ফিতরা কি টাকা দিয়ে আদায় করা যাবে?



মাওলানা ফখরুল ইসলাম, অতিথি লেখক, ইসলাম
ঈদুল ফিতর একটি তাৎপর্যময় অঙ্গ হলো ফিতরা, ছবি : সংগৃহীত

ঈদুল ফিতর একটি তাৎপর্যময় অঙ্গ হলো ফিতরা, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আমাদের দেশে প্রায় সবাই টাকা দিয়ে সদকাতুল ফিতর তথা ফিতরা আদায় করে থাকেন। যুগ যুগ ধরে প্রজন্মের পর প্রজন্ম সবাই এভাবেই ফিতরা আদায় করে আসছেন। কিন্তু ইদানিং কেউ কেউ বলছেন, টাকা দিয়ে ফিতরা প্রদান করলে; তা আদায় হবে না। বরং খেজুর, যব, আটা ইত্যাদি খাবার দিতে হবে। কারণ, হাদিসে পাঁচটি জিনিস দিয়ে ফিতরা আদায়ের কথা বলা হয়েছে। সেগুলো হলো- খেজুর, যব, কিসমিস, পনির ও আটা।

এ সম্পর্কে হাদিস এসেছে, হজরত ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ফিতরা হিসেবে খেজুর হোক অথবা যব হোক এক সা পরিমাণ আদায় করা আবশ্যক করেছেন এবং লোকজনের ঈদের নামাজে বের হওয়ার পূর্বেই তা আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। -সহিহ বোখারি : ১৫০৬

অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ফিতরা হিসেবে খেজুর হোক অথবা যব হোক এক সা পরিমাণ আর গম আধা সা পরিমাণ আদায় করা আবশ্যক করেছেন। -সুনানে আবু দাউদ : ১৬২২

বর্ণিত হাদিসে খেজুর, যব ইত্যাদি দ্বারা ফিতরা আদায় করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু টাকা কিংবা মূল্য দিয়ে তো ফিতরা আদায় করার কথা কোথাও বলা হয়নি; অথচ নবীজীর সময়ে দিরহাম ও দিনারের প্রচলন ছিল।

যদি মূল্য দিয়ে ফিতরা আদায় করা বৈধ হত, তাহলে নবীজী (সা.) খেজুর, যব ইত্যাদির সঙ্গে এত দিরহাম কিংবা এত দিনার হবে, এটাও বলে দিতেন।

মোটাদাগে এই হচ্ছে তাদের বক্তব্য। কিন্তু বাস্তবতা কি তাই? বাস্তবেই কি টাকা দিয়ে ফিতরা আদায় হবে না?

না, বাস্তবতা এমন নয়। দেখুন, হাদিসে পাঁচটি বস্তু দ্বারা ফিতরা আদায়ের কথা বলা হয়েছে এটা ঠিক। কিন্তু হাদিসের উদ্দেশ্য কি শুধু এই পাঁচটি বস্তুই? নাকি ওই পাঁচটি বস্তু কিংবা এর সমমূল্য উদ্দেশ্য?

বিষয়টি স্পষ্ট করার জন্য একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। হাদিসে উটের জাকাত উট দিয়ে, বকরির জাকাত বকরি দিয়ে, শস্যের জাকাত শস্য দিয়ে ও পণ্যের জাকাত পণ্য দিয়ে দেওয়ার কথা এসেছে।

হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)-এর হাদিসে বিষয়টি সস্পষ্টভাবে ফুটে ‍উঠেছে। নবীজী (সা.) তাকে ইয়েমেনে প্রেরণ করার সময় বলেছিলেন, ‘ফসল থেকে ফসল, বকরিপাল থেকে ছাগল, উটপাল থেকে উট, গরুর পাল থেকে গরু জাকাত হিসেবে গ্রহণ করবে।’ -সুনানে আবু দাউদ : ১৫৯৯

হজরত মুয়াজ (রা.) কি করলেন? তিনি সেখানে গিয়ে ইয়েমেনবাসীদের বললেন, তোমরা যব ও ভুট্টার পরিবর্তে চাদর বা পরিধেয় বস্ত্র আমার কাছে জাকাতস্বরূপ নিয়ে আসো। ওটা তোমাদের পক্ষেও সহজ এবং মদিনায় নবীজীর সাহাবিদের জন্যেও উত্তম। -সহিহ বোখারি : ২৮০

দেখুন, নবীজীর স্পষ্ট নির্দেশনা সত্ত্বেও হজরত মুয়াজ (রা.) যব এবং ভুট্টার পরিবর্তে চাদর এবং পরিধেয় বস্ত্র গ্রহণ করলেন। তাহলে কি হজরত মুয়াজ (রা.) নবীজীর নির্দেশ অমান্য করলেন? না, তিনি নবীজীর নির্দেশ অমান্য করেননি। তাহলে?

