ময়মনসিংহ বড় মসজিদ



মো. আলী এরশাদ হোসেন আজাদ, অতিথি লেখক, ইসলাম
ময়মনসিংহ বড় মসজিদ

ময়মনসিংহ বড় মসজিদ

  • Font increase
  • Font Decrease

ইতিহাস-ঐতিহ্যের শহর বলে খ্যাত ময়মনসিংহ। এই শহরে ইতিহাসের অন্যতম নিদর্শন হয়ে আছে বড় মসজিদ। ময়মনসিংহের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে লেখা বিভিন্ন গ্রন্থে বড় মসজিদের কথা গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে। ময়মনসিংহে নগর সভ্যতার বিকাশে স্থানীয় হিন্দু-মুসলমান সমাজের সহাবস্থান ছিল, বড় মসজিদের অবস্থান তার ঐতিহাসিক দলিল। মসজিদের পাশে থানা ও একটি মন্দির আছে। রয়েছে একটি কবরস্থানও। বড় মসজিদ ময়মনসিংহ বিভাগের কেন্দ্রীয় দ্বীনি প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিগণিত।

হজরত শাহজালাল রহমাতু্ল্লাহি আলাইহির আগমনের ২৫০ বছর আগে শাহ মুহাম্মদ সুলতান কমরউদ্দিন রুমি (রহ.) বৃহত্তর ময়মনসিংহে ইসলাম প্রচার করেন। বাংলার স্বাধীন সুলতান সৈয়দ আলাউদ্দিন হোসেন শাহের পুত্র সৈয়দ নাসিরুদ্দিন নসরত শাহের নামে প্রতিষ্ঠিত ‘নাসিরাবাদ’কে কেন্দ্র করে আদি ময়মনসিংহের গোড়াপত্তন। পুরাতন ব্রহ্মপুত্রের তীরে ১ মে ১৭৮৭ প্রতিষ্ঠিত ময়মনসিংহ জেলা, এখন বিভাগীয় মহানগরী। ‘আইন-ই-আকবরি’ অনুযায়ী, ‘মোমেনশাহী পরগনার শাসনকর্তা মোমেনশাহের নামানুসারে পরগনার নাম হয় মোমেনশাহী।’ পরবর্তী সময়ে আলাপসিং পরগনার ‘সিংহ’ যুক্ত হয়ে উচ্চারণ পরিবর্তনে হয় ময়মনসিংহ’ (ইসলামি বিশ্বকোষ)।

বৃহত্তর ময়মনসিংহের কেন্দ্রীয় মসজিদ চকবাজারের ‘বড় মসজিদ’। ঈদ, জুমায় অসংখ্য মানুষ বাস-ট্রেনে চড়ে, হেঁটে বহুদূর থেকে আসেন ‘বড় মসজিদে’র বরকত নেওয়ার জন্য।

বর্তমান কোতোয়ালি থানাসংলগ্ন চকবাজার নামক স্থানে আনুমানিক পৌনে দুই শ’ বছর আগে (১৮৫০/১৮৫২ খ্রি.) গণ্যমান্য মুসলমানরা নামাজ আদায়ের জন্য টিনের ছাপরা মসজিদ নির্মাণ করেন। এই মসজিদটিই ময়মনসিংহের গর্ব ও ঐতিহ্যের স্মারক ‘বড় মসজিদ’। ১৯৩৫ সালের বেঙ্গল ওয়াকফ অ্যাক্টের অধীনে মসজিদটি পাবলিক এস্টেটে পরিণত হয়।

