মহানবীকে (সা.) নিয়ে বিজেপি নেতার মন্তব্য: সারা দেশে প্রতিবাদ সমাবেশ



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
মহানবীকে (সা.) নিয়ে বিজেপি নেতার মন্তব্য: সারা দেশে প্রতিবাদ সমাবেশ

মহানবীকে (সা.) নিয়ে বিজেপি নেতার মন্তব্য: সারা দেশে প্রতিবাদ সমাবেশ

  • Font increase
  • Font Decrease

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির নেতাদের ইসলাম ও মানবতার মুক্তির দূত মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর পরিবার নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে রাজধানীসহ সারা দেশে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুন) বাদ জুমা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ-সমাবেশ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

এ সময় তারা বলেন, সারা বিশ্বের মুসলমানদের চরমভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। ভারতের উচিত বাংলাদেশ থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির শিক্ষা গ্রহণ করা। বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হলেও এখানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকেরা বরাবরের মতো নিরাপদ ও সম্প্রীতির মধ্যে বসবাস করে যাচ্ছে।

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা শায়েখ সাজিদুর রহমান, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী, ভয়েস অব ল’ ইয়ার্স বাংলাদেশ-এর আহবায়ক সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট আলহাজ গিয়াস উদ্দিন, জমিয়তের সভাপতি মাওলানা শায়খ যিয়া উদ্দীন, সহ-সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুক, জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া, ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের সভাপতি নিজাম উদ্দিন আল আদনান, জাতীয় শিক্ষক ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান পৃথক বিবৃতি ও সভায় মহানবীকে (সা.) নিয়ে ভারতের বিজেপি নেতার কট‚ক্তির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন।

তারা বলেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) ও তার প্রিয়তমা স্ত্রী হজরত আয়েশা (রাযি.) সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করে বিজেপির নেতারা বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের হৃদয়ে আঘাত দিয়েছে। বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে সরকারিভাবে এর প্রতিবাদ করুন এবং চলমান জাতীয় সংসদে ভারতের বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব পাস করুন।

নারায়ণগঞ্জ: মহানবী (সা.) কে নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে নারায়ণগঞ্জ ডিআইটি জামে মসজিদের সামনে থেকে আজ বাদ জুমা বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা আমির আলহাজ আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সির নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হবে। 

ফরিদপুর: ভারতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) ও তার স্ত্রী  আয়েশা (রা:) কে নিয়ে ভারতীয় বিজেপির মুখপাত্র নুপুর শর্মা ও তার সহযোগী নবীনকুমার জিন্দাল কর্তৃক অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে  বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় ‌।

চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামে ভারতে রাসূল (সা.)’র অবমাননার নিন্দা ও প্রতিবাদ স্বরূপ শুক্রবার জুমায় রেসালাতের উপর বয়ানের আহবান জানিয়েছেন হাটহাজারী মাদরাসার পরিচালক আল্লামা মুহাম্মদ ইয়াহইয়া। তিনি ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দুই নেতা নূপুর শর্মা ও নাভিন জিন্দাল কর্তৃক ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ও হযরত আয়েশাকে (রা.) অবমাননার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতি প্রদান করেন।

নোয়াখালী: নোয়াখালীতে মহানবী (সা.) কে অবমাননামূলক বক্তব্যের প্র্রতিবাদে নোয়াখালীতে প্রতিবাদ সভা করেছে বাংলাদেশ ‘ল’ ইয়াস কাউন্সিল নোয়াখালী শাখা। গতকাল বিকালে নোয়াখালী আইনজীবী সমিতির মিলনায়তে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালী বারে সভাপতি অ্যাডভোকেট আবদুর রহিম।

