গুরুত্বপূর্ণ। ঘি-তে থাকা লেপটিন হরমোন পূর্ণতার অনুভূতি দেয়।

১১. নিয়মিত এবং পরিমিত পরিমাণে ঘি খেলে রাতে ভালো ঘুম হয়।

যে ধরনের ঘি খেতে হবে

ঘরে তৈরি দেশি গরুর দুধের ঘি গ্রহণ স্বাস্থের জন্য বেশি উপকারী। তারপর দেশি মহিষ থেকে তৈরি ঘি-কে প্রাধান্য দেওয়া যেতে পারে। ঘি খাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে, সবজি রান্নার সময় ঘি ব্যবহার করা। ঘি-য়ের স্মোকিং পয়েন্ট অনেক বেশি হওয়ায় বিভিন্ন খাবার ভাজার জন্যও ঘি ব্যবহার করা যেতে পারে। চাপাতি বা রুটির ওপর ছড়িয়ে দিয়ে বা ভাতের সাথে মিশিয়েও ঘি খাওয়া যায়।

অনেক আয়ুর্বেদ অনুশীলনকারী বিশ্বাস করেন যে, মাখনের চেয়ে ঘি শরীরের জন্য ভালো। তবে এর স্বাস্থ্য উপকারিতা থাকা সত্ত্বেও সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করতে হবে। ডায়াবেটিস বা উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলের সমস্যা থাকলে ঘি গ্রহণ করা এড়িয়ে চলা উচিত। 

 

 

   

এসিও চলছে, পাল্লা দিয়ে সর্দি কাশিও বাড়ছে! জেনে নিন ঘরোয়া উপায়



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রচন্ড তাপপ্রবাহে অতিষ্ট হয়ে উঠছে জনজীবন। এই গরমে শীতল হাওয়ার ছোঁয়া পেতে অনেকেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি ব্যবহার করেন। কিন্তু বাইরে প্রচন্ড গরমে ঘাম আবার অফিসে এসির ঠান্ডায় সর্দি কাশি পিছু ছাড়ে না। ওষুধ, কফ সিরাপ, অ্যান্টিবায়োটিকসহ সব রকম ভাবে চেষ্টা চালিয়েও কাশি থামছে না কিছুতেই। কাশি এক বার শুরু হলে, তা সহজে সারতে চায় না।

এদিকে কাশি হচ্ছে বলে এসি বন্ধ করে পুরো অফিসের লোকজনকে ঘামতেও বলা যায় না। আশপাশে যারা বসছেন, তাদেরও অস্বস্তি হচ্ছে। এ অবস্থায় কাশি কমানোর কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে। সেগুলো মেনে চললে উপকার পেতে পারেন।

১) লবণ পানিতে গার্গল:

কাশির দাপট নিয়ন্ত্রণে রাখার সবচেয়ে ভাল উপায় হল গরম পানিতে সামান্য লবণ দিয়ে গার্গল করা। সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে দুইবার গার্গল করতেই হবে। প্রয়োজনে আরও বেশি বার করা যেতে পারে।

২) মধু, তুলসীপাতা এবং গোলমরিচ:

প্রতি দিন এক চামচ করে এমনি মধু খেতে পারেন। আবার এক চামচ মধুর সঙ্গে তুলসীপাতার রস এবং এক চিমটি গোলমরিচের গুঁড়ো মিশিয়ে খেতে পারেন। গলায় কোনও রকম সংক্রমণ হলে তা সেরে যাবে এই উপায়ে।


৩) হলুদ এবং দুধ:

রান্নাঘরের অপরিহার্য উপকরণ হল হলুদ। এতে রয়েছে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। বিশেষ করে গরম দুধে হলুদ মিশিয়ে খেলে রোগ প্রতিরোধ শক্তি বাড়িয়ে তোলে। প্রতি দিন রাত্রে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস গরম দুধে হলুদ মিশিয়ে খেলে ঠান্ডা লাগা এবং সর্দি-কাশির সমস্যা থেকে দ্রুত রেহাই মিলতে পারে।

৪) গরম পানির ভাপ:

ঠান্ডা লাগলে চিকিৎসকেরা প্রথমেই ভাপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। গলায় জমে থাকা মিউকাস তাপের সংস্পর্শে বাইরে বেরিয়ে আসে। তবে শুধু গরম পানিতে ভাপ না নিয়ে তার মধ্যে লবঙ্গ কিংবা ইউক্যালিপটাস অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন।

তথ্যসূত্র- আনন্দবাজার পত্রিকা

;

রেকর্ড ভাঙবে তাপমাত্রা, জেনে নিন গরম থেকে রক্ষার উপায়!



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
রেকর্ড ভাঙবে তাপমাত্রা, জেনে নিন গরম থেকে রক্ষার উপায়!

