ইজতেমার ময়দানে বাহারি আপ্যায়ন



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ইজতেমার ময়দানে তাবলিগের সাথীরা খাবার খাচ্ছেন, ছবি : সংগৃহীত

ইজতেমার ময়দানে তাবলিগের সাথীরা খাবার খাচ্ছেন, ছবি : সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

এক প্লেটে একাধিক মুসল্লি খায়। খাবারের সময় সামনে দাঁড়িয়ে থাকে প্লেট ও পানি হাতে কয়েকজন। খাবার শেষে একজনে অনেকের হাত ধুইয়ে দেয়। আরেকজন টিসু এগিয়ে নিয়ে আসে হাসিমুখে।

কারও গায়ে ধাক্কা লাগলে বা কেউ পড়ে গেলে তাকে তুলতে কয়েকজন লুটিয়ে পড়ে। তবে সব ক্ষেত্রে একই স্লোগান, আল্লাহু আকবার। বিশেষ করে রাতের বেলায় ওপরে ঝলমলে আলো, ভেতরে খাবারের উৎসব। অনেকটা নির্ঘুম রাত বলা যায়।

কেউ খাবার খাচ্ছেন, কেউ খাওয়াচ্ছেন আবার কেউ কেউ ইবাদত-বন্দেগি কিংবা কোরআন তেলাওয়াত করছেন। জিকিরে-ফিকিরে ও বাহারি খাবারে প্যান্ডেলগুলোর ভেতরটা যেন মিষ্টি আমেজে ভরপুর। এ যেন ভিন্ন এক উৎসব।

বিশ্ব ইজতেমার দেশি-বিদেশি খিত্তায় গিয়ে দেখা যায়, সযত্ন মেহমানদারি। নতুন কেউ গেলে তাকে আপ্যায়নের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়েন তাবলিগ জামাতের সদস্যরা। কিছু না খেয়ে কোনো জামাত থেকে কোনো মেহমান যেতে পারেন না। সকালে রুটি, মাংস, দুপুরে খিচুড়ি বা ভাত মাছসহ বাহারি রকমের তরকারি দিয়ে আপ্যায়ন। বিকেলে বিভিন্ন ধরনের ফল মিষ্টি, দই কখনো রসমালাই বা রসগোল্লা। রাতে ভাত, মাছ ও মাংস আরও কত কী বাহারি আয়োজন।

সব মিলিয়ে ইজতেমা ময়দানে তাবলিগের সাথীদের আপ্যায়নে তুষ্ট অতিথিরা।

ইজতেমার ময়দানে এভাবেই রান্না করা হয়, ছবি : সংগৃহীত

 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন জামাতে আপ্যায়নের উৎসব। ছোট বা বড় নেই সবাই সমান। নেই কোনো ভেদাভেদ। অনেক বড় কর্তাদেরও দেখা গেল জামাতের অতিথি হিসেবে। নেতা এমপি আর মন্ত্রী নেই সবার জন্য এক শ্রেণির ব্যবস্থাপনা। মন্ত্রী-এমপিরাও চটে বসে খাবার খাচ্ছেন। কারও মুখে নেই কোনো বিষাদের ছাপ। অবয়বে নেই ক্লান্তির কোনো কালো রেখা। ভালো-মন্দ সব কিছুতেই আলহামদুলিল্লাহ যেন কমন স্লোগান। আর কোনো কারণে অকারণে আল্লাহু আকবারের জবাবও আল্লাহু আকবার দিয়ে দেওয়া হয়। এভাবেই শান্তির ধর্ম ইসলামি শিষ্ঠাচারের প্রতিফলন ঘটছে বিশ্ব ইজতেমায়।

মেহমানদারির কাছে নিয়োজিত জামাতের খাদেম হাজি রেজাউল করিম রেজা জানালেন, মেহমান খেলে কমে না। বিশেষ করে আল্লাহর দিদার (সাক্ষাৎ, সান্নিধ্য) লাভের আশায় আমরা ইজতেমায় আসি। মানব সেবা বড় ধর্ম। মানুষকে ভালোবাসলে আল্লাহকে খুশি করা যায়। তাই আমরা মেহমানদের যত্ন সহকারে আপ্যায়ন করি। মানুষের খেদমত করা তাবলিগ জামাতের বড় কাজ।