নীলফামারী: মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে নিয়ে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির জেষ্ট দুই নেতার অবমাননাকর মন্তব্যের প্রতিবাদে ইমান আকিদা সংরক্ষণ কমিটির আয়োজনে নীলফামারীতে মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জুমার নামাজ শেষে জেলার সকল মসজিদ থেকে মিছিল বের করে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে উপস্থিত হয় ধর্মপ্রান মুসল্লিরা। এ সময় ধর্মীয় স্লোগান এবং বিজেপির সাবেক মুখপাত্র নূপুর শর্মা ও জ্যেষ্ঠ  নেতা নবীন কুমার জিন্দালের শাস্তির দাবির স্লোগানে মুখরিত হয় জেলা শহর।

রাজশাহী: ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির মূখপাত্র নূপুর শর্মা ও মিডিয়া সেল প্রধান নবীন জিন্দাল মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স:) এবং হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা:) কে নিয়ে অশালীন ও অবমাননাকর মন্তব্য করার প্রতিবাদে রাজশাহীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ হয়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টের বড় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

রাজশাহী উলামা মাশায়েখ পরিষদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ব্যানারে কয়েক হাজার মুসল্লি এতে অংশ নেন। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

রাজবাড়ী: বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা:) কে নিয়ে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজিপি) দুই শীর্ষ নেতা আক্রমণাত্মক এবং অবমাননাকর মন্তব্য করায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আজ শুক্রবার (১০) জুম্মার নামাজের পর সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যাতে কোন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয় এবং আইনশৃঙ্খলার কোন অবনতি না ঘটে সেজন্য সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন রাজবাড়ীর জেলা পুলিশ ও প্রশাসন।

পঞ্চগড়: মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির দুই নেতার কটুক্তির প্রতিবাদে পঞ্চগড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ ও প্রতিবাদ মিছিল করেছেন সর্বস্থরের মুসল্লিরা। জুম্মার নামাজের পর শহরের বিভিন্ন মসজিদ থেকে মুসল্লিরা শহরের শেরে বাংলা পার্কের চৌড়ঙ্গী মোড়ের সামনে সমবেত হন। পরে বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠণের ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে মুসল্লিরা। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে একই স্থানে এসে গিয়ে সমাবেশ করে। এ সময় ‘বিশ্বনবীর অপমান, সইবে নারে মুসলমান’, ‘ইসলামের শত্রুরা, হুঁশিয়ার সাবধান’, ‘নুপুর শর্মার দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’ ইত্যাদি স্লোগান দেন মুসুল্লি।

দিনাজপুর: ভারতে বিজেপি মুখপাত্র কর্তৃক বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স.) সম্পর্কে কু-রুচিপূর্ণ মন্তব্যের প্রতিবাদে দিনাজপুরে বাদ জুম’আ বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে,জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। জুমা’র নামজ শেষে শহরের ইন্সটিটিউট ও লোকভবন এলাকায় মসজিদের ইমামের নেতৃত্বে সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিরা দলে দলে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। 

ময়মনসিংহ: মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) কে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে ময়মনসিংহ সদরে গফরগাঁও, ভালুকা, ঈশ্বরগঞ্জসহ জেলার সকল উপজেলায় জুমআর নামাজের শেষে  বিশাল সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ।  দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে বড় মসজিদ প্রাঙ্গণে সর্বস্তরের তৌহিদী জনতার ব্যানারে এ প্রতিবাদ সামবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। ‘‘বিশ্ব নবীর অপমান-সইবে না আর মুসলমান’’ এ প্রতিপাদ্যে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

কারবালার আত্মত্যাগের শিক্ষা সত্য ন্যায়ের পথ দেখাবে



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
কারাবালার আত্মত্যাগের শিক্ষা সত্য ন্যায়ের পথ দেখাবে

