গরমের জন্য জুমার খুতবা সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
কাবা প্রাঙ্গণে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা, ছবি: সংগৃহীত

কাবা প্রাঙ্গণে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মক্কার মসজিদে হারাম ও মদিনার মসজিদে নববিতে জুমার খুতবা সংক্ষিপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে ও তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে চলতি গ্রীষ্মের শেষ পর্যন্ত এই নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় শুক্রবারের জুমার নামাজের প্রথম ও দ্বিতীয় আযানের মধ্যবর্তী সময়ও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২২ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মসজিদে হারাম ও নববিতে জুমার নামাজের আগে নির্ধারিত খুতবা চলমান গ্রীষ্ম মৌসুমের শেষ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত করে কয়েক মিনিটের মধ্যে শেষ করতে হবে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দেশ-বিদেশের আগত মুসল্লিদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজকীয় নির্দেশে জুমার খুতবা এবং নামাজের সময়কাল ১৫ মিনিটে নামিয়ে আনা হবে বলে সৌদি আরবের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন। এই নির্দেশনা পালন গত শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে এবং গ্রীষ্মের শেষ অবধি এটি অব্যাহত থাকবে। আগে জুমার খুতবা সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট স্থায়ী হতো।

দুই পবিত্র মসজিদের ধর্মীয় বিষয়ক প্রেসিডেন্সির প্রধান আবদুর রহমান আস-সুদাইস বলেছেন, এই পদক্ষেপটি মুসল্লিদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষায় সৌদি নেতাদের আগ্রহকেই তুলে ধরছে।

এ ছাড়া নির্দেশনাটি জুমার নামাজের জন্য প্রথম আজানকেও বিলম্বিত করবে। শুক্রবার জুমার নামাজে প্রথম আজান এবং দ্বিতীয় আজানের মধ্যে সময়কাল ১০ মিনিটে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

কাবা দেখার আনন্দ বর্ণনাতীত: মুহাম্মদ ফারাহ

হজের আগেও মক্কা-মদিনার ইমাম-খতিবদের প্রচণ্ড গরমে হজযাত্রীদের পরিস্থিতি বিবেচনায় হজের মৌসুমে জুমার খুতবা ও নামাজ সংক্ষিপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মূলত লাখ লাখ হজযাত্রীর বিভিন্ন পবিত্র স্থান পরিদর্শন এবং মক্কা ও মদীনায় তীব্র গরমের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সৌদি ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটিওরোলজি (এনসিএম) শনিবার থেকে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত দেশটির বেশিরভাগ অংশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। বলা হচ্ছে, এ সময় তাপমাত্রা ৪৮-৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে।

মক্কা, মদিনা, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং রিয়াদে এই সপ্তাহে অত্যন্ত বেশি গরম আবহাওয়া অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

ঐতিহ্যগতভাবে, মক্কা এবং এর আশপাশে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পরে অনেক হজযাত্রী ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম মসজিদ মসজিদে নববিতে নামাজ আদায় করতে পবিত্র শহর মদিনায় ছুটে যান। এই মসজিদে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা শরিফ রয়েছে, যেখানে নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) শায়িত আছেন।

এমন অবস্থায় সৌদি কর্তৃপক্ষ বারবার হজযাত্রীদের হাইড্রেটেড থাকার এবং হিট স্ট্রোক এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া মুসল্লিদের পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল পান করার, সূর্যের সরাসরি তাপ এড়িয়ে চলার, ছাতা ব্যবহার এবং ছায়াযুক্ত স্থানে নামাজ পড়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

মুসলিমদের কাছে ক্ষমা চাইল শ্রীলঙ্কা



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ইফতার মাহফিলে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে, ছবি: সংগৃহীত

ইফতার মাহফিলে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাস মহামারির সময় মৃতদের লাশ বাধ্যতামূলকভাবে পোড়ানোর নির্দেশ দেওয়ায় মুসলিমদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে শ্রীলঙ্কা।

এ ছাড়া ক্ষমা চাওয়া সংক্রান্ত একটি যৌথ প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে শ্রীলঙ্কার মন্ত্রিসভা।

করোনা মহামারির সময় মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতির বিরুদ্ধে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মুসলিমদের লাশ পুড়িয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটি।