ময়মনসিংহ বড় মসজিদের সামনের অংশ



প্রায় ০১.৯ একর জমির ওপর নির্মিত ‘বড় মসজিদ’ একটি তিনতলা সুরম্য স্থাপত্য। মসজিদটির দৈর্ঘ্য ১০৫ ফুট ও প্রস্থ ৮৫ ফুট। অন্তত পাঁচ হাজার মুসল্লি এখানে একত্রে নামাজ আদায় করতে পারে। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সুসমন্বয়ে অপূর্ব অলংকরণে সুশোভিত মসজিদের ১২৫ ফুট উঁচু দুটি মিনার ও একটি কেন্দ্রীয় সুবৃহৎ গম্বুজে ব্যবহৃত হয়েছে চীনামাটির তৈজসপত্রের টুকরা দিয়ে তৈরি নান্দনিক নকশাকৃত আস্তরণ। মসজিদের পশ্চিম দিকে রয়েছে দুটি অনুচ্চ ফাঁপা গম্বুজ। ছাদের রেলিং দেওয়া হয়েছে মিনার-গম্বুজের আদলে ঢেউ খেলানো শোভায়। মসজিদের প্রধান তিনটি প্রবেশমুখেও আছে অনুচ্চ গম্বুজ শোভিত ফটক। মসজিদ আঙিনা অলংকৃত হয়েছে আরও কয়েকটি বৃহদাকৃতির অনুচ্চ গম্বুজ ও লতাপাতার বিন্যস্ততায় থোকায় থোকায় আঙুর শোভিত ফটক ও অনুচ্চ নকশা দেয়ালে।

মসজিদের প্রবেশমুখেই, জলকেলিরত রংবেরঙের মাছের শোভামণ্ডিত স্বচ্ছ-পবিত্র পানির দু’টি হাউস ও আলাদা অজুখানা। মসজিদের অভ্যন্তরে মূল্যবান মোজাইক পাথরের মেঝে, দেয়ালজুড়ে শেতশুভ্র মনোরম টাইলস, সুদৃশ্য ঝাড়বাতি, অত্যাধুনিক শব্দ নিয়ন্ত্রণ ও তাপানুকূল ব্যবস্থা। পবিত্র রমজানে অসংখ্য মুসল্লি জামাতবদ্ধভাবে এই মসজিদে ইতিকাফ করেন।

প্রতিষ্ঠাকাল থেকে ১৯৪০ খ্রি. পর্যন্ত মিসর থেকে আগত প্রখ্যাত কারি ও আলেম মাওলানা আবদুল আওয়াল (রহ.) ইমামের দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৪১ থেকে ১৯৯৭ খ্রি. পর্যন্ত টানা ৫৬ বছর হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানবি (রহ)-এর খলিফা, মুজাদ্দিদে মিল্লাত, জামানার কুতুব হজরত মাওলানা ফয়জুর রহমান (রহ.) ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেন। এ মহান আধ্যাত্মিক সাধকের পবিত্র ফায়েজ, খেদমত ও মেহনতে ‘বড় মসজিদে’র দ্যুতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে।

১৯৯৭ খ্রি. থেকে হাদিয়ে জামান, পীরে কামেল, আল্লামা শায়খ আবদুল হক অত্যন্ত সুনাম ও দক্ষতার সঙ্গে ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করছেন।

বড় মসজিদে রয়েছে মসজিদকেন্দ্রিক একটি মাদরাসা। ব্রহ্মপুত্র নদ তীরবর্তী ময়মনসিংহ সিটি করর্পোরেশনের প্রাণকেন্দ্রে বড় মসজিদ যুগ যুগ ধরে ময়মনসিংহের অন্যতম ধর্মীয় স্মারক হয়ে আছে।

বেসরকারিভাবে হজে যেতে লাগবে ৬ লাখ ৭২ হাজার টাকা



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বেসরকারিভাবে চলতি বছর হজে যেতে ৬ লাখ ৭২ হাজার ৬১৮ টাকা লাগবে বলে ঘোষণা করেছে হজ্জ এজেন্সিজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ( হাব)।  এর আগে গতকাল সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে  ৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা লাগবে বলে জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে বেসরকারিভাবে হজ প্যাকেজ-২০২৩ ঘোষণা করেন হাবের সভাপতি এম শাহাদাত হোসাইন তসলিম।

সংবাদ সম্মেলনে হাব সভাপতি সাংবাদিকদের বলেন,'ঘোষিত প্যাকেজের” এর হজযাত্রীদের পবিত্র হারাম শরীফের বাহিরের চতুরের সীমানার সর্বোচ্চ ১৫০০ মিটার দুরত্বে আবাসনের

