পশ্চিমবঙ্গে অনেকটাই কমল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা



অরিন্দম ভট্টচার্য্য, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, কলকাতা
পশ্চিমবঙ্গে অনেকটাই কমল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা

পশ্চিমবঙ্গে অনেকটাই কমল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা

  • Font increase
  • Font Decrease

পশ্চিমবঙ্গে অনেকটাই কমল করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সোমবার (৩১ জানুয়ারি) রাজ্যটির স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ৯১০ জন। গত একদিনে রাজ্যে করোনা টেস্ট হয়েছে ৩৪ হাজার ৮১৭টি। একদিন আগেই এই সংখ্যাটি ছিল ৫৭ হাজার ৮৫টি। তবে গত একদিনে করোনার কারণে প্রাণ গিয়েছে ৩৬ জনের।

এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, রাজ্যে করোনা কমেছে, তাই কিছু বিষয়ে শিথিল করা হচ্ছে। তবে যতক্ষণ না আরও নামবে ততদিন রাজ্যে কোভিড বিধি নিষেধ থাকবে। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জারি থাকবে বিধিনিষেধ। রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত জারি থাকবে নাইট কার্ফু।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আরও ঘোষণা করে বলেন, ৭৫ শতাংশ কর্মচারী নিয়ে খুলতে পারবে সরকারি ও বেসরকারি অফিস। ৭৫ শতাংশ লোক নিয়ে খুলতে পারবে রেস্টুরেন্ট, বার, সিনেমা হল। পার্ক, বিনোদন পার্ক আপাতত খুলে দেওয়া হচ্ছে। ১৫ ফেব্রুয়ারির পর পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার বলে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

এছাড়া মমতা জানান, ৭৫ শতাংশ লোক নিয়ে স্পোর্টস অ্যাক্টিভিটি করা যাবে। ৭৫ শতাংশ মানুষ নিয়ে সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক অনুষ্ঠান করা যাবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মতো রাস্তার মিটিং, মিছিল ২০০ জনকে নিয়েই করতে হবে। প্রসঙ্গত, সল্টলেক-সহ রাজ্যের আরও কয়েকটি জেলায় রয়েছে পুরসভা ভোট।

এছাড়া কলকাতা থেকে মুম্বাই এবং দিল্লির বিমানে বিধিনিষেধ উঠল। তবে বেঙ্গালোরে করোনা গ্রাফ ঊর্ধমুখী থাকায় কলকাতা-বেঙ্গালোরর বিমানে কড়াকড়ি বহাল থাকছে। পাশাপাশি কলকাতা-ব্রিটেন বিমান চলাচলেও বিধিনিষেধ উঠল। তবে সব বিদেশির জন্য করোনা টেস্ট অর্থাৎ আরটি পিসিআর টেস্ট বাধ্যতামূলক।

অন্যদিকে, রাজ্যে করোনা সংক্রমণ কমার কারণে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে খুলে দেওয়া হচ্ছে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়।

   

কলকাতায় 'চেতনায় নজরুল'



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
কলকাতায় 'চেতনায় নজরুল'

কলকাতায় 'চেতনায় নজরুল'

  • Font increase
  • Font Decrease

আমাদের প্রাণের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ছায়ানট (কলকাতা) অক্সফোর্ড বুকস্টোরে 'চেতনায় নজরুল' অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠান শুরু হয় বিকেল ৫টায়। ছায়ানট (কলকাতা) - এর উদ্যোগে তৈরি নতুন অ্যালবাম 'নজরুলকে নিবেদিত পংক্তিমালা' অ্যালবামের মোড়ক উন্মোচন করেন পশ্চিমবঙ্গ সংখ্যালঘু কমিশনের চেয়ারম্যান এবং 'পুবের কলম' পত্রিকার সম্পাদক জনাব আহমদ হাসান ইমরান।

কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে লেখা বিভিন্ন কবির কবিতা দিয়ে সাজানো হয়েছে এই অ্যালবাম। ভারত এবং বাংলাদেশ মিলে ৩৪ জন বাচিক শিল্পী কণ্ঠ দিয়েছেন এই অ্যালবামে। যাঁদের লেখা কবিতা স্থান পেয়েছে এই অ্যালবামে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম - কুমুদরঞ্জন মল্লিক, অন্নদাশঙ্কর রায়, নরেন্দ্র দেব, নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়, আশাপূর্ণা দেবী, ভবানীপ্রসাদ মজুমদার। মোট ৬৭ জন কবির ৭২টি কবিতা দিয়ে সাজানো হয়েছে এই অ্যালবাম। এছাড়াও ছিল নজরুল-কবিতা পাঠের আসর। সমগ্র অনুষ্ঠানটির পরিকল্পনা ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ছায়ানটের সভাপতি সোমঋতা মল্লিক।

কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা আবৃত্তি করেন সুকন্যা রায়, শ্রবণা ভট্টাচার্য, দেবযানী বিশ্বাস, ডাঃ সৌমিত্র নারায়ণ শূর, ইন্দ্রাণী নাগ, শতানীক ভট্টাচার্য্য, স্নেহাঙ্গনা ভট্টাচার্য, মিতালী ভট্টাচার্য্য, সুজল দত্ত, স্বপ্নিকা দাস রায়, স্বর্ণিকা দাস রায়, মহুয়া বসু, রাজশ্রী বসু, প্রাযুক্তা চক্রবর্তী, অপর্ণা চক্রবর্তী, চিত্রা সোম বাসু, পাপিয়া মুখার্জী, ব্রততী চক্রবর্তী, সন্দীপ ভট্টাচার্য, সীমা দাশগুপ্তা, মাধবী দে, তপন ঘোষ, সঞ্চয়িতা মিত্র, সুস্মিতা ঘোষ, আর্যদ্যুতি ঘোষ, অর্ঘ্যদ্যুতি ঘোষ এবং দিয়ান দাস।

দলীয় পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন কল্যাণী শ্রুতিকল্পর শিশুশিল্পীরা।

;

নজরুল চর্চার স্বীকৃতিতে সম্মানিত সোমঋতা মল্লিক



কনক জ্যোতি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
নজরুল চর্চার স্বীকৃতিতে সম্মানিত সোমঋতা মল্লিক/বার্তা২৪.কম

নজরুল চর্চার স্বীকৃতিতে সম্মানিত সোমঋতা মল্লিক/বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease
 
ছায়ানট (কলকাতা) নজরুল চর্চায় নিবেদিত অগ্রণী প্রতিষ্ঠান। সভাপতি শিল্পী সোমঋতা মল্লিকের নেতৃত্বে শুধু ভারত বা বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে ছায়ানট।
 
নজরুল জীবন ও সাহিত্যকর্মের নিরিখে বছরব্যাপী অনুষ্ঠান পালনের পাশাপাশি ছায়ানট প্রকাশ করেছে নতুনের গান, জীবনীভিত্তিক ক্যালেন্ডার ও বর্ণময় প্রকাশনা। গবেষণা করছে নজরুল জীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রপঞ্চ।
 
কলকাতায় নজরুল স্মৃতিধন্য জনপদ ও স্থাপনাসমূহকে ধ্বংস, দখল ও অবলুপ্তির কবল থেকে রক্ষা করার কৃতিত্ব ছায়ানটের। সেসব স্থানে তথ্য ফলক দিয়ে সংরক্ষণের আওতায় এনেছে সংগঠনটি।
 
নজরুল জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে আলীপুর জেল কিংবা রাঁচি মানসিক হাসপাতাল ছিল তাৎপর্যবাহী। ছায়ানট সেসব স্থানে নজরুল কর্নাল ও তথ্যফলক দিয়ে নজরুলের সংগ্রামমুখর জীবনের ঐতিহাসিক পরম্পরাকে সজিব রেখেছে।
 
নজরুলচর্চায় নিবেদিত ছায়ানট (কলকাতা) - এর সভাপতি সোমঋতা মল্লিক স্বীকৃতি পেয়েছেন কলকাতার 'অন্বেষণ পরিবার' নামক সামাজিক, সাংস্কৃতিক, সাহিত্য সংগঠন কর্তৃক। তাকে এ উপলক্ষে সম্মান প্রদান করেন সংগঠনের শ্রী অমিতাভ। 
 
বার্তা২৪.কম'কে শিল্পী সোমঋতা মল্লিক বলেন, 'যেকোনো সম্মাননা কাজের প্রণোদনা আরো বাড়িয়ে দেয়। বিশ্বময় নজরুল চর্চা এগিয়ে চলুক, এই প্রত্যাশায় আমি ও ছায়ানট কাজ করে যাবে।'
 
;

কলকাতায় দুদিনব্যাপী 'নজরুল কবিতা উৎসব'



কনক জ্যোতি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
কলকাতায় দুদিনব্যাপী 'নজরুল কবিতা উৎসব'

কলকাতায় দুদিনব্যাপী 'নজরুল কবিতা উৎসব'

  • Font increase
  • Font Decrease

গত ৪ এবং ৫ এপ্রিল রবীন্দ্র সদন চত্বরে অবনীন্দ্র সভাগৃহে ছায়ানট (কলকাতা) - এর উদ্যোগে 'নজরুল কবিতা উৎসব ২০২৪' অনুষ্ঠিত হয়। দু দিনে শতাধিক শিল্পী একক/দলীয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। বিকেল ৫টা-রাত্রি ৯টা অনুষ্ঠিত হয় এই কবিতা উৎসব।

