ফেনীতে ১১ কুকুরকে পিটিয়ে হত্যা, আসামিদের আদালতে হাজিরের নির্দেশ



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফেনী
ফেনী জেলা জজ আদালাত/ছবি: বার্তা২৪.কম

ফেনী জেলা জজ আদালাত/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ফেনীতে নয়টি শাবকসহ দুই মা কুকুরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেছেন আদালত। এ সংক্রান্ত শুনানি শেষে আদালত প্রধান অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ (সমন জারি) দেন।

মঙ্গলবার (০৯ জুলাই) ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুহাম্মদ আশেকুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সফিকুল ইসলাম পিয়াস এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে চলতি বছরের ০১ এপ্রিল ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এনিমেল এইড ফেনীর পরিচালক এনাম হোসেন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে এ মামলা করেন। ফেনীতে প্রাণী হত্যার ঘটনায় এটিই ছিল প্রথম কোনো মামলা। পরে মামলাটি আমলে নিয়ে ফেনী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আশেকুর রহমান।

এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন ফেনী সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শহীদুল ইসলাম খোকন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, নয়টি শাবকসহ দুই মা কুকুরকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ফেনী শহরের শান্তি কোম্পানি সড়কের শান্তি কোম্পানি বাড়ির কালামিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিনের প্রাথমিকভাবে জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া গেছে।

মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সফিকুল ইসলাম পিয়াস বলেন, প্রাণী হত্যার ঘটনায় ফেনীতে এটিই প্রথম কোনো মামলা ছিল। তদন্ত কমিটি প্রধান অভিযুক্ত জসিম উদ্দিনের প্রাথমিকভাবে জড়িত থাকার সত্যতা পেয়েছে। তার অন্য দুই সহযোগীকে এ ঘটনায় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। আদালত প্রাণী কল্যাণ আইন ২০১৯ এর ১৬ (ক) ধারায় তার অপরাধ আমলে নিয়ে আগামী ২৯ জুলাই আসামিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ (সমন জারি) দিয়েছেন।

মামলার বাদী এনাম হোসেন বলেন, গত ৪ ফেব্রুয়ারি ফেনী শহরের শান্তি কোম্পানি সড়কের শান্তি কোম্পানি বাড়ির কালামিয়ার ছেলে জসিম উদ্দিন ও তার দুই সহযোগী বিনা কারণে দুই মা কুকুর ও ৯টি শাবককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করেন। অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে ১১টি কুকুর হত্যা করে আসামিরা প্রাণীকল্যাণ আইন লঙ্ঘন করেছেন। তাদের শাস্তি না হলে অন্যরাও প্রাণী নিধনে উৎসাহিত হবে।

দুর্নীতি মামলা বাতিল চেয়ে ড. ইউনূসের আবেদন খারিজ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস

  • Font increase
  • Font Decrease

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মামলার কার্যক্রম বাতিল চেয়ে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের করা আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্টে। মামলাটি এক বছরের মধ্যে শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুলাই) হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ শুনানি শেষে এই রায় দেন।

এর আগে, গত ১১ জুলাই বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ, এ মামলায় অভিযোগ গঠনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আবেদনের ওপর শুনানি শেষে ২১ জুলাই আদেশ দেওয়ার কথা ছিল হাইকোর্টের। তবে কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা চলায় সব কিছু বন্ধ হয়ে যায়। যার পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ আসল আজ।

১১ জুলাই আদালতে ইউনূসের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন। আর দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। তার আগে, গত ৮ জুলাই এ মামলার অভিযোগ গঠন বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেন ড. ইউনূসসহ সাত জন।

আবেদনকারীরা হলেন- ড. মুহাম্মদ ইউনূস, নুরজাহান বেগম, মো. শাহজাহান, নাজনীন সুলতানা, হিজ্জাতুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, আশরাফুল হাসান।

গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিক কর্মচারীদের কল্যাণ তহবিলের ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার আদালত। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক সৈয়দ আরাফাত হোসেন অভিযোগ গঠনের এই আদেশ দেন।

;

কারফিউ শিথিলে কর্মচঞ্চল ঢাকার নিম্ন আদালত



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

কারফিউ শিথিলে কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে দেশের অন্যতম ব্যস্ত আদালত ঢাকার নিম্ন আদালত।

বুধবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকেই ঢাকার নিম্ন আদালতে উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা গেছে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে এই ভীড় আরও বেড়েছে। আইনজীবী, বিচার প্রার্থী ও আসামিদের আগমনে সরগরম হয়ে উঠেছে আদালত।

কোটা আন্দোলন, সহিংসতা ও কারফিউ এর কারনে প্রায় ৮ দিন পর আদালতে এ ব্যস্ততা দেখা যায়। এ ৮ দিন সিএমএম আদালত খোলা থাকলেও বিচারক, আইনজীবী, বিচার প্রার্থী ও আসামির উপস্থিতি তেমন দেখা যায়নি।

আইনজীবী জাহিদুর রহমান জানান, কোটা আন্দোলন, সহিংসতা ও কারফিউ এর মধ্যে প্রতিদিনই আদালতে এসেছি। এ কয়দিন আদালত একরকম ফাঁকাই ছিল। আইনজীবী কিংবা আসামির উপস্থিতি ছিল না। তবে আজ আদালতসমূহে অনেক ভীড়।

