উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে হজ ভিসা সম্পন্ন

আবারও কেলেঙ্কারিতে লুৎফুর রহমান ফারুকীর নাম



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
মন্ত্রণালয়ের চিঠি ও মুফতি লুৎফুর রহমান ফারুকী, ছবি: সংগৃহীত

মন্ত্রণালয়ের চিঠি ও মুফতি লুৎফুর রহমান ফারুকী, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারি ও বেসরকারি হজযাত্রীদের ভিসা কার্যক্রম শেষের পথে। চূড়ান্ত নিবন্ধনের পরও অনেকেই হজপালনে যাবেন না, কিংবা অসুস্থ এমন কিছু যাত্রীর ভিসা বাদে অন্যদের ভিসা হয়েছে। তবে সৌদি আরবের দেওয়া নির্ধারিত সময়েও পরও ভিসা প্রক্রিয়া চলমান রাখতে ধর্ম মন্ত্রণলায় ও হাব কর্তৃপক্ষকে প্রচুর দৌঁড়-ঝাপ করতে হয়। এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হস্তক্ষেপ করতে হয়, তিনি সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন।

ঠিক এমন সময় কয়েকটি হজ এজেন্সির নানাবিধ গাফিলতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কথা প্রকাশ পায়। প্রায় তিন হাজার হজযাত্রীর হজগমন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয় বারবার চিঠি দিয়ে এবং হাব কর্তৃপক্ষ হজ এজেন্সির মালিকদের নিয়ে বসে সমস্যা সমাধানে ব্যাপক তৎপরতা চালান।

তখনই সামনে আসে আকবর হজগ্রুপের চেয়ারম্যান মুফতি লুৎফুর রহমান ফারুকীর অনিয়ম। দুইটি হজ লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে আল রিসান ট্রাভেলস এজেন্সির (০৬৭২) অধীনে ৪৪৮ জন এবং নর্থ বাংলা হজ ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরসের (১০৮৬) অধীনে ২৬০ জন হজযাত্রীর চূড়ান্ত নিবন্ধন করেছেন। কিন্তু তাদের ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করেননি। এতে করে ৭ শতাধিক হজযাত্রী, তাদের আত্মীয়-স্বজন, ধর্মমন্ত্রণায় এবং হাব নেতৃবৃন্দকে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় পার করতে হয়। পরে হাব সভাপতির তৎপরতায় প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্নের পর তাদের ভিসা পাওয়া যায়।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, প্রতি বার হজ গমনের শেষসময়ে এমন ঘটনা কেন ঘটে? আর ঘুরেফিরে একজনের নামই কেন সামনে আসে? তিনি হচ্ছেন মুফতি লুৎফুর রহমান ফারুকী। বিভিন্নজনের কাছ থেকে লাইসেন্স ভাড়া নিয়ে একেক বছর একেক লাইসেন্স নিয়ে অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা একাধিক লাইসেন্স ব্যবহার করেন না।

তার কারণে ২০১৮ সালে শত শত প্রাক-নিবন্ধিত হজযাত্রী অনিশ্চতার মুখে পড়েছিলেন। পরে পুলিশের তৎপরতার সমস্যা সমাধান করা হয়। তখন পুরানা পল্টনস্থ আল-রাজী কমপ্লেক্সে আকবর হজগ্রুপের অফিসে তল্লাশিও চালিয়েছিল পুলিশ। ওই সময়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে সৌদি আরব পালিয়েছিলেন। তবে বিদেশ পালিয়ে যাবার সময় তার স্ত্রী তামান্না রহমানকে (আবাবিল ওভারসিজের মালিক) চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে দুই হাজার হজযাত্রীর প্রায় ৫০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। তখন পুলিশ বলেছিলেন, আবাবিল ওভারসিজ, নিয়ার অ্যান্ড ফার, সুমাইয়া এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, আকবর ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস, আফতাব ট্রাভেলস, সিরাজাম মুনিরা এয়ার ট্রাভেলস, সানরাইজ এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, সুন্দর এয়ার এক্সপ্রেস ও সুহাইল এয়ার ইন্টারন্যাশনালের মাধ্যমে নানা অনিয়ম করছেন লুৎফুর রহমান। হজ নিয়ে নানা অনিয়মের কারণে লুৎফুর রহমান ফারুকী একাধিকবার গ্রেফতার হন, তারপরও থামেনি তার অপতৎপরতা।

