ব্যস্ত বিউটিশিয়ান মারিয়া মৃত্তিকের জন্মদিন আজ



কন্ট্রিবিউটিং এডিটর, বার্তা২৪.কম
মারিয়া মৃত্তিক

মারিয়া মৃত্তিক

  • Font increase
  • Font Decrease

বর্তমান সময়ের অন্যতম ব্যস্ত বিউটিশিয়ান ও উদ্যোক্তা ইসরাত জাহান মারিয়া। এ অঙ্গনে মারিয়া মৃত্তিক নামে তিনি পরিচিত। আজ তার জন্মদিন। জন্মদিন প্রসঙ্গে মারিয়া মৃত্তিক বলেন, জন্মদিন মানেই প্রতিটি মানুষের জীবনে বিশেষ একটি দিন। আজকের দিনটি পরিবারকে ঘিরে নিজের মত করেই কাটাতে চাই। আমার আগামী দিনগুলো উজ্জ্বল ও সাফল্যমন্ডিত যেন হয় সকলে দোয়া করবেন।

বেশ কয়েক বছর ধরে মারিয়া মেকআপ নিয়ে কাজ করছেন। কয়েকদিন আগেই তিনি ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘কেনেডি হফম্যান মাস্টার ক্লাস’ থেকে জিতে এসেছেন সেরা বিউটিশিয়ানের পুরস্কার । এছাড়া বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত -এর হাত থেকেও নারী লিডারশিপ উদ্যোক্তা বিষয়ক পুরস্কার পান।

এবার বাংলাদেশের প্রথম নারী মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে স্কিন কেয়ার কসমোটোলজিস্ট লাইসেন্সও পেয়েছেন মারিয়া মৃত্তিক । আমেরিকার পাঁচটা স্টেটে মোট ৮০ জন শিক্ষার্থীকে ওয়ার্কশপ করান তিনি। দুবাই, লন্ডন এবং কানাডায় আছে তাঁর পরবর্তী ওয়ার্কশপ ।

মারিয়া তার সেলুন ‘গ্লো বাই মারিয়া মৃত্তিক’-এ মেকআপ, স্কিন কেয়ার ও হেয়ার ট্রিটমেন্ট নিয়ে কাজ করেন। এ সময়ে ব্রাইডাল মেকআপে তার বেশি সময় কাটছে। তিনি নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন ব্রাইডাল ফ্যাশন হাউস ‘জেকে ফরেন ব্র্যান্ড’।

দুই কোটি রোগীর সুস্থ জীবনের জন্য ফিজিওথেরাপি, বেহাল সরকারি সেবা!



ডা. দলিলুর রহমান
দুই কোটি রোগীর সুস্থ জীবনের জন্য ফিজিওথেরাপি, বেহাল সরকারি সেবা!

দুই কোটি রোগীর সুস্থ জীবনের জন্য ফিজিওথেরাপি, বেহাল সরকারি সেবা!

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (NITOR/RIHD) অপারেশন তো হল, কিন্তু এই রোগীরা কিভাবে সুস্থ হবে, কিভাবে পায়ের শক্তি ফিরে পাবে, কিভাবে দাঁড়াবে, কিভাবে হাঁটবে, কিভাবে পূর্বের কাজে ফিরে যাবে? –জানি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দায়িত্বশীলরা দিবেন না, কারণ ১৭ কোটি মানুষের জন্য একমাত্র এই পঙ্গু পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান স্বাধীনতার পর থেকে পঙ্গুদের পুনর্বাসনে প্রধান স্বাস্থ্য পেশাজীবী শত শত ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক তৈরি করলেও ১৯৮৩ সালের পর থেকে আজ অবধি  একজনকেও নিয়োগ দিতে পারে নাই ? কি বিস্ময়! তাই না। 

বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি মানুষ শারীরিক নানা ধরনের ব্যথা, ব্যথাজনিত উপসর্গ, প্রতিবন্ধিতা ও পঙ্গুত্বের শিকার। এদেরকে সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবনে ফিরিয়ে আনতে ফিজিওথেরাপি অন্যতম চিকিৎসাসেবা। আর এই  ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা পাওয়া তাদের অধিকার।


শারীরিক নানা ব্যথা, দুর্বলতা, প্যারালাইসিসের কারণে মানুষের প্রাত্যহিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়। মানুষের কর্মক্ষমতা ও  উৎপাদনশীলতা কমে যায়। ব্যক্তি ও পারিবারিক জীবনের বাইরে এটা জাতীয় উন্নয়নের জন্যও অন্তরায়। এসব কারণে যিনি হাঁটাচলা করতে পারেন না, উঠতে পারেন না, বসতে পারেন না; তিনি তো নিজের জন্যই বোঝা হয়ে দাঁড়ান। এ কারণে শারীরিক কষ্ট শেষ পর্যন্ত ভীষণ মানসিক পীড়ার কারণ হয়। এসব সমস্যার জন্য ফিজিওথেরাপিই অন্যতম চিকিৎসা, যা এসব মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে, টিকে থাকতে সহায়তা করে। কিন্তু স্বাধীনতার ৫১ বছরেও দৃশ্যমান হয় নাই কোন সরকারী উদ্যোগ । পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে দেশে প্রতিদিন অন্তত পাঁচ লক্ষাধিক রোগী ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা নিয়ে থাকেন বলে অনুমেয়।

