‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’

‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ’

  • Font increase
  • Font Decrease

আজ ১২ রবিউল আউয়াল। বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মানব জাতির সামনে আলোকবর্তিকা স্বরূপ আবির্ভাবের মুবারক দিন আজ। আজ তার ওফাতেরও দিন। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে স্বয়ং মহান আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই তোমাদের জন্য রাসুলের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ' (সূরা আজহাব, আয়াত: ২১)।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শানে আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনের বহু জায়গায় সুস্পষ্টভাবে বার বার উল্লেখ করেছেন। মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহতায়ালার প্রেরিত পুরুষ, নবী ও রাসুল। তিনি সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী। বিশ্ব মানবতার মুক্তি ও কল্যাণের প্রতীক। ঐশী দায়িত্বের সফল বাস্তবায়নকারী। ঐশী বাণীর সর্বোত্তম প্রচারক। বিশ্বমানবতার মুক্তির দিশারী তিনি।

ঐতিহাসিক বর্ণনায় নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি মহান চরিত্রের অধিকারী। ধর্ম, বর্ণ, ভাষা, নারী, পুরুষ, আমির, ফকির সকলের জন্য তিনি ন্যায়, সততা, সত্যবাদিতা ও সাম্যের মূর্ত প্রতিচ্ছবি। তিনি নবীয়ে রহমত। শান্তি, কল্যাণ ও প্রশান্তির বার্তাবহ। সর্বোত্তম চরিত্রের অধিকারী রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুনিয়ার মানবমণ্ডলীর জন্য অনুকরণ-অনুসরণযোগ্য ব্যক্তিত্ব, যে মহামানবের মহত্তম জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে রয়েছে উত্তম আদর্শ।

অন্ধকারাচ্ছন্ন দুনিয়ার পথভ্রষ্ট মানুষকে তিনি দিয়েছেন আলোর দিশা। অজ্ঞতা ও মূর্খতার অন্ধকারে নিমজ্জিত মানুষের জন্য তিনি কল্যাণের বাতিঘর। তিনি দুনিয়া ও আখেরাতে সফলতা-হেদায়েতের পথপ্রদর্শক। জগতসমূহের জন্য তিনি রহমত স্বরূপ। কল্যাণের ফল্গুধারা তিনি।

রাসুল হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আবির্ভাবে পূর্ব-পশ্চিম, উত্তর-দক্ষিণ, সমগ্র জগতে নবুওয়তের নূরের আলো উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল। মাত্র ২৩ বছরের স্বল্পকালীন নবুয়তি জীবনে তিনি মানব জাতিকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির এমন উচ্চশিখরে উন্নীত করেছিলেন যে, বিশ্বের ইতিহাসে এমন নজির আরেকটিও নেই। আর কূপমণ্ডূকতায়, অজ্ঞতায় ও অন্ধকারে নিমজ্জিত মানুষ তার স্পর্শে পরিণত হয়েছিল 'আশরাফুল মাকলুকাত'। প্রতিটি মানুষ নবীর সংস্পর্শে হয়েছিল 'ইনসানে কামেল'।

হিংসা, বিদ্বেষ, হানাহানির বিরুদ্ধে তিনি শান্তির প্রতিষ্ঠাতা। হিংসার বিরুদ্ধে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের রচয়িতা তিনি। প্রতিহিংসার বিরুদ্ধে তিনি ক্ষমা ও দয়ার অতুলনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী। তিনি মানবাধিকারের সংরক্ষক। সুকর্মের আদেশ ও অসৎ কর্মের নিষেধ প্রদানকারী। জুলুম, নিপীড়ন, শোষণ, নির্যাতনের বিলোপকারী। মানবতাবাদের অগ্রদূত তিনি।

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশিত পথে মানুষ পেয়েছে প্রকৃত মুক্তির স্বাদ ও যথার্থ স্বাধীনতা। এক আল্লাহ ছাড়া অন্যের দাসত্বের শৃঙ্খল ছিন্ন করে অবনত মানব জাতি উন্নততর ও স্বাধীন হয়েছে। জ্ঞান, বিজ্ঞান, কলা, মানবিকতা ও ঔদার্যের মাধ্যমে লাভ করেছে উচ্চতর মর্যাদা। ভোগ, বিলাস, অপচয়ের হাত থেকে রেহাই পেয়ে মানুষ হয়েছে পরিশীলিত, সুন্দর ও কল্যাণকামী এবং সরল-সঠিক পথের অনুসারী। সরল ও সঠিক পথের সন্ধান পেয়ে মানুষ লাভ করেছে একমাত্র সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালার নৈকট্য এবং হই ও পরকালীন নাজাত।