বুধবার (২৪ জুলাই) পৃথক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া মুসলিমদের লাশ বাধ্যতামূলকভাবে পোড়ানোর নির্দেশ দেওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে দ্বীপ দেশটির মুসলিম সংখ্যালঘুদের কাছে ক্ষমা চেয়েছে শ্রীলঙ্কার সরকার। যদিও করোনায় মৃতদের লাশ মুসলিম রীতিতে দাফন করাকে নিরাপদ বলে জানিয়েছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এছাড়া মৃতদের লাশ ইসলামিক রীতিতে দাফন নিরাপদ বলে বিশেষজ্ঞরাও মতামত দিয়েছিলেন।

মঙ্গলবার শ্রীলঙ্কার সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘কোভিড-১৯ মহামারি চলাকালীন বাধ্যতামূলকভাবে লাশ পুড়িয়ে ফেলার নীতির বিষয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা’ করেছে দেশের মন্ত্রিসভা।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মহামারির সময় লাশ বাধ্যতামূলকভাবে পুড়িয়ে ফেলার বিষয়ে সরকারের এই নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত সকল সম্প্রদায়ের কাছে ‘সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষমা চাওয়ার বিষয়ে’ মন্ত্রিসভার সদস্যদের একটি গ্রুপ যৌথ প্রস্তাবও অনুমোদন করেছেন।

করোনা মহামারির সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির প্রেসিডেন্ট ছিলেন গোটাবায়া রাজাপাকসে। তার সরকারই সেসময় এমন বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শ্রীলঙ্কায় একটি নতুন আইন করা হবে হবে যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে মুসলিম বা অন্যকোনো সম্প্রদায়ের মানুষের দাফন বা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার রীতিনীতি লঙ্ঘন না করা নিশ্চিত করার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে।

ঐতিহ্যগতভাবে, মুসলমানরা মুসলিমদের লাশকে কেবলার দিকে মুখ করে দাফন করে থাকে। আর শ্রীলঙ্কার সংখ্যাগরিষ্ঠ বৌদ্ধদের মরদেহ হিন্দুদের মতো সাধারণত দাহ করা হয়।

শ্রীলঙ্কার মুসলিম প্রতিনিধিরা সরকারের এই ক্ষমা প্রার্থনাকে স্বাগত জানিয়েছে। কিন্তু তারা বলেছে, তাদের সমগ্র সম্প্রদায় এই ঘটনার আঘাত এখনও বয়ে বেড়াচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপ দেশের ২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ হচ্ছে মুসলিম জনগোষ্ঠী।

;

ব্রিটিশ রাজনীতিতে মুসলমানদের অবস্থান শক্তিশালী হচ্ছে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো আইন ও বিচার মন্ত্রী হয়েছেন একজন মুসলিম নারী, তিনি কোরআন হাতে শপথ নিয়েছেন, ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যে প্রথমবারের মতো আইন ও বিচার মন্ত্রী হয়েছেন একজন মুসলিম নারী, তিনি কোরআন হাতে শপথ নিয়েছেন, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ক্রমবর্ধমান ইসলামফোবিয়া সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে রেকর্ডসংখ্যক মুসলিম এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। এবারই প্রথমবারের মতো দেশটির মন্ত্রিসভায় আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন একজন মুসলিম নারী। শাবানা মাহমুদ নামের ওই মন্ত্রী পবিত্র কোরআন হাতে শপথ নিয়েছেন।

এ ছাড়া আরও দুই মুসলিম নারী মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন। তাদের অন্যতম হলেন- বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলী। তিনি গৃহায়ণ, কমিউনিটি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পার্লামেন্টারি আন্ডার সেক্রেটারি হয়েছেন। এর আগে যুক্তরাজ্যের ‘সিটি মিনিস্টার’ হন টিউলিপ সিদ্দিক। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি। বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ।

মুসলিম নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ হাউস অফ কমন্সে ২০১৯ সালে ১৯ জন এমপি ছিলেন। এবারের নির্বাচনে ২৫ জন মুসলিম নির্বাচিত হয়েছে। ব্রিটেনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক মুসলিম এমপি এবারই নির্বাচিত হলেন।

নির্বাচিতদের মধ্যে ১৮ জন লেবার পার্টির, চারজন স্বতন্ত্র, দুজন কনজারভেটিভ পার্টির এবং একজন লিবারেল ডেমোক্র্যাট দলের।

মুসলিম নেটওয়ার্কের দাবি, গাজার প্রতি মুসলিম ভোটারদের সমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। ফলে চারজন মুসলিমসহ পাঁচটি স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে জয় পেয়েছেন।