হাবের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪.কমকে বলেন, আকবর হজগ্রুপের চেয়ারম্যান ও গাজীপুর এয়ার ট্রাভেলস(৭৮২)-এর স্বত্বাধিকারী। আকবর হজগ্রুপ বাংলাদেশ(৬১৫) নামে বেনামে প্রায় ১০টি হজ এজেন্সির মাধ্যমে হজের কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

বারবার হজ কেলেঙ্কারিতে তার নাম আসার পরও তিনি কিভাবে হাজি পান, এমন প্রশ্নের উত্তরে হাবের ওই নেতা বলেন, ‘সরকার ঘোষিত সর্বনিন্ম হজ প্যাকেজের চেয়ে কম টাকায় হজ করানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে হজযাত্রী সংগ্রহ করেন তিনি। আর এ কাজে ব্যবহার করেন বিভিন্ন অঞ্চলের ইমাম-মুয়াজ্জিন ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের। তিনি কখনও হাজিদের মুখোমুখি হন না, সবকিছু করেন মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে।

হজ ট্রেড সেক্টরে কম টাকায় হজ করানোর আলোচিত ব্যক্তি মুফতি লুৎফুর রহমান ফারুকী। সারাদেশে গ্রুপ লিডারদের মাধ্যমে আল ক্বিবলা হজ ট্যুরস এন্ড ট্রাভেলস(০৬৭০), মৌসুমী এয়ার ট্রাভেলস(১০৫), আবাবিল ওভারসীজ (১৬), আফতাব ট্রাভেলস ইন্টারন্যাশনাল(৫৮৪), মনিরামপুর এয়ার ট্রাভেলস (১৩৭৫)-এর মাধ্যমে কম টাকায় হজযাত্রী সংগ্রহ করে থাকেন।

চলতি হজ মৌসুমে ‘নর্থ বাংলা হজ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস’-এর মোনাজ্জেম হিসেবে বর্তমানে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। তার পরও হজ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বে অবহেলাসহ নানা কারণে ভবিষ্যতে তাকে হজ কার্যক্রমের আওতার বাইরে রাখার জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগ একটি চিঠি দিয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়, হজ ২০২৪ এ বাংলাদেশের ২৫৯টি এজেন্সি সৌদি আরবে হজপালনের জন্য হজ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত রয়েছে। প্রত্যেক এজেন্সির একজন নির্ধারিত ব্যক্তি মোনাজ্জেমের দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন। যিনি ওই এজেন্সির সব হজযাত্রীর হজের যাবতীয় দায়িত্ব পালনে অঙ্গীকারবদ্ধ। মোনাজ্জেমের সব তথ্য সৌদি ই-হজ সিস্টেমে (নির্দিষ্ট নম্বর সম্বলিত) রয়েছে। কাজেই একজন মোনাজ্জেম হজের নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কাজগুলো যথাযথভাবে না করতে পারলে হজযাত্রীর হজে গমন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

‘নর্থ বাংলা হজ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস’ নামে প্রতিষ্ঠানটির মোনাজ্জেম হিসেবে লুৎফর রহমান ফারুকী দায়িত্ব পালন করছেন উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, এই এজেন্সির মাধ্যমে হজ-২০২৪ মৌসুমে গাইডসহ ২৬০ জন নিবন্ধিত হজযাত্রী রয়েছে। গত ৯ মে ২০২৪ হতে হজযাত্রীর সৌদি আরবে গমন শুরু হয়। এ সময়ের মধ্যে অন্যান্য এজেন্সির হজযাত্রীদের ভিসা সম্পন্ন হলেও তার এজেন্সির কারও ভিসা হয়নি।