তিনি বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ ইমানের অংশ। মানুষ মানুষকে ভালোবাসলে আল্লাহকে ভালোবাসা হয়। ইসলামের দাওয়াতে প্রধান বিষয় হলো উৎকৃষ্ট আচরণ। নবী কারিম (সা.) উন্নত আচরণের অধিকারী ছিলেন। কোনো মুসলমানের কাছে কোনো মুসলমান মেহমান হয়ে গেলে তাকে হাসিমুখে বরণ করে আপ্যায়ন করতে হয়, এটা ইসলামের শিক্ষা।

জামাতে আপ্যায়িত হয়ে আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক কর্মকর্তা বললেন, কাছে হলেও তিনি খেতে বাসায় যান না। এখানে সবার সঙ্গে খেতে তার ভালো লাগে। তাই তিনি যতদিন ইজতেমা চলবে ততদিন ডিউটি করে বাসায় যাবেন না, জামাতেই খাবেন।

   

কাবা দেখার আনন্দ বর্ণনাতীত: মুহাম্মদ ফারাহ



ইসলাম ডেস্ক বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

‘আমি যখন প্রথম মক্কায় প্রবেশ করি এবং মসজিদে হারামে পৌঁছে পবিত্র কাবার সামনে হাজির হই, তখন আমি কাঁপতে শুরু করি। এটা আমার কাছে এক অপূর্ব আনন্দের অনুভূতি ছিল, যা বলে বোঝানো যাবে না।’

হজ পালন শেষে জীবনে প্রথমবার পবিত্র কাবা দেখার আনন্দ ও অনুভূতির কথা এভাবেই ব্যক্ত করছিলেন ব্রিটিশ অ্যাথলেট মুহাম্মদ ফারাহ।


সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় মেহমান হিসেবে বিশ্ববরেণ্য এই ক্রীড়াবিদ এবার হজ পালন করেন। রাষ্ট্রীয় মেহমান হিসেবে হজের সুযোগ দেওয়ায় তিনি দেশটির ইসলাম বিষয়ক মন্ত্রী ডক্টর আব্দুল লতিফ আলে শায়খের কাছে কৃতজ্ঞ বলে জানান।

তিনি বলেন, এত বিপুল সংখ্যক হজযাত্রীদের আয়োজনের জন্য আমি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ, ক্রাউন প্রিন্স এবং সৌদি কর্তৃপক্ষকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই। এত বিপুল সংখ্যক হজযাত্রীদের সেবা দেওয়া এবং তাদের সব কিছু দেখাশোনা ও যত্ন নেওয়া রীতিমতো আশ্চর্যজনক। হজযাত্রীদের সেবা ও ব্যবস্থা প্রশংসনীয়।

তিনি বলেন, হজের সময় স্বাস্থ্য, পানি ও অন্যান্য সেবার ক্ষেত্রে সব ধরনের প্রয়োজনের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও শ্রমসাধ্য কাজ। সমস্ত মানুষের প্রচেষ্টার প্রশংসা করা উচিত।


হজ শেষে আরব নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুহাম্মদ ফারাহ বলেন, ‘আমি এখানে প্রথম এসেছি এবং হজ করতে এসেছি। আমি প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ার সুযোগ পাওয়ার জন্য মহান আল্লাহকে ধন্যবাদ জানাই।’

মুহাম্মদ ফারাহ আরও বলেন, এবারের সফর হজে অংশ নিতে পেরে আমি খুশি এবং নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। তার মতে হজের আয়োজন একটি অত্যন্ত ধৈর্যশীল ও শ্রমসাধ্য কাজ।

অ্যাথলেটিক্স বিশ্বে এক নামেই পরিচিত ফারাহ। ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে দুর্দান্ত অবদানের স্বীকৃতির পর তার নামের আগে যোগ হয়েছে ‘স্যার’ উপাধি।

অলিম্পিকসে চারটি ও বিশ্বচ্যাম্পিয়নশিপসে ছয়টি সোনা জিতে দূরপাল্লার দৌড়ের ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তিনি।

;

উট দিবস পালন করলো সৌদি আরব



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
সৌদি আরবে আনুমানিক ১৮ লাখ উট রয়েছে, ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে আনুমানিক ১৮ লাখ উট রয়েছে, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

উট সৌদি আরবসহ আরব উপদ্বীপের বিস্তীর্ণ মরুভূমির সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিভিন্ন প্রজাতির উট সংরক্ষণে দেশটি নানাবিধ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে শনিবার (২২ জুন) বিশ্ব উট দিবস উদযাপন করেছে সৌদি আরব।