পরিকল্পনা ও পরিচালনায় ছায়ানটের সভাপতি সোমঋতা মল্লিক। নজরুল কবিতা উৎসবের উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি এবং পশ্চিমবঙ্গ কবিতা আকাদেমির সভাপতি
মাননীয় সুবোধ সরকার। ৪ এপ্রিল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. শেখ কামাল উদ্দীন, অধ্যক্ষ- হিঙ্গলগঞ্জ মহাবিদ্যালয় ও সভাপতি- নজরুল চর্চা কেন্দ্র। তাঁর আলোচনার বিষয় ছিল 'বাংলা সাহিত্যে অভিনবত্বের দিশারী নজরুল'। ৫ এপ্রিল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. শেখ মকবুল ইসলাম (ডি. লিট.), বিভাগীয় প্রধান, বাংলা বিভাগ, সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল মিশন কলেজ, কলকাতা'। কাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি তাঁর সৃষ্টি নিয়ে গবেষণার অনেকখানি অবকাশ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ড. শেখ মকবুল ইসলাম।

একক পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন ঊর্মিলা সেন, অতসী নন্দ গোস্বামী, বর্ণালী সরকার, পীতম ভট্টাচার্য, শম্পা দাস,
তাপস চৌধুরী, সুদীপ্ত রায়, শম্পা বটব্যাল, শুভদীপ চক্রবর্তী, নীলাঞ্জনা চট্টোপাধ্যায়, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবযানী বিশ্বাস, ইন্দ্রাণী লাহিড়ী, শাশ্বতী ঘোষ, দেবলীনা চৌধুরী, সৌমিতা নস্কর, মিতালী ভট্টাচার্য্য, সুকন্যা রায়, তৃষিতা সাহা, এরিসা কামিলা, ইনশ্রী নাথ, শতাক্ষী নাথ, সোনালী চট্টোপাধ্যায়, মোনামি সামন্ত, দোয়েল চ্যাটার্জী, চিত্রা সোম বাসু, গোপা ভট্টাচার্য্য রায়, ইন্দ্রাণী নাগ, ডক্টর সৌমিত্র নারায়ণ শূর, মিতালী মুখার্জী, দীপ্তি বর্মন, অন্বেষা মুখার্জী, রাকা দাস, দেবলীনা দাশগুপ্ত, শর্মিলা মাজী, মোনালিসা শীল, অপর্না চক্রবর্তী, দীপিকা গোস্বামী, পাপিয়া ভট্টাচার্য, সৃজিতা ঘোষ, শাশ্বতী বাগচী, প্রাযুক্তা চক্রবর্তী, জয়িতা দত্ত এবং রুনা মুখার্জি।

দলীয় পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন ছায়ানট (কলকাতা), আন্তরিক, বরানগর প্রতিশ্রুতি, নৈহাটি বঙ্কিম স্মৃতি সংঘ, আরশি হরিণঘাটা, প্রেরণা আবৃত্তি অনুশীলন কেন্দ্র, আমরা অ আ ক খ স্বরবর্ণ ব্যঞ্জনবর্ণ, অন্বেষণ, কাব্যপথিক, শ্রুতিবৃত্ত, আবৃত্তিওয়ালা, শৃণ্বন্তু, বৈখরী, পাঠশালা, অনন্ত উড়ান, অনুরণন, চেতনা, শ্রুতিকথন, যাদবপুর কথাছন্দ এবং প্রতিধ্বনি - এর শিল্পীবৃন্দ।

সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন সোমা মুখোপাধ্যায়, অপরাজিতা মল্লিক, দেবলীনা চৌধুরী এবং রাকা দাস।

ছায়ানটের সভাপতি সোমঋতা মল্লিক বলেন, "এ বছর দ্বিতীয়বারের মতো আমরা 'নজরুল কবিতা উৎসব' - এর আয়োজন করলাম। আমাদের প্রাণের কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি নিয়ে ২ দিন ব্যাপী এই বিশেষ আয়োজনে বাচিকশিল্পীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আমরা আপ্লুত।
অনেক বাচিক শিল্পীকে আমরা সুযোগ দিতে পারিনি, আমরা সত্যিই ক্ষমাপ্রার্থী, আগামী বছর আরও বেশীদিন ধরে এই আয়োজন করার চেষ্টা করব। কাজী নজরুল ইসলামের লেখা জনপ্রিয় কবিতার পাশাপাশি বেশ কিছু স্বল্পশ্রুত কবিতা আমরা শুনতে পেলাম এই কবিতা উৎসবে - এখানেই আয়োজনের সার্থকতা।"

;

