মক্কায় প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ রাস্তা ও ইবাদতের স্থান



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত মসজিদে হারামের ৯১ নম্বর গেট, ছবি: সংগৃহীত

প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত মসজিদে হারামের ৯১ নম্বর গেট, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আগে থেকে ব্যবস্থা থাকলেও চলতি হজ মৌসুমে মক্কার মসজিদে হারামে অসুস্থ, বয়স্ক ও বিশেষভাবে অক্ষম প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে হারামাইন পরিচালনা পরিষদ। তাদের দেখাশোনা, রাস্তা দেখানো ও যেকোনো ধরনের সাহায্যের জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত ২ শতাধিক গাইড নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এবার মসজিদে হারামের কয়েকটি স্থান বিভিন্ন শ্রেণির প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে, যাতে তাদের ইবাদত-বন্দেগি ও চলাচলে কোনো অসুবিধায় পড়তে না হয়।

সৌদি আরবের সরকারি বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, মসজিদে হারামে চলাচলে অক্ষম প্রতিবন্ধীদের হুইলচেয়ারের জন্য বিশেষ পথ তৈরি করা হয়েছে। সেই সঙ্গে যেখানে তাদের বসার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে, সেখানে পানিসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

পুরুষ ও নারী প্রতিবন্ধীদের জন্য মসজিদে হারামে পৃথক তিনটি স্থান সংরক্ষিত রয়েছে, যা প্রধান ফটকের কাছে। ফলে তাদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না। জায়গাগুলো হলো- মসজিদে হারামের ৯১ নম্বর গেট এবং আল শাবাকা ব্রিজের কাছে ৬৮ নম্বর গেট (নিচতলায়)।

মসজিদে হারামে প্রতিবন্ধীদের চলাচলে রয়েছে আলাদা ব্যবস্থা, ছবি: সংগৃহীত

আর নারীদের হুইলচেয়ার ব্যবহার করার জন্য বাদশাহ ফাহাদ এক্সটেনশনের গেট নম্বর ৮৮ এবং নিচতলার গেট নম্বর ৬৫ ছাড়াও মাতাফের (কাবা চত্বর) সামনে নামাজের জন্য একটি স্থান (মুসাল্লা নম্বর ১৫) সংরক্ষিত ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে হুইলচেয়ারসহ নারীরা আরামে বসতে পারেন৷

এ ছাড়া বয়স্কদের জন্য ডিজিটাল কোরআন এবং অন্ধদের জন্য ব্রেইল সংস্করণ ছাড়াও শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধীদের জন্য সাংকেতিক ভাষায় জুমার খুতবার শোনার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে।

   

হজের সফরে মৃত্যুবরণকারীর বিষয়ে হাদিসে যা এসেছে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
হজে যেয়ে অসুস্থ হওয়া যাত্রীদের মিনার তাঁবুতে নেওয়া হচ্ছে, ছবি: সংগৃহীত

হজে যেয়ে অসুস্থ হওয়া যাত্রীদের মিনার তাঁবুতে নেওয়া হচ্ছে, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

হজ ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। কেউ হজে গিয়ে মারা গেলে পরকালে তার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। মহান আল্লাহর কাছে ওই ব্যক্তি অফুরন্ত প্রতিদান লাভ করেন।

পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসুলের উদ্দেশে নিজ ঘর থেকে মুহাজির হয়ে বেল হলো, অতঃপর মৃত্যু তাকে পেয়ে বসল, তার প্রতিদান আল্লাহর কাছে, আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু।’ -সুরা নিসা : ১০০

উল্লিখিতের আয়াতের ভিত্তিতে বলা যায়, মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কেউ কোনো কাজ করতে গিয়ে মারা গেলে আল্লাহ তাকে উত্তম বিনিময় দেবেন।

হাদিসের বর্ণনা অনুসারে, হজ করতে গিয়ে মারা গেলে ওই ব্যক্তি মকবুল হজের সওয়াব পাবে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেউ হজ করার উদ্দেশে বের হয়ে মারা গেলে তার জন্য কেয়ামত পর্যন্ত হজের সওয়াব লেখা হয়। আর কেউ উমরা করতে বের হয়ে মারা গেলে তার জন্য কেয়ামত পর্যন্ত উমরার সওয়াব লেখা হয়।’ -তাবারানি : ৫৩২১