আইনজীবী আরিফুল ইসলাম জানান, আতঙ্কে তিনি এ কয়দিন আদালতে আসেননি। আজ কারফিউ শিথিল হওয়ায় তিনি আদালতে এসেছেন।

আদালত খুললেও নিরাপত্তার কারনে আদালতের প্রধান প্রধান ফটক বন্ধ রাখা হয়েছে। পকেট গেইট দিয়ে সবাইকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। উল্লেখযোগ্য হারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি দেখা গেছে। তবে কাউকে নিরাপত্তা তল্লাশী করতে দেখা যায়নি।

;

কোটা নিয়ে আপিল শুনানি রোববার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
কোটা নিয়ে আপিল শুনানি রোববার

কোটা নিয়ে আপিল শুনানি রোববার

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের শুনানি আগামী রোববার (২১ জুলাই) অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় বিশেষ চেম্বার আদালত এই আদেশ দেন।

এর আগে কোটা নিয়ে আনা হাইকোর্ট রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল শুনানির জন্য রোববার আপিল বিভাগে আবেদন করার কথা জানান এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন।

দুপুরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আগামী ৭ আগস্ট ২০২৪ সালে যে মামলাটার শুনানি হওয়ার কথা ছিল সেই শুনানি এগিয়ে আনার জন্য ব্যবস্থা নিতে। আমি সেই মর্মে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছি যে, আগামী রোববার বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে আবেদন করবেন যাতে মামলার শুনানির তারিখ তারা এগিয়ে আনেন।’ 

;

‘কোটা নিয়ে আপিল শুনানির জন্য রোববার আবেদন করা হবে’



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন/ছবি: সংগৃহীত

এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন/ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কোটা নিয়ে আনা হাইকোর্ট রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল শুনানির জন্য রোববার আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এ কথা জানান।

কোটা সংক্রান্ত হাইকোর্ট রায়ের বিরুদ্ধে সরকার পক্ষে ও শিক্ষার্থীদের পক্ষে পৃথক লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়েছে।

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া হাইকোর্ট রায়ের বিরুদ্ধে দুই শিক্ষার্থীর পক্ষে আজ লিভ টু আপিল (আপিল দায়েরে আবেদন) করা হয়েছে।

দুই শিক্ষার্থীর আইনজীবী শাহ মঞ্জুরুল হক সাংবাদিকদের বলেন, লিভ টু আপিল দায়ের করা হয়েছে। এতে হাইকোর্টের রায় বাতিল বা সংশোধন চাওয়া হয়েছে।

এর আগে এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, কোন সংক্রান্ত হাইকোর্ট রায়ের বিরুদ্ধে রাস্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল দায়ের করেছে। সর্বোচ্চ আদালত শুনানি শেষে এ বিষয়ে আদেশ দেবেন।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটার বিষয়ে পক্ষগুলোকে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে গত ১০ জুলাই আদেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ কিছু পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনাসহ এ আদেশ দেয়।

ওইদিন এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, আপিল বিভাগ বিষয়টি নিয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে বলেছেন। অর্থাৎ, যেমন আছে, তেমন থাকবে। কোটা বাতিল-সংক্রান্ত ২০১৮ সালের পরিপত্রের ভিত্তিতে যে সব সার্কুলার দেয়া হয়েছে, সে ক্ষেত্রে কোটা থাকছে না। আগামী ৭ আগষ্ট বিষয়টি শুনানির জন্য থাকবে।

সরকারি চাকরিতে (৯ম থেকে ১৩তম গ্রেড) মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীর আনা আবেদনের শুনানি নিয়ে সর্বোচ্চ আদালত ১০ জুলাই আদেশ দেয়। সেই সাথে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফিরে যেতে আহ্বান জানানো হয়।

সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে ৫ জুন রায় দেয় হাইকোর্ট। ওই রায়ের ফলে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল হয়। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর নবম থেকে ১৩তম গ্রেড পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে একটি পরিপত্র জারি করে। সেখানে বলা হয়েছিল, ৯ম গ্রেড (পূর্বতন ১ম শ্রেণি) এবং ১০ম-১৩তম গ্রেড (পূর্বতন ২য় শ্রেণি) পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাতালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ দিতে হবে। ওই পদসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি বাতিল করা হলো। যেখানে নারী কোটা ১০ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা ৩০ শতাংশ এবং জেলা কোটা ১০ শতাংশ, উপজাতি ৫ ও প্রতিবন্ধীর ১ শতাংশ কোটা বাতিল করা হয়।

এই পরিপত্রের মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ চ্যালেঞ্জ করে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও প্রজন্ম কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম তুষারসহ সাতজন হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন। সে রিটের শুনানি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা ৩০ শতাংশ কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। সে রুল যথাযথ ঘোষণা করে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ বলে গত ৫ জুন রায় দেয় হাইকোর্ট। গত সোমবার হাইকোর্ট রায় প্রকাশিত হয়। এরপর সংক্ষুব্ধরা লিভ টু আপিল দায়েরের উদ্যোগ নেন।

;