যেকোনো বিবেকবান মানুষ এটাই বলবে যে, তিনি নবীজীর নির্দেশ অমান্য করেননি। বরং তিনি ভালো করেই বুঝেছেন নবীজীর নির্দেশের বাহ্যিক অর্থ অর্থাৎ হুবহু উট, বকরি ও শস্য গ্রহণ করাই এখানে তার উদ্দেশ্য নয়। বরং নবীজীর উদ্দেশ্য হচ্ছে, ওই সব বস্তু কিংবা এর সমমূল্য।

ফিতরার ক্ষেত্রে একই রকম ঘটেছে। অর্থাৎ নবীজী (সা.) ফিতরা আদায়ের জন্য নির্ধারিত কয়েকটি বস্তুর নাম বলেছেন। কিন্তু এর উদ্দেশ্য কখনোই এই নয় যে, হুবহু এই বস্তুগুলোই দিতে হবে; এগুলোর মূল্য কিংবা সমমূল্যের বস্তু দিলে আদায় হবে না। বিষয়টি এমন নয়। বরং নবীজীর উদ্দেশ্য হচ্ছে, হুবহু ওই বস্তুগুলো দিলে যেমন ফিতরা আদায় হবে, ওইগুলোর মূল্য হিসেব করে আদায় করলেও আদায় হয়ে যাবে।

সাহাবায়ে কেরাম রা. সাদাকাতুল ফিতর সংক্রান্ত নির্দেশনাটি এভাবেই বুঝেছেন। এ কারণেই সাহাবায়ে কেরাম (রা.) থেকে হাদিসে বর্ণিত খাদ্যশস্য দিয়ে ফিতরা আদায়ের কথা যেমন পাওয়া যায়, তেমনি মূল্য দিয়ে ফিতরা আদায়ের প্রমাণও তাদের কাছ থেকেই পাওয়া যায়।

হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বলেন, ‘আমরা সদকাতুল ফিতর আদায় করতাম এক সা খাদ্য (গম) দ্বারা অথবা এক সা যব অথবা এক সা খেজুর, কিংবা এক সা পনির বা এক সা কিসমিস দ্বারা।’ -সহিহ বোখারি : ১৪৭২

এই বর্ণনায় হাদিসে বর্ণিত বস্তুগুলো দিয়ে ফিতরা আদায়ের বিষয়টি ফুটে উঠেছে।

অপরদিকে হজরত আবু ইসহাক আস সাবিয়ি (রহ.)-এর বর্ণনায় সাহাবায়ে কেরামের মূল্য দিয়ে ফিতরা আদায়ের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

তিনি বলেন, আমি সাহাবায়ে কেরাম (রা.)-কে এই অবস্থায় পেয়েছি যে, তারা রমজানে ফিতরা আদায় করতেন খাবার সমমূল্যের দিরহাম দিয়ে। -মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ১০৪৭২

এই বর্ণনা থেকে এটা স্পষ্ট যে, সাহাবায়ে কেরাম (রা.) দিরহাম (টাকা) দ্বারা ফিতরা আদায় করতেন। অর্থাৎ সাহাবায়ে কেরাম জাকাতের হাদিসকে যেমন বাহ্যিক অর্থে প্রয়োগ না করে নবীজীর মূল উদ্দেশ্য বুঝে নির্ধারিত বস্তুর পাশাপাশি মূল্য ধরে জাকাত দিতেন, তেমনিভাবে ফিতরার ক্ষেত্রেও নবীজীর মূল উদ্দেশ্য বুঝে হাদিসে বর্ণিত বস্তু দিয়ে যেমন ফিতরা আদায় করতেন, এগুলোর মূল্য ‍দিয়েও ফিতরা আদায় করতেন।

তাবেয়িনদের সময়ে তো টাকা দিয়ে আদায় করার বিষয়টি এক পর্যায়ে ব্যক্তি বিশেষে সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং রাষ্ট্রীয়ভাবেই ফিতরা মূল্য দিয়ে আদায় করার নিয়ম চালু হয়।

