হজযাত্রী কমেছে ৩৭ হাজারের বেশি



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
হজ ক্যাম্পে প্রবেশ করছেন হাজিরা, ছবি: নূর এ আলম, বার্তা২৪.কম

হজ ক্যাম্পে প্রবেশ করছেন হাজিরা, ছবি: নূর এ আলম, বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

হজের খরচ বাড়ায় গত বছরের চেয়ে এবার প্রায় ৩৮ হাজার কমেছে হজযাত্রীর সংখ্যা। করোনা পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালে এক লাখ ২২ হাজার ৮৮৪ জন বাংলাদেশি হজপালনে যান। যদিও বাংলাদেশের জন্য হজরে কোটা ছিল এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের। গত বছর হজ কোটার বিপরীতে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কম ছিল নিবন্ধন সংখ্যা। যদিও সরকারি-বেসরকারিভাবে হজে যাওয়ার প্রাক-নিবন্ধনের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি।

কিন্তু হজ প্যাকেজের মূল্য বৃদ্ধির দরুণ কয়েক দফা সময় বাড়িয়েও এবার নির্ধারিত কোটা পূরণ হয়নি। অবশেষ ৮৩ হাজার ২০৯ জন চূড়ান্ত নিবন্ধন করেন। তন্মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় চার হাজার ৩১৪ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৮ হাজার ৮৯৫ জন হজপালন করবেন। আর ব্যবস্থাপনাসহ এবার হজে যাচ্ছেন ৮৫ হাজার ১১৭ জন। সে হিসেবে গত বছরের তুলনায় এবার সারাদেশে হজযাত্রীর সংখ্যা কমেছে ৩৭ হাজার ৭৬৭ জন।

যদিও এখন পর্যন্ত সরকারি মাধ্যমে ২ হাজার ৭৭১ জন ও বেসরকারি মাধ্যমে ৭৮ হাজার ২৭৩ জন যাত্রী হজের জন্য প্রাথমিকভাবে নিবন্ধন করে রেখেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গতবারের তুলনায় এবার হজের মূল খরচ বেড়েছে। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও হজে যাওয়ার আগ্রহ কমেছে মানুষদের মধ্যে। এ কারণে অন্যবারের তুলনায় কমেছে হজযাত্রীর সংখ্যা।

আরও পড়ুন : বদলি হজ কখন করাবেন

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশনের (হাব) কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪.কমকে বলেন, হজের ব্যয় এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় হজে যাওয়ার মানুষের সংখ্যা কমেছে।

বিষয়টি নিয়ে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) ও অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) নেতারা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, হজ কোটা পূরণ না হওয়ার প্রভাব তাদের ব্যবসায় পড়বে। কাঙ্ক্ষিত সাড়া না পাওয়ায় অনেক ট্রাভেল এজেন্সি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

চলতি বছর একজন বাংলাদেশিকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনে গড়ে প্রায় সাত থেকে আট লাখ টাকা খরচ হবে, যা অনেক আগ্রহীকে হজ পালনে নিরুৎসাহিত করেছে। বিমানভাড়া, সৌদি আরবে বাসাভাড়া, মক্কা ও মদিনায় যাতায়াত ব্যয়সহ মোয়াাল্লিম ফি অত্যধিক বৃদ্ধির কারণে মূল হজের খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

হাব নেতাদের মতে, আগে মোয়াল্লিমের জন্য নির্ধারিত ফি ছিল এক হাজার থেকে ১২ শ রিয়াল, বর্তমানে তা করা হয়েছে পাঁচ হাজার রিয়াল, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় এক লাখ ৫০ হাজার থেকে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। বিমানভাড়া করা হয়েছে এক লাখ ৯৪ হাজার টাকা। এ ছাড়া সৌদি সরকারের শতকরা ১৫ ভাগ ভ্যাট আরোপ অন্যতম।

তাদের মতে, হজের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের করার কিছু নেই। তবে বিমানভাড়া নির্ধারণ বা ভাড়া কম রাখার বিষয়টি সরকার হস্তক্ষেপ করে হজের খরচ কমানোর ব্যবস্থা করতে পারত।

২০০৯ সালে বাংলাদেশের হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল ৫৮ হাজার ৬২৮ জন, যা ২০১৯ সালে বেড়ে হয় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০২২ সালে হজযাত্রীর সংখ্যা কমে দাড়ায় ৬০ হাজার ১৪৬ জনে।

জিলহজ মাসে চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৬ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে। বাংলাদেশ থেকে ৯ মে শুরু হওয়া হজফ্লাইট শেষ হবে ১০ জুন। এই সময়ের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গাইডসহ হজপালনে সৌদি আরব যাবেন ৮৫ হাজার ১১৭ জন।