ফিজিওথেরাপির গুরুত্ব তুলে ধরতে প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস পালিত হয়। ৮ সেপ্টেম্বর বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ‘অস্টিওআর্থ্রাইটিস–প্রতিকার ও প্রতিরোধ– উভয় টিতেই ফিজিওথেরাপি সমান কার্যকরী। হাঁটুসহ বিভিন্ন জয়েন্টের  অস্টিওআর্থ্রাইটিসে আক্রান্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।বিশ্বব্যপি  অস্টিওআর্থ্রাইটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে ফিজিওথেরাপি একটা বড় জায়গা করে নিয়েছে। অস্টিওআর্থ্রাইটিসসহ বিভিন্ন বাত, শারিরিক ব্যথা, দুর্বলতা, প্যারালাইসিস, প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকেরা এখন বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

ফিজিওথেরাপি ছাড়া আধুনিক চিকিৎসা অসম্পূর্ণ

ব্যথা, প্রবীণ জনগোষ্ঠীর বার্ধক্যজনিত সমস্যা, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস, সেরিব্রাল পালসি, অটিজম, মেরুদণ্ডে আঘাত, সড়ক দুর্ঘটনা, ক্যানসার, অবেসিটি, হৃদ্‌রোগ, ডায়াবেটিসসহ নানাবিধ অসংক্রামক রোগের কারণে বাংলাদেশে মোট জনগোষ্ঠীর মধ্যে অনেক বড় একটি অংশ আংশিক বা পুরোপুরি প্রতিবন্ধিতায় ভুগছে। এই ব্যথা ও প্রতিবন্ধিতার প্রধান চিকিৎসাব্যবস্থা ফিজিওথেরাপি। সড়ক দুর্ঘটনা, শারীরিক প্রতিবন্ধিতা, বিকলাঙ্গতা, পক্ষাঘাত এবং বড় কোনো অস্ত্রোপচারের পর রোগীর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপি ভালো ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি রোগ, বাত-ব্যথা ও পক্ষাঘাতের রোগীরা ওষুধের পাশাপাশি ফিজিওথেরাপি নিয়ে ভালো ফল পান। সচেতনতার অভাবে রোগীরা অনেক সময় বুঝতে পারেন না, তাঁদের ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা প্রয়োজন। সব বয়সের মানুষের রোগ বা সমস্যায় ফিজিওথেরাপির প্রয়োজন হতে পারে। শরীরের বিভিন্ন সমস্যার জন্য আলাদা বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা দরকার হয় ।

অস্টিওআর্থ্রাইটিস প্রতিকার ও প্রতিরোধে ফিজিওথেরাপি কেন প্রয়োজন?


বিশ্বজুড়ে পঞ্চাশ কোটিরও অধিক মানুষ  অস্টিওআর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত, বাংলাদেশেও এই সমস্যা ঘরে ঘরে  ।  এ রোগ ৬০% ক্ষেত্রে হাঁটুতে হয়ে থাকে । হাড়ের ক্ষয় পেশীর দুর্বলতা অতিরিক্ত মেদ, বয়স্ক জনগোষ্ঠী এ সমস্যার অন্যতম কারণ । এ সমস্যা জটিল হওয়ার আগেই দক্ষ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে তিনি আপনার সব সমস্যা শুনে কিছূ শারীরিক পরীক্ষা করে সুনির্দিষ্ট কিছু ফিজিওথেরাপি ও থেরাপিউটিক  এক্সারসাইজের মাধ্যমে আপনার কষ্ট লাঘব করে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারেন। এ ক্ষেত্রে দেরী করলে জটিলতা বাড়ে এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায় , এমনকি অপারেশন করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়না। তাই এ ধরণের সমস্যা প্রতিকার ও প্রতিরোধে দ্রুত ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরী।

লং কোভিডে ফিজিওথেরাপি কেন প্রয়োজন?


আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় লং কোভিডের জন্য ব্যায়াম, পর্যাপ্ত পানি পান, ইতিবাচক চিন্তা ও পর্যাপ্ত ঘুম ইত্যাদি পরামর্শ মেনে চলতে বলা হয়।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলেছে, কোভিড–পরবর্তী শারীরিক সক্ষমতা ও কর্মক্ষমতা ফিরিয়ে আনা এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ। শারীরিক দুর্বলতা, ব্যথাজনিত উপসর্গ ও শ্বাসকষ্ট নিরাময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকলে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার ব্যাপারে জোর দেওয়া হয়েছে। তবে আমাদের দেশের কোভিডের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কাটানোর চিকিৎসার জন্য কোনো প্রটোকল এখনো তৈরি হয়নি। যদিও কোভিড পরবর্তী শারীরিক দুর্বলতা, ব্যথা নিয়ে আমাদের কাছে আসা রোগীদেরকে  ফিজিওথেরাপি চিকিৎসায় দ্রুত সুস্থ স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে পারছি  ।

অর্থপেডিক সমস্যা ও ব্যথার রোগীদের ফিজিওথেরাপি ছাড়া বিকল্প কি? 