রেকর্ড ভাঙবে তাপমাত্রা, জেনে নিন গরম থেকে রক্ষার উপায়!

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছরের শুরু থেকেই আবহাওয়া অধিদপ্তর জানাচ্ছে এবার তাপমাত্রা আগের সব রেকর্ড ভাঙবে। ইতোমধ্যেই তাঁর প্রভাব দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে দেশবাসীর বেহাল দশা। কোন না কোন কাজে সকলকেই বাড়ির বাইরে যেতেই হচ্ছে। তাই বাইরের গেলে নিজেকে রোদ থেকে রক্ষা করতে হবে।  জেনে নিই, যেভাবে এই গরমেও নিজেকে গরম থেকে রক্ষা করবেন-

পানি: নিজেকে সুস্থ রাখতে পানির কোন বিকল্প নেই। রোগ থেকে বাঁচতে হোক অথবা নিজেকে সুস্থ রাখতে, সবসময় পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। প্রচণ্ড তাপে নিজেকে রক্ষা করতে চাইলে কোন ভাবেই পানি পান করা বাদ দেওয়া যাবে না। তেষ্টা না পেলেও পানি পান করতে হবে। দিনে অন্তত ৮ গ্লাস বা তারও বেশি পানি পান করুন।

এছাড়াও, প্রতিবার বাইরে যাওয়ার সময় অবশ্যই পানি সাথে রাখা প্রয়োজন। বিকল্প হিসেবে পানিসমৃদ্ধ ফল বা সবজি খেতে পারেন। যেমন- আপেল, তরমুজ, শসা, আপেল, পেয়ারা ইত্যাাদি।

পোশাক: বাইরে গেলে রোদের সরাসরি সংস্পর্শে আসার কারণে গরম অনেক বেশি লাগে। তাই বাইরে যাওয়ার সময় ঢিলাঢালা পোশাক পরা উচিত। এছাড়াও,কম ওজনের কাপড় ব্যবহার ক্রুন। যেমন, সুতি বা লিনেন। এছাড়াও, হাল্কা রঙের পোশাক বাছাই করা উচিত। কেননা, গাঢ় রঙ তাপ বেশি শোষণ করে বিধায় গরম বেশি লাগে।

রোদ আড়াল করা: যখন বাইরে যাবেন, নিজেকে যথাসম্ভব ছায়ায় রাখুন। সঙ্গে ছাতা রাখুন, যেন ত্বক রোদের সংস্পর্শে না আসে। 

গোসল: গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করতে হবে। এতে ফ্রেশ লাগে, তাছাড়া অনেক্ষ্ণ শরীর থাকে।

গাছ: বাড়িতে থাকলে তুলনামূলকভাবে গরম কম লাগে। তবে ঘরের পরিবেশ ঠান্ডা রাখতে চাইলে বাড়িতে বেশি করে গাছ লাগান। গাছ থাকলে পরিবেষ প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা হয়।

তথ্যসূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

;

গরমে চুলের যত্ন নিন ঘরে বসেই



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সারাদেশে চলছে তীব্র তাপদাহ। গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। এই গরমে মাথা ঘেমে চুল ভেজা থাকায় অনেকেই বিরক্ত থাকেন। ঘামে ভিজে চুলের অবস্থাও নাজেহাল হয়ে যায়। অনেক সময় চুলপড়া বেড়ে যায় গরমে। তাই চুলের বাড়তি যত্ন দরকার হয় এই মৌসুমে।

অনেকেই চুলের যত্ন নিতে নিয়মিত পার্লারে যান। এতে করে সময় এবং অর্থ দুই ব্যয় হয়। অনেকের সময় সুযোগ হয়ে ওঠে না নানা ব্যস্ততায়। তাই সময় এবং টাকা বাঁচিয়ে চুলের যত্ন নিন ঘরে বসেই। 

কীভাবে চুলের যত্ন নেবেন চলুন তা জেনে নিই:

ব্যস্ত সময়ে আমরা অনেকেই চুলে তেল নেই না। আর গরমে তেল না নিলে চুল আরও রুক্ষ হয়ে যায়। তাই নিয়ম করে সপ্তাহে অন্ততপক্ষে দু’দিন চুলে তেল দিতে হবে। চুলের গোড়া মজবুত করতে ‘হট অয়েল ট্রিটমেন্ট’ নিতে পারেন বাড়িতেই।

অনেকের অভ্যাস আছে তোয়ালে দিয়ে চুল পেঁচিয়ে মাথার ওপর তুলে রাখার। এই অভ্যেস থাকলে ত্যাগ করুন। কারণ এতে চুল পড়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। এর থেকে ভালো হয় পুরোনো ও নরম টি-শার্ট দিয়ে আলতো হাতে চেপে চেপে চুলের পানি শুকিয়ে নিন। চুল শুকিয়ে এলে মোটা দাঁড়ার চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়াবেন। সেক্ষেত্রে প্লাস্টিক না বরং ব্যবহার করুন কাঠের চিরুনি ।

