‘সম্পদ অর্জন, সঞ্চয় ও বণ্টনে ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি’



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড সাদিক বাংলাদেশ সম্প্রতি ব্যাংকের লিভিং ইসলাম-এর চতুর্থ সেশন আয়োজন করেছে। এবারে আয়োজনের শিরোনাম ছিল ‘সম্পদ অর্জন, সঞ্চয় ও বণ্টনে ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি’। ইসলামের আলোকে সম্পদ ও অর্থনীতি সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা অর্জনে আগ্রহীরা আয়োজনে আমন্ত্রিত ছিলেন।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড সাদিক মালয়েশিয়া’র শরিয়াহ কমিটির সদস্য মুফতি ইউসুফ সুলতান আয়োজনে নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং আলোচ্য বিষয়ে তার বক্তৃতা দেন। তিনি একজন প্রখ্যাত স্কলার হওয়ার পাশাপাশি ইসলামিক ফাইন্যান্স ও ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞ হিসেবেও সুপরিচিত। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ-এর সিইও নাসের এজাজ বিজয়; স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড-এর ইসলামিক ব্যাংকিং বিভাগের সিইও ও হেড অব গ্রুপ ইসলামিক প্রোডাক্ট খুররাম হিলাল; এবং স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ইউএই-এর হেড অব ইসলামিক ব্যাংকিং ও গ্রুপ ইসলামিক ব্যাংকিং-এর হেড অব কনজ্যুমার, প্রাইভেট অ্যান্ড বিজনেস ব্যাংকিং আলী আল্লাওয়ালা প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে মুফতি ইউসুফ সুলতান ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গিতে আর্থিক বিষয়গুলো বোঝার ও সম্পাদনের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করেন। সম্পদ অর্জন ও বণ্টনের ক্ষেত্রে এবং সাম্প্রদায়িক কল্যাণে মুসলমানদের দায়বদ্ধতা সম্পর্কেও তিনি আলোচনা করেন। তিনি বলেন, “ধন-সম্পদের চূড়ান্ত মালিক হলেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা, যেখানে মানুষ শুধুমাত্র সেসবের দেখ-রেখকারী। তাই একজন মুমিনকে অবশ্যই ইসলামের শিক্ষা মেনে চলতে হবে এবং ইসলামের আলোকে সম্পদ উপার্জন ও ব্যয় করতে হবে। ইসলাম পরিশ্রমের মাধ্যমে (চাকুরি, ব্যবসা) সম্পদ উপর্জনে উৎসাহ প্রদান করে এবং অলসতাকে কখনোই সমর্থন করে না।”

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও হেড অব কনজিউমার, প্রাইভেট অ্যান্ড বিজনেস ব্যাংকিং; সাব্বির আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশে ইসলামিক ফাইন্যান্সের প্রয়োজনীয়তা ও চাহিদা ক্রমবর্ধমান। শরিয়াহ মোতাবেক আর্থিক লেনদেন সম্পাদনে ইসলামী ব্যাংকিং ইতিবাচক প্রভাব ও ভূমিকা পালন করবে। আমরা সারা জীবন ধরে সম্পদ উপার্জন ও সঞ্চয় করি। তবে অভাবী ও হতদরিদ্রের মাঝে সেই সম্পদ পর্যপ্ত পরিমাণে বণ্টনও করতে হয়। মুফতি ইউসুফ সুলতানের মতো একজন গুণী স্কলারের কাছ থেকে এসব বিষয় শেখার সুযোগ পেয়ে আমরা নিজেদের ভাগ্যবান মনে করছি।”