বয়সের ভারে শীর্ণ, তবু আজ ও ছুটেছে ১৫১ বছরের ট্রাম



ঋত্বিক মুখোপাধ্যায়, কলকাতা
-কলকাতার রাজপথে এখনও ছুটে চলছে ট্রাম

-কলকাতার রাজপথে এখনও ছুটে চলছে ট্রাম

  • Font increase
  • Font Decrease

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলেছে সবকিছু। হয়েছে বিবর্তন। পুরনোকে বিদায় জানিয়ে নুতনকে স্বাগত জানিয়েছে মানুষ। পুরনো যা কিছু এখন দেখা যায় জাদুঘরে কিংবা কারও ব্যক্তিগত সংগ্রহে। একইভাবে সময়ের সঙ্গে তাল রেখে বদলেছে এক সময়ের ভারতবর্ষের রাজধানী কলকাতা । সময়ের পরিবর্তনে এখন যা ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের প্রধান শহর।

অন্য আর পাঁচটা শহরের মত গতি পেয়েছে কল্লোলিনী কলকাতা। তবে ১৫১ বছর আগের কলকাতার একটা খন্ডচিত্রের অংশ ট্রাম এখনও দিব্যি চলছে কলকাতার বুকে । গেল ২৪ ফেব্রুয়ারি ছিল কলকাতার ট্রামের জন্মদিন । ১৮৭৩ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ আমলে প্রথমবার শুরু রাস্তা দিয়ে চলে ঘোড়ায় টানা কাঠের ট্রাম।

শিয়ালদা থেকে আর্মেনিয়ান ঘাট পর্যন্ত প্রথমবার ছুটেছিল সেই ট্রাম। এই বছর কলকাতার সেই ট্রাম যাত্রা পা রাখতে চলেছে একশো একান্ন বছরে ৷ তবে প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ট্রামেরও বিবর্তন হয়েছে। ১৯০২ সালের ২৭ মার্চ ধর্মতলা খিদিরপুর-রুটে প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রাম চলেছিল।

অনেকেই হয়তো জানেন না যে, ভারতে কলকাতা ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি শহরে একসময় চলত ট্রাম ৷ কলকাতার পর তৎকালীন মাদ্রাজ, দিল্লি, বোম্বে, কানপুর, ভাভনগর, নাসিক এবং পাটনাতেও শুরু হয়েছিল ট্রাম পরিষেবা। এমনকী ব্রিটিশ ইন্ডিয়ায় করাচি এবং কলম্বোতেও ছিল ট্রাম পরিষেবা। তবে সেগুলি সবই পরে বন্ধ হয়ে যায়। কল্লোলিনী কলকাতার জীর্ণকায়ে ট্রাম কোনওমতে বাঁচিয়ে রেখেছে নিজের অস্তিত্ব।

একসময় রমরম করে স্বমহিমায় শহরের বুক চিঁড়ে ঘণ্টির শব্দ করে দৌঁড়ে যেত ট্রাম ৷ সেই দৃশ্য এখন বড়ই বিরল । ঠাণ্ডা ঘরে ঢুকেছে ট্রামের ভবিষৎ । তাই বোধহয় ট্রামের ১৫১ বছর নিয়ে মানুষের মধ্যে উৎসাহ একেবারেই নেই । তবে শহরের ট্রামপ্রেমী সংগঠন ক্যালকাটা ট্রাম ইউজারস অ্যাসোসিয়েশন, ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন ও ট্রাম যাত্রা বলে একটি সংগঠনের উদ্যোগে এই উপলক্ষ্যে এক বিশেষ উদ্যোগ নেয়।

কলকাতায় ট্রাম পরিবহণ ব্যবস্থা অন্যান্য দেশের ট্রাম নেটওয়ার্ক তুলনায় অনেকটাই অন্যরকম। শতাব্দী প্রাচীন এই ট্রামগুলি এখনও পরিষেবা দিয়ে চলেছে । সাধারণ মানুষের মতে শুধুমাত্র ট্রামকে উন্নত করলেই চলবে না। ট্রাম এবং অন্যান্য পরিবহণ ব্যবস্থা যাতে একে অপরের সমস্যা সৃষ্টি না-করে পরিষেবা দিতে পারে সেইভাবে পরিকল্পনা করতে হবে ।

ট্রামের তার দেখিয়ে মহানগর কলকাতার পরিচয় তুলে ধরতে চেয়েছিলেন সত্যজিৎ। কিন্তু কলকাতার পরিচয় বহনকারী সেই ট্রাম এখন যেন ‘ফেয়ারওয়েল’ পাওয়ার অপেক্ষায়। দেড়শো বছর ধরে শহরের ‘ঐতিহ্য’ হয়ে থেকে গেলেও ‘হেরিটেজ’ তকমা জোটেনি তার।

;