কাজুবাদামের হেয়ার ওয়েল তেল, মধু আর দইয়ের প্যাক চুলের রুক্ষতা দূর করতে বিশেষ কার্যকর। লেবুর রস আর ডিমের কুসুম মিশিয়ে নিয়েও লাগাতে পারেন। এই প্যাক ফিরিয়ে আনতে পারে চুলের হারানো জেল্লা।

;

গরমে সুস্থ থাকতে যেসব খাবার খাবেন



লাইফস্টাইল ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

তীব্র তাপদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন। এ সময় শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ঘাম হয়ে বের হয়। এতে শরীরে সোডিয়াম ও পটাশিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। ফলে শরীরে ক্লান্ত লাগে। তাই শরীর সুস্থ রাখতে আপনাকে খেতে হবে পানি ও পানিযুক্ত খাবার।

গরমে কী ধরনের খাবার শরীরের জন্য ভালো চলুন তা জেনে নিই–

পানি

পূর্ণবয়স্ক একজন নারীর দিনে অন্তত ২.৫-৩ লিটার, পূর্ণবয়স্ক একজন পুরুষের ৩-৩.৫ লিটার সুপেয় পানি পান করা উচিত। তবে কিডনি রোগীদের অবশ্যই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে পানির পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে।

গরমে লেবু বা ফলের শরবত খাওয়া খুবই উপকারী। ডাবের পানিও খুব দারুণ কার্যকর। এসব পানীয় খুব সহজেই শরীরের পানির চাহিদা পূরণ করবে। ডাবের পানি ও ফলের শরবত খেলে পানির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় খনিজ লবণের চাহিদাও পূরণ হবে।

সবজি
কাঁচা পেঁপে, পটল, ধুন্দল, শসা, চিচিঙ্গা, গাজর, লাউ, পেঁপে, পালংশাক, টমেটো, শসায় পানির পরিমাণ বেশি থাকে। পানিশূন্যতা দূর করতে এই খাবারগুলো অবশ্যই খাবার তালিকায় রাখার চেষ্টা করুন। এ ছাড়া পাতলা করে রান্না করা টক ডাল, শজনে ডাল শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।


মৌসুমি ফল

পানিশূন্যতা দূর করার জন্য কাঁচা আম খুবই ভালো। কাঁচা আমে আছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম। এ ছাড়া ভিটামিন সি ও ম্যাগনেশিয়ামও আছে, যা শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। তরমুজ শরীর ঠান্ডা করতে সাহায্য করে। এতে আছে ভিটামিন ও খনিজ লবণ, যা এই গরমে শরীরের জন্য দরকার।

বাঙ্গি খুবই পুষ্টিকর একটি ফল, যা খুবই সহজলভ্য এবং দামেও তুলনামূলক সস্তা। শরীর ঠান্ডা রাখতে বাঙ্গির তুলনা নেই।

আখের রস

আখের রস শরীরকে ঠান্ডা রাখতে খুবই কার্যকরী। আখের রসের সঙ্গে বিট লবণ, পুদিনাপাতা এবং লেবুর রস মিশিয়ে খেলে এর স্বাদও বাড়ে, পুষ্টিগুণও বাড়ে।

বেলের শরবত

বেলের শরবত পাকস্থলী ঠান্ডা রাখতে খুব কার্যকর। বেলে রয়েছে বিটা-ক্যারোটিন, প্রোটিন, রিবোফ্লাভিন, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি১ এবং বি২, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম ও ফাইবার।


পুদিনার শরবত

শরীরকে ভেতর থেকে ঠান্ডা রাখতে এবং সতেজ অনুভূতির জন্য পুদিনার শরবত অতুলনীয়।

জিরা পানি
নোনতা স্বাদযুক্ত এই পানীয় হজমে সাহায্য করে। তবে ডায়াবেটিস রোগীরা শরবতে আলাদা করে চিনি বা মধু অ্যাড করবেন না।

যা খাবেন না

অনেক কার্বনেটেড বেভারেজ আমরা গরমের সময় প্রচুর খেয়ে থাকি, যা ঠিক না। এই পানীয়গুলো শরীরকে সাময়িক চাঙা করলেও এর কোনো পুষ্টিগুণ নেই, বরং শরীরকে আরও ক্ষতিগ্রস্ত করে। ঝাল, বাইরের খোলা শরবত, বাইরের খাবার, ভাজাপোড়া এ সময় যতটা পারেন এড়িয়ে চলুন। পাতলা ঝোল ঝোল খাবার খাওয়া এ সময় সবচেয়ে ভালো।

 

;