নানা ধরনের বাত যেমন স্পন্ডিলাইটিস, স্পন্ডাইলোসিস, স্পন্ডিলিসথেসিস; অর্থাৎ ঘাড়, কোমর ও মেরুদণ্ডের ব্যথায় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা বেশ কাজে দেয়। পাশাপাশি অস্থিসন্ধির বাত, হাঁটুর ব্যথা, ফ্রোজেন শোল্ডার বা কাঁধে ব্যথা এবং পায়ের গোড়ালির সমস্যায় আক্রান্তদের জন্য ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা অপরিহার্য । এছাড়া মাংসপেশি, জোড় ও হাড়ের সমস্যা। অনেক সময় দেখা যায়, ভেঙে যাওয়া হাড় জোড়া লাগার পর আঘাতপ্রাপ্ত অংশের মাংসপেশি ও হাড়-জোড় ঠিকমতো কাজ করে না। এ ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপির প্রয়োজন পড়ে। হাড়ের রোগ অস্টিওপোরোসিস, মাংসপেশির রোগ সারকোপেনিয়াতে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা বিকল্পহীন।

শারীরিক ব্যথা ও সব ধরণের অর্থপেডিক সমস্যাগুলো যথাযথভাবে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন অর্থোপেডিক কিংবা মাস্কুলোস্কেলিটাল ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞ।

মেরুদণ্ড ও স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যায় ফিজিওথেরাপি


স্ট্রোক , স্পাইনাল কর্ড ও নার্ভ ইনজুরির কারণে সৃষ্ট প্যারালাইসিস ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা বিকল্পহীন এবং  এ ধরণের সমস্যায় নিউরোলজীকেল ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের  ভূমিকা ও গুরুত্ব অপরিসীম । আঘাত অথবা শল্যচিকিৎসায় স্নায়ুতন্ত্রের জটিলতায় ভুগে পঙ্গুত্ব বরণ করে অনেকে। এ ধরনের রোগীর শরীর অবশ হয়ে যায় বা মাংসপেশি শক্ত হয়ে যায়। এসব রোগীর শরীরের কর্মক্ষমতা বাড়ানো এবং অস্থিসন্ধি সচল রাখা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়ে। তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় সক্ষম করে তুলতে ফিজিওথেরাপির বিকল্প নেই।

ক্যান্সার ও ফিজিওথেরাপি


ক্যান্সার বিশ্বব্যাপী অসুস্থতার প্রধান কারণগুলির মধ্যে একটি। চিকিৎসাধীন অনেক ক্যান্সার রোগী দুর্বল এবং ক্লান্ত বোধ করে। আপনি বা আপনার যত্নশীল কেউ যদি ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে থাকেন বা বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন, তাহলে ক্যান্সার পুনর্বাসন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ফিজিওথেরাপি অন্তর্ভুক্ত করার গুরুত্ব এবং মূল্য আপনার জানা উচিত। ফিজিওথেরাপি ক্যান্সার রোগীকে সামগ্রিক পেইন ম্যানেজমেন্ট করতে পারে, দীর্ঘস্থায়ী নিষ্ক্রিয়তা কমাতে পারে,  ক্যান্সার এর  ওষুধ এবং কেমোথেরাপির কারনে স্নায়ুর ক্ষতিসমূহ কমিয়ে আনতে পারে এবং এর জন্য রোগীর বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা থেকে ডি-কন্ডিশনের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে। ক্যান্সার রোগীদের বিশেষ প্রয়োজনীয়তাগুলি বোঝে এমন একটি উন্নত স্বাস্থ্যসম্মত  পুনর্বাসন ক্লিনিক খোঁজা এবং রিহ্যাবিলিটেশনের জন্য ক্যান্সার রোগী চিকিৎসা দিয়ে অভিজ্ঞ  ফিজিওথেরাপিস্ট খুঁজে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। 

শিশুরোগ ও ফিজিওথেরাপি


আমাদের কিছু শিশু জন্মগতভাবে প্যারালাইসিস বা সেরিব্রাল পালসি, ডাঊন সিন্ড্রোম,  অটিজম ও মেরুদণ্ডের সমস্যা নিয়ে জন্মায়। ফলে তাদের স্বাভাবিক বেড়ে উঠা বাঁধাগ্রস্ত হয়। আবার দেখা যায়, অনেক শিশুর হাত, পা বেঁকে যায় কিংবা বিকলাঙ্গতা দেখা দেয়। এসব শিশুর ফিজিওথেরাপি অত্যাবশ্যক এবং তা অবশ্যই পেডিয়াট্রিক/শিশু ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে হওয়া বাঞ্ছনীয়।