তারা মোট ৬৫০ এমপির প্রায় ৪ শতাংশ। তবে মুসলিমরা যেহেতু ব্রিটেনের জনসংখ্যার ৬.৫ শতাংশ, তাই হাউস অফ কমন্সে মুসলিমদের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে আরও ১৭ জন এমপি দরকার।

নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে ব্রিটেনের ইসলামি মানবাধিকার কমিশনের প্রধান মাসুদ শাজারেহ বলেছেন, ব্রিটেনের রাজনৈতিক অঙ্গনে মুসলমানরা প্রভাবশালী শক্তিতে পরিণত হয়েছে। ব্রিটেনে বেশি সংখ্যায় মুসলমানদের যাওয়ার প্রবণতা শুরু হয় প্রায় এক শতাব্দী আগে। বর্তমানে যে পরিসংখ্যান পাওয়া যায় তাতে দেখা যাচ্ছে, ব্রিটেনে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ।

মাসুদ শাজারেহ সম্প্রতি ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে মুসলিম ভোটের প্রভাবের কথা তুলে ধরে বলেন, ব্রিটিশ রাজনৈতিক অঙ্গনে একটা কার্যকর শক্তিতে পরিণত হয়েছে মুসলমানরা। এটাকে সর্বোত্তম উপায়ে ব্যবহারের জন্য কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনে মুসলমানদের অসন্তোষের কারণে ব্রিটিশ লেবার পার্টি কয়েকটি আসন হারিয়েছে। এই প্রভাব ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

ব্রিটিশ মুসলিম কাউন্সিলের মতো আরও সংগঠন প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরণের সংগঠনের উপস্থিতি মুসলমানদের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে তা মানুষের কাছে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি করে।

গত ৪ জুলাই সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে লেবার পার্টি পাঁচ বছরের জন্য সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। তবে গাজায় নির্বিচার গণহত্যার ব্যাপারে লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমারের ভূমিকায় ক্ষুব্ধ ছিল মুসলমানেরা। তারা নির্বাচনে নিজেদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।

ব্রিটিশ জনগণ দেশটির খারাপ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, নিত্য পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং দখলদার ইসরায়েলের অপরাধযজ্ঞের প্রতি সরকারের সমর্থনের প্রতিবাদে ভোট দিয়েছে। এর অর্থ হলো, লেবার পার্টি বিজয় পেলেও সেটা তার নিজের নীতির কারণে পায়নি বরং বিরোধী দলের অপছন্দনীয় কিছু কাজ ও নীতির কারণে মানুষ বিদ্যমান বিকল্প ধারাটিকে বেছে নিয়েছে।

;

পবিত্র কাবা ধোয়ার কাজে যারা অংশ নিলেন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
পবিত্র কাবা ধোয়ার সময় এভাবে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র কাবা ধোয়ার সময় এভাবে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে রাখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যথাযথ সম্মান, শ্রদ্ধা ও ব্যাপক উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে পবিত্র কাবাঘর ধোয়ার কর্মসূচি পালিত হয়েছে। পবিত্র দুই মসজিদের সেবক ও সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আলে সৌদের পক্ষ থেকে মক্কার ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মেশাল বিন আবদুল আজিজ এবার পবিত্র কাবা ধোয়ার কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন।

রোববার (২১ জুলাই) সকালে কাবা শরিফ ধোয়া হয়েছে।

আরব নিউজের খবরে বলা হয়, মক্কার ডেপুটি গভর্নর মসজিদে হারামে পৌঁছলে সৌদি আরবের হজ ও উমরা মন্ত্রী ড. তওফিক আল-রবিয়া তাকে স্বাগত জানান। এ সময় মসজিদে হারামের পরিচালনা পরিষদের প্রেসিডেন্ট শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইস উপস্থিত ছিলেন।

পবিত্র কাবা, ছবি: সংগৃহীত

এবার কাবা শরিফ ধোয়ার কাজে অংশ নেন মক্কার ডেপুটি গভর্নর প্রিন্স সৌদ বিন মেশাল বিন আবদুল আজিজ, সৌদি আরবের হজ ও উমরা মন্ত্রী ড. তওফিক আল-রবিয়া, হারামাইন পরিচালনা পরিষদের প্রধান শায়খ আবদুর রহমান আস সুদাইস, মুসলিম ওয়ার্ল্ড লীগের মহাসচিব ড. মুহাম্মদ বিন আবদুল করিম আল-ইসা, কাবার চাবি রক্ষক শায়খ আবদুল ওয়াহাব আল-শায়বি, মসজিদে হারামের ইমাম শায়খ সালেহ ইবনে আব্দুল্লাহ আল হুমাইদ, বিভিন্ন মুসলিম দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ অনেকেই।