কারাবালার আত্মত্যাগের শিক্ষা সত্য ন্যায়ের পথ দেখাবে

  • Font increase
  • Font Decrease

কুতুববাগ দরবার শরিফের পীর ও মোরশেদ হযরত খাজাবাবা কুতুববাগী  কেবলাজান বলেছেন, কারবালার প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে নিমমভাবে শহীদ হওয়ার আগেই ইমাম হোসেন (রা.) এলমে লাদুন্নার (অলৌকিক জ্ঞান) শক্তিতেই বুঝতে পেরেছিলেন তাঁকে সঙ্গী-সাথীসহ শাহাদাত বরণ করতে হবে। তাই নিজ পুত্র হজরত জয়নাল আবেদীনকে ঘুম বা তন্দ্রা থেকে ডেকে তুলে নিজের সিনার সঙ্গে সিনায় সজোরে চাপ দিয়ে কিছু সময় ধরে রাখেন।

হজরত ইমাম হোসেন (রা.) তাঁর নানাজান হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.) এর কাছ থেকে প্রাপ্ত জাহের বাতেন এলেম এভাবেই হজরত জয়নাল আবেদীনের কাছে গচ্ছিত রাখেন, যা আউলিয়া কেরামগণের সিনা হয়ে কিয়ামত পর্যন্ত জারি থাকবে। রাসুল (সা.) এর আহলে বয়াতকে ভালোবাসা এবং সত্য-ন্যায়ের প্রতি অবিচল থাকার শিক্ষাই পবিত্র আশুরার মধ্যে দিয়ে আমরা গ্রহণ করতে পারি।

মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) রাজধানীর ফার্মগেটস্থ (৩৪ ইন্দিরা রোড) কুতুববাগ দরবার শরিফের সদর দপ্তরে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশাল ধর্মীয় জলসায় সারাদেশ থেকে আগত হাজার হাজার জাকের মুরিদ-আশেকানদের উদ্দেশে তিনি এ সব কথা বলেন।

খাজাবাবা হজরত সৈয়দ জাকির শাহ নকশবন্দি কুতুববাগী কেবলাজান আরো বলেন, কারবালায় আহলে বয়াতের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ইসলামের সত্য ও ন্যায়ের পথ চিহ্নিত হয়েছে। ইসলাম শান্তির ধর্ম কিন্তু দুরাচার ইয়াজিদ মুসলমান হয়েও ছিলেন অনৈতিকতা আর অশান্তির ধারক বাহক। তাই নির্মমভাবে আহলে বয়াতদের হত্যা করেছিলেন। পরে বাংলাদেশ ও সারাবিশ্বেও শান্তি কামনায় খাজাবাবা কুতুববাগী মোনাজাত পরিচালনা করেন।

;

রাজশাহীতে পবিত্র আশুরা পালন



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজশাহী
রাজশাহীতে পবিত্র আশুরা পালন

রাজশাহীতে পবিত্র আশুরা পালন

  • Font increase
  • Font Decrease

যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যে দিয়ে রাজশাহীতে পবিত্র আশুরা পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সকালে নগরীর শিরইল কলোনী থেকে একটি শোক র‌্যালি কের করা হয়।

পবিত্র মহররম আশুরা উদযাপন কমিটি এই র‌্যালি বের করে। র‌্যালিটি নগরীর রেলগেট শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্ত্বর হয়ে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

কয়েকটি সংগঠন নগরীতে অটোরিকশা নিয়ে র‌্যালি বের করে। এছাড়াও বিশ্ববাংলা ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ আহলে বাইত ফাউন্ডেশনের ব্যানারে শোক মিছিল, পথসভা ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে দুপুরের পর খাবার বিতরণ করা হয়। এরপর মুসলিম উম্মাহর সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

;

‘ত্যাগ চাই, মর্সিয়া-ক্রন্দন চাহি না’



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
‘ত্যাগ চাই, মর্সিয়া-ক্রন্দন চাহি না’

‘ত্যাগ চাই, মর্সিয়া-ক্রন্দন চাহি না’