স্পোর্টস ইনজুরি ও ফিজিওথেরাপি


খেলা ও ফিজিওথেরাপি যেন অবিচ্ছেদ্য। একে অন্যের পরিপূরক। খেলাধুলা করলে ইনজুরি হতেই পারে। তাই স্পোর্টস ইঞ্জুরি প্রতিরোধ এবং ইনজুরি গ্রস্ত খেলোয়াড়কে বিভিন্ন ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে  খেলার উপযোগী করতে স্পোর্টস ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞরা সবচেয়ে বেশি অবদান রেখে চলেছেন।

হৃদ্‌রোগ, শল্যচিকিৎসার পর ফিজিওথেরাপি

বুকে কফ জমা, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীদেরও ফিজিওথেরাপির প্রয়োজন পড়ে। হৃদ্‌যন্ত্রে অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে রোগীর অক্সিজেন ধারণক্ষমতা ঠিক রাখতে ফিজিওথেরাপি দিতে হয়। রোগীদের নিরাপত্তা বিবেচনায় এক্ষেত্রে এরবিক এক্সারসাইজ এর প্রেসক্রিপশন মেনে ফিজিওথেরাপি করতে হয় এবং ভুল হলে রোগীর জীবন হুমকির মুখে পড়ে। ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) রোগীদেরও ফিজিওথেরাপির প্রয়োজন হয়। কার্ডিও-রেসপিরেটরি কিংবা আইসিইউ ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞরা এই থেরাপি দেন-যদিও আমাদের দেশে এ ধরণের বিশেষজ্ঞের অনেক সংকট। 

অন্যান্য শল্য চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে মাংসপেশি ও অস্থিসন্ধির স্বাভাবিক ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে রোগীদের স্বাভাবিক চলাফেরা বাঁধাগ্রস্ত হয়। তাদেরকে সুস্থ ও  স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ফিজিওথেরাপি ভালো কাজ দেয়। এর জন্য শল্যচিকিৎসার ওপর ভিত্তি করে বিশেষজ্ঞ ফিজিওথেরাপিস্টের চিকিৎসা প্রয়োজন হয়।

পোড়া রোগীদের ফিজিওথেরাপি

আমাদের দেশে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। পোড়া রোগীর সংখ্যা নেহাত ছোট নয়। পোড়া রোগীর দীর্ঘদিন ধরে মাংসপেশি সংকুচিত হয়ে থাকে, অস্থিসন্ধির স্বাভাবিক ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হয়।  এই অবস্থায় অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ববরণের আশঙ্কায় থাকেন। যদি নিয়মিত ফিজিওথেরাপি নেওয়া হয়, তাহলে এই ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকা যায়। মাস্কুলোস্কেলিটাল ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞরা এই সেবা দিয়ে থাকেন।

পঙ্গু পুনর্বাসন ও বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ফিজিওথেরাপি

দেশে প্রায় ২ কোটি মানুষ প্রবীণ, যারা হার-জোর- মাংস পেশীর ব্যথা, শারীরিক দুর্বলতাসহ  বিভিন্ন রকম বার্ধক্যজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ।  বার্ধক্যে শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথা হয়। মাংসপেশি ক্ষয় হয়। এ কারণে অনেকে চলাফেরার সক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। এসব মানুষের স্বাভাবিক চলাচলের ক্ষমতা বজায় রাখতে ফিজিওথেরাপির বিকল্প নেই।

সড়ক দুর্ঘটনার কারণে হাত-পা হারানো ব্যক্তির কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজনের প্রয়োজন হয়। কিংবা গাছ কিংবা উপর থেকে পড়ে গিয়ে কিংবা কোন দুর্ঘটনায় মেরুদণ্ডের স্পাইনাল কর্ড ইনজুরি জনিত কারণে অনেকেই পঙ্গুত্বের শিকার হয়। এসব মানুষের চলাফেরা স্বাভাবিক করতে ফিজিওথেরাপি একমাত্র পদ্ধতি। অর্থোপেডিক ও নিউরোলজি ফিজিওথেরাপি বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেওয়া বেশি কার্যকর।

ওমেন্স হেলথে ফিজিওথেরাপি –

দেশের প্রায় ৫০% জনগোষ্ঠী নারী। হরমোন, স্ট্রাকচারাল মেকআপ, গর্ভাবস্থা এবং প্রসবের কারণে সৃষ্ট  নারীদের শরীরে ব্যথা ও নানাবিধ সমস্যায়  ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। নারীদের  স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন জেনিটাল অঙ্গে ব্যথা ও দুর্বলতা, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া, প্রসবপূর্ব এবং প্রসবোত্তর পেশীর ব্যথা,  স্তন ক্যান্সারে অস্ত্রোপচারের পরে পুনর্বাসন, লিম্ফেডেমা সংক্রান্ত স্বাস্থ্য সমস্যায় ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা কার্যকরী। ফিজিওথেরাপির মাধ্যমে পেলভিক ফ্লোরকে শক্তিশালী করলে গর্ভাবস্থায় এবং প্রসবের সময় ও পেলভিক ফ্লোর সম্পর্কিত সমস্যা প্রতিকার ও প্রতিরোধে  নারীদের জন্য অনেক কার্যকরী ভূমিকা রাখে ।  বিশেষ করে মেনোপজের সময় স্বাভাবিকভাবেই হাড়ের ঘনত্ব কমে যায়। এক্ষেত্রে একজন ফিজিওথেরাপিস্ট আপনাকে আপনার হাড়কে শক্তিশালী করতে এবং ব্যায়ামের মাধ্যমে আপনার হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সাহায্য করতে পারেন।