প্রতিষ্ঠানটির মোনাজ্জেমের নির্ধারিত মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি এবং গত ১৫ মে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হজ) মো. মতিউল ইসলামের দফতরে উপস্থিত হয়ে হজযাত্রীর টিকিটের পে-অর্ডার না করার যথাযথ ব্যাখ্যা প্রদানে তিনি কোনো দায়িত্ব পালন করেনি বলেও চিঠিতে বলা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, ১৬ মে আইবিএএন-এর হিসাব নম্বরের তথ্য তিনি গোপন রেখেছেন। এতে করে হজযাত্রীদের সময়মত বাড়িভাড়া ও ভিসা প্রসেসিংসহ গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে মোনাজ্জেম হিসেবে ব্যর্থ হয়েছেন। তার এই দায়িত্ব অবহেলায় হজ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করণে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করেছে যার ফলে নর্থ বাংলা হজ ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের ২৬০ জন হজযাত্রীর হজ গমনে অনিশ্চয়তার আশংকা সৃষ্টি হয়েছে।

এমতাবস্থায় পবিত্র হজের সময়াবদ্ধ দায়িত্ব পালনে মোনাজ্জেম হিসেবে তার দায়িত্ব অবহেলার যথাযথ ব্যাখ্যা এবং ভবিষ্যতে হজ কার্যক্রম আওতার বাইরে কেন রাখা হবে না, তা আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে এ মন্ত্রণালয়ের হজ অনুবিভাগে জানানোর জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নর্থ বাংলা হজ ট্রাভেলস এন্ড ট্যুরসের (১০৮৬) মালিক মো. হাবিবুল ইসলাম (অপু)। তিনি বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমি ২০১৯ সালে রংপুরের আবদুল্লাহ আল কাদিরের কাছে লাইসেন্সটি বিক্রি করে দিয়েছি। এর মধ্যস্থতা করেছেন রংপুরের গ্রুপ লিডার মাওলানা বদরুল আলম। যদিও হাব সূত্রে জানা গেছে, যথাযথভাবে লাইসেন্স হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।

হজযাত্রী হয়রানিসহ প্রাসঙ্গিক বিষয়ে কথা বলতে সৌদি আরবে অবস্থান করা মুফতি লুৎফর রহমান ফারুকীর মোবাইলে একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

চলতি হজ মৌসুমে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে বেসরকারি ২৫৯টি এজেন্সি হজ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের মাধ্যমে ৮০ হাজার ৬৯৫ জন হজযাত্রীর সৌদি আরব গমনের কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে ৯ মে শুরু হওয়া হজফ্লাইটে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার ২৭ হাজার ৬৩ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৪ সনের হজ অনুষ্ঠিত হবে ৬ জুন। এক্ষেত্রে হজযাত্রীদের প্রথম ফিরতি হবে ফ্লাইট ২০ জুন এবং শেষ ফিরতি ফ্লাইট হবে ২২ জুলাই।

   

সৌদিতে ১৭ বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হতে আর মাত্র একদিন বাকি। এরই মধ্যেই বুধবার (১২ জুন) আরও দুই বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মৌসুমে হজ করতে গিয়ে সৌদিতে এখন পর্যন্ত ১৭ জন বাংলাদেশি হজযাত্রী মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ১৫ জন পুরুষ ও দুইজন নারী রয়েছেন।

মারা যাওয়া দু’জনের নাম মো. শাহ আলম (৭৭) ও সুফিয়া খাতুন (৬২)। তাদের একজনের বাড়ি কুমিল্লা ও অন্যজনের কিশোরগঞ্জ জেলায়।