  • Font increase
  • Font Decrease

পবিত্র আশুরা আজ। মহররম মাসের ১০ তারিখ। বিশ্বব্যাপী মুসলিম উম্মাহ কাছে ঐতিহাসিক তাৎপর্যমণ্ডিত এক গভীর শোকাবহ দিন। এই দিনে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সত্যের পক্ষে অবস্থান নিয়ে চক্রান্তকারী স্বৈরতন্ত্রী ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে কারবালা প্রান্তরে মর্মান্তিকভাবে শাহাদতবরণ করেন। দিনটি একদিকে শোকের ও বেদনার, অন্যদিকে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান গ্রহণের চেতনায় সমুজ্জ্বল।

ইসলামের ইতিহাসে মহররমের ১০ তারিখে কারবালা প্রান্তরে পরিবার-পরিজন, সঙ্গী-সাথিসহ হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর শাহাদতবরণের মর্মান্তিক ঘটনার আগেও এই তারিখে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে বিশ্ব ইতিহাসে। আদি মানব হজরত আদম (আ.) এই দিনে পৃথিবীতে আগমন করেন, তাঁর তওবা কবুল হয় এই দিনেই। এই দিনে হজরত নূহ (আ.)-এর নৌকা মহাপ্লাবন থেকে রক্ষা পায়।

এসব ঐতিহাসিক ঘটনার তালিকায় মর্মান্তিক বেদনার আবহ সঞ্চারিত করে কারবালার নৃশংসতা। আমির মুয়াবিয়ার মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে ইয়াজিদ অবৈধভাবে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেন এবং এ জন্য ষড়যন্ত্র ও বলপ্রয়োগের পথ বেছে নেন। খেলাফত বা শাসনের আরেক বৈধ উত্তরাধিকারী, মহানবী (সা.)-এর আরেক দৌহিত্র হজরত ইমাম হাসান (রা.)-কে আগেই বিষপানে হত্যা করা হয়। পরবর্তীতে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে অবরুদ্ধ হয়ে পরিবার-পরিজন ও ৭২ জন সঙ্গীসহ শাহাদতবরণ করেন হজরত ইমাম হোসাইন (রা.)। এই হত্যাকাণ্ড ছিল অত্যন্ত নির্মম। অসহায় নারী ও শিশুদের পানি পর্যন্ত পান করতে দেয়নি পাষণ্ড ইয়াজিদ বাহিনী।

কারবালার ঘটনার পর থেকে নানা আনুষ্ঠানিকতায় বিশ্বব্যাপী আশুরা পালিত হয় মহররমের ১০ তারিখ। ধর্মীয় ভাবাবেগ ও গাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে স্মরণ করা হয় নবীবংশের সম্মানিত সদস্যগণে আত্মত্যাগের গৌরবময় ঘটনাক্রম, যার মূল বক্তব্য সত্যের পথ অনুসরণ করার ও ন্যায়ের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ করার অনুপ্রেরণায় দীপ্ত।

ফলে আশুরার মূল চেতনা হলো, অসত্য, স্বৈরতন্ত্র, অবৈধ কর্তৃপক্ষের অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়ের সংগ্রাম। সেই সংগ্রামে সাময়িক আঘাত এলেও চূড়ান্ত বিজয় অবধারিত। এজন্যই দার্শনিক কবি বলেছেন, "কাতলে হোসাইন আসল মে মারগে ইয়াজিদ হ্যায়,/ইসলাম জিন্দা হোতা হায় হার কারবালা কে বাদ।’" অর্থাৎ, হোসাইনের নিহত হওয়ার ঘটনা আসলে ইয়াজিদেরই মৃত্যু, ইসলাম প্রতিটি কারবালার পর পুনরুজ্জীবিত হয়।

ইমাম জাফর সাদেক (আ.) বলেছেন, “মুসলমানের জন্য প্রতিটি ভূমিই কারবালা আর প্রতিটি দিন হচ্ছে আশুরা।”

