হজ নিয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্তই নেবে সৌদি আরব



মুফতি এনায়েতুল্লাহ, বিভাগীয় প্রধান, ইসলাম
কাবা শরিফ, মক্কা, ছবি: সংগৃহীত

কাবা শরিফ, মক্কা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর পবিত্র হজ নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা খুব দ্রুতই কাটবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা। করোনা সংক্রমণ রোধে আরোপিত বিধি-নিষেধ শিথিল করে দুই মাসেরও বেশি সময় পর ৩১ মে থেকে মদিনার মসজিদে নববীসহ সৌদি আরবের প্রায় ৯০ হাজার মসজিদের দ্বার নামাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।

তবে এখনও মসজিদে হারাম সর্বসাধারণের জন্য পুরোপুরি উন্মুক্ত করা হয়নি। জুন মাসের তৃতীয় সপ্তাহ নাগাদ ধীরে ধীরে মক্কা অঞ্চলের মসজিদগুলো খুলে দেওয়া হবে। এর মধ্য দিয়ে আসন্ন হজের দ্বার খুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

করোনার প্রকোপ দেখা দেওয়ার পর ৩১ মার্চ হজ পালনেচ্ছুকদের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত হজের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে বলেছিলেন দেশটির হজ ও উমরা বিষয়ক মন্ত্রী ড. মোহাম্মদ সালেহ বিন তাহের বেনতেন।

সৌদি আরব করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে উমরা স্থগিত করে। ওই পদক্ষেপের পর থেকেই হজ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে হজ বন্ধের গুজব ছড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে সৌদি মন্ত্রী এ কথা বলেছিলেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ৩০ জুলাই (৯ জিলহজ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাধারণত সৌদি আরব ১৫ শাওয়ালের পর থেকে উমরা ভিসা বন্ধ করে দিয়ে হজের প্রস্তুতি নিত। আর জিলকদ মাসের শুরু থেকে হজযাত্রীরা সৌদি আরব গমন শুরু করতেন। এবার করোনা দেখা দেওয়ার পর থেকে (২৭ ফেব্রুয়ারি) উমরা বন্ধ রয়েছে, তাই এবারের হিসাব ভিন্ন। কিন্তু বৃহস্পতিবার (৪ জুন, সৌদি আরবে শাওয়ালের ১২ তারিখ) পর্যন্ত স্পষ্ট কোনো ঘোষণা সৌদি কর্তৃপক্ষ দেয়নি হজ নিয়ে।

বিভিন্ন দেশ সৌদি আরবের কাছে স্পষ্টভাবে জানতে চাচ্ছে হজের বিষয়ে। বেশিরভাগ দেশ হজের জন্য সৌদি আরবের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। এরই মধ্যে এ বছরের হজযাত্রা স্থগিত করেছে ইন্দোনেশিয়া। এশিয়ার এই রাষ্ট্র থেকে সর্বাধিক হজযাত্রী হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যান। দেশটির জন্য চলতি বছর হজের কোটা বরাদ্দ হয়েছিল ২ লাখ ২১ হাজার জনের। ইতোমধ্যেই এর ৯০ শতাংশের নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছিল। তার পরও নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সতর্কতার জন্য দেশটি হজযাত্রা বাতিল করল।

এর আগে সিঙ্গাপুর ঘোষণা করেছে, এবার তার দেশের নাগরিকদের হজ পালনে পাঠাবে না। আফ্রিকার দেশ মরক্কো হজের সিদ্ধান্ত দ্রুত জানাতে সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ২৮ মে দেশটির ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ তৌফিক বলেন, তার দেশে ৩৪ হাজার হজযাত্রী সিদ্ধান্ত জানতে ব্যাকুল। আমরা তাদের কিছু বলতে পারছি না। সময় খুব কম, প্রস্তুতির অনেক বিষয় রয়েছে। তাই আমরা সৌদি আরবের প্রতি আহ্বান জানাই হজের বিষয়ে স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়ার।

ইতোমধ্যে পাকিস্তান ও নাইজেরিয়া নিজ নিজ দেশের দূতাবাসের মাধ্যমে হজের সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চিঠি দিয়েছে। তারা বলছেন, করোনার প্রভাবে আশা জাগানিয়া কিংবা কঠোর ও বেদনাদায়ক যে ব্যবস্থাই নেওয়া হোক- সেটা আমরা মেনে নিতে প্রস্তুত। কিন্তু সেটা স্পষ্ট হওয়া চাই।