কর্পোরেট হেলথে ফিজিওথেরাপি

দ্য ওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদনে দেখা গেছে কর্পোরেট কর্মীরা বেশির ভাগ ক্ষেত্রে পেশীর ব্যধি, বাত, পিঠে ব্যথা এবং জয়েন্ট, পেশী এবং টেন্ডনের নানা সমস্যায় ভুগছে।ফলে তাদের কাজের কর্মক্ষমতা হ্রাস করে, স্ট্যামিনা কমিয়ে দেয়, কাজ করার ঈচ্ছা ও একাগ্রতাকে বাঁধা গ্রস্ত করে এবং তাদের মেজাজের পাশাপাশি কাজের গতিশীলতা এবং কর্ম তৎপরতাকে  প্রভাবিত করে। কাজ সংক্রান্ত অসুস্থতার সবচেয়ে প্রচলিত কারণ যা দ্বিগুণ প্রভাবিত করে। শুধু যুক্তরাজ্যেই এর জন্য ৯.৫  মিলিয়ন কর্মদিবস নষ্ট হয় এবং প্রায় ৭.৪ বিলিয়ন পাউন্ড খরচ হয়। বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ মোতাবেক এ সমস্যা গুলোর জন্য শুরুতেই ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার সুবিধা থাকলে কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি খরচ কমাতে, কাজের ছুটি কমাতে এবং তাদের কর্মক্ষমতা বাড়াতে  সাহায্য করে।

বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি অবকাঠামো, বাধা

বিশ্ব উন্নয়নের ধারাবাহিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলছে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা। ১৯৮০ দশকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা ও গবেষণারও অনেক উন্নতি হয়। বর্তমানে বিশ্বমানের সব বিশ্ববিদ্যালয় ফিজিওথেরাপি বিষয়ে ডক্টর অফ ফিজিওথেরাপি, পিএইচডি, মাস্টার্স, ব্যাচেলর ডিগ্রি প্রদান করছে।

স্বাস্থ্য মানেই শুধু চিকিৎসাই নয়, আর চিকিৎসা মানেই শুধু ঔষধ নয়। স্বাস্থ্যের মুল ভিত্তি প্রতিকার (চিকিৎসা)-প্রতিরোধ-পুনর্বাসন-প্রমোশন– ৪টিতেই ফিজিওথেরাপির ভূমিকা অপরিসীম। ফিজিওথেরাপির এরকম অপরিহার্য গুরুত্ব বিবেচনায় স্বাধীনতা উত্তর আমেরিকান অর্থপেডিক  সার্জন ডাঃ আর জে গাস্টের পরিচালনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের   মেডিসিন ফ্যাকাল্টির অধীনে পঙ্গু হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে ( RIHD/NITOR) ফিজিওথেরাপি বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি কোর্স চালু হয়। বাংলাদেশে ফিজিওথেরাপি পেশার সঙ্গে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস আছে। তা সত্ত্বেও স্বাধীনতার ৫১ বছরে ফিজিওথেরাপি শিক্ষার জন্য একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। বাংলাদেশ কলেজ অফ ফিজিওথেরাপি প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের কোন উদ্যোগ নেই কিন্তু জনমানুষের চিকিৎসার অধিকারের স্বার্থে দেশে ফিজিওথেরাপি শিক্ষা ও চিকিৎসার নিয়ন্ত্রিত প্রসার দরকার।

আমাদের দেশে সনদপ্রাপ্ত ফিজিওথেরাপি চিকিৎসকদের সরকারি চাকরির সুযোগ নেই। ফলে ফিজিওথেরাপি পেশা সম্পর্কে মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব থেকে যাচ্ছে। এই অবস্থা দেশের স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ইতিমধ্যে কাজের সুযোগ বা অনুশীলনের সুযোগ না পেয়ে অনেকে পেশা পরিবর্তন করেছেন। অনেকে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। কারণ, স্নাতক ডিগ্রি নেওয়ার পর ফিজিওথেরাপিস্টদের পেশা চর্চার কোনো সনদ দেওয়া হয় না। ২০০৫ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কিছু ফিজিওথেরাপিস্টকে সাময়িক সনদ দিতে শুরু করলেও পরে বন্ধ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে প্রায় অকার্যকর বাংলাদেশ রিহ্যাবিলিটেশন কাউন্সিল আইন ২০১৮। যদিও এই আইনে বলা হয়েছে, ফিজিওথেরাপিস্ট হতে হলে সরকার স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পেশাগত ফিজিওথেরাপি বিষয়ে চার বছর একাডেমিক শিক্ষা ও ১ বছরের ইন্টার্ন সম্পন্ন করে ন্যূনতম স্নাতক ডিগ্রি নিতে হবে।