পবিত্র কোরআনুল কারিমে ইরশাদ হয়েছে, 'নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তার ফেরেশতারা নবীর ওপর দরুদ ও সালাম পেশ করে। হে মুমিনগণ, তোমরাও নবীর ওপর দরুদ পড়োা এবং তাঁকে যথাযথভাবে সালাম জানাও' (সূরা আল আহজাব, আয়াত: ৫৬)।

হজরত কাব ইবনে ওজারা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে উল্লেখ আছে যে তিনি বলেন, একদিন আমরা হজরত রাসুলুল্লাহকে (সা.) জিজ্ঞেস করলাম, 'হে আল্লাহর রাসুল, আপনার ওপর আমরা কীভাবে দরুদ পড়ব?' তিনি বললেন, 'বলো, আল্লাহুম্মা সালি্ল আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদ; কামা সাল্লাইতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আ-লি ইবরাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ; আল্লাহুম্মা বারিক আলা মুহাম্মাদিও ওয়া আলা আ-লি মুহাম্মাদ-কামা বারাকতা আলা ইবরাহিমা ওয়া আলা আ-লি ইবরাহিমা ইন্নাকা হামিদুম মাজিদ।'

অর্থাৎ: হে আল্লাহ, তুমি মুহাম্মদ (সা.) এবং তার বংশধরদের ওপর এমন রহমত নাজিল করো, যেমনটি করেছিলে ইবরাহিম ও তার বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়। হে আল্লাহ, তুমি মুহাম্মদ (সা.) এবং তার বংশধরদের ওপর বরকত নাজিল করো, যেমন বরকত নাজিল করেছিলে ইবরাহিম ও তার বংশধরদের ওপর। নিশ্চয়ই তুমি প্রশংসনীয় ও সম্মানীয়। (বোখারি ও মুসলিম)

পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মহত্তম জীবনচরিতের সুমহান আদর্শসমূহ ধারণের মধ্যেই শান্তি, কল্যাণ ও সফলতা নিহিত রয়েছে। ইহকাল ও পরকালের উন্নতি ও মুক্তির যে পথ পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন, কর্ম, চরিত্র সে আলোকিত পথের বাস্তব নমুনা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পথ, সীরাত ও সুন্নাহর সঠিক অনুসরণ এবং প্রতিদিন-প্রতিনিয়ত তাঁর প্রতি ও তাঁর পরিবারের প্রতি নিয়মিত দরুদ শরিফ পাঠের মাধ্যমে অশেষ উন্নতি ও কল্যাণ হাসিল করাই সকলের অপরিহার্য কর্তব্য।

   

সিলেটে শবে বরাতের রাতে দুই ওলির মাজারে মুসল্লীদের ভিড়



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র শবে বরাত। ইবাদত-বান্দেগীর মধ্য দিয়ে পবিত্র এই রাতটি পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। প্রতিবারের ন্যায় এবারো পবিত্র শবে বরাতে সিলেটের দুই ওলির মাজারে মুসল্লীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর থেকেই সিলেটে নগরীর দরগাহ গেইট এলাকায় হযরত শাহজালাল (রহ.) ও খাদিমনগরের হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের হাজার হাজার মুসল্লী জড়ো হতে থাকেন। কেউ নফল নামাজ পড়ছেন কেউবা ওলির মাজার জিয়ারত করছেন।

জানা যায়, প্রতি বছরেই শবে বরাত উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আসেন সিলেটের এই দুই ওলির মাজারে। এবারও এসেছেন তারা। এক মাজার থেকে আরেক মাজারে যাচ্ছেন এবং মহান আল্লাহ কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন।