এদিকে সৌদি আরবে বসবাসকারী একাধিকসূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সৌদি আরবে করোনা পরিস্থিতি উন্নতির প্রেক্ষিতে মনে হচ্ছে, হজ একেবারে বাতিল হওয়ার কোনো শঙ্কা নেই। করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি বিবেচনায় হজের ক্ষেত্রে সৌদি আরব নতুন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এর অন্যতম হলো- করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নয় এমন দেশগুলোর হজযাত্রীদের হজের অনুমতি না দেওয়া। হজযাত্রীদের অংশগ্রহণের সংখ্যা হ্রাস করা। সৌদি আরবে অবস্থানের দিন কমিয়ে আনা। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর জন্য কোটা ১০ থেকে ৫০ শতাংশ কমানো। ৬৫ বছরের বেশি বয়সী, ১২ বছরের কম বয়সী ও অসুস্থদের জন্য হজের ভিসা ইস্যু না করা।

এ ছাড়া হজযাত্রীদের ভিসাপ্রাপ্তির পূর্বশর্ত হিসেবে করোনভাইরাসসহ নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। এমনকি সৌদি আরব পৌঁছার পরও তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। ইতোমধ্যে সৌদি আরব মক্কা-মদিনাসহ এর আশেপাশে বেশকিছু অস্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণ করেছে। এসব হাসপাতালে করোনভাইরাস টেস্ট সহজে করার সুবিধা রয়েছে।

হজের সময় সৌদি আরবের নানাবিধ সেবার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। এটা অনেকটা রুটিন কাজ। ঘোষণার পর তাদের প্রস্তুতি নিতে বেশি সময় লাগবে না উল্লেখ করে একাধিক হজ এজেন্সির মালিক বার্তা২৪.কমকে বলেন, হজযাত্রীদের পরিবহন, থাকা, খাওয়া, চলাফেরা ও যাতায়াতের জন্য নতুন করে কিছু করতে হবে না। সুতরাং সৌদি আরব সিদ্ধান্ত নিলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারবে।

কয়েকজন প্রবাসী বার্তা২৪.কমকে জানিয়েছেন, স্পষ্ট কোনো ঘোষণা না দিলেও সৌদি আরব ভেতরে ভেতরে হজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এক্ষেত্রে হজযাত্রীর সংখ্যা কমবে। সৌদিতে অবস্থানের সময়ও কমবে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এমন দেশের নির্দিষ্ট নাগরিকরাই কেবল হজের অনুমতি পাবেন। আর মক্কা অঞ্চলকে এখনও কারফিউর আওতায় রাখা হয়েছে হজের প্রস্তুতির জন্যই।

আজিজিয়া এলাকায় বসবাসকারী বেশ কয়েকজন প্রবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব এলাকার হোটেল ও বাসা-বাড়িগুলো হজ মৌসুমের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নতুন করে কোনো বাসা তারা ভাড়া দিচ্ছেন না, অপেক্ষায় হজের।

এ দিকে হজের বিষয়ে চলতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে দেশটির সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে মনে করছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শেখ মো. আব্দুল্লাহ। সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিনি বলেন, ‘আমরা আসন্ন হজের জন্য নিবন্ধনসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি। এ বছর বাংলাদেশসহ বহির্বিশ্বের হজযাত্রীরা হজপালন করতে পারবেন কি না তা নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর। সব বিষয় বিবেচনা করে ওই সিদ্ধান্ত নেবে সৌদি সরকার। আশা করছি, এ ব্যাপারে তারা ১৫ জুনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবে। তাদের সিদ্ধান্ত পাওয়া মাত্রই বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করবে।’

এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজার যাত্রী চলতি বছর হজের জন্য নিবন্ধন করেছেন বলেও জানান ধর্ম প্রতিমন্ত্রী। সৌদি আরবের দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী এ বছর বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জনের হজে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ার কথা। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৭ হাজার ১৯৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় এক লাখ ২০ হাজার জন। কিন্তু করোনা আতঙ্কের কারণে নিবন্ধনে তেমন সাড়া না পড়ায় এবারের পূর্বনির্ধারিত কোটা পূরণ হয়নি। নিবন্ধন সার্ভার সূত্র মতে, বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় তিন হাজার ৪৫৭ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৬১ হাজার ১৪২ জন নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। বাংলাদেশ থেকে ২৩ জুন হজ ফ্লাইট শুরু করার আশা প্রকাশ করেছিল ধর্ম মন্ত্রণালয়।

হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, হজে লোক পাঠাতে বাংলাদেশ সরকার ও হাবের সবধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। সার্বিক অবস্থার ওপর সবকিছু নির্ভর করছে জানিয়ে তিনি বলেন, সৌদি সরকার যে সিদ্ধান্ত নেবে তার ওপর সবকিছু নির্ভর করছে। তাদের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে সারা বিশ্ব।

   

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে হতে যাচ্ছে দেশের তৃতীয় বৃহৎ মসজিদ



ইবি প্রতিনিধি, বার্তা২৪.কম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে দুই দশমিক ২৫ হেক্টর জায়গাজুড়ে নির্মাণাধীন সুবিশাল মসজিদটি ক্যাম্পাসভিত্তিক সর্ববৃহৎ মসজিদ। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে এশিয়া মহাদেশের সুন্দরতম মসজিদগুলোর একটি হবে এটি এবং দেশের তৃতীয় বৃহৎ মসজিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।

স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের দিকে তাকালে যে কারও ভালোলাগা কাজ করবে। দূর থেকে দেখলে শুধু চেয়ে থাকতে ইচ্ছে করবে এই ধর্মীয় স্থাপনাটির দিকে। নির্মাণকাজ শেষ হলে এই মসজিদে একসঙ্গে ১৭ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন বলে জানা গেছে।

সুবিশাল জায়গাজুড়ে বিস্তৃত চারতলা বিশিষ্ট বর্গাকৃতির মসজিদটি সিরামিক ও শ্বেতপাথরে নির্মিত হয়েছে। মসজিদের গায়ে সূর্যের আলোয় দিনের বেলায় উজ্জ্বল আভা ছড়িয়ে থাকে। সুউচ্চ গম্বুজ যেন মাথা উঁচু করে ক্যাম্পাসে তার আপন মহিমার প্রকাশ করছে। মসজিদটি দেখতে প্রতি শুক্রবার আশেপাশের এলাকা থেকে দর্শনার্থীদের আগমন চোখে পড়ার মতো।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মসজিদের গ্রাউন্ড ফ্লোরের আয়তন ৫১ হাজার বর্গফুট। চারতলা বিশিষ্ট মসজিদের মূল অংশে মোট ৭ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। এছাড়া মসজিদের সামনের অংশে আরও ১০ হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারবে। মসজিদের সামনের অংশে ৯০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট গম্বুজের পাশাপাশি ছোট-বড় ১৪টি গম্বুজ রয়েছে।

মসজিদের চারপাশে চারটি মিনার নির্মাণ করা হবে। যার প্রতিটির উচ্চতা হবে ১৫০ ফুট। এ ছাড়া মসজিদের তিন পাশ দিয়েই প্রবেশপথ থাকবে। প্রতিটি প্রবেশপথে একটি করে গম্বুজ নির্মিত হবে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি অনুষদ ভবন থেকে মসজিদে আসার জন্য রয়েছে প্রশস্ত পথ।

কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজের পাশাপাশি আরও কিছু সহকার্যক্রম রয়েছে। যেমন- ইসলামি গ্রন্থাগার ও গবেষণা কেন্দ্র, ইসলামি ব্যাংক, কর্মচারীদের জন্য ক্যাফেটেরিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য দোতলায় নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর থেকে জানা যায়, মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৯৪ সালে শুরুর দিকে। প্রথম দিকে সরকারি অর্থায়নে কাজ শুরু হলেও পরে বিদেশ থেকে অনুদান আসে। তবে মসজিদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা ভিন্ন খাতে ব্যয় করা হলে ও সঠিকভাবে কাজে না লাগানোর অভিযোগ উঠলে অর্থ ফেরত নেয় বিদেশি প্রতিষ্ঠান। এর ফলে নির্মাণ কাজে বাঁধা সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে ২০০৪ সালে সরকারি অনুদানের ওপর ভিত্তি করে ৩৬ শতাংশ কাজ শেষ হলে তৎকালীন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মোশারেফ হোসাইন শাহজাহান মসজিদটি উদ্বোধন করেন এবং নামাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। পরের ১৩ বছর আর কোনো নির্মাণ কাজ চলেনি। এর পর ২০১৭ সালে উপাচার্য রাশিদ আসকারীর সময় দুই ধাপে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কিছু সম্পন্ন হয়।