ফিজিওথেরাপিস্টদের জন্য দুটি সরকারি হাসপাতালে পদ রয়েছে মাত্র ১৯টি। এগুলোর মধ্যে পঙ্গু হাসপাতালে ১৪টি, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ২টি, জাতীয় ক্যানসার হাসপাতালে ১টি, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১টি। যুগের পর যুগ প্রায় সব পদই শূন্য পড়ে আছে। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে সরকার উক্ত শূন্য পদে অস্থায়ী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেয়। কিন্তু ১২ বছরেও সে নিয়োগ হয়নি। আবার নতুন পদ তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ফিজিক্যাল থেরাপি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) চেষ্টায় ২০১২ সালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগ সাড়ে চার শতাধিক পদের প্রস্তাবনা চূড়ান্ত করা হয়। কিন্তু ২০১৪ সালে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করে তা আটকে দেয় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন এবং ফিজিক্যাল মেডিসিন সোসাইটি অব বাংলাদেশ।

ফিজিওথেরাপি শিক্ষার জন্য বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিওথেরাপি নামে একটি স্বতন্ত্র কলেজের জন্য মহাখালীতে ৫ দশমিক ২৮ একর জমি দেয় সরকার। ২০০৯ সালে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক আ ফ ম রুহুল হক এর ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন। গত ১৩ বছরে বাংলাদেশে অনেক উন্নয়ন, অবকাঠামো হয়েছে। কিন্তু এই কলেজটি আর হয়নি। রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা, হাইকোর্টের নির্দেশ—সব ফাইল চাপা পড়ে আছে। ফিজিওথেরাপি সংশ্লিষ্টদের ২৮ বছরের দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল কর্তাদের সুদৃষ্টি আজও পায় নাই । আর এর ভুক্তভোগী হচ্ছে ব্যথা ও প্রতিবন্ধিতার কোটি রোগী।

নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশে কয়েক হাজার ফিজিওথেরাপি চিকিৎসক বেসরকারি পর্যায়ে খুব সুনামের সাথে প্রতিদিন কয়েক লক্ষ রোগীদেরকে দেশব্যপি  ফিজিওথেরাপি চিকিৎসা প্রদান করে চলেছেন । প্রতিদিনই ফিজিওথেরাপি কেন্দ্রগুলোতে রোগী বেড়েই চলেছে। যদিও সরকারী সুযোগ সুবিধার অভাবে দেশে আধুনিক ও যুগোপযোগী ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার সুযোগ এখনো অনেক সংকুচিত। ফিজিওথেরাপি বিষয়ে এখনই আমাদের নজর দেওয়া উচিত। তা না হলে একটা বড় জনগোষ্ঠীকে আমরা দীর্ঘ রোগভোগের মধ্যে রেখে তিলে তিলে কষ্ট দেব। পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে তাদের অবহেলিত রাখব। অথচ ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের সুস্থ ও কর্মক্ষম করে জাতীয়  উন্নয়নে তাদের অবদান রাখার সুযোগ আছে । তাই ফিজিওথেরাপি শিক্ষা ও সেবার আমাদের উদাসীনতা দেখানোর কোন সুযোগ নেই  । 

ডা. দলিলুর রহমান, আইপি প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ ফিজিক্যাল থেরাপি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ) 

;

কালার কসমেটিকসের বাজারে নিওরের ৪৯ পণ্য: সৌন্দর্য চর্চায় দীর্ঘদিনের আস্থা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
কালার কসমেটিকসের বাজারে নিওরের ৪৯টি পণ্য: সৌন্দর্য চর্চায় দীর্ঘদিনের আস্থা

কালার কসমেটিকসের বাজারে নিওরের ৪৯টি পণ্য: সৌন্দর্য চর্চায় দীর্ঘদিনের আস্থা

  • Font increase
  • Font Decrease

ক্রেতাদের চাহিদা ও আস্থা বৃদ্ধির ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশে কালার কসমেটিকসের বাজারে বর্তমানে নিওরের ৪৯টি পণ্য রয়েছে। নিয়মিত গবেষণা ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মিশেলে নিওরের পণ্য এখন সারাবিশ্বে জায়গা করে নিচ্ছে। বাংলাদেশেও বাড়ছে চাহিদা। ১৯৯৬ সাল থেকে যাত্রা শুরু করা নিওর এখন বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও সুপরিচিত ব্র্যান্ড।

বিগত ২৬ বছর ধরে বাজারে শক্তিশালী অবস্থানে থাকা নিওর প্রমাণ করেছে সৌন্দর্য চর্চায় নতুন নতুন উদ্ভাবন ক্রেতাদের আস্থা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গ্ল্যামার ওয়ার্ল্ডে নিওরের অংশীদারিত্ব আরো বাড়ানোর প্রতিংশ্রুতি দিচ্ছে নিওর।