   

২০২৫ সালের হজের কোটা ঘোষণা



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
পবিত্র মক্কা, ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র মক্কা, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিগত দুই বছর নির্ধারিত কোটা পূরণ করতে না পারলেও বাংলাদেশি হাজির সংখ্যা কমানো হয়নি। আগামী বছর (২০২৫ সাল) বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে পারবেন।

রোববার (২৩ জুন) সৌদি আরব থেকে হজ এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন হজ কোটা প্রাপ্তির বিষয়টি বার্তা২৪.কমকে নিশ্চিত করেছেন।

তবে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় কত জন হজ করতে পারবেন, সেটা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। আগামী জানুয়ারিতে হজ চুক্তির সময় সেটা নির্ধারণ করা হবে।

২০২৩ ও ২৪ সালেও বাংলাদেশের জন্য হজের কোটা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের। কিন্তু ২০২৩ সালে ১ লাখ ২২ হাজার ৮৮৪ জন এবং এবার ৮৫ হাজার ২২৫ জন যাত্রী হজ পালনে সৌদি আরব যান। পর পর দুই বছর হজ কোটা পূরণ করতে না পারায় সৌদি আরব হজ কোটা কমিয়ে দিতে পারে বলে গুঞ্জন শোনা যায়।

২০০৯ সালে বাংলাদেশের হজযাত্রীর সংখ্যা ছিল ৫৮ হাজার ৬২৮ জন, যা ২০১৯ সালে বেড়ে হয় ১ লাখ ২৬ হাজার ৯২৩ জন। করোনা পরিস্থিতির কারণে ২০২২ সালে হজযাত্রীর সংখ্যা কমে দাড়ায় ৬০ হাজার ১৪৬ জনে।

যদিও ২০২০ সালে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য ১০ হাজার হজ কোটা বাড়ানোর ঘোষণা সৌদি সরকার। সেবার ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৯১ জনের কোটা বরাদ্দ হয়েছিল, কিন্তু করোনার কারণে বিদেশিদের জন্য হজ বন্ধ ছিল।

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর সংগঠন অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশন বা ওআইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হজ কোটা নির্ধারণ করা হয়। ওআইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি দশ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে এক হাজার জন হজে যেতে পারবে।

বাংলাদেশের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী হজে যেতে আগ্রহীদের অনলাইনে প্রাক নিবন্ধন করতে হয়। নিবন্ধন সারা বছরই চলে। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টালের তথ্য মতে, এখনও সরকারিভাবে ৪ হাজার ৩২৩ এবং বেসরকারিভাবে ৭৮ হাজার ৮৯৫ মোট ৮৩ হাজার ২১৮ হজযাত্রী প্রাক নিবন্ধন করেছেন।

হজ পালনের কয়েকমাস আগে সরকারের তরফ থেকে চূড়ান্ত নিবন্ধনের আহবান জানানো হয়। সেক্ষেত্রে যারা আগে প্রাক নিবন্ধন করেন, তালিকায় ক্রমানুসারে তারাই চূড়ান্ত নিবন্ধন করতে পারেন।

চূড়ান্ত নিবন্ধনের জন্য সরকার সময় নির্ধারণ করে দেয়। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কেউ যদি নিবন্ধন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তালিকা থেকে ক্রমানুসারে অন্যদের সুযোগ দেয়া হয়।

;

কাবা ছেড়ে যেতে এত কষ্ট হবে, সত্যিই ভাবিনি



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মিশরীয় নারী হাজি নাজমা আবদুহু, ছবি: সংগৃহীত

মিশরীয় নারী হাজি নাজমা আবদুহু, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আমার মন অসম্ভব খারাপ। মক্কা ছেড়ে চলে যেতে হবে, এই বেদনায় হৃদয় ভারাক্রান্ত। প্রায় এক মাস পর আপনজনদের মাঝে ফিরে যাওয়ার আনন্দ আমায় স্পর্শ করছে না। আল্লাহর ঘরকে কীভাবে বিদায় জানাবো, ভাবতেই পারছি না। কাবা ছেড়ে যেতে এত কষ্ট হবে, সত্যিই ভাবিনি। আবার কখনও ভাগ্যে রাখলে ইনশাআল্লাহ আসবো। এ বরকতময় স্থানে অনেক অনেক দোয়া করা ও ক্ষমা চাওয়া উচিৎ। কিন্তু আবার এখানে ফিরে আসার জন্য দোয়া করা ছাড়া আর কিছু মাথায় আসছে না।

মিশরীয় নারী হাজি নাজমা আবদুহু হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দেশের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার আগে কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাসের উঠার আগে এভাবেই নিজের অনুভূতি প্রকাশ করছিলেন।