অন্য হাদিসে এসেছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সঙ্গে এক ব্যক্তি আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করছিল। হঠাৎ সে তার বাহন উটনী থেকে পড়ে যায়। এতে তার ঘাড় ভেঙে পড়ে এবং তাতে সে মারা যায়। তখন হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তাকে বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও এবং দুই কাপড়ে কাফন দাও। আর সুগন্ধি লাগাবে না এবং তার মাথা ঢাকবে না। কেয়ামতের দিন সে তালবিয়া পড়া অবস্থায় পুনরুত্থিত হবে।’ -সহিহ বোখারি : ১২৬৫

;

সৌদিতে ১৭ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতে আর মাত্র একদিন বাকি। এরই মধ্যেই বুধবার (১২ জুন) আরও দুই বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে হজ করতে গিয়ে সৌদিতে এখন পর্যন্ত ১৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ ও দুইজন নারী রয়েছেন।

মারা যাওয়া দু’জনের নাম মো. শাহ আলম (৭৭) ও সুফিয়া খাতুন (৬২)। তাদের একজনের বাড়ি কুমিল্লা ও অন্যজনের কিশোরগঞ্জ জেলায়।

এ বছর হজ পালনে গিয়ে মারা যাওয়া অপর হজযাত্রীরা হলেন- রংপুর জেলার তারাগঞ্জের গোলাম কুদ্দুস (৫৪) ও পীরগঞ্জের শাহাজুদ আলী (৫৫), নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার মো. আসাদুজ্জামান (৫৭), ভোলা জেলার মো. মোস্তফা (৯০), কুড়িগ্রাম জেলার মো. লুৎফর রহমান (৬৫), ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জের মো. মুরতাজুর রহমান (৬৩), চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার মোহাম্মদ ইদ্রিস (৬৪), ঢাকা জেলার কদমতলির মোহাম্মদ শাহজাহান (৪৮), কুমিল্লা জেলার মো. আলী ইমাম ভুঁইয়া (৬৫), কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার মো. জামাল উদ্দিন (৬৯), কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার মোহাম্মদ নুরুল আলম (৬১), কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার মাকসুদ আহমদ (৬১), ফরিদপুর জেলার নগরকান্দার মমতাজ বেগম (৬৩), ঢাকার রামপুরার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম (৫৭) ও গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার মো. সোলাইমান (৭৩)।

সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি হজ পালন করতে গিয়ে মারা গেলে তার মরদেহ সেখানেই দাফন করা হয়। নিজ দেশে আনতে দেওয়া হয় না। এমনকি পরিবার-পরিজনের কোনো আপত্তিও গ্রহণ করা হয় না। এছাড়া মক্কায় কোনো হজযাত্রী মারা গেলে মসজিদুল হারামে জানাজা হয় তার।

এদিকে বুধবার সৌদিয়া এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে চলতি বছরের হজ ফ্লাইট। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছর হজযাত্রী ও তাদের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত গাইডসহ মোট ৮৫ হাজার ১২৯ জন সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এ নিয়ে শতভাগ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। হজযাত্রীদের বহন করতে এবার তিনটি এয়ারলাইনস মোট ১২৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১০৫টি, সৌদি এয়ারলাইনসের ৭৫টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ৩৭টি ফ্লাইট রয়েছে।

;

কোরবানি করা যাবে যেসব পশু দিয়ে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
কোরবানির পশু হিসেবে গরু বেশ জনপ্রিয়, ছবি: সংগৃহীত

কোরবানির পশু হিসেবে গরু বেশ জনপ্রিয়, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কোরবানি বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য পশু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে হবে। পবিত্র কোরআনে চতুষ্পদ জন্তুর কথা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি সব জাতির জন্য কোরবানির বিধান রেখেছি, যেন আমি তাদের জীবনোকরণ হিসেবে যে চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছি তাতে (জবাই করার সময়) আল্লাহর নাম স্মরণ করে। -সুরা হজ : ৩৪

যেসব পশু দিয়ে কোরবানি হয়
তিন ধরনের চতুষ্পদ জন্তু দিয়ে কোরবানি করা যাবে। তা হলো- ১. ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা, ২. গরু, মহিষ, ৩. উট।

কোরবানির পশুর বয়সসীমা
কোরবানির জন্য উটের বয়স পাঁচ বছর হতে হবে। গরু ও মহিষের বয়স দুই বছর হতে হবে। ছাগল ও ভেড়ার বয়স এক বছর হতে হবে।