জমজমের পানি ও গোলাপজল মিশ্রিত বিশেষ পানি দিয়ে কাবা শরিফ ধৌত করার পর ভেজানো পরিষ্কার কাপড় দিয়ে মুছে ফেলা হয়।

কাবা শরিফের ভেতরের দেয়ালগুলো সবুজ ভেলভেটের পর্দা দিয়ে আবৃত। ওইসব পর্দা প্রতি তিন বছর পর পর পরিবর্তন করা হয়। এর ছাদে ১২৭ সেন্টিমিটার লম্বা ও ১০৪ সেন্টিমিটার প্রস্থের একটি ভেন্টিলেটর রয়েছে। যা দিয়ে ভেতরে সূর্যের আলো প্রবেশ করে।

এটি একটি কাচ দিয়ে ঢাকা। প্রতিবছর কাবা শরিফের ভেতর ধৌত করার সময় এ কাচ খোলা হয়। এবারও কাচটি খোলা হয়েছিল।

পবিত্র কাবা ধোয়ার কাজ শেষে বেরিয়ে আসছেন মক্কার গভর্নরসহ অন্যরা, ছবি: সংগৃহীত

মূলত নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর সময় থেকে পবিত্র কাবাঘর ধোয়ার ঐতিহ্য চলে আসছে। অষ্টম হিজরিতে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) মক্কা বিজয়ের পর পবিত্র কাবাঘর ধৌত করেন। ইসলামের সম্মানিত খলিফারাও অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এ কাজ আঞ্জাম দিয়েছেন। তাদের পর থেকে আজ পর্যন্ত এ প্রথা চালু রয়েছে। আগে বছরে দুবার পবিত্র কাবা ঘর ধোয়া হতো। প্রথমবার মহররম মাসে, দ্বিতীয়বার রমজান মাস শুরুর আগে।

ধোয়ার সময় পবিত্র কাবাকে ঘিরে রাখে স্পেশাল ইমারর্জেন্সি ফোর্স ও হজ সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্যরা। তখন দূর দিয়ে তাওয়াফ করেন মুসল্লিরা।

পবিত্র কাবা ধোয়ার পর এ কাজে নিয়োজিতরা হাজরে আসওয়াদে (কালো পাথর) চুম্বন শেষে কাবা তাওয়াফ ও মাকামে ইব্রাহিমে নামাজ আদায় করেন।

পবিত্র কাবা ধোয়াকে সৌদি সরকার সবিশেষ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। এটা একটা উৎসবও বটে। উপস্থিত তাওয়াফকারীরা এ সময় আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিয়ে কাজে উৎসাহ দিয়ে থাকেন।

;

ঐক্য, সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের শিক্ষা দেয় আশুরা



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ধর্মীয় সহাবস্থানের শিক্ষা দেয় আশুরা

ধর্মীয় সহাবস্থানের শিক্ষা দেয় আশুরা

  • Font increase
  • Font Decrease

আশুরার দিবসের একটি বিশেষ দিক আছে। মানুষের অজ্ঞতা কিংবা উদাসীনতার ধরুন অনেক সময় সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করা হয় না। দিকটি হলো, আশুরা আন্তধর্মীয় ঐক্যের প্রতীক।

হাদিস শরিফ ও ইতিহাসের আলোকে দেখা যায়, বড় বড় প্রায় সব ধর্মের লোকেরা আশুরাকে সম্মান করে, শ্রদ্ধার চোখে দেখে। ইহুদিরা এই দিনে রোজা রেখে হজরত মুসা (আ.)-এর অনুসরণ করে। এ ছাড়া খ্রিস্টানরাও এই দিনকে মর্যাদার চোখে দেখে। খ্রিস্টানরা আশুরার দিনকে হজরত ঈসা (আ.)-এর জন্মদিন মনে করে।

মুসতাদরাকে হাকেমে এসেছে, হজরত জাবির (রা.) জায়দ আম্মি থেকে বর্ণনা করেন, ‘ঈসা ইবনে মারয়াম আশুরার দিনে জন্মগ্রহণ করেন।’ তবে আল্লামা জাহাবি (রহ.) বলেন, এ বর্ণনার সনদ দুর্বল। -হাকেম : ৪১৫৫