ব্যবস্থা করা হবে।  কোন এয়ারলাইন্স এ বছর Dedicated ফ্লাইট ব্যতিত সিডিউল ফ্লাইটে কোন হজযাত্রী বহন করতে পারবে না। প্যাকেজ ঘোষণার পর রাজকীয় সৌদি সরকার কর্তৃক অতিরিক্ত কোন ফি আরোপ করা হলে তা প্যাকেজ মুল্য হিসেবে গণ্য হবে এবং হজযাত্রীকে পরিশোধ করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ তারিখ থেকে বেসরকারি হজযাত্রীদের নিবন্ধন শুরু হবে।  প্রত্যেক হজযাত্রী হজ প্যাকেজের অন্তর্ভূক্ত সুযোগ সুবিধার বিষয়ে অবগত হয়ে এজেন্সির সাথে চুক্তিবদ্ধ হবেন।  হজযাত্রীগণ তাদের হজ প্যাকেজের সমুদয় অর্থ শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট হজ এজেন্সির ব্যাংক একাউন্ট অথবা সরাসরি এজেন্সিতে জমা দিয়ে মানি রশিদ সংরক্ষণ করবেন। কোনক্রমেই মধ্যস্বত্বভোগীদের নিকট কোন প্রকার লেনদেন করবেন না। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রত্যেক হজযাত্রী হজ প্যাকেজের সমুদয় অর্থ আগামী ১৫ মার্চ ২০২৩ তারিখের মধ্যে অবশ্যই স্ব-স্ব এজেন্সীর ব্যাংক হিসাবে জমা করে অথবা এজেন্সির অফিসে জমা দিয়ে মানি রিসিট গ্রহণ করবেন।

তসলিম বলেন, হজযাত্রীদেরকে নিজ উদ্যোগে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হবে। যার মেয়াদ ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৩ পর্যন্ত থাকতে হবে। পাসপোর্ট করার জন্য আবেদন করার সময় হজযাত্রীকে প্রাক-নিবন্ধনে ব্যবহৃত জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর/জন্মনিবন্ধনের নম্বর হুবহু লিপিবদ্ধ করতে হবে। সৌদি ভিসা লজমেন্টে জটিলতা দূর করার জন্য পূর্ণাঙ্গ নামে পাসপোর্ট করতে হবে। পাসপোর্টের তথ্য পাতা স্ট্যাপলার পিন দিয়ে গাঁথা যাবে না বা অন্য কোনভাবে ছিদ্র করা যাবে না। হজযাত্রীর বয়সসীমা: এ বছর ৬৫ বা তদুর্ধ বয়সের হজগমণেচ্ছুগণও পবিত্র হজে গমণ করতে পারবেন।  কোরবানী খরচ প্রত্যেক হজযাত্রীকে পৃথকভাবে নিজ দায়িত্বে সঙ্গে নিতে হবে। হজযাত্রীগণকে সৌদি আরবে সবসময় গলায় আইডি কার্ড ঝুলিয়ে রাখতে হবে।

প্লেন ভাড়া নিয়ে হাব সভাপতি বলেন, যে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে তা আরও কম হওয়া উচিত ছিল, আরও সহনীয় পর্যায়ে থাকা উচিত ছিল। আমি মনে করি হজ যাত্রীদের প্লেন ভাড়া নির্ধারণ করার এখতিয়ার যদি শুধু উড়োজাহাজ সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভর করে, তারা বাণিজ্যিক সংগঠন, তারা নিজেরাই যদি নিজেদের ভাড়া নির্ধারণ করে- তাহলে এটা ন্যায় হলো না। টেকনিক্যাল কমিটির মাধ্যমে প্লেন ভাড়া নির্ধারণ করলে আরও কম হতো। আমি প্রস্তাব করেছি যে এ বছর ডেডিকেটেড ফ্লাইট ছাড়া হজযাত্রী বহন করতে পারবে না। তা সিদ্ধান্ত হয়েছে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৭ জুন সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে গত ৯ জানুয়ারি সৌদি সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী এ বছর হজযাত্রীর কোটা ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন নির্ধারিত হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ হাজার জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১২ হাজার ১৯৮ জন পবিত্র হজ পালন করতে পারবেন।