তিনি বলছিলেন, কাবাকে বিদায় জানানো তার পক্ষে খুব কঠিন ছিলো, এটা আমার জন্য একটি দুঃখজনক সময়।

সৌদি গণমাধ্যম আল-আখবারিয়ার সঙ্গে আলাপকালে মিশরীয় ওই নারী আরও বলেন, তিনি ১০ বছর আগে উমরা পালন করতে এসেছিলেন; এবারই প্রথম হজে এসেছেন। তখন এবং এখন সৌদি আরবে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তবে মানুষের আবেগ আর কান্নার ভাষায় কোনো পরিবর্তন আসেনি।

আরও পড়ুন

ইশারা ও চাহনি যেখানে ভেঙে দেয় ভাষার বাধা

নাজমা আবদুহু বলেন, বায়তুল্লাহ নিজ চোখে না দেখা ও নিজের অন্তর দিয়ে এর অপার্থিব পবিত্রতা অনুভব করতে না পারা পর্যন্ত এর মাহাত্ম্য অনুধাবন করা সম্ভব নয়। জান্নাতে যারা যাবেন, তাদের জন্য শ্রেষ্ঠতম পুরষ্কার হবে মহান রবের দিদার লাভ। পৃথিবীতে আল্লাহর ঘর দেখে সবার মনে যে তীব্র ভালোলাগার অনুভূতি হয়, জান্নাতে যারা আল্লাহকে দেখবেন, তাদের তখন কেমন সুখানুভূতি হবে, তা আমাদের দুনিয়ার সীমাবদ্ধ জ্ঞান দিয়ে ধারণা করা সম্ভব নয় এবং সেই অপার আনন্দ অন্যকোনো অনুভূতির সঙ্গে তুলনা করাও অসম্ভব। কিন্তু পবিত্র কাবার দেখার পর হৃদয়ে যে প্রশান্তি অনুভব হয়, সেটা বলে প্রকাশ করা যাবে না।

হজ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তার অভিমত, হজ নিয়ে একটা ভয় ছিল, কিন্তু আল্লাহ আমাদের জন্য সহজ করে দিয়েছেন। এখন সৌদি সরকার মক্কায় আসা থেকে যাওয়া পর্যন্ত অত্যন্ত সহজ ও চমৎকার ব্যবস্থা করেছে। এ জন্য তারা অভিনন্দন পাওয়ার যোগ্য।

;

রওজা, কবর ও মাজারের পার্থক্য



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
রওজা, কবর ও মাজারের পার্থক্য, ছবি: সংগৃহীত

রওজা, কবর ও মাজারের পার্থক্য, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কবর হলো- পরকালের সফরের প্রথম ঘাঁটি। যে ব্যক্তি দুনিয়ায় ভালো আমল করবে এবং আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য প্রস্তুতি নেবে, কবর হবে তার জন্য আনন্দের ঘর। আর যে ব্যক্তি খারাপ আমল করবে এবং আল্লাহর আনুগত্যের ক্ষেত্রে ত্রুটি করবে, কবর তার জন্য ভীতি ও অন্ধকারের ঘর।

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত উসমান (রা.) বলেন, আমি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, ‘কবর হচ্ছে আখেরাতের প্রথম পর্ব। যে এর আজাব থেকে মুক্তি পাবে, তার জন্য পরবর্তী পর্বগুলো সহজ হয়ে যাবে। আর যে মুক্তি পাবে না, তার জন্য পরবর্তী ধাপগুলো আরও কঠিন হবে।’ -জামে তিরমিজি: ২৩০৮

কোনো মুসলমানকে যেখানে দাফন করা হয় ওই জায়গাকে ‘কবর’ বলা হয়। একাধিক কবরের স্থানকে কবরস্থান।

হাদিস শরিফে আছে, ‘মানুষের কবরটি হয়তো জান্নাতের একটি বাগান হবে অথবা জাহান্নামের একটি গর্ত হবে।’ বাগানকে আরবিতে ‘রওজা’ বলা হয়।

অতএব নবী-রাসুল ও সাহাবিরা যেহেতু জান্নাতি, তদ্রূপ নেককার মুমিনরাও ইনশাআল্লাহ জান্নাতে যাবেন, তাই তাদের কবরকে সম্মানার্থে ‘রওজা’ বলা যায়।

আর ‘মাজার’ আরবি শব্দ। এর অর্থ হচ্ছে- জিয়ারতের স্থান। এই অর্থে শরিয়ত মতে সব মুমিনের কবরই ‘মাজার’, কেননা সব মুমিনের কবরই জিয়ারতের স্থান এবং কবরই জিয়ারত করা হয়ে থাকে।