উট দিবস পালন উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন এলাকায় উট দৌড় ও মেলার আয়োজন করা হয়।

এর আগে ২০২৪ সালকে উটের বছর হিসেবে ঘোষণা দেয় দেশটি। আরব উপদ্বীপের মানুষের জীবনযাত্রায় উটের আর্থ-সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। গত বছরের শেষ দিকে দেশটির মন্ত্রীদের কাউন্সিলে তা অনুমোদন পায়। গত ৩ জানুয়ারি সৌদি আরবের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নতুন বছরের লোগো, উটের ভিজ্যুয়াল ছবিসহ ব্র্যান্ড নির্দেশিকা ম্যানুয়াল প্রকাশ করে।

২০২০ সালে জাতিসংঘ এ বছরকে আন্তর্জাতিক উটের বছর হিসেবে নির্ধারণ করে। বাস্তুতন্ত্রের সুরক্ষা, মরুকরণ প্রতিরোধ, ভূমির অবক্ষয় ও জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি বন্ধ করা, খাদ্য নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সুপারিশে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ উটের বছর উদযাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করে।

সৌদি আরবের সংস্কৃতি মন্ত্রী প্রিন্স বদর বিন আবদুল্লাহ বলেন, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন উদ্যোগ ও আয়োজনের মাধ্যমে ২০২৪ সালকে উটের বছর হিসেবে উদযাপন করা হবে। সৌদি আরবের আত্মপরিচয়ের সঙ্গে উটের গভীর সংযোগ তুলে ধরে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এই প্রাণীর গুরুত্ব তুলে ধরা হবে।

ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউর তথ্য অনুসারে, বিশ্বের সবচেয়ে বেশিসংখ্যক উট থাকা দেশগুলো হলো পাকিস্তান, আমিরাত ও সৌদি আরব। সৌদি আরবের পরিবেশ, পানি ও কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান মতে, দেশটিতে আনুমানিক ১৮ লাখ উট রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৫০ বিলিয়ন রিয়াল। অবশ্য এই পরিসংখ্যানের বাইরেও ছয় থেকে সাত লাখ উট রয়েছে।

বিনোদন, খেলাধুলা, খাবারসহ জীবনযাত্রার সব ক্ষেত্রে এই প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও সভ্যতা নির্মাণে উট অপরিহার্য উপাদান হিসেবে ভূমিকা রাখছে।

;

হিজাব নিষিদ্ধ ও ঈদের ছুটি বাতিল তাজিকিস্তানে



ইসলাম ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবের রাস্তার মুসলিম নারীরা হেঁটে যাচ্ছেন, ছবি: সংগৃহীত

তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবের রাস্তার মুসলিম নারীরা হেঁটে যাচ্ছেন, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

হিজাব নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বিল পাস করেছে মধ্য এশিয়ার মুসলিম অধ্যুষিত দেশ এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্যতম অঙ্গরাজ্য তাজিকিস্তানের পার্লামেন্ট। সম্প্রতি দেশটির পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ মজলিশি মিলিতে পার্লামেন্ট সদস্যদের ভোটে বিলটি পাস হয়।

নারীদের হিজাব নিষিদ্ধের পাশাপাশি ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দুই ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আজহায় স্কুল-কলেজ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাতিলের বিষয়টিও রয়েছে বিলটিতে।

এর আগে গত ৮ মে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ মজলিশি নামোইয়ানদাগনে পাস হয়েছিল বিলটি। বৃহস্পতিবার (২০ জুন) পার্লামেন্টের বিলটি পাসের পর এক মজলিশি মিলির প্রেস সেন্টার থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘হিজাব বা এই জাতীয় মস্তকাবরণর পরিধানের সংস্কৃতি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি হয়েছে। এটি তাজিকিস্তানের নিজস্ব সংস্কৃতি নয়। তা ছাড়া এই পোশাকটির সঙ্গে কট্টরপন্থার সম্পর্ক রয়েছে।’

তাজিকিস্তানের জনসংখ্যার ৯৬ শতাংশ মুসলিম। হিজাবকে ‘বিজাতীয় পোশাক’ অভিহিত করে দেশটির সরকার এটি নিষিদ্ধ করেছে। আইন ভঙ্গকারীদের জন্য ৬৫ হাজার তাজিক সোমনি জরিমানার বিধান করা হয়েছে। বাংলাদেশি টাকায় যা ৫ লক্ষাধিক। হিজাবের পাশাপাশি দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রাহমন ঈদের দিনের ‘ঈদি’ প্রথার ওপরও কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