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড সাদিক বাংলাদেশের একমাত্র আন্তর্জাতিক ইসলামী ব্যাংকিং পরিষেবা। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড সাদিক বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পরিবর্তন ও উদ্ভাবনের অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড সাদিকের লিভিং ইসলাম অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে ইসলামিক স্কলার্স ও বিশেষজ্ঞদের সাথে ক্লায়েন্ট, রেগুলেটর ও অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের মধ্যকার সংযোগ সহজতর করে। ২০২২ সালের এপ্রিলে লিভিং ইসলাম সিরিজের অংশ হিসাবে ‘রমজান থেকে শিক্ষা - প্রতিফলনের মাস’ শীর্ষক একটি লাইভ ওয়েবিনার আয়োজন করা হয়। ২০১৯ সালে লিভিং ইসলামের উদ্বোধনী অধিবেশনের থিম ছিল ‘ব্যবসায়িক নীতিশাস্ত্র’। ২০২১-এর লাইভ ওয়েবিনারের থিম ছিল ‘সাদকাহ কীভাবে মহামারিতে ইসলামিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

মুফতি ইউসুফ সুলতান বাহরাইনের অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড অডিটিং অর্গানাইজেশন ফর ইসলামিক ফাইন্যান্সিয়াল ইনস্টিটিউশন-এর (এএওআইএফআই) একজন সার্টিফাইড শরিয়াহ উপদেষ্টা ও নিরীক্ষক (সিএসএএ)। একইসাথে তিনি একজন এএওআইএফআই মাস্টার ট্রেইনার। তিনি মালয়েশিয়া’র আইএনসিইআইএফ থেকে ইসলামিক ফাইন্যান্সে এমএসসি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। মুফতি ইউসুফ সুলতান মালয়েশিয়ার সিকিউরিটিজ কমিশনের একজন নিবন্ধিত শরিয়াহ উপদেষ্টা এবং দুবাইয়ের এথিকা’র একজন সার্টিফাইড ইসলামিক ফাইন্যান্স এক্সিকিউটিভ (সিআইএফই)। মুফতি ইউসুফ সুলতান মালয়েশিয়া’য় এডিএল অ্যাডভাইজরি-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশে আইএফএ কনসালটেন্সি’র সহ-প্রতিষ্ঠাতা।

 

 

'প্রাচুর্যময় সম্মানিত মাস‘ রজব



আবুল খায়ের মোহাম্মদ, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামী জীবনধারা ও সংস্কৃতিতে রজব মাসের ফজিলত অপরিসীম, মর্যাদা অতুলনীয়। রজব মাস হলো আমলের মৌসুম এবং রমজানের প্রস্তুতিকাল। আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালার অশেষ দয়া ও করুণায় মুসলিম উম্মাহর সামনে হিজরি ১৪৪৪ সনের পবিত্র রজব মাসের সূচনা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রজব হলো আল্লাহর মাস, শাবান হলো আমার মাস; রমজান হলো আমার উম্মতের মাস।’ (তিরমিজি)।

আরবি চান্দ্রবর্ষের সপ্তম মাস ‘রজব’, যার অর্থ 'প্রাচুর্যময় সম্মানিত মাস'। রজব’ শব্দের অর্থ হলো সম্ভ্রান্ত, মহান বা প্রাচুর্যময়। আর ‘মুরাজ্জাব’ অর্থ ‘সম্মানিত’। সুতরাং এর অর্থ দাঁড়ায় ‘প্রাচুর্যময় সম্মানিত মাস’। আর রজব মাসের পুরো নাম ‘রজবুল মুরাজ্জাব’ বা ‘আর-রজব আল-মুরাজ্জাব’।

রজব মাসের মর্যাদা উপলব্দি করতে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিসের উল্লেখ সর্বজনবিদিত। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রজব মাসে (ইবাদত দ্বারা অন্তরের) জমিন চাষাবাদ করল না আর শাবান মাসে (ইবাদতের মাধ্যমে মনের) জমিন আগাছামুক্ত করল না; সে রমজান মাসে (ইবাদতের) ফসল তুলতে পারবে না।’ (বায়হাকি)