এ সম্পর্কে কুররা ইবনে খালিদ বলেন, ‘আমাদের নিকট খলিফাতুল মুসলিমিন হজরত উমর বিন আব্দুল আযিযের পক্ষ থেকে পত্র আসল যে, প্রত্যেক ব্যক্তি যেন আধা সা (গম) অথবা তার মূল্য আধা দিরহাম ফিতরা হিসেবে প্রদান করে। -মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ৬/৫০৮

প্রসিদ্ধ তাবেয়ি হজরত হাসান বসরি (রহ.) বলেন, ‘টাকা দ্বারা ফিতরা আদায় করতে কোনো সমস্যা নেই।’ -মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ৬/৫০৮

লক্ষণীয় বিষয় হলো, খলিফা উমর ইবনে আব্দুল আযিয রাষ্ট্রীয় নির্দেশ জারি করলেন এমন এক সময়, যখন অসংখ্য তাবিয়ি জীবিত। কিন্তু একজনও প্রতিবাদ করলেন না যে না, মূল্য দিয়ে তো ফিতরা আদায় হয় না সুতরাং এটা শরিয়তবিরোধী। কেউ কিন্তু এমন কথা বলেননি।

এর মানে কি এই নয় যে, বিষয়টি ওই সময় সবার জানা ছিল এবং সবার কাছেই বিষয়টি স্বীকৃত ছিল যে, হাদিসে বর্ণিত খাদ্য দিয়ে যেমন ফিতরা আদায় করা যায়, তেমনিভাবে টাকা দিয়েও আাদায় করা যায়?

বস্তুত টাকা দ্বারা ফিতরা আদায় করা এটি আমলে মুতাওয়ারিছ তথা সাহাবায়ে কেরাম এবং তাবেয়িনদের কর্মপরম্পরা দ্বারা প্রমাণিত বিষয়। অর্থাৎ সাহাবা এবং তাবেয়িগণ হাদিসে বর্ণিত খাদ্যশস্যের দ্বারা যেমন ফিতরা আদায় করেছেন, তেমনিভাবে এগুলোর মূল্য দিয়েও আদায় করেছেন। অথচ নবীজীর হাদিস তাদের সামনেই ছিল। এর মানে তো এটাই যে, তারা নবীজীর কথার অর্থ এটাই বুঝেছেন যে, শুধু এই খাদ্যশস্যগুলোই উদ্দেশ্য নয়; বরং এগুলো দিলে যেমন ফিতরা আদায় হবে তেমনিভাবে এগুলোর মূল্য দিলেও ফিতরা আদায় হয়ে যাবে।

আরেকটি বিষয়, ইতোপূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, জাকাতের ক্ষেত্রে নবীজীর সুস্পষ্ট নির্দেশ সত্ত্বেও হজরত মুয়াজ (রা.) মূল্যের প্রতি লক্ষ করে যব এবং ভুট্টার পরিবর্তে চাদর এবং পরিধেয় বস্ত্র গ্রহণ করে বলেছিলেন, ‘ওটা তোমাদের পক্ষেও সহজ এবং মদিনায় নবীজীর সাহাবিদের জন্যেও উত্তম।’

একইকথা সদকাতুল ফিতরের ক্ষেত্রেও। অর্থাৎ নবীজীর সময়ে খাদ্যশস্য মদিনাবাসীর জন্য উপযোগী ছিল এবং এগুলো তাদের খুব প্রয়োজন ছিল তাই তখন খাদ্যশস্য দেওয়ার কথা বলেছিলেন; কিন্তু এখন মানুষের জন্য টাকা বেশি উপযোগী, বেশি প্রয়োজনীয়। সুতরাং এখন ফিতরা হিসেবে টাকা দেওয়াই বেশি উত্তম হবে। এটি দরিদ্রদের জন্যও বেশি উপকারী হবে।

সুতারাং এই প্রশ্নের কোনো অবকাশ নেই যে, খাদ্যশস্যের মতো টাকা দিয়েও যদি ফিতরা আদায় করা বৈধ হয়, তাহলে নবীজী (সা.) কেন দিরহাম দিনারের কথা বললেন না? তখন তো দিরহাম দিনার ছিল।

   

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে হতে যাচ্ছে দেশের তৃতীয় বৃহৎ মসজিদ



ইবি প্রতিনিধি, বার্তা২৪.কম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে নির্মাণাধীন মসজিদ, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে দুই দশমিক ২৫ হেক্টর জায়গাজুড়ে নির্মাণাধীন সুবিশাল মসজিদটি ক্যাম্পাসভিত্তিক সর্ববৃহৎ মসজিদ। নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে এশিয়া মহাদেশের সুন্দরতম মসজিদগুলোর একটি হবে এটি এবং দেশের তৃতীয় বৃহৎ মসজিদ হিসেবে পরিচিতি লাভ করবে।