সাংবাদিকতা বিভাগের ২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. তুষার বলেন, ক্যাম্পাসে আসার পর সবার আগে যে জিনিসটি চোখে পড়ছিলো সেটি হলো- কেন্দ্রীয় মসজিদ। প্রতি শুক্রবার এখানে এক উৎসবমুখর পরিবেশের জন্ম দেয়। হাজার হাজার মুসল্লির সঙ্গে একত্রে নামাজ আদায় করলে মনে এক অন্যরকম অনুভূতির সৃষ্টি হয়। তবে মসজিদের বেশ কিছু কাজ এখনও বাকি। আমার প্রত্যাশা থাকবে, দ্রুত মসজিদের কাজ সম্পন্ন করার।

অসমাপ্ত কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এ. কে. এম শরীফ উদ্দীন বলেন, প্রকল্পটা আমাদের অনেক বড়। উপমহাদেশের বেশকিছু মসজিদের সঙ্গে এটি সম্পন্ন করা হবে। আর অনেক বড় প্রকল্প হওয়ার ঠিকমতো বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না, তাই দেরি হচ্ছে।

এ ছাড়া বরাদ্দ ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে কোনো বরাদ্দ আসছে কি না এই ব্যাপারে আমার জানা নেই। আমি দায়িত্বে আসার পর দেখছি পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নেই হচ্ছে প্রকল্পটি। আর ডিজাইন যেটা করা হয়েছে সেটা সম্পন্ন হবে।

;

ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ১৭ জুন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশে ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ১৭ জুন, ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ১৭ জুন, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছরের পবিত্র ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে মিসরের জ্যোতির্বিদ্যা ইনস্টিটিউট। সংস্থাটি বলেছে, আগামী ৭ জুন চলতি হিজরি সনের জিলহজ মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে আগামী ১৬ জুন রোববার ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে।

যদি মিসরের জ্যোতির্বিদ্যা ইনস্টিটিউটের তথ্য সঠিক হয়, তাহলে বাংলাদেশে আগামী ১৭ জুন সোমবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মিসরের জ্যোতির্বিদ্যা ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ড. তাহা রাবাহ বলেছেন, তাদের সৌর গবেষণা ল্যাবরেটরি গণনা করে দেখেছে ৭ জুন জিলহজ মাসের প্রথম দিন হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তাদের হিসাব-নিকাশে দেখা গেছে, কায়রোর সময় অনুযায়ী আগামী ৬ জুন দুপুর ২টা ৩৯ মিনিটে জিলহজ মাসের অর্ধচন্দ্রের জন্ম হবে। ওইদিন জিলকদ মাসের ২৯তম দিন থাকবে।

ওইদিনই মক্কায় জিলহজের অর্ধচন্দ্রটি সূর্যাস্তের ১১ মিনিট এবং কায়রোতে ১৮ মিনিট পর পর্যন্ত দেখা যাবে। এছাড়া মিসরের অন্যান্য অঞ্চলগুলোতে নতুন এ চাঁদটি সূর্যাস্তের ১২ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত দেখা যাবে।

তিনি আরও বলেন, আরব বিশ্বের দেশগুলোর আকাশে ওইদিন অর্ধচন্দ্রটি ১ থেকে ২৮ মিনিট পর্যন্ত অবস্থান করবে।

তবে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালামপুর এবং ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার আকাশে চাঁদটি সূর্যাস্তের ৯ থেকে ১৪ মিনিট আগে অস্ত যাবে। এর ফলে ওইদিন এই অঞ্চলে চাঁদটি দেখা যাবে না।

সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যেদিন চাঁদ দেখা যায়; তার পরের দিন বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোতে চাঁদ দেখা যায়।

জিলহজ মাসের ১০ তারিখের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো- আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে পশু কোরবানি করা। কোরবানি শুধু ইসলামি শরিয়তেই নয়। বরং পূর্ববর্তী সব শরিয়তে কোরবানির বিধান ছিল, যদিও সবার পন্থা এক ছিল না।

ইসলামে কোরবানির গুরুত্ব অনেক। নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক এমন প্রত্যেক ব্যক্তির কোরবানি আদায় করা ওয়াজিব। কেউ ওয়াজিব কোরবানি না করলে তার ব্যাপারে হাদিসে কঠোর ধমকি এসেছে।

;

বাদশাহর অতিথি হয়ে হজ করবেন ২ হাজার ৩২২ জন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বাদশাহ সালমান, ছবি: সংগৃহীত