রজব মাসের মর্যাদার আরও মর্যাদা এজন্য যে, এ মাসে মহান আল্লাহ তাআলা যাবতীয় যুদ্ধবিগ্রহ, হানাহানি ও রক্তপাত নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলার আসমান-জমিন সৃষ্টি করার দিন থেকেই বারো মাসে বৎসর হয়। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত; তিনটি একাধারে জিলকদ, জিলহজ ও মহররম এবং চতুর্থটি হলো ‘রজব মুদার’, যা জমাদিউল আখিরা ও শাবানের মধ্যবর্তী মাস।’ (মুসলিম)

রজব মাস মুসলমানদের ইবাদতের মাস। বরকত লাভের মাস। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মাসের অধিকতর ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত হতেন। রোজা রাখতেন এবং বেশি বেশি বরকত পেতে এই দোয়া পড়তেন, যা তিনি তাঁর উম্মতকেও শিখিয়েছেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’ ‘হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন; রমজান মাস আমাদের নসিব করুন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

‘রজব মুদার’ বা বহুবিদ কল্যাণের সম্মিলিত একটি মাস। রমজানের আগে নিজেদের আমল ও ইবাদতের জন্য উপযোগী করে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাস হলো রজব। তাছাড়া রজব ও শাবান হলো পাশাপাশি দুটি জোড়া মাস। মাস দুটিকে একত্রে রজবান বা রাজাবাইনও বলা হয়। তাই বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া-ইসতেগফার ও রোজা রাখার মতো আমল ইবাদত করে এ দুই মাসে নিজেদের রমজানের জন্য প্রস্তুত করার উপযুক্ত সময়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব মাস জুড়ে অত্যাধিক আমল-ইবাদত করতেন, রোজা রাখতেন। দোয়া পড়তেন। রমজানের জন্য নিজেকে তৈরি করতেন। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় তা উল্লেখিত হয়েছে।

রজব ও শাবান মাসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কী পরিমাণ ইবাদত-বন্দেগি করতেন; তা উম্মাহাতুল মুমিনিনদের বর্ণনা থেকেই সুস্পষ্ট। হজরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাস ছাড়া সবচেয়ে বেশি রোজা পালন করতেন শাবান মাসে, অতপর রজব মাসে। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, ‘যখন রজব মাস আসত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমলের আধিক্য দেখেই আমরা তা বুঝতে পারতাম।’ কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব মাসে ১০টি রোজা রাখতেন, শাবান মাসে ২০টি রোজা রাখতেন; রমজান মাসে ৩০টি রোজা রাখতেন। (দারিমি)

রজব মাসের বিশেষ আমলসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো বেশি বেশি নফল রোজা পালন করা। মাস জুড়ে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমল- ‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা পালন করা। রজব মাস জুড়ে বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া। বিশেষ করে তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশত-দোহা, জাওয়াল, আউয়াবিন; তাহিয়্যাতুল অজু, দুখুলুল মাসজিদ ইত্যাদি নামাজের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া খুবই জরুরি।

সাহাবায়ে কেরামও এ মাসের ইবাদত ও ফজিলত বর্ণনা করেছেন। সুতরাং মুমিন মুসলমানের কর্তব্য, রজব মাসের মর্যাদা, ফজিলত ও আমলের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা। যথাযথ আমল করা। পবিত্র রমজানের পরিপূর্ণ ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

;

পবিত্র শবে মেরাজ ১৮ ফেব্রুয়ারি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সোমবার বাংলাদেশের আকাশে রজব মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) শুরু হবে হিজরি সনের রজব মাস। সেই অনুযায়ী আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি (২৬ রজব) পবিত্র শবে মেরাজ পালিত হবে।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

বৈঠক শেষে জানানো হয়, সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে রজব মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামী ২৪ জানুয়ারি পবিত্র রজব মাস শুরু হবে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে পবিত্র শবে মিরাজ উদযাপিত হবে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুনিম হাসান।