আরও পড়ুন

নবী কারিম (সা.)-এর রওজা জিয়ারতের গুরুত্ব

তবে আমাদের দেশের অলি-বুজুর্গদের কবরকে সম্মান করে ‘মাজার’ বলা হয়, যেহেতু সেখানে মানুষ বেশি জিয়ারত করে থাকে।

উল্লেখ্য, শরিয়তে নবী-রাসুল (আ.), সাহাবায়ে কেরাম (রা.) ও অলি-নেককারসহ সব মুমিনের কবরেই জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

তবে সিজদা করা, সাহায্য চাওয়া ও যাবতীয় কুসংস্কারের উদ্দেশ্যে কবর, মাজার ইত্যাদিতে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং কবর পাকা করা ও তার ওপর কোনো কিছু নির্মাণ করাও নিষিদ্ধ।

;

গরমের জন্য জুমার খুতবা সংক্ষিপ্ত করার সিদ্ধান্ত



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
কাবা প্রাঙ্গণে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা, ছবি: সংগৃহীত

কাবা প্রাঙ্গণে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মক্কার মসজিদে হারাম ও মদিনার মসজিদে নববিতে জুমার খুতবা সংক্ষিপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রচণ্ড গরমে ও তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে চলতি গ্রীষ্মের শেষ পর্যন্ত এই নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

নতুন নির্দেশনায় শুক্রবারের জুমার নামাজের প্রথম ও দ্বিতীয় আযানের মধ্যবর্তী সময়ও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২২ জুন) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মসজিদে হারাম ও নববিতে জুমার নামাজের আগে নির্ধারিত খুতবা চলমান গ্রীষ্ম মৌসুমের শেষ পর্যন্ত সংক্ষিপ্ত করে কয়েক মিনিটের মধ্যে শেষ করতে হবে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দেশ-বিদেশের আগত মুসল্লিদের সুরক্ষার কথা চিন্তা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজকীয় নির্দেশে জুমার খুতবা এবং নামাজের সময়কাল ১৫ মিনিটে নামিয়ে আনা হবে বলে সৌদি আরবের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন। এই নির্দেশনা পালন গত শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে এবং গ্রীষ্মের শেষ অবধি এটি অব্যাহত থাকবে। আগে জুমার খুতবা সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট স্থায়ী হতো।

দুই পবিত্র মসজিদের ধর্মীয় বিষয়ক প্রেসিডেন্সির প্রধান আবদুর রহমান আস-সুদাইস বলেছেন, এই পদক্ষেপটি মুসল্লিদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা রক্ষায় সৌদি নেতাদের আগ্রহকেই তুলে ধরছে।

এ ছাড়া নির্দেশনাটি জুমার নামাজের জন্য প্রথম আজানকেও বিলম্বিত করবে। শুক্রবার জুমার নামাজে প্রথম আজান এবং দ্বিতীয় আজানের মধ্যে সময়কাল ১০ মিনিটে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

কাবা দেখার আনন্দ বর্ণনাতীত: মুহাম্মদ ফারাহ

হজের আগেও মক্কা-মদিনার ইমাম-খতিবদের প্রচণ্ড গরমে হজযাত্রীদের পরিস্থিতি বিবেচনায় হজের মৌসুমে জুমার খুতবা ও নামাজ সংক্ষিপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মূলত লাখ লাখ হজযাত্রীর বিভিন্ন পবিত্র স্থান পরিদর্শন এবং মক্কা ও মদীনায় তীব্র গরমের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ।

সৌদি ন্যাশনাল সেন্টার ফর মেটিওরোলজি (এনসিএম) শনিবার থেকে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত দেশটির বেশিরভাগ অংশে তাপমাত্রা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। বলা হচ্ছে, এ সময় তাপমাত্রা ৪৮-৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে।

মক্কা, মদিনা, পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ এবং রিয়াদে এই সপ্তাহে অত্যন্ত বেশি গরম আবহাওয়া অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

ঐতিহ্যগতভাবে, মক্কা এবং এর আশপাশে হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার পরে অনেক হজযাত্রী ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম মসজিদ মসজিদে নববিতে নামাজ আদায় করতে পবিত্র শহর মদিনায় ছুটে যান। এই মসজিদে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর রওজা শরিফ রয়েছে, যেখানে নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) শায়িত আছেন।

এমন অবস্থায় সৌদি কর্তৃপক্ষ বারবার হজযাত্রীদের হাইড্রেটেড থাকার এবং হিট স্ট্রোক এড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। এছাড়া মুসল্লিদের পর্যাপ্ত পরিমাণে তরল পান করার, সূর্যের সরাসরি তাপ এড়িয়ে চলার, ছাতা ব্যবহার এবং ছায়াযুক্ত স্থানে নামাজ পড়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

;