নিরর্থক কথা ও কাজ ত্যাগ করা ইসলামের সৌন্দর্য



ইসলাম ডেস্ক, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
নিরর্থক কথা ও কাজ ত্যাগ করা ইসলামের সৌন্দর্য, ছবি: সংগৃহীত

নিরর্থক কথা ও কাজ ত্যাগ করা ইসলামের সৌন্দর্য, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি অর্জন প্রত্যেক মুমিনের কাঙ্খিত বিষয়। কিন্তু কাঙ্খিত লক্ষে পৌঁছা দুরূহ কাজ। ইবাদত-বন্দেগির পাশাপাশি সত্য বলা, সত্যের ওপর কায়েম থাকা, পরিবারকে সৎ পথে পরিচালিত করা কঠিন সংগ্রাম ও সাধনার বিষয়। কারণ আমাদের সমাজ ব্যবস্থা অপসংস্কৃতি, কুশিক্ষা, সুদ, ঘুষ, অনিয়ম, দুর্নীতি, অনাচার, অবিচার ও অত্যাচারে জর্জরিত। সমাজে সুনীতি, সদাচার ও সততা নেই বললেই চলে। তাই বলে হতাশ হলে চলবে না। প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। দুনিয়ার সব ধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে মানুষকে কোরআন-হাদিসের অনুগামী-অনুসারী হতে হবে। এ লক্ষে জীবন ঘনিষ্ঠ কিছু হাদিস এখানে সংকলন করা হলো- যেসব হাদিসের প্রতিটি বাক্য, প্রতিটি লাইন আমাদের আলোর দিশারী।

বিশ্বস্ততা
এক. যার মধ্যে আমানত নেই, তার ঈমান নেই। -মিশকাত
শব্দার্থ: আমানত মানে- বিশ্বস্ততা ও বিশ্বাসযোগ্যতা।
দুই. যে অঙ্গিকার রক্ষা করে না, তার ধর্ম নেই। -মিশকাত

পছন্দ শুধু নিজের জন্যে নয়
এক. নিজের জন্যে যা পছন্দ করো, অন্যদের জন্যেও তাই পছন্দ করবে, তবেই হতে পারবে মুমিন। -সহিহ মুসলিম
দুই. তোমাদের কেউ মুমিন হবে না, যতক্ষণ সে নিজের জন্যে যা পছন্দ করে, তার ভাইয়ের জন্যেও তাই পছন্দ না করবে। -সহিহ বোখারি

মুসলমানের অধিকার
এক. মুসলমান সে, যে নিজের অনিষ্টকর ভাষা ও কর্ম থেকে মুসলমানদের নিরাপদ রাখে। -সহিহ বোখারি
দুই. মুসলমানকে গালি দেওয়া ফাসেকি আর হত্য করা কুফরি। -সহিহ বোখারি
তিন. প্রত্যেক মুসলমানের জন্যে অপর মুসলমানদের রক্ত, সম্পদ ও ইজ্জত সম্মানযোগ্য। -সহিহ মুসলিম
ব্যাখ্যা: হাদিসটির অর্থ এভাবেও বলা যায়, মুসলমানের জন্যে মুসলমানের রক্তপাত করা এবং সম্পদ ও ইজ্জত নষ্ট করা হারাম।

ধোঁকা, হিংসা ও বিদ্বেষ
এক. যে কাউকেও প্রতারণা করলো, সে আমার লোক নয়। -সহিহ মুসলিম
দুই. সাবধান! তোমরা হিংসা করা থেকে আত্মরক্ষা করো। -সুনানে আবু দাউদ
তিন. তোমরা একে অপরের প্রতি হিংসা করো না, ঘৃণা-বিদ্বেষ করো না এবং পরস্পর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। -সহিহ মুসলিম

শিশু
এক. শিশুরা আল্লাহর ফুল। -তিরমিজি

পরিজনের কাছে উত্তম
এক. তোমাদের মাঝে উত্তম লোক সে, যে তার পরিবার-পরিজনের কাছে উত্তম। -ইবনে মাজাহ

জনসেবা
এক. রোগীর সেবা করো এবং ক্ষুধার্তকে খেতে দাও। -সহিহ বোখারি
দুই. আল্লাহ সব কিছুর প্রতি দয়া ও সহানুভূতি দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন। -সহিহ মুসলিম
তিন. আল্লাহ ততক্ষণ বান্দার সাহায্য করেন, যতক্ষণ সে তার ভাইয়ের সাহায্য করে। -সহিহ মুসলিম
চার. যে তার ভাইয়ের প্রয়োজন পূরণ করে, আল্লাহ তার প্রয়োজন পূরণ করেন। -সহিহ বোখারি
পাঁচ. তোমার ভাইয়ের বিপদে আনন্দ প্রকাশ করো না। -তিরমিজি