বাদশাহ সালমান, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ৮৮টি দেশের ১ হাজার ৩শ’ কৃতি নাগরিকসহ ফিলিস্তিনে শহীদ, কারাগারে বন্দী এবং আহত পরিবারের ১ হাজার সদস্যকে রাজকীয় মেহমান হিসেবে হজের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমন্ত্রিতের তালিকায় আরও রয়েছে সৌদি আরবে অপারেশন করে বিচ্ছিন্ন করা জমজ শিশু আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমানের পরিবারের ২২ সদস্য।

মঙ্গলবার (২৮ মে) সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রকল্পটি সৌদি আরবের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, দাওয়াহ এবং গাইডেন্স মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ২৬ বছর আগে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ কর্মসূচির আওতায় ৬০ হাজারেরও বেশি হজযাত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সৌদির ধর্ম, দাওয়া ও গাইডেন্স বিষয়ক মন্ত্রী ড. আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজ আলে শেখ বলেন, এই আদেশটি বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের জন্য সৌদি নেতৃত্বের অব্যাহত যত্ন এবং মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব জোরদার করার প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে।

মন্ত্রী বলেন, এই হজযাত্রীদের আতিথেয়তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং একটি কৌশলগত পরিকল্পনাও তৈরি করা হয়েছে।

যেসব দেশের মুসলিমরা বাদশাহর অতিথি হয়ে হজপালনের সুযোগ পেয়েছেন তাদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস এবং ধর্মীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে সৌদি সরকার। ভিসা প্রদান, হজ করতে আসা এবং হজ করে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত পুরো বিষয়টির সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। পরিকল্পনাটি হজযাত্রীদের তাদের নিজ দেশ থেকে প্রস্থান করার সময় শুরু হয় এবং নিশ্চিত করে যে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে উমরা ও হজপালনের জন্য সমস্ত সুবিধা পাবে এবং মদিনা সফর করবে এবং মসজিদে নববিতে প্রার্থনা করবে।

;

বছরে একবার ১০ মিনিটের জন্য যাওয়া যাবে রিয়াজুল জান্নাতে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
রিয়াজুল জান্নাত, ছবি: সংগৃহীত

রিয়াজুল জান্নাত, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম স্থান মসজিদে নববিতে অবস্থিত নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা শরিফ ও রিয়াজুল জান্নাত জিয়ারতে নতুন নিয়ম চালু করেছে সৌদি আরব।

নতুন নিয়মে রিয়াজুল জান্নাতে বছরে মাত্র একবার যাওয়া যাবে, অবস্থান করা যাবে ১০ মিনিট। গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

খবরে বলা হয়, কোনো মুসলিম শেষবার ভ্রমণের ৩৬৫ দিন পর আবার রিয়াজুল জান্নাতে যাওয়ার আবেদন করতে পারবেন। নুসুক বা তাওয়াক্কলনা অ্যাপের মাধ্যমে জিয়ারত প্রত্যাশীদের আবেদন করতে হবে।

হারামাইন জেনারেল অথরিটি জানিয়েছে, জিয়ারতকারীদের নুসুক অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে। অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য দেওয়া নির্ধারিত সময়ের পনেরো মিনিট আগে রিয়াজুল জান্নাত জিয়ারতের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাতে হবে।

নিয়ম অনুযায়ী পবিত্র হজ ও উমরা পালনে আসা যাত্রীরা মদিনায় নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা জিয়ারতে আসেন। তবে রওজা শরিফ জিয়ারত এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ আদায়ের জন্য আগে থেকে অনুমিত নিতে হয়। সেই অনুমতির ক্ষেত্রে এ নতুন বিধি জারি করল সৌদি আরব।

মসজিদে নববিতে রাসুল (সা.)-এর রওজা এবং তার জামানার মূল মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানকে নবী করিম (সা.) বেহেশতের বাগানসমূহের একটি বাগান বলেছেন। এটাই রিয়াজুল জান্নাত। এর আয়তন প্রায় ২২ মিটার দৈর্ঘ্য ১৫ মিটার প্রস্থ। স্থানটি সীমানা দিয়ে ঘিরে রাখা। এ স্থানে নামাজ পড়া উত্তম।

রিয়াজুল জান্নাত হলো- দুনিয়ায় অবস্থিত জান্নাতের বাগানসমূহের একটি। তাই জিয়ারতকারীরা এখানে নামাজ আদায় ও দোয়ার জন্য ব্যাকুল থাকেন।

;