ইসলামী ধর্মতত্ত্ব ও সাহিত্যে আশুরা ও কারবালার ঘটনা বিরাট জায়গা জুড়ে উপস্থিত। বাংলা ভাষায় কাজী নজরুলের কবিতা এবং মীর মোশাররফ হোসেনের কালজয়ী 'বিষাদ সিন্ধু' যার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

অন্যান্য ধ্রুপদী ভাষা, যেমন আরবি, ফারসি, উর্দু, ইংরেজিতে কারবালার আখ্যান বার বার লিপিবদ্ধ করেছেন বরেণ্য কবি ও সাহিত্যিকগণ। যাদের মধ্যে আধুনিককালের
মাওলানা মোহাম্মাদ আলী জাওহার এবং আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল ছাড়াও রয়েছেন ইতিহাসখ্যাত কবি জালালুদ্দিন বলখি রুমি, ফরিদ উদ্দিন আত্তার, আবদুর রহমান জামি প্রমুখ। বিশেষত, ইকবালের কবিতাগুলো পড়ে মনে হয়, নবীবংশ তথা আহলে বাইতের প্রতি, ইমাম হোসেইনের আত্মত্যাগের প্রতি তাঁর প্রেম, ভালোবাসা ও ভক্তি অম্লান।

মহররমের শিক্ষা নিয়ে কাজী নজরুল ইসলামের উচ্চারণ ঐতিহাসিক মর্যাদা লাভ করেছে। তাঁর ভাষায়, ‘ত্যাগ চাই, মর্সিয়া-ক্রন্দন চাহি না’। অর্থাৎ, মহররম মাসে আশুরার চেতনায় অন্যায়-অবিচার ও ষড়যন্ত্র থেকে পৃথিবীকে মুক্ত রাখতে কান্নাকাটি বা বিলাপ নয়, ত্যাগের মহিমা উজ্জীবিত হওয়াই কর্তব্য, কবির এই বক্তব্য এক শাশ্বত সত্যের প্রতিধ্বনি স্বরূপ। আশুরা মূলত ন্যায়, সত্য, কল্যাণের পক্ষে এবং অন্যায়, অসত্য ও স্বৈরতার বিপক্ষে সুদৃঢ় চিত্তে অবস্থান গ্রহণের অনিঃশেষ প্রেরণা প্রতিটি মুসলমানের মধ্যে জাগ্রত করে।

;

মহররম মাসে বরকতময় আশুরার রোজা



আবুল খায়ের মোহাম্মদ, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
মুহররম মাসের বরকতময় আশুরা। সংগৃহীত

মুহররম মাসের বরকতময় আশুরা। সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

 

শুরু হয়ে গেছে মহিমান্বিত মহররম মাস। যে মাসে ১০ তারিখ আশুরা দিবসের রোজা অত্যন্ত বরকতময়।

সকল মুসলমানই জানেন যে, হিজরি সনের প্রথম মাসের নাম মহররম। ইসলামের দৃষ্টিতে মহররম একটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ মাস। অনেক ইতিহাস-ঐতিহ্য ও রহস্যময় তাৎপর্য নিহিত আছে এ মাস ঘিরে।

মহররম মাসের ১০ তারিখ পৃথিবীর ইতিহাসে এবং মুসলিম সভ্যতায় বহু তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। যার মধ্যে সর্বাপেক্ষা আলোড়িত ও আলোচিত বিষয় হলো কারবালার মর্মান্তিক ইতিহাস। এছাড়াও আশুরার ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য ও স্মরণীয় ঘটনার শীর্ষে স্থান পায় মুসা (আ.)-এর একটি ঘটনা। এই দিনে তিনি অত্যাচারী শাসক ফিরাউনের কবল থেকে তাঁর জনগোষ্ঠীকে আল্লাহর অশেষ রহমতে রক্ষা করেছিলেন।

ইমাম বুখারি (রহ.) তাঁর প্রসিদ্ধ হাদিস গ্রন্থে সাহাবি হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, 'মহানবী (সা.) মক্কা থেকে হিজরত করে মদিনায় পৌঁছে সেখানে ইহুদিদের আশুরার দিনে রোজা পালন করতে দেখেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) তাদের জিজ্ঞেস করেন, এই দিনে কী ঘটেছে যে তোমরা এতে রোজা পালন করো?