ব্যক্তিত্ব গঠন
এক. মুসলমান ব্যক্তির ইসলামের সৌন্দর্যগুলোর একটি হলো- নিরর্থক কথা ও কাজ ত্যাগ করা। -তিরমিজি
দুই. লজ্জা ঈমানের অংশ। -মিশকাত
তিন. যখন সাহায্য চাইবে, আল্লাহর কাছে চেয়ো। -মিশকাত

আল্লাহকে স্মরণ করা
এক. যে তার প্রভুকে স্মরণ করে, আর যে করে না; তাদের উদাহরণ হলো- জীবিত ও মৃতের মতো। -সহিহ মুসলিম

সত্য কথা
এক. সত্য কথা বলো, যদিও তা তিক্ত। -ইবনে হিব্বান

কর্মকৌশল
এক. প্রচেষ্টার চেয়ে বড় কোনো যুক্তি নাই। -ইবনে হিব্বান

নিন্দুক
এক. কোনো নিন্দুক জান্নাতে প্রবেশ করবে না। -সহিহ বোখারি

রাগ
এক. রাগে উত্তেজিত হলে চুপ করে থাকো। -আদাবুল মুফরাদ
দুই. তোমাদের কেউ যখন উত্তেজিত হবে, সে যেন অজু করে আসে। -সুনানে আবু দাউদ

অহংকার
এক. যার মনে বিন্দু পরিমাণ অহংকার আছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। -সহিহ মুসলিম

সালাম
এক. তোমাদের মাঝে সালাম আদান-প্রদানের ব্যাপক প্রচলন করো। -সহিহ মুসলিম
দুই. সবচেয়ে কৃপণ লোক সে, যে সালাম আদান-প্রদানে কৃপণতা করে। -তিবরানি

দয়া ও ভালোবাসা
এক. যারা পৃথিবীতে আছে তাদের দয়া করো, তাহলে যিনি আকাশে আছেন তিনি তোমাকে দয়া করবেন। -মিশকাত
দুই. যে মানুষের প্রতি দয়া করে না, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করেন না। -সহিহ বোখারি
তিন. তোমরা মুমিন হবে না যতক্ষণ একে অপরকে ভালোবাসবে না। -সহিহ মুসলিম

শরীরের অধিকার
এক. তোমার ওপর তোমার শরীরেরও অধিকার রয়েছে। সহিহ বোখারি
ব্যাখ্যা: শরীরের অধিকার হলো- শরীর সুস্থ রাখা ও প্রয়োজনীয় বিশ্রাম নেওয়া।

প্রতিবেশীর অধিকার
এক. প্রতিবেশীর প্রতি সুন্দর সহানুভূতির আচরণ করো, তবেই মুমিন হবে। -মিশকাত
দুই. সে মুমিন নয়, যে নিজে পেট পুরে খায় আর পাশেই তার প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে। -বায়হাকি

প্রাচুর্য
এক. মনের প্রাচুর্যই আসল প্রাচুর্য। -সহিহ বোখারি
দুই. আল্লাহতায়ালা তোমার ভাগে যা রেখেছেন, তাতে সন্তুষ্ট থাকো; তবেই হবে সবচেয়ে প্রাচুর্যশালী। -মিশকাত
তিন. যার উদ্দেশ্য হয় পরকাল লাভ করা, আল্লাহ তার অন্তরে প্রাচুর্য দান করেন। -তিরমিজি

জান্নাত ও জাহান্নাম
এক. জান্নাত এতই আকর্ষণীয় যে, তার আকাংখীর চোখে ঘুম আসে না। -তিবরানি
দুই. দোজখ এতই ভয়াবহ যে, তার থেকে পলায়নকারীর চোখে ঘুম আসে না। -তিবরানি

মনের মরীচিকা
এক. মনের মধ্যে লোহার মতোই মরীচিকা পড়ে। আর তা দূর করার উপায় হলো- ক্ষমা প্রর্থনা করা। -বায়হাকি

অধীনস্থ
এক. অধীনস্থদের সঙ্গে নিকৃষ্ট আচরণকরী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। -আহমদ

মৃতদের গালি না দেওয়া
এক. মৃতদের গালি দিয়ো না। -মিশকাত

উড়ো কথা প্রচার না করা
এক. প্রতিটি শোনা কথা বলে বেড়ানোটাই মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্যে যথেষ্ট। -সহিহ মুসলিম