সরেজমিনে রোববার দিবাগত রাতে হযরত শাহজালাল ও হযরত শাহপরান রহ. মাজারে গিয়ে দেখা যায়, মাজারে প্রবেশের প্রতিটি গেইটে মুসল্লিদের উপস্থিতি। একদিকে মুসল্লিরা প্রবেশ করছেন অন্যদিক দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। কেউ কেউ মাজার মসজিদে ইবাদত করছেন, কেউবা মাজার জিয়ারত ও পার্শ্ববর্তী কবরস্থান জিয়ারত করছেন। মাজার এলাকায় ঘুরাঘুরিও করছেন অনেকে।

শবে বরাত রাতকে কেন্দ্র করে মাজারের বাইরের দোকানগুলোতে বিভিন্ন ধরনের টুপি, আগরবাতি, মোমবাতি, আতর গোলাপজল, তাসবীসহ নানা পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। এছাড়াও মাজারের প্রবেশপথগুলোতে সারিবদ্ধ ভিক্ষু ছিল চোখে পড়ার মতো। বিভিন্ন জেলা থেকে ভিক্ষুকরা অধিক ভিক্ষা পাওয়ার আশায় এখানে এসে ভিড় জমান। ঝুলি নিয়ে বসে থাকা ভিক্ষুকদেরকে মাজারে আসা লোকজনও নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থকরী দান করেন।

;

কটিয়াদীতে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে শবে বরাত



উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ)
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র শবেবরাত পালিত হয়েছে।

রোববার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে শবে বরাত উপলক্ষ্যে মসজিদে মসজিদে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে৷ কটিয়াদীর কেন্দ্রীয় মসজিদ কলামহাল জামে মসজিদে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে আলোচনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে৷  কবরস্থানগুলোয় ছিল মুসল্লিদের ভিড়। 

নামাজ শেষে মানুষ আত্মীয়স্বজনের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে দোয়া দরুদ পাঠ ও তাদের জান্নাত নসিব করার জন্য আল্লাহর দরবারে মোনাজাত করেন। এছাড়াও উপজেলার সবগুলো মসজিদে মুসল্লিতে ভরপুর ছিল৷ 

হিজরী বর্ষের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহ পবিত্র শবে বরাত বা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পালন করেন। মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য এ রাত ‘লাইলাতুল বরাত’ হিসেবে পরিচিত।

মহান আল্লাহ তায়ালার রহমত লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমান নর-নারীরা যার যার ঘরেও রাতভর মগ্ন ছিলেন ইবাদত বন্দেগিতে। অনেকে নফল রোজা রেখেছেন। সারা বিশ্বের মুসলমানদের কাছে সওয়াব হাসিল আর গুনাহ থেকে পানাহ চাওয়ার রাত হিসেবে শবে বরাতের মর্যাদা অতুলনীয়। তাই নফল ইবাদত, কোরআন তেলাওয়াত, ইবাদত বন্দেগি, জিকির-আসকার, করব জিয়ারত আর বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে ফজিলতের এই রাত পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। 

বিশেষ মোনাজাতে মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের মাঝে কান্নার রোল পড়ে যায়। দেশের সুখ সমৃদ্ধি উন্নতি ও মুসলিম উম্মার কল্যাণ কামনা করে মসজিদগুলোতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুসল্লিরা মোনাজাতে অংশ নেন।

মিলাদ মাহফিলে নামাজ, রোজা ও শবে বরাতের তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। মসজিদের বাইরেও বিভিন্নস্থানে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আয়োজন ছিল আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের। এশার নামাজের পর মুসল্লিরা মসজিদে মসজিদে রাতভর নফল নামাজ ও আল্লাহর দরবারে গুনাহ মাফ চেয়ে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেছেন।

;

পবিত্র শবে বরাত রোববার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
পবিত্র শবে বরাত রোববার

পবিত্র শবে বরাত রোববার

  • Font increase
  • Font Decrease

আগামীকাল রোববার (২৫ ফেব্রুযারি) দিবাগত রাতে সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় পবিত্র শবে বরাত পালিত হবে।

হিজরি সালের শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাতটি মুসলমানরা শবে বরাত বা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পালন করে থাকেন। এ রাতটি ‘লাইলাতুল বরাত’ হিসেবেও পরিচিত।

পবিত্র শবে বরাত উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। এ উপলক্ষে আগামী সোমবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সরকারি ছুুটি থাকবে।