এ বছর হজ পালনে গিয়ে মারা যাওয়া অপর হজযাত্রীরা হলেন- রংপুর জেলার তারাগঞ্জের গোলাম কুদ্দুস (৫৪) ও পীরগঞ্জের শাহাজুদ আলী (৫৫), নেত্রকোণা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার মো. আসাদুজ্জামান (৫৭), ভোলা জেলার মো. মোস্তফা (৯০), কুড়িগ্রাম জেলার মো. লুৎফর রহমান (৬৫), ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জের মো. মুরতাজুর রহমান (৬৩), চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার মোহাম্মদ ইদ্রিস (৬৪), ঢাকা জেলার কদমতলির মোহাম্মদ শাহজাহান (৪৮), কুমিল্লা জেলার মো. আলী ইমাম ভুঁইয়া (৬৫), কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলার মো. জামাল উদ্দিন (৬৯), কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার মোহাম্মদ নুরুল আলম (৬১), কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার মাকসুদ আহমদ (৬১), ফরিদপুর জেলার নগরকান্দার মমতাজ বেগম (৬৩), ঢাকার রামপুরার বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম (৫৭) ও গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা উপজেলার মো. সোলাইমান (৭৩)।

সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি হজ পালন করতে গিয়ে মারা গেলে তার মরদেহ সেখানেই দাফন করা হয়। নিজ দেশে আনতে দেওয়া হয় না। এমনকি পরিবার-পরিজনের কোনো আপত্তিও গ্রহণ করা হয় না। এছাড়া মক্কায় কোনো হজযাত্রী মারা গেলে মসজিদুল হারামে জানাজা হয় তার।

এদিকে বুধবার সৌদিয়া এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে চলতি বছরের হজ ফ্লাইট। এর মধ্য দিয়ে চলতি বছর হজযাত্রী ও তাদের ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত গাইডসহ মোট ৮৫ হাজার ১২৯ জন সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এ নিয়ে শতভাগ হজযাত্রী সৌদি আরব পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। হজযাত্রীদের বহন করতে এবার তিনটি এয়ারলাইনস মোট ১২৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১০৫টি, সৌদি এয়ারলাইনসের ৭৫টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ৩৭টি ফ্লাইট রয়েছে।

;

কোরবানি করা যাবে যেসব পশু দিয়ে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
কোরবানির পশু হিসেবে গরু বেশ জনপ্রিয়, ছবি: সংগৃহীত

কোরবানির পশু হিসেবে গরু বেশ জনপ্রিয়, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কোরবানি বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য পশু নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হতে হবে। পবিত্র কোরআনে চতুষ্পদ জন্তুর কথা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি সব জাতির জন্য কোরবানির বিধান রেখেছি, যেন আমি তাদের জীবনোকরণ হিসেবে যে চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছি তাতে (জবাই করার সময়) আল্লাহর নাম স্মরণ করে। -সুরা হজ : ৩৪

যেসব পশু দিয়ে কোরবানি হয়
তিন ধরনের চতুষ্পদ জন্তু দিয়ে কোরবানি করা যাবে। তা হলো- ১. ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা, ২. গরু, মহিষ, ৩. উট।

কোরবানির পশুর বয়সসীমা
কোরবানির জন্য উটের বয়স পাঁচ বছর হতে হবে। গরু ও মহিষের বয়স দুই বছর হতে হবে। ছাগল ও ভেড়ার বয়স এক বছর হতে হবে।

হজরত নাফে (রহ.) বর্ণনা করেছেন, হজরত আবদুল্লাহ বিন ওমর (রা.) কোরবানি, হজ ও উমরার পশুর ক্ষেত্রে উটের বয়স পাঁচ বছর, গরু ও মহিষের বয়স দুই বছর এবং ছাগল, দুম্বা ও ভেড়ার ক্ষেত্রে এক বছর বয়স হওয়ার কথা বলতেন। -মুয়াত্তা মালেক : ৭৫৪