হজরত নাফে (রহ.) বর্ণনা করেছেন, হজরত আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা.) কোরবানি, হজ ও উমরার পশুর ক্ষেত্রে উটের বয়স পাঁচ বছর, গরু ও মহিষের বয়স দুই বছর এবং ছাগল, দুম্বা ও ভেড়ার ক্ষেত্রে এক বছর বয়স হওয়ার কথা বলতেন। -মুয়াত্তা মালেক : ৭৫৪

তবে ছাগল ও ভেড়া এক বছর পরিপূর্ণ না হয়ে বছরের বেশির ভাগ সময় অতিবাহিত হয় এবং দেখতে এক বছরের বাচ্চার মতো মনে হয় তাহলে এ ধরনের দুম্বা ও ভেড়া দিয়ে কোরবানি জায়েজ। ছাগলের বয়স এক বছরের কম হলে কোনো অবস্থাতেই তা দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ হবে না। -ফাতাওয়ায়ে কাজিখান : ৩/৩৪৮

কোরবানির পশু যেমন হবে
কোরবানির পশু সব ধরনের শারীরিক ত্রুটিমুক্ত হওয়া জরুরি। গুণগত দিক থেকে উত্তম হলো, পশুটি দেখতে সুন্দর, নিখুঁত বা দোষত্রুটি মুক্ত ও হৃষ্টপুষ্ট। যে পশু দেখলে পছন্দ হয়। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) শিংবিশিষ্ট ও মোটাতাজা একটি মেষ কোরবানি করেছেন। এর চেহারা, পা ও চোখ ছিল মিটমিটে কালো। -সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩১২৮

আরও পড়ুন:
কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে কোরবানি দিতে হয়

ত্রুটিযুক্ত পশুর কোরবানি শুদ্ধ হয় না

;

এবার হাজিরা ইলেকট্রিক স্কুটার ব্যবহার করতে পারবেন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ইলেকট্রিক স্কুটার, ছবি: সংগৃহীত

ইলেকট্রিক স্কুটার, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যাতায়াতের সুবিধার্থে এ বছর ইলেকট্রিক স্কুটার ব্যবহার করতে পারবেন হাজিরা। মক্কা নগরী ও পবিত্র স্থাপনাগুলোর দেখভালের দায়িত্বে থাকা সৌদি আরবের রয়্যাল কমিশন এ অনুমতি দিয়েছে। স্কুটারে যাতায়াতের জন্য তিনটি রাস্তাও ঠিক করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

হালকা ও নিরাপদ এই বাহন ব্যবহারের মাধ্যমে পবিত্র স্থাপনাগুলোতে হাজিদের যাতায়াতে সুবিধা হবে। আর পুরো বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।

ইলেকট্রিক স্কুটারে যাতায়াতের জন্য তিনটি রাস্তা নির্ধারণ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেগুলো হলো- মুজদালিফা থেকে মিনায় যাওয়ার রাস্তা; জামারায় হেঁটে চলাচলের পথ থেকে পশ্চিমের রাস্তা এবং জামারায় প্রবেশে হেঁটে চলাচলের পথ থেকে পূর্ব দিকের রাস্তা। এসব রাস্তার দূরত্ব ১ দশমিক ২ কিলোমিটার আর রাস্তাগুলো ২৫ মিটার প্রশস্ত।

ইলেকট্রিক স্কুটারগুলোর গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার। সহজে ব্যবহার এবং সময় বাঁচানোর উপযোগী করে এগুলো তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্কুটারগুলো নিরাপদ, উন্নতমানের এবং সাশ্রয়ীও।

হজের পাঁচ দিনের আনুষ্ঠানিকতার সময় মিনা, আরাফাতের ময়দান ও মুজদালিফায় হাজিদের অবস্থান করতে হয়। আরবি জিলহজ মাসের ৯ তারিখ আরাফাতের ময়দানে অবস্থানকে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা ধরা হয়। সে হিসাবে এ বছর ১৫ জুন পবিত্র হজ পালিত হবে।

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে হজ করবেন ৮৫ হাজার ২৫৭ জন। গত ৯ মে বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাওয়ার ফ্লাইট শুরু হয়।

এদিকে সৌদি আরবে পৌঁছা হজযাত্রীদের মধ্যে মক্কা ও মদিনায় এখন পর্যন্ত ১৫ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ১১ জন মক্কায় এবং তিনজন মদিনায় মারা যান।

আরও পড়ুন : কাজিমিয়া নন, এবার সবচেয়ে বয়স্ক হজযাত্রী সারহোদা সাতিত

;