এ বছর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সৌদি আরবে গমনকারী শতভাগ হজযাত্রীর প্রি-অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন 'মক্কা রোড চুক্তি' অনুযায়ী  বিমানবন্দরেই অনুষ্ঠিত হবে।

;

হজ প্যাকেজ ঘোষণা, জনপ্রতি খরচ ৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
হজ প্যাকেজ ঘোষণা, জনপ্রতি খরচ ৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা

হজ প্যাকেজ ঘোষণা, জনপ্রতি খরচ ৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা

  • Font increase
  • Font Decrease

এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ করতে জনপ্রতি ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা খরচ হবে বলে জানিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খান।

বুধবার (১ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির সভায় সরকারিভাবে এ হজ প্যাকেজ চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

ফরিদুল হক খান বলেন, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে যেতে পারবেন। তাদের মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ হাজার জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ১২ হাজার ১৯৮ জন হজ করার সুযোগ পাবেন।

তবে সৌদি আরবের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেই হজযাত্রীর প্রি-অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করতে পারবেন বলেও জানান তিনি।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৮ জুন হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২২ সালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ যেতে দুটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছিল। এর মধ্যে প্যাকেজ-১ এর জন্য ৫ লাখ ৮৬ হাজার ৩৪০ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এর জন্য ৫ লাখ ২১ হাজার ১৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে সর্বনিম্ন খরচ ৫ লাখ ২২ হাজার ৭৪৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

;

'প্রাচুর্যময় সম্মানিত মাস‘ রজব



আবুল খায়ের মোহাম্মদ, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামী জীবনধারা ও সংস্কৃতিতে রজব মাসের ফজিলত অপরিসীম, মর্যাদা অতুলনীয়। রজব মাস হলো আমলের মৌসুম এবং রমজানের প্রস্তুতিকাল। আল্লাহ সোবহানাহু তায়ালার অশেষ দয়া ও করুণায় মুসলিম উম্মাহর সামনে হিজরি ১৪৪৪ সনের পবিত্র রজব মাসের সূচনা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রজব হলো আল্লাহর মাস, শাবান হলো আমার মাস; রমজান হলো আমার উম্মতের মাস।’ (তিরমিজি)।

আরবি চান্দ্রবর্ষের সপ্তম মাস ‘রজব’, যার অর্থ 'প্রাচুর্যময় সম্মানিত মাস'। রজব’ শব্দের অর্থ হলো সম্ভ্রান্ত, মহান বা প্রাচুর্যময়। আর ‘মুরাজ্জাব’ অর্থ ‘সম্মানিত’। সুতরাং এর অর্থ দাঁড়ায় ‘প্রাচুর্যময় সম্মানিত মাস’। আর রজব মাসের পুরো নাম ‘রজবুল মুরাজ্জাব’ বা ‘আর-রজব আল-মুরাজ্জাব’।

রজব মাসের মর্যাদা উপলব্দি করতে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের একটি হাদিসের উল্লেখ সর্বজনবিদিত। তিনি বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রজব মাসে (ইবাদত দ্বারা অন্তরের) জমিন চাষাবাদ করল না আর শাবান মাসে (ইবাদতের মাধ্যমে মনের) জমিন আগাছামুক্ত করল না; সে রমজান মাসে (ইবাদতের) ফসল তুলতে পারবে না।’ (বায়হাকি)

রজব মাসের মর্যাদার আরও মর্যাদা এজন্য যে, এ মাসে মহান আল্লাহ তাআলা যাবতীয় যুদ্ধবিগ্রহ, হানাহানি ও রক্তপাত নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘আল্লাহ তাআলার আসমান-জমিন সৃষ্টি করার দিন থেকেই বারো মাসে বৎসর হয়। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত; তিনটি একাধারে জিলকদ, জিলহজ ও মহররম এবং চতুর্থটি হলো ‘রজব মুদার’, যা জমাদিউল আখিরা ও শাবানের মধ্যবর্তী মাস।’ (মুসলিম)