স্থাপত্যের এক অনন্য নিদর্শন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের দিকে তাকালে যে কারও ভালোলাগা কাজ করবে। দূর থেকে দেখলে শুধু চেয়ে থাকতে ইচ্ছে করবে এই ধর্মীয় স্থাপনাটির দিকে। নির্মাণকাজ শেষ হলে এই মসজিদে একসঙ্গে ১৭ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন বলে জানা গেছে।

সুবিশাল জায়গাজুড়ে বিস্তৃত চারতলা বিশিষ্ট বর্গাকৃতির মসজিদটি সিরামিক ও শ্বেতপাথরে নির্মিত হয়েছে। মসজিদের গায়ে সূর্যের আলোয় দিনের বেলায় উজ্জ্বল আভা ছড়িয়ে থাকে। সুউচ্চ গম্বুজ যেন মাথা উঁচু করে ক্যাম্পাসে তার আপন মহিমার প্রকাশ করছে। মসজিদটি দেখতে প্রতি শুক্রবার আশেপাশের এলাকা থেকে দর্শনার্থীদের আগমন চোখে পড়ার মতো।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, মসজিদের গ্রাউন্ড ফ্লোরের আয়তন ৫১ হাজার বর্গফুট। চারতলা বিশিষ্ট মসজিদের মূল অংশে মোট ৭ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। এছাড়া মসজিদের সামনের অংশে আরও ১০ হাজার মুসল্লি নামাজ পড়তে পারবে। মসজিদের সামনের অংশে ৯০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট গম্বুজের পাশাপাশি ছোট-বড় ১৪টি গম্বুজ রয়েছে।

মসজিদের চারপাশে চারটি মিনার নির্মাণ করা হবে। যার প্রতিটির উচ্চতা হবে ১৫০ ফুট। এ ছাড়া মসজিদের তিন পাশ দিয়েই প্রবেশপথ থাকবে। প্রতিটি প্রবেশপথে একটি করে গম্বুজ নির্মিত হবে। ক্যাম্পাসের প্রতিটি অনুষদ ভবন থেকে মসজিদে আসার জন্য রয়েছে প্রশস্ত পথ।

কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজের পাশাপাশি আরও কিছু সহকার্যক্রম রয়েছে। যেমন- ইসলামি গ্রন্থাগার ও গবেষণা কেন্দ্র, ইসলামি ব্যাংক, কর্মচারীদের জন্য ক্যাফেটেরিয়া ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য দোতলায় নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তর থেকে জানা যায়, মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ১৯৯৪ সালে শুরুর দিকে। প্রথম দিকে সরকারি অর্থায়নে কাজ শুরু হলেও পরে বিদেশ থেকে অনুদান আসে। তবে মসজিদের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা ভিন্ন খাতে ব্যয় করা হলে ও সঠিকভাবে কাজে না লাগানোর অভিযোগ উঠলে অর্থ ফেরত নেয় বিদেশি প্রতিষ্ঠান। এর ফলে নির্মাণ কাজে বাঁধা সৃষ্টি হয়।

পরবর্তীতে ২০০৪ সালে সরকারি অনুদানের ওপর ভিত্তি করে ৩৬ শতাংশ কাজ শেষ হলে তৎকালীন ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মোশারেফ হোসাইন শাহজাহান মসজিদটি উদ্বোধন করেন এবং নামাজের জন্য উন্মুক্ত করে দেন। পরের ১৩ বছর আর কোনো নির্মাণ কাজ চলেনি। এর পর ২০১৭ সালে উপাচার্য রাশিদ আসকারীর সময় দুই ধাপে সাড়ে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে কিছু সম্পন্ন হয়।

সাংবাদিকতা বিভাগের ২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. তুষার বলেন, ক্যাম্পাসে আসার পর সবার আগে যে জিনিসটি চোখে পড়ছিলো সেটি হলো- কেন্দ্রীয় মসজিদ। প্রতি শুক্রবার এখানে এক উৎসবমুখর পরিবেশের জন্ম দেয়। হাজার হাজার মুসল্লির সঙ্গে একত্রে নামাজ আদায় করলে মনে এক অন্যরকম অনুভূতির সৃষ্টি হয়। তবে মসজিদের বেশ কিছু কাজ এখনও বাকি। আমার প্রত্যাশা থাকবে, দ্রুত মসজিদের কাজ সম্পন্ন করার।