এ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতির প্রেক্ষিতে আসন্ন পবিত্র রমজানে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসতে বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আর কিছু দিন পরই আসছে পবিত্র রমজান মাস। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক সংকটের জন্য দেখা দিয়েছে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি। এ প্রেক্ষিতে সমাজের অসহায়, দরিদ্র ও দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসতে আমি বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। পরম করুণাময় সকল সংঘাত-সংকট থেকে বিশ্ববাসীকে রক্ষা করুন।’

রাষ্ট্রপতি পবিত্র শবেবরাত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত মহিমান্বিত ও বরকতময় এক রজনী উল্লেখ করে এ উপলক্ষ্যে দেশবাসীসহ সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক মোবারকবাদ জানিয়েছেন।

অপর এক পৃথক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র শবেবরাতের মহাত্মে উদ্বুদ্ধ হয়ে মানবকল্যাণ ও দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আসুন, সকল প্রকার অন্যায়, অনাচার, হানাহানি ও কুসংস্কার পরিহার করে আমরা শান্তির ধর্ম ইসলামের চেতনাকে ব্যক্তি, সমাজ ও জাতীয় জীবনের সকল স্তরে প্রতিষ্ঠা করি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, মহান আল্লাহতায়ালা পবিত্র শবেবরাত রাতকে অনন্য মর্যাদা দিয়েছেন। হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও এ রাতের ইবাদত উত্তম। এই রাতে আল্লাহর অশেষ রহমত ও নিয়ামত বর্ষিত হয়। পবিত্র এই রাতে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আমরা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারি। অর্জন করতে পারি তাঁর অসীম রহমত, নাজাত, বরকত ও মাগফেরাত।

প্রধানমন্ত্রী পবিত্র এই রজনীতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ও মুসলিম জাহানের উত্তরোত্তর উন্নতি, শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেছেন।

এ রাতে বাসাবাড়ি ছাড়াও মসজিদে মসজিদে নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ওয়াজ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

পবিত্র শবে বরাত ১৪৪৫ হিজরি উপলক্ষ্যে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে ওয়াজ, দোয়া মাহফিল, পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত, হামদ নাতসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।

রোববার এ উপলক্ষে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে ‘পবিত্র শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য’ শীর্ষক ওয়াজ করবেন জাতীয় মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতী মোহাম্মদ রুহুল আমীন।

রাত ৮টা ৫০ মিনিটে ‘পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে লাইলাতুল বরাতের শিক্ষা ও করণীয়’ শীর্ষক ওয়াজ করবেন মাদারীপুর জামেআতুছ সুন্নাহ শিবচরের মুহতামিম হযরত মাওলানা নেয়ামত উল্লাহ ফরিদী।

রোববার দিবাগরাত সাড়ে ১২টায় ‘আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে করণীয়’ শীর্ষক ওয়াজ করবেন ঢাকার বাদামতলীর শাহাজাদ লেন জামে মসজিদের খতীব শায়খুল হাদিস মুফতী নজরুল ইসলাম কাসেমী। আর রাত ৩ টা ১৫ মিনিটে ‘নফল নামাজের গুরুত্ব ও ফজিলত’ শীর্ষক ওয়াজ করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদ সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতী মো. মিজানুর রহমান।

আখেরি মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে ভোর সাড়ে ৫ টায়। মোনাজাত পরিচালনা করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদ সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতী মো. মিজানুর রহমান।

বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও এ উপলক্ষে ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্প্রচার করবে।

এ রাতে ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ মহান আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য লাভের আশায় নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির, ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিলসহ এবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কাটাবেন।

মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মুসলমানরা বিশেষ মোনাজাত করবেন।

;

বিশ্বকল্যাণ পাবলিকেশন্সের দুই যুগ পূর্তিতে সম্মাননা পেলেন বিশিষ্ট লেখকরা



নিজস্ব প্রতিবেদক, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামি ধারার সৃজনশীল প্রকাশনী বিশ্বকল্যাণ পাবলিকেশন্সের দুই যুগ পূর্তি উপলক্ষে সম্মাননা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পুরানা পল্টন কালভার্ট রোডে ডিআর টাওয়ার মিলনায়তনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট লেখক ও মুহাদ্দিস মাওলানা লিয়াকত আলী। মাসউদুল কাদির ও শেখ মুহাম্মদ রিয়াজের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মাসিক মুসলিম নারী পত্রিকার সম্পাদক ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল।