তারা বলে, এই দিনটি অনেক বড় দিন, এই দিনে আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.) ও তাঁর সঙ্গীদের ফিরাউন থেকে মুক্ত করেছিলেন এবং ফিরাউন ও তার বাহিনীকে ডুবিয়ে মেরেছিলেন। এর কৃতজ্ঞতাস্বরূপ মুসা নবী রোজা রাখতেন, তাই আমরাও আশুরার রোজা পালন করে থাকি।

ইহুদিদের জবাব শুনে রাসুলে করিম (সা.) বলেন, মুসা (আ.)-এর কৃতজ্ঞতার অনুসরণে আমরা তাদের চেয়ে বেশি যত্নশীল হওয়ার অধিকারী। অতঃপর তিনি নিজেও আশুরার রোজা রাখেন এবং মুসলমানদের তা পালন করতে নির্দেশ প্রদান করেন।' (বুখারি, হাদিস : ৩৩৯৭, মুসলিম, হাদিস : ১১৩৯)

রাসুলুল্লাহ (সা.) এই রোজা নিজে পালন করেছেন এবং উম্মতকে রাখার প্রতি নির্দেশ করেছেন, তাই তাঁর অনুসরণ করা আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া অসংখ্য হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) আশুরার রোজার ফজিলত বর্ণনা করেছেন। কয়েকটি হাদিস নিম্নে উপস্থান করা হলো:

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, 'রমজান মাসের রোজার পর সর্বোত্তম রোজা মহররম মাসে আশুরার রোজা।' (সুনানে কুবরা, হাদিস : ৮৪২১০)

আবু কাতাদা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আশুরার রোজার ফজিলত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এই রোজা বিগত বছরের গুনাহ মুছে দেয়। (মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)

মুসলিম শরিফে ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) যখন আশুরার দিনে রোজা রাখেন এবং অন্যদেরও রোজা রাখার নির্দেশ প্রদান করেন, তখন সাহাবিরা অবাক হয়ে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল, বিধর্মীরা তো এই দিনটিকে বড় দিন মনে করে। এই দিনে তারাও রোজা পালন করে। আমরা যদি এই দিনে রোজা রাখি তাহলে তো এদের সঙ্গে সামঞ্জস্য হবে। তাদের প্রশ্নের জবাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন (তারা যেহেতু এদিন একটি রোজা পালন করে), আগত বছর ১০ তারিখের সঙ্গে ৯ তারিখ মিলিয়ে দুই দিন রোজা পালন করব, ইনশাআল্লাহ। (মুসলিম, হাদিস : ১১৩৪)

অন্য বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, 'তোমরা আশুরার দিনে রোজা রাখো, তবে এ ক্ষেত্রে ইহুদিদের সঙ্গে মিল না হওয়ার জন্য ১০ তারিখের আগের দিন অথবা পরের দিন আরো একটি রোজা রেখে নিয়ো।' (মুসনাদে আহমদ, হাদিস : ২১৫৪)

সহিহ হাদিসগুলোর আলোকে প্রমাণিত হয় যে আশুরার রোজা হবে দুটি—মহররমের ১০ তারিখ একটি, আর ৯ তারিখ অথবা ১১ তারিখ আরো একটি।

প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর কর্তব্য হলো মুহররম মাসে আশুরার দুটি রোজা পালন করা, আল্লাহতায়ার ইবাদত, বন্দেগি, জিকিরে সবিশেষ মনোযোগী ও মশগুল হওয়া এবং পরম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর পরিবার-পরিজন, আহলে বাইত, সাহাবিদের প্রতি দরূদ ও সালাম পেশ করা।

;