২০০৭ সাল থেকে হিজাব, ইসলামি ও পশ্চিমা পোশাকের বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান শুরু হয় তাজিকিস্তানে। ওই বছর তাজিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলামিক পোশাক এবং পশ্চিমা ধাঁচের মিনিস্কার্ট উভয়ই নিষিদ্ধ করে। পরে সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানে এটি কার্যকর করা হয়।

তার পরের বছরগুলোতে হিজাবের ওপর একপ্রকার অলিখিত নিষেধাজ্ঞা কাজ করছিল দেশটিতে। স্থানীয় প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি পর্যন্ত করেছিলেন।

মূলত তাজিকিস্তানের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পোষাকরীতিকে বাঁচিয়ে রাখতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। ২০১৭ সালে তাজিকিস্তানের জাতীয় দিবসে সরকারের পক্ষ থেকে দেশটির নারীদের মোবাইলে হিজাব এবং পশ্চিমা পোশাক পরিহার করে তাজিকিস্তানের নিজস্ব সংস্কৃতির পোশাক পরার আহ্বানও জানানো হয়েছিল।

;

ইশারা ও চাহনি যেখানে ভেঙে দেয় ভাষার বাধা



আবু ইফফাত
বিদেশি হাজিদের বরণ করে নিচ্ছেন স্থানীয়রা, ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি হাজিদের বরণ করে নিচ্ছেন স্থানীয়রা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

অঙ্গ-ভঙ্গি, আকার-আকৃতি ও ইশারা-ইঙ্গিতে চোখ ধাঁধানো শপিং মল, স্বর্ণের দোকান, খাবারের হোটেল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকানে চলে দরদাম এবং বেচাকেনা। গাড়ি ভাড়া করা কিংবা ঠিকানা জানার ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি। এভাবে মক্কার বাসিন্দারা ভিনদেশি হজযাত্রীদের সঙ্গে বছরের পর বছর ভাষার দূরত্ব কাটিয়ে যোগাযোগ করছেন। অনেকে আবার নিজ আগ্রহে একটু একটু করে শিখে নিচ্ছে ভিনদেশি কোনো ভাষা।

ফলে হজের সফরে এক মাসের বেশি ও উমরায় প্রায় ১৫ দিন মক্কা-মদিনায় থাকলেও একেবারে অশিক্ষিতরাও সেখানে উল্লেখযোগ্যভাবে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হন না। সারা বছর মক্কা-মদিনায় বিভিন্ন দেশের মানুষজনের আনাগোনা লেগে থাকে। তবে হজের সময় প্রায় দুই মাস থাকে বেশি জনসমাগম।

মক্কার স্থানীয়রা বিভিন্ন ভাষাভাষী লোকদের সঙ্গে যোগাযোগ ও কথাবার্তার সাবলীলতার জন্য দারুণভাবে প্রশংসিত। ভিনদেশিদের সঙ্গে আচার-আচরণ দ্বারা সম্পর্ক স্থাপন এ অঞ্চলের লোকদের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। মক্কা-মদিনার বিভিন্ন সেক্টরে কর্মরতদের জন্য এমন যোগ্যতা তাদেরকে মৌসুমি চাকরি নিশ্চিত এবং হজ সম্পর্কিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নিয়োগ পেতে সহায়তা করে। এটা হজযাত্রীদের সেবা, তাদের চাহিদা মেটানো এবং তাদের বিশ্বাস অটুট রাখার নিশ্চয়তা দেয়।

মক্কার বাসিন্দা আনাস আল-হারিথি। প্রতি বছর হজের সময় অস্থায়ীভাবে শপিংমলে কাজ করেন।

হজযাত্রীদের সেবায় স্বেচ্ছাসেবকরা

তিনি এটাকে একটি দুর্দান্ত অভিজ্ঞতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। হারিথি নিজ আগ্রহে ইন্দোনেশিয়ান ভাষা কিছুটা রপ্ত করেছেন। প্রতি বছর ইন্দোনেশিয়া থেকে সবচেয়ে বেশি হজযাত্রী হজ পালনে মক্কায় আসেন।

আল-হারিথি বলেন, কীভাবে যেন ভাষাগত বাধা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে, কারণ মক্কার অনেক লোক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ভাষায় সাবলীল।