মর্যাদা দান
এক. মর্যাদা অনুযায়ী মানুষকে সমাদর করো। -সুনানে আবু দাউদ

সতর্কতা
এক. মুমিন এক পাথরে দুইবার হোঁচট খায় না। -সহিহ বোখারি

অট্টহাসি
এক. অধিক হাসাহাসি অন্তরকে মেরে ফেলে। -তিবরানি

সন্তান
এক. তোমাদের সন্তানদের মর্যাদা দান করো এবং তাদের সুন্দর আচার ব্যবহার শেখাও। -ইবনে হিব্বান

শক্তিমান কে?
এক. শক্তিশালী সে, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। -সহিহ মুসলিম

অধঃপতন
এক. যার কর্ম তাকে ডুবায়, তার বংশ তাকে উঠাতে পারে না। -সহিহ মুসলিম

শাসক হবে তেমন
এক. তোমরা হবে যেমন, তোমাদের শাসকও হবে তেমন। -মিশকাত

অপরের দোষ
এক. যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের দোষ গোপন করবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ গোপন করবেন। -সহিহ মুসলিম

   

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে হতে যাচ্ছে দেশের তৃতীয় বৃহৎ মসজিদ



ইবি প্রতিনিধি, বার্তা২৪.কম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে দুই দশমিক ২৫ হেক্টর জায়গাজুড়ে নির্মাণাধীন সুবিশাল মসজিদটি ক্যাম্পাসভিত্তিক সর্ববৃহৎ মসজিদ। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে এশিয়া মহাদেশের সুন্দরতম মসজিদগুলোর একটি হবে এটি এবং দেশের তৃতীয় বৃহৎ মসজিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।

স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের দিকে তাকালে যে কারও ভালোলাগা কাজ করবে। দূর থেকে দেখলে শুধু চেয়ে থাকতে ইচ্ছে করবে এই ধর্মীয় স্থাপনাটির দিকে। নির্মাণকাজ শেষ হলে এই মসজিদে একসঙ্গে ১৭ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন বলে জানা গেছে।

সুবিশাল জায়গাজুড়ে বিস্তৃত চারতলা বিশিষ্ট বর্গাকৃতির মসজিদটি সিরামিক ও শ্বেতপাথরে নির্মিত হয়েছে। মসজিদের গায়ে সূর্যের আলোয় দিনের বেলায় উজ্জ্বল আভা ছড়িয়ে থাকে। সুউচ্চ গম্বুজ যেন মাথা উঁচু করে ক্যাম্পাসে তার আপন মহিমার প্রকাশ করছে। মসজিদটি দেখতে প্রতি শুক্রবার আশেপাশের এলাকা থেকে দর্শনার্থীদের আগমন চোখে পড়ার মতো।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মসজিদের গ্রাউন্ড ফ্লোরের আয়তন ৫১ হাজার বর্গফুট। চারতলা বিশিষ্ট মসজিদের মূল অংশে মোট ৭ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। এছাড়া মসজিদের সামনের অংশে আরও ১০ হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারবে। মসজিদের সামনের অংশে ৯০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট গম্বুজের পাশাপাশি ছোট-বড় ১৪টি গম্বুজ রয়েছে।

মসজিদের চারপাশে চারটি মিনার নির্মাণ করা হবে। যার প্রতিটির উচ্চতা হবে ১৫০ ফুট। এ ছাড়া মসজিদের তিন পাশ দিয়েই প্রবেশপথ থাকবে। প্রতিটি প্রবেশপথে একটি করে গম্বুজ নির্মিত হবে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি অনুষদ ভবন থেকে মসজিদে আসার জন্য রয়েছে প্রশস্ত পথ।

কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজের পাশাপাশি আরও কিছু সহকার্যক্রম রয়েছে। যেমন- ইসলামি গ্রন্থাগার ও গবেষণা কেন্দ্র, ইসলামি ব্যাংক, কর্মচারীদের জন্য ক্যাফেটেরিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য দোতলায় নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর থেকে জানা যায়, মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৯৪ সালে শুরুর দিকে। প্রথম দিকে সরকারি অর্থায়নে কাজ শুরু হলেও পরে বিদেশ থেকে অনুদান আসে। তবে মসজিদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা ভিন্ন খাতে ব্যয় করা হলে ও সঠিকভাবে কাজে না লাগানোর অভিযোগ উঠলে অর্থ ফেরত নেয় বিদেশি প্রতিষ্ঠান। এর ফলে নির্মাণ কাজে বাঁধা সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে ২০০৪ সালে সরকারি অনুদানের ওপর ভিত্তি করে ৩৬ শতাংশ কাজ শেষ হলে তৎকালীন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মোশারেফ হোসাইন শাহজাহান মসজিদটি উদ্বোধন করেন এবং নামাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। পরের ১৩ বছর আর কোনো নির্মাণ কাজ চলেনি। এর পর ২০১৭ সালে উপাচার্য রাশিদ আসকারীর সময় দুই ধাপে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কিছু সম্পন্ন হয়।