বিখ্যাত মেকআপ আর্টিস্ট  এবং এমএবিবিএবি এর প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট শাহিদা আহসান বলেন, ভোক্তাদের সমস্ত সৌন্দর্য্যের চাহিদা একটি ব্র্যান্ডের অধীনে মেটানো,তাদের সময় বাঁচানো  এবং সুন্দর রুচিবোধের লক্ষ্য নিয়েই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল নিওর। আজ সৌন্দর্যের জন্য নিওর একটি প্রয়োজনীয় ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। দৃষ্টিনন্দন মেকআপ, চোখ, ত্বক, নখসহ নিত্যদিনের সৌন্দর্য ভ্রমণে গাইড করার জন্য নিওর যথেষ্ট। গ্ল্যামারের পাশাপাশি  এটি নারীর স্বাতন্ত্র্যবোধ, আভিজাত্য বাড়াতেও সহায়ক। নিওরের সাজে নতুন এক অনুভূতি, নতুন ভাললাগা সারাদিনকে করে তোলে আনন্দময়। অফিসগামী নারীদের জন্য নিওরের পণ্যগুলো কর্মউদ্দীপকও।

নিওরের Sr brand director tuhin sultana  জানান, আমাদের নিওর কালার কসমেটিক এবং স্কিনকেয়ার  উভয়ধরণের পণ্যই রয়েছে। স্কিন কেয়ার পণ্যের মধ্যে  রয়েছে অ্যালোভেরা ময়েশ্চার সুদিং জেল, ড্রিমী গ্লো ব্রাইটনিং ক্রিম, ড্রিমী গ্লো ব্রাইটনিং সিরাম, ড্রিমী গ্লো ব্রাইটনিং ক্লিনজিং ফোম ইত্যাদি। ড্রিমী গ্লো ব্রাইটনিং ক্রিম কালো দাগ কমায়, ত্বককে উজ্জ্বল করে, ক্রমাগত হাইড্রেশণ  এবং ময়েশ্চারাইজেশন প্রদান করে। অ্যালোভেরা ময়েশ্চার সুদিং জেল সুদিং প্রভাব দেয়। এতে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য  রয়েছে। যা ত্বককে হাইড্রেট করে এবং উজ্জ্বল ত্বক প্রদান করে। ড্রিমী গ্লো ব্রাইটনিং সিরাম ব্যবহারে তারুণ্যময় চেহারা পাওয়া যায়। এটি ত্বকের বলিরেখা দূর করে। ত¦কের ইলাস্টিসিটি উন্নত করে এবং ত্বকের আর্দ্রতা বাড়ায়। ড্রিমী গ্লো ব্রাইটনিং ক্লিনজিং ফোম ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে, ত্বকে ছিদ্র কম করে, ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখে  বেং নিস্তেজ ত্বককে সতেজ করে।

কালার কসমেটিকস পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধরণের আইটেম। সব আইটেম মিলিয়ে এখন বাজারে রয়েছে৪৯টির মত পণ্য। নিওর রেড কার্পেট লিপ কালারগুলো ওয়াশিংটন, ফ্লোরিডা, হাওয়াই, আলাস্কা, মিশিগান, নিউজার্সি, নিউইয়র্ক, জর্জিয়া, ক্যালিফোর্নিয়া, ভার্জিনিয়া, নেভাদা এই ১২টি শেডে পাওয়া যাচ্ছে। নিওর অন পয়েন্ট মাইক্রো আই ব্রো পেন্সিল, নিওর ওয়াটার প্রুফ হাইপো অ্যালার্জিক আইলাইনার, নিওর লিকুইড আইলাইনার, নিওর আল্ট্রা ডিফাইন্ড ভলিউম মাসকারা  এখন সৌন্দর্যপ্রেমিদের নিত্যসঙ্গী।

নিওর কসমেটিকসের বিপণন কর্মকর্তারা জানান, রঙিন প্রসাধনীর বাজারে আমাদের সাফল্য স্কিনকেয়ার পণ্যগুলি তৈরি করতে উৎসাহ যুগিয়েছে। আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে  অনেক আইটেম স্ক্রীনিং  এবং পরীক্ষা করেছি, নিশ্চিত করেছি সেগুলি ভোক্তা সাধারণের জন্য উপকারী এবং বিস্ময়কর কাজ করে।

;

মাঙ্কিপক্স: যৌন সঙ্গীর সংখ্যা কমানোর পরামর্শ ডব্লিউএইচওর



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনা মহামারির পর বিশ্বজুড়ে এখন নতুন এক আতঙ্কের নাম 'মাঙ্কিপক্স’। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণকে একটি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

এদিকে এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাঙ্কিপক্সের ৯৫ শতাংশ সংক্রমণের ঘটনা যৌন ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে হয়। খবর এএফপির।