হজের সময় বছরের পর বছর কাজ করার মাধ্যমে, আল হারিথি হজযাত্রা সম্পর্কিত বিস্তৃত জ্ঞান অর্জন করেছেন। এটা তার কর্মক্ষেত্রকে সহজ ও মসৃণ করে তুলেছে।

তিনি বলেন, বেশিরভাগ মক্কার বাসিন্দা আনুষ্ঠানিক কোনো শিক্ষার মাধ্যমে নয় বরং হজযাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে বিভিন্ন ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেন, যা তাদেরকে কার্যকরভাবে হাজিদের চাহিদা মেটাতে সক্ষম করে।

ভারত থেকে আগত হজযাত্রীদের গাইড রাফি চৌধুরী বলেন, হজ-উমরা মক্কাবাসীদের জন্য কাজ করার, সেবা করার এবং এই মহৎ পেশার সম্মান উপভোগ করার একটি বড় সুযোগ।

হজযাত্রীদের স্বাগত জানানো, তাদের প্রয়োজন মেটানো এবং তাদের যাত্রাপথ যতটা সম্ভব মসৃণ এবং আরামদায়ক করার ক্ষেত্রে মক্কার অনেকেই উর্দুতে যোগাযোগ করা শিখে গেছে।

চৌধুরী বলেন, যেসব দেশে থেকে কম মানুষ আসেন, তাদের জন্য যেমন আকার-ইশারা, ভাঙা ইংরেজি দিয়ে ভাব বিনিময় করা হয়, তেমনি যেসব দেশের মানুষ বেশি আসেন ওই সব দেশের কিছু শব্দ তারা নিজ আগ্রহে শিখে নেন। তাদের এই আগ্রহ হজযাত্রীদের সেবা করার, তাদের আতিথেয়তার, তাদের স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার এবং হজের সময় তাদের আচার-অনুষ্ঠান পালনে দারুণভাবে সহায়তা করে।

চৌধুরী যোগ করেছেন, স্থানীয় পুলিশ থেকে শুরু করে সরকারি স্বেচ্ছাসেবকরা হজযাত্রীদের মক্কায় পৌঁছানোর সময় থেকে, মসজিদে হারামে নামাজের সময়, হজ-উমরার বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা পালনের সময় ভাষাগত বাধা অতিক্রম করে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। যা হজযাত্রীদের ইবাদত-বন্দেগি পালনে সহায়ক। এ সম্পর্ক অনেকটা মানবিক ও আধ্যাত্মিক। যা ধর্মীয় সম্পর্ক দ্বারা চালিত।

স্থানীয় চিকিৎসক রায়হান মোশাহিদ বলেন, ‘এটি আল্লাহর সামনে পালন করা একটি বাধ্যবাধকতা ও সৌভাগ্য। যারা আল্লাহর মেহমান হিসেবে মক্কায় এসেছেন, তাদের চাহিদা বোঝা এবং তাদের ভাষায় যোগাযোগ করা জরুরি কিছু নয়। আপনি হৃদয় খুলে তার মুখের দিকে তাকান, আপনি বুঝে যাবেন তার কি দরকার। বলতে পারেন, এটা মক্কার বরকত।’

মিসফালার রাস্তা

মদিনা ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ভাষাবিজ্ঞানের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আওয়াদ আল-মালিকি বলেন, সারা বিশ্ব থেকে মক্কায় আগত হজযাত্রীদের এই সমাজকে জানার, এর সংস্কৃতি এবং সামাজিক জীবন অনুভব করার, সৌদি ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা রক্ষার প্রবল ইচ্ছা রয়েছে। এর সঙ্গে জ্ঞান বিনিময় এবং গঠনমূলক সাংস্কৃতিক অংশীদারিত্বে জড়িত। ফলে চোখের ভাষায় যোগাযোগটা হয়ে যায়।

তিনি বলেন, হজযাত্রীরা সৌদি আরবকে শুধু ইসলামিক বিশ্বের প্রাণকেন্দ্র হিসেবেই দেখেন না বরং একটি স্বতন্ত্র ও উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে দেখেন, যা সমগ্র ইসলামিক বিশ্বকে একত্রিত করে।

সৌদির বাসিন্দারা হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির জন্য ভাষাগত যোগাযোগের বিষয়ে উত্সাহী। ফলে তারা ইংরেজি, ফ্রেঞ্চ, উর্দু, মালয়, বাংলা এবং হাউসাসহ বিভিন্ন ভাষায় ধীরে ধীরে পারদর্শী হয়ে যায়।

আরব নিউজ অবলম্বনে

;