ক্বারী ইলিয়াস লাহোরীর তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে ভাষা শহীদদের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। ফাঁকে ফাঁকে হামদ- নাত ও ইসলামি সংগীতে প্রাণবন্ত হয়ে উঠে অনুষ্ঠান।

বিশিষ্ট ইসলামি স্কলার ড. অ. ফ. ম. খালিদ হোসেন ছাড়াও সংবর্ধিত লেখকরা বক্তব্য দেন। তারা লেখালেখি ও প্রকাশনা শিল্পের সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। জাতির ক্রান্তিকালে লেখকদের একতাবদ্ধ হয়ে লেখালেখি করার আহ্বান জানান বক্তারা। প্রকাশকদের উদার মনে লেখকদের মূল্যায়নের আহ্বান জানান। লেখক-প্রকাশকদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক প্রকাশনা শিল্পকে এগিয়ে নেবে বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা।

ইসলামি ও মৌলিক সাহিত্য রচনায় বিশেষ অবদানের জন্য সম্মাননা পেয়েছেন: মাওলানা লিয়াকত আলী, মাওলানা উবায়দুর রহমান খান নদভী, মুফতী মুহাম্মদ তৈয়্যেব হোসাইন, মুফতী মুবারকুল্লাহ, ড. আহমদ আবদুল কাদের, মাসুদ মজুমদার, নূরুল ইসলাম খলিফা, অধ্যাপক এম. মুজাহিদুল ইসলাম, অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম, আবদুল কাদির সালেহ, আবু রেজা মো. ইয়াহিয়া, ফরীদ আহমদ রেজা, মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, ড. মুহাম্মদ সোলায়মান, মুহাম্মদ এনায়েত আলী, ড. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সল, ড. সালেহ মতীন, মো. শরীফ হোসেন, ড. মুহাম্মদ নুরউদ্দিন কাওছার, মাওলানা মুহাম্মদ মহিউদ্দীন, মুহাম্মদ মনজুরে মাওলা, শেখ মো. রিয়াজ উদ্দিন, মো. খায়রুল হাসান, জহির উদ্দিন বাবর, মাওলানা মুনীরুল ইসলাম, আইয়ূব বিন মঈন, মাসউদুল কাদির, মুফতী ফারুক আহমাদ, মুফতী মাহফূযুল হক, মাওলানা আহমাদুল্লাহ, কাজী সিকান্দার, সাইফুল হক।

অনুবাদ সাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখায় উৎসাহ প্রদানে সম্মাননা পেলেন মুফতী আবু সাঈদ, মুফতি আবু উসায়মা আখতার, মুফতী আমিনুল ইসলাম আরাফাত, মুফতী শরীফুল ইসলাম, মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ, মুফতী আশরাফ আলী, মুহাম্মদ আনিসুর রহমান। ইসলামি সাহিত্য ও প্রকাশনা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সম্মাননা দেওয়া হয় মাসিক মদীনার সম্পাদক মাওলানা মহিউদ্দীন খান রহ. (মরণোত্তর), এমদাদিয়া লাইব্রেরীর আব্দুল হালিম ও ইসলামিয়া কুতুবখানার মাওলানা মোহাম্মদ মোস্তফা।

অনুষ্ঠানে বই পাঠ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে প্রথম পুরস্কার বিজয়ীকে পবিত্র ওমরার ব্যবস্থা, দ্বিতীয় বিজয়ীকে ল্যাপটপ ও তৃতীয় বিজয়ীকে স্মার্টফোন দেওয়া হয়। এছাড়া আরও ৪০ জন বিজয়ী পুরস্কার লাভ করেন। বই পাঠ প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন ঢাকার মোস্তাফিজুর রহমান, দ্বিতীয় খুলনার উম্মে হাবিবা এবং তৃতীয় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইশতার জাহান। অনুষ্ঠানে কাজী সিকান্দার রচিত ‘লেখক হওয়ার ব্যাকরণ’ এবং মো. শরীফ হোসেন রচিত ‘চিন্তাগুলো যাক ছড়িয়ে’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বিশ্বকল্যাণ পাবলিকেশন্সের লেখক ও পাঠকদের পক্ষ থেকে ইসলামি সাহিত্য ও প্রকাশনা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য প্রকাশনাটির স্বত্বাধিকারী মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা।

;