ফারসি ‘শব’ এর অর্থ- রাত্র বা অন্ধকার এবং আরবি ‘মেরাজ’ এর অর্থ- ঊর্ধ্বারোহণ। মুসলমানদের ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী, ২৬ রজব দিবাগত রাতে ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করে মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) আল্লাহতায়ালার সাক্ষাত লাভ করেছিলেন।

;

লাখো মুসল্লির অংশগ্রহণে তুরাগতীরে জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত



এসএম জামাল, ইজতেমার ময়দান থেকে, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

গাজীপুরের টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার দ্বিতীয় পর্বে লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে দেশের বৃহত্তম জুমার জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার দুপুর দেড়টায় ইজতেমার মাঠে এ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মাওলানা সাদ কান্ধলভীর বড় ছেলে মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্ধলভী এতে ইমামতি করেন।

বিশ্ব ইজতেমার মিডিয়া সমন্বয়কারী মোহাম্মদ সায়েম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ইজতেমায় যোগদানকারী মুসল্লি ছাড়াও জুমার নামাজে অংশ নিতে রাজধানী ঢাকা-গাজীপুরসহ আশপাশের এলাকার লাখ লাখ মুসল্লি ইজতেমাস্থলে হাজির হন। ভোর থেকেই রাজধানীসহ আশপাশের এলাকা থেকে ইজতেমা মাঠের দিকে মানুষের ঢল নামে। দুপুর ১২টার দিকে ইজতেমা মাঠ উপচে আশপাশের খোলা জায়গাসহ সবস্থান জনসমুদ্রে পরিণত হয়।


শুক্রবার বাদ ফজর পাকিস্তানের মাওলানা ওসমানের আম বয়ানের মধ্যদিয়ে ইজতেমার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তা বাংলায় তরজমা করবেন মাওলানা জিয়া বিন কাসিম।

আজ জুমার পর সংক্ষিপ্ত বয়ান করবেন কাকরাইলের শুরা সৈয়দ ওয়াসিফুল ইসলাম, আসরের পর বয়ান করবেন মাওলানা সাদ সাহেবের মেঝ ছেলে মাওলানা সাঈদ বিন সাদ কান্দলভী, মাগরিবের পর বয়ান করবেন মাওলানা ইউসুফ বিন সাদ কান্দলভী।


গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্বের মতো দ্বিতীয় পর্বেও ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আগত মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরো ইজতেমা ময়দানকে কয়েকটি সেক্টরে ভাগ করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে ময়দানের আশপাশে ৭ হাজার ৫৩৯ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করছে। ইজতেমাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথম পর্বে যেসব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল এবারও ঠিক আগের মতোই নিরাপত্তা ব্যবস্থা অটুট থাকবে।

বাস, ট্রাক, ট্রেন বা পায়ে হেঁটে টুপি-পাঞ্জাবি পরিহিত তাবলীগ জামাতের অনুসারীরা টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানে আসছেন। মানুষের এ স্রোত এখনও অব্যাহত রয়েছে। রোববার আখেরি মোনাজাতের আগ পর্যন্ত মানুষের এ আগমন অব্যাহত থাকবে। 

 

;

আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব

আখেরি মোনাজাতে শেষ হলো বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব

  • Font increase
  • Font Decrease

আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে প্রথম ধাপের বিশ্ব ইজতেমা শেষ হয়েছে। এতে বাতিলের সকল চক্রান্ত নস্যাৎ কামনা করে বিশেষ দুআ করা হয়।

 জানা গেছে, এ ধাপে ইজতেমার আয়োজক ছিলেন তাবলিগের আ’লমী শূরা (যোবায়েরপন্থী)। আগামী ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় ধাপের আয়োজনে থাকছেন মাওলানা সাদপন্থী তাবলিগ অনুসারীরা।