মাঙ্কিপক্স আক্রান্তদের মধ্যে ৯৮ শতাংশ পুরুষদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে যে তারা অন্য পুরুষদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস যৌন সঙ্গীর সংখ্যা কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন। তবে তিনি ওইসব মানুষের প্রতি কোনও বৈষম্য না করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, সব রকম কলঙ্কলেপন বা ঘৃণা যে কোনও ভাইরাসের মতোই বিপজ্জনক হতে পারে এবং প্রাদুর্ভাবকে আরও উস্কে দিতে পারে।

বুধবার (২৭ জুলাই) মাঙ্কিপক্স নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। খবর: আল-জাজিরার।

তবে, মাঙ্কিপক্স যৌনবাহিত সংক্রমণ নয়। কিন্তু তা ঘনিষ্ঠ শারীরিক সংসর্গের মাধ্যমে হতে পারে। গবেষণা এই ইঙ্গিত দেয় যে এখন পর্যন্ত মাঙ্কিপক্সের সংক্রমণের বেশির ভাগ ঘটনা যৌন ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রধানত পুরুষের সঙ্গে পুরুষের যৌন সম্পর্ক স্থাপনকারী ব্যক্তিদের মধ্যে এমনটা হয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বিশ্বের ৭৮টি দেশে ১৮ হাজারের বেশি লোকের মাঙ্কিপক্সে আক্রান্ত হবার খবর পাওয়া গেছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৭০ শতাংশ ইউরোপে এবং ২৫ শতাংশ আমেরিকায় বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। গত মে মাস থেকে এখন পর্যন্ত মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ ব্যথা নিয়ন্ত্রণের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ডাব্লিউএইচও গত সপ্তাহে মাঙ্কিপক্সকে বিশ্বব্যাপী জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করে। আন্তর্জাতিক এই স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, যৌন যোগাযোগ, চুম্বন, নিবিড় আলিঙ্গন, দূষিত পোশাক, তোয়ালে এবং বিছানার চাদরের মাধ্যমে একজন থেকে অন্য জনের শরীরে মাঙ্কিপক্স ছড়িয়ে পড়তে পারে।

যারা মাঙ্কিপক্সে আক্রান্তদের সংস্পর্শে এসেছে এবং যাদের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে, যেমন স্বাস্থ্যসেবা কর্মী, পরীক্ষাগার কর্মী এবং একাধিক যৌন সঙ্গী আছে এমন ব্যক্তিদের টিকা দেওয়ার সুপারিশ দিয়েছে ডাব্লিউএইচও। তবে সংস্থাটি এই সময়ে গণ টিকা দেওয়ার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে।

এমভিএ-বিএন নামে পরিচিত গুটিবসন্তের ভ্যাকসিন কানাডা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রে মাঙ্কিপক্সের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও, ডাব্লিউএইচও’র এখনও ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা সম্পর্কে যথেষ্ট তথ্য-উপাত্তের অভাব রয়েছে, তাই সমস্ত দেশকে তাদের ডেটা ভাগ করার জন্য ভ্যাকসিন ব্যবহার করার আহ্বান জানিয়েছে।

;

এবার বিচারক হলেন আলোকচিত্রী আরশান পারভেজ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আরশান পারভেজ

আরশান পারভেজ

  • Font increase
  • Font Decrease

আরশান পারভেজ। এই প্রজন্মের জনপ্রিয় একজন আলোকচিত্রী। বিশেষ করে ফ্যাশন এবং ওয়েডিং ফটোগ্রাফিতে খুব অল্প সময়ে যে কয়েকজন নাম করেছেন তাঁর মধ্যে অন্যতম একজন তিনি। জনপ্রিয় তারকাদের ফটোগ্রাফি ছাড়াও বিভিন্ন সময় মানবজমিন, ইত্তেফাক, সময়ের আলো এবং বিনোদন বিচিত্রাতে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে কাজ করেছেন ।

এবার আরশান পারভেজ ইয়াং ইনথুসিয়াসটিক Young Enthusiasts আয়োজিত (ছবি তুলি গল্প বলি তে) বিচারক এর ভূমিকা পালন করছেন । আরশান পারভেজ বলেন, ২০১৮ সাল থেকে ফটোগ্রাফি শুরু করি। শুরুতে শখ থাকলেও বর্তমানে এটাই আমার পেশা বলা যেতে পারে।

ফটোগ্রাফার হিসেবে ব্রিটিশ আমেরিকান টোবাকো, গান বাংলা, নেসলে বাংলাদেশ, বাংলালিংকসহ বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য কোম্পানিতে কাজের সুযোগ হয়েছে আমার। ফটোগ্রাফির উপর ভালোবাসা আমার ছোটবেলা থেকে। এবারই প্রথম একটি ফটোর প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে কাজ করতে যাচ্ছি। বেশ ভালো লাগছে । পরিবার, বন্ধু ও শুভাকাঙ্খীদের উৎসাহে সামনে আরও এগিয়ে যেতে চাই।

;