সাংবাদিকতা বিভাগের ২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. তুষার বলেন, ক্যাম্পাসে আসার পর সবার আগে যে জিনিসটি চোখে পড়ছিলো সেটি হলো- কেন্দ্রীয় মসজিদ। প্রতি শুক্রবার এখানে এক উৎসবমুখর পরিবেশের জন্ম দেয়। হাজার হাজার মুসল্লির সঙ্গে একত্রে নামাজ আদায় করলে মনে এক অন্যরকম অনুভূতির সৃষ্টি হয়। তবে মসজিদের বেশ কিছু কাজ এখনও বাকি। আমার প্রত্যাশা থাকবে, দ্রুত মসজিদের কাজ সম্পন্ন করার।

অসমাপ্ত কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এ. কে. এম শরীফ উদ্দীন বলেন, প্রকল্পটা আমাদের অনেক বড়। উপমহাদেশের বেশকিছু মসজিদের সঙ্গে এটি সম্পন্ন করা হবে। আর অনেক বড় প্রকল্প হওয়ার ঠিকমতো বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না, তাই দেরি হচ্ছে।

এ ছাড়া বরাদ্দ ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে কোনো বরাদ্দ আসছে কি না এই ব্যাপারে আমার জানা নেই। আমি দায়িত্বে আসার পর দেখছি পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নেই হচ্ছে প্রকল্পটি। আর ডিজাইন যেটা করা হয়েছে সেটা সম্পন্ন হবে।

;

ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ১৭ জুন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশে ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ১৭ জুন, ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ১৭ জুন, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছরের পবিত্র ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে মিসরের জ্যোতির্বিদ্যা ইনস্টিটিউট। সংস্থাটি বলেছে, আগামী ৭ জুন চলতি হিজরি সনের জিলহজ মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে আগামী ১৬ জুন রোববার ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে।

যদি মিসরের জ্যোতির্বিদ্যা ইনস্টিটিউটের তথ্য সঠিক হয়, তাহলে বাংলাদেশে আগামী ১৭ জুন সোমবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মিসরের জ্যোতির্বিদ্যা ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ড. তাহা রাবাহ বলেছেন, তাদের সৌর গবেষণা ল্যাবরেটরি গণনা করে দেখেছে ৭ জুন জিলহজ মাসের প্রথম দিন হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তাদের হিসাব-নিকাশে দেখা গেছে, কায়রোর সময় অনুযায়ী আগামী ৬ জুন দুপুর ২টা ৩৯ মিনিটে জিলহজ মাসের অর্ধচন্দ্রের জন্ম হবে। ওইদিন জিলকদ মাসের ২৯তম দিন থাকবে।

ওইদিনই মক্কায় জিলহজের অর্ধচন্দ্রটি সূর্যাস্তের ১১ মিনিট এবং কায়রোতে ১৮ মিনিট পর পর্যন্ত দেখা যাবে। এছাড়া মিসরের অন্যান্য অঞ্চলগুলোতে নতুন এ চাঁদটি সূর্যাস্তের ১২ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত দেখা যাবে।

তিনি আরও বলেন, আরব বিশ্বের দেশগুলোর আকাশে ওইদিন অর্ধচন্দ্রটি ১ থেকে ২৮ মিনিট পর্যন্ত অবস্থান করবে।

তবে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালামপুর এবং ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার আকাশে চাঁদটি সূর্যাস্তের ৯ থেকে ১৪ মিনিট আগে অস্ত যাবে। এর ফলে ওইদিন এই অঞ্চলে চাঁদটি দেখা যাবে না।

সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যেদিন চাঁদ দেখা যায়; তার পরের দিন বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোতে চাঁদ দেখা যায়।

জিলহজ মাসের ১০ তারিখের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো- আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে পশু কোরবানি করা। কোরবানি শুধু ইসলামি শরিয়তেই নয়। বরং পূর্ববর্তী সব শরিয়তে কোরবানির বিধান ছিল, যদিও সবার পন্থা এক ছিল না।

ইসলামে কোরবানির গুরুত্ব অনেক। নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক এমন প্রত্যেক ব্যক্তির কোরবানি আদায় করা ওয়াজিব। কেউ ওয়াজিব কোরবানি না করলে তার ব্যাপারে হাদিসে কঠোর ধমকি এসেছে।

;