তবে ছাগল ও ভেড়া এক বছর পরিপূর্ণ না হয়ে বছরের বেশির ভাগ সময় অতিবাহিত হয় এবং দেখতে এক বছরের বাচ্চার মতো মনে হয় তাহলে এ ধরনের দুম্বা ও ভেড়া দিয়ে কোরবানি জায়েজ। ছাগলের বয়স এক বছরের কম হলে কোনো অবস্থাতেই তা দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ হবে না। -ফাতাওয়ায়ে কাজিখান : ৩/৩৪৮

কোরবানির পশু যেমন হবে
কোরবানির পশু সব ধরনের শারীরিক ত্রুটিমুক্ত হওয়া জরুরি। গুণগত দিক থেকে উত্তম হলো, পশুটি দেখতে সুন্দর, নিখুঁত বা দোষত্রুটি মুক্ত ও হৃষ্টপুষ্ট। যে পশু দেখলে পছন্দ হয়। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) শিংবিশিষ্ট ও মোটাতাজা একটি মেষ কোরবানি করেছেন। এর চেহারা, পা ও চোখ ছিল মিটমিটে কালো। -সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩১২৮

আরও পড়ুন:
কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে কোরবানি দিতে হয়

ত্রুটিযুক্ত পশুর কোরবানি শুদ্ধ হয় না

;

এবার হাজিরা ইলেকট্রিক স্কুটার ব্যবহার করতে পারবেন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ইলেকট্রিক স্কুটার, ছবি: সংগৃহীত

ইলেকট্রিক স্কুটার, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যাতায়াতের সুবিধার্থে এ বছর ইলেকট্রিক স্কুটার ব্যবহার করতে পারবেন হাজিরা। মক্কা নগরী ও পবিত্র স্থাপনাগুলোর দেখভালের দায়িত্বে থাকা সৌদি আরবের রয়্যাল কমিশন এ অনুমতি দিয়েছে। স্কুটারে যাতায়াতের জন্য তিনটি রাস্তাও ঠিক করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

হালকা ও নিরাপদ এই বাহন ব্যবহারের মাধ্যমে পবিত্র স্থাপনাগুলোতে হাজিদের যাতায়াতে সুবিধা হবে। আর পুরো বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।

ইলেকট্রিক স্কুটারে যাতায়াতের জন্য তিনটি রাস্তা নির্ধারণ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেগুলো হলো- মুজদালিফা থেকে মিনায় যাওয়ার রাস্তা; জামারায় হেঁটে চলাচলের পথ থেকে পশ্চিমের রাস্তা এবং জামারায় প্রবেশে হেঁটে চলাচলের পথ থেকে পূর্ব দিকের রাস্তা। এসব রাস্তার দূরত্ব ১ দশমিক ২ কিলোমিটার আর রাস্তাগুলো ২৫ মিটার প্রশস্ত।

ইলেকট্রিক স্কুটারগুলোর গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার। সহজে ব্যবহার এবং সময় বাঁচানোর উপযোগী করে এগুলো তৈরি করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্কুটারগুলো নিরাপদ, উন্নতমানের এবং সাশ্রয়ীও।

হজের পাঁচ দিনের আনুষ্ঠানিকতার সময় মিনা, আরাফাতের ময়দান ও মুজদালিফায় হাজিদের অবস্থান করতে হয়। আরবি জিলহজ মাসের ৯ তারিখ আরাফাতের ময়দানে অবস্থানকে হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা ধরা হয়। সে হিসাবে এ বছর ১৫ জুন পবিত্র হজ পালিত হবে।

চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে হজ করবেন ৮৫ হাজার ২৫৭ জন। গত ৯ মে বাংলাদেশ থেকে হজযাত্রীদের সৌদি আরবে যাওয়ার ফ্লাইট শুরু হয়।