আজ প্রথম ধাপের আখেরি মোনাজাতকে কেন্দ্র করে শিল্প নগরী টঙ্গী ও আশপাশের এলাকা ধর্মীয় উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়। মন্ত্রী পরিষদের সদস্যগণ, পদস্থ সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের কুটনীতিকরা আখেরি মোনাজাতে অংশ নেন।

সকাল ৯টা ৫৭ মিনিট থেকে ১০টা ২০মিনিট পর্যন্ত প্রায় ২৩ মিনিট স্থায়ী মোনাজাত চলাকালে ইজতেমার মূল ময়দান ও আশপাশের এলাকায় পিন পতন নীরবতা নেমে আসে। থেমে থেমে এই নীরবতা ভঙ্গ করে আমিন, ছুম্মা আমিন, আল্লাহুম্মা আমিন ধ্বনিতে মুখরিত প্রকম্পিত হয়ে উঠে ইজতেমা ময়দান।

পবিত্র কুরআনের বেশ কিছু প্রার্থনামূলক আয়াত হুবহু উচ্চারণের মাধ্যমে ইজতেমার আখেরি মোনাজাতের সূচনা করেন তাবলীগ জামাতের রাজধানীর কাকরাইল মারকাজ (কেন্দ্রীয়) মসজিদের খতিব শীর্ষ মুরব্বী মাওলানা ক্বারী জোবায়ের। মোনাজাতের প্রথমাংশে মহান আল্লাহ্’র শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরা হয়।

এর পর মোনাজাতে বাতিলের সকল চক্রান্ত নস্যাতের আকুতি জানিয়ে উম্মতে মুহাম্মদীর মাগফিরাত, দুনিয়া ও আখেরাতের কল্যাণ, জাহান্নাম থেকে মুক্তিলাভ, নবী-রাসুল-সত্যবাদীদের সাথে হাশর নশর ও কায়মনোবাক্যে জান্নাত কামনা করা হয়। এছাড়া দেশের হেফাজত, মুসলিম জাহানের মজবুতি ইমান, দ্বীনের মেহনত, সুন্নতি জিন্দিগী, নামাজে খুশু-খুজু পয়দা, দ্বীন ইসলামের হেফাজত ও ইজতেমাকে কবুলসহ দুনিয়া ও আখেরাতের যাবতীয় অকল্যাণ থেকে হেফাজত ও কল্যাণ কামনা করা হয়।

আখেরি মোনাজাতে অংশ নিতে শনিবার রাত থেকেই আশপাশের জেলা থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা বাস, ট্রেন, ট্রাক ও ট্রলারসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে ইজতেমাস্থলে আসতে থাকেন। শনিবার রাতে এসব মুসল্লি কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে রেল স্টেশন, হাসপাতাল ও বিভিন্ন বিপনী বিতানের বারান্দায়, নির্মাণাধীন ও পরিত্যক্ত বিভিন্ন ভবনে অবস্থান নেন।

রোববার ভোর থেকে নারায়ণগঞ্জ, রাজধানী ঢাকা,আশুলিয়া, সাভার ও গাজীপুরের প্রত্যন্ত এলাকার মুসল্লিরা দলে দলে ইজতেমা অভিমুখী রওনা হন। ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক, টঙ্গী-আশুলিয়া সড়ক, টঙ্গী-কালিগঞ্জ-নরসিংদী সড়কে যানজটের পরিবর্তে জনজটে রূপ নেয়।

এদিকে ভোর থেকেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উত্তরে ভোগড়া চৌরাস্তা, দক্ষিণে কুড়িল বিশ্বরোড, টঙ্গী-আশুলিয়া সড়কের পশ্চিমে ধউর মোড় এবং টঙ্গী-কালিগঞ্জ সড়কের পূর্বে করমতলা পর্যন্ত যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে আখেরি মোনাজাতকে কেন্দ্র করে ইজতেমা ময়দান যেন সব পথের মোহনায় পরিণত হয়। মোনাজাত শেষে এসব সড়কে বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের মত মুসল্লিদের স্রোত শুরু হয়।

;