অন্যদিকে মূর্তি পূজারি আরবদেরও দেখা গেছে যে তারা এই দিনকে বিশেষ মর্যাদা দিত। জাহেলি যুগে মক্কার কাফেররা এই দিনে কাবার গিলাফ পরিবর্তন করত। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘সাহাবায়ে কেরাম রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার দিনে রোজা রাখত। সেদিন ছিল কাবাকে গিলাফ পরিধান করার দিন। যখন আল্লাহতায়ালা রমজানের রোজা ফরজ করলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বললেন, যারা রোজা রাখতে চায়, তারা রোজা রাখবে, আর যারা ছেড়ে দিতে চায়, তারা যেন ছেড়ে দেয়। -সহিহ বোখারি : ১৫৯২

এসব বর্ণনার আলোকে বোঝা যায়, আশুরা আন্তধর্মীয় ঐক্যের প্রতীক। সুতরাং বলা যায়, আশুরা আন্তধর্মীয় ঐক্য, সম্প্রীতি ও ধর্মীয় সহাবস্থানের শিক্ষা দেয়।

আশুরার দিনে আমল হিসেবে তিনটি কাজ করা যায়। প্রথমত, রোজা রাখা। এ আমলটি সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। আশুরা উপলক্ষে দুই দিন রোজা রাখা মোস্তাহাব। মহররমের ১০ তারিখের আগে বা পরে এক দিন বাড়িয়ে রোজা রাখার কথা হাদিস শরিফে এসেছে। ইসলামে আশুরার রোজার বিশেষ গুরুত্ব আছে। রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার রোজা ফরজ ছিল।

দ্বিতীয়ত, আরেকটি আমল বর্ণনা সূত্রে দুর্বল হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। তা হলো, আশুরার দিনে যথাসাধ্য খাবারে প্রশস্ততা প্রদর্শন করা। যথাসম্ভব ভালো খাবার খাওয়া। হজরত আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি নবী কারিম (সা.) থেকে বর্ণনা করেন, ‘যে ব্যক্তি আশুরার দিনে পরিবারে প্রশস্ততা প্রদর্শন করবে, সে সারা বছর প্রশস্ততায় থাকবে।’ -বায়হাকি : ৩৭৯৫

এ হাদিসের বর্ণনা সূত্রে দুর্বলতা আছে। তবে ইবনে হিব্বানের মতে, এটি ‘হাসান’ বা গ্রহণযোগ্য পর্যায়ের হাদিস। ইবনে তাইমিয়া (রহ.)-এর দাবি, রিজিকে প্রশস্ততার ব্যাপারে কোনো হাদিস নেই। এটি ধারণাপ্রসূত। ইমাম আহমদ (রহ.) বলেছেন, এটি বিশুদ্ধ হাদিস নয়। তবে এ বিষয়ে একাধিক বর্ণনা থাকার কারণে ‘হাসান’ হওয়া অস্বীকার করা যাবে না। আর ‘হাসান লিগাইরিহি’ পর্যায়ের হাদিস দ্বারা আমল করা যায়। -আস সওয়াইকুল মুহরিকা আলা আহলির রফজি ওয়াদ দালাল ওয়াজ জানদিকা : ২/৫৩৬

তৃতীয়ত, আরেকটি আমল যুক্তিভিত্তিক প্রমাণিত। তা হলো, আহলে বাইত তথা নবী পরিবারের শাহাদাতের কারণে তাদের জন্য দোয়া করা, দরুদ পড়া ও তাদের কাছ থেকে সত্যের ওপর অটল থাকার শিক্ষা গ্রহণ করা। এই তিনটি কাজ ছাড়া আশুরায় অন্যকোনো আমল নেই।

স্মরণ রাখতে হবে, ইসলামের ইতিহাসে মহররম মাসের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিভিন্ন কারণে। প্রাক-ইসলামি যুগেও মহররমের ঐতিহ্য বিদ্যমান ছিল। পৃথিবীর ইতিহাসের অসংখ্য কালজয়ী ঘটনার জ্বলন্ত সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে পুণ্যময় এ মাস। আর কারবালার ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডিও আশুরার দিনে সংঘটিত হওয়ায় পৃথিবীর ইতিহাসে এক নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। রচিত হয়েছে শোকাভিভূত এক নতুন অধ্যায়। কারবালার বিয়োগান্ত ঘটনাই আশুরার একমাত্র ও আসল প্রেরণার উৎস নয়। বরং সৃষ্টির আদি থেকে চলে আসা সত্যাশ্রয়ী মহামানবদের দ্বারা লালিত সংগ্রামী চেতনার সঙ্গে যুক্ত যবনিকা বলা যেতে পারে এ ঘটনাকে।

;