অসমাপ্ত কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী এ. কে. এম শরীফ উদ্দীন বলেন, প্রকল্পটা আমাদের অনেক বড়। উপমহাদেশের বেশকিছু মসজিদের সঙ্গে এটি সম্পন্ন করা হবে। আর অনেক বড় প্রকল্প হওয়ার ঠিকমতো বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে না, তাই দেরি হচ্ছে।

এ ছাড়া বরাদ্দ ফেরত পাওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে কোনো বরাদ্দ আসছে কি না এই ব্যাপারে আমার জানা নেই। আমি দায়িত্বে আসার পর দেখছি পুরোপুরি সরকারি অর্থায়নেই হচ্ছে প্রকল্পটি। আর ডিজাইন যেটা করা হয়েছে সেটা সম্পন্ন হবে।

;

ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ১৭ জুন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশে ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ১৭ জুন, ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ১৭ জুন, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছরের পবিত্র ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা করেছে মিসরের জ্যোতির্বিদ্যা ইনস্টিটিউট। সংস্থাটি বলেছে, আগামী ৭ জুন চলতি হিজরি সনের জিলহজ মাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সে হিসেবে আগামী ১৬ জুন রোববার ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে।

যদি মিসরের জ্যোতির্বিদ্যা ইনস্টিটিউটের তথ্য সঠিক হয়, তাহলে বাংলাদেশে আগামী ১৭ জুন সোমবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।

সম্প্রতি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মিসরের জ্যোতির্বিদ্যা ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ড. তাহা রাবাহ বলেছেন, তাদের সৌর গবেষণা ল্যাবরেটরি গণনা করে দেখেছে ৭ জুন জিলহজ মাসের প্রথম দিন হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, তাদের হিসাব-নিকাশে দেখা গেছে, কায়রোর সময় অনুযায়ী আগামী ৬ জুন দুপুর ২টা ৩৯ মিনিটে জিলহজ মাসের অর্ধচন্দ্রের জন্ম হবে। ওইদিন জিলকদ মাসের ২৯তম দিন থাকবে।

ওইদিনই মক্কায় জিলহজের অর্ধচন্দ্রটি সূর্যাস্তের ১১ মিনিট এবং কায়রোতে ১৮ মিনিট পর পর্যন্ত দেখা যাবে। এছাড়া মিসরের অন্যান্য অঞ্চলগুলোতে নতুন এ চাঁদটি সূর্যাস্তের ১২ থেকে ২০ মিনিট পর্যন্ত দেখা যাবে।

তিনি আরও বলেন, আরব বিশ্বের দেশগুলোর আকাশে ওইদিন অর্ধচন্দ্রটি ১ থেকে ২৮ মিনিট পর্যন্ত অবস্থান করবে।

তবে মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালামপুর এবং ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার আকাশে চাঁদটি সূর্যাস্তের ৯ থেকে ১৪ মিনিট আগে অস্ত যাবে। এর ফলে ওইদিন এই অঞ্চলে চাঁদটি দেখা যাবে না।

সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যেদিন চাঁদ দেখা যায়; তার পরের দিন বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোতে চাঁদ দেখা যায়।

জিলহজ মাসের ১০ তারিখের গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো- আল্লাহর সন্তুষ্টির নিমিত্তে পশু কোরবানি করা। কোরবানি শুধু ইসলামি শরিয়তেই নয়। বরং পূর্ববর্তী সব শরিয়তে কোরবানির বিধান ছিল, যদিও সবার পন্থা এক ছিল না।

ইসলামে কোরবানির গুরুত্ব অনেক। নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক এমন প্রত্যেক ব্যক্তির কোরবানি আদায় করা ওয়াজিব। কেউ ওয়াজিব কোরবানি না করলে তার ব্যাপারে হাদিসে কঠোর ধমকি এসেছে।

;

বাদশাহর অতিথি হয়ে হজ করবেন ২ হাজার ৩২২ জন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বাদশাহ সালমান, ছবি: সংগৃহীত

বাদশাহ সালমান, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ ৮৮টি দেশের ১ হাজার ৩শ’ কৃতি নাগরিকসহ ফিলিস্তিনে শহীদ, কারাগারে বন্দী এবং আহত পরিবারের ১ হাজার সদস্যকে রাজকীয় মেহমান হিসেবে হজের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমন্ত্রিতের তালিকায় আরও রয়েছে সৌদি আরবে অপারেশন করে বিচ্ছিন্ন করা জমজ শিশু আবদুল্লাহ ও আবদুর রহমানের পরিবারের ২২ সদস্য।