এদিকে সৌদি আরবে পৌঁছা হজযাত্রীদের মধ্যে মক্কা ও মদিনায় এখন পর্যন্ত ১৫ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে ১১ জন মক্কায় এবং তিনজন মদিনায় মারা যান।

আরও পড়ুন : কাজিমিয়া নন, এবার সবচেয়ে বয়স্ক হজযাত্রী সারহোদা সাতিত

;

ত্রুটিযুক্ত পশুর কোরবানি শুদ্ধ হয় না



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ত্রুটিযুক্ত পশুর কোরবানি শুদ্ধ হয় না, ছবি: সংগৃহীত

ত্রুটিযুক্ত পশুর কোরবানি শুদ্ধ হয় না, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কোরবানি বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য পশু দোষ-ত্রুটিমুক্ত হওয়া আবশ্যক। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘আমি সব জাতির জন্য কোরবানির বিধান রেখেছি, যেন আমি তাদের জীবনোকরণ হিসেবে যে চতুষ্পদ জন্তু দিয়েছি তাতে (জবাই করার সময়) আল্লাহর নাম স্মরণ করে।’ -সুরা হজ : ৩৪

কোরবানির পশু সব ধরনের শারীরিক ত্রুটিমুক্ত হওয়া জরুরি। গুণগত দিক থেকে উত্তম হলো, পশুটি দেখতে সুন্দর, নিখুঁত বা দোষত্রুটি মুক্ত ও হৃষ্টপুষ্ট।

যে পশু দেখলে পছন্দ হয়। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) শিংবিশিষ্ট ও মোটাতাজা একটি মেষ কোরবানি করেছেন। এর চেহারা, পা ও চোখ ছিল মিটমিটে কালো। -সুনানে ইবনে মাজাহ : ৩১২৮

পশুর যেসব ত্রুটি থাকলে কোরবানি শুদ্ধ হয় না। এ বিষয়ে ইসলামি শরিয়তের বিধান নিম্নরূপ-

১. অন্ধ : যে গরু চোখে দেখতে পায় না, তা স্পষ্ট।
২. রোগাগ্রস্ত : রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট।
৩. পঙ্গু : যে পশু হাঁটাচলা করতে পারে না।

৪. আহত : যার কোনো অঙ্গ ভেঙে গেছে তা স্পষ্ট। -সুনানে তিরমিজি : ১৪৯৭
৫. যে পশুর একটি দাঁতও নেই বা এত বেশি দাঁত পড়ে গেছে যে ঘাস বা খাদ্য চিবাতে পারে না- এমন পশু দ্বারা কোরবানি করা জায়েজ নয়। -বাদায়েউস সানায়ে : ৪/২১৫

৬. যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙে গেছে, যে কারণে মস্তিষ্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; সে পশুর কোরবানি জায়েজ নয়। পক্ষান্তরে যে পশুর অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙে গেছে বা শিং একেবারে ওঠেনি সে পশু কোরবানি করা জায়েজ। -রদ্দুল মুহতার : ৬/৩২৪

৭. যে পশুর লেজ বা কোনো কান অর্ধেক বা তারও বেশি কাটা, সে পশুর কোরবানি জায়েজ নয়। আর যদি অর্ধেকের বেশি থাকে তাহলে তার কোরবানি জায়েজ। তবে জন্মগতভাবেই যদি কান ছোট হয় তাহলে অসুবিধা নেই। -সুনানে তিরমিজি : ১/২৭৫

কোরবানির পশু ক্রয়ের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। হজরত আলী (রা.) বলেন, আমাদের রাসুল (সা.) আদেশ করেছেন, আমরা যেন কোরবানির পশুর চোখ ও কান ভালো করে দেখে নিই এবং কান কাটা, কান ছেঁড়া বা কানে গোলাকার ছিদ্র করা পশু দ্বারা কোরবানি না করি। -সুনানে আবু দাউদ : ২৮০৪

আরও পড়ুন: কী পরিমাণ সম্পদ থাকলে কোরবানি দিতে হয়

;