বাদশাহর অতিথি হয়ে হজ করবেন ২ হাজার ৩২২ জন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বাদশাহ সালমান, ছবি: সংগৃহীত

বাদশাহ সালমান, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ৮৮টি দেশের ১ হাজার ৩শ’ কৃতি নাগরিকসহ ফিলিস্তিনে শহীদ, কারাগারে বন্দী এবং আহত পরিবারের ১ হাজার সদস্যকে রাজকীয় মেহমান হিসেবে হজের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমন্ত্রিতের তালিকায় আরও রয়েছে সৌদি আরবে অপারেশন করে বিচ্ছিন্ন করা জমজ শিশু আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমানের পরিবারের ২২ সদস্য।

মঙ্গলবার (২৮ মে) সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রকল্পটি সৌদি আরবের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, দাওয়াহ এবং গাইডেন্স মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ২৬ বছর আগে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ কর্মসূচির আওতায় ৬০ হাজারেরও বেশি হজযাত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সৌদির ধর্ম, দাওয়া ও গাইডেন্স বিষয়ক মন্ত্রী ড. আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজ আলে শেখ বলেন, এই আদেশটি বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের জন্য সৌদি নেতৃত্বের অব্যাহত যত্ন এবং মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব জোরদার করার প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে।

মন্ত্রী বলেন, এই হজযাত্রীদের আতিথেয়তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং একটি কৌশলগত পরিকল্পনাও তৈরি করা হয়েছে।

যেসব দেশের মুসলিমরা বাদশাহর অতিথি হয়ে হজপালনের সুযোগ পেয়েছেন তাদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস এবং ধর্মীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে সৌদি সরকার। ভিসা প্রদান, হজ করতে আসা এবং হজ করে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত পুরো বিষয়টির সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। পরিকল্পনাটি হজযাত্রীদের তাদের নিজ দেশ থেকে প্রস্থান করার সময় শুরু হয় এবং নিশ্চিত করে যে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে উমরা ও হজপালনের জন্য সমস্ত সুবিধা পাবে এবং মদিনা সফর করবে এবং মসজিদে নববিতে প্রার্থনা করবে।

;

বছরে একবার ১০ মিনিটের জন্য যাওয়া যাবে রিয়াজুল জান্নাতে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
রিয়াজুল জান্নাত, ছবি: সংগৃহীত

রিয়াজুল জান্নাত, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম স্থান মসজিদে নববিতে অবস্থিত নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা শরিফ ও রিয়াজুল জান্নাত জিয়ারতে নতুন নিয়ম চালু করেছে সৌদি আরব।

নতুন নিয়মে রিয়াজুল জান্নাতে বছরে মাত্র একবার যাওয়া যাবে, অবস্থান করা যাবে ১০ মিনিট। গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

খবরে বলা হয়, কোনো মুসলিম শেষবার ভ্রমণের ৩৬৫ দিন পর আবার রিয়াজুল জান্নাতে যাওয়ার আবেদন করতে পারবেন। নুসুক বা তাওয়াক্কলনা অ্যাপের মাধ্যমে জিয়ারত প্রত্যাশীদের আবেদন করতে হবে।

হারামাইন জেনারেল অথরিটি জানিয়েছে, জিয়ারতকারীদের নুসুক অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে। অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য দেওয়া নির্ধারিত সময়ের পনেরো মিনিট আগে রিয়াজুল জান্নাত জিয়ারতের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাতে হবে।

নিয়ম অনুযায়ী পবিত্র হজ ও উমরা পালনে আসা যাত্রীরা মদিনায় নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা জিয়ারতে আসেন। তবে রওজা শরিফ জিয়ারত এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ আদায়ের জন্য আগে থেকে অনুমিত নিতে হয়। সেই অনুমতির ক্ষেত্রে এ নতুন বিধি জারি করল সৌদি আরব।

মসজিদে নববিতে রাসুল (সা.)-এর রওজা এবং তার জামানার মূল মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানকে নবী করিম (সা.) বেহেশতের বাগানসমূহের একটি বাগান বলেছেন। এটাই রিয়াজুল জান্নাত। এর আয়তন প্রায় ২২ মিটার দৈর্ঘ্য ১৫ মিটার প্রস্থ। স্থানটি সীমানা দিয়ে ঘিরে রাখা। এ স্থানে নামাজ পড়া উত্তম।

রিয়াজুল জান্নাত হলো- দুনিয়ায় অবস্থিত জান্নাতের বাগানসমূহের একটি। তাই জিয়ারতকারীরা এখানে নামাজ আদায় ও দোয়ার জন্য ব্যাকুল থাকেন।

;