মঙ্গলবার (২৮ মে) সৌদি গেজেটের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রকল্পটি সৌদি আরবের ইসলামিক অ্যাফেয়ার্স, দাওয়াহ এবং গাইডেন্স মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ২৬ বছর আগে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ কর্মসূচির আওতায় ৬০ হাজারেরও বেশি হজযাত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

সৌদির ধর্ম, দাওয়া ও গাইডেন্স বিষয়ক মন্ত্রী ড. আবদুল লতিফ বিন আবদুল আজিজ আলে শেখ বলেন, এই আদেশটি বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের জন্য সৌদি নেতৃত্বের অব্যাহত যত্ন এবং মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ব জোরদার করার প্রচেষ্টাকে প্রতিফলিত করে।

মন্ত্রী বলেন, এই হজযাত্রীদের আতিথেয়তার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে এবং একটি কৌশলগত পরিকল্পনাও তৈরি করা হয়েছে।

যেসব দেশের মুসলিমরা বাদশাহর অতিথি হয়ে হজপালনের সুযোগ পেয়েছেন তাদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস এবং ধর্মীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে কাজ করছে সৌদি সরকার। ভিসা প্রদান, হজ করতে আসা এবং হজ করে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত পুরো বিষয়টির সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। পরিকল্পনাটি হজযাত্রীদের তাদের নিজ দেশ থেকে প্রস্থান করার সময় শুরু হয় এবং নিশ্চিত করে যে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে উমরা ও হজপালনের জন্য সমস্ত সুবিধা পাবে এবং মদিনা সফর করবে এবং মসজিদে নববিতে প্রার্থনা করবে।

;

বছরে একবার ১০ মিনিটের জন্য যাওয়া যাবে রিয়াজুল জান্নাতে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
রিয়াজুল জান্নাত, ছবি: সংগৃহীত

রিয়াজুল জান্নাত, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামের দ্বিতীয় পবিত্রতম স্থান মসজিদে নববিতে অবস্থিত নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা শরিফ ও রিয়াজুল জান্নাত জিয়ারতে নতুন নিয়ম চালু করেছে সৌদি আরব।

নতুন নিয়মে রিয়াজুল জান্নাতে বছরে মাত্র একবার যাওয়া যাবে, অবস্থান করা যাবে ১০ মিনিট। গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়েছে।

খবরে বলা হয়, কোনো মুসলিম শেষবার ভ্রমণের ৩৬৫ দিন পর আবার রিয়াজুল জান্নাতে যাওয়ার আবেদন করতে পারবেন। নুসুক বা তাওয়াক্কলনা অ্যাপের মাধ্যমে জিয়ারত প্রত্যাশীদের আবেদন করতে হবে।

হারামাইন জেনারেল অথরিটি জানিয়েছে, জিয়ারতকারীদের নুসুক অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে। অ্যাপয়েন্টমেন্টের জন্য দেওয়া নির্ধারিত সময়ের পনেরো মিনিট আগে রিয়াজুল জান্নাত জিয়ারতের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছাতে হবে।

নিয়ম অনুযায়ী পবিত্র হজ ও উমরা পালনে আসা যাত্রীরা মদিনায় নবী কারিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা জিয়ারতে আসেন। তবে রওজা শরিফ জিয়ারত এবং রিয়াজুল জান্নাতে নামাজ আদায়ের জন্য আগে থেকে অনুমিত নিতে হয়। সেই অনুমতির ক্ষেত্রে এ নতুন বিধি জারি করল সৌদি আরব।

মসজিদে নববিতে রাসুল (সা.)-এর রওজা এবং তার জামানার মূল মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানকে নবী করিম (সা.) বেহেশতের বাগানসমূহের একটি বাগান বলেছেন। এটাই রিয়াজুল জান্নাত। এর আয়তন প্রায় ২২ মিটার দৈর্ঘ্য ১৫ মিটার প্রস্থ। স্থানটি সীমানা দিয়ে ঘিরে রাখা। এ স্থানে নামাজ পড়া উত্তম।

রিয়াজুল জান্নাত হলো- দুনিয়ায় অবস্থিত জান্নাতের বাগানসমূহের একটি। তাই জিয়ারতকারীরা এখানে নামাজ আদায় ও দোয়ার জন্য ব্যাকুল থাকেন।

;