রজব মাস মুসলমানদের ইবাদতের মাস। বরকত লাভের মাস। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মাসের অধিকতর ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত হতেন। রোজা রাখতেন এবং বেশি বেশি বরকত পেতে এই দোয়া পড়তেন, যা তিনি তাঁর উম্মতকেও শিখিয়েছেন, ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।’ ‘হে আল্লাহ! রজব ও শাবান মাস আমাদের জন্য বরকতময় করুন; রমজান মাস আমাদের নসিব করুন।’ (বুখারি ও মুসলিম)

‘রজব মুদার’ বা বহুবিদ কল্যাণের সম্মিলিত একটি মাস। রমজানের আগে নিজেদের আমল ও ইবাদতের জন্য উপযোগী করে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাস হলো রজব। তাছাড়া রজব ও শাবান হলো পাশাপাশি দুটি জোড়া মাস। মাস দুটিকে একত্রে রজবান বা রাজাবাইনও বলা হয়। তাই বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি, দোয়া-ইসতেগফার ও রোজা রাখার মতো আমল ইবাদত করে এ দুই মাসে নিজেদের রমজানের জন্য প্রস্তুত করার উপযুক্ত সময়।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব মাস জুড়ে অত্যাধিক আমল-ইবাদত করতেন, রোজা রাখতেন। দোয়া পড়তেন। রমজানের জন্য নিজেকে তৈরি করতেন। হাদিসের একাধিক বর্ণনায় তা উল্লেখিত হয়েছে।

রজব ও শাবান মাসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কী পরিমাণ ইবাদত-বন্দেগি করতেন; তা উম্মাহাতুল মুমিনিনদের বর্ণনা থেকেই সুস্পষ্ট। হজরত উম্মে সালমা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাস ছাড়া সবচেয়ে বেশি রোজা পালন করতেন শাবান মাসে, অতপর রজব মাসে। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, ‘যখন রজব মাস আসত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আমলের আধিক্য দেখেই আমরা তা বুঝতে পারতাম।’ কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে, ‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রজব মাসে ১০টি রোজা রাখতেন, শাবান মাসে ২০টি রোজা রাখতেন; রমজান মাসে ৩০টি রোজা রাখতেন। (দারিমি)

রজব মাসের বিশেষ আমলসমূহের মধ্যে অন্যতম হলো বেশি বেশি নফল রোজা পালন করা। মাস জুড়ে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিয়মিত আমল- ‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা পালন করা। রজব মাস জুড়ে বেশি বেশি নফল নামাজ পড়া। বিশেষ করে তাহাজ্জুদ, ইশরাক, চাশত-দোহা, জাওয়াল, আউয়াবিন; তাহিয়্যাতুল অজু, দুখুলুল মাসজিদ ইত্যাদি নামাজের ব্যাপারে যত্নবান হওয়া খুবই জরুরি।

সাহাবায়ে কেরামও এ মাসের ইবাদত ও ফজিলত বর্ণনা করেছেন। সুতরাং মুমিন মুসলমানের কর্তব্য, রজব মাসের মর্যাদা, ফজিলত ও আমলের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখা। যথাযথ আমল করা। পবিত্র রমজানের পরিপূর্ণ ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা।

;

পবিত্র শবে মেরাজ ১৮ ফেব্রুয়ারি



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সোমবার বাংলাদেশের আকাশে রজব মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) শুরু হবে হিজরি সনের রজব মাস। সেই অনুযায়ী আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি (২৬ রজব) পবিত্র শবে মেরাজ পালিত হবে।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

বৈঠক শেষে জানানো হয়, সোমবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের আকাশে রজব মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামী ২৪ জানুয়ারি পবিত্র রজব মাস শুরু হবে। আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে পবিত্র শবে মিরাজ উদযাপিত হবে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুনিম হাসান।

ফারসি ‘শব’ এর অর্থ- রাত্র বা অন্ধকার এবং আরবি ‘মেরাজ’ এর অর্থ- ঊর্ধ্বারোহণ। মুসলমানদের ধর্ম বিশ্বাস অনুযায়ী, ২৬ রজব দিবাগত রাতে ঊর্ধ্বাকাশে ভ্রমণ করে মহানবী হজরত মোহাম্মদ (সা.) আল্লাহতায়ালার সাক্ষাত